শব্দহীন_অনুভূতি,পর্ব_৯,১০

শব্দহীন_অনুভূতি,পর্ব_৯,১০
পলি_আনান
পর্ব_

নির্জন রাতের আধাঁরে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে হৃদিতা। সামনে থাকা টেবিলের উপর ভারি মোটা বই গুলোর দিকে তাকিয়ে কান্না গুলো দলা পাকিয়ে আসছে।জীবনটা যখন বুঝতে শিখলো তখন থেকেই ক্যারিয়ারের উপর সম্পূর্ণ ফোকাস করেছে সে।তার খালুজানের শুধু মাত্র মুদি দোকানের ব্যবসায়, সংসারের খচর নেহার পড়ার খচর তার নিজের পড়ার খরচ চালানো হিমশিম খাওয়ার মতো অবস্থা।কিন্তু কখনো তার খালুজান ওয়ালীদ অভিযোগ করেন নি ‘হৃদিতা’ এই বাড়ির বোঝা।বরং চুপচাপ সব কিছু নির্বাকে সামলে গেছেন।আসতে আসতে টিউশনি করে টাকা জমিয়ে নিজের পড়ালেখা চালিয়ে গেছে।কিন্তু বর্তমান সময়টা এমন পরিস্থিতি দাড়িয়েছে পড়াশোনা এই জীবনে তার বৃথা গেছে।আর মাত্র দুইদিন পর পরিক্ষা। এখন তাকে পুরো দমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু বর্তমানে সে দেখছে বিয়ে উপলক্ষে সবার তোড়জোড় ব্যস্ততা।এই আগামী কাল এই রাতেই হয়তো অন্য কারো হয়ে যাবে সে।বিছানার উপর থাকা মোবাইলটা হাতে টেনে নিয়ে সময় দেখে নিলো।রাত নয়টা বেজে সাত মিনিট।গতকাল এই সময়ে হয়তো বিয়ে হয়েও যাবে।

হুট করেই আরাফের কথা মনে পড়লো ছেলেটাতো বসে আছে তার অপেক্ষায়।পরিক্ষার প্রিপারেশন নেওয়া শেষ মূহুর্তে সব পড়া একবার দেখিয়ে দেওয়া কিন্তু এই মূহুর্তে সেই পরিস্থিতি নেই হৃদিতা।

অন্ধকার আচ্ছন্ন রুমটায় হঠাৎ করেই সোডিয়াম আলো জ্বালিয়ে দেয় কেউ।সঙ্গে সঙ্গে চোখ মুখ কুচকে নেয় হৃদিতা।নেহাকে সামনে দেখেই দ্রুত চোখের পানি মুছে নেয়।
– আপু তুমি?কিছু বলবে?
– আমি আর কি বলবো হৃদিতা।আমার কিচ্ছু করার নেই।কত চেষ্টা করলাম তোর বিয়েটা ভাঙ্গার কিন্তু আর কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছিনা।দাদী তো শেষ পর্যায়ে বলেই দিলো বাবাকে ত্যাজ্য করবেন। আর কোন কথা বাড়ানোর সাহস আমার হলোনা।
– আহ!বাদ দাওনা আপু যা হওয়ার হবে। আমি সম্পূর্ণ বিষয়টা এখন আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি।আল্লাহই আমাকে পথ দেখাবেন।

দুজনের মাঝে তৈরি হয় আবার পিনপিনে নিরবতা।অন্ধকার আচ্ছন বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়ে হৃদিতা চুপ হয়ে যায়।তখনি নেহার ফোনে আরাফের কল আসে।নেহা মোবাইল হাতে নিয়েই অন্য রুমে চলে যায়।
– হ্যা আরাফ বল, কেম আছিস?
– ভালো!তুই?
আরাফের কন্ঠে বিষন্নতার ছোঁয়া।
– ভালো না রে। হৃদিতার জন্য মনটা বড্ড খারাপ লাগছে।মেয়েটার যে কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে আমার চোখের সামনে আমি সহ্য করতে পারছিনা।
নেহার উওরে আরাফ একটা ঢোক গিলে।নেহাকে ফোন করার আসল উদ্দেশ্যেটাই হৃদিতার সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া।এইছাড়া আর কোন উপায়ন্ত নেই তার কাছে।
– আচ্ছা মেয়েটার কি পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হবে?
– হ্যা এই এছাড়া আর কি?কোন লোকতো চাইবে না তার ঘরের দুই সন্তান ফেলে রেখে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ভার্সিটি যাক।
– ওহ। আচ্ছা আমি এখন রাখছি।
আরাফ দ্রুত ফোন কেটে দেয়।কান্না গুলো তার দলা পাকিয়ে আসছে।নেহা যদি ঘুনাক্ষরে ও টের পায় তবে কেলেঙ্কারির হয়ে যাবে।
হাতে থাকা সিগারেটটায় আরেক বার টান দিয়ে পাশে শাকীলের দিকে তাকায়।
– সব শেষ রে, কাল কেই হৃদিতার বিয়ে।
– সব শেষ মানে?তুই চাইলে সব সম্ভব।নোমান ভাই কি করতে পারবে যদি তুই হৃদিতাকে বিয়ে করিস।যেখানে ভালোবাসা দৃঢ় যেখানে তৃতীয় ব্যাক্তির হস্তক্ষেপ ভিত্তিহীন।
– কিন্তু হৃদিতাকি আমায় ভালোবাসে?সে তো আমায় ভালোবাসে না আর কোন দিন বাসবেও না মনে হয়।
– ভালোবাসেনা মানে?ডাফারের মতো কথা বলিস না। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ এরেঞ্জ ম্যারেজ হচ্ছে তাদের কি এক জনের সাথে আরেকজনের মাসের পর মাস সম্পর্ক ছিল?অনেকের তো হুট করেই অপরিচিত সম্পূর্ণ অজানা মানু্ষের সাথে বিয়ে হয়। কই তাদের সংসার কি টিকছে না?দিব্য সুন্দর দিন পার করে দিচ্ছে তারা।ভালোবাসা আগে হয়নি পরে হবে।তাই এইসব লেইম এক্সকিউজ আমাকে একদম দেখাবি না। ওকে তুই তো ভীতু, না পেরেছিস ভালোবাসার মানুষকে ভালোবাসার কথা বলতে না পেরেছিস কাছে রাখতে। হৃদিতা ঠিকি বলে তুই একটা হাঁদা রাম। যা করার আমাদের করতে হবে।

শাকীল গড়গড় করে কথা গুলো বলেই কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। নাফিসাকে ফোন করে বেশ কিছুক্ষণ আলাপচারিতা করে নেয়।কথা বলা শেষ হতেই আরাফের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে বলে,
– ওই এদিকে আয়। বাইক স্টাট দে।
– কোথায় যাবো আমরা?
-মিশন আছে। মিশনে যাবো।
শাকীলের সহজ উওর তার কাছে এখন আরাফের প্রশ্নের উওর দেওয়া যেন বিরক্তির কারন।
– মিশন!কিসের মিশন?
– “মিশন হৃদিতা” সো লেটস গো!

লাল শাড়িতে আয়নায় নিজেকে দেখছে হৃদিতা। সাজসজ্জা হীন একদম সাধারণ একটি মেয়ে আজ বউ সেজেছে।মাথায় টিকলি চোখে কাজল, গাঢ় টকটকে লাল লিপস্টিকে তার মনে হচ্ছে, প্রকৃতি সৌন্দর্য্য তার ঢেকে দিয়ে সম্পূর্ণ কৃত্রিম সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে।একা রুমে সুফিয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে নড়ে চড়ে বসে হৃদিতা।
সুফিয়া হৃদিতার পাশে বসে, গম্ভীর কন্ঠে বলে,
– শোন মেয়ে পরের বাড়িতে যাচ্ছো, এই বাড়ি থেকে আদব কায়দা যা শেখানো হয়েছে তাই প্রয়োগ করবে।মনে রাখবে পরিবারের মানসম্মান এখন তোমার হাতে।যা করেছি, তোমার ভালোর জন্যই করেছি আশা করি বুঝতে পারছো।

হৃদিতা নির্বাক ভঙ্গিতে চোখ নামিয়ে বসে আছে।এই মূহুর্তে তাকে যেন পাথরের মতো লাগছে। সুফিয়া তার বলা কথা গুলো শেষ করেই চলে যায়।তখনি হৃদিতার রুমে ডুকে এক জোড়া পা। সাদা পাঞ্জাবি আর পায়জামা পড়া পা টি দেখেই চোখ খিচে নেয় হৃদিতা।সে ভেবে নিয়েছে হয়তো ওই লোকটাই এসেছে যার সাথে আজ তার বিয়ে।কয়েক মিনিট নিরবতা দেখে আগের মতো চোখ খুলে সে।পা জোড়া এখনো স্থির সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।পা থেকে ধীরে ধীরে উপরে তাকাতেই তড়িৎগতিতে ঝলকানি খায় সে। কাঁপা কাঁপা ঠোঁট দুটো নাড়িয়ে উচ্চারণ করে,
– আ– রা—ফ!
আরাফ আরো কয়েক কদম এগিয়ে আসে হৃদিতার দিকে।ধপধপে সাদা পাঞ্জাবি। হাতের স্লিভটা গোটানো, মাথার চুল গুলো ঠিক ঠাক ভাবে আছড়ানো।আজকের আরাফের সাথে ভার্সিটির আরাফের বেশভূষা এককথায় কোন মিল যেন নেই।আগের এলো মেলো আরাফকে বার বার ঘুছিয়ে দিতে ইচ্ছে হতো হৃদিতার। এলোমেলো চুল গুলোতে হাত বুলিয়ে দেওয়ার আকিঞ্চন জাগতো মনে। কিন্তু আজকের আরাফ সম্পূর্ণ পরিপাটি সুদর্শন যুবক।

– আরাফ তুই এখানে?
হৃদিতার কথায় সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে আরাফ ঠোঁট বাকিয়ে বলে,
– কিরে বিয়ে করছিস?অথচ আমি জানি না স্টেঞ্জ!
হৃদিতা মাথা নিচু করে নেয়। তখনি আরাফ তার থুতনিতে হাত দিয়ে মুখটা উঁচু করে নেয়।আরাফের কান্ডে অবাক চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকে সে।হুট করেই একটানে হৃদিতার নাকে থাকা নোজপিনটি খুলে নেয় আরাফ।আচমকা ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠে হৃদিতা।
– আহ! আরাফ কি করছিস লাগছে আমার।
– লাগুক এই নোজপিনটা নিশ্চই ওই বাড়ি থেকে দেওয়া।
হৃদিতা চুপ করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। আরাফ তার দিকে সুক্ষ্ম নজরে তাকিয়ে আছে।কিছুতেই হৃদিতার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে চায় না সে কিন্তু শাকীল আর নাফিসার শিখিয়ে দেওয়া কথা গুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে সে।হৃদিয়ার সামনে যদি নিজেকে দূর্বল সাজায় তবে মাথায় চওড়াই দিয়ে উঠবে এই মেয়ে।তাই কিছুটা উগ্রতা দিয়ে হৃদিতাকে থামিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছে আরাফ।পকেট থেকে একটি নোজপিন বের করে হৃদিতার হাতে ধরিয়ে দেয়,
– এই নে এটাই লাগা।মুরব্বিরা বলে এটা স্বামীর চিহ্ন। তো লাগা এবার।
– তোর দেওয়া নোজপিন আমি লাগাবো কেন?
– লাগাতে বলেছি লাগা।বেশি কথা বললে সিনক্রিয়েট হয়ে যাবে এখানে।
হৃদিতা দ্রুত নোজপিন নাকে ঠেসে নেয়।আরাফ তার দিকে ঘুরে ঘুরে তাকিয়ে বলে,
– শাড়িটা কার দেওয়া নাকি এটাও খুলতে হবে?
– এ..এটা খালুজান দিয়েছে।
– ওকে পারর্ফেক্ট।
– তুই এখানে কেন?
– আজব যার বিয়ে তাকে বলা হচ্ছে সে এখানে কেন?অদ্ভুত তো তুই!
– মানে কি, বিয়েটা আমার, অন্য একটা লোকের সাথে, সে এখনো এলোনা তুই কি যা তা বলছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা।
– শুনে রাখ যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সে না। বিয়েটা এখন আমার সাথেই হবে।

আরাফের কথায় দুই পা পিছিয়ে যায় হৃদিতা। দুইদিকে মাথা নাড়িয়ে না করতে থাকে,
– না না আমি মানি না।কি হচ্ছে এইসব,হঠাৎ বর পাল্টে গেল কেন?খালুজান, খালামনি কোথায় নেহা আপু কোথায়?ত..তুই ছেলেটা ভালোনা অনেক মেয়ের সাথে প্রেমের নাটক করে আমার সাথে এখন বিয়ের নাটক করতে এসেছিস।তোকে আমার সেদিন সন্দেহ হয়েছিল যেদিন কফি শ….

হৃদিতাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে। তার হাত টেনে শক্ত করে বুকের সাথে ধরে মুখ চেপে ধরে আরাফ।
-খবরদার এইসব কথা বাইরে বের হলে থাপড়িয়ে কান লাল করে দেবো।ভুলেও এইসব কথা বের করবিনা।আরেকটা কথা নোমান ভাইকে তো তোর পছন্দ না তাইনা?নোমান ভাই আজ থেকে তোর ভাসুর!প্রধান অথিতি হিসেবে এসেছে।তোর একটা উলটা কথা বলার শাস্তি কিন্তু অনেক ভয়াবহ হতে পারে।মাইন্ড ইট!
আরাফ হৃদিতাকে ছেড়ে দেয়। সাদা পাঞ্জাবিতে বুকের পাশে হৃদিতার লিপস্টিকের হালকা দাগ লেগে যায় সেদিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে হাসতে থাকে আরাফ।

গত কয়েকঘন্টা যাবৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে হৃদিতার।সবচেয়ে বড় কথা বিয়ের সময় সুফিয়া হৃদিতার পাশেই ছিল কোন মােড়লিপনা করেন নি তিনি।সুফিয়া বাদে বাড়ির সকলের চোখে মুখে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থা।তবে তার মাঝেও হাসির আবেস জড়িয়ে ছিল।বিয়ে থেকে শুরু করে কনে বিদায় পর্যন্ত হয়ে গেলো পুরো বিয়ে বাড়িতে ছেলে পক্ষের লোক ছিল নোমান আর আরাফ।হৃদিতা এখন দাঁড়িয়ে আছে এনায়েত বাড়ির চৌকাঠে।বুকের ভেতরটায় অশান্ত বাতাস বয়ে যাচ্ছে তার পাশেই আরাফ নিশ্চিন্তে ফোনের স্কিনে তাকিয়ে আছে।এনায়েত বাড়ির প্রত্যাক সদস্যরা দরজার সামনে ভীড় জমিয়েছে। সবার চোখে মুখে আগুনের ফুলকি।

– এইসব কি আরাফ?বর সেজে বউ নিয়ে এলে অথচ পরিবারের কাউকে একটি বার জানালেনা।বাবা মা কি তোমার কাছে পর হয়ে গেছে।
মায়মুনার কথা শুনে ভ্রু-যুগল কিঞ্চিৎ কুচকে দ্রুত ফোন পকেটে পুরে নেয়।
– কেন মা আমি কি বলেছি তোমরা পর হয়ে গেছো?হুট করেই বিয়েটা করেছি।তাছাড়া আমি তো একা করিনি নোমান ভাইও ছিল একটা কাজ থাকায় একটু পর আসবে নোমানভাই, তখন তোমাদের কাছে সবটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
আরাফের কথা শেষ হতেই জহির ধমক দিয়ে বলে,
– একটা মেয়েকে যে বিয়ে কর আনলে তাকে খাওয়াবে কি?পড়াবে কে?মেয়েদের যা খরচাপাতি আছে সেটা কি তোমার ধারনায় আছে?এত শত বিল পেমেন্ট করবে টা কে?
জহিরের কথা শেষ হতেই আরাফ হৃদিতার চোখে চোখ রাখে,
– কিরে তুই তো মনে হয় বেশি খাস না তাইনা?মোরগের মতো ঠুকিয়ে ঠুকিয়ে অল্প খাস।হাসের মতো খেলে অবশ্য আমকে বাবার বলা কথাটাই ভাবতে হতো।
আরাফের এমন কথায় বিষ্ফরিত চোখে তাকায় হৃদিতা।বিয়ে করে কি এই ছেলের ব্রেন ড্যামেজ হয়ে গেছে না কি? সব বলছে সে?
– লিসেন বাবা,জামা কাপড়ের কথা বলছো?আমার ঘরে আমার টি-শার্ট, টাউজারের স্তুপ পরে আছে তুমি তো জানো সেই সব হৃদিতাকে দিয়ে দেবো।আর পড়া শোনার টাকাটা হবে, আমার বউ যে এই বাড়িতে নতুন এলো তাকে তো তোমাদের হাত ভর্তি করে উপহার দিতে হবে।টাকা দাও আর গয়না দাও সব বেঁচে পড়ালেখা চালিয়ে যাবো।

আরাফের এমন ইমম্যাচিউর উওরে সবাই বেকুব বনে যায়।আরাফের জেঠিমা হুমায়রা মিটিমিটি হাসছে।আরাফের বাবা মুখটা কালো করে থমথমে মুখ নিয়ে আরাফের চোখে চোখ রাখে,
– তুমি যে কতটা ক্লাস লেস,বোকা, নির্বোধ,মূখ্য, গাধা স্বভাবের তা আজ প্রমান পেলাম। কোন বংশের এই মেয়ে নাকি কোন বংশ নেই?
– আরে বাবা চিনতে পাচ্ছো না এই মেয়ে হলো সেই মেয়ে কয়েকমাস আগে যার প্রশংসা করতে করতে তুমি আমায় ঝেরেছো।মনে নেই ক্লাস টপার হৃদীতা মেহেরীন।
– হোয়াট? এই মেয়ে কি এই বাড়ির বউ হওয়ার যোগ্য?এই মেয়ের কোন ক্লাস আছে। বেয়াদপ ছেলে আজকেই তুই এই মেয়েকে নিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি তোর মুখ আমি আমার বাড়ির ত্রি-সীমায়ায় দেখতে চাইনা।
– আমার ফ্লাট আমায় ফেরত দাও, কথা দিচ্ছি ফিরে আসবো না আর।
– কখনো পাবিনা তুই ওই ফ্লাট।
জহির রাগে হিসহিস করতে করতে চলে যায়।মায়মুনা মুখে ওরনা গুজে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়। সবাইকে জেতে দেখে এগিয়ে আসে আরাফের জেঠিমা হুমায়রা।কিন্তু বাধা দিলেন আরাফের ছোট চাচি তানিয়া।
– কি করছেন ভাবী আপনি?যেখানে মেঝো ভাবী তার ঘরের বউকে ঘরে তুলতে চায় নি সেখানে আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন কেন?
– দেখো তানিয়া বাড়ির মুরব্বি বর্তমানে আমি তাই আমার উপর কারো কথা বলার সাধ্য নেই।বিয়ে যখন করেছে তখন নতুন বউকে ঘরে তুলতেই হবে।যদি তোমার মন না চায় তবে চলে যাও এখান থেকে।
হুমায়রার কথায় গা না লাগিয়ে তানিয়া আরাফকে উদ্দেশ্য করে বলে,
– কি মেয়ে বিয়ে করে এনেছিস?তোর সাথে যায় এই মেয়ে না ক্লাসে যায় না হাইটে যায়।কেমন লাগছে তোদের হাতি আর হরিন যেন জট বেধেছে।
কথাটি শেষ করেই তানিয়া হাসতে থাকে। দূর থেকে আইদা আর আদীব তার মায়ের দিকে বিরক্ত চোখ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে।
– চাচিম্মা, আমার বউয়ের হাইট নিয়ে খোটা দেওয়ার তুমি কে? হৃদিতা তো উচ্চতায় তোমার সমান, তাহলে হাইট নিয়ে ওকে কথা শোনাচ্ছো কেন?বরং আমায় নিয়ে হাসার কথা,বাড়ির বাকি সদস্যদের চাইতেও আমি অস্বাভাবিক লম্বা। বাড়ির ছেলের দোষ লুকিয়ে আরেকজনের মেয়ের ঘাড়ে দোষ চাপাও কেমন মেয়ে তুমি?বাই দা ওয়ে আমি না এই জীবনে এই বাড়ির কোন সদস্যর কথা কান দিয়েছি না পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করেছি।আমি জানি এই বাড়ির প্রতিটা সদস্য নিম্ন মানের বস্তাপঁচা ব্রেন নিয়ে ঘুরে।আজকে না হয় কথা গুলোর জবাব আমি দিয়ে দিলাম বাকি সময় যাকে বলা হয়েছে সে দেবে।

আরাফের কথা শুনে অপমানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না তানিয়া।দ্রুত তাদের সামনে থেকে সরে নিজের রুমে চলে যায়।অবশেষে হুমায়রা বরন করে ঘরে তোলে হৃদিতাকে।

এলোমেলো শাড়ি চুল নিয়ে, বিধস্ত অবস্থায় মেঝেতে বসে হাটু মুড়িয়ে মাথা নুইয়ে কাদঁছে হৃদিতা। একটু আগেই তাকে ঘরে ডুকতে দেখে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে জহির।কথার ফাঁকে ফাঁকে তার খালুজান ওয়ালীদকে নিয়েও বিভিন্ন কুৎসিত কথা রটান তিনি।আরাফ সবটা শুনছিল কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া করেনি।সেই মূহুর্তে হৃদিতার কলিজা কেউ যেন খুবলে খুবলে খাচ্ছে।নিজের হাজারটা অপমান সহ্য হলেও তার খালা,খালুজানের অপমান কিছুতেই সহ্য হয় না তার।বাবা মায়ের চাইতেও কোন অংশে কম নয় তারা হৃদিতার জীবনে।জহিরের বকবক যখন বেড়েই চলছিল, তখন হৃদিতার চোখ মুখের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে আরাফ আর হৃদিতাকে রুমে পাঠিয়ে দেয় মায়মুনা।তারপর আরাফের সাথে ঝগড়া শুরু হয় হৃদিতার। রাগের মাথায় আরাফকে ধাক্কা দিতে থাকে, বেশ কিছুক্ষন তর্কাতর্কি হয় তাদের মাঝে।নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে আরাফ দ্রুত বেরিয়ে যায় রুম থেকে।রাগের মাথায় হৃদিতাকে এমন কোন আঘাত দিতে চায়না সে যার দরুন সারা জীবন কথাটার দাগ লেগে থাকবে।
আরাফ বেরিয়ে যাওয়ার পরেই নিজের উপর রাগ মেটায় হৃদিতা।হাতে থাকা চুড়ি গুলো খুলে দূরে ছুড়ে মারে। মাথার চুল গুলোর সব ক্লিপ ফুল খুলে ফেলে দেয়।একপর্যায়ে কাদঁতে কাদঁতে মেঝেতে বসে যায়।
আরাফ নিঃশব্দে এগিয়ে আসে হৃদিতার দিকে।তার হাতে “হৃদি”। এলোমেলো চুল মাথা নুইয়ে কাদঁতে থাকা মেয়েটিকে দেখে বড্ড মায়া লাগে তার। শাড়িটা এলোমেলো ভাবে ছুয়ে আছে তার শরীরর যার কারনে পেট পিট কিছুটা উন্মুক্ত। আরাফ দ্রুত তার দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।হৃদিতার পাশে বসে তাকে কয়েকবার ডাকতে থাকে। কিন্তু হৃদিতার কোন সারা শব্দ নেই। সে এখনো কাদঁছে।উপায়ন্তর না পেয়ে আরাফ হেচঁকা টেনে দাড়া করায় হৃদিতাকে।আচমকা হাতে টান পরতে নিজেকে সামলাতে পারেনি হৃদিতা। চোখ তুলে আরাফের দিকে তাকাতেই নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে যায়।
– এই ছাড় আমাকে,আমাকে ধরার সাহস কোথায় পেলি তুই?
– হিসসসসস!
আরাফ দ্রুত হৃদিতার কানের পেছনে এলোমেলো চুল গুলো গুযে দেয়।চোখের নিচে লেপ্টে যাওয়া কাজন গুলো বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে দেয়।ঠোটেঁর কোনে লেগে থাকা লাল লিপস্টিকের উপর গাঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।আরাফের দৃষ্টিতে হৃদিতা দূরে সরে আসতে নিলেই ঘোর কাটে আরাফের।
– যা ওয়াশরুমে জামা কাপড় আছে পাচঁ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে আসবি।পরসূ দিন এক্সাম আছে পড়া বাকি পড়তেব হবে।
– মানে কি? তোর কি ধারনা আমি মশকারা করছি তোর সাথে? এখন পড়তে এসেছিস তুই?
– না একদম না। বরং মশকারি তুই করছিস।তুই কি ভেবেছিলি আজকে রাতে তোকে আদর করবো। উহুহ!ভুল। পাচঁ মিনিট টাইম দিলাম দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আয় পড়তে বসবো।যেতে বলেছি যাবি,
যাবি মানে যাবি।
আরাফ ধাক্কা দিয়ে হৃদিতাকে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে দেয়।
পাঞ্জাবির বোতাম খুলতে খুলতে ভারি শ্বাস ছেড়ে আরাফ,সে মনে মনে বলে,
– বেশি দিন তো নয় এই তো সেদিন আবারো দেখতে চেয়েছিলাম তোর লেপ্টানো চোখের কাজল আজ আবার নতুন করে নতুন রূপে তোকে পেলাম।ইসস সহযে যদি সব কিছু পাওয়া যেত তবে আমি আর বেপরোয়া হয়ে উঠতাম না।
#চলবে…..

শব্দ সংখ্যা-২৩৬৯
🍂পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন!

#শব্দহীন_অনুভূতি
#পলি_আনান
#পর্ব_১০

গভীর রাত চারিদিকে শুনসান নিরবতা।বিছানার এক কোনায় হেলান দিয়ে বই পড়ছে আরাফ তার কিছুটা দূরেই হৃদিতা বসে কাদঁছে। তবে তার মুখ ঢাকা বই দিয়ে।কিছুক্ষন পর পর আরাফ পড়া বোঝার বাহানায় হৃদিতার কান্না থামিয়ে দেয়।কিন্তু আরাফ সরে গেলেই আবার কান্না শুরু।হৃদিতার কান্নায় এবার বড্ড বিরক্ত লাগছে আরাফের।শুধু শুধু এখনো কাদঁছে কেন এই মেয়ে?

– এই তোর সমস্যা কি রে?এমন কাদঁছিস কেন? যদি কান্না না থামাস লাত্তি মেরে বিছানার নিচে ফেলবো বলে দিলাম।
আরাফের এমন কথায় বিষ্ফরিত চোখে তাকায় হৃদিতা।ভেজা চোখ দুটো দিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকায় আরাফ বইটা সাইডে রেখে বলে,
– কিরে তাকিয়ে আছিস কেন?খেয়ে ফেলবি না কি আমাকে?
– এইসব কোন ধরনের কথা আরাফ?
– কোন ধরনের মানে খাটি বাংলার কথা। তুই কি ভেবেছিলি বউ যখন হয়েছিস তখন বাবু, ময়না,চাঁদ, পাখি, কলিজা বলবো? নো নেভার তুই আমার বন্ধু ছিলি আর বন্ধু থাকবি।তোকে দিয়ে সংসার করা যাবে না। না মানে না
– তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিস কেন?কিরে বল বিয়ে করেছিস কেন?
– তোকে বিয়ে করার পেছনেও লম্বা ইতিহাস।তা আরেকদিন বলবো।তবে যেনে রাখ তুই আমার কাছে থাকবি,খাবি পড়বি আমাকেও পড়াবি ব্যাস তোর কাজ এইটুকুই।
– মানে কি আরাফ? আমাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্য টা কি?
– আমাকে পড়ালেখার জন্য পরিচালনা তুই ছাড়া আর কেউ করেনা তাই যতদিন পড়া না শেষ হবে ততদিন তুই আমার বউ।তাছাড়া আমি চাইনা তোর পড়াশোনা বন্ধ হোক। তুই ও পড়বি আমিও পড়বো তারপর তুই তোর পায়ে দাড়াবি।জীবনে উন্নতি করবি।
হৃদিতা তাকিয়ে আছে নিষ্পলক ভাবে।তার মাথায় যেন কেউ হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে।আরাফ এইসব কি বলছে?পাগল নাকি শুধুমাত্র হৃদিতার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সাথে তার নিজের! তাই সে বিয়েটা করেছে!
আর ভাবতে পারছেনা সে। সব যেন মাথার ভেতটায় গুলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বিছানা থেকে নেমে আরাফকে উদ্দেশ্য করে বলে,
– আমি কাল বাড়ি যাবো।আমার জামা কাপড়ের প্রয়োজন।
– এক্সাম শেষ হওয়ার আগে কোথাও যেতে পারবিনা।তাছাড়া তোকে তো এই টাউজার আর টি-শাটে বেশ মানিয়েছে।
হৃদিতার আরেকবার নিজের দিকে তাকায় কোমড় থেকে মাথা পর্যন্ত সম্পূর্ন ওড়না দিয়ে শরীর ঢেকে নিয়েছে তবুও তার কাছে কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে।হৃদিতা চোখ ঘুরিয়ে আরাফের দিকে তাকায়।আরাফ মিটিমিটি হাসছে।তার হাসি দেখে হৃদিতার সারা শরীরে কেউ যেন আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বিরক্তে মুখ কুচকে আরাফের দিকে তাকিয়ে বলে,
– আমি ঘুমাবো কোথায়?
– কেন এই বিশাল বড় বেডটা’কি তোর চোখে পড়ছেনা। নাকি আরেকটা বেড লাগবে।
– কি?এখানে আমি ঘুমালে তুই ঘুমাবি কোথায়?ঘরে তো কোন সোফাও নেই।
– কেন আমিও বিছানায় ঘুমাবো।
– দেখ আরারফ আমি কিন্তু মজা করছিনা। তোর সাথে আমি এক বিছানায় কিছুতেই শোব না প্রয়োজনে নিচে ঘুমাবো।
– নিচে একবার ঘুমিয়ে দেখ, মেরে একদম পিঠের চামড়া তুলে দেবো।কালকের দিন পার হলেই পরিক্ষা আর তিনি এসেছেন মেঝেতে শুয়ে ঠান্ডা লাগাতে।যা ঘুমা ডান পাশে আমি বাম পাশে হৃদি মাঝখানে সাথে কোলবালিশ ।
– কি!বিড়ালটাও ঘুমাবে?
– চড় মেরে কানের পট্টি লাগিয়ে দেবো।কয়দিন বলবো ওকে বিড়াল ডাকবি না “হৃদি” ডাকবি।আচ্ছা যাই হোক দ্রুত শুয়ে পড়।কাল সকাল সকাল আবার পড়লেখা শুরু করবো।

কথা না বাড়য়ে হৃদিতা দ্রুত বিছানায় শুয়ে পড়ে।কাঁথা গায়ে মুড়িয়ে নিতেই আরাফ লাইট অফ করে আর বলে,
– গুড নাইট! হেপ্পি ফুলশয্যা!
সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠে হৃদিতা।চাপা আর্তনাদ করলেই অবাক হয়ে তাকায় আরাফ।
– কি হয়েছে তোর?এমন করলি কেন?
-তুই হঠাৎ কি বলেছিস,ফুলশয্যা মানে?
– ওহ, ডাফার একটা আজ তো ফুলশয্যাই এটা কি তুই অস্বিকার করতে পারবি।যা ঘুমা কথা প্যাচাবি না একদম।

হৃদিতা সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে কিছুক্ষন আরাফের দিকে তাকিয়ে থাকে,
– আমি তোর সাথে ঘুমাবো না। তোর বিশ্বাস নেই যদি উলটা পালটা ভুত ভর করে তোর মাথায় মাঝ রাতে।
– আমি কিছু না করলেও হৃদি করবে আমার কথার অবাধ্য হয়ে নিচে ঘুমালে হৃদি আচঁড় কেটে দেবে যেমনটা দিয়েছিল আইদাকে।বোকা মেয়ে ঘুমা।

আরাফ পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো।কিছুক্ষন পর হৃদিতা একপাশে গুটিয়ে শুয়ে যায় মূহুর্তে তার চোখে নেমে আসে রাজ্যের ঘুম।কিন্তু ঘুম নেই আরাফের চোখে ভাবছে সে ভবিষ্যৎতে কি হবে.?বাড়ির প্রত্যাকটা সদস্যর কাছ থেকে কীভাবে রক্ষা করবে হৃদিতাকে।সুযোগ পেলে নিশ্চই অপমান করে বসবে।আরাফ ঘাড় ঘুরিয়ে থাকায়।চুলে ঢাকা থাকায় মুখটা কিছুতেই দেখা যাচ্ছে না হৃদিতার।নির্বাক হেসে আরাফ চোখ বন্ধ করে নেয়।গল্পটি লেখনীতে পলি আনান

সকালের দিকটায় নোমানের কলে ঘুম ভাঙ্গে আরাফের। আরাফকে দ্রুত তার রুমে আসতে বলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছে নোমান।
– দা’ভাই আসবো?
– হ্যা আয়।
আরাফ হৃদিকে হাসে নিয়ে রুমে ডুকতেই তাকে তীর্যক দৃষ্টিতে বেশ কয়েকবার পরখ করে নোমান।
– মেয়েটা কোথায় আরাফ?একসাথে কি ঘুমিয়েছিলি?
– রুমেই আছে দা’ভাই।নিচে ঘুমাতে দিয়েছি, আমি বিছানায় শুয়েছি।মেয়েটার অভ্যাস আছে তাই মেঝেতে ঘুমাতে সমস্যা হয় নি।
– গুড।সব শর্ত মনে আছে তোর?
-হ্যা আছে থাকবেনা কেন।অবশ্যই মনে আছে।তুমি কি কোথায় যাচ্ছো?
– হুম, পার্টি অফিসে যাবো। যা ফ্রেশ হয়ে আয় একসাথে ব্রেকফাস্ট করবো।
আরাফ মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়ে চলে যায়।
হৃদির গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবতে থাকে সেদিনের কথা।

সেদিন রাতে শাকীল আর নাফিসার জোড়াজুড়িতে আরাফ নোমানের সাথে দেখা করে। নোমানকে সবটা খুলে বললে নোমান কিছুতেই রাজি হয় না। নোমানের একটাই কথা মেয়েটা প্রয়োজনে আলাদা ভাড়া বাড়িতে থাকবে সব খরচ নোমানের, তবে আরাফ এবং হৃদিতা দুজনেরি পড়াশোনাটা চালিয়ে যাবা সহজ হবে।
– দেখো দা’ভাই তুমি যেটা বলছো তা হয় না। দেখো বিয়ে ভেঙ্গে গেলে মেয়েটাকে নিয়ে এলাকায় কুৎসিত রটানো হবে।পরিবারে তাকা কানা চোখে দেখবে। চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হবে তাদের মাঝে।
– আজব তাহলে মেয়েটার বিয়ে ভাঙতে বলছিস কেন?
– যদি বিয়ে না ভাঙে তাহলে এত সুন্দর একটা তাজা ফুলের মতো জীবন ঝড়ে পরবে।মেয়েটাকে যেকরেই হোক সেফ করতেই হবে।অন্তত আমার জন্য,আমি যদি পড়াশোনা করি তবে হৃদিতার সাথেই করবো।যদি না হয় তবে এবার পরিক্ষায় বসবো না।

নোমান গাঢ় দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আরাফের দিকে তাকিয়ে থাকে,
– আসলে তুই কি চাস? বলবি আমায়?
– আমি চাই হৃদিতাকে আমি বিয়ে করবো!
আরাফ বুকে পাথর চাপা দিয়ে কথাটা বলেই দিল কিন্তু কথাটা এত সহজ ভাবে হজম হলো না নোমানের।টেবিলের উপরে থাকা পেপার ওয়েটটা দেয়ালে ছুড়ে মারে।সঙ্গে সঙ্গে ধমকের সুরে বলে,
– আরাফ! তোর সাহস কি করে হয় আমাকে এই কথা বলার!
নোমানের ধমকে আরাফ নড়ে উঠলেও সেখানেই স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। আজ যদি ভয়ে গুটিয়ে যায় তবে সারাজীবনের জন্য হৃদিতাকে তার হারাতে হবে।
– দেখো দাভাই শান্ত হও। আমি যা বলছি একটু মন দিয়ে শুনো। হৃদিতা আর আমি যাস্ট ফ্রেন্ড তুমি ভেবোনা আমাদের মাঝে কিছু চলছে।ভুলে যেওনা আমার বংশ স্টেটাস।ওর সাথে আমার কোন দিক দিয়ে যায় না। যাস্টা আমার ভালো আর মেয়েটার ভালোর জন্যই বলছি ভবিষ্যতে হৃদিতা স্যাটেল হয়ে যাবে আমিও স্যাটেল হয়ে যাবো তাছাড়া আমি তো দেশে থাকবো না। এদিকের পড়া শেষ করেই প্রভার সাথে দেশের বাইরে থাকবো। যাস্ট কয়েজ বছরের জন্য দাভাই প্লিজ!

নোমান এখনো চোখ মুখ সংকুচিত করে রেখেছে।তার রাগ যে প্রবল মাত্রায় বেড়ে গেছে আরাফ বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছে।
-দাভাই প্লিজ,বিয়ের পরেও আমরা জাস্ট ফ্রেন্ড থাকবো আমাদের মাঝে কোন সম্পর্ক থাকবে না। তাছাড়া প্রভা মাই লাভ, মাই লাইফ।তাকে আমি কি করে ছেড়ে দেবো বল।আমি যানি বিষয়টি প্রভা যানলে ভীষণ কষ্ট পাবে তাই সিধান্ত নিয়েছি বিষটা প্রভার অন্তরালেই থাকবে।প্লিজ দাভাই তুমি রাজি হয়ে যাও।
প্রভার সম্পর্কে দুই-চারটা সাফাই গাইতেই নোমান যেন শক্ত বরফ খন্ড থেকে পানিতে পরিনত হলো।
– ঠিক আছে বিয়েটা হবে। তবে আমার কিছু শর্ত আছে!
– বলে ফেলো কি শর্ত তোমার?
– তোদের বিয়ে হবে ঠিক তবে এক রুমে থাকবি না। হৃদিতার জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হবে।
নোমানের শর্ত শুনেই ঢোক গিলে আরাফ।কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকেই দ্রুত বলে,
– এমনটা হলে অনেক সমস্যা আমাদের ফেস করতে হবে দা’ভাই।আমাদের বাড়ির লোক গুলোর কথা তো তুমি জানো উঠতে বসতে হৃদিতাকে খোটা দেবে। আশ্রিতা বলা হবে। মেয়েটার ভালো করতে গুয়ে বরং মানসিক নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে যাবে।তাছাড়া আমি বলেই দেব প্রভার কথা হৃদিতাকে। তুমি টেনশন নিওনা। মনে করে নাও এটা আমাদের কন্ট্রাক বিয়ে।

বেশ কিছুক্ষন আরাফ আর নোমানের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়।অবশেষে হৃদিতাকে বিয়ে করার সম্মোতি জানায় নোমান।
– মেয়েটাকে যে বিয়ে করবি তার ভরণপোষনের দায়িত্ব কে নেবে?তোর বাবা তো তুই বিয়ে করেছিস শুনলেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠবে।
– সাপ্তাহে সাপ্তাহে যে টাকা দিয়ে পার্টি করি,আড্ডা মাস্তি করি সেই টাকা গুলো হৃদিতার জন্যই খরচ হবে।
– যাক তবে নেশাটা কমে আসবে তোর।
আরাফ মুচকি হেসে মাথা সায় দেয়।তবে মনে মনে বলে,
– মদ,সিগারেট, আড্ডা,মাস্তি তার থেকেও নেশা’লো আমার হৃদিতা।যাকে পেলে অন্য কোন নেশা আমার জন্য বেমানান।

সকাল এগারোটা ছুঁইছুঁই। হৃদিতা এখনো গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে।তার পাশেই বসে আরাফ তার পড়া পড়ছে।সামনে থাকা একটি বিশাল বড় প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ ঘুরিয়ে নেয় দেয়াল ঘড়ির দিকে।ঘড়ির কাঁটা এগারোটার ঘর ছুঁতেই আরাফ বিছানা থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। ফল সরূপ চিকেচিকে রোদের আলো গিয়ে ঠেকে হৃদিতার চোখে মুখে।চোখ মুখ কুচকে বিরক্ত ভঙ্গিতে, উঠে বসে। সামনে তাকাতেই সুসজ্জিত দেয়াল দেখেই জোরে একটা চিৎকার দেয়।হৃদিতার হঠাৎ উদ্ভট আচরনে আরাফ এক লাফে বিছানায় উঠে হৃদিতার মুখ চেপে ধরে।

– এই সমস্যা কি তোর?ঘুম থেকে উঠেই চিল্লাচিল্লি শুরু করেছিস কেন
আরাফ মুখ জোরে চেপে ধরায় শ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে হৃদিতা। তাকে ছটফট করতে দেখেই দ্রুত হাত সরিয়ে নেয় আরাফ।
– আ-আ-মি এখা-নে ক-কেন?
– মানে কি?তোর না কাল বিয়ে হয়েছে?এক রাতেই ভুলে গেলি।
হৃদিতা চমকে তাকায় আরাফের দিকে।দুইহাতে মাথা চেপে ধরে কয়েক সেকেন্ড নিরব থাকে।হৃদিতা মাথা তুলে মাথা নাড়িয়ে আরাফের দিকে তাকায়।মানে তার মনে পড়েছে।হৃদিতার অবস্থা দেখে আরাফ ঠোঁট বাকিয়ে হাসতে থাকে।
– এক ঘুমেই বিয়ের কথা ভুলে গেসিছে? বাহ হৃদিতা বাহ!ভবিষ্যতে বাচ্চা-কাচ্চা হলে বলবি, উমা এই বাত্তা খার আমিটো টিনিনা।রিডিকিউলাস মেয়ে।
আরাফের এমন মুখ ভেঙচানো বচন ভঙ্গির কথা শুনে আড় চোখে তাকায় হৃদিতা।
– দেখ ওই প্যাকেটটা খোল। তোর প্রয়োজনীয় সব জিনিস নাফিসা শপিং করে এনেছে। তোর জামা কাপড় আমার কাভাডেই রাখবি।দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আয়।
আরাফ হৃদিতার দিকে প্যাকেটটা এগিয়ে দেয়।হৃদিতা একে একে সব বের করতে থাকে।তার জামা কাপড়, শাড়ি,জুতা,বোরকা, কসমেটিক’স সব কিছু আলাদা আলাদা প্যাক করে দিয়েছে নাফিসা। সব কিছুর মাঝ থেকে আরাফ জামদানির একটি লাল টুকটুকে শাড়ি হাতে নেয়।
– এই নে এটাই পরে আয়।
– এটা! দেখ কি গাঢ় লাল। এমন রঙ আমার মোটেও পছন্দ না।
– পছন্দ না মানে পরতে বলেছি পরে আয়, যা মানে যা।
হৃদিতা মুখ কুচকে কিছু বলতে নিলে আরাফ কথা ঘুরিয়ে দ্রুত বলে,
– আর কতক্ষন এইভাবে থাকবি? তুই কি আমার কন্ট্রোলের পরিক্ষা নিচ্ছিস নাকি?
আরাফের কথা শুনে হুশ আসে হৃদিতার। দ্রুত গায়ে ওড়না জড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
– তুই একটা অসভ্য! শুধু অসভ্যনা চরম মাত্রার অসভ্য!
হৃদিতা দ্রুত ওয়াশরুমে চলে যায়। আরাফ তার দিকে তাকিয়ে বুকে হাত দিয়ে ধপাস করে বিছানায় শুয়ে যায়।

নোমান অফিসের কাজ নিয়ে ম্যানেজারের সাথে আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত।
– আগামী কাল বেলা বারোটায় একটা মিটিং রাখবে।সব কিছুর এরেঞ্জ যে দ্রুত সম্পূর্ন করা হয়।
– ওকে স্যার আমি অবশ্যই সবটা দেখে শুনে রাখবো।
– হুম, আর গোডাউনের মাল গুলো ট্রাকচালককে বলবে সাবধানে যেন নিয়ে যায়। গত একসাপ্তাহ থেকে কাজ গুলো করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে অথচ কি করো তোমরা কে জানে।একটা কা….

নোমান কথা শেষ করার আগেই তার ফোনে কল আসে।ফোনের স্কিনের দিকে তাকিয়ে মাইশার নামটা দেখেই দ্রুত কেটে দেয়।কিন্তু একের পর এক ফোন করেই যাচ্ছে মাইশা।বিরক্ত হয়ে নোমান সিধান্ত নেয় এই মেয়েকে আজ ইচ্ছা মতো বকে দেবে।ম্যানেজারকে রুম থেকে বের হতে বলেই মাইশার ফোন রিসিভ করে,

– হ্যালো কি সমস্যা তোমার, এত বার ফোন করছো কেন তুমি?
– ওওওওও , যা বোঝার বুঝে গেছি নিশ্চই নতুন বউয়ের সাথে টাইম স্পেন্ড করছো? ডিস্ট্রাব করেছি নাকি?
– নতুন বউ?
নোমানের অবাক হওয়া কন্ঠ। মাইশার হুট করে বলা কথাটি কিছুতেই হজম হচ্ছেনা তার।
– কি হলো চুপ মেরে গেলে যে। কি ভেবেছিলে আমি জানবো না। কিন্তু আমি তো সবটা যেনেই গেলাম। কাল রাতেই বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে সরাসরি বাড়ি ঢুকেছো তুমি।
শেষ কথাটা বলেই ডুকরে কেঁদে উঠে মাইশা।নোমান মাথায় হাত দিয়ে, তর্জনী দ্বারা কপাল ঘোষতে থাকে।সে বিয়ে করেছে কবে?আর নতুন বউটা কে?ভাবনার মাঝেই নোমানের হৃদিতার কথা মনে পড়ে যায়।আরাফ আর হৃদিতার বিয়ের সংবাদটা উলটো ভাবে শুনেছে মাইশা।নিশ্চই বাড়ির কেউ কথা গুলো দেশের বাইরে মাইশার কানে পাচার করছে।আর সে ভুল করে হয়তো বলেছে নোমান আর হৃদিতা বিয়ে করেছে।
নোমানের যখন সবটা ক্লিয়ার হয়ে যায় তখন ঠোঁট কামড়ে হাসতে থাকে সে।
– ওহ হ্যা আসলেই বিয়ে করেছি। তোমাকে তো বলাই হয়নি।
মাইশার কান্না যেন কিছুতেই থামছে না।কান্নার দাপটে হেঁচকি উঠে গেছে।
– ও.ও ম..মে.য়ে… টা, বুঝি…আ..আমার.. থে..কেও সুন..ন্দরী তাই..নিশ্চ..ই পাগ..ল হ..হয়ে..ব..বিয়ে ক..করেছো।
-হ্যা মেয়েটা তোমার থেকেও সুন্দরী লক্ষী, লাজুক লতা। তোমার মতো বেহায়া না।
নোমানের কথায় মাইশার বেশ রাগ লাগে। বাম উলটো পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
– দেখে ন.নেবো আমি, কত দিন তোদের বিয়ে টিকে।আমি আসছি বিডিতে।

নোমান দ্রুত টেবিল থেকে দাঁড়িয়ে হ্যালো হ্যালো করতে থাকে। আবার ফোন দিতে গেলেই ফোন বন্ধ বাতায়।রাগে শরীরটা কাপঁছে নোমানের।এই মেয়ে আবার বিডিতে এলে নির্ঘাত কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।আবারো বৃদ্ধা আঙুল আর তর্জনী দ্বারা কপাল ঘসতে ঘসতে নোমান দ্রুত ম্যানেজারকে ডাকতে থাকে।
– ম্যানেজার,ম্যানেজার দ্রুত রুমে আসুন, কুইক!

ভেজা চুল গুলো নিয়ে,লাল শাড়ি পরিধানকারী মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থমকে যায় আরাফের সময়,মূহুর্তেরা।লাল শাড়িটি যেন হৃদিতার জন্যই যত্ন করে তৈরি করা হয়েছে।স্লান করার ফলে স্নিগ্ধ মুখ খানার দিকে তাকিয়ে দিনটি যেন পরিপূর্ণ হয়ে যায় আরাফের।।অবাক চোখে হৃদিতার দিকে তাকিয়ে থাকলে হৃদিতার চোখে চোখ পড়তেই দ্রুত চোখ সরিয়ে নেয় আরাফ।
– এহহ কি পড়েছিস এটা একটুও মানানি তোকে।
আরাফের কথায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একবার পরখ করে নেয় হৃদিতা।
– মানায় নি কে বলেছে, কই তেমন খারাপ লাগছে না তো।
– সৌন্দর্যের তুই কি বুঝিস একটুও ভালো লাগছে না তোকে।বরং শাড়িটা আমার ছত্রিশ নাম্বার এক্স জিএফকে দারুন মানাতো একদম ঝাক্কাস!

আরাফের কথা মুখ বাকিয়ে নেয় হৃদিতা।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর মুখে চুলের পানি ঝারতে থাকে।হালকা সাজসজ্জা করে রুম থেকে বের হতে নিলেই আরাফ হাত টেনে ধরে,
– ওই কই যাচ্ছিস তুই?
– কেন নিচে যাবো না এমনিতেই আমার আজ দেরি হয়ে গেছে।আমার তো আজ সকাল সকাল নিচে যাওয়ার কথা ছিল।
– না যাবি না। এখন পড়তে বস, দুপুরে নিচে যাবি তাও আমার সাথে।
-কিন্তু কেন?বুঝলাম না কিছু।
– এত কিছু বুঝে তোর কাজ নেই। আরেকটা কথা জেঠিমা ছাড়া বাড়ির কারো সাথেই মেলামেশার দরকার নেই।আমাদের পিচ্চি দুইজন আইদা আর আদীব তাদের সাথে মিশবি আর ভুলেও কারো সঙ্গে মেলামেশা করবি না।আর নোমান ভাইকে দেখলে দূরে দূরে থাকবি। আরো কিছু মানুষ আছে যাদের তোর চেনা হয়নি। আসতে আসতে সবাইকে চিনে যাবি।আয় ব্রেকফাস্ট করে নে।

আরাফ হাত টেনে হৃদিতাকে নিয়ে যায়।হাতে খাওয়ার প্লেট তুলে দিয়ে তার পেছনে বইয়ে মুখ গুজে নেয়।হৃদিতা নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে আরাফের দিকে তার মনে তৈরি হয়েছে নানান প্রশ্ন।খাওয়ার প্লেটটা সাইডে রেখে আরাফের দিকে তাকিয়ে বলে,
– আরাফ আমার কিছু কথা যানার আছে।
আরাফ বইয়ের দিকে মুখ গুজেই বলে,
– কি কথা বল,
– তুই আমাকে বিয়েটা করার কারন কি? প্লিজা আমায় বল।দেখ আমরা দুই মেরুর দুজন।তুই কত হাই লেভেলের ফ্যামিলি বিলং করিস আর আমি নিম্ন মানের।তুই পার্টি আড্ডা,মাস্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকিস আর আমি সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়ালে রাখি। আমি কালকেই বুঝে নিয়েছি তোর পরিবারের চাহিদা অনেক।তারা ভালো পরিবারের কোন বড় লোক ঘরের মেয়ে তোর বউ হিসেবে ঘরে তুলতো।আর তুই সেখানে এতিম একটা মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছিস এইসব কি করে মানবে তোর পরিবার।আমার মতে তাদের না মানাই স্বাভাবিক। এবার আমায় প্লিজ কারনটা বল।

আরাফ চুপচাপ বইয়ে মুখ গুজে আছে এই মূহুর্তে হৃদিতার প্রশ্নের উওর তার মোটেও দিয়ে ইচ্ছে করছে না কিন্তু হৃদিতা তাকিয়ে আছে আরাফের দিকে ব্যাকুল চোখে।এই মূহুর্তে তার কাছে সমাজ, স্থান, পর মর্যাদা সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য। তার যে কোরেই হোক উওরটি যানতেই হবে কেন আরাফ তাকে বিয়ে করলো?
– কিরে আরাফ বলবি না তুই আমায়?
হৃদিতার প্রশ্নে মুখ থেকে বইটা কিছুটা দূরে ছুড়ে মেরে আরাফ একটানে হৃদিতাকে তার বুকের উপর আছড়ে ফেলে।হৃদিতা অবাক চাহনীতে তার দিকে তাকাতেই আরাফ তার সামনে আসা চুল গুলো কানের পেছনে গুজে দেয়।আরাফ মুখ দিয়ে হৃদিতার চোখে মুখে ফুঁ দিয়েতেই হৃদিতা দ্রুত চোখ বন্ধ করে নেয়।

-অনুভূতি গুলো সবার কাছে প্রকাশ করা যায় না। শুধুমাত্র তাদের কাছেই প্রকাশ করা যায়, যাদের জন্য মনের গভীর থেকে একটু হলেও আসক্তির জন্ম নেয়।
তুই তো আমার সেই আসক্তি, তোকে দূরে সরাই কি করে।
হৃদিতা আরাফকে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে দূরে সরে যায়।বিরক্তে চোখ মুখ কুচকে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
– তুই আসলেই অসভ্য চরম মাত্রার অসভ্য!ভালো হয়ে যা, এখনো সময় আছে ভালো হয়ে যাও আরাফ এনায়েত!
– যথা আজ্ঞা “নেশাবতী”

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here