তপ্ত ভালোবাসা #লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া #পর্বঃ_২২

#তপ্ত ভালোবাসা
#লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
#পর্বঃ_২২

.
🍁
—” তো আমি কি করবো মেরে দে, মারবি তুই আর জিজ্ঞেসা করছিস আমাকে, তোর মারার হলে মেরে দে,,,

.
উনার এমন কথায় আমি উনার দিকে টলমলে চোখে তাকিয়ে থাকি, কিছু বলার বা করার স্বাদ আমার নেই আমি পাথর মূতি মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি উনার দিকে তাকিয়ে থেকে, সাথে নিজের নিশ্বাসটা যেন হা করেও নিয়ে পারছি না হাঠাৎ করেই নিশ্বাসটাও আটকে আসছে জোরেসরে,,, আমার এমনত অবস্থায় পাশের গুন্ডা লোকটা আরও জোরে চেপে ধরে ছুটিটা আমার গলায় উনাকে( রিদ) ভয় দেখানো জন্য, গুন্ডা লোকটার এমন কাজে ভয় নামক বস্তুটি রিদ খাঁনের আশেপাশে যেতে পারিনি। রিদ খাঁন ভয় পাবে তো দূর উল্টো বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে কখন আমাকে মারবে সেটা দেখার জন্য,

.

রিদ খাঁনকে এতো মনোযোগ সহকারে আমাদের দিকে তাকাতে দেখে গুন্ডা লোকটি এবার ছুটি আমার গলার সাথে লাগিয়ে আরও চেপে ধরে শক্ত হাতে এতে করে সাথে সাথে আমার গলার খানিকটা কেটে যায় আর সেই কাটা জায়গায় দিয়ে ছুয়ে ছুয়ে রক্ত ঝরতে থাকে ধীরে ধীরে, গুন্ডা লোকটি ছুরিটি আমার গলার সাথে লাগার সাথে সাথে আমার নিশ্বাস আটকে আসার মতো জোরে শব্দ করে উঠি সাথে চোখ দিয়ে আমার অঝোর ধারা পানি ঝরতে লাগে আমার এমন অবস্থা দেখে গুন্ডা লোকটি রিদ খাঁনকে তাড়া দিয়ে আবারও বলে উঠে……..

.

—” সত্যি বলছি রিদ মেরে দিব কিন্তু মেয়েটিকে আমাদের যেতে দে বলছি……..

.

—” তোর কি মনে হয় আমি তোর সাথে মিথ্যা বলছি, মেরে দিতে চাইছিস জাস্ট মেরে দে ফালতু বকবক করে সময় নষ্ট না করে….. (কপাল কুচকে)

.
—” মেরে দিব কিন্তু…… (ভয় দেখিয়ে)

.
—” আচ্ছা মার…..

.

রিদ খাঁনের এমন সোজাসাপ্টা উত্তর পেয়ে গুন্ডা লোকটি ভয়ে পেয়ে যায় কি করবে কিছুই বুঝতে না পেরে আবারও তাড়া দিয়ে বলে উঠে……..

.
—” তোর জন্য একটা নিষ্পাপ মেয়ের জীবন যাবে কিন্তু তাই বলছি আমাদের যেতে দে ভালোই ভালোই নয়তো……

.

গুন্ডা লোকটির এমন কথায় রিদ খাঁন বাকে হেসে লোকটি দিকে তাকিয়ে থেকে বলে উঠে…..

.

—” নয়তো যা করার কর আমার কি, একটা জিনিস কি জানিস রকি আমাদের কালো দুনিয়ায় দয়া মায়া জিনিসটাই কাজ করে না। কখনোই কালো দুনিয়ায় বাদশাহদের দুর্বলতা থাকে না যাহ আমার মধ্যেও নেই যাদের দুর্বলতা থাকে তাঁরা কখনোই কালো দুনিয়ায় বাদশাহ হতে পারে না, আমাদের কখনোই উইক পয়েন্ট থাকেনা, কারণ আমাদের প্রথম কাজেই মানুষের উইক পয়েন্ট নিয়ে খেলা করা আর তাদেরকে ব্যবহার করা, যাহ তুই করতে চাইছিস এই মূহুর্তে আমার সাথে আর তোর সব-কয়টা চেষ্টায়ই বার বার ভুল নাম্বার এ ডায়েল হচ্ছে, কারণ না আমার এই মেয়েটা প্রতি কোনো রকম দয়া মায়া হচ্ছে আর না তোর প্রতি,,,

.
কথা গুলো বলেই আমার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ থেমে আবারও বলে উঠে…..

.

—” তাই বলছি আগে তুই এই মেয়েটাকে মেরে দে পরে নাহয় আমি তোকে মেরে দিব কি বুলিস,,,,,(ভ্রু নাচিয়ে)

.

উনার এমন হৃদয় কাঁপানো কথায় মূহুর্তেই আমার কলিজা কেঁপে উঠছে বার বার পুরো শরীর হীম ধরে ঠান্ডা হয়ে আসছে মুহূর্তেই, একটা মানুষ কতটা নির্দয় হলে নিজের বউকে অন্যের হাতে তুলে দিতে পারে তাকে মরার জন্য, উনার জন্য মনের মধ্যে একরাশ রাগ সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে ঘৃণা জম্ম নেই অতিরিক্ত,,,

.

কিন্তু উনার ঘৃণা করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না করার মতো যদি কোনো কথা বলতে চাই তো উনার হাতে মরতে হবে আগে আর তাই কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটার মনে হচ্ছে, কারণ উনি আমার এতোটাই অপছন্দের যে উনার হাতে মরার থেকে এই গুন্ডা লোকটি হাতে মরার অনেক বেশি পছন্দনীয় মনে হচ্ছে, তাই কপালের হাতে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে টায় জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকি চুপচাপ গুন্ডা লোকটি হাতে মরার জন্য,

.

আমাকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিদ খাঁন আমার দিকে কপার কুচকে তাকায়, রিদ খাঁনকে আমার দিকে তাকাতে দেখে আবারও গুন্ডা লোকটি রিদ খাঁনকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে……

.

—” রিদ আমি বার বার বলছি আমাদেরকে যেতে দে নয়তো মেয়েটি জানে শেষ করে দিব…….

.
রকি নামক লোকটি কথা বলেই সাথে সাথে আমার গলায় ছুরিটি আরও শক্ত করে চেপে ধরে এতে করে আমার গলা কাটা জায়গায়টি বেশ খানিকটা জায়গায় কেটে যায় আর যার কারণে ভয়ে আমি ঝিম ধরা অবস্থায় ঢলতে থাকি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আদু আদু চোখে সামনের দিকে উনার দিকে তাকায় আমি…..

.

রকির বার বার একি কথা গুলো রিপিট করার কারণে মূহুর্তেই রেগে জান উনি, পরে রাগে রি রি করতে করতে গাড়ি ডিক্কি থেকে লাফ দিয়ে নেমে দক্ষ হাতে সাথে সাথে শুট করে রকির কপার বরাবর উনার গুলি করার সাথে সাথে রকি মাটিতে লুটিয়ে পড়লো সাথে সাথে পরে উনি (রিদ) রকি লাসটি দিকে ক্ষেপ্ত চোখে তাকিয়ে থেকে মুখ শক্ত করে বলে উঠে…….

.

—” মেরে দিব, মেরে দিব, বারবার একি কথা শুনতে ভালো লাগে না আমার, প্রথমেই বলেছি মারার হলে মেরে দে কথাটা শুনলি না আমার নে এবার তুই নিজেই মর শালা…..

.
উনার এমন কথা বা কাজে আমি ঘোলাটে চোখে একবার উনার দিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে করে নিচে রকির লাশটি দিকে তাকায় উনি রকিকে গুলি করার কারণে রকির চারপাশে রক্তে ভেসে যাচ্ছে মূহুর্তেই,, রকির অঝোর ধারা রক্ত ভয়তে দেখে সেটা আর নিতে পারিনি আমি কারণ আমার ছোট থেকেই রক্তের প্রতি অনেক বেশি ফোবিয়া তাই রক্তের দিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে করে ডলে পরি রাস্তায় রকির লাশটি পাশে তারপর কি হয়েছে কিছুই বলতে পারি না আমি…….

.

.

🍁
আদু আদু চোখ খুলে তাকায় আমি চোখে সামনে সবকিছু ঝাপসা দেখে চোখটা কিছুক্ষণ বন্ধ রেখে আবারও ধীর গতিতে চোখটা খুলে সামনেরদিকে তাকায় আমি, স্বাভাবিক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর কপাল কুচকে এলো আমার নিজের চারপাশটা বেশ অপরিচিত লাগায় শুইয়ে থাকা অবস্থা চারপাশে চোখ বুলিয়ে বুঝার চেষ্টা করি কোথায় আছি আমি, আমার শত চেষ্টা পরও নিজের অবস্থানটা বুঝতে পারিনি যে আমি কোথায় আছি,,

.

চারপাশে চোখ বুলিয়ে আস্তে করে উঠে বসার জন্য নড়েচড়ে ওঠতেই হাতে কিসের যেন টান অনুভব করি সাথে চিনচিন ব্যাথাও লাগে, ব্যাথা লাগার কারণে আমি চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকায় তখনি চোখে পড়ল আমার হাতে লাগানো স্যালানের ক্যান, আমি ক্যানসহ হাতটি ওপরে তুলতেই পাশ থেকে কেউ উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠে………

.

—” মায়ুপাখি তোমার জ্ঞান ফিরেছে, তুমি এখন কেমন আছো……….

.

কারও এমন কথায় আমি সাথে সাথে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকায় তখনি চোখে পড়ল রুদ্রকে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে চোখে মুখে বেশ আতংক ছাপ হয়তো কিছু নিয়ে বেশ ভয় পেয়ে আছে এমন একটা ভাব রুদ্রের মধ্যে, আমি তাকাতেই রুদ্র চোখ মুখে খুশিতে চকচক করে ওঠে নিজের ঠোঁটের মধ্যে হাসি রেখা টেনে আমাকে আবারও বলে উঠে…….

.

—” বললে নাতো এখন কেমন লাগছে তোমার…..

.
—” এটা কোথায় আমি,? আর আপনি এখানে কেন,? আমাকে এইভাবে শুয়ে রাখা হয়েছে কেন. ?…..

.
—” আস্তে আস্তে মায়ুপাখি, তুমি একসাথে এতো গুলা প্রশ্ন করলে আমি উত্তর দিব কি করে, আমি একটা করে তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি ঠিক আছে… তো হ্যা কি যেন বললা তুমি প্রথমে কোথায় আছো তাই তো,, এটা হসপিটাল, তুমি এখন হসপিটালের কেবিনে শুয়ে আছো অজ্ঞান অবস্থায় দীর্ঘ বার ঘন্টা যাবত, তোমাকে দুপুর দুটোর সময় হসপিটালের আনা হয়েছে আর এখন রাত একটা বাজে তুমি দীর্ঘ বারো ঘন্টা যাবত অজ্ঞান অবস্থায় ছিলে,,, তুমি জানো তোমাকে নিয়ে কতটা টেনশনে ছিলাম আমরা সবাই, তোমার যদি কিছু হতো তাহলে আজ আমার কি হতো, আর সাথে আসিফকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে মন চাইছে আজ যদি আসিফ তোমাকে সময় মতো হসপিটালের না আনতো তাহলে তো আজ তোমার সাথে সাথে আমিও মরে যেতাম নিশ্বাস আটকে……

গল্পের পেইজ লিংক
https://www.facebook.com/profile.php?id=100069402592136

.

চলবে…………

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here