শব্দহীন_অনুভূতি,পর্ব_১৯,২০,২১

শব্দহীন_অনুভূতি,পর্ব_১৯,২০,২১
পলি_আনান
পর্ব_১৯

স্তব্দ খোলা আকাশের নিচে হাটু মুড়িয়ে বসে আছে আরাফ।
রাত প্রায় এগারোটা, হৃদিতাকে খুজঁতে খুজঁতে ক্লান্ত সে।কয়েক মিনিট আগেই হৃদিতা ফোন দিয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছে।আরাফ বাড়ি ফিরে রাগে গিজগিজ করতে করতে ছাদে যায়।আজ হৃফিতা শুধু বাড়ি ফিরুক তবে আরাফ কি করবে সে নিজেও জানেনা

বাড়িতে ডুকতেই একে একে সবার কাছে জবাবদিহি করতে হয় হৃদিতাকে।বাড়ির বেশ কয়েকজন কুৎসিত ভাবে গালমন্দ ও করেছে তাকে। তবে সেদিকে কান না দিয়ে আগে আরাফকে খুঁজতে রুমে আসে।আরাফকে রুমে না দেখে ক্লান্ত হৃদিতা আগে সিধান্ত নেয় ফ্রেশ হয়ে নেবে।আজ সারাদিন ব্যস্ত সময় পার হয়েছে তার।

আরাফ রুমে ডুকে হৃদিতাকে দেখতে না পেয়ে আড় চোখে চারিদিকে তাকিয়ে চোখ বুলায়।হঠাৎ দরজার ছিটকিনি খোলার শব্দে আরাফ পেছনে ঘুরে তাকায়। গোসল সেরে হৃদিতা আরাফকে দেখেই ঢোক গিলে সে যানে আজ আরাফ রেগে আছে।
– আরাফ!
হৃদিতার ডাক আরাফের কর্ণকুহরে পৌছালো না।সে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে স্বচ্ছ শুভ্র নির্মল হৃদিতার দিকে।টপটপ পানিয়ে পীঠের বেশ খানিকটা অংশ ভিজে গেছে আরাফ সেদিকে তাকিয়ে চোখ বুলিয়ে নেয়।হৃদিতার চোখে চোখ রাখতেই তার রাগ যেন তড়াক করে বেড়ে যায়।দ্রুত হৃদিতাত দু’বাহু খামছে ধরে তীক্ষ্ণ স্বরে বলে,
– কোথায় ছিলি?কোথায় ছিলি তুই?
– আহ!আরাফ ছাড় আমার লাগছে।
আরাফ হৃদিতার কথা শুনলো না বরং আরো জোরে দুই বাহু চেপে ধরে ঝাকিয়ে বলে,
– প্রশ্ন করেছি উওর দিবি,আর কোন কথা আমি শুনতে চাইনা।কোথায় ছিলি তুই?
– ক কবিরের বাড়ি!

হৃদিতার মুখে কবিরের নাম শুনতেই তাকে দেয়ালের সাথে ছিটকে সরিয়ে বিছানার চাদর খামচে বসে যায় আরাফ।আগেও ভার্সিটিতে কবিরের সাথে মেলামেশা মোটেও পছন্দ করতো না আরাফ। আজ যখন জানতে পারে হৃদিতা এত রাতে কবিরের সাথে ছিল তখন রাগটা আরো প্রকট ভাবে ধারন করে।নিজের রাগটা সামলাতে নিজেই নিজের উপর জোর খাটাচ্ছে কিন্তু রাগটা মোটেও থামছে না। এই মূহুর্তে যদি কাউকে বেদম পেটাতে পারতো তবেই আরাফের শান্তি হতো।

– কবিরের সাথে কি তোর?
– রেগে যাচ্ছিস কেন?আগে সম্পূর্ণ কথাটা শোন আমার।
– রেগে যাচ্ছি মানে কি?আমি তোকে আমার প্রশ্নের পালটা প্রশ্ন করতে বলিনি। ভেবে নিস না বন্ধু হিসেবে জিজ্ঞেস করছি।বাড়ির বউ এত রাতে বাড়ির বাইরে ছিল আর হাজবেন্ড হিসেবে আমি জবাব চাইতেই পারি।বল কি করছিলি তোরা?

– কবিরের ছোট বোন কেয়ার আজ জন্মদিন ছিল।আমার টিউশনের সামনেই তারা দাঁড়িয়ে ছিল আমার জন্য। বিশ্বাস কর আমি জানতাম না,মেয়েটা আমাকে খুব ভালোবাসে আমিও। সে চায় আমাকে নিয়েই কেক কাটবে তাই আমাকে জোর করে সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে নিয়ে গেলো।আমি তোকে জানাতাম ঠিকি কিন্তু আমি তো ফোন নিতেই ভুলে গেছি আজ।তুই চেক কর ফোন ডয়ারেই আছে।এদিকে তোকে জানাবো জানাবো ভেবেও সবার আনন্দ মজলিশে ভুলে যাই পরে তো জানিয়েই দিলাম।সরি রে, আমি জানি তোরা চিন্তা করছিলি।
– ব্যস এইটুকুই?সরি বললেই হয়ে গেলো?
– আরাফ প্লিজ তুই শান্ত’হ।
– কবিরের বোন তোকে এতই ভালোবাসে যে তোকে নিয়ে কেক কাটতে চাইছে নিশ্চই পরবর্তী বায়না জুড়বে তার ভাইয়ের বউ বানাতে?কি আমি ঠিক বলছি তো?
– আরাফ বিষয়টা এত বাজে ভাবে নিচ্ছি কেন তুই?
হৃদিতার চিৎকারে আরাফ দ্রুত এগিয়ে এসে হৃদিতার মুখ চেপে ধরে দাঁড়িয়ে যায়।
-হিসসস আওয়াজ নিচে!খবরদার গলার আওয়াজ চওড়া করবি না।
হৃদিতা স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে আছে আরাফের দিকে।চেহারা একদম উষ্কখুষ্ক হয়ে আছে।হৃদিতা মাথা নাড়াতেই আরাফ তার হাত সরিয়ে নেয়।
– একটা কথা এই শেষ বারের মতো বলছি,তোর সাথে আমি যেন কবিরকে আর না দেখি মাইন্ড ইট!
– আজব!এইসব কি, তুই কিন্তু আমার ফোর্স করছিস।সে আমার বন্ধু হয় এর থেকে বেশি কিছু না।
– আমিও বন্ধুই ছিলাম তারপর বর!
আরাফের যুক্তিহীন কথায় হৃদিতার বেশ রাগ লাগে।মুখে হাত দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ঠান্ডা মাথায় বলে,
– আমি তোকে ভালোভাবে বলছি আরাফ।আমি কবিরকে জাস্ট বন্ধু ভাবি।আরেকটা কথা আমি যার সাথে ইচ্ছে তার সাথে চলবো সেটা আমার ব্যাক্তি স্বাধীনতা।তোর সাথে আমার পথ চলা আর মাত্র কয়েকদিন তারপর প্রভা তোর জীবনে আমার জীবনেও হয়তো অন্য কেউ…

হৃদিতা কথা শেষ করার আগেই আরাফ তার চুলের মুঠি টেনে ধরে।
– তোর জীবনে অন্যকেউ মানে? অন্য কেউ মানে কি?
– কেন তুই প্রভাকে পেয়ে যাবি আমি কেন অন্য কাউকে পাবো না?
– তুই কখনো কারো সাথে নিজের জীবন জড়াবি না।তুই আমার চোখে চোখে থাকবি!
– প্রভা কি থাকতে দেবে আমায়?তুই আমাকে চাস নাকি প্রভাকে চাস আরাফ?
– আমার তো তোকে চাই।বুঝিস না কেন তোকে চাই।
আরাফের প্রত্যুত্তের হৃদিতা ঠোঁট বাকিয়ে হাসে।উত্তেজিত হয়ে আরাফ সত্যিটা বলে ফেলেছে।
হৃদিতার চোখের দিকে তাকিয়ে আরাফ থেমে যায়।দ্রুত বিছানায় বসে হাটুতে হাত দিয়ে মাথা নুইতে নেয়।সব কিছু তার কাছে পাগল পাগল লাগছে। হৃদিতা আরাফের অবস্থা বুঝতে পেরে তার সামনে এগিয়ে আসে,মেঝেতে বসে আরাফের দিকে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকায়।
– আরাফ,তোর কি ইচ্ছে আমাদের পথচলা সারা জীবনের জন্য হোক,নাকি ক্ষনিকের?
– দেখ হৃদিতা তোকে আমি চাইলেও পাবো না।
– কিন্তু কেন তোর কিসের এত ভয়?
– আমি যদি তোকে আমার করে রাখি তবে নোমান ভাইয়ের আদরের বোন প্রভার কি হবে?তুই জানিস প্রভার মা বাবা নেই।নোমান ভাই তার একমাত্র দূর্বলতা। এদিকে নোমান ভাই প্রভার কোন চাওয়া ইচ্ছে অপূর্ণ রাখেনি।আমি তোর দিকে অগ্রসর হলে নোমান ভাই তোর ক্ষতি করবে।তোর খালা,খালু সবার ক্ষতি করবে। আমার হাত পা অদৃশ্য শেকলে বাধা।

হৃদিতা দাঁড়িয়ে যায়। আরাফের দিকে অভিমানী সুরে বলে,
– ঠিক আছে তুই তোর রাস্তায় আমি আমার রাস্তায়।কোন দিন আমার কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবি না।তুই আমাকে খুব শীঘ্রই ডির্ভোস টা দিয়ে দিস আমি কবিরের সাথেই আমার বাকি জীবন কাটিয়ে নেবো।
হৃদিতার কথা শেষ হতেই আরাফ আগুন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার দিকে তাকায়
– খুন করে ফেলবো আমি যদি দুইটাকে একসাথে দেখি।তুই বিয়ে করতে পারবিনা তোকে আমি কারো সাথেই সহ্য করতে পারবো না।
আরাফের কথাটা শেষ হতে দেরি হলো কিন্তু হৃদিতার চড় তার গালে পড়তে দেরি হলো না।
– কাপুরুষ তোকে আমি এই চড়টা আগেই মারা উচিত ছিল।নির্লজ্জ বেহায়া ছেলে।আমাকে কি তোর হাতের পুতুল মনে হয়।ইচ্ছে হবে ধরবি ইচ্ছে হবে ছাড়বি।
হৃদিতা আরাফের কাছে আরেকটু এগিয়ে আসে। তার শাটের কলার ধরে বেশ রাগ নিয়ে বলে,
– তুই আমাকে ছেড়ে যাবি? যা সমস্যা নেই যা।কিন্তু আমি তোকে ছাড়বো না।একমাত্র মৃত্যু ছাড়া কেউ আলাদা করতে পারবে না আমায়। মনে রাখিস তুই।বিয়ে যখন একবার করেছি আর সেই বিয়ের পূর্ণতা দেবো আমি।দেখি তোর প্রভা কি করে কেড়ে নিয়ে যায় তোকে।
লেখনীতে পলি আনান।
হৃদিতার কথার উলটো পিঠে আর কোন জবাব দিল না আরাফ। হৃদিতার সামনে হাটু মুড়ে বসে টলমল চোখে আবদার ছুড়ে দেয় হৃদিতার কাছে,
– জীবনে কোন ঝড় আসলে আগলে রাখতে পারবি আমায়?আমি না বড্ড ভীতু অন্য কোন বিষয়ে নয় শুধু তোর জন্য। যদি তোর কিছু হয়ে যায় আমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবো না রে।
হৃদিতা আরাফের সামবে হাটু মুড়ে বসে যায়। কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দেয়।আরাফের শার্টের কলারটা খামছে ধরে কাদঁতে কাদঁতে বলে,
– পারবো, পারবো আমি তুই শুধু আমার পাশে থাকিস।
আরাফ হৃদিতাকে জড়িয়ে নেয়।অসংখ্য ভালোবাসার পরশ একে দেয় হৃদিতার চোখে মুখে।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে জন জীবনের ব্যস্ততা বাড়ছে।মাইশা আর নোমানের সম্পর্কের পূর্ণতা অতী দ্রুত চায় নোমান।তাই দুই সাপ্তাহের মধ্যেই তাদের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান করবে বলে সিধান্ত নেয় নোমান।কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় প্রভা আগামীকাল বাংলাদেশে আসবে বলে সিধান্ত নেয়।একদিকে নোমানের বিয়ে অন্যদিকে আরাফের সাথে টাইম স্পেন্ড করতে বিডিতে আসার কথা ছিল তার আগেই।
সব মিলিয়ে বাড়িতে আনন্দ বিরাজ করলেও আনন্দ নেই হৃদিতা এবং আরাফের মাঝে।তারা এখন পরিপূর্ণ স্বামী স্ত্রী। কিন্তু প্রভা তাদের জীবনে ফিরে এলে কি করবে তারা।

ত্রমশ রাত গভীর হচ্ছে কিন্তু ঘুম নেই হৃদিতা আর আরাফের চোখে।
– হৃদিতা আমার আজ রাতে ঘুম হবে না রে।কি করবো আমি।প্রভা কাল বিডিতে এলে সব এলো মেলো হয়ে যাবে।
– চিন্তা করিস না তুই যা হবে ভালোর জন্যই হবে।
– মানে কি তুই আমার কাছ থেকে দূরে চলে যাবি তা ভালোর জন্য হবে।
হৃদিতা প্রত্যুওর করলো না। চুপচাপ ভাবতে থাকে।
– হৃদিতা আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে।
– কি?
– তুই কাল সকালে সবাইকে বলবি তুই প্রেগন্যান্ট দেখবি তাহলে বাড়ির কেউ আমাদের আলাদা করতে চাইবে না।আর যত ঝড় তুফানি হোক আমি বাহানা জুড়ে দেবো আমি আমার সন্তানকে ছেড়ে যেতে পারবো না।
– এইসহ লেইম বুদ্ধি তোর মাথায় থাকে। আজব একটা বাচ্চা নিয়ে আমি মিথ্যা বলতে পারবো না।ঘুমা তুই?
আরাফ বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরে শুয়ে যায়।হৃদিতা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থাকে।ভাবতে থাকে কী হবে তাদের ভবিষ্যত।

#চলবে….

🌼পর্বটা কেমন হয়েছে যানাবেন।

#শব্দহীন_অনুভূতি
#পলি_আনান
#পর্ব_২০

ঘুমন্ত শহরটা জেগে উঠেছে আরো একবার।আজ ভোর থেকেই ঝিরঝির বৃষ্টি।ঘুমন্ত আরাফের মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো হৃদিতা।জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আনমনে ভাবতে থাকে প্রভার কথা।মাথায় চিন্তারা জট পাকিয়ে যাচ্ছে।আরাফকে শান্ত থাকলে বললেও সে নিজে তো শান্ত থাকতে পারছে না।
বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ছুয়ে দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়।সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি এসে তার হাত ছুঁয়ে দেয়।ঠান্ডা বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ছুঁয়ে দেওয়ায় অন্যরকম শিহরণ বয়ে যায়।

তখনি আরাফের মুখের সামনে তার মুখ নিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আরাফের পোড়া কালো ঠোঁট দুটোর দিকে তাকিয়ে বেশ রাগ লাগে তার।এই ছেলের সিগারেট ফোকা কমালেও এই বদ অভ্যাসটা একেবারেই বিদায় দিতে পারে নি সে।প্রতিদিন নিয়ম করে একটা হলেও সিগারেট ফুকতে হবে তার।হৃদিতা ঠোঁট বাকিঁয়েয়ে উঠে যায় আরাফের ফোন হাতে নিয়ে এলার্ম সেট করে আবার আলমারির দিকে অগ্রসর হয়।দুইটা শাড়ি হাতে নিয়ে দ্বিধায় ভুগতে থাকে। কোনটা পড়বে সে?কমলা নাকি মেজেন্ডা কালার?হুট করেই আরাফের শার্টের তাকের দিকে চোখ যায় তার।আরাফের এত শত শার্ট, টি-শার্টের মাঝে একটা কমলা রঙের শার্ট ও খুঁজে পেলো না সে।আরাফের কি কমলা রঙ পছন্দ করে না?হবে হয়তো!আট-দশটা স্বামী স্ত্রীর মতো তাদের কখনো নিয়ম করে ঘোরাঘুরি হয়নি।খুব একটা ভালোলাগা আদান-প্রদান হয়নি। যা হয়েছে লুকোচুরি প্রেম,ভালোবাসা।দুষ্টু মিষ্টি খুনশুটি ঝগড়া, প্রেমালাপ।
তাক থেকে আরাফের মেজেন্ডা রঙের একটা শার্ট বের করে বিছানায় রেখে নিজের শাড়িটা হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো হৃদিতা।
লেখনীতে পলি আনান।
হালকা সাজগোজ করে হৃদিতা নিচ তলায় নেমে আসে।পুরো বাড়ি আরো একবার নতুন করে সাজানো হয়েছে যার দরুনে সবকিছু তকতকে, ঝকঝকে করছে।বাড়ির সার্ভেন্ট গুলোর হাতে হাত লেগে কাজ করছেন হুমায়রা।তার মৃত বোনের মেয়ে আজ এই বাড়িতে পা রাখবে। নিজের মেয়ে থেকেও কোন অংশে কম দেখেন’না তিনি।হৃদিতা শাড়ির কুচি সামলে সামনের দিকে অগ্রসর হতেই তানিয়াকেও চোখে পড়ে তার। বিষয়টা দেখে অবাক না হয়ে পারলো না সে।যে তানিয়াকে দশটার আগে ঘুম থেকে উঠতে দেখা যায় না সে আজ সাড়ে আটটায় নিচে সবার হাতে হাত রেখে কাজ করছে, বাহ!

কিছুটা সামনে এগিয়ে যেতেই মায়মুনাকে চোখে পড়ে।দুজনের মাঝেই চোখাচোখি কথা হয়।সবাইকে ব্যস্ত দেখে মায়মুনা হৃদিতাকে আড়ালে তার রুমে ডাকে। হৃদিতাও বড় বড় পা ফেলে সবাইকে আড়াল করে মায়মুনার রুমের দিকে যায়।
-মা আমায় ডেকেছেন?
– হ্যা রুমে আয়। দ্রুত দরজা বন্ধ কর।
হৃদিতা রুমে ডুকেই দরজা বন্ধ করে পুরো।রুমটায় একবার চোখ বুলায়।মায়মুনা আলমারিতে কি একটা খুঁজছেন।কয়েক মিনিট পর দুই,একটা গয়নার বাক্স নিয়ে হৃদিতার সামনে বসে।প্রথম বক্স থেকে লকেট যুক্ত চেইন নিয়ে হৃদিয়ার গলায় পড়িয়ে দেয়।হৃদিতার চোখে মুখে ফুটে আছে বিস্ময়!

– মা আপনি কি করছেন এইসব?
– চুপ কর!বিয়ের পর তোকে গয়না দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার কথা কিন্তু কিছুই দিতে পারলাম না।এতদিন তো সেলোয়ার-কামিজ পরেই থাকতি আমিও খেয়াল করিনি তোর গলা হাত খালি।আজ শাড়ীর সাথে হাত গলা খালি বিষয়টা আমার মোটেও ভালোলাগছেনা।চাইলেই এর থেকে ভারী গয়না তোকে দিতে দিতে পারি কিন্তু তোকে এর জন্য অনেক জবাবদিহি করতে হবে আমাকেও করতে হবে, সবাই যানে তোকে আমি মেনে নিলাম না তাহলে এত গয়না দেওয়ার মানে কী?বুঝতেই তো পারছিস মা।

– না না আমার আর কিচ্ছু চাই না। বরং এই চেইন নিয়ে আমি বিপাকে পড়েছি কেউ জিজ্ঞেস করলে কি জবাব দেবো আমি?
– তুই বলবি আরাফ তোর বিয়ের পর আমার কাছ থেকে আরাফ তোর জন্য নিয়ে গেছে।আমাকে সবাই জিজ্ঞেস করলে বলবো আরাফের রাগারাগিতে আমি দিতে বাধ্য হয়েছি।

কথা শেষ করে মায়মুনা অন্য একটি বক্স খুললেন সেখানে এক জোড়া চিকন চুড়ি।মায়মুনা দ্রুত হৃদিতার হাতে চুড়ি কানের দুল আরেকটা আংটি পরিয়ে দেয়।
– একদিনে এত কিছু,সবাই আমার দিকে তো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাবে আমি কি জাবাব দেবো?
মায়মুনা চোখ ইশারায় থামিয়ে দিলেন হৃদিতাকে।

– যা শিখিয়ে দিয়েছি তাই বলবি।আর আমি তোকে ভারী কোন গহনা দিতে পারিনি যা দিয়েছি সব সিম্পল।তুই তো জানিস না আরাফের দাদী মানে আমার শাশুড়ী মায়ের কথা।তিনি ছিলেন এই বাড়িতে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।সব সময় আমাকে গয়না দিয়ে সাজিয়ে মুড়িয়ে রাখতেন। আমার বিয়ের দেড় বছর পর আরাফের জেঠু বিয়ে করেন।বিয়ের এক বছরের মাথায় তোর জেঠিমার নোমান হওয়ার সংবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যেহেতু আমি বাড়ির মেঝো বউ হওয়া শর্তেও আগে বিয়ে হয়েছে, কিন্তু আমার সন্তান হয়নি। বহু বছরের অপেক্ষায় ছিলাম শুধুমাত্র একটি সন্তানের জন্য। চারিদিকের মানুষ যখন আপয়া সহ গালমন্দ করতে থাকে ঠিক তখনো আমার শাশুড়ী আমার হাত ছাড়েন নি ঠিক বন্ধুর মতো আমাকে ভরসা দিয়ে গেছেন।নিয়াজ হওয়ার আট মাসের মাথায় আমার আরাফ হয়। আল্লাহ আমাকে নিরাশ করেন নি।আরাফের যখন এগারো বছর তখন আমার শাশুড়ী মারা যান। তারপর থেকেই নিজেকে একা নিঃসঙ্গতায় ভুগতে থাকি। বাড়িতে মন মানতো না তাই আরাফের বাবার সাথে হাতে হাত মিলাই বাড়ির ব্যবসায়।

হৃদিতা চুপচাপ শুনতে থাকে মায়মুনার কথা। এই নারী বাইরে থেকে নিজেকে যতটা দাম্ভিক প্রমাণ করেন তিনি ততটা দাম্ভিক নন।হৃদিতাকে মুচকি হাসতে দেখে তার গালে হাত রাখে মায়মুনা। মেকি হাসি দিয়ে হৃদিতাকে ধিক্কার দিয়ে বলেন,

– নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে হাসছিস তুই?আমি জানিনা ভাবছিস তোর ভেতরে কি চলছে?এতটাই
ভাবাবেগবর্জিত আমি?
মায়মুনার কথায় চকিতে নড়ে ওঠে হৃদিতা। নিজের হাসি মুখটা মূহুর্তেই ধৌয়ায় মিলিয়ে যায়।

– আমি যানি প্রভা আসবে বলে তোর আর আরাফের মাঝে দ্বিধা দ্বন্দ্ব চলছে।তবে চিন্তা করিস না ইনশাআল্লাহ তোদের বন্ধন অটুট থাকবে চিরজীবন।
– ত-তুমি কি করে জানলে মা?
– চুপচাপ থাকি মানে এই না যে বাড়িতে সবার অন্তরালে কি চলে আমি জানি না।আমি সব জানি, তোরা কি এটা জানিস নোমান তোদের ডিভোর্স পেপার তৈরি করতে দিয়েছে?

হৃদিতা থমকে যায় নিশব্দে দুচোখ দিয়ে অশ্রুকণা গুলো বিসর্জন দিতে থাকে। একটা সময়ে ফুফিঁয়ে উঠে।মায়মুনা চুপচাপ হৃদিতাকে পরখ করছে।

– মা-মা আপনি কি বলছেন এইসব;আমি পারবো না, আমি পারবো না….
হৃদিতা বিড়বিড় করে একটা শব্দই বলছে মায়মুনা চুপচাপ হৃদিতার কান্ড দেখছে। চোখের কাজল গুলো লেপ্টে গাল ছুঁয়ে গেছে।
– আমার ছেলে তোমায় এখনো এই সাজে দেখেছে?দেখেনি তো!তবে সাজ নষ্ট করছো কেন?

মায়মুনার যুক্তিহীন কথায় আহাম্মক বনে যায় হৃদিতা অশ্রু সিক্ত নয়নে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে মায়মুনার দিকে।
– কেঁদো না এই বাড়িতে অনেক কিছুই চলে যেটা তুমি জানো না।যা হবার তা হবে তবে তোমারদের ডিভোর্স নয়,অন্য কারো বিনাশ হবে। যাও রুমে যাও আরাফের কাছে যাও।

হৃদিতা উঠে দাড়ালো তবে দরজার সামনে গেলো না উল্টো মায়মুনার বুকে আছড়ে পড়লো। কাদঁতে কাদঁতে হেচকি তুলে ফেলেছে সে।মায়মুনা দুহাত দিয়ে আগলে নেয় তাকে।মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় পরম যত্নে।

মায়মুনার রুম থেকে নিজেকে স্বাভাবিক করে বের হলে মুখোমুখি সামনে পরে হুমায়রা,

– ওই রুমে এতক্ষন কি করছিলি হৃদি’মা?
হৃদিতা সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকায় হুমায়রার দিকে।পরক্ষণেই মনে পড়ে উনি তো আরাফের বিস্তস্ত কাছের লোক উনাকে বলাই যায়।আবার মায়মুনার কথা খেলাফ না করে সম্পূর্ণ কথাটা হজম করে নিলো হৃদিতা।
– মায়ের রুমের কিছু ময়লা ফুলাদানি ছিল সেগুলো পরিষ্কার করতে গিয়েছিলাম।
– ওহ!
হৃদিতা সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে সেখান থেকে প্রস্তান করলো।

এলার্মের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আরাফের।চারিদিকে চোখ বুলিয়ে হৃদিতাকে খুজঁতে থাকে। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করে সাড়ে নয়টা বেজে গেছে।
– বাহ! মহারানী আজ এলার্ম দিয়ে ঘুম থেকে উঠালো বেপার কি, তিনি কোথায়?
আরাফ আবারো উপড় হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে নেয় সম্পূর্ণ ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি তার চোখে।

হৃদিতা রুমে এসে আরাফকে শুয়ে থাকতে দেখেই তেতে উঠে,
– একি?এখনো ঘুমে কেন এই লোকটা!
আরাফ চোখ কুচকে হৃদিতার দিকে তাকায়। কিন্তু শাড়ী পরিধানকারী হৃদিতাকে দেখে আর শুয়ে থাকতে পারলো না ঝপাং করে উঠে বসে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো।আরাফের চাহনীতে হৃদিয়া অস্বস্তি পরে যায়। হাতে থাকা কফি মগটা সেন্টার টেবিলে রেখে আরাফের দিকে আড় চোখে তাকায়।এখনো শুয়ে আছিস কেন? বেলা হয়েছে তো।

আরাফ তার ডান হাত হৃদিতার দিকে বাড়িয়ে দেয়।হৃদিতা অবাক হয়ে একবার আরাফের দিকে আরেক বার তার হাতের দিকে তাকায়।

-কী?
– সাহস থাকলে আমার হাত ছুঁয়ে দেখা!
আরাফের কথায় ঠোঁট বাকায় হৃদিতা।
– কী এমন সাহস প্রয়োজন তোর হাত ছুঁয়ে দিয়ে? আজব!
হৃদিতা আরাফের হাতে হাত রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধপাস করে বিছানায় ফেলে।হৃদিতা আর্তনাদ করার আগেই আরাফ মুখ চেপে তার পাশে উপড় হয়ে শোয়।হৃদিতার গালে হাত রেখে চোখের কাজলে হাত বুলায়,

– কেঁদেছিস কেন তুই?
-ক–কই,আমি কাদিঁনি।
– আবার মিথ্যা বলছিস।কেঁদেছিস তুই,তোর চোখের কাজল লেপ্টে গেছে সেই কাজল আবার মুছে নিয়েছিস আলতো করে। তোর নাক যে ফুলে লাল হয়ে আছে।চোখের বিমর্ষ ভাব বলে দিয়েছে তুই কেঁদেছিস।
হৃদিতা তার দৃষ্টি নামিয়ে নেয় আরাফের গালে নিজের হাত রাখে।দুজনের দৃষ্টি এখন স্থির,
– তোর জন্য কেঁদেছি,তোকে হারানোর ভয়ে কেঁদেছি।

আরাফ ম্লান হেসে হৃদিতার নাকে নাক ঘষে দেয়।
– কিন্তু আজ হঠাৎ এমন সাজ?আমাকে মত্ত করবি বলে?
– উহুহ, আমাদের দেখে অন্য কেউ খুন হবে বলে।
আরাফ ঠোঁট কামড়ে হাসে,

– প্রেয়সী বুঝি হিংসাত্মক হয়ে আজ আগুন জ্বালাবে!অন্যকে পুড়াবে।কিন্তু প্রেয়সীর সুহৃদ যে জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে তা কি সে জানে?
– জানার প্রয়োজন বোধ করছি না এই মূহুর্তে। আপদত শাওয়ার নিয়ে আসুন,শার্ট ভাজ করে রেখেছি পড়ে আমাকে ধন্য করুন।

আরাফ আবারো স্নিগ্ধ হাসে। হৃদিতার চোখে মুখে ফুঁ দিয়ে কানের সামনে ফিসফিস করে বলে,

– আমার কৃষ্ণ বর্ণ ভস্মীভূত ঠোঁটের,আপনার কোমল সুশ্রী ঠোঁটের ছোঁয়া আদর কি গ্রহন করবেন, আপনি এই মূহুর্তে?

হৃদিতা ঢোক গিলে আরাফের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
– আগে ঠোঁট পোড়ানোর কারনটা ছেড়েদিন তবে অবশ্যই আমি আদর গ্রহন করবো কিন্তু তার আগে নয়।

আরাফ খিটখিটে মেজাজে হৃদিতার দিকে তাকায় হৃদিতাকে হাসতে দেখে তার অধরে আলতো করে নিজের অধর ছুঁয়ে দেয়।হৃদিতা বিস্ময় নিয়ে তাকালে আরাফ ভ্রু নাচিয়ে হাসে।
– এটা কি হলো?আমি তো তোকে অনুমতি দিলাম না।
– কিন্তু আমার তো তোর উওর পছন্দ হলো না। তাই আমার আদর আমি আদায় করে নিলাম বাইদা ওয়ে সিগারেট আমি ছাড়তে পারবো না। তবুও তোর কথা ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু দিনে একটা সিগারেটে আমার মন ভরে’না রে।
– ঠিক আছে আমাকে ছেড়ে দে যত ইচ্ছে সিগারেটের ধৌয়া উড়াবি কিচ্ছু বলবো না।
– ঠাটিয়ে দু চড় দেবো।বাই দা ওয়ে হঠাৎ সিগারেটের তেষ্টা পেয়েছে আমার লাইটার আর সিগারেট দে।
হৃদিতা উঠে যায় সিগারেট আরাফের ঠোঁটে পুরে দিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।আরাফ সিগারেটের আগুন টান দিয়ে ধৌয়া নাকে মুখে ছেড়ে দেয়।হৃদিতার দিকের দিকে তাকিয়ে তার করুন মুখশ্রী দেখে হো হো করে হাসতে থাকে।

অবশেষ দুপুরের খানিকটা আগে প্রভা এনায়েত বাড়ির দারপ্রান্তে এসে পৌছে যায়।সবার সাথে আলাপচারিতা শেষে তার মন শুধু আরাফ কে খুজঁতে থাকে।আইদার সঙ্গে বিভিন্ন কথা শেষ প্রভা উষ্কখুষ্ক মন তাকে জিজ্ঞেস করেই বসে,
– আইদা তোমার দাভাই কোথায়?
– কে আরাফ ভাইয়া?
-হুম
– সে তো ভাবীমনির কাছে!
– “ভাবীমনি” সে কে?
– ওমা তুমি জানো না। আরাফ ভাইয়ার বউকে ভাবীমনি বলি।
আইদার কথা শুনে বিনা মেঘে বজ্রপাত পড়ার মতো অবস্থা হলো প্রভার। শুরু হয়ে গেছে বুকের ভেতরটায় ধড়াস ধড়াস শব্দ।ঢোক গিলে মুখে হাত দিয়ে ভাবতে থাকে নোমান আর আরাফের কথা। কেউ তাকে কিচ্ছু জানালো না তাকে?বিডিতে এসে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা তার সাথে ঘটবে সপ্নেও ভাবেনি সে।
সোফা থেকে দাঁড়িয়ে নোমানের সামনে যেতে নিলেই প্রভার চোখে পড়ে, হৃদিতা আর আরাফ যুগল বন্ধী তার দিকে এগিয়ে আসছে।তাদের চোখে মুখে হাসির ঝলক যেন সুখী দম্পত্তি।

প্রভার কিড়মিড় করে তাকানোর ভাব বুঝতে পেরে নোমান তার দিকে এগিয়ে আসে এবং হাত টেনে সবার আড়ালে নিয়ে যায়।তাকে বুঝিয়ে বলে হৃদিতা আর আরাফের সম্পর্কের কথা কিন্তু তাতেও মানতে নারাজ প্রভা।হিংসাত্মক দৃষ্টিয়ে প্রভা যখন তাকিয়ে থাকে হৃদিতার দিকে তখন হৃদিতা কোন কারন ছাড়িই আরাফের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।হৃদিতা আরাফের হাত ধরে মনে মনে প্রভাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

– তুমি জ্বলে যাও ভস্ম হয়ে যাও তাতে আমার কি?শুধু আমার স্বামীর দিকে তাকানো বন্ধ করো।
#চলবে….

🌼পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন!

#শব্দহীন_অনুভূতি
#পলি_আনান
#পর্ব_২১

দুপুরের খাওয়ার শেষে নোমান আরাফকে ইশারা করে দ্রুত তার রুমে আসার জন্য।আরাফ আড় চোখে হৃদিতার দিকে তাকালে হৃদিতা চোখ ইশারায় শান্ত থাকতে বলে।হৃদিতা খাওয়ার শেষে দ্রুত তার রুমে চলে যায়।কেননা এই মূহুর্তে প্রভাকে নিয়ে সবার আদিখ্যেতা তার মোটেও সহ্য হচ্ছে না।যদি আরাফের হবু বউ হিসেবে এই বাড়িতে প্রভা প্রবেশ না করতো তবে মেয়েটাকে নিশ্চিত সাদরে গ্রহণ করতো সে।

দুপুরের সময়টা কেটে গেছে।আরাফ আর নোমান গাড়ি নিয়ে কোথাও বের হয়েছে নিশ্চই ডিভোর্সের কাগজের বিষয়ে।হৃদিতা বিরক্ত ভঙ্গিতে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আইদা আর আদীব একসাথে আইদার রুমে কিছু একটা নিয়ে বেশ তর্ক করছে। তখনি রুমে ঢোকে হৃদিতা।

– এই এই এই কি করছো তোমরা?আবার ঝগড়া কেন করছো?
আইদা আর আদীব তড়াক করে হৃদিতার দিকে তাকায়। আদীব গাল ফুলিয়ে নালিশ সুরে হৃদিতাকে বলে,
– দেখো ভাবীমনি প্রভা আপু আমাদের বলছে তোমাকে যেন ভাবীমনি না ডাকি।এই কথা শোনার পর থেকেই আদীবা প্রভা আপুর দেওয়া সব চকলেট ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

হৃদিতা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। বাচ্চা এই ছেলে মেয়ে গুলোর কানেও বিষ ঢোকাতে আলসেমি করছে না প্রভা।
– ভাবীমনি তুমি বলো তোমায় কেন আমরা ভাবীমনি ডাকবো না?
আইদার কথা একটু মেকি হাসে হৃদিতা।আইদার গাল টেনে বলে,
– ও তোমাদের সাথে মজা করেছে আর তোমরা বোঝনি বোকা।প্রভা দেখতে চেয়েছে তোমরা আমায় ঠিক কতটা ভালোবাসো।
– এটা দেখার কি তুমি তো আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ড।

হৃদিতা আইদার কথার প্রত্যিত্তর করার আগে হুড়মুড় করে রুমে ঢোকে প্রভা।আদীবকে উদ্দেশ্য করে নাক উঁচিয়ে বলে,

– এই বিড়ালটা এই বাড়িতে কেন?আরাফের তো বিড়াল পছন্দ না তবে?
-এটা আরাফ ভাইয়ার সবচেয়ে প্রিয়। হৃদিকে কেউ বিড়াল বললে আরাফ ভাইয়া খেপে যায়। তুমি ওকে “হৃদি” বলেই ডেকো।
প্রভা ভ্রু-কুচকায়।এদিকে হৃদিতা বসে আছে ভ্রুক্ষেপহীন ভাবে। প্রভার কথা যেন তার কর্ণকুহরে পৌছতে পারেনি এখনো।প্রভা হৃদিতার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকায়।তার বুঝতে বাকি রইলো না হৃদিতা থেকে হৃদি,আর বিড়ালটা আরাফের নয় হৃদিতার পছন্দের।আর হৃদিতার সব পছন্দ আরাফ যত্ন করে তুলে রাখে।

প্রভা হৃদিকে ছেড়ে দিতেই হৃদি, হৃদিতার কোলে গিয়ে গুটিয়ে বসে যায়।হৃদিতা পরম যত্নে তাকে নিয়ে খুনশুটি করতে থাকে।
– আদীব-আইদা তোমরা একটু রুম থেকে যাও আমার হৃদিতার সাথে একটু পার্সোনাল কথা আছে।
আইদা আর আদীব সহসা রুম থেকে চলে যায় তখনি প্রভা চেয়ার টেনে হৃদিতার মুখোমুখি বসে,

– আরাফ আর তোমার সম্পর্কে আমি বেশ অনেকটাই অবগত।তুমি কি জানো খুব শীঘ্রি তোমাদের ডিভোর্স হতে চলেছে?
– তো?
হৃদিতার ত্যাড়া উওরে হকচকিয়ে যায় প্রভা।কিছুটা ইতস্ত হয়ে গলা ঝেরে আবার বলে,
– তোমার আর আরাফের সম্পর্ক কেমন মানে পার্সোনাল সম্পর্ক?
– পাচঁ দশটা স্বামী স্ত্রীর মতোই আমাদের সম্পর্ক এটা আর জিজ্ঞেস করার কি আছে?
– তুমি কি জানো আমি আরাফের হবু স্ত্রী?
– দুঃখিত ওটা এক্স হবে।
হৃদিতা এমন সহজ সাবলীল কথায় আবারো অবাক হয় প্রভা। নিজেকে ধাতস্ত করে বলে,

– ভালো’য় ভালো’য় বলছি আরাফকে ভুলে যাও ডিভোর্স পেপারে চুপচাপ সই করে যত টাকা লাগে নিয়ে এই বাড়ি থেকে বিদায় হও।
– তোমাকে একটা কথা বলি ভালো করে শুনে রাখো, যে কোন দিন তুমি ফুফি হওয়ার সংবাদটা পেয়ে যাবে তাই এত লাফালাফি না করে আমাদের সংসার আমাদের করতে দাও। আর এখানে আরাফের পিছনে পড়ে আছো কেন আজব!আরাফ কি তোমায় ভালোবাসে?
– অবশ্যই বাসে,
– ভুল, ভুল, যা ভাবো সবটা ভুল। অতীতে আট /দশটা মেয়ের সাথে যেভাবে সম্পর্কে জড়িয়েছিল আরাফ ঠিক তোমার সাথেও তাই হয়েছে।গালফ্রেন্ড তো হাজারটা করা যায় কিন্তু বউ একজন।এখনো সময় আছে আমাদের সংসারে আগুন না লাগিয়ে লন্ডনে ছিলে সেখান থেকে ভালো কোন ছেলে দেখে বিয়ে করে নাও, তোমারো ভালো আমাদেরো ভালো।

হৃদিতা, হৃদিকে নিয়ে উঠে চলে যায়।এদিকে প্রভা রাগে গজগজ করতে করতে হাতের ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারে।

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। বিকালের আকাশের পশ্চিম কোনে হেলে পড়া সূর্যটা লাল রক্তিম আভা ছড়িয়ে আছে। সেদিকে তাকিয়ে আরাফ ভাবতে থাকে তার ভবিষ্যতের কথা। হৃদিতা যেভাবে হেলেদুলে হাসিখুশি চলছে তাকে দেখে মনে হচ্ছে না সে খুব একটা চিন্তায় আছে।আরাফ দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। মাথার চুল টেনে আবারো আকাশের দিকে তাকায়। এই মূহুর্তে একটা সিগারেট হলে মন্দ হতো না। হঠাৎ আরাফ অনুভব করে পেছন থেকে দুটো হাত তার পিঠে আঁকিবুঁকি করছে।হাত দুটো থেমে তার পেটের দিকটা ঝাপটে ধরেছে।এক মুহূর্তের জন্য হৃদিতার কথা মনে হলেও হঠাৎ করে মস্তিষ্ক জানান দিচ্ছে না এটা হৃদিতা না।হৃদিয়ার গায়ে এমন বডি স্পের গন্ধ পাওয়া যায়না। তারটা তো অন্য রকম।আরাফ সহসা ছিটকে দূরে সরে যায়।তখনি চোখের সামনে প্রভার মুখ ভেসে উঠে।

– ত-ত-তুমি এখানে?
– কেন আরাফ অন্য কাউকে আশা করছিলে বুঝি?আসার পর থেকে তোমায় একান্ত ভাবে পাইনি এবার যখন পেলাম তখন ছেড়ে যাই কি করে বলো?
আরাফ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রভার দিকে। প্রভার চেহেরায় বেশ অনেকটা পরিবর্তন এসেছে আগের মতো চেহারায় সতেজতা নেই রাত জেগে চোখের নিচে কালি জমিয়ে ফেলেছে।আরাফ তার দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
– আরাফ তুমি কি হৃদিতার প্রতি উইক?
আরাফ উওর দিলো না। এই মেয়েকে এখন তিল বললে নোমানের কাছে গিলে তাল বানাবে তাই সম্পূর্ণ কথাটা ঘুরিয়ে দেয় আরাফ।

– তোমার পড়ালেখার কি অবস্থা?
– সে সব ছাড়ো এখন আগে দেখো তোমার জন্য কি এনেছি!
প্রভা জিন্সের পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার বের করে আরাফের সামনে ধরে,

– দেখো তোমার পছন্দের সিগারেট নিয়ে এসেছি।
আরাফ মুচকি হেসে মাথা দিয়ে না না ইশারা করে।
– সরি, আমি ছেড়ে দিয়েছি সিগারেট।
– বাট হোয়াই?
– হৃদিতার সিগারেটের ধৌয়ায় কষ্ট হয়।
আরাফের উওরে প্রভার বেশ হিংসে হয়।নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে অন্যদিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।মনে মনে তীব্র ভাবে ওয়াদা করে যে কোরেই হোক আরাফকে সিগারেট ফোঁকাবে।ঠিক তাই হলো, প্রভার ঘ্যানঘ্যানানিতে বিরক্ত হয়ে আরাফ সিগারেট মুখে তুলে নেয়। লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মুখের সামনে নিতেই কানে আসে হৃদিতার স্বর।

– আরাফ তুই আমার কথার অমান্য করেছিস?
হৃদিতা বেশ রাগ নিয়ে আরাফের সামনে দাঁড়ায়। আরাফ স্তম্ভিত হয়ে একবার হৃদিতা আরেকবার প্রভার দিকে তাকায়।হৃদিতা সুযোগ বুঝে আরাফের পায়ের পাতার উপর নিজের পা তুলে দিয়ে আরাফের গলা ধরে দাঁড়ায়।টাল সামলাতে না পেরে পরে যেতে নিলেই আরাফ তার কোমড় চেপে ধরে। হৃদিতা এক টানে আরাফের মুখ থেকে সিগারেট নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়।

– আর যদি সিগারেট তোর মুখে দেখি তবে,তোর কালো ঠোঁট দুটোতে আর চুমু খাবো না।সত্যি বলছি।
আরাফ হকচকিয়ে যায়। পরক্ষনেই আরাফ স্বাভাবিক হয়ে হৃদিতার নাকে নাক ঘষে দেয়।
– মহারানী যথা আজ্ঞা! আপনার হুকুম আমি আর অমান্য করবো না তবুও এমন কঠিন শাস্তি আমায় দেবেন না।
– আর যদি করিস তবে কি যে করবো আমি?
আরাফ আর হৃদিতার খুনশুটি দেখে জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে প্রভা।এদিকে সিড়ি ঘরের দরজা দিয়ে সব কান্ড দেখছে মাইশা। বেচারি প্রভার অস্থির মুখ খানা দেখে তার বেশ হাসি পাচ্ছে।

প্রভা আর সইতে না পেরে রাগ দেখিয়ে দ্রুত সরে আসে। সিড়ির সামনে আসতেই মাইশার সঙ্গে দেখা হয়।মাইশা তার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসতেই প্রভা মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

– শোন মেয়ে তোমার ভালোর জন্য বলছি,আরাফের সাথে নিজেকে না জড়িয়ে তাদের কে তাদের মতো করে থাকতে দাও এতে তোমার এবং তোমাদের উভয়ের ভালো হবে।
– থ্যাংস ফর ইউর এডভাইস।আমার ভালো আমি নিজেই করতে জানি।

প্রভা দ্রুত নিচে চলে যায়। এদিকে মাইশা ঠোঁট বাকিয়ে আরো একবার আরাফ আর হৃদিতার দিকে তাকায়।
লেখনীতে পলি আনান।
– ভাইয়া এই তুমি আমার ভরসার হাত?আরাফকে ওই মেয়ে কি করে বাদর নাচ নাচাচ্ছে তা কি তুমি দেখছো না। আমার আরাফ আর আগের মতো নেই সে এখন হৃদিতাতে আসক্ত।
– আহ!চিন্তা করিস না তুই।ডিভোর্সের পেপার গুলো দুই,তিন দিনের মাঝেই চলে আসবে তারপর আরাফ এবং হৃদিতা দুজনেই সই করতে বাধ্য।

– কিন্তু আরাফের যে অবস্থা আমার তো মনে হয়না আরাফকে আমি আগের মতো করে পাবো।
– দেখ প্রভা তোর কি উদ্দেশ্য শুধু আরাফকে পাওয়া নাকি অন্যকিছু বার বার ভুলে যাস কেন তুই?
– যাই হোক, আরাফের সাথে আমার বিয়ে হোক আর না হোক তবে হৃদিতাকে আমি কিছুতেই ভালো থাকতে দেবো না।
প্রভার কথায় মাথা নেড়ে সায় দেয় নোমান দুজনের মাঝে নেমে আসে আবার নিরবতা।নিরবতায় ছেদ ঘটিয়ে প্রভা বলে,

– আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না তুমি ওই মাইশা মেয়েটাকে বিয়ে করতে কেন চাইছো ভাইয়া?তোমার জন্য কোন দিক দিয়ে ওই মেয়ে যায় না।তোমার প্রয়োজন কোন মন্ত্রীর মেয়েকে কবজা করা আশা করি আমার কথা তুমি বুঝতেই পারছো।
প্রভার কথায় অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে নোমান।সামনে থাকা ওয়াইনের বোতলে একটা চুমুক দিয়ে রহস্য ভাবে হাসতে থাকে।

রাতের বারোটা ছুঁই ছুঁই তখনি আরাফের ফোনে শাকীলের কল আসে। হৃদিতা এবং তাকে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসতে বলে।হুড়োহুড়ি করে আরাফ আর হৃদিতা পৌছে যায় শাকীলের বাড়ি কিন্তু সেখানে গিয়ে দুজনেই আহাম্মক বনে যায়।লিবান এক সাইডে দাঁড়িয়ে,বাড়ির সবার কান্ড কীর্তি দেখছে।তাকে দেখে এগিয়ে আসে আরাফ আর হৃদিতা।

– কিরে কি হয়েছে শাকীল এত গুরুত্ব দিয়ে এত রাতে ডাকলো?
– শাকীল আর নাফিসার বিয়ে তাই।
লিবানের সহজ – প্রাঞ্জল কথাটা ঠিক স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারলো না আরাফ আর হৃদিতা। দুজনেই অবাক হয়ে লিবানের দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড।

– কি বলছিস? হঠাৎ বিয়ে!
– হুম ঠিক বলছি।নাফিসা আর শাকীলের মাঝে এই দুইদিন তো তুমুল ঝগড়া। আজ শাকীল নিজেই সিধান্ত নিয়েছে বিয়েটা হবেই।নাফিসার বাড়ির সবাই রাজি কিন্তু শাকীলের বাবা দ্বিমত পোষণ করেন।এমন বেকার ছেলে কি করে বিয়ে করবে?,এতে নারাজ শাকীল তার কথা, বাবার ব্যবসার হাল ধরবো আমি। বিয়ের আগে ধরি আর পরে ধরি, আমি না হয় পরেই ধরবো।সব ঠিক ঠাক কাজিও চলে এসেছে।এদিকে আমি আর কি করবো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবার কীর্তিকলাপ পরখ করছি।

লিবানের কথায় আরাফ আর হৃদিতা দুজনের মুখ দুজন চাওয়াচাওয়ি করে।দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আরাফ বলে,
– কি এমন হলো যে ঝগড়ার পর শাকীল বিয়ে করার সিধান্ত নিলো?
– নাফিসা শাকীলকে জেলাস ফিল করাতে নতুন বফের হাতে হাত রেখে একটু ঘোরাঘুরি করছিল।তখনি শাকীল সুপারম্যান হয়ে উড়ে গিয়ে ওই ছেলেকে ধুমধাম মেরে নাফিসাকে নিয়ে আসে আর বিয়ে আজকেই হবে বলে ঘোষনা দেয়। বুঝলি বোকাদের কান্ড।
লিবানের কথা শুনে আরাফ ঠোঁট কামড়ে হাসে,
– যা হয়েছে একদম ঠিক হয়েছে।এবার সাপে বেজির ঝগড়াটা কমে যাবে আমার মনে হয়।
আরাফের কথায় লিবান আর হৃদিয়া সমান তালে হাসতে থাকে।

ঘরোয়া পরিবেশে অবশেষে নাফিসা আর শাকীলের বিয়েটা সম্পূর্ন হয়।তখন প্রায় রাত তিনটে।শাকীল আর নাফিসার ফ্লাট পাশাপাশি হলেও হুট করে বিয়েটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা নাফিসা।নিজ পরিবার থেকে বিদায়ের পর্বে কান্নায় ভেঙ্গে পরে নাফিসা।নাফিসার কান্না দেখে শাকীল আরাফের পাশে এসে দাড়া। আরাফের কানের সামনে মুখ নিয়ে বলে,

– তামশা’ডা খালি দেখ হাব ভাব এমন যেন আমি গলায় ছুরি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।এত কাদার কি আছে?সারাদিন আমার ঘর আমার রুম দখল করে রাখে আর এখন যখন পার্মানেন্ট নিয়ে এলাম এখন কান্দনের ঢং শুরু।
– চুপ কর ব্যাটা।নাফিসা যদি তোর এই কথা শুনে চুলের মুঠি চেপে ধরবে।
– তা ঠিক বলসত, ঘাড়ে করে নিজের বিপদ নিয়ে যাচ্ছি রে দোস্ত।দোয়া করিস আমার জন্য।

শাকীলের আফসোস ভঙ্গির কথা শুনে ঠোঁট টিপে হাসে আরাফ।তখনি তাদের কানে আসে ফ্যাচফ্যাচ করে কান্নার আওয়াজ।আরাফ আর শাকীল ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই লিবানকে কাদঁতে দেখে ভড়কে যায়।

– কি রে তুই কাদছিস কেন? কি হইছে দোস্ত?
– ন-নাফিসা কান্না দেখে আমারো কান্না আইসা গেছে। ও খুব কষ্ট পাচ্ছে রে।
লিবানের কথায় আহাম্মক হয়ে যায় আরাফ আর শাকীল। আরাফের ঘাড়ে মাথা ফেলে শাকীল আর্তনাদ সুরে বলে”ওহ নো এই পোলারে বিয়া করবো কোন মাইয়া”

চলবে……..

🌼পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here