তপ্ত ভালোবাসা #লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া #পর্বঃ_২১

#তপ্ত ভালোবাসা
#লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
#পর্বঃ_২১

.
🍁
রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি আমি, দুপুর একটা দশ বাজে ভার্সিটি শেষ করে বাসায় যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে রিকশা জন্য দুপাশে চোখ বুলচ্ছি, আমার পঞ্চ বান্ধবীরা কেউ আপাতত আমার সাথে নেই ওরা এখনো ভার্সিটিতেই আছে ক্লাস করছে, তাহলে বলতে পারেন ওরা ক্লাস করছে আর আমার ক্লাসটা শেষ হলো কি করে তাই তো তাহলে বলছি আজকে বাসায় তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে আম্মু ভাবির বাসায় যাওয়ার জন্য তাই আমি বাকি ঘন্টা গুলো না করেই বাসার দিকে ছুটে চলছি,,

.

কাঠ পুঁড়া রোদের মধ্যে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর অবশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত রিকশাটি পেয়ে গেলেম আমি, রিকশার উঠতেই রিকশাটি আপন গতিতে চলতে লাগলো আমাদের বাসার দিকে,

.
আমি রিকশায় বসে রোদে তাপে দগ্ধ হয়ে বিরক্তি নিয়ে নিজের একহাত মাথার ওপর রেখে অন্য হাতে ফোন টিপছি আমি,, এমনত অবস্থা কিছুক্ষণ রিকশায় বসে থাকার পর হঠাৎ করে রিকশাটি থেমে যায় মাঝ রাস্তায়, আকস্মিক ভাবে হঠাৎ করেই রিকশা থামার কারণে আমি খানিকটা সাথে সাথে সামনের দিকে ঝুকে পরি, আমার সামনের দিকে ঝুকে পরার কারণে হাত থেকে ফোনটি রাস্তায় পরে যায় সাথে সাথে,,,

.
সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে আমার, পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে রাগী দৃষ্টিতে তাকায় রিকশা মামার দিকে, এমন করে কেউ রিকশা চালায় নাকি আজব আজ উনার (মামা) জন্য এক্সিডেন্ট হতে হতে বাঁচলাম, রেগে মামা দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল রিকশা মামার অপরাধী দৃষ্টি যাহ আমার দিকেই নিক্ষেপ করা আমি উনার এমন দৃষ্টি অপেক্ষা করে উনাকে কিছু বলতে যাবো তার আগেই মামা আমাকে বলেন…….

.
—” আপাজান মোই কিছু করি নাইকা, দেখেন সামনে কাইজা( ঝগড়া) চলতাছে খেল লাইগা মোর গাড়ি থামাতে অইছে,,,

.
রিকশা মামার আজগুবি কথা শুনে কৌতুহল চোখে সামনের দিকে তাকায়, সামনে কিছু্ মানুষের মারামারি বিষয়টি চোখে পড়ল আমার, আমাদের থেকে খানিকটা দূরে অনেক গুলো মানুষকে মারামারি করতে দেখে কৌতূহল নিয়ে রিকশা মামাকে প্রশ্ন করে বলি……

.
—” সামনে কিসের ঝগড়া চলছে মামা…..

.
—” আপাজান মোই কেমনে কমু হেগো কারা কাইজা করতেছে…….

.
রিকশার মামা এমন কথায় বিরক্তি সাথে সাথে একরাশ কৌতুহল জাগে মনের মধ্যে সাথে চরম ইচ্ছাটাও জেগে ওঠে মনের মধ্যে যে সামনে কি হচ্ছে সেটা দেখার জন্য, আমি এমন আগ্রহ সাথে সামনে দিকে তাকাতে তাকাতে রিকশা থেকে নেমে রিকশার ভাড়া মিটিয়ে সামনের দিকে দুকদম এগিয়ে যেতেই পিছন থেকে মামা নিষিদ্ধ সুরে বলে উঠে……..

.
—” আপামুনি যাবার লাগাচ্ছেন নাকি, যাইয়েন ঐখানে জায়গাটা ভালা না…

.
মামার আজগুবি কথা গুলো আপাতত আমার কান অবধি পৌঁছাতে পারিনি তাই উনার কথা অপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম,,,

.
কিছু দূর এগোতেই সামনে কিছু লোককে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পরে রয়েছেন আমি তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে থাকতে দেখে মূহুর্তেই আমার ভয়ে মাথা ঝিম ধরে উঠে, ভয়ে সিটিয়ে যাওয়া অবস্থায় চারপাশে ভীতু চোখ বুলাই , কিছু কালো পোষাক দারি লোক এই মানুষ গুলোকে কেটে রাস্তা রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলেছে নিদয় ভাবে, আমার চারপাশে এতো এতো রক্তের ছড়াছড়ি দেখে মূহুর্তেই মাথা আমার ঘুরিয়ে উঠে, নিভু নিভু চোখে ধীর পায়ে আবারও সামনে দিকে এগোতে থাকি,,,,,,,,

.
আমি ঢলতে ঢলতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে পাশ থেকে এক লোক অন্য লোককে নিষিদ্ধ সুরে বলে উঠে,,,,,

.
—” ভাই সামনের দিকে যাইয়েন না, সামনে রিদ খাঁনের লোক মারামারি করছে, ওদের কাজে ব্যাঘাত ঘটালে রিদ খাঁন কাউকে রেখাই দেয় না জানে মেরে দেয়, তাই বলছি ভাই সামনে যাইয়েন না পারলে………

.
বাকি কথা গুলো আমার কান অবধি পৌঁছানোর আগের আমি হাটতে হাটতে বেশ সামনের দিকে চলে আসি লোক গুলোকে পিছনে ফেলে,,,,,,

.
হাটতে হাটতে একদম মারামারি কাছে চলে আসি, আমার চোখে সামনে সবাই ভয়ানক ভাবে কাটা কাটি করছে দক্ষ হাতে, আমার চারপাশে এমন গা গুলানো হাড় কাঁপানো ভয়ানক দৃশ্য দেখে মুহূর্তেই পাথর মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকি রাস্তা মাঝ বরাবর, আমার চোখে সামনে আসিফ তার সাথে কালো পোষাক দারি লোক গুলোকে নিয়ে ভয়ানক ভাবে কাটে রেখে দিচ্ছে দক্ষ হাতে, আসিফকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে আমি কিছু না বলে টায় জায়গায় দাঁড়িয়ে পরি ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে,

এসব দেখার পর কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না আমি, সবকিছু কেমন গুলিয়ে যাচ্ছি নিমিষেই, আমি কখনোই এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখেনি জীবনের প্রথম এমন হাড় কাঁপানো দৃশ্য দেখছি আমি, কথা গুলো ভেবে আবারও চোখে তুলে সামনের দিকে তাকাতে যাবো তখনি পাশ থেকে একজন্য লোক এসে দ্রুত আমার গলায় ছুরি আটকে ধরে পরে রিদ খাঁনকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে……..

.
—” আমাদেরকে যেতে দে রিদ নয়তো এই মেয়েটাকে জানে মেরে দিব……..

.
লোকটা এতটা দ্রুত আমার গলায় ছুরিটি চেপে ধরে যে কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি আমি, কিন্তু যখন বুঝতে পারি তখনি ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা আমার, আমি বাকরুদ্ধ হয়ে ভয়ে সিটিয়ে যাওয়া অবস্থায় গুন্ডা লোকটি দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনের দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল গাড়ির ডিক্রি ওপর এক পা তুলে তার ওপর নিজের একটা হাত রাখা আর সেই হাতেই একটা বন্দুকটা চেপে ধরে বসে আছে আরাম করে রিদ খাঁন,,,, কিন্তু আমার এমন অবস্থা দেখেও উনার কোনো হেলদোল হলো না উল্টো নিজের অলসতা ঝেড়ে ঐ অবস্থায় সোজাসাপ্টা উত্তর দিয়ে বলে………

.

—” তো আমি কি করবো মেরে দে, মারবি তুই আর জিজ্ঞেসা করছিস আমাকে, তোর মারার হলে মেরে দে,,,

গল্পের পেইজ লিংক
https://www.facebook.com/profile.php?id=100069402592136

চলবে……………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here