EX গার্লফ্রেন্ড যখন ইংলিশ ম্যাম 💖,পর্বঃ ১৮

# EX গার্লফ্রেন্ড যখন ইংলিশ ম্যাম 💖,পর্বঃ ১৮
# লেখকঃ Sahid Hasan Sahi

সামিয়া রাজশাহী পৌঁছে বাস থেকে নেমে নিজের বাসায় চলে যায়। সামিয়ার মা-বাবা তাকে দেখে খুব খুশি হয়েছে। কিন্তু সামিয়ার মনে এখন শুধু অশান্তি বিরাজ করতেছে।

ছোফাই বসে আছে তিনজন। হঠাৎ সামিয়ার বাবা বললোঃ সামিয়া আমি তোমার জন্য একটা ছেলে দেখেছি, তুমি যদি
রাজি থাকো তাহলে আমরা বিয়ের কথা বলতে পারি।

এই কথা শুনে তো সামিয়া রেগে গিয়ে ওর বাবাকে বললোঃ আব্বু আমি এখন বিয়ে করবো না, এই কথা তোমাদের কত বার বলতে হবে 😡😡?

সামিয়ার বাবাঃ ঠিক আছে মা তুমি যা বলবে তাই হবে।

সামিয়ার মা বাবা আর কোনো কথা বললেন না। কারণ তারা জানে তাদের মেয়ে এমনি এমনি রেগে যায় না। আর যখন রেগে যায় তখন কেউ তার রাগ থামাতে পায় না।

মা-বাবার সাথে কিছু কথা বলে আর এক মূহুর্ত দেরি না করে সাহিদের বাসায় যাওয়ার জন্য বের হলো। সাহিদের বাসার পৌঁছে গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখে সাহিদের মা, বাবা, ভাইয়া, ভাবী আর ভাইয়ের কোলে ছোট্ট একটা বাচ্চা, মনে হয় সাহিদের ভাইয়ের ছেলে এই পাঁচ জন তাদের প্রাইভেট কারে উঠতেছে।

সামিয়া তাদের সামনে যাতেই সাহিদের ভাইয়া সাইম আহম্মেদ তাকে দেখে গাড়ি থেকে নেমে এসে বললোঃ এই মেয়ে তুমি সামিয়া না ? আর এদিকে কোথায় যাচ্ছো?

সামিয়াঃ হ্যাঁ ভাইয়া আমি সামিয়া আর আপনাদের কাছেই এসেছিলাম।

সাইম আহম্মেদঃ আমাদের কাছে এসেছো? আর এতো দিন কোথায় ছিলে?(অবাক হয়ে)

আসলে সাহিদ কে যখন বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন তখন সাহিদের কথা ভাবতে ভাবতে সাহিদের মা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতো না, কথা বলতো না। একসময় গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তার সাহিদের মাকে দেখে বলেনঃ রোগির প্যরালাইসিস হয়েছে। বেশি চিন্তা করার জন্য এই রকম হয়েছে। তবে বাহিরে নিয়ে গেলে হয়তোবা ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে আল্লাহ ভরসা।

ডাক্তারের কথা শুনে সবাই ভেঙ্গে পড়ে।সাইম আহম্মেদ ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলোঃ ডাক্তার কোন দেশে নিয়ে গেলে আমার আম্মু কে সুস্থ ভাবে ফিরে পাবো?

ডাক্তারঃ সিঙ্গাপুরে নিয়ে যান। সেখানে প্যরালাইজড রোগিদের জন্য অনেক ভালো ভালো ডাক্তার রয়েছে।আর সেখানে আমার একটা বন্ধুও আছে। আপনারা যদি নিয়ে যেতে চান তাহলে আমি আমার বন্ধুকে বলতেছি।

সাইম আহম্মেদ ও আমজাদ চৌধুরী হ্যাঁ সম্মতি দিয়ে বললেনঃ আপনি ব্যবস্থা করুন প্লিজ।

ডাক্তারঃ ঠিক আছে।

এরপরে সাহিদের মাকে নিয়ে সাহিদের সপরিবারে মানে সাহিদের ভাইয়া,ভাবি আর আব্বু তার মায়ের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান।

সেখানে প্রায় সাত মাস থাকার পরে সাহিদের আম্মু মোটামুটি সুস্থতা লাভ করে। তারপরে তাকে নিয়ে নিয়ে সপরিবারে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে চলে আসে।আর সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় সাইম আহম্মেদ অথবা তার আব্বু আমজাদ চৌধুরী মাঝে মাঝেই দেশে আসতেন নিজেদের বিজনেস দেখা শুনা করার জন্য। ফ্রি টাইমে আবার সিঙ্গাপুর যেতেন।

আর কলেজে সামিয়া যেদিন সাহিদকে ভুল বুঝে চরিত্রহীন উপাধি দিয়েছিলো সেদিন সাহিদ সামিয়ার কাছ থেকে চলে যায়।সাহিদ তার কাছ থেকে চলে যাওয়ার পরে সামিয়া বাসায় এসে কান্না শুরু করে। শুধু কান্নায় করে। একদিন কেটে যাওয়ার পরেও সামিয়া কিছুই খায়না। শুধু রুমে বসে থেকে সাহিদের একটা ছবি বুকে নিয়ে কান্না করতে থাকে। একমাত্র মেয়ের এমন বিহেব দেখে সামিয়ার মা- বাবা সিদ্ধান্ত নেয় যে, মেয়েকে নিয়ে তারা তার নানুর বাড়ী সিলেটে যায়। তারপরে তারা সিলেটে যায় আর সেখানেই বেশ কয়েক দিন থাকে।

সিলেটে সামিয়া স্বাভাবিক ভাবেই ছিলো। তাকে নিয়ে তার মা বাবা আবার রাজশাহী আসে। সামিয়া বাসায় এসে সাহিদের বাসার সামনে যায়ে দেখে তাদের বাসায় তালা দেওয়া। সামিয়া আর জানতো না সাহিদের পরিবার সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছে।

এর কয়েক দিন পরে সামিয়ার বাবা ট্রান্সফার হয়ে চট্টগ্রামে আসেন। সামিয়ার বাবা একজন সরকারি ডাক্তার। চট্টগ্রামে তার পরিবারকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন। যার ফলে সামিয়ার সঙ্গে আর সাহিদের পরিবারের কারোর দেখা হয়নি। সামিয়ার কলেজে চাকরি হওয়ার আগে সামিয়ার বাবা আবার রাজশাহীতে ট্রান্সফার হয়ে আসেন। রাজশাহীতে এসে সামিয়া জানতে পারে যে সাহিদের পরিবার এখানে থাকে কিন্তু সাহিদ থাকে না।
তবে সামিয়া আর সাহিদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি।কারণ,সাহিদের প্রতি সামিয়ার একটা ঘৃণা তৈরি হয়েছিলো।

যাইহোক এবার বর্তমানে আসি,,,

সামিয়াঃ আসলে ভাইয়া বাবার ট্রান্সফারের জন্য আমরা চট্টগ্রামে ছিলাম।

সাইম আহম্মেদঃ ওহহহ তো আমাদের কা,,

সাইম আহম্মেদের কথা শেষ না হতেই আমজাদ চৌধুরী বললঃ আরে সামিয়া মা যে কেমন আছো?

সামিয়াঃ আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন আংকেল?

আমজাদ চৌধুরীঃ আলহামদুলিল্লাহ। তো কোথায় যাচ্ছো?

সামিয়াঃ আপনাদের বাসায় এসেছিলাম।

আমজাদ চৌধুরীঃ কি প্রয়োজন মা বলো?

সামিয়াঃ আসলে আংকেল সাহিদ কোথায় আছে বলতে পারবেন কি?

আমজাদ চৌধুরীঃ না মা আমরা জানি না। সেদিন বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলাম আর দেখা হয়নি।কেন কি হয়েছে তুমি ঐ পাপিষ্ঠার কথা জিজ্ঞাসা করতেছো কেন?
যে তোমার বিশ্বাস, তোমার পবিত্র ভালোবাসার মর্যাদা দেয়নি তার কথা বলতেছো কেন?

সামিয়াঃ না আংকেল এমনি (সত্যটা বলা যাবে না)। আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?

আমজাদ চৌধুরীঃ আসলে মা আমার বন্ধুর মেয়ের ব্রেন টিউমার হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন বাঁচার সম্ভাবনা কম। তবে আজ রাতে অপারেশন করবে।এতে যদি ভালো হয় তাহলে হবে নইলে মারা যাবে।তাই আমরা দেখা করতে যাচ্ছি।ওহহ তুমি চিনো মনে হয়, রিপা ছিলো যে। যাকে আমার ছেলে রেপ করার চেষ্টা করেছিলো সে। তুমি যাবে কী আমাদের সাথে?

রিপার কথা শুনে সামিয়া যাওয়ার জন্য রাজি হয়।কারণ, সামিয়া এখন বুঝতে পারতেছে সাহিদ কোনো ভাবেই এই কাজ করেছিলো না । এর মধ্যে নিশ্চয় কোনো রহস্য আছে।আর এই ব্যপারটা সে রিপার থেকে জানতে পারবে। যদিও রিপা অসুস্থ তারপরেও জিজ্ঞাসা করবে।

সামিয়া গাড়িতে উঠে বসতেই সাহিদের আম্মু তাকে নানান প্রশ্ন করে। এতো দিন কোথায় ছিল, এখন কী করে,আমার ছেলে অপরাধ করেছে কিন্তু আমরা তো অপরাধ করিনি তারপরেও কেন আমাদের বাসায় আসা হয়নি ইত্যাদি ইত্যাদি ?

সামিয়া মিসেস সাইম আহম্মেদকে জিজ্ঞাসা করলোঃ ভাবি এই বাচ্চাটা কে?

মিসেস সাইম আহম্মেদঃ এটা আমাদের কলিজার টুকরা ছেলে সন্তান।

সামিয়াঃ খুব মিষ্টি তো। নাম কি আর বয়স কত?

মিসেস সাইম আহম্মেদঃ নাম রেখেছি আব্দুল্লাহ আল রাফি চৌধুরী।আর বয়স দেড় বৎসর চলতেছে।

সামিয়াঃ খুব সুন্দর নাম।দেন আমার কোলে দেন আমি একটু নেই।

মিসেস সাইম আহম্মেদ তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফি চৌধুরীকে সামিয়ার কোলে দিলো। সামিয়া আবদুল্লাহ আল রাফি চৌধুরীকে কোলে নিয়ে আদর করতেছে আর ভাবতেছে, বাহ এক ভাইয়ের মেয়ে সন্তান আর অন্যজনের ছেলে সন্তান। একজন বিয়ে করে ছেলে সন্তানের বাবা হয়েছে আর অন্য জন বিয়ে না করেই মেয়ে সন্তানের জনক হয়েগেছে।বাহ কী লাকি লাইফ। যতসব আমার লাইফ না পেলাম স্বামী না পেলাম সন্তান 😓😓😓।

সুখ এবং দুঃখের কথা বার্তা বলতে বলতে গাড়ি রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে গেল। গাড়ি থেকে নেমে ওরা সবাই রিপা কে দেখতে গেলো।

রিপা কে রাখা হয়েছে ১১৩ নাম্বার রুমে। যেটা আগে থেকেই আমজাদ চৌধুরী জানতেন। যার জন্য ওদের পৌঁছতে কোনো অসুবিধা হয়নি।

রিপার কেবিনের সামনে দেখে রিপার ভাই রিপন দাঁড়িয়ে আছে। সামিয়া কে দেখে সে কিছু টা অবাক হয়ে গেল। কিন্তু সেই বিষয়ে বেশি মাথা ঘামালো না।

আমজাদ চৌধুরীকে দেখে রিপার বাবা এসে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।কারণ, নিজের মেয়েকে মৃত্যু শয্যায় রেখে নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারলো না।

একটু পরে আমজাদ চৌধুরী রিপার বাবাকে বললোঃ রিপা মার কি অবস্থা এখন?

রিপার বাবাঃ এখন বেশি সিরিয়াস তবে রিপা শুধু একটা কথাই বারবার বলতেছে।( ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে)

আমজাদ চৌধুরীঃ কী কথা?(অবাক হয়ে)

রিপার বাবাঃ সব সময় বলতেছে “আমি আমার পাপের শাস্তি ভোগ করতেছি”

এতক্ষনে সাহিদের পরিবারের সবাই কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে রিপার বাবার কথা গুলো শুনতেছিলো।কি রিপার বলা কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে ভাবতেছে কী এমন পাপ।মির কথা রিপা এমন অবস্থায় বলতেছে।

সবাই মনে মনে একই প্রশ্ন ভাবতেছে কিন্তু সামিয়ার মনে ভিন্ন ভাবনা চলতেছে।

একটু পরে সবাই রিপার কেবিনে ঢুকলো। রিপার সাথে দেখা করে কয়েক জন ছাড়া সবাই বাইরে গেল। কারণ রুগির কাছে ভিড় জমানো ঠিক নয়।

রিপার কাছে আছে শুধু সামিয়া আর সাহিদের আম্মু। মিসেস সাইম আহম্মেদ তার ছেলেকে নিয়ে বাইরে গেছে। কারণ তার ছেলে কান্না করতেছে।আর রিপার মা সেন্সলেস অবস্থায় বেডে শুয়ে আছে।মেয়ের এই অবস্থা দেখে আর কয়জন ঠিক থাকতে পারে।

রিপা একটু একটু করে কথা বলতেছে। সামিয়া তাকে বললোঃ রিপা আমি তোমাকে যা প্রশ্ন করবো তার সঠিক উত্তর আমাকে দিবে কী?

রিপাঃ কী প্রশ্ন আপু?

সামিয়াঃ আগে প্রমিস করো বলবে?

রিপাঃ ঠিক আছে আপু প্রমিস করলাম।

সামিয়াঃ সাহিদ কী তোমার সাথে সত্যিই রেপ করতে চেয়েছিল?

সামিয়ার প্রশ্ন শুনে সাহিদের আম্মু অবাক হয়ে সামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু রিপা কি বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না।(লেখকঃ সাহিদ হাসান সাহি)

রিপাকে চুপ করে থাকতে দেখে সামিয়া বললোঃ কী হলো বলো?

রিপা মুচকি হেঁসে সামিয়া কে বললঃ বলবো, তার আগে আপনি সবাইকে এই রুমে আসতে বলেন?

সামিয়া আর দেরি না করে কেবিনের বাইরে যায়ে আমজাদ চৌধুরী, রিপার বাবা, রিপার ভাই রিপন,সাইম আহম্মেদ, মিসেস সাইম আহম্মেদ এদের সবাইকে ডেকে রিপার কেবিনে নিয়ে আসলো।আর এদিকে সাহিদের আম্মু চিন্তাই পড়ে গেছে।

সবাইকে রুমে ঢুকতে দেখে রিপা উঠার চেষ্টা করতেছে। কিন্তু পারতেছে না। অবশেষে শুয়ে থেকেই বলতে

লাগলোঃ আব্বু তুমি আমাকে বারবার জিজ্ঞাসা করতে না যে, আমি কিসের পাপের কথা বলতেছি। তাহলে শুনে, তবে শোনার পরে আমাকে ভুল বুঝলে চলবে না।
এরপরে রিপা সাহিদের সাথে কলেজ থেকে শুরু করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে সব কিছু বললো।

রিপার সব কথা শুনে সাহিদের আম্মু সেন্সলেস হয়ে পড়লো।আর আমজাদ চৌধুরী আর সাইম আহম্মেদ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। রিপার বাবা রিপার কথা শুনে মারতে যাবে তখনি সাইম আহম্মেদ এসে বাঁধা দিয়ে বললোঃ আংকেল কি করতে চাচ্ছেন রিপা অসুস্থ?

রিপার বাবাঃ তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, ওকে আমি মেরেই ফেলবো। ওর একটা মিথ্যা অপবাদের জন্য একটা নিষ্পাপ ছেলে তার পরিবারকে হারিয়ে চলে গেল। (রেগে)

আমজাদ চৌধুরীঃ বন্ধু শান্ত হ,, বাচ্চা মানুষ ভুল করতেই পারে। আচ্ছা দোস তুই থাক আমরা বাসায় গেলাম।আর রাতে আসবো।

রিপার বাবাঃ বন্ধু তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস্।(হাত জোড় করে)

আমজাদ চৌধুরীঃ দেখ দোস্ত এসব ভুলে যা আমি তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি।যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন এসব চিন্তা করে লাভ নেই। তুই থাক আমি বাসায় গেলাম। রাতে আসবো।

রিপার বাবাঃ আচ্ছা ভালোভাবে যাস।

এরপরে সাহিদের পরিবারের সবাই বাসায় আসে। গাড়িতে কেউ কোনো কথা বলেনি। সবাই নিজের কাজের জন্য নিজেকে অনুতপ্ত মনে করতেছে।

সামিয়া সাহিদের বাসায় যায়ে গাড়ি থেকে নেমে কোনো কথা না বলে রিকশা করে নিজের বাসায় চলে আসলো।
বাসায় এসে নিজের রুমে যায়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে কান্না করতে লাগলো। আবার আগের মতো খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে দিয়েছে। শুধু একটাই চিন্তা সাহিদ আমাকে মাফ করে দিবেন তো।

এভাবে কেটে গেল বিকেলবেলাটা।এখনো সামিয়া রুমে আছে। তার মা বাবা দুজনেই চিন্তা ই পড়ে গেল। কেননা মেয়ের সেই তিন বছর আগের মতো বিহেব এখন করতেছে।

সামিয়ার বাবা সামিয়ার রুমে ঢুকে বললঃ কী হয়েছে আমার আম্মুর?

সামিয়া তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে সাহিদের সম্পর্কে রিপা যা যা বলেছে সব কিছু তার বাবাকে বললো।

সামিয়ার বাবাঃ এখন সাহিদ কোথায় আছে জানো?

সামিয়াঃ হুমম এখন ঢাকায় আছে আর আমার কলেজে পড়ে।

সামিয়ার বাবাঃ তাহলে তো সহজ কাজ।সহজ বলতেও কিন্তু সহজ নয় তোমার প্রতি তার একটা অভিমান আছে সেটা আগে ভাঙাতে হবে।

সামিয়াঃ হুমম,, কিন্তু কীভাবে?

সামিয়া বাবাঃ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, (কিছু বুদ্ধি দিয়ে)। এইভাবে কাজ করবার তাহলে হবে।

সামিয়াঃ ওকে আমার বেস্ট বাবা। আর তুমি এসব কথা কাউকে বলবে না।

সামিয়ার বাবাঃ আচ্ছা থাকো। আর একটু পরে ডিনার করতে এসো।

সামিয়ার বাবা চলে রাতেই সামিয়া ফোন বের করে নেহাকে ফোন দিয়ে সাহিদের কথা জিজ্ঞাসা করলো। পরের দিন সকালে সামিয়া ঢাকাতে রওনা দিবে।

সাহিদের পরিবারের সবাই বিষন্ন মন নিয়ে যে যার রুমে বসে আছে।সবার একই চিন্তা সাহিদ কে কোথায় পাওয়া যাবে।আর সাহিদের আম্মুর অবস্থাও খারাপের দিকে যাচ্ছে। শুধু সাহিদের কথা বলতেছে।

_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-__-_-_-

আমি আমার মেয়ে আর নেহা এই তিন জন আজকে একটা পার্কে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় এসে বাসায় পৌঁছলাম। রুমে এসে আমার মেয়েকে ফ্রেশ করে দিয়ে আমিও ফ্রেশ হলাম।

ফ্রেশ হয়ে ফোনটা পকেট থেকে বের করে দেখি রাফি পাঁচবার ফোন দিয়েছে। সাইলেন্ট মোডে রাখার জন্য বুঝতে পারিনি।

আর আপনারা হয়তোবা জানেন না বা বলাই হয়নি যে, রাফি আর সিফাতের সাথে আমার মাঝে মাঝেই ফোনে কথা হতো। তবে ওদের আমি এই কথা অন্য কাউকে বলতে নিষেধ করেছি।

যাইহোক, আমি ফোন রাফি কে ফোন দিলাম। একবার টোঁ করে শব্দ হতেই ফোন রিসিভ করলো,,,,

আমিঃ আসসালামুয়ালাইকুম,দোস্ত কেমন আছিস?

রাফিঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। তুই কেমন আছিস?

আমিঃ ভালো নারে😞😞।

রাফিঃ কেন?

আমিঃ# EX গার্লফ্রেন্ড যখন ইংলিশ ম্যাম— হয় তখন কেমন করে ভালো থাকিস।(মন খারাপ করে)

রাফিঃ কিহহ, তারমানে সামিয়া তোর হাহা হা,,,,,

আমিঃ এই একদম হাসি না।

রাফিঃ আচ্ছা শোন তোকে যে কারণে ফোন দিয়েছিলাম।

আমিঃ হুম্মাম বল।

রাফিঃ আজকে সামিয়া কে তোদের বাসায় দেখলাম।

আমিঃ কিহহ।

রাফিঃ হুমম। শুধু তাই নয়, তোর বাবার সাথে গাড়িতে মুখে কোথায় যেন গেল।

আমিঃ ওহহহ কোথাও মনে হয় যাবে,,

রাফির সাথে কথা বলে ফোন রেখে দিলাম।

পরেরদিন কলেজের গেলাম।আজকেও সামিয়া আসেনি।আহহ কী যে ভালো লাগতেছে। ক্লাস করে নেহাকে নিয়ে এতিমখানায় গেলাম। সেখান থেকে মিমকে নিয়ে বাসায় আসলাম।

পরেরদিন একটু দেরি যে ঘুম ভাঙলো তাও আমার মেয়ের ডাকে। ঘুম থেকে উঠে কলেজে যাওয়ার জন্য বের হলাম। আমার মেয়েও বায়না ধরেছে আমার সাথে কলেজে যায়ে তকলেত খাবে। আসলে আমার সাথে কলেজে গেলে সবাই আদর করে, চকলেট দেয় ।ছোট বাচ্চা তো এগুলোর জন্য যাওয়ার জন্য চাহিদা করে।

তিন জন মিলে কলেজে গেলাম।আমরাই কলেজের টপার স্টুডেন্ট।কারণ, আমরা এক পরিবার থেকে তিনজন একসাথে কলেজে যায়😎😎😎😎।

কলেজে যায়ে প্রথম ক্লাস করলাম। দ্বিতীয় ক্লাস আমার EX এর। আজকে মনে হয় এসেছে।কারণ, দুই দিন ছুটি নিয়েছিল।আর আজকে শেষ।

একটু পরে প্রিন্সিপাল স্যার আর ম্যাম আসলেন ক্লাসে। এরপরে প্রিন্সিপাল স্যার যা বললো তার শুনে তো আমার,,,,,,,,

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here