ভয়ানক_ভালোবাসা,পার্ট:৪

#ভয়ানক_ভালোবাসা,পার্ট:৪
#Writer:#Meheruma_Imtaz_Raya(S.Q)

১মাস পর ,,,,
বিকাল ৫টা ,

এই ১মাসের মধ্যে রিধি আর মুহিবের সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়েছে,প্রায় প্রত্যেক দিনই রিধির সাথে মুহিবের কলে কথা হয়,এইদিকে রুদ্রের সাথেও রিধির একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, রিধি জানে যে রুদ্র এখন রিধি কে একজন সিনিয়র হিসেবেই দেখে , কিন্তু কার মনে কি চলছে সেটা আমাদের সবারই ধারণার বাহিরে থাকে,রুদ্রের মনে কি চলছে সেটা সম্পর্কে রিধির যদি কোনো ধারণা থাকতো তাহলে হয়তো অনেক কিছুই বদলে যেতো,
রিধির জীবনে যে ঝড় আসতে চলেছে তার সম্পর্কে রিধির কোনো ধারণাই নেই ,

রিধি খেলতে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে ,আজ রিধির মনটা একটু খারাপ কারণ গতকাল রাত থেকে মুহিবের সাথে রিধির কোনো কথা হয়নি,আর তার মধ্যে রিধির বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে বিয়েতে,সামনে রিধির পরীক্ষা তাই ওকে সাথে করে নিয়ে যায়নি ,

রিধি আর নিয়াজ একসাথেই বের হলো ,
মাঠে আসার পর মনটা আরো এক দফা খারাপ হলো কারণ রিধিদের খেলার মাঠে আজ কিছু সিনিয়র ছেলেরা ক্রিকেট খেলছে ,রিধি দের খেলার সাথী প্রায় সবাই চলে এসেছে , রুদ্রও এসেছে

-রিধিপু এখন আমরা কি করবো ?(নিয়াজ)
– ভালো লাগছে না ,আমি বাসায় যাব (রিধি)
-রিধি আপু,২ রোড পর একটা ফাঁকা মাঠ আছে ,ওইখানের পিচ্চি গুলা এখন আর ওখানে খেলেনা,আমরা চাইলে ওই মাঠে গিয়ে খেলতে পারবো(রুদ্র)
– তুমি সিওর?ওই মাঠে এখন কেউ খেলেনা ?(রিধি)
-হ্যা রে রিধিপু , আমার জানা মতে ওই মাঠে এখন আর কেউ খেলেনা (নিয়াজ)
-আচ্ছা তাহলে ওই মাঠেই তো খেলতে যাওয়া যায় (রিধি )
-হ্যা (সবাই )
রিধি আর বাকিরা সবাই মাঠে গেলো ,মাঠে গিয়ে দেখলো যে মাঠ টা ফাঁকা,,
-আচ্ছা এখন তোমরাই বলো আজকে কি খেলবো ?(রিধি)
-ক্রিকেট(নিয়াজ)
-না না (রিধি)
– তাহলে লুকোচুরি?(রুদ্র)
-গতকালও তো খেললাম (রিধি)
-তাহলে আর কি বা খেলা যায় ?(ফাহিম)
-এমন একটা খেলা যেটা অনেকদিন ধরেই আমরা খেলছিনা (আকাশ)
– পেয়েছি (রিধি )
-কি?(সবাই)
-কাবাডি(রিধি)
– কিন্তু আমরা তো মাত্র ৮জন এইখানে ,আর তার মধ্যে ২জন তো পিচ্চি (নিয়াজ)
-কাকে পিচ্চি বলিস মাহিম আর ফারহাজ তো ক্লাস ফোর এ পড়ে(রিধি )
-পিচ্চি থাকলে সমস্যা নেই (আকাশ)
-তাহলে আমরা আজকে কাবাডি খেলবো (রিধি)
-ওকে (সবাই)

তারপর ওরা সবাই ২ টা টিম বানালো ,একটা টিমে রিধি ,নিয়াজ, আকাশ, মাহিম। আর আরেকটা টিমে রুদ্র, ফাহিম ,রিহান আর ফারহাজ ,

ওরা মাঝখানে একটা দাগ কাটলো , তারপর খেলা শুরু করলো ,খেলা স্বাভাবিক ভাবে চলছিলো ,রিধির টিমে ২জন আউট হয়েছে আর রুদ্রের টিমে ১জন ,এইবার রিধির টার্ন এসেছে ,

-রিধিপু শোন ,তুই কিন্তু ভুল করেও দম ফালাবিনা ,আর শোন সবাই কে একবার ছুঁয়েই চলে আসবি ,ওরা তোকে আটকাবেনা ,এটাই তোর সুযোগ ,একবার যদি সবাইকে ছুঁয়ে চলে আসতে পারিস তাহলেই এই গেইম আমরা জিতে যাবো (নিয়াজ)
-সব কিছুই তো বুঝলাম কিন্তু রুদ্র যদি আমাকে আটকায় তাহলে তো আমি আর ব্যাক করতে পারবোনা (রিধি)
-আরেহ না , রুদ্র ভাইয়া তোকে ধরবেনা ,আর এমনিতেও কাবাডি খেলাতে তোকে কেউ ধরেনা ,(নিয়াজ)
-এই আচ্ছা আমি যাই (রিধি)

রিধি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ‘কাবাডি’ বলতে বলতে রুদ্র দের লাইনে গেলো ,
প্লেনিং অনুযায়ী রিধি ফাহিম আর রিহান কে ছুঁয়ে চলে আসছিলো কিন্তু হঠাৎ রুদ্র কোথা থেকে যেনো চলে আসলো ,আর রিধি কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তুলে ফেললো ,

ঘটনা টা এতো দ্রুত ঘটায় রিধি সবাই প্রায় অবাক হয়ে গেলো ,,আর রিধির মাথা যেনো শুন্য হয়ে গেলো ,রিধি যখন বুঝলো যে, সে শূন্যে ভাসছে, তখন রিধি রুদ্রের বাহুডোর থেকে নিজিকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলো,,,, রুদ্র রিধি কে ছেড়ে দিতেই রিধি মাটিতে পড়ে গেলো আর কোথা থেকে মুহিব আর মিরাজ যেনো চলে আসলো ,,
মুহিব রুদ্র কে থাটিয়ে একটা থাপ্পর মারলো যার ফলস্বরূপ রুদ্র মাটিতে পড়ে গেল,,মুহিব খেয়াল করলো রিধি কেমন যেনো থম মেরে বসে আছে ,মুহিব একটু ভয় পেয়ে গেলো , মুহিব রিধি কে জরিয়ে ধরলো ,, কিন্তু রিধির মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেলোনা ,রিধি একইভাবে বসে রইলো ,,
-রিধি এই রিধি কথা বলো (মুহিব )
-মুহিব ,,(অস্ফুট স্বরে)
-হ্যা রিধি বলো ,,
-এইটা কি হলো ?(রিধি)
-রিধি এইটা কিছু না,ভুলে যাও (মুহিব)
-ভুলে যাবো ?(রিধি)
-রিধিপু তোর কোনো দোষ নেই এখানে (নিয়াজ আর মিরাজ )

রিধি একবার নিয়াজ আর মিরাজ এর দিকে তাকালো,রিধির চোখ পড়লো রুদ্রের দিকে ,,রিধি কোনোরকম ভাবে উঠে দাঁড়ালো , রুদ্রের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো ,,,
-কেনো এমন করলে ?(শান্ত স্বরে)
-,,,,(চুপ)
-চুপ করে আছো কেনো ?(চিৎকার করে)

রুদ্র কে চুপ থাকতে দেখে রিধির আরও রাগ উঠে গেলো ,,নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে রুদ্র কে থাপ্পর মারলো,,
-এখন চুপ কেনো হ্যা?(চিৎকার করে )
রিধি কে উত্তেজিত হতে দেখে মুহিব এগিয়ে আসলো ,
-রিধি শান্ত হও , বাসায় চলো(মায়াভরা কন্ঠে)
-হুম
আজকের এই ঘটনা যেনো ৫কান না হয় সেটা মিরাজ আর নিয়াজ সবাই কে বলে দিলো ,,
মুহিব রিধিকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বললো , কিন্তু রিধি যেনো শরীরে কোনো জোর পাচ্ছেনা ,ব্যপারটা মুহিব বুঝতে পারলো তাই রিধি কে ধরে নিয়ে চলে যাচ্ছিলো ,, রুদ্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মুহিব বললো ,

-তোমার সাত জনমের ভাগ্য যে তোমাকে আমি শুধু একটা মাত্র থাপ্পর মেরেছি ,ফারদার নেক্সট টাইম যদি রিধির আশেপাশে তোমাকে দেখি তাহলে তোমার কপালে সেই লেভেলের কষ্ট আছে (গম্ভীর কণ্ঠে)

কথাগুলো বলে মুহিব রিধিকে নিয়ে চলে আসলো ,

বাসায় আসার পর ,

ড্রয়িং রুমে নিয়াজ,রিয়াজ আর মুহিব বসে আছে ,,

– আসলে রিধিপু এইরকম কোনো কিছু আগে কখনো ফেইস করেনি তো তাই আজকে এমন ভেঙে পড়েছে(মিরাজ)
-হ্যা আসলেই (নিয়াজ)
-তোমাদের রিধিকে মেন্টালি সাপোর্ট করতে হবে (মুহিব)
– হুম(নিয়াজ)
– কিন্তু রুদ্র ভাইয়ার ব্যপার টা যে এতো দূর গড়াবে সেটা আমি ভাবতে পারিনি(মিরাজ )
-আমার মনে হয়না রুদ্র আর কোনো কিছু করার চেষ্টা করবে ,আর নিয়াজ শোনো তোমাকে যদি রুদ্র রিধির ব্যপারে কিছু জিজ্ঞেস করে তাহলে তুমি এড়িয়ে যাবে (মুহিব)
-আচ্ছা (নিয়াজ)
– আংকেল আর আন্টি কবে আসবে?(মুহিব)
– মনে হয় ৩ দিন পর (মিরাজ)
– আব্বু,আম্মু যদি জানে এইরকম কিছু আজকে ঘটেছে তাহলে রিধি আপুকে আর বাসা থেকে বের হতে দিবেনা (নিয়াজ)
– আমরা যদি না বলি তাহলে জানবে না,আর ঘটনা টা আমরা বাদে আর কেউ দেখেনি ,আর মাঠের সবাই রিধিপু কে অনেক ভালোবাসে তাই ওরাও কাউকে বলবে না ,আর যদি কোনো ঝামেলা হয় তাহলে আমি সামলিয়ে নিবো(মিরাজ)
– তাহলে তো আরও ভালো (মুহিব)
-মুহিব ভাইয়া তুমি একটু রিধি আপুর সাথে গিয়ে কথা বলো ,তাহলে হয়তো ওর মনটা একটু ভালো হবে (মিরাজ)
-হুম আমি যাচ্ছি(মুহিব)

মুহিব রিধির রুমে গিয়ে দেখলো রিধি জানালার পাশে বসে আছে এক দৃষ্টিতে বাহিরে তাকিয়ে আছে ,মুহিব রিধির পাশে গিয়ে বসলো ,

-রিধি(মায়াবী কন্ঠে)
-হুম
-আমার দিকে তাকাও
ছলছল দৃষ্টিতে রিধি মুহিবের দিকে তাকালো ,,
-এই রিধি তুমি কান্না করছো কেন?ধুর বোকা মেয়ে (রিধির চোখ মুছতে মুছতে)
-মুহিব বিশ্বাস করো আমাকে ,আমি কখনো ভাবতে পারিনি রুদ্র এমন করবে (কান্না মিশ্রিত কন্ঠে)
-আমি তোমাকে বিশ্বাস করি রিধি,
-জানো আমার কেনো এতো বেশি খারাপ লাগছে ?
– না,
-আমি যখন ক্লাস থ্রি তে পড়ি তখন আমরা যেই বাসায় থাকতাম সেই বাসার দারোয়ান আমাকে মাঝে মাঝেই খারাপ ভাবে স্পর্শ করতো আমার কাছে ভালো লাগতো না ,আমি ওনাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতাম, আম্মু কে কেনো জানি বলতে পারতাম না ,তখন তো ছোট ছিলাম তাই কিছুই বুঝতাম না কিন্তু এখন বুঝি ,আর আজকে রুদ্রের স্পর্শে আমার আবার সেই বাজে স্পর্শ গুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে(কাঁদতে কাঁদতে)

কথাগুলো শোনার পর মুহিব রাগে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করলো ,নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করলো ,মুহিব রিধিকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো ,
-রিধি তোমাকে শক্ত হতে হবে (মায়াভরা কন্ঠে)
– জানো ,আমার অনেক গিলটি ফিল হচ্ছে
-কেনো?(হালকা অবাক হয়ে)
-হয়তো দোষটা আমারি , কারণ আমার উচিত ছিলো আরও সতর্ক হওয়া,আমি যদি আরও সতর্ক হতাম তাহলে হয়তো এমন কিছুই হতো না,জানো মাঠের বাকি সবাই সবসময় আমার থেকে দূরে দূরে থাকতো ,ওরা কখনো ভুল করেও আমাকে টাচ করতো না (কাঁদতে কাঁদতে)

রিধির জন্য মুহিবের অনেক মায়া হচ্ছে ,,

-রিধি নিজেকে দোষ দেয়া বন্ধ করো প্লিজ ,তোমার কোনো দোষ নেই ,রুদ্র যে এমন কিছু করবে সেটা তো তোমার ভাবনার বাহিরে ছিলো (মায়াভরা কন্ঠে)
-মুহিব সত্যি আমার কোনো দোষ নেই ?
-না রিধি (মায়াভরা কন্ঠে)
– আব্বু ,আম্মু যদি জানে তাহলে আমার কি হবে ?তারপর আশেপাশের মানুষ যখন জানবে তখন তো আমাকেই খারাপ ভাববে তাইনা? (উত্তেজিত হয়ে)
-রিধি শান্ত হও , কেউ জানবে না কারণ মিরাজ সব কিছু সামলিয়ে নিয়েছে,আর যদি কিছু হয় তাহলে মিরাজ সামলাবে বলেছে ( আশ্বাস দিয়ে)
– আমার শরীর টা খুব খারাপ লাগছে জানো ,
-তুমি একটু ঘুমাও ,আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি ,
-না না ,তোমাকে এতো কষ্ট করা লাগবেনা ,তুমি এমনিতেই অনেক কিছু করেছ
– বেশি কথা বলবা না ,ঘুমাও(হালকা ধমক দিয়ে)

রিধি আর কথা না বাড়িয়ে বাধ্য মেয়ের মত শুয়ে পড়লো ,আর মুহিব রিধির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, কিছুক্ষণের মধ্যেই রিধি ঘুমিয়ে পড়লো ,আর মুহিব নিজের পকেট থেকে একটা রিং বের করলো , হাতে থাকা রিং টার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো,,,

#চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here