ভয়ানক_ভালোবাসা,পার্ট:১১

#ভয়ানক_ভালোবাসা,পার্ট:১১
#Writer:#Meheruma_Imtaz_Raya(S.Q)

রিধি ভয়ার্ত দৃষ্টি নিয়ে পেছন ফিরে তাকাতেই রুদ্র কে দেখতে পেলো ,
– এবার তুমি কোথায় পালাবে রিধি ,,
– তু,,তুমি এখানে ?
– কি ভেবেছিলে আমাকে বোকা বানিয়ে তুমি পালিয়ে যেতে পারবে ?কেনো আমাকে ঠকালে রিধি ?( গম্ভীর কণ্ঠে)
– তোমার তো এখন এখানে থাকার কথা নয় (ভয়ার্ত কন্ঠে)
– রিধি তুমি আসলেই অনেক বোকা জানো ,আমার সাথে থেকে আমাকেই বোকা বানিয়ে পালিয়ে যাবে ,এইটা ভেবেছিলে তাইনা ?
– না মানে, কিন্তু আমি তো তোমাকে ঘুমের ঔষুধ খাইয়েছিলাম (আমতা আমতা করে)
– হুম জানি তো আমি ,তুমি যে আমাকে ঘুমের ঔষুধ খাওয়াবে সেটা আমি আগে থেকেই জানতাম
– কিভাবে ?( অবাক হয়ে)
– সকালে রান্না ঘরে তোমার হাতে ঘুমের ঔষুধ দেখে আমার একটু সন্দেহ হয়েছিলো , আমি বাসায় এতো তাড়াতাড়ি ফিরবো সেটা তুমি আশা করোনি তাই আমাকে দেখার পরই তুমি ঘাবড়ে গিয়েছিলে সেটা দেখে আমার সন্দেহ আরও তীব্র হয়েছিলো
– কিন্তু আমি তো তোমার খাবারে,,
– ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে ছিলে তাইতো ?
– হুম ,
– তুমি যখন গোসল করতে গিয়েছিলে তখন আমি তোমার ঘরে গিয়ে সেই ঘুমের ঔষুধ টা চেঞ্জ করে ভিটামিন এর ঔষুধ রেখে দিয়েছিলাম কারণ আমি জানতাম তুমি যদি সত্যি আমার খাবারে ঘুমের ঔষুধ মেশানোর চিন্তা করো তাহলে তাড়াহুড়ো করে খাবারে ঔষুধ মেশানোর সময় তুমি ঔষুধ টা ভালো মতো দেখবে না ,
– তাহলে তুমি যে তখন ঘুমোচ্ছিলে
– নাটক করছিলাম
– আমাকে আটকালে না কেনো ?
– কারণ আমি দেখতে চাচ্ছিলাম তুমি কতদূর পর্যন্ত যেতে পারো ,যাই হোক এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছো এই রুদ্রের হাত থেকে তোমার নিস্তার নেই । অনেক কথা হয়েছে এবার বাড়ি চলো রিধি

কথাটা বলে রুদ্র রিধির হাত ধরলো ,রিধি সাথে সাথে এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিলো ,
– খবরদার একদম আমাকে ছুঁবেনা ,
– রিধি চলো আমার সাথে,
-তুমি কি ভেবেছিলে হ্যা? তোমার সাথে কয়েকদিন থেকেছি বলে আমি আমার আর মুহিবের ৬ বছরের ভালোবাসা কে ভুলে গিয়ে তোমাকে ভালোবাসব ?( তাচ্ছিল্য করে)
– আবার সেই মুহিব ,
– হ্যা আবার সেই মুহিব , কারণ আমি মুহিব কে ভালোবাসি ,ওহ হ্যা তুমি সব যখন জেনেই গেছো তাহলে এটাও শোনো ,এতো গুলো দিন আমি তোমার সাথে জাস্ট নাটক করেছি , গতকাল নাসরিন আন্টির কাছ থেকে ফোন নিয়ে আমি ওয়াসরুমে গিয়ে মুহিব কে কল দিয়েছিলাম , কিন্তু তুমি চলে আসায় আমি মুহিবের সাথে কথা বলতে পারিনি ,
– ওহ তারমানে এর জন্যই মুহিব নাসরিন এর বাসায় গিয়েছিলো ,
– মানে ?
– মুহিব তোমার খোঁজ এর জন্য নাসরিন এর বাসায় গিয়েছিলো এমনকি গতকাল রাতে আর একটু্র জন্য মুহিব তোমাকে খুঁজে পায়নি কারণ তার আগেই আমি তোমাকে নিয়ে এখানে চলে এসেছিলাম ,
– ওহ তার মানে এর জন্যই তুমি আমার খাবারে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়েছিলে তাইনা ? যেনো আমাকে ঘুম পাড়িয়ে এখানে নিয়ে আসতে পারো ,
– হ্যা ,
-তোমার মতো একটা জানোয়ারকে আমি কখনোই ভালোবাসব না বুঝতে পেরেছো ?
– কিন্তু তোমাকে আমার সাথেই সারা জীবন থাকতে হবে রিধি ,
রুদ্র রিধির হাত ধরে রিধি কে নিয়ে যাচ্ছিলো ,তখনি রিধি রুদ্রের কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে ঠাসিয়ে একটা থাপ্পড় মারলো ,
– তোর মতো একটা জানোয়ারের সাথে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো
রিধি রুদ্রের দিকে তাকালো , রুদ্রের দিকে তাকাতেই রিধি ভয় পেয়ে গেলো কারণ রুদ্রের চেহারায় রাগ স্পষ্ট ভেসে উঠেছে , রুদ্র রিধির দিকে এগোতে লাগলো ,রিধি পেছাতে পেছাতে দেখলো সে একদম শেষের দিকে চলে এসেছে আর ২-৩ পা পেছালেই নিচে পরে যাবে ,
হঠাৎ রুদ্র রিধির চুলের মুঠি ধরলো ,রিধি ব্যথায় কুকিয়ে উঠলো ,
-রুদ্র প্লিজ ছাড়ো আমার ব্যথা লাগছে,
-ব্যথা লাগলে লাগুক , শেষ বারের মতো জিজ্ঞাসা করছি আমার সাথে তুই যাবি নাকি মরে যাবি ?( গম্ভীর কণ্ঠে)
– না কখনোই না ,তোর মতো একটা জানোয়ারের সাথে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো (রাগান্বিত কন্ঠে)
– ঠিক আছে তাহলে এখন তোকে মরতে হবে ,
কথাটা বলেই রুদ্র রিধি ধাক্কা মারলো ,
রিধি নিজের চোখ বন্ধ করে ফেললো , কিছুক্ষণ কাটার পরও যখন দেখলো যে কিছু হয়নি তখন চোখ খুললো ,চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে দেখলো মুহিব রিধির হাত ধরে আছে ,মুহিব এক ঝটকায় রিধি কে নিজের কাছে এনে ফেললো ।রিধি মুহিব কে দেখা মাত্রই জরিয়ে ধরলো ,
– রিধি তুমি ঠিক আছো তো ?(চিন্তিত স্বরে)
-মুহিব ,( কাঁদতে কাঁদতে)
-হুম রিধি বলো ,
– আমাকে বাঁচাও ও আমাকে ছারবেনা , আমাকে শান্তি তে বাঁচতে দিবেনা (কাঁদতে কাঁদতে)
– রিধি আমি এসে পরেছি তো ,এখন আর কোনো চিন্তা নেই তোমার ,আমি তোমার সাথে আছি রিধি, আর আমাদের সাথে পুলিশও আছে ( আশ্বাস দিয়ে)
রিধি সামনে তাকিয়ে দেখলো ২জন পুলিশ মুহিব কে ধরে রেখেছে ,
– অফিসার মাহির ,নিয়ে যান ওকে ,আর ও যেনো পালাতে না পারে ( মুহিব )
– জ্বি অবশ্যই ( মাহির)
– রিধি ,তুমি যদি ভেবে থাকো আমার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছো তাহলো ভুল ভাবছো ,আমার হাত থেকে তোমার নিস্তার নেই ,আমি যতদিন পর্যন্ত বেঁচে আছি ততদিন পর্যন্ত তোমার পিছনে পরে থাকবো ,মনে রেখো (রুদ্র)
পুলিশ রুদ্র কে নিয়ে চলে গেলো ,

রিধি ছলছল দৃষ্টিতে মুহিব এর দিকে তাকালো , মুহিব রিধি কে দুচোখ ভরে দেখতে লাগলো,,
– রিধি তুমি অনেক শুকিয়ে গেছো ,
– তুমিও ,তোমার চেহারার এমন হাল কেনো ,
– তোমায় ছাড়া কিভাবে ভালো থাকি বলে?তোমাকে যে খুব বেশি ভালোবাসি আমি ,
– আমিও
মুহিব রিধিকে জরিয়ে ধরলো ,
– বাহ বাহ , মুহিব ভাইয়াকে পেয়ে আমাকে তো ভুলেই গিয়েছিস রিধিপু ( অভিমানী কন্ঠে)
রিধি পেছনে তাকিয়ে দেখলো মিরাজ দাঁড়িয়ে আছে ,রিধি মিরাজ কে গিয়ে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠলো,
– কেমন আছিস রে মিরাজ ( কাঁদতে কাঁদতে)
– তোকে ছাড়া একদম ভালো নেই রে রিধিপু (ধরে আসা কন্ঠে)
মুহিব ২ ভাই-বোন এর মাঝখানে না থেকে চলে গেলো ,
– রিধিপু বাড়ি যাবি না?
– হুম যাবো তো ,কতদিন সবাই কে দেখিনি ,
– হুম চল
তারপর রিধি আর মিরাজ গাড়িতে উঠলো।
রিধি আর মুহিব পাশাপাশি বসলো ,রিধি মুহিবের হাত ধরে কাঁধে মাথা রেখে বসে রইলো ,,
– তুমি জানলে কিভাবে আমি এখানে আছি ?
– তুমি ফোন দেওয়ার আগেই আমরা জাফলং এ আসছিলাম কারণ অফিসার মাহির এর কাছে রুদ্রের খবর ছিলো , যদিও আমরা সিওর ছিলাম না কিন্ত তাও আমরা কোনো রিস্ক নিতে চাইনি ,আর এরপর তোমার সাথে যখন ফোনে কথা হলো তখন তোমার লোকেশন ট্রেক করে আমরা সেই দোকানের সামনে যাই যেখান থেকে তুমি কল দিয়েছিলে ,ওখানকার লোক আমাদের বলে যে তুমি জঙ্গলের দিকে গিয়েছো । আমরা যদি আর একটু দেরি করতাম তাহলে হয়তো অনেক বড় কিছু হয়ে যেতো ,( মন খারাপ করে)
– কিছু হয়নি তো তাইনা ,তুমি মন খারাপ করোনা প্লিজ
– রিধি আমাকে ক্ষমা করে দাও , আমার আরও কেয়ার ফুল হওয়ার উচিত ছিলো ,(নিচু স্বরে)
– মুহিব ,আমরা তো জানতাম না রুদ্র এখনো আমার পেছনে পরে আছে ,তাইনা ?আর আমি তো একদম ঠিক আছি ,
– অফিসার মাহির আমাদের অনেক হেল্প করেছেন,ওনার জন্য তোমাকে আমরা এতো তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করতে পেরেছি ।
-হুম
– মামার পরিচিত লোক অফিসার মাহির,উনি বলেছেন এবার আর রুদ্র কোনো ভাবেই ছাড় পাবেনা , রুদ্রের শাস্তি এবার হবেই
– আচ্ছা এখন আর কোনো কথা নয় ,তোমার কাঁধে মাথা রেখে আমি একটু ঘুমাবো ,

রিধি মুহিবের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো ,, কিন্তু মুহিব কোনো ভাবেই চিন্তা মুক্ত হতে পারছেনা কারণ রুদ্রের পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী।

এদিকে,,

জেল খানায় মাহির এর সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে রুদ্র ,

#চলবে,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here