প্রেম_ফাল্গুন #পর্ব_২১

#প্রেম_ফাল্গুন
#পর্ব_২১
#নিশাত_জাহান_নিশি

“ম্যাথটা ঠান্ডা মাথায় করো। আমি ১০ মিনিটের মধ্যেই আসছি।”

লিলি পলকহীন দৃষ্টিতে এক নিশ্বাসে গড়গড় করে বলল,,

“ববি শুনছেন? আপনার ফোনটা দিয়ে যান প্লিজ।”

ববি পিছু ফিরে কপাল কুঁচকে জিগ্যাসু দৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“বাট হোয়াই?”

লিলি পর পর কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে বলল,,

“এমনি।”

ববির তীক্ষ্ণ চাহনী দেখে লিলি একবার দম নিয়ে আবারো কাঁপা স্বরে বলল,,

“কেকেকেনো? আআআমি আপনার ফোফোন চাইতে পারি না?”

ববি ফোনটা টেবিলের উপর রেখে ভাবশূণ্য হয়ে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“কথা বলতে গলা কাঁপছে কেনো? কারণ জিগ্যাসা করেছি জাস্ট৷ এতে এতো ঘাবড়ে যাওয়ার কি আছে?”

লিলি ফট করে ফোনটা হাতে নিয়ে সশব্দে হেসে ববির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“এবার আপনি এক ঘন্টা লেইট করে এলে ও আই হেভ নো প্রবলেম!”

ববি ছোঁ মেরে লিলির হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে সন্দেহের দৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“আই ডোন্ট ট্রাস্ট ইউ। সিউর চাচীর সাথে কথা বলবে!”

লিলি পরক্ষণে ছোঁ মেরে ববির হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,,

“ট্রাস্ট করতে হবে না, ইউ ক্যান গো নাও। কথা দিচ্ছি, আমি চাচীর সাথে কথা বলব না।”

ববি লিলির দিকে তেড়ে এসে খড়তড় স্বরে বলল,,

“ফোনের প্রতি সাডেন এতো ইন্টারেস্ট এলো কোত্থেকে শুনি? কি চাল চালছ মনে মনে?”

“কিকিসের চাল? কিকিকিসব বলছেন আপনি?”

“আবারো তোতলাচ্ছ! হয়েছে টা কি?”

লিলি গলা খাঁকিয়ে স্বাভাবিক স্বরে বলল,,

“কই কিছু না তো!”

“সিরিয়াসলি আমার ভীষণ ডাউট হচ্ছে। কি করতে চাইছ তুমি?”

“উফফ কিছু না তো আপনি যান। দিন দিন সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠছেন।”

“তুমি বাধ্য করছ তাই!”

লিলি গোমড়া মুখে ফোনটা ববির দিকে এগিয়ে বলল,,

“নিয়ে যান আপনার ফোন। লাগবে না।”

ববি খানিক শান্ত হয়ে গলা খাকারি দিয়ে বলল,,

“আচ্ছা রাখো। উল্টো পাল্টা কিছু না করলেই হলো।”

ববি মোড পাল্টে কিছুটা রোমান্টিক ভাব নিয়ে লিলির ঠোঁটের দিকে এগিয়ে আসতেই লিলি মুখটা বাঁ দিকে সরিয়ে নিলো। ববি প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু বলতে যাবে তার পূর্বেই জিনিয়া আহমেদের ডাক এলো। দরজার বাহির থেকে উনি সশব্দে ববির নাম ধরে ডাকছেন। লিলি চোখ বুজে এক নিশ্বাসে ববিকে বলল,,

“মামানী ডাকছেন তো। প্লিজ আপনি যান। আদারওয়াইজ, মামু রাগ করবেন।

ববি ব্যতিব্যস্ত হয়ে রুম থেকে বের হচ্ছে আর পিছু ফিরে তেজী স্বরে লিলিকে বলছে,,

“আই উইল সি ইউ লেটার। তুমি কাকে ফোন করবে, কার সাথে কথা বলবে সব ডিটেলস কিন্তু অটোমেটিকলি আমার হাতে চলে আসবে। সো, কিছু হিডেন করার পূর্বে দু বার ভাববে!”

লিলি শুকনো মুখে বলল,,

“কিচ্ছু হিডেন করব না। ধ্যাত, আপনি যান তো!

লিলির ভাবভঙ্গি প্রবল সন্দেহের ঠেকছে ববির৷ মনে হাজারো সংশয় নিয়ে প্রস্থান নিলো ববি। গুটি গুটি পায়ে হেঁটে লিলি দরজার কাছটায় দাঁড়িয়ে ফট করে দরজার খিলটা লাগিয়ে দিলো। দ্রুত ফোনের ওয়াইফাই অন করে লিলি ইউটিউব ঘাটতে শুরু করল। ববির দেওয়া ম্যাথটা সার্চ করে লিলি গভীর মনযোগ দিয়ে পনেরো মিনিটের দীর্ঘ একটা টিউটেবরিয়াল দেখল। টিউটোরিয়ালের শেষ পর্যায়ে এসে লিলি শয়তানী হেসে বলল,,

“মিঃ বদরাগী ববি। আজ আপনি আমাকে কোনো ভাবেই পানিশ করতে পারবেন না। কজ ম্যাথটা সম্পূর্ণ নির্ভুল হবে। পানিশমেন্ট দেওয়ার কোনো স্কোপ ই পাবেন না। উল্টে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেন।”

ওয়াইফাই কানেকশান অফ করে লিলি খুব দ্রুত সার্চ বার থেকে সমস্ত ডিটেলস ভ্যানিশ করে দিলো। ফোনটা টেবিলের এক কর্ণারে রেখে লিলি ম্যাথটা আবার নতুন উদ্যমে শুরু করল। কোনো রকম অমনোযোগীতা এবং খামখেয়ালী ছাড়াই। তার উদ্দেশ্যই যেনো আজ পানিশমেন্ট থেকে নিজেকে রক্ষা করা। অন্তত ববির কাছে একটু ভালো সাজা!

,

ম্যানেজেরিয়াল ডেস্কের অপর প্রান্তে গম্ভীর ভাব নিয়ে বসে আছেন খায়রুল আহমেদ। উনার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অগ্রেই আড়ষ্ট ভাব হয়ে বসে আছে ববি। কিছুক্ষণ মৌণতায় থেকে খায়রুল আহমেদ ববির দিকে খানিক ঝুঁকে খড়তড় স্বরে বললেন,,

“শুনলাম, তুমি নাকি জব খুঁজছ?”

ঘটনার আকস্মিকতায় ববি অস্থির দৃষ্টিতে মাথা নাড়িয়ে ছোট স্বরে বলল,,

“হুম মামু।”

“কেনো? কি দরকার? মাস্টার্স কমপ্লিট করার ইচ্ছে নেই তোমার?”

ববি আমতা আমতা করে বলল,,

“আছে। বাট…”

খায়রুল আহমেদ ববিকে থামিয়ে বললেন,,

“তোমার ঐ ব্যাকডেটেড ওয়াইফের ভরণ পোষনের জন্যই জবটা খুঁজছ। কি? ঠিক গেইস করলাম তো আমি?”

ববি মুখটা কালো করে মৌণ অবস্থায় মাথা নিচু করে ফেলল। খায়রুল আহমেদ শক্ত স্বরে বললেন,,

“তোমার কি মনে হয়? তোমার ওয়াইফের ভরণ পোষনের খরচ আমি চালাতে পারব না? পড়াশোনার খরচ চালাতে পারব না?”

ববি শান্ত দৃষ্টিতে মাথা তুলো তাকালো। খায়রুল আহমেদ চেয়ারে হেলান দিয়ে নরম স্বরে বললেন,,

“এখনি জব খুঁজতে হবে না তোমার। সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। মাস্টার্স কমপ্লিট করো, এরপর জব। তোমার বয়সে থাকতে আমার ও বিয়ে হয়েছিলো। বিয়ের পরে ও আমি সন্তোষজনক মার্কস নিয়ে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছিলাম। তোমার মামানী ও কৃতিত্বের সাথে অনার্স কমপ্লিট করেছিলো।”

খায়রুল আহমেদ অল্প সময় দম নিয়ে আবার বললেন,,

“একটা কথা বলে রাখি তোমাকে, “তোমার এই মামু যতোদিন বেঁচে থাকবে, পরিবারের প্রতিটা মানুষের কথাই ভাববে। কারো কোনো চাহিদা, ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন অপূর্ণ রাখবে না। নিজের সর্বস্ব দিয়ে সবার সমস্ত চাহিদা পূরণ করবে। সবাইকে একই বাহুডোরে আগলে রাখবে। তদ্রুপ তোমার ওয়াইফ ও এর অন্যথায় থাকবে না। যদি ও এখনো অব্দি তোমার বিয়েটা এবং তোমার ওয়াইফকে আমি মন থেকে মানতে পারি নি, তবুও আমি তাকে নিজের পরিবারের একজন হিসেবেই দাবি করি। মনুষ্যত্বের খাতিরে হলে ও আমি তার কথা ভাবি। তার ইচ্ছে বা স্বপ্নকে প্রাধান্য দেই। ছোট বেলা থেকে আমি এই শিক্ষা পেয়েই বড় হয়েছি। সে শিক্ষা আজ ও অব্দি ধরে রেখেছি বলেই, আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ আগামীতে ও এভাবেই আমি আমার অবস্থানটা ধরে রাখব!”

ববি ম্লান হেসে বলল,,

“তুমি আমার আইডল মামু। ছোট বেলা থেকেই তোমাকে আমার আদর্শ মানছি। বিলিভ মি, আমি সবসময় চেষ্টা করি ঠিক তোমার মতো হতে৷ এতোটাই নিঃস্বার্থ হতে। সে ঝোঁকের বসেই হয়তো কোনো স্বার্থ ছাড়াই আমি লিলিকে বিয়ে করেছি। নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় স্বার্থের কোনো প্রশয় নেই। আই হোপ সো মামু। তুমি ও একদিন লিলিকে মন থেকে মেনে নিবে। আই নো ইউ। আমার মামুকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। যার মন এতো বিশাল, উদার, নিস্বার্থ, সে তার এতো আদরের ভাগ্নের ওয়াইফকে মেনে নিবে না, তা কখনো হতে পারে না! তুমি শুধু মনুষ্যত্বের খাতিরে না মামু ভালোবাসার খাতিরে ও লিলির কথা ভাববে। লিলির ইচ্ছে, আকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন পূরণ করবে। আই টোল্ড ইউ মামু। আই জাস্ট টোল্ড ইউ।”

খায়রুল আহমেদ ক্ষিপ্ত স্বরে বললেন,,

“তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছ ববি। তোমার ওয়াইফের জন্যই সমাজে আমার অনেকটা মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এলাকায় নানা ধরনের কুৎসা রটেছে। এলাকা থেকে কোনো কাজে বের হলেই ঐ দিনের মারধরের ঘটনা বর্ণনা করতে হচ্ছে সমস্ত পলিটিশিয়ানদের। তোমার বিয়ে সম্পর্কিত বিষয়গুলো সামনে উঠে আসছে। আমার ভাগ্নে হিসেবে মোটামুটি সবাই তোমাকে চিনে। তাই তোপের মুখে আমাকে পড়তে হচ্ছে প্রতিবার। প্রতিটা জায়গায় হেনস্তা হতে হচ্ছে। এবার তুমিই বলো? তোমার এই ওয়াইফকে মন থেকে মেনে নেওয়া কি আদৌ আমার পক্ষে সম্ভব?”

ববি মাথা নিচু করে অনুতপ্ত স্বরে বলল,,

“দোষটা আমার শতভাগ মামু। আমিই লিলিকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে এনেছিলাম। আমার হাত ধরেই লিলি এই বাড়িতে উঠেছিলো। লিলি ইচ্ছে করে আমার হাতটা ধরে নি মামু। আমি আমার কাজে খুব অনুতপ্ত। পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার মান সম্মান ধরে রাখার বদলে আমি তোমার মান সম্মান ডুবিয়ে দিয়েছি। পুরোটাই অপারগ হয়ে করেছি৷ উদ্দেশ্যপ্রবণভাবে নয়। এর জন্য আমি ভীষণ অনুতপ্ত মামু। ভীষণ।”

খায়রুল আহমেদ প্রসঙ্গ পাল্টে বললেন,,

“মাস্টার্সের ভর্তি কার্যক্রম দু, এক দিনের মধ্যেই শুরু হবে। সাভার বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ফর্মফিলাপ করে নিও।”

ববি হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানালো। খায়রুল আহমেদ সামান্য থেমে আবার বললেন,,

“কাল থেকে তুমি আমার সাইটে যাবে। সাইট টা দেখা শুনা করবে। আমার সমস্ত কাজ তো তোমাকেই দেখে শুনে রাখতে হবে ববি। তুমিই তো আমার লাস্ট ভরসা! বংশে আমাদের আর কোনো ছেলে নেই।”

“আমার উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে পারো মামু। ইন ফিউচার আমি আর কোনো ভুল করব না। খুব দ্রুত আমি তোমার ভরসা আদায় করে নিবো।”

ববি দম নিয়ে আবার বলল,,

“সাইটটা কোথায়?”

“পাশের এলাকায়। কোটি টাকার কাজ। তুমি ছাড়া কাউকে ভরসা করতে পারছি না আসলে। ইন্জিনিয়ারদের সাথে থেকে পুরো সাইটটা তুমি দেখে শুনে রাখবে। রাতে আমাকে সমস্ত আপডেট জানাবে।”

“ওকে। বাট একটা প্রবলেম আছে!”

“কি?”

“একচুয়েলি আমি একটা কোচিং সেন্টারে গাইড করছি। সন্ধ্যা ৭-৮ টা। ঐ সময়টা আমাকে দিতে হবে মামু!”

“তোমার যেভাবে সুবিধে। সব সাইডেই বাজপাখির মতো নজর রাখতে হবে ববি। শুধু এক দিক নিয়েই পড়ে থাকলে হবে না। তুমি পুরুষ, তোমার নজর থাকবে বড়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে আকাশ ছোঁয়া, সব কিছু হাসিল করার ব্যাপক উন্মাদনা থাকতে হবে। তবেই তুমি জীবনে কিছু একটা করতে পারবে। সময়টাকে কাজে লাগাতে পারবে। এখন তো আবার সংসারী হয়েছ। সো, এক্ষেএে হোপ থাকতে হবে বিশাল।”

ববি মৌণ হেসে মাথা নাঁড়ালো। খায়রুল আহেমদ চোখ থেকে চশমাটা খুলে চেয়ারের পেছনটায় হেলান দিয়ে বেশ আরাম করে বসে ববির দিকে তাকিয়ে বললেন,,

“কাল হেমার শ্বশুড় বাড়িতে ইনভেটিশান আছে। হেমার দেবর কাতার থেকে ফিরছে। তুমি জানো নিশ্চয়ই?”

ববি শুকনো মুখে বলল,,

“না। একচুয়েলি আপু জানায় নি কিছু!”

“জানানোর কথা ও না। তুমি বেচারীকে কম আঘাত দিয়েছ? ওর সংসারে কম অশান্তি বাঁধিয়েছ?”

প্রতিত্তুর করল না ববি। খায়রুল আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,,

“কাল সাইটে যাওয়া স্কীপ করো। পরশু থেকে যেও। আপাতত হেমার শ্বশুড় বাড়িতে যাওয়াটা এসেন্সিয়াল। তোমার ওয়াইফ ও আমাদের সাথে যাবে। বলে দিও।”

ববি জোরপূর্বক হেসে বলল,,

“ওকে।”

খায়রুল আহমেদ চোখ জোড়া বুজে বললেন,,

“রুমে যাও। রেস্ট নাও। আর তোমার মামানীকে বলো ব্ল্যাক কফি পাঠাতে। মাথাটা ধরেছে।”

ববি চেয়ার ছেড়ে উঠে হালকা হেসে বলল,,

“আসছি আমি।”

খায়রুল আহমেদ হ্যাঁ সূচক মাথা নাঁড়ালেন। অফিস রুম থেকে প্রস্থান নিয়ে ববি জিনিয়া আহমেদের রুমে উঁকি দিলো। রুমে উনাকে না পেয়ে ববি ড্রইং রুমের কাছটায় আসতেই সাহেরা খাতুনের রুম থেকে লিলির গলার স্বর শুনতে পেলো। কপাল কুঁচকে ববি সাহেরা খাতুনের রুমের দিতে অগ্রসর হতেই শুনতে পেলো লিলি অভিমানী স্বরে সাহেরা খাতুনকে বলছে,,

“আপনি খামোখা আপনার ছেলের কাছে আমার নামে সত্য/মিথ্যা লাগালেন আম্মু। আমি কি অন্যায় করেছিলাম বলুন? সামান্য বেনুনি ই তো গেঁথে দিয়েছিলাম। আর বলেছিলাম আপনাকে বেনুনিতে যুবতি কালের, ” আশা ভোঁসলের মতো লাগছে।” শ্বশুড় আব্বু আপনাকে এই রূপে দেখলে ফিদাদাদা হয়ে যেতেন। এর জন্য আপনি আপনার ছেলেকে বলবেন আমাকে সামলে রাখতে? শাসন করতে?”

সাহেরা খাতুন খড়তড় স্বরে বললেন,,

“কার্টুনের বিষয়টা তুমি স্কিপ করে গেছো ওকে? সাথে পড়াশুনা বাদ দিয়ে আমার পায়ে পায়ে লাগাটা ও!”

“কার্টুন দেখলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয় শুনি? আপনি বড় হয়ে গেছেন বলে কি কার্টুন দেখতে পারবেন না? আর পড়াশোনা তো আমি রোজই করি। শুধু আজই একটু খামখেয়ালী করেছি। তাই বলে আপনি আপনার ছেলের হাতে আমাকে মার খাওয়াবেন?”

লিলি মিথ্যে কান্নার নাটক করে বলল,,

“জানেন আম্মু? আপনার ছেলে আমাকে যা নয় তা বলেছে, ইচ্ছে মতো বকেছে, পানিশমেন্ট ও দিয়েছে।”

ববি প্রচন্ড ক্ষেপে শব্দহীনভাবে রুমের দরজাটা একটু ফাঁক করে দেখল সাহেরা খাতুন এবং জিনিয়া আহমেদ বিছানার উপর বসে আছে। লিলি কোঁমড়ে দুহাত গুজে কান্নার নাটক করছে। জিনিয়া আহমেদ মুখ চেঁপে হাসছে। সাহেরা খাতুন উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকিয়ে আছে। ববি রাগান্বিত ভাব নিয়ে রুমে প্রবেশ করার পূর্বেই সাহেরা খাতুন উদ্বিগ্ন স্বরে লিলিকে বললেন,,

“ববি তোমাকে পানিশমেন্ট দিয়েছে?”

লিলি মাথা নাঁড়িয়ে বলল,,

“হাফ দিয়ে গেছে। আরো হাফ বাকি আছে। মামুর সাথে কথা বলে এসে হাফ পানিশমেন্ট দিবে।”

সাহেরা খাতুন ভীষণ রেগে বললেন,,

“আমি তো ববিকে বারণ করেছিলাম বেশি শাসন না করতে৷ এরপরে ও ববি তোমাকে মেরেছে?”

“হ্যাঁ দিয়েছে তো। বলেছে ফিরে এসে আবার দিবে। এতো মার আমি সহ্য করতে পারি বলুন আম্মু? প্লিজ আপনি আপনার ছেলেকে একটু বুঝান। মারের হাত থেকে আমাকে বাঁচান।”

ববি হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকে পড়ল। চোয়াল শক্ত করে ববি লিলিকে ডেকে বলল,,

“লিলি। তুমি এখানে কি করছ?”

লিলি শুকনো ঢোক গিলে ববির দিকে তাকালো। ববিকে দেখা মাএই সাহেরা খাতুন তেড়ে এসে ববির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন,,

“তুই মেয়েটাকে মারলি কেনো? বলেছিলাম না? কম শাসন করতে?”

ববি কপাল কুঁচকে কিছু বলার পূর্বেই লিলি দৌঁড়ে এসে শুকনো ঢোক গিলে সাহেরা খাতুনের আঁচল ধরে ইনিয়ে বিনিয়ে বলল,,

“আম্মু উনাকে বলে দিন ম্যাথটা ভুল হলে যেনো আমাকে হিট না করে। প্লিজ।”

ববি চোয়াল শক্ত করে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“তার মানে, তুমি ম্যাথটা করো নি বা ম্যাথটায় কোনো ভুল হয়েছে। তাই তুমি আম্মুকে সুপারিশ করছ?”

লিলি কাঠ কাঠ গলায় আপন মনে বিড়বিড় করে বলল,,

“ইসসস বদরাগীটা বুঝে গেছে। ছাতার মাথা টিউটোরিয়ালটা দেখে ও কোনো লাভ হলো না। ম্যাথটা করতে গিয়ে হাজার বার আটকাতে হলো। তাই তো আম্মুর কাছে সুপারিশ করতে এসেছিলাম। এখন তো মনে হচ্ছে এই সুপারিশ ও কাজে দিবে না। পানিশমেন্ট আজ আমার ভাগ্যে লিখাই ছিলো!”

সাহেরা খাতুন অবুঝ চাহনীতে ববির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“সুপারিশ মানে? বুঝলাম না। কিসের সুপারিশ?”

সাহেরা খাতুনের পেছন থেকে লিলির হাতটা খপ করে ধরে ববি লিলিকে টেনে হেছড়ে নিজেদের রুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে আর সাহেরা খাতুনকে উদ্দেশ্য করে বলছে,,

“আম্মু৷ মামানীকে বলো, ব্ল্যাক কফি নিয়ে মামুর অফিসে যেতে। মামু ব্ল্যাক কফি চাইছে।”

লিলি ববির হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য উসখুস করছে আর বলছে,,

“ছাড়ুন আমাকে ববি। মামুকে কফিটা বানিয়ে দেই। মামু আমার হাতের ব্ল্যাক কফি খেতে পছন্দ করেন।”

ববি রুমের দরজাটা আটকে রাগান্বিত চোখে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“বাহানা দিতে ভালোই শিখেছ না? আমার আম্মুকে ও পোষ মানিয়ে নিচ্ছ?”

লিলি মাথা নিচু করে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল,,

“আপনি তো শুধু আম্মুর কথাই শুনবেন। তাই আম্মুকে সুপারিশ করতে গেছিলাম। কিন্তু আপনি তো সব ধরে ফেললেন। এবার কি হবে? নিশ্চয়ই আমাকে হিট করবেন?”

ববি শক্ত স্বরে বলল,,

“আম্মুর কাছে মিথ্যে বলছিলে কেনো? আমি তোমাকে হিট করেছিলাম?’

লিলি গলা জড়ানো স্বরে বলল,,

“ঐ যে, সিমপ্যাথি পাওয়ার জন্য। এসেই তো আমাকে হিট করতেন!”

ববি আচমকা ফিক করে হেসে লিলিকে দুহাত দিয়ে ঝাপটে ধরে বলল,,

“এত্তো দুষ্টু হয়ে গেছ তুমি! ভাবা যায়? আই জাস্ট থিংকিং, তুমি আমার আম্মুকে আমার বিরুদ্ধে উসকে দাও? আম্মু ও তোমার উস্কানিকে প্রশয় দিয়ে আমার দিতে তেড়ে আসে? ইজ দিজ পসিবল লিলি? আমি তো পুরাই শকড!”

লিলি কান্না ভুলে বাঁকা হেসে বলল,,

“ইয়েস ববি। ইট’স পসিবল। আমি অযথা আম্মুর পিছনে লাগি না। আম্মুর কঠোর মনটাকে নরম করার জন্যই সারাক্ষণ আম্মুকে বিরক্ত করি। ইয়ার্কি, দুষ্টুমি করি। আই হোপ সো ববি, আম্মু খুব সহজে আমাকে মন থেকে মেনে নিবেন। নিজের মেয়ের মতোন ভালোবেসে বুকে আগলে নিবেন। খুব শীঘ্রই সেই দিনটা আসবে ববি। খুব শীঘ্রই।”

ববি মৃদ্যু হেসে বলল,,

“আমি সবসময় চাইতাম লিলি, তুমি এতোটাই চঞ্চল হও, এতোটাই মিশুক হও, ঠিক এতোটাই দুষ্টু প্রবৃত্তির হও। মন্থর গতিতে হলে ও তুমি আমার মন মতো গড়ে উঠছ। নির্বোধ, বোকা লিলিটা আর নেই। বাড়িতে তোমাকে এখন একা ছেড়ে যেতে আমার বিন্দু পরিমান ও উৎকন্ঠা কাজ করে না, ভয় ভীতি ও কাজ করে না। আই ফিল দেট, বাড়িতে তুমি সেইফেই থাকবে। নিজের ষোল আনা নিজেই বুঝে নিতে পারবে! সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে পারবে। কষ্ট পেয়ে রুম বন্ধি হয়ে কাঁদবে না। প্রকাশ করার ভঙ্গি পুরো বদলে যাবে!”

লিলি মৃদ্যু হেসে ববিকে সশক্তি দিয়ে ঝাপটে ধরে প্রসঙ্গ পাল্টে মলিন স্বরে বলল,,

“ববি। কাল আপুদের বাড়িতে ইনভিটিশান আছে জানেন আপনি?”

“মামু বলেছেন। তুমি আগে থেকেই জানতে নাকি?”

“মামানী বলেছেন।”

“আম্মু কিছু বলে নি?”

“না। হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন।”

লিলি আবার প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,,

“আচ্ছা। মামু হঠাৎ ডাকলেন কেনো?”

“তিনটে কারণে ডেকেছেন। প্রথমত মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর জব। দ্বিতীয়ত..

লিলি উত্তেজিত হয়ে ববিকে থামিয়ে বলল,,

“সিরিয়াসলি ববি? মামু বলেছেন মাস্টার্স কমপ্লিট করতে?”

“ইয়াহ্। সাথে এটা ও বলেছেন পরশু থেকে মামুর সাইটে যেতে।”

“বাহ্ খুব ভালো খবর তো!”

“সব’চে ভালো খবরটা শুনলে তো তুমি পাগল ই হয়ে যাবে!”

লিলি কৌতুহলী দৃষ্টিতে ববির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“কি খবর ববি?”

ববি লিলির নাক টেনে বলল,,

“মামু শুধু আমার নয়। তোমার আনুসাঙ্গিক খরচ প্লাস পড়াশোনার খরচ ও বহন করবেন। আমাদের দুজনের স্বপ্নই পূরণ করবেন!”

লিলি মলিন হেসে বলল,,

“মামু এতো ভালো কেনো ববি?”

“উদারতা মামুর স্বভাবেই আছে, তাই হয়তো এতো ভালো!”

“ববি জানেন? আমার খুব ইচ্ছে হয়, মামুর সাথে দু দন্ড বসে একটু ভালো ভালো কথা বলতে। মামুর সাথে হেসে হেসে কথা বলতে। কিন্তু সেই স্কোপটা আজ অব্দি হয়ে উঠল না।”

ববি হালকা হেসে বলল,,

“পাবে পাবে খুব শীঘ্রই পাবে। ডোন্ট বি চিলি।”

“ইউ নো হোয়াট ববি? অধীর আগ্রহ নিয়ে আমি ঐ দিনটার অপেক্ষা করছি।”

ববি হঠাৎ রুক্ষ ভাব নিয়ে বলল,,

“ম্যাথটা কমপ্লিট করেছ?”

লিলি ঝগড়ুটে ভাব নিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলল,,

“আগে আপনি বলুন। আম্মুর ঔষধ এনেছেন?”

ববি প্যান্টের পকেট থেকে ঔষধের পাতাটা বের করে লিলির মুখের সামনে ধরে বলল,,

“এবার তোমার পালা!”

লিলি আচমকা ববিকে ঝাপটে ধরে আহ্লাদি স্বরে বলল,,

“ববি শুনুন না। আপনি তো সকালে বলেছিলেন, রাতে ছাঁদে বসে একসাথে ব্ল্যাক কফি খাবেন। চলুন না আমরা ছাঁদে যাই। ব্ল্যাক কফি খাই।”

“একদম প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করবে না। খাতাটা দেখাও।”

ববিকে ছেড়ে লিলি মাথাটা নিচু করে করুন স্বরে বলল,,

“ম্যাথটা সলভ করতে পারি নি ববি। ইউটিউব ঘেঁটে ও না।”

ববি কপাল ঘঁষে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“বাপরে বাপ। তুমি এত্তো চালু হয়ে গেছো লিলি? এখন টিউটোরিয়াল ঘেঁটে আমাকে ও বোকা বানাতে শিখে গেছ?”

লিলি ফিক করে হেসে বলল,,

“আপনার বউ, আপনার থেকে দু কদম আগে না থাকলে চলবে কিভাবে?”

ববি নিষ্পলক দৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“ব্ল্যাক কফি নিয়ে এসো। ছাঁদে যাবো।”

লিলি চোখ দুটো প্রকান্ড করে খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে বলল,,

“সিরিয়াসলি ববি? ছাঁদে যাবেন?”

ববি ম্লান হেসে বলল,,

“হুমম।”

“তার মানে আজ ম্যাথের জন্য আমাকে পানিশ করবেন না?”

ববি খানিক এগিয়ে এসে লিলির কপালে দীর্ঘ একটা চুমো খেয়ে বলল,,

“কোনো চান্স নেই!”

ববিকে পাশ কাটিয়ে লিলি অতি উত্তেজিত হয়ে দৌঁড়ে কিচেন রুমে চলে গেলো। লিলির যাওয়ার পথে তাকিয়ে ববি মৃদ্যু হাসল। আধ ঘন্টার মধ্যে লিলি হাতে কফির মগ নিয়ে ফিরে এলো। ববি বিছানায় শুয়ে রেস্ট নিচ্ছিলো। লিলি দ্রুত পায়ে হেঁটে ববির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কফির মগগুলোতে ইশারা করে ভ্রু উঁচিয়ে বলল,,,

“চলুন৷ রেডি!”

ববি শোয়া থেকে উঠে লিলির হাত থেকে একটা কফির মগ হাতে নিয়ে লিলিকে বাহুডোরে আবদ্ধ করে মলিন স্বরে বলল,,

“চলো।”

,
,

রাত ৯ টা। ববি এবং লিলি ছাঁদের রেলিং ঘেঁষে খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। আজ আকাশটা ঠিক জোছনায় মাখামাখি ও না আবার ঘোর অমবস্যাতে ও ঢাকা না। রাতের দুটো বৈশিষ্ট্যের মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। ববি কফির মগে প্রথম চুমুকটা দিয়ে লিলির দিকে তাকালো। লাল পাড়ের শাড়ির আঁচলটা লিলির হালকা বাতাসে তাল মিলিয়ে উড়ছে। রাতের নির্মল, স্নিগ্ধ বাতাসে লিলির খোঁপা থেকে আছড়ে পড়া চুল গুলো খানিক দুলছে। মিহি অন্ধকারে লিলির ধবধবে শুভ্র মুখটা স্পষ্ট অবলোকন করা যাচ্ছে। দৃষ্টিনন্দিত হয়ে ববি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লিলিকে দেখছে। কফির মগে আলতো ঠোঁটে চুমুক দিয়ে লিলি ল্যাম্পপোস্টের আলোতে যানবাহনের কোলাহলপূর্ণ রাস্তায় এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে যেনো গভীর কোনো মহা চিন্তায় মগ্ন লিলি। গলা খাকারি দিয়ে ববি লিলির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল,,

“উহুম উহুম। এই যে? কিছু ভাবছেন মনে হচ্ছে?”

লিলি ধ্যান পাল্টে ভাবশূণ্য হয়ে ববির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“হুম! খুব গভীর ভাবনায় আছি।”

“টেল মি। কি ভাবছ?”

লিলি বেশ ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল,,

“ববি কাল কি হেমা আপুর শ্বশুড় বাড়িতে যাওযাটা ঠিক হবে?”

ববি ভ্রু কুঁচকে বলল,,

“অনুচিতের কি আছে?”

“অবশ্যই আছে। হেমা আপু কিন্তু আমাকে পছন্দ করেন না। ইভেন ঐ বাড়ির কেউই আমাকে পছন্দ করেন না। বলা বাহুল্য, আয়রা আপু আমাকে দেখলেই তুখার রেগে যাবেন। না জানি কতোটা রিয়েক্ট করবেন। তাই আমার মনে হচ্ছে না, ঐ বাড়িতে অন্তত আমার যাওয়াটা কোনো দিক থেকে উচিত হবে ববি!”

“আমি ও এটাই ভাবছি। তবে মামুর অর্ডার আমি নাকোচ করতে পারব না। স্যরি টু সে লিলি, অনিচ্ছাকৃত সত্ত্বে ও ঐ বাড়িতে আমাদের যেতে হবে। আই কান্ট ডু এনিথিং।”

লিলি ম্লান হেসে ববির দিকে তাকালো। ববি হালকা হেসে লিলিকে তার হাতের বন্ধনীতে আবদ্ধ করে মিষ্টি স্বরে বলল,,

“ডোন্ট ওরি লিলি। ওখানে কেউ তোমাকে কোনো ভাবে অপমান করতে পারবে না। পুরোটা সময় আমি তোমার পাশেই থাকব। তোমার সেইফটি গার্ড হিসেবে!”

লিলি হঠাৎ মুখ চেঁপে হেসে বলল,,

“দয়া দেখিয়ে কতো কৃপাটাই না করছেন! মামুর মতো ভাগ্নে ও দয়ার সাগর!”

ব্যাস হয়ে গেলো। ববি রেগে বোম হয়ে হাতে থাকা কফির মগটা ফ্লোরে ছুড়ে মেরে লিলির থুতনী চেঁপে ধরে চোয়াল শক্ত করে বলল,,

“ইউ ইডিয়ট লেডি৷ সিরিয়াসলি, মুখ থেকে রক্ত বের করে এরপর আমি ক্ষান্ত হবো। জাস্ট দেখো!”

লিলি ব্যাথায় কুঁকিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল,,

“আমি মরে যাবো তো ববি। প্লিজ ছাড়ুন।”

“মরলে মরো৷ আই জাস্ট ডোন্ট কেয়ার!”

লিলি অশ্রুসিক্ত চোখে করুন দৃষ্টিতে ববির দিকে তাকিয়ে আছে। যন্ত্রণায় এক প্রকার কাতরাচ্ছে সে। ক্রমশ লিলির চোখ, মুখ লাল হয়ে আসছে। চোখ দুটো মিইয়ে আসছে। সমস্ত শরীরটা ও অসাড় হয়ে আসছে। ইতোমধ্যেই ববি লিলির থুতনীটা ছেড়ে লিলির ঠোঁটে দীর্ঘ একটা চুমো খেয়ে গলা জড়ানো স্বরে বলল,,

“নেক্সট টাইম ভুলে ও যেনো দয়া মায়ার কথা না শুনি। সহ্য করতে পারি না আমি। একদম না। কেনো আমার যন্ত্রণাটা বুঝতে চাও না লিলি? হোয়াই?”

#চলবে….?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here