প্রেম_ফাল্গুন #পর্ব_২০

#প্রেম_ফাল্গুন
#পর্ব_২০
#Nish_Jahan_Raat (ছদ্মনাম)

মাঝখানে কেটে গেলো দীর্ঘ ২৫ দিন। লিলি একটু একটু করে ববির কাছাকাছি আসছে৷ সবকিছুতে ববির খুব খেয়াল রাখছে। ববির কখন কি লাগবে সর্বদিকে যথেষ্ট নজর লিলির। এখন তো রোজ রাতে ববিকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে না ধরলে লিলি একদদদম ঘুমুতে পারে না। সারা রাত সাপের মতো পেঁচিয়ে রাখে ববিকে। ববি ও লিলিকে বুকের মাঝে একাত্ন করে মিশিয়ে রাখে। সারাদিনের ববির সমস্ত ক্লান্তি, হতাশা, দুঃখ, গ্লানি, যন্ত্রণা লিলির আলতো হাতের একটুখানি ছোঁয়াতেই নিমিষে মিইয়ে যায়। খায়রুল আহমেদের অগোচড়ে ববি এই পঁচিশ দিন ধরে নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করছে ভালো একটা জব খোঁজার। অলরেডি তিনটি অফিসে জব ইন্টারভিউ দিয়ে এসেছে ববি। বাট এখনো কোনো ফিট ব্যাক আসে নি। সারাদিন বিভিন্ন অফিসে ঘুড়ে ঘুড়ে ববি বিকেলে দুটো টিউশন প্লাস একটা কোচিং সেন্টারে গাইড করছে। বাড়ি ফিরতে রাত ৯-১০ টা তো বাজেই। মান্থলি মাএ ৯ হাজার টাকা ববির হাতে আসবে। এই টাকা দিয়েই ববি তার জব ইন্টাভিউয়র কয়েকটা বই প্লাস লিলির কিছু ইন্টারমেডিয়েট বই, লিলির আনুসাঙ্গিক খরচ এমনকি লিলির জন্য টুকটাক কিছু শপিং করার বাজেট করে রেখেছে। বিয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত ববি লিলিকে এক সেট ভালো ড্রেস ও গিফট করতে পারে নি৷ যা ববিকে প্রচন্ড রকমভাবে ভাবায়। সারা দিনের ধকল শেষে রাতে যখন ববি ক্লান্ত, শ্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে লিলির মায়াবী মুখটার দিকে এক পলক তাকালেই ববি তার সব ক্লান্তি ভুলে যায়। সমস্ত পরিশ্রম ভুলে যায়। পরম আবেশে এক মুগ্ধতার জগতে হারিয়ে যায়। যে জগতের চারিদিকে শুধু লিলির মায়াবী মুখের মুগ্ধতা ছড়িয়ে থাকে।

লিলি এই পঁচিশ দিনে সাহেরা খাতুনের মনে কিছুটা হলে ও জায়গা করতে পেরেছে৷ ববি সকালে বাড়ি থেকে বের হলেই লিলি সাহেরা খাতুনের রুমে চলে যায়। সারাক্ষণ সাহেরা খাতুনের আশেপাশে থাকে। সাহেরা খাতুন কথা বলতে না চাইলে ও জোর করে সাহেরা খাতুনের সাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কথা বলে। হাজার বকুনি খেয়ে ও সাহেরা খাতুনের পাশ থেকে এক দন্ড নড়তে কুন্ঠাবোধ করে। এক প্রকার জেদ ধরে বসে থাকে। সাহেরা খাতুন তুখার বিরক্তি নিয়ে লিলির দিকে কটমট চোখে তাকালেই বিনিময়ে লিলি মুখটা ছোট করে ফ্যাল ফ্যাল চোখে সাহেরা খাতুনের দিকে তাকায়। বাধ্য হয়ে সাহেরা খাতুন নিজেই নরম হয়ে যান, শান্ত চোখে লিলির দিকে তাকান। আর তখনই লিলি হু হা করে হেসে সাহেরা খাতুনকে ঝাপটে ধরে।

সকাল ৯ টা। সবাই সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে নিজেদের রুমে চলে এলো। ববি ফরমাল ড্রেসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে ননস্টপ মুখে কিসব বিড়বিড় করছে আর খুব ব্যতিব্যস্ত হয়ে শার্টের হাঁতা ফোল্ড করছে। লিলি ধোঁয়া উঠা কফি হাতে নিয়ে হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকে ববির পাশে দাঁড়িয়ে এক নিশ্বাসে বলল,,

“ববি কফি! আজ কিন্তু খেয়ে যাবেন।”

ববি ভ্রু যুগল উঁচু করে লিলির প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলল,,

“ব্ল্যাক কফি?”

লিলি মিষ্টি হেসে বলল,,

“ইয়াহ্!”

“সিরিয়াসলি লিলি? তুমি ব্ল্যাক কফি বানাতে ও শিখে গেছো?”

“এ আবার কঠিন কি? মামানী একবার দেখিয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকে আমি নিজেই করছি। জানেন খুব টেস্ট হয় আমার হাতের এই কফিটা! মামুকে তো রোজ সন্ধ্যায় আমি কফিটা করে দেই। অবশ্য আমি কখনো মামুর সামনে যাই নি। মামানীর হাত দিয়েই পাঠাই।”

“ভুলে ও মামুর সামনে যেও না। তোমাকে দেখলেই ফায়ার হয়ে যাবে।”

“তাই তো যাই না। ফায়ার বিগ্রেড ছাড়া এই আগুন নিভানো যাবে না।”

ববি লিলির মাথায় গাড্ডা মেরে ভাবলেসহীন ভাবে বলল,,

“খুব পেঁকে গেছো না?”

লিলি কপাল কুঁচকে মিনমিনিয়ে বলল,,

“বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ও আমাকে গাড্ডা মেরে যাবেন?”

ববি বিরক্তি নিয়ে কপাল কুঁচকে বলল,,

“উফফ যাও তো সামনে থেকে, তোমার জন্য আমার কনসেন্ট্রেট ব্রেক হচ্ছে!”

লিলি কোঁমড়ে হাত দিয়ে ঝগড়ুটে ভাব নিয়ে বলল,,

“এই, আমি আবার কি করলাম?”

ববি এবার লিলির প্রতিবিম্বের থেকে চোখ সরিয়ে সরাসরি লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“উফফফ, পড়ছিলাম তো আমি। মাঝখান থেকে ডিস্টার্ব করলে কেনো? কফিটা আনতে কে বলেছিলো? আমি চেয়েছিলাম কফি?”

লিলি কোঁমড় থেকে হাত সরিয়ে বলল,,

“কেউ বলে নি। আপনি ও চান নি। আমি নিজে থেকেই কফিটা এনেছি। কাইন্ডলি কফিটা খেয়ে নিন। এরপর আপনি সারাক্ষণ পড়ুন। আই জাস্ট ডোন্ট কেয়ার!”

“১০ টায় ইন্টারভিউ ওকে? এখন আর বইয়ে চোখ বুলানোর ও সময় নেই।”

ববি বেডের উপর থেকে ফাইল হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হচ্ছে আর পিছন থেকে লিলিকে ডেকে বলছে,,

“কফিটা তুমি খেয়ে নিও। আর শোনো? রাতে ফিরে এসে যেনো দেখি সব গুলো ম্যাথ কমপ্লিট করে রেখেছ। কোনো ভুল ত্রুটি ছাড়াই ওকে?”

“কফিটা না খেয়েই চলে যাচ্ছেন?”

ববি হঠাৎ থেমে পিছু ফিরে মৌণ হেসে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“রাতে দুজন একসাথে ছাঁদে বসে কফি খাবো। ব্ল্যাক কফি। ওকে?”

লিলি মুচকি হেসে খুব ব্যতিব্যস্ত হয়ে ববিকে ডেকে বলল,,

“ওকে ববি। আর শুনুন? অল দ্যা বেস্ট।”

ববি হঠাৎ পিছু ঘুড়ে লিলির দিকে এগিয়ে এসে লিলির হাত থেকে কফির মগটা টেবিলের উপর রেখে লিলির সমস্ত চোখে, মুখে চুমো খেয়ে বাঁকা হেসে লিলির ঠোঁটে দীর্ঘ একটা চুমো খেয়ে বলল,,

“থ্যাংকস।”

লিলি এক ধ্যানে ববির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,,

“কেনো?”

ববি লিলির নাক টেনে বলল,,

“এই যে, উইশ করার জন্য। এর আগে তো কখনো উইশ করো নি, তবে আজ করলে। আজকের ইন্টারভিউটা হয়তো খুব স্পেশাল হবে লিলি।”

লিলি মৌণ হাসল। ববি শেষ বারের মতো লিলির ঘাঁড়ে দীর্ঘ একটা চুমো খেয়ে শান্ত স্বরে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“টেইক কেয়ার ইউরসেলফ। বায়।”

লিলি ব্যতিব্যস্ত স্বরে বলল,,

“আম্মুর প্রেশারের ঔষুধ শেষ ববি। আসার সময় ক্যামলোসার্ট- ১০ এমজি ঔষধের একটা পাতা নিয়ে আসবেন।”

“আজ তোমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না লিলি৷ খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে। কতোটা ম্যাচুয়েড হয়ে গেছো তুমি। খুব প্রেম প্রেম পাচ্ছে তোমাকে দেখে।”

“ধ্যাত আপনি যান তো। রাতে ফিরে ও প্রেম করা যাবে। ঘড়িতে দেখুন, অলরেডি ৯ঃ১৫ বাজছে। লেইট হয়ে যাচ্ছে তো।”

ববি খুব ব্যতিব্যস্ত হয়ে প্রস্থান নিলো। সাহেরা খাতুনের থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহ্ র নাম করে ববি বাড়ি থেকে বের হলো। লিলি মুখটা ভাড় করে কফি হাতে নিয়ে কিচেন রুমের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আর বলছে,,

“ধ্যাত, কত্তো কষ্ট করে কফিটা বানালাম। আর উনি না খেয়েই চলে গেলেন!”

তন্মধ্যেই সাহেরা খাতুন পেছন থেকে খানিক ইতস্ততবোধ করে লিলিকে ডেকে বললেন,,

“লিলি শুনছ?”

লিলি প্রবল উচ্ছ্বাসে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে পিছু ফিরে দৌঁড়ে সাহেরা খাতুনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে উত্তেজিত স্বরে বলল,,

“আম্মু। আপনি আমার নাম ধরে ডেকেছেন?”

সাহেরা খাতুন এদিক সেদিক তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললেন,,

“হুম ডেকেছি। তো কি হয়েছে?”

লিলি হালকা হেসে বলল,,

“কিচ্ছু হয় নি আম্মু। বলুন না কেনো ডেকেছেন? কিছু লাগবে?”

সাহেরা খাতুন কপাল ঘঁষে মুখটা কালো করে বললেন,,

“আসলে আমার মাথাটা একটু ধরেছে লিলি৷ এক কাপ ব্ল্যাক কফি হলে খুব ভালো হয়।”

লিলি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,,

“আমি আপনার কপালটা মাসাজ করে দেই আম্মু। হয়তো একটু স্বস্তি পাবেন।”

“নো। এতো কিছু করতে হবে না। জাস্ট ওয়ান কাপ ব্ল্যাক কফি হলেই হবে।”

লিলি মুখে গম্ভীর ভাব ফুটিয়ে বলল,,

“একচুয়েলি আম্মু, এই যে আমার হাতে কফিটা দেখছেন ওটা আমি আপনার ছেলের জন্য বানিয়েছিলাম। কিন্তু তাড়াহুড়োয় উনি কফিটা খেয়ে যান নি। আমি যদি কফিটা আপনাকে গরম করে দেই, আপনি খাবেন? রাগ করবেন না তো?”

সাহেরা খাতুন লিলির দিকে না তাকিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে ইতস্তত বোধ করে বললেন,,

“রাগ করব কেনো? কফিটা গরম করে আনো। আমি খাবো।

লিলি শুকনো মুখে বলল,,

“আম্মু। আপনি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন না। কেনো এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন? আমি তো আপনার সামনে৷”

“শুনো? আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না। এদিক সেদিক তাকিয়েই কথা বলব। তোমার দিকে তাকাতে আমার মোটে ও ইচ্ছে হয় না।”

“আমার কিন্তু মন খারাপ হচ্ছে আম্মু!”

সাহেরা খাতুন তীব্র রেগে বললেন,,

“তোমার মন খারাপ হলে আমার কিছু করার নেই। কফিটা ফটাফট গরম করে আমার রুমে নিয়ে এসো।”

লিলি ম্লান স্বরে বলল,,

“ওকে আম্মু। আপনি রুমে যান। আমি গরম করে আনছি।”

সাহেরা খাতুন প্রস্থান নিলেন। লিলি ও কফিটা নিয়ে কিচেন রুমে প্রবেশ করল। কিছুক্ষনের মধ্যে কফিটা গরম করে লিলি সাহেরা খাতুনের রুমে প্রবেশ করল। সাহেরা খাতুন ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল আচড়াচ্ছিলেন। লিলি রুমে প্রবেশ করে কফিটা টেবিলের উপর রেখে এক ছুটে সাহেরা খাতুনের হাত থেকে চিরুনিটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে সাহেরা খাতুনের চুলের মাঝে চিরুনিটা ডুবিয়ে মৃদ্যু হেসে বলল,,

“আমি আপনার চুলটা বেঁধে দিচ্ছি আম্মু। আমি না খুব সুন্দর খোঁপা বাঁধতে পারি।”

সাহেরা খাতুন খড়তড় চোখে লিলির প্রতবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলল,,

“তোমার সাহস হলো কি করে আমার চুলে হাত দেওয়ার?”

“আপনি তো আমার আম্মু। আম্মুর চুলে হাত দিতে আবার কিসের পার্মিশান? আপনি চুপ করে বসুন তো আমি সুন্দর করে খোঁপাটা বেঁধে দিচ্ছি। প্রয়োজনে তেল লাগিয়ে দিচ্ছি।”

সাহেরা খাতুন লিলির হাত থেকে চিরুনিটা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আর বলছে,,

“দেখি ছাড়ো। আমার খোঁপা আমি বাঁধতে পারি। চুলে ও তেল লাগাতে পারি। আমার সময় হলে আমি চুলে তেল লাগাবো।”

লিলি বিরক্ত নিয়ে সাহেরা খাতুনকে থামিয়ে বলল,,

“উফফ আম্মু! এতো ছটছট করছেন কেনো? আমি বলছি তো আমি চুলটা বেঁধে দিচ্ছি। শান্ত হয়ে বসুন আপনি।”

সাহেরা খাতুন প্রখর রেগে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে। লিলি সাহেরা খাতুনের রাগী প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে মৃদ্যু হেসে বলল,,

“আপনাকে রাগলে না হুবহু আপনার ছেলের মতো দেখায়। এতো মিল কেনো আপনাদের?”

সাহেরা খাতুন চোখ, মুখ কুঁচকে বললেন,,

“আমার ছেলে আমার মতো হবে না তো কার মতো হবে?”

লিলি ভাবুক ভাব নিয়ে বলল,,

“তাই তো। আপনার ছেলে তো আপনার মতোই হবে। তবে আম্মু? আপনার থেকে না আপনার ছেলেটা খুব বেশি রাগী। যাকে বলে মহারাগী। কথায় কথায় আমার গাঁয়ে হাত তুলে জানেন? সবসময় মেজাজ দেখায়। আপনি তো একটু পারেন, আমার হয়ে আপনার ছেলেকে একটু বকে দিতে।”

“তোমার জন্য আমি আমার ছেলেকে বকতে যাবো কেনো শুনি? কে হও তুমি আমার?”

“কে আবার? আমি আপনার মেয়ে হই। আপনার দুটো মেয়ে বুঝেছেন? এই লিলি ও আপনার আরেকটা মেয়ে। আপনার এই মেয়েটা আপনাকে খুব ভালোবাসে আম্মু। মন থেকে খুব শ্রদ্ধা করে। আপনার রেগে যাওয়াকে, বকুনি দেওয়াকে আপনার লুকায়িত ভালোবাসার একটা অংশ হিসেবে দেখে। আপনার এই মেয়েটা জানে আম্মু, আপনি ভালোবেসেই আপনার মেয়ের উপর রাগ দেখান।”

সাহেরা খাতুন থতমত খেয়ে খানিক ইতস্তত বোধ করে বললেন,,

“মোটে ও না। আমি তোমাকে একটু ও ভালোবাসি না। তাছাড়া আমার একটাই মেয়ে। তুমি আমার মেয়ে হওয়ার যোগ্য নও।”

লিলি ম্লান হেসে বলল,,

“এখন হয়তো আপনি আমাকে মেয়ে হিসেবে মানছেন না, ভালোবাসছেন না, সহ্য করতে পারছেন না। তবে একটা সময় আসবে আম্মু, আপনি অবশ্যই আপনার এই মেয়েটাকে ভালোবাসবেন, চোখে চোখে হারাবেন, মেয়ে হিসেবে ও খুব শীঘ্রই মেনে নিবেন।”

সাহেরা খাতুন হেয় স্বরে বললেন,,

“মানতে তো হবেই। তুমি যা যাদু জানো। যাদু করেই তো আমার ছেলেটাকে ফাঁসিয়েছ, পোষ মানিয়েছ। জবরদস্তি করে বিয়ে করেছ। আমার মেয়ের সংসারে আগুন লাগিয়েছ। তুমি সব পারো সব। তোমার মতো মেয়ের দ্বারা সব সম্ভব৷ তোমাকে না আমার জাস্ট অসহ্য লাগছে। প্লিজ তুমি আমার চোখের সামনে থেকে বিদেয় হও।”

লিলি হাসিমুখে সাহেরা খাতুনের সমস্ত অপমান সহ্য করে নমনীয় স্বরে বলল,,

“আপনি আমাকে যাই বলে অপমান করুন না কেনো আম্মু। আমি কিছুতেই আপনার দেখানো অপমানে মোটে ও মন খারাপ করব না, কষ্ট পাবো না। আপনার চোখের আড়াল ও হবো না। আমি জানি আপনি মন থেকে একটা কথা ও বলছেন না আম্মু। যা বলছেন, মনে পুষিয়ে রাখা রাগ থেকে বলছেন। গ্রামে থাকতে আম্মু সবসময় বলত, “মা রা বেশিদিন তাদের সন্তানদের সাথে রেগে থাকতে পারে না। এবার সন্তান যতো বড়ই অন্যায় করুক না কেনো! মা ঠিক ছুটে যাবে। মা রা হলো পৃথিবীর সব’চে বেহায়া প্রাণী।” তদ্রুপ আপনি ও আমার সাথে বেশিদিন রাগ করে থাকতে পারবেন না আম্মু। ঠিক আমাকে বুকে আগলে নিবেন। আমার মায়ের মতোন আমাকে ভালোবাসবেন।”

চোখের কোণে এক ফোঁটা জল নিয়ে লিলি হাসিমুখে সাহেরা খাতুনের চুলে খোঁপার বদলে বেনুনি গেঁথে দিচ্ছে। সাহেরা খাতুন মায়াভরা চোখে লিলির প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে বিড়বিড়িয়ে বলছে,,

“মিথ্যে বললে ভুল হবে লিলি। আমি এই কয়েকদিনে কিছুটা হলে ও তোমার মায়ায় পড়ে গেছি। তোমার সেবা, যত্ন, ভালোবাসায়, নম্রতায়, সংবেদনশীলতায়, সমঝোতায়, বিনয়ীতায়, মুগ্ধ হয়ে গেছি। হাসিমুখে সব যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা তোমার মধ্যে ভরপুর। আমি একটু একটু করে বুঝতে শিখছি, আমার ছেলে এমনি এমনি তোমার ভালোবাসায় মজে নি। তোমার এতোসব গুন দেখেই তোমাকে ভালোবেসেছে। তোমার আম্মু একদম ঠিক বলত লিলি। “মা রা হলো পৃথিবীর সব’চে বেহায়া প্রাণী।”

চোখে টলমল জল নিয়ে সাহেরা খাতুন আবার বললেন,,

“হেমা আমাকে যতোই বলুক না কেনো, তোমার থেকে দূরে থাকতে, তোমার সাথে খারাপ আচরণ করতে, অপমান, অপদস্ত করতে। কেনো জানি না আমি পারি না, তোমার থেকে দূরে থাকতে, খারাপ আচরণ করতে, অহেতুক অপমান করতে! তার মানে আমি ও বেহায়া লিলি?”

লিলি বেনুনি গেঁথে একদম মাসুম বাচ্চাদের মতো মুখ করে শুকনো ঢোক গিলে সাহেরা খাতুনের প্রতিবিম্বের দিকে জিভ কেটে তাকিয়ে বলল,,

“আম্মু। আমি না আপনার এতো দীর্ঘ, লম্বা, ঘন কালো চুলগুলোতে বেনুনি গেঁথে দিয়েছি। আপনাকে দেখতে না ঠিক “আশা ভোঁসলের” মতোন লাগছে। সিরিয়াসলি আম্মু, মনে হচ্ছে দুজনই একই মায়ের পেটের বোন! ইসস কি কিউট লাগছে আপনাকে। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমার শ্বশুড় আব্বু যদি বেঁচে থাকতেন আপনাকে এই লুকে দেখত, সত্যি বলছি ঠিক ঘায়েল হয়ে যেতো। আপনাকে রীতিমতো চোখে, চোখে হারাতে।”

সাহেরা খাতুন শক্ত দৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকাতেই লিলি মুখটা কাচুমাচু করে দৌঁড়ে রুমে থেকে প্রস্থান নিচ্ছে আর এক নিশ্বাসে পেছন থেকে চেঁচিয়ে বলছে,,

“স্যরি আম্মু। তবে সত্যি বলছি, বেনুনিতে আপনাকে একদম যুবতী মেয়েদের মতো লাগছে। ঠিক যৌবন কালের “আশা ভোঁসলের” মতো।”

লিলির যাওয়ার পথে তাকিয়ে সাহেরা খাতুন ফিক করে হেসে দিলেন। বেনুনিটা সামনে এনে উনি বিড়বিড় করে বললেন,,

“পাগলী মেয়ে একটা। ববি বেছে বেছে এই পাগলীটাকেই বিয়ে করল। সারাক্ষণ শুধু আমার পিছনে লেগে থাকে, অযথা আমাকে জ্বালায়।”

লিলি আবার হঠাৎ ফিরে এসে দরজার ফাঁক দিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে সাহেরা খাতুনকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলল,,

“আম্মু আপনার কফিটা টেবিলের উপর রাখা আছে। প্লিজ খেয়ে নিবেন।”

সাহেরা খাতুন খুব রেগে বসা থেকে উঠে দাঁড়াতেই লিলি আবারো এক ছুটে রুমের দরজা থেকে প্রস্থান নিলো।

,
,

রাত আটটা। ববি মাএ কোচিং সেন্টার থেকে ফিরেছে। লিলি ড্রইং রুমে সোফার উপর বসে সাহেরা খাতুনের সাথে একদম গাঁ ঘেঁষে বসে টিভি দেখছে। সাহেরা খাতুন বার বার কটমট চোখে লিলির দিকে তাকাচ্ছে। না পারছে কিছু বলতে, না পারছে কিছু সহ্য করতে। উনার অবস্থা কিছুটা এরকম,,

“ছেড়ে দে মা। কেঁদে বাঁচি!”

লিলি সাহেরা খাতুনের দিকে পাত্তা না দিয়ে রিমোট দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর চ্যানেল চেইঞ্জ করছে আর চোখে, মুখে বিরক্তি নিয়ে বলছে,,

“ধ্যাত, কার্টুন চ্যানেলটা কোথায়। খুঁজে পাচ্ছি না কেনো? কে নাঁড়াল এই চ্যানেলটা?”

সাহেরা খাতুন রাগী স্বরে বললেন,,

“এই, আমি কার্টুন দেখতে বসি নি এখানে। নিউজ দেখতে বসেছি, ৮ টার নিউজ দেখতে বসেছি।”

লিলি সাহেরা খাতুনের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,,

“মামুর সাথে বসে আপনি ১০ টার নিউজ দেখবেন। এখন আমার সাথে বসে কার্টুন দেখবেন। টম & জেরি কার্টুন। খুব মজার কার্টুন। টম & জেরির খুনশুটি দেখলে আপনি হাসতে হাসতে দম ফেটে মরে যাবেন।”

“এভাবেই তো তুমি আমাকে মারতে চাও। আমাকে মারতেই তো তুমি এই বাড়িতে এসেছ!”

লিলি হঠাৎ সাহেরা খাতুনের গাল টেনে আহ্লাদি স্বরে বলল,,

“না গো মা! আমি তোমায় মারতে আসি নি। তোমার মেয়ে হতে এসেছি।”

সাহেরা খাতুন বেকুব হয়ে লিলির দিকে তাকিয়ে আছে। পাশের সোফায় জিনিয়া আহমেদ সবটা প্রদর্শন করছেন আর মিটিমিটি হাসছেন। কলিং বেলে চাঁপ পড়তেই লিলি রিমোট টা সাহেরা খাতুনের হাতে ধরিয়ে দাঁতের বএিশ পাঁটি দেখিয়ে বলল,,

“আপনার ছেলে এসেছে আম্মু। দাঁড়ান, আমি দরজাটা খুলে আসছি।”

সাহেরা খাতুন চোয়াল শক্ত করে লিলির যাওয়ার পথে তাকিয়ে তেজী স্বরে বললেন,,

“ববি এই কাকে বিয়ে করে এনেছে? শ্বাশুড়ীর সাথে কিভাবে আচরণ করতে হয় তা ও জানে না। রীতিমতো ফ্রেন্ডের মতো আচরণ করছে আমার সাথে।”

জিনিয়া আহমেদ হু হা করে হেসে বললেন,,

“ঠিকই তো আছে সাহেরা। বউ হও তো এমন বউ ই হও। যে শ্বাশুড়ীমার সাথে ফ্রেন্ডলি আচরণ করবে, সর্বক্ষণ হাসি, খুশি, হৈ, হুল্লোড়ে থাকবে।”

ঐদিকে লিলি মাথায় বড় একটা ঘোমটা টেনে খুব নম্রভাবে সদর দরজাটা খুলে দিতেই ববি ক্লান্তি মাখা চোখে লিলির দিকে তাকালো। লিলি অপার সম্ভাবনা নিয়ে ববির দিকে তাকিয়ে বলল,,,

“ইন্টারভিউ কেমন হয়েছে?”

মিইয়ে আসা শরীর নিয়ে ববি মলিন স্বরে বলল,,

“মোটামুটি।”

বিষন্ন মন নিয়ে ববি লিলিকে ক্রস করে ড্রইং রুমে পা বাড়াতেই সাহেরা খাতুন তেড়ে এসে ববির সম্মুখে দাঁড়িয়ে বললেন,

“এই তোর বউকে তুই সামলা। ওকে বলে দিবি আমার ধারে কাছে ও না ঘেঁষতে৷ সারাক্ষণ আমাকে জ্বালিয়ে মারে এই মেয়ে। চুলে কিসব বেনুনি গেঁথে দেয়, ইয়ার্কি, দুষ্টুমি করে। শুধু তাই নয়, আমাকে কার্টুন দেখতে ও বলে। পড়ালেখা তো একদমই করে না এই মেয়ে। সারাক্ষন পুরো বাড়িতে টইটই করে ঘুড়ে বেড়াবে আর বড়দের সাথে বেয়াদবি করবে।”

ববি রাগান্বিত চোখে মাথা নিচু করে মাসুম বাচ্চার মতো দাঁড়িয়ে থাকা লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“আম্মু এসব কি বলছে লিলি? তুমি পড়াশুনো না করে সারাক্ষণ আম্মুকে জ্বালাও? দুষ্টুমি করো, বেয়াদবি করো?”

লিলি মুখটা কাঁচু মাচু করে কাঁপা কাঁপা চোখে ববির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“শুধু আজই পড়তে বসি নি ববি। রোজ ই কিন্তু আমি পড়তে বসি। আপনার সমস্ত পড়া কমপ্লিট করে রাখি। তবে এটা ঠিক আমি আম্মুকে জ্বালাই, দুষ্টুমি করি। হয়তো মাঝে মধ্যে বেয়াদবি ও করি!”

ববি চোয়াল শক্ত করে বলল,,

“আমি জানি তো তুমি কি পড়ো, ঠিক কতোটা পড়ো। রোজই তো ম্যাথের জন্য মার খাও, বকা শুনো, কান ধরো। আই নো দেট, আজ ও এর অন্যথায় হবে না। আ’ম ড্যাম সিউর তুমি আজ ও মার খাবে, বকুনি শুনবে, কান ধরবে। আম্মুর সাথে বেয়াদবির ফল ও আজ পাবে। যাও রুমে যাও। এক্ষনি রুমে যাও। তোমাকে কিভাবে টাইট দিতে হয় আমার ভালো করে জানা আছে।”

লিলি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সাহেরা খাতুনকে ক্রস করছে আর বিড়বিড় করে সাহেরা খাতুনের কানে বলছে,,

“দিলেন তো আপনার বদরাগী ছেলেটাকে রাগিয়ে? এখন রুমে নিয়ে আমাকে তক্তা করবে। সেই তক্তায় আপনি হাড়ি ও পাতিল রাখতে পারবেন।”

এক দৌঁড়ে লিলি রুমে চলে এলো। মাথার ঘোমটা টা খুলে কোঁমড়ে কাপড়ের আঁচলটা বেঁধে পড়ার টেবিলে বসল আর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,,

“আজ আমি শেষ। বদরাগীটা আজ আমাকে সত্যি সত্যি তক্তা করে ফেলবে। ছাতার মাথা আমি তো খাতায় এখনো একটা রো, কলাম ও টানি নি। বদরাগীটা রুমে আসার আগে ম্যাথটা শেষ করব কিভাবে?”

প্রচন্ড তাড়াহুড়ো করে লিলি খাতা, কলম বের করে সমস্ত কনসেন্ট্রেট ম্যাথে লাগিয়ে দিলো। লিলি জানে আজ তার ১২ টা বাজবে। ববির হাত থেকে আজ নিস্তার নেই। ঐ দিকে ববি মলিন হেসে সাহেরা খাতুনের দিকে তাকিয়ে বলল,,

“লিলি তোমাকে আর জ্বালাবে না আম্মু। আমি শাসন করব।”

সাহেরা খাতুন আমতা আমতা করে বললেন,,

“বেবেবেশি শাসন করিস না। এএএকটু আধটু করিস। ছোছোট মেয়ে তো। বেশি শাসন করলে আবার মন খারাপ করবে। হয়তো কাঁদবে ও।”

জিনিয়া আহমেদ পেছন থেকে মুখে হাত দিয়ে অতি আশ্চর্যিত হয়ে সাহেরা খাতুনের দিকে তাকিয়ে বললেন,,

“সিরিয়াসলি সাহেরা? তুমি বলছ? লিলিকে কম শাসন করতে?”

সাহেরা খাতুন কাঁপা কাঁপা স্বরে বললেন,,

“বববলেছি তো কি হয়েছে? মেমেমেয়েটা তো ছোট ই।”

সাহেরা খাতুন দ্রুত প্রস্থান নিলেন। ববি বেকুব হয়ে সাহেরা খাতুনের যাওয়ার পথে তাকিয়ে আছে। জিনিয়া আহমেদ মুচকি হেসে ববির কাঁধে রেখে বললেন,,

“বলেছিলাম না ববি, সাহেরা লিলিকে ঠিক মেনে নিবে। তবে মন্থর গতিতে! একদম স্লো মোশনে।”

ববি মৃদ্যু হেসে বলল,,

“আজ আমি খুব হ্যাপি মামানী। আম্মুর চোখে আমি এই প্রথম লিলির জন্য মায়া দেখেছি।”

“আস্তে আস্তে ভালোবাসা ও দেখবে। এই তো শুরু। তাছাড়া তোমার বউ যা পাঁকা। সারাক্ষণ দুষ্টুমি করে। সাহেরার সাথে এটা নিয়ে ওটা নিয়ে লেগে থাকে। দেখলে তো? এই কয়েকদিনে মেয়েটা কতো চঞ্চল হয়ে গেছে?”

ববি পেছনের চুল গুলো টেনে হালকা হেসে বলল,,

“ঐ আর কি!”

জিনিয়া আহমেদ প্রসঙ্গ পাল্টে হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে বললেন,,

“ববি। তোমার মামু বলেছেন একবার উনার সাথে দেখা করতে। উনি এখন অফিসে আছেন। কিছু একটা জরুরী কথা আছে। ফ্রেশ হয়ে একটু কষ্ট করে উনার অফিসে যেও কেমন?”

ববি মাথা নাঁড়িয়ে সম্মতি জানালো। দ্রুত পায়ে হেঁটে ববি রুমে প্রবেশ করল। ববিকে দেখা মাএই লিলি কোঁমড় থেকে আঁচলটা টেনে তাড়াহুড়ো করে মাথায় বড় ঘোমটা টেনে শুকনো ঢোক গিলে খাতায় উল্টো পাল্টা রো, কলাম টানতে শুরু করল। ববি চোখ লাল করে লিলির দিকে তাকাতেই লিলি নিচের দিকে তাকিয়ে উল্টো পাল্টা রো, কলামেই নগদান বই করতে আরম্ভ করল। জেদ দেখিয়ে ববি শার্ট টা গাঁ থেকে খুলে ওয়াশরুমে ঢুকল। স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে লিলি মাথা থেকে ঘোমটা টা সরালো। পেইজ উল্টে আবার নতুন করে খাতায় রো, কলাম টানল। ফ্রেশ হয়ে ববি কিছুক্ষনের মধ্যে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে টেবিল টেনে লিলির পাশে বসতেই লিলি দ্বিগুন কেঁপে নিচের দিকে তাকিয়ে কলম কামঁড়াতে শুরু করল। ববি সামনের ভেজা চুল গুলো টেনে একটু ঝুঁকে লিলিকে কিছু বলতে যাবে তন্মধ্যে ববির ফোনে রিং বেজে উঠল। প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটা হাতে নিতেই ববি স্ক্রীনে সোনিয়া আহমেদের নাম্বারটা দেখে চোখে, মুখে বিরক্তি নিয়ে ফোনটা টেবিলের উপর রেখে চেয়ারে মাথা এলিয়ে বলল,,

“ধ্যাত। কলটা রিসিভ করলেই এখন এই মহিলা আমার মাথাটা নষ্ট করে দিবে। বার বার একই কথা রিপিট করে বলবে রেশমি, রনককে পড়াতে!”

লিলি ভয়ার্ত চোখে ববির দিকে তাকিয়ে ছোট আওয়াজে বলল,,

“কলটা আমি রিসিভ করি ববি? চাচীর সাথে একটু কথা বলি?”

ববি চোখ রাঙ্গিয়ে লিলির দিকে তাকিয়ে বলল,,

“উনার কু পরামর্শ গুলো শুনতে খুব ভাল্লাগে না? উনার কথায় তাল মিলিয়ে আমাকে ভুল বুজতে ও খুব ভাল্লাগে না?”

লিলি কাঠ কাঠ গলায় বলল,,

“আচ্ছা, স্যরি। আর বলব না।”

“কন্সেন্ট্রেট টু দ্যা ম্যাথ। ওকে? আজ যদি এই ম্যাথটাতে এক ফোঁটা ভুল ও পাই না, সত্যি বলছি কান ধরে আজ দুশত বার উঠ বস করাব।”

লিলি ভয়ে চোখে জল নিয়ে বলল,,

“ম্যাথটা এখনো কমপ্লিট হয় নি ববি। আজকের জন্য আমাকে ছাড় দিন প্লিজ। আ’ম সো স্যরি।”

“কেনো কমপ্লিট হয় নি? কেনো? সারাদিন বাড়িতে কি করো? আম্মুকে অযথা জ্বালাও?”

“সারাদিন বাড়িতে অবসর থাকি বলে কি সারাক্ষণ আমাকে পড়তে হবে? ম্যাথ নিয়ে বসে থাকতে হবে? সবার সাথে একটু মিশতে হবে না? কথা বলতে হবে না?”

ববি কাঠের স্কেলটা হাতে নিয়ে লিলির দিকে তাক করে চোখ লাল করে বলল,,

“আর মাএ ৫ দিন পরই তোমার রেজাল্ট পাবলিশ হবে। তারপরই শুরু হবে কলেজে ভর্তি হওয়ার কম্পিটিশান। আগে থেকে প্রিপারেশান নিয়ে রাখলে প্রবলেম কি তোমার? লেট মি আনসার, কোন প্রবলেমটা হয় তোমার?”

লিলি কাঠ কাঠ গলায় বলল,,

“রেজাল্টের উপর নির্ভর করেই তো কলেজে এডমিশন হবে ববি। এতে এতো প্রিপারেশানের কি আছে? আমার রেজাল্ট ভালো হলেই তো হলো!”

ববি লিলির ডান হাতটা চেঁপে ধরে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল,,

“এডমিশানের পর ক্লাস হবে না? এক্সাম হবে না? পড়তে হবে না? আগে থেকে ম্যাথ গুলোর ধরণ সম্পর্কে আইডিয়া থাকলে কি হয় তোমার? মহা ভারত অশুদ্ধ হয়? এই ঘিলু নিয়ে তুমি স্বপ্ন পূরণ করবে হুম? এই ঘিলু নিয়ে?”

লিলি শুকনো মুখে বলল,,

“আচ্ছা বুঝেছি। হাতটা ছাড়ুন। আমি ম্যাথটা করছি। এই সুযোগে আপনি একটু রেস্ট নিন। ক্লান্ত লাগলে বলুন, ব্ল্যাক কফি করে দিচ্ছি।”

ববি লিলির হাতটা ছেড়ে শার্টটা গাঁয়ে জড়িয়ে লিলির দিকে ঝুঁকে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল,,

“আমি মামুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। জাস্ট দশ মিনিটের মধ্যে ব্যাক করছি। এসে যেনো দেখি পুরো ম্যাথটা কমপ্লিট হয়ে গেছে। কোনো রকম ভুল ক্রুটি ছাড়াই।”

লিলি আচমকা ববির ডান গালে টুপ করে একটা চুমো খেয়ে মুখ ফুলিয়ে বলল,,

“এবার তো শান্ত হউন। সবসময় এভাবে রেগে থাকেন কেনো? আমার সাথে একটু সফট বিহেভ করতে পারেন না?”

ববি কিছুক্ষন নিষ্পলক দৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকিয়ে হুট করে লিলির দিকে ঝুঁকে লিলির ঠোঁট জোড়া আঁকড়ে ধরল। লিলি মুচকি হেসে ববি শার্টের কলার চেঁপে ধরল। লিলি ও খুব ফিল করছে ববিকে। বেশ কিছুক্ষণ পর ববি লিলির ঠোঁট জোড়া ছেড়ে লিলির ভেজা ঠোঁট দুটো মুছে দিয়ে ম্লান স্বরে বলল,,

“ম্যাথটা ঠান্ডা মাথায় করো। আমি ১০ মিনিটের মধ্যেই আসছি।”

#চলবে….?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here