দ্বিতীয় জন 💔,04,05

দ্বিতীয় জন 💔,04,05
Tanzin Hasan Maya
পর্ব চার

রায়ানের মৃত্যুর খবর শুনে হিমু খুশি হবে নাকি কষ্ট পাবে বুঝে উঠতে পারলো না। এই অবস্থায় রায়ানে ফুফুকেই বা কি বলবে সেটাও ঠাওর করতে পারলো না। হিমুকে চুপচাপ থাকতে দেখে ওপাশ থেকে রায়ানের ফুফু বললেন-
-‘বাবা তুমি যদি ওকে শেষ বারের মতো ওকেশদেখতে চাও তাহলে আর দেরি না করে এক্ষুনি চলে এসো।’

হিমু দ্বিধায় পড়ে গেলো। সে কি করবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। হঠাৎ এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হবে সে কখনো ভাবতেও পারেনি। সে চিন্তা করতে লাগলো কি করা উচিত!

অথচ এতোদিন ও যতোবারই বর্ষার মুখ দেখেছিলো ততোবারই রায়ানের মৃত্যু কামনা করেছিলো। কিন্তু আজ সেই বিষয়টাই ওকে কত্তো ভাবাচ্ছে! কি অদ্ভুত! তবে এর পেছনে একটি কারন আছে। হিমু ছোটবেলা থেকেই খুব উদার প্রকৃতির। কারো উপরে খুব বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারেনা। তা সে যতো বড় শত্রুই হোক না কেন!

শেষে হিমু রায়ানের ফুফুর কাছ থেকে এড্রেস টা নিয়ে রওনা দিলো। সে যখন রওনা দেয় তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হতে শুরু করেছে। চার-পাঁচ ঘন্টার রাস্তা। যেতে যেতে রাত প্রায় এগারোটার মতো বেজে যাবে। তবু সে কোন চিন্তা ভাবনা না করেই ভাবলেশহীন ভাবে যেতে লাগলো।

মানুষ বেঁচে থাকতে যতো বড়ই শত্রু থাকুক না কেনো, মারা গেলে তার শত্রুতা টা অটোমেটিক ভালোবাসা আর ক্ষমায় পরিনত হয়ে যায়। যেটা এখন হিমুর ক্ষেত্রেও হয়েছে।

বর্ষা আজ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় ছিলোনা। হিমু বাসা থেকে বের হওয়ার পর পরই সেও বাসা থেকে বের হয়েছিল।

সন্ধ্যার পর বর্ষা রুমে এসেই হিমু কে চাতক পাখির মতো হন্য হয়ে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও যখন দেখতে পেল না তখন সে রেগে আগুন হয়ে গেল। এতোটাই রাগান্বিত ও বিষন্ন হয়ে গেল যে ওকে আগে কখনো এমন রাগান্বিত ও বিষন্ন হতে দেখা যায়নি।

হিমু বাইকে থাকার কারনে কারো ফোনই রিসিভ করছেনা। এমনকি বর্ষা যে ওকে সন্ধ্যার পর থেকে লাগাতা ফোন করেই যাচ্ছে তবু তার সেদিকে খেয়াল নেই। এতে বর্ষার রাগ ও দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে যেতে লাগলো।

হিমু যখন রায়ানের বাসায় পৌঁছুলো তখন রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি। সে কলিংবেলে একবার চাপ দিতেই একজন মধ্যবয়সী মহিলা এসে গেইট টা খুলে দিলো। হিমু এতোটাই গভীর চিন্তায় মগ্ন ও উদাসীন হয়ে ছিলো যে একটা মরা বাড়িতে কি পরিমান লোকজন থাকা স্বাভাবিক সে সেটাও মাথায় আনলোনা। বাসার ভেতরে যখন সে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন মানুষকে দেখতে পেলো তখন সে ভাবলো হয়তো গভীর রাত হওয়ার কারনে যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়েছে।

হিমুর সাথা থাকা মহিলা টি একটা রুম দেখিয়ে দিয়ে বলল- -‘লাশ ঐখানে আছে।’
হিমু ওনার কথা শোনা মাত্রই খুব দ্রুত গতিতে রুমের দিকে যেতে লাগলো।

রুমের ভেতরে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলো সেটা দেখার জন্যে সে মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ইয়াং ছেলে হয়েও তার হার্টবিট বিদ্যুত বেগে বেড়ে যেতে লাগলো। যদিও সে অনেক সাহসী একটা ছেলে তবুও তার গা ঘেমে পরে যেতে লাগলো। সে ঢোক গিলতে গিলতে বলল-
-‘একি আপনি, এটা কি করে সম্ভব?’
হিমু বর্ষার ফোনে বহুবার রায়ানের পিক দেখেছিলো। তাই ওকে চিনতে একটুও দেরী হলোনা।

রায়ান ভিলেনী একটা হাসি দিয়ে বলল-
-‘কেনো খুব কষ্ট পেলে বুঝি?’
-‘না ঠিক কষ্ট বলল ভুল হবে, অনেক বড় একটা ধাক্কা খেলাম, এর জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না!’

রায়ান হিমুর কথা শুনতে শুনতে ওর দুই চেলাকে চোখ দিয়ে ঈশারা করলো। ওরা দুজন ঈঙ্গিত পাওয়া মাত্রই হিমুকে একটা চেয়ারে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলল। হিমু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে হয়তো এতোটা সহজে ওকে বেঁধে ফেলা যেতোনা। কিন্তু ও এতোটাই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলো যে নিজেকে সামলে নেওয়ার আগেই ওরা এসে ওকে বেঁধে ফেলেছে।

এমন আকস্মিক ঘটনার সাথে ও নিজেকে মানিয়ে নিতে নিতে রায়ানের প্ল্যান অলরেডি অর্ধেক সাকসেস্ ফুল হয়ে গেছে। একটানা দীর্ঘ পথ জার্নি, তার উপরে আবার এতো বড়ো একটা শক্। হিমুর সব কিছু মাথার উপর দিয়ে যেতে লাগলো।

কয়েক মিনিট পর হিমুর ব্রেইন নরমাল হয়ে আসলো। সে এতোক্ষণ কিছু না বলেই শুধু ফ্লোরের দিকে মাথা নিচু করে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। মাথা উঁচু করে রায়ানের দিকে তাকাতেই রুমে আরো ছয় সাত জন ছেলেকে দেখতে পেলো। ওদের চেহারা দেখে হিমুর কিছু বুঝতে বাকি রইল না। ও এবার রায়ানের চাল সম্পর্কে অনেকটায় আন্দাজ করতে পারলো।আর নিজের বোকামির জন্য অনুশোচনা করতে লাগলো।

হিমু বুঝতে পারলো বেশি রাগান্বিত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় মানুষের বিচার বুদ্ধি সঠিক ভাবে কাজ করেনা। যে ভুলটা ও অলরেডি করে ফেলেছে।

সবার নিরবতা ভেঙে রায়ান হিমুকে উদ্দেশ্য করে বলল-
-‘তো আসল কথায় আসা যাক। যার জন্য আমায় এতো নাটক সাজাতে হলো।’
হিমু অগ্নি দৃষ্টিতে রায়ানের দিকে তাকালো।
হিমুকে জব্দ করতে পেরে রায়ান মনে মনে নিজের বুদ্ধির তারিফ করতে লাগলো। তারপর বিজয়ের ভঙ্গিতে কথা বলতে শুরু করল-
-‘বর্ষার সাথে আমার তিন বছরের রিলেশন। যতোটা সময় ওর পেছনে নষ্ট করেছি তার অর্ধেক সময় ও অন্য কারো পেছনে দিতে হয়নি। তবু ওকে আমি খেতে পারলাম না। আর শালা তুই কিনা তার আগেই ওর সবকিছু খেয়ে ফেললি? তাও আবার একদিনেই? আজিব মানুষ রে ভাই তুই!!! তবে তুই কি জানিস- শুধু তোর জন্য আমি আমার এতো দিনের প্ল্যান টা সাকসেস্ ফুল করতে পেরেও পারলাম না?’

একটু চুপ থেকে আবার বলা শুরু করলো-
-‘কিন্তু চিন্তা করিসনা। এখন সময় এসেছে সব কিছু নিজের মতো করে বুঝিয়ে নেওয়ার। so…
অনেক সময় নষ্ট করেছি শালীর পেছনে। আর না। আর এক সেকেন্ড সময়ও ওর পেছনে নষ্ট করতে চাইনা!!’
হিমু চেঁতে উঠে রায়ানকে বলল-
-‘তোর যা বোঝাপড়া করার দরকার তা আমার সাথে কর। এর মধ্যে কোন ভাবেই বর্ষাকে টানবিনা!’
রায়ান তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল-
-‘বর্ষার জন্যই তো তোকে এনেছি। আর সেই বর্ষাকে নিয়েই কোন কথা বলতে পারবোনা???’ বলেই সজোরে একটা ভিলেনী হাসি দিলো।

রায়ান হিমুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল-
-‘এখন যা বলবো তা যদি ভালোই ভালোই শুনিস তো ভালো! আর যদি না শুনিস তাহলে কিন্তু বেঁচে ফিরতে পারবিনা।’

হিমু বুঝতে পেরেছে রায়ান কি চায়। কিন্তু সেটা মেনে নেওয়া ওর পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। রায়ান হিমুর মাথার চুল গুলো মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে বলল-
-‘তুই তোর নাম্বার থেকে এখনই বর্ষাকে ফোন করে বলবি যেনো ও ভোরে উঠেই এখানে আসার জন্য রওনা দেয়।’

হিমুর ভেতর রাগে আর অনুশোচনায় দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো। বর্ষার সাথে ওর চার বছরের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সেসময় কোন ছেলে ওর দিকে তাকালেই হিমু তার চোখ তুলে ফেলার উপক্রম করতো। আর এখন তো বর্ষা ওর বউ। হিমু কল্পনাতেও মেনে নিতে পারবে না, যে বর্ষার সাথে কেউ কিছু করুক।

হিমু এসব ভাবতে ভাবতে রায়ানের দিকে তাকালো। ওর মুখে পরিতৃপ্তির হাসি লেগে আছে। হিমু বুঝতে পারলো রায়ান খুব নিখুঁত ভাবে এই প্ল্যান টা সাজিয়েছে। কোন ফাঁক ফোকর রাখে নি।

হিমুকে চুপ থাকতে দেখে রায়ান হিমুর মাথার চুল ধরে জোরে এক টান দিয়ে বলল-
-‘তুই কি বলবি নাকি তোকে পড়া পানি খাওয়াতে হবে?’

হিমু রাগে চিৎকার করে বলল-
-‘আমার জীবন থাকতে আমি একাজ করতে পারবোনা।’
-‘ও আচ্ছা! তাহলে তো দেখছি সোজা আঙুলে ঘি উঠবেনা!’

বলেই রায়ান দুই জন চেলাকে চোখের ঈশারা করলো। হিমুকে একটা চেয়ারে বসিয়ে রেখে হাত পা বেঁধে রাখা ছিলো। ওরা দুইজন হিমুর কাছে গিয়ে ইচ্ছা মতো চড় থাপ্পর মারতে লাগলো। হিমু রাগে নিরুপাই হয়ে চুপ চাপ সহ্য করে যাচ্ছিল। কয়েক মিনিট এরকম কিল ঘুষি খাওয়ার পরও যখন হিমু রাজি হচ্ছিলো না, তখন রায়ান একটা মোটা রড দিয়ে ওকে বেধরক মারতে লাগলো। ও চেয়ার থেকে বাঁধা অবস্থায় পরে গেলো।

ও দাঁতে দাঁত চেপে চুপচাপ সহ্য করতে লাগলো। একটুপর ও চোখ বন্ধ করে ফেলল। বৃষ্টির মতো গায়ে বারি পরতে আছে। এখন রায়ানের সাথে আরও দুইজন যোগ দিয়েছে। চোখ বন্ধ করতেই ওর সামনে বাবা-মা, বর্ষা সবার মুখচ্ছবি ভেসে উঠতে লাগলো।

ও এমন পরিস্থিতিতে পরে গেছে যে না পারছে সহ্য করতে আর না পারছে মেনে নিতে।

হিমু মনে মনে ভাবতে লাগলো কোন পাপের কারনে আজ তাকে এতোটা শাস্তি পেতে হচ্ছে?? কিন্তু কিছুতেই সে ভেবে মেলাতে পারলো না।

ছোটবেলা থেকেই হিমু অনেক লাজুক আর শান্ত প্রকৃতির ছিলো। কেউ মুখের উপরে গালি দিলেও সে মুখ ফুটে কিছু বলতোনা। কখনো কারো সাথে উচ্চস্বরেও কথা বলতো না। বড়দের সামনে কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতো না। এই কারনে পরিবারের সবাই ওকে একটু বেশি ভালোবাসতো। ওকে এতোটাই বেশি ভালোবেসে বড় করেছিল যে ওর গায়ে ফুলের টোকা পর্যন্ত লাগতে দেইনি।

আর আজ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! সেই ওকেই এতোটা অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। এর পেছনে অবশ্য বর্ষাই দায়ী।

হিমুর সাথে গায়ে পড়ে বন্ধুত্ব করা। বর্ষা অনেক বেশি সুন্দরী আর আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারনে হিমু ওর প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয়ে বর্ষাকে জানাতে পারেনি। এদিকে রায়ানের সাথে বর্ষার গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পরা দেখে হিমুও মেনে নিতে পারছিলো না। এতে করে সে সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে কঠিন হয়ে যেতে লাগছিলো।

অবশেষে একদিন সাহস করে বর্ষাকে তার ভালোবাসার কথাটি জানিয়ে দেয়। কিন্তু বর্ষা রায়ানের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরায় হিমুকে রিজেক্ট করে দেয়। তারপর থেকে হিমু অনেকটা চেইন্জ হয়ে গেছে।

প্রচণ্ড আঘাতে হিমুর কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। তৃষ্ণায় সে ছটফট করতে লাগলো। রক্তে সমস্ত শরীর লাল হয়ে গেছে। হিমুর মুখ দিয়ে লালার সাথে রক্তও পড়ছে। সে অস্পষ্ট ভাবে রায়ানকে পানির কথা বলল। কিন্তু রায়ান কথাটা শুনেও কানে নিলো না। বরং আরো বেশি বেধরক ভাবে পেটাতে লাগলো। একটু পর হিমু অজ্ঞান হয়ে গেল।

রায়ান টানা তিন ঘন্টা মারার পর এবার থামলো। কারন ও অনেকটা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই ওর দলবল নিয়ে রুমে তালা মেরে চলে গেলো।
বাসাটা ছিল রায়ানের ফুফুর। ঢণাঢ্য বাবার একমাত্র কন্যা সন্তান হওয়ায় উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার অনেক সম্পত্তি লাভ করেছিলো। বিয়ের পর নিজের টাকায় এই বিলাস বহুল বাড়িটি তেরি করেছিলো । ফলে আত্ম অহংকারে স্বামীকে তেমন মূল্যায়ন করতো না।

একজন পুরুষ হয়ে তিনি সেটা মেনে নিতে পারেন নি। তাই তিনি তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য এক মহিলা কে বিয়ে করে ফেলেন। তার পর থেকে রায়ানের ফুফুর জীবন আরো উগ্রবাদী হয়ে যায়। একাধিক পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক, নেশা করা থেকে শুরু করে বাসার মধ্যে পতিতালয় পর্যন্ত বানিয়ে ফেলা, সবই তিনি করেছেন।

আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে রায়ান। ওর যতো অপকর্ম সব এই বাসাতেই সংঘটিত হয়।

খুব ভোরে হিমুর ঘুম ভাঙলো। ধীরে ধীরে চোখ মেলাতেই সে নিজেকে একটি অপরিচিত রুমে আবিষ্কার করলো। অনেক পরিপাটি গোছানো একটা রুম। দুধের মতো সাদা ধবধবে নরম বিছানায় সে শুয়ে আছে। ওর শরীরের সব রক্ত, ধুলো-ময়লা পরিস্কার হয়ে গেছে। ও অবাক হয়ে গেলো। তাড়াহুড়া করে কোন রকমে উঠে বসার চেষ্টা করতেই একটি মেয়ে বাহির থেকে ছুএ এসে ওক ধরে বলল-
-‘আপনার শরীরে এখন অনেক ক্ষত। প্লিজ ওঠার চেষ্টা করবেন না। যা কিছু দরকার পরবে আমায় নির্দ্বিধায় বলবেন। আর আপনি এখানে একদম নিরাপদ। কোন প্রকার ভয় ভীতি বা দুশ্চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই।’

হিমু কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল-
-‘পানি হবে….
মেয়েটি খুব দ্রুত গতিতে পানি আনতে বাহিরে চলে গেলো। মেয়েটার বয়স খুব জোর একুশ কি বাইশ হবে। হালকা পাতলা দেহের গড়ন। হিমু ওর যাওয়ার পথের দিকে চেয়ে রইল।

রায়ানের যখন ঘুম ভাঙলো তখন দুপুর দুইটা। বরাবরের মতোই সে চোখ না মেলিয়েই ফোনটা হাতে নিলো। একটু পর পুরোপুরি ঘুম কেটে গেলে ফোন চাপতে লাগলো।
ফোনের লক খুলতেই মেসেন্জারে আননোন আইডি থেকে একটি ভিডিও দেখত পেলো। ওপেন করে এক মিনিট না দেখতেই সে পুরো থ মেরে গেলো। ওর হাত পা কাঁপতে লাগলো। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে লাগলো। ও নিজেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না।

To be continue…..

দ্বিতীয় জন 💔
Sumana Yeasmin
পর্ব পাঁচ (নতুন সংস্করণ)

ভিডিওতে রায়ান তার নিজের ফুফুকে ফ্লোরে পরে থাকা অবস্থায় দেখতে পেলো। গোটা শরীরে তার আঘাতের চিহ্ন। ক্ষত বিক্ষত হয়ে আছে তার মুখ। রায়ান পুরো ভিডিও টা শেষ করতে পারলোনা। তার আগেই চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়তে লাগলো। হার্টবিট বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে গেলো যে সে নিশ্বাস নিতে পারলো না। নেশার ঘোর অলরেডি কেটে গেছে।

রায়ান ধরফর করে বিছানা থেকে উঠে ওর ফুফুর নাম্বারে কল দিলো। কয়েকবার কল হওয়ার পর রিসিভ হলো। রায়ান কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল-
-‘হ্যালো ফুপি?’
-‘ফুপির সাথে তো অনেক কথাই বলেছিস এখন আমার সাথে একটু বল!’
-‘বর্ষা তুমি?’
-‘হ্যাঁ আমি! কেনো খুব কষ্ট পেলি মনে হচ্ছে?’
রায়ান চুপ করে আছে। ওর মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। ও কি বলবে বুঝতে পারছে না।

একটু পর বর্ষা রাগান্বিত হয়ে বলল-
-‘তুই শুধু একাই চাল চালতে জানিস? আর মানুষ কিছুই করতে জানেনা?’
-‘বর্ষা প্লিজ তোমার যা করার আমার সাথে করো! এর মধ্যে আমার ফুফুকে টানিওনা।’
-‘চুপ কর শুয়োরের বাচ্চা। তুই তাহলে হিমুকে ক্যান টানলি আমাথ সাথে বোঝাপড়া না করে? তাও আবার কাপুরুষের মতো মিথ্যা নাটক সাজিয়ে?’
-‘তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও বর্ষা।’
-‘ক্ষমা তো তোকে করবোই। তবে সেটা কড়াই-গন্ডাই হিসাব মিটিয়ে!’

রায়ান ছোট বাচ্চাদের মত কান্না করতে লাগল। তার হাতে করার কিচ্ছু নেই। সে নিরুপাই। জীবনে সে অনেক সারপ্রাইজ পেয়েছে, নানা ভাবে অনেক কষ্টও পেয়েছে কিন্তু সেটা আজকের মতো না। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে বর্ষা এতটা হিংস্র হতে পারে!

নিরবতা কাটিয়ে বর্ষা বলল-
-‘তুই আমার হিমুকে যে আঘাত করেছিস, সে আঘাত ওর শরীরে না যতোটা লেগেছে তার চেয়েও দশ গুণ বেশি আমার শরীরে লেগেছে! তুই কি বলতে পারিস সেটা আমি কতোটা কষ্টে সহ্য করেছি?’

রায়ান চুপচাপ থ মেরে আছে। বর্ষা ওকে চুপ থাকতে দেখে আরো বেশি রাগান্বিত হয়ে উঠলো। রাগী কন্ঠে চাপা গলায় বলল-
-‘তুই বলতে পারবিনা। কারন তুই সেরকম পরিস্থিতির স্বীকার এখনো হোসনি। তবে খুব শীঘ্রই হবি।’
-‘প্লিজ বর্ষা তুমি এমন টা করিওনা। আমি আর নিতে পারছিনা এই বিষয়টা!

হাজারো হোক রায়ান ছেলে মানুষ। স্বাভাবিক ভাবেই একটা মেয়ের কাছে এমন ছোট হয়ে যাওয়া সে মেনে নিতে পারছে না। তার উপরে আবার বর্ষা তার একদম দূর্বল জায়গায় আঘাত করেছে। সে রাগে চেঁতে উঠতে লাগলো। কিন্তু তাতে কোন লাভ নেই জেনে সে চুপ হয়ে থাকলো। সে এখন নিরুপাই। তবু শেষ ভরসা হিসেবে রায়ান হিমুর রুমের দিকে যেতে লাগলো। যদি হিমুকে দিয়ে কিছু করা যায়। কিন্তু রুমের দরজা খুলে হিমুকে দেখতে না পেয়ে সে আরো বেশি অবাক হয়ে গেলো।

রায়ান নড়াচরা করার মতো কোন শক্তি পেলো না। বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। সবকিছু ওর মাথার উপর দিয়ে যেতে লাগলো।

এদিকে বর্ষা ওর অবস্থাটা আন্দাজ করতে পেরে সজোরে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল-
-‘তুই মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানুষকে বোকা বানাতে পারিস, কিন্তু মানুষ কি তোকে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে বোকা বানাতে পারেনা, তাইনা? তুই শুধু একাই দাবার চাল টা দিতে পারিস?
রায়ান এখনো চুপ। ওর মুখ দিয়ে কোন কথা বেরুচ্ছে না।

বর্ষা আবার বলতে শুরু করলো-
-‘আমি তোকে এমন শিক্ষা দিবো যে তুই সারাজীবনের জন্য আমার নাম ভুলে যাবি।’

বর্ষা এতো বেশি রেগে যেতো না। প্রথমত হিমুকে ব্লাকমেইল করে বেধড়ক পিটিয়েছে তার উপরে আবার ওর সাথে ফিজিক্যালি রিলেশন করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

সে কারনে ও অগ্নি মূর্তি হয়ে আছে। রায়ানকে চুপ থাকতে দেখে ও রায়ানের ফুপির হাতের একটা নখ প্লাস দিয়ে টেনে তুলে ফেলতে লাগলো! ওর ফুপি গোঙাতে আছে। রায়ানের কলিজা ফেটে যেতে লাগলো। বর্ষা রায়ানকে বলল-
-‘তোকে তো আর একটা সারপ্রাইজ দেই-ই নি। তোর ফুপিকে কয়েক টা ছেলে দিয়ে রেইপ করে নিয়েছি।। ভাবছি তোর সামনে আর একবার করে নিবো, কেমন হবে বলতো?’
রায়ান আর সহ্য করতে পারলোনা। ও রাগে চিৎকার করে বলল-
-‘তুই কোথায় আছিস আমায় ঠিকানা টা বল। তোর কতো সাহস আছে আমার সাথে লাগ!’
ওর কথা শুনে বর্ষা সজোরে হাসতে হাসতে বলল-
-‘তোর মতো কাপুরুষের সাথে আমি কেমনে লাগবো রে ভাই? যে তুই আমার হিমুকে কব্জা করার জন্য মিথ্যা নাটক সাজাস, যে তুই আমার হিমুকে মারার জন্য দশ বারোটা টোকাই ভাড়া করিস, সেই তোর সাথে আমি কেমনে লাগবো বল? আমার খুব ভয় লাগছে রে…..
কথাটা বলেই বর্ষা আবার হেসে কুটিকুটি হতে লাগলো
রায়ানের সহ্য ক্ষমতা শেষ । কিন্তু তবু সে ফোন টা রাখতে পারছে না। বর্ষা এবার হাসি থামিয়ে বলল-
-‘তোর ফুপির দুই হাতের দশটা নখই তুলে নিয়েছি। ব্লেড দিয়ে দুই পা কেটে কেটে দিয়েছি। ভাবছি এতেও কি তোর পেট ভরেছে নাকি আরো কিছু করবো? তুই এক কাজ কর! আমি এড্রেস লিখে দিচ্ছি সেই ঠিকানাই তুই একাই চলে আয়।
-‘আর হ্যাঁ, আমি যা যা করতে বলবো তুই তাই তাই করবি ।নয়তো তোর ফুপিকে একদম প্রানে মেনে ফেলবো।’

রায়ান কোন কিছু না ভেবেই পাগলের মতো ঠিকানা অনুযায়ী যেতে লাগলো।

রায়ান কিছুতেই মেলাতে পারছেনা যে এই কি সেই বর্ষা যার সাথে সে এতোদিন কথা বলেছে। বর্ষাকে সব সময় অনেক শান্ত শিষ্ট আর ভদ্র মনে হয়েছে। ওর এতো সুন্দর মুখের আড়ালে যে এতোটা হিংস্রতা থাকতে পারে জানলে সে কখনোই হিমুর সাথে লাগতে যেতোনা।

রায়ান ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে দেখলো একটা ছোট পুরোনো বাড়ি। সামনে দুইজন হাবিলদার। সে বর্ষার নাম্বারে কল দিতেই একটা ছেলে এসে ওকে চেক করে ভেতরে নিয়ে গেলো। রুমের ভেতরে রুম। দুইটা রুম পেরিয়ে সে কাঙ্খিত রুম টি দেখতে পেলো। বর্ষা একটি চেয়ারে বসে আছে। ওর সাথে ওর ফুফুর বাসার কেয়ার টেকার মহিলাটিকেও দেখতে পেলো। আশে পাশেই কয়েকজন ছেলেও বসে আছে। আর ওর ফুফু ফ্লোরে পরে আছে রক্তাক্ত অবস্থায়।

রায়ানকে উদ্দেশ্য করে বর্ষা বলল-
-‘তোর ফুফু বহুক্ষণ থেকে পানি চাচ্ছিলো। কিন্তু কি করবো বল? এখানে তো কোন বাড়তি পানি নেই।
রায়ান ওর ফুফুর দিকে তাকাতে পারছেনা। চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বর্ষা উঠে ওর কাছে গিয়ে বলল-
-‘তোকে যদি এখন আমি এদের দিয়ে পিটিয়ে নেই তাহলে তুই কয়েকদিন পর আবার সুস্থ হয়ে যাবি। তারপর আবার নরপশু হয়ে উঠবি। কিন্তু আমি তোর এমন কিছু একটা করতে চাই যাতে তুই আর কখনো খারাপ কিছু করতে না পাস! কোন মেয়ের সাথে টাইম পাস-সেক্স করতে না পাস। ঠিক বাঁচা মরার মাঝামাঝি অবস্থায় তোকে রাখতে চাই।

কথাটা বলেই বর্ষা ওর মাথার চুল থেকে কাঁটা টা বের করে হাতে নিলো। তারপর রায়ানকে ওর দিকে তাকাতে বলল। রায়ান ওর দিকে তাকাতেই ও কাঁটা টা রায়ানের চোখে ঢুকিয়ে দিলো।। রায়ান চোখে হাত দিয়ে চিৎকার করতে করতে ফ্লোরে বসে পরলো। বর্ষা ওর মাথার চুল টেনে ধরে বলল-
-‘এতোদিন তুই অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছিস। তাও আবার তাদের সতীত্ব হরন করে। আজ আমি তাদের সবার হয়ে তোকে এই উপহার টা দিলাম।’

To be continue…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here