গল্প :-রহস্যময় মেয়ে,পর্ব :- ০৬

গল্প :-রহস্যময় মেয়ে,পর্ব :- ০৬
Writing by Kabbo Ahammad
.
.
-:”হাত থেকে রিভলবার টা নিয়ে নিলো। এরপর হাতটা পেছন দিকে বেঁধে দিলো। পেছনে তাকাতে চাইতেই আমার চোখেও কাপড় দিয়ে বেঁধে দিলো। মুখে কাপড় বাঁধলো যাতে চিৎকার করতে না পারি। আমি দেখতে ও পারছি না কথা ও বলতে পারছি না। কিন্তু এটা বুঝলাম এখানে ২/৩ জন লোক রয়েছে যারা আমায় বন্দি করেছে। এর পর আমাকে টানতে টানতে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। আমি ছটফট করছি কিন্তু বেরোতে পারছি না।

যখন বুঝতে পারলাম এভাবে হবে না,মাথা খাঁটিয়ে এখান থেকে বেরোতে হবে,তখন থেকেই অনুমান করতে লাগলাম আমি কতোটা হাঁটছি আর কত সময় ধরে হাটছি। আমাকে কোনদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রায় ২০ মিনিট ধরে হাটছি মনে হচ্ছে ক্রমেই কোন জঙ্গলের ভেতরে যাচ্ছি। পায়ের নিচের শুকনো পাতার মচ মচ আওয়াজ হচ্ছে। হঠাৎ সবাই দাঁড়িয়ে গেলো।দরজা খুলার মতো শব্দ হলো। আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিলো। এবার পা টাও বেঁধে দিলো। এতক্ষনের মাঝে কারো মুখ থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম না। মনে হয় আগে থেকেই প্লেন করে রেখেছিলো।

ওরা আমাকে একটা রুমে রেখে দরজা বন্ধ করে চলে গেলো। পুরো রুমে একটা অদ্ভুত পঁচা গন্ধ ছড়িয়ে পরেছে। বেশ বমি বমি পাচ্ছে আমার। মনে হচ্ছে পাতালপুরীতে চলে এসেছি। কোন ভাবে নিজেকে সামলে নিলাম। কিসের গন্ধ সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি কিছুক্ষন একেবারে চুপ করে ছিলাম যাতে বুঝতে পারি ওরা চলে গেছে কিনা। অনেক্ষণ পর মনে হলো সবাই আমাকে রেখে চলে গেছে। কিন্তু আমি নিশ্চিৎ নই। তাই নিজের শরীর টাকে অনেক কষ্টে টেনে দরজার কাছে নিয়ে গেলাম। বাঁধা দুটো পা একসাথে দরজার দিকে ছুড়ে দিচ্ছিলাম। ফলে দরজায় জোরে শব্দ হতে লাগলো। অনেক্ষণ এমন করার পর ও কেউ এলো না। আমার হাতে এটাই সুযোগ।

আমার পড়নে ছিল জিন্স প্যান্ট আর জামা। প্যান্টের পকেটে সবসময় নিজের সেফটির জন্য একটা জিনিস রাখতাম। আর সেটা হলো ছুরি। হ্যাঁ,ইশানের রিভলবারের সাথে আমি এই ছুরি টাও নিয়েছিলাম। এমন বিপদের আশঙ্কা আমার আগেই ছিল তবে ভাবিনি প্রথম দিনই আমাকে এরা এভাবে বন্দি করে নেবে।

হাতটা পেছন থেকে ক্রসের মতো করে বাঁধা। আমার ছুরিটা ছিল বাম পকেটে। তাই দুটো হাত একসাথে করে বামদিকে পকেটের কাছে নিয়ে যেতে পারলেও ছুরিটা বের করতে পারছিলাম না। অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু হচ্ছে না। বার বার চেষ্টা করছি কিন্তু কিছুতেই পারছি না। হঠাৎ কোথা থেকে শিউলি ফুলের গন্ধ ভেসে এলো। আর পচা গন্ধ টা গায়েব। আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম।এখানে শিউলিফুলের গন্ধ টা কিভাবে এলো? ঠিক তখনি মনে হলো আমার পকেটে কিছু নাড়াচাড়া করছে। আমি আবার চেষ্টা করতেই ছুরিটা হাতের নাগালে চলে এলো। আমি আর শিউলিফুলের গন্ধ নিয়ে ভাবলাম না। আগে আমাকে এখান থেকে বেরোতে হবে।

আমি কোনভাবে চাকুটা হাতে নিয়ে হাতের রসি কাটতে লাগলাম। এক সময় কেটে গেল। হাতের বাধন খুলে আমি চোখ মুখ ও পায়ের বাঁধন খুললাম। নিজেকে একটা অন্ধকার বন্ধ ঘরে আবিস্কার করলাম। মোবাইল টা থাকলে ভালো হতো..ধুর সেই যে চার্জে বসিয়েছিলাম আসার সময় নিয়ে আসতেই ভুলে গেছি।

এখন এখানথেকে যেভাবে হোক বেরোতে হবে। আমি দরজায় অনেক্ষণ ধাক্কা দিলাম কিন্তু খুলল না। চারিকে অন্ধকার। তাই রুমের দেয়াল ধরে ধরে রুমের চারপাশ দেখছি। হঠাৎ কিছুএকটা আমার হাতে লাগলো। কি তা বুঝতে পারছি না। পঁচা গন্ধ টা সেখান থেকেই আসছে। আমি একটু দূরে সরে গেলাম তার পর আবার দেয়াল ধরে এগিয়ে যাচ্ছি। হাতে একটা সুইচবোর্ড লাগলো। আমি সুইচ গুলো অন করে দিলাম। একটার পর একটা সুইচ অন করলাম কিন্তু কোন লাভ হলো না। মনে হয় ইলেক্ট্রিসিটির লাইন টা নষ্ট হয়ে গেছে।

আমি হাল ছেড়ে আবার দরজার দিকে ফিরে যাচ্ছিলাম। তখনি একটা জানালা পেলাম। জানালাটা খুলে দিতেই পুরো ঘর আলোকিত হয়ে গেল। যদিও আর কিছুক্ষণ পরেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে। কিন্তু দিনের আলোটা এখনো বেশ খানিকটা আছে।

ঘরটা দেখার জন্য পেছনে তাকাতেই ভয়ে আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এতক্ষণ আমি একটা মৃতদেহের সাথে এক ঘরে ছিলাম। এমনকি একে আমি ছুঁয়েছি পর্যন্ত। ভেবেই শরীরে একটা অদ্ভুত শিহরন বয়ে গেল। মৃত দেহ টা একটা শিকল দিয়ে দেয়ালের সাথে আটকে রাখা হয়েছে। আর এই পঁচা গন্ধটা সেখান থেকেই আসছে।দেহটা অর্ধেক পঁচে গেছে।

আমি এখন কি করবো ভাবতে লাগলাম। তবে যা বুঝা যাচ্ছে যারা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে তাদের ইচ্ছে ছিল আমাকে মেরে ফেলা। তবে সেই সুযোগ না দিয়ে আমাকে এখন এখান থেকে বেরোতে হবে।

জানলাটা এক দম ফাঁকা,সহজেই বেরিয়ে আসা যাবে। আমি জানালা দিয়ে লাফিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। চারদিকে গাছপালা। অনেকটা জঙ্গলের মতো। আমি সাবধানে বাড়ির সামনের দিকে গেলাম। দেখলাম কেউ নেই। সেখান থেকে কোন দিকে যাবো মনে করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুই মনে পড়ছে না। তখনি শুকনো পাতার মাঝে কিছু একটা দেখতে পেলাম। হ্যাঁ ইশানের রিভলবার।

তার মানে এদিকেই আমায় যেতে হবে। যাক বাঁচা গেল,একদিকে রিভলবার টাও পেলাম আর বেরিয়ে যাওয়ার পথও। মনে হয় কোন ভাবে ওদের হাতথেকে রিভলবার টা পরে গেছে।

আমি রিভলবারটা তুলে নিয়ে তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলাম। সূর্য প্রায় অস্ত যেতে চলল। এখন এখান থেকে না বেরোতে পারলে পথ খুঁজে পাবো না। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাঁটছি। এক সময় নীলাদ্রি দের বাড়ির সামনে চলে এলাম। ঠিক ততোক্ষনে চারদিকে অন্ধকার নেমে গেছে।

পথ ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। আমি সাবধানে নীলাদ্রি দের বাড়ির সামনে আসতেই তাদের ঘর থেকে অদ্ভুত ধরণের আলো বেরোতে শুরু করলো। আমি থেমে গেলাম। আর সেই আলোর দিকে চেয়ে রইলাম। কিছুক্ষন পর হঠাৎ আলো টা নিভে গেলো। বুঝতে পারলাম কিছু গন্ডগোল আছে। আমি একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেলাম।

তখন দেখতে পেলাম তিনজন লোক এদিকে হেঁটে আসছে। তার মধ্য একজন বলে উঠলো””মেয়ে টাকে কি করবি?””অন্যজন বলল “”আগের বার যা করেছিলাম এবারেও তাই করবো”” বলেই তিনজন হাসতে শুরু করলো।

এর মানে এরা আগেও কারো সাথে এমন করেছে। তবে সেটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়েছে সেই লাশ টা দেখে। কিছুক্ষন পর লোক গুলো একটু দূরে চলে যেতেই আমি সেখান থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এলাম। এখন তাড়াতাড়ি আমায় রাজবাড়ি তে ফিরতে হবে। সবাই চিন্তা করছে। আর অই লোক গুলো যদি সেখানে গিয়ে আমায় না দেখতে পায় তবে আবার খুঁজতে আসবে।

আমি অন্ধকারে পথ চলতে চলতে রাজবাড়ি পৌছে গেলাম। ভেতরে ঢুকতেই ইশান,দিপু,অনা,কাব্য,কাব্যের পরিবারের লোকজন সবাই মিলে আমায় ঘিরে ধরলো। একের পর এক হাজার টা প্রশ্ন। কিন্তু এখন যদি সবাইকে আমার সাথে ঘটে যাওয়া কথা গুলো বলি তবে সবাই ভয় পাবে আর হয়তো কালই আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে। আর অই বাড়িতে গিয়ে যদি আমাকে দেখতে না পায় তবে সেই লাশ টাও অই লোক গুলো সরিয়ে ফেলতে পারে। তখন কেউ আমার কথা আর বিশ্বাস করবে না। কিন্তু এর পেছনের বিরাট রহস্য টা বের না করে এভাবে আমি চলে যেতে পারবো না।

তাই সবাইকে বললাম আমি গ্রাম দেখতে গিয়েছিলাম।
তখন কাব্য এসে আমায় বলতে লাগলো গ্রামের সব জায়গা তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখেছে তারা।কোথাও আমাকে পায় নি।

আমি তখন কাব্যকে বললাম আমি নীলাদ্রি দের বাড়ির কাছে গিয়েছিলাম। কথাটা শুনে সবাই চুপ করে গেল। তখনি কাব্যের বাবা আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন।কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে একজন কর্মচারী কে বললেন আমাকে পানি দিতে। বিষয় টা আমার কাছে কিছুটা সন্দেহজনক লাগলো। সবার সামনে তা প্রকাশ না করে মনে মনেই চেপে গেলাম।

ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আর ভাবতে লাগলাম সেই লাশ টা কার। ঘরের মধ্য শিউলি ফুলের গন্ধ,ছুরি হঠাৎ হাতের নাগালে চলে আসা আর নীলাদ্রি দের ঘরে ওই আলোর মধ্যে নিশ্চই কোন যোগসূত্র রয়েছে। কিন্তু সেটা কি? আচ্ছা বার বার এই শিউলি ফুলের গন্ধের সাথে কি কোন ভাবে নিশির সম্পর্ক আছে? না না এটা কিভাবে হয়। নিশি থাকে ময়মনসিংহ আর এটা শিলাকুন্ত। নিশি এখানে আসতে পারে না। কিন্তু কি এমন অদৃশ্য শক্তি আমাকে বার বার সাহায্য করছে। কে সে?

তখনই আমার সেই ছেট্ট চাবিটার কথা মনে পড়লো। আমি আমার পকেটে চাবি টা খুঁজতে লাগলাম।কিন্তু কোথাও খুজে পাচ্ছি না। তাহলে কি চাবি টা আমি হারিয়ে ফেললাম? না! এই চাবি হারালে চলবে না। এই চাবির পেছনেও কোন রহস্য রয়েছে। আমাকে সেটা খুঁজে পেতেই হবে। দরকার হয়ে সেই জায়গায় আমি আবার যাবো কিন্তু যেভাবেই হোক চাবি আমি খুঁজে বের করবই।

আর এই চাবি,শিউলি ফুলের গন্ধ,নীলাদ্রির বাড়ির রহস্য,আর সেই লোকগুলোকে বের করেই ছাড়বো।

রাতে আমি,অনামি,দিপু,ইশান সবাই মিলে ঘরে বসে আছি তখনি কাব্য এলো।
:-যারিন!
:-আরে কাব্য এসো।
:-তোমার থেকে কিছু জানার ছিল।
:-কি?
:-নীলাদ্রিদের বাড়িতে তুমি কেন গিয়েছিলে?
:-এমিন একটু ঘুরতে।
:-না সত্যি করে বলো সেখানে কেন গিয়েছিলে?
:-আমি সত্যি বলছি।
:-প্লিজ যারিন আমায় সত্যি বলো।(সবার সামনেই কাব্য আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বলল)
:-আচ্ছা আমি বলছি!আগে বল তো নীলাদ্রী দের পরিবারে কে কে আছে?
:-ওর মা,ভাই রিফাত আর ছোট একটা বোন তমা,বাবা অনেক আগেই মারা গেছে।
:-ওর ভাই আর বোনের বয়স কত হবে?
:-ওর বোন নীলাদ্রীর এক বছরের ছোট,আর ভাই ৪/৫ বছরের বড়। কিন্তু কেন?
:-কাব্য,আমার মনে হয় নিলাদ্রী কোন বিপদের মধ্য আছে।
:-কিসের বিপদ?
:-তা আমি জানি না। তবে অর সাথে খারাপ কিছু ঘটেছে এটুকু বুঝতে পেরেছি।
:-কি ঘটেছে?
:-তা আমি এখনো জানি না। সেটা জানার জন্য তোমার সাহায্যের প্রয়োজন।(কাব্য কে আমার সাথে ঘটে যাওয়া ব্যাপার টা বললাম না)
:-কি করতে হবে বলো।
:-আপাততো কাল আমাকে নীলাদ্রী দের বাড়িতে যেতে হবে। পারবে নিয়ে যেতে?
:-হ্যাঁ পারবো।
:-তাহলে কাল সকালেই আমরা সেখানে যাবো।

কাব্য চলে গেল। দিপু,ইশান,অনামি সবাই মিলে আমাকে জিজ্ঞেস করলো””তুই কিভাবে এসব জানলি?””আমি ওদের আমার সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বললাম। আমার কথা শুনে দিপু বলল
দিপু:-তোকে কোন আত্মা সাহায্য করছে না তো?
আমি:-জানি না রে,এখন আমি শুধু জানি এই রহস্য আমাকে বের করতেই হবে। ইশান,কাল তোর রিভলবার টা নিয়ে নিস যাওয়ার সময়। খেয়াল রাখিস কেউ যেন না দেখতে পায়।
ইশান:-ঠিকঅাছে!

কাল আমাকে যেভাবেই হোক ঐ চাবি টা পেতে হবে। অনেক রহস্য এই চাবির মধ্য লুকিয়ে আছে।

পরদিন সকালে…..
আমি,কাব্য,ইশান,দিপু,অনামি সবাই বেরিয়ে পরলাম নীলাদ্রী দের বাড়ির দিকে। ঠিক তখনি একটা ছেলে এসে কাব্য কে জড়িয়ে ধরলো। কাব্য ও ছেলেটাকে দেখে কেঁদে ফেলল। কিছুক্ষণ নিরব থেকে কাব্য বলতে লাগলো,
কাব্য:-ও রনি,আমার বন্ধু।

আমি বুঝতে পারলাম এই সেই রনি যার কাছে নীলাদ্রীর দেয়া চিঠি টা ছিল। ভালোই হলো। একে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার ছিলো আমার।

রনি:-যানিস কাব্য তুই এসেছিস শুনে আমি ঢাকা থেকে চলে এসেছি। খুব খারাপ লাগছিল তোর জন্য।
কাব্য:-তুই সেই পাগল ই রয়ে গেলি। চল আজ আমরা নীলাদ্রি দের বাড়িতে যাবো।

কথা টা শুনে রনির চোখ মুখ কালো হয়ে গেল।
রনি:-সেখানে কেন যাবি। অই মেয়ে তো তোকে রেখে চলে গেছে অন্য কারো হাত ধরে।
কাব্য:-জানি না তবে ওর কোন বিপদ হয়েছে।
রনি:-কিভাবে বুঝলি?

তখনি আমি কাব্য কে ডেকে বললাম “আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে চলো”

কাব্য রনি কে নিয়ে আবার হাঁটতে লাগলো। এক সময় আমরা নীলাদ্রি দের বাড়ির সামনে চলে এলাম। আমার প্রথম কাজ এই বাড়িটা ঘুরে দেখা। যেহেতু আমি কাব্য কে সেই তিনজন লোকের কথা টা গোপন করেছি তাই সেখানে কাব্য কে নিয়ে যাওয়া যাবে না।

আমি নীলাদ্রি দের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।সবাই আমার পেছনে। দরজার তালাটায় টান দিতেই খুলে গেল। কাব্য আশ্চর্য হয়ে বলল…

কাব্য:-আমি যেদিন এখানে নীলাদ্রি কে খঁুজতে আসি তখন দরজা টা তালা দেয়া ছিল। অনেক চেষ্টা করে ও খুলতে পারি নি। আজ হঠাৎ কিভাবে খুলে গেল?
আমি ব্যাপার টা সামলে নিয়ে বললাম..””অনেক দিন হয়ে গেছে তো তাই হয়তো তালা টা কোন ভাবে খুলে গেছে।

কাব্য তা মেনে নিল। কিন্তু এদিকে অনা ভয়ে কাঁপতে লাগলো। ওর আবার ভূতে ভয়। আমি ব্যাপার টা লক্ষ্য করে ইশারায় শান্ত হতে বললাম।

তালা খুলে আমি ভেতরে ঢুকলাম। এক এক করে সবাই ভেতরে ঢুকলো। হঠাৎ পেছন থেকে কারো চিৎকার শুনতে পেলাম। পেছনে তাকিয়ে দেখি রনি দরজা থেকে তিন হাত দূরে পড়ে আছে।

সবাই দৌড়ে রনি কে তুলল। বেশ খানিকটা ব্যথা পেয়েছে পায়ে। ওকে দাঁড় করিয়ে কাব্য জিজ্ঞেস করলো “”কিভাবে পড়ে গেলি?””রনি বলল সে বুঝতে পারে নি,হঠাৎ তার মনে হয়েছে তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।

কথা টা শুনে আমার ওর উপর সন্দেহ হলো। ছেলেটা হয়তো বা অভিনয় করছে নয়তো নিশ্চই এই ঘটনার সাথে কোন ভাবে জড়িত রয়েছে।

রনি একা হাঁটতে পারছে না। কাব্য বলে উঠলো এখন রনির বিশ্রাম দরকার তাই এখান থেকে সবাই কে চলে যেতে। কথা টা শুনে আমার মনে হলো এই সুযোগ নষ্ট করা চলবে না। তাই আমি কাব্য কে বললাম কাব্য যেন রনি কে নিয়ে চলে যায়। আমি,দিপু,ইশান আর অনা এখানে থাকি। কিছুক্ষণ পর চলে যাবো।

কাব্য আমাদের রেখে যেতে চাইছিল না। কিন্তু অনেক বুঝানোর পর রাজি হলো। রনিকে নিয়ে কাব্য চলে যাচ্ছিল তখনি পেছন থেকে অনা ডেকে বলল সে ও কাব্যের সাথে যাবে। দিপু অনা কে আবার ফিরে আসতে বলতে চাইতেই আমি আটকে দিলাম। আস্তে আস্তে বললাম অনা না থাকতে চাইলে যাক। কখন আবার ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়,যেতে দে।

দিপু আর কিছু বলল না। অনামি ও কাব্যের সাথে চলে গেলো। ইশান আর দিপু আবার ঘরের ভেতরে চলে গেলো। আমিও যাচ্ছিলাম। কিন্তু কি ভেবে একবার রনির দিকে তাকালাম। দেখলাম কাব্য রনিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ভেতরে ঢুকবো সেই সময় কিছু একটা দেখে থ হয়ে গেলাম।

রনিরা যেদিক দিয়ে ক্রস করছিস ঠিক সেখানেই পাশের একটি গাছের আড়ালে মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ভালে ভাবে তাকালাম। স্পষ্ট একটা মেয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।

হঠাৎ ইশান আমাকে ডেকে উঠলো। আমি এক পলক সেদিকে তাকিয়ে আবার মেয়েটার দিকে তাকাতেই উধাও। আমার সেই ট্রেনের মেয়েটার কথা মনে পড়ে গেলো। সেই মেয়েটা ও এভাবেই উধাও হয়ে গেছিল।তাহলে কি সত্যি এই মেয়েটি কোন আত্মা?

আমি আবার ঘরের ভেতর চলে গেলাম।ভেতরে যেতেই ইশান বলল
:- এখানে তেমন কিছু পেলাম না রে। কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ্য করেছিস?
আমি:-কি?
ইশান:-ঘর গুলো এতো পরিষ্কার যে দেখে মনে হচ্ছে কালই কেউ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করেছে।

আমিও ব্যাপার টা লক্ষ্য করলাম। মনে পড়লো কাল যখন আমি এখানে এসেছিলাম ভেতর থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল কিন্তু আজ কিছুই হলো না। সবাই মিলে চারদিকে অনেক খুঁজেও কিছু পেলাম না। তখনি দিপু আমায় ডাকলো। আমি আর ইশান সেদিকে গিয়ে দেখি দিপু একটা আলমারির সামনে কিছু একটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি যেতেই একটা ডায়েরি আমার হাতে ধরিয়ে দিলো। ডায়েরি টা হাতে নিয়ে দেখলাম এটায় তালা দেয়া। তালা দেয়া ডায়েরি আমি এর আগেও দেখেছি। কিন্তু এটা একটু অন্যরকম। চাইলেই কেউ এই ডায়েরি খুলতে পারবে না। দিপু বলল…

দিপু:-কি করবি এটা। চাবি কেথায় পাবি?
আমি:-চাবি আছে। চল আমার সাথে।
ইশান:-কোথায় যাবি?
আমি:-সেই বাড়িতে যেখানে আমায় আটকে রেখেছিল। সেখানেই এই ডায়েরির চাবি খঁুজে পাবো।
ইশান:-এই চাবি সেখানে আছে তুই এটাও জানিস?কিভাবে?
আমি আমার স্বপ্নের কথা টা ওদের বললাম।

আমি,ইশান,দিপু তিনজন সেই জঙ্গলের দিকে যেতে লাগলাম। যেতে যেতে ইশান কে বললাম রিভলবার টা রেডি রাখতে। আমার হাতে ছুরি আর দিপু কোথা থেকে একটা মজবুত লাঠি যোগার করে নিলো।

তিনজন এগিয়ে যাচ্ছি। বাড়ির সামনে আসতেই কেমন একটা মচ মচ আওয়াজ শুনতে পেলাম আমি। দিপু আর ইশান কে দাঁড়াতে বললাম।তখনো মচ মচ আওয়াজ আমাদের চারপাশ থেকে আসতে লাগলো। আমাদের যার হাতে যা আছে তা নিয়ে তৈরি হয়ে গেলাম।

তখনি চারপাশ থেকে ছয় জন লোক আমাদের ঘিরে ধরলো। সবার হাতে রাম দাঁ। আর আমাদের হাতে ছোট অস্ত্র। এখন ইশানের রিভলবার টাই আমাদের ভরসা। ইশান তাদের দিকে বন্দুক তাক করে বলল “‘এক পা সামনে এলে গুলি করবো।””
কিন্তু লোক গুলোর চোখ মুখে কোন ভয় দেখতে পেলাম না। সবাই একসাথে আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে।

তখনি আকাশ থেকে বিদ্যুৎ এর মতো কিছু একটা আমাদের সামনে এসে পড়লো। সবাই চোখ বন্ধ করে ফেললাম। কিছুক্ষণ পর তাকিয়ে দেখি আমি,দিপু আর ইশান বাদে কেউ নেই। সেই লোক গুলো যেন ভূতের মতো গায়েব হয়ে গেল।

আমি বুঝতে পারলাম না এই ভর দুপুরবেলা বিদ্যুৎ এলো কোথা থেকে। আর এলো কিন্তু আমাদের কিছু হলো না আর সেই লোক গুলো ও গায়েব। এর মানে….আমি ভাবার আগেই ইশান বলে উঠলো “”যারিন আমাদের আশেপাশে নিশ্চই কোন আত্মা আছে””আমিও সায় দিলাম। দিপু কে দেখলাম এখনো চোখ বন্ধ করে আছে।

ওকে ডাকলাম। চারদিকের লোকগুলো কে দেখে দিপু ভয় পেয়ে গেছিল তার ওপর বিদ্যুৎ। বেচারা মুখটা মলিন হয়ে আছে। আমি ওকে স্বাভাবিক হতে বললাম। কিছুক্ষণ পর ও স্বাভাবিক হয়ে উঠলে আমি বললাম” এখন আমাদের বাড়ির ভেতরে যেতে হবে। এখানে থাকলে চলবে না”

আমরা বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। প্রথম ঘরটায় একটা টেবিল রাখা আর চারটা চেয়ার। ইশান বলে উঠলো “যারিন সেদিন তোকে তিনজন বন্দি করেছিল। আর আজ এখানে ছয়জন আমাদের মারতে এলো।এদের মধ্য কি সেই তিনটে লোক ছিল?””

আমি কিছুক্ষন ভাবলাম। নাহ! এই ছয়জনের বডি দেখেই বুঝা যাচ্ছে এরা কোন সাধারন লোক নয়। নিশ্চই কারো ভাড়া করা গুন্ডা। আর আমি যাদের দেখেছিলাম তাদের সরাসরি না দেখলে ও নিশ্চিত করে বলতে পারি এদের মধ্য কেউ ছিল না।

ইশান বলল “”তার মানে একটাই। যারা এসব করছে তারা চার জন। কারণ এখানে চারটা চেয়ার রয়েছে। এদের মধ্য তিনজন কে তুই দেখেছিস। কিন্তু চার নাম্বার টা কে?””

দিপু বলল”এসব বাদ দিয়ে ঘর টা ভালো করে দেখা দরকার। পরে নাহয় এসব আলোচনা করা যাবে।””

ঘরটা খুজে দেখলাম কয়েকটা সিগারেট এর অবশিষ্ট অংশ পরে আছে। এর বেশি কিছু পেলাম না। আমি রুমের অন্য একটা দরজা খুলে ভেতরে যেতেই দেখলাম সেই ঘর টা যেখানে আমাকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই লাশ টা কোথাও খুঁজে পেলাম না।

আমার সন্দেহ সত্যি হলো। সেই তিন জন লাশ টা কোথাও সরিয়ে ফেলেছে। কিন্তু কোন ক্লু নিশ্চই আছে আর সেই চাবি টা ও এখানেই কোথাও আছে। আমি ভালো করে দেখতে লাগলাম। রুমের জানালা খোলা থাকলেও আমি মোবাইলের ফ্লাস লাইট টা জ্বালিয়ে নিলাম। লাইট টা একটা জায়গায় পড়তেই এক কিছু একটা জ্বল জ্বল করে উঠলো। কাছে গিয়ে দেখতে পেলাম সেই চাবি।

দিপু আর ইশান কে দেখালাম। এর পর আবার খুঁজতে লাগলাম। অনেক্ষন খুঁজার পর যখন কিছুই পেলাম না আমরা ফিরে আসছিলাম। তখনি সেই রুম টার দরজার কাছে কিছু একটা দেখতে পেলাম।
.
.
চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here