অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত-৩

অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত-৩
এ রহমান

অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত গুলো কি এভাবেই আসে জীবনে? ডাইরির পাতার লেখার প্রতিচ্ছবিটা ভেসে উঠলো চোখের সামনে। বৃষ্টিটা কি সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে দেয়া নাকি টিভির সিনেমার মতো সুকৌশলে কোন কৃত্তিম বৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মস্তিস্ক কয়েক সেকেন্ড ভাবতে বাধ্য হল। ফেব্রুয়ারী মাসে এমন ঝুম বৃষ্টি তেমন দেখা যায়না। সেটাও আবার একইদিনে যখন এই মহামানব নিজের দর্শন দিতে প্রস্তুত হল? ঠিক এমনটাই লেখা ছিল ঐ ডাইরির পাতায়। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে নিচে দাড়িয়ে তার প্রেমিক প্রেম নিবেদন করবে। আর এই বারান্দায় দাড়িয়ে মিষ্টি হেসে সেই প্রেম গ্রহন করবে ঈশা। সবটাই সেরকম হচ্ছে। কিন্তু ঈশার চোখ দুটো এই দৃশ্য দেখে চকচক করে ওঠার বদলে চাপা বেদনার ভারে নুইয়ে গেলো। ভেতরটা আর্তনাদ করে উঠলো। কিন্তু সেসবের কিছুই মুখে প্রকাশ করলো না। ভীষণ শান্ত চোখ জোড়া মেলে পুরো দৃশ্যটা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। ঈশাকে এভাবে চুপ করে থাকতে দেখে ইভান ভারী দীর্ঘশ্বাসটা হাওয়ায় মিলিয়ে দিলো। শীতল কণ্ঠে বলল
–ভেতরে যাও। ভীষণ ঠাণ্ডা বাইরে।

ঈশা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়েই থাকলো। এখন পর্যন্ত কোন উত্তর আসেনি তার দিক থেকে। ইভান বুঝতে পারলো ঈশা কোন কথা বলবে না। তাই হতাশা ভরা কণ্ঠে বলল
–শুয়ে পড়ো। আমি চলে যাচ্ছি।

ফোনটা কাঁটার প্রস্তুতি নিতেই ঈশা ভীষণ কষ্ট করে একটা শব্দ উচ্চারন করলো
–দাঁড়ান।

ইভান থমকে গেলো। এই একটা শব্দ বৃষ্টির ঝুমঝুম আওয়াজে সুরের মতো কানে বেজে উঠলো। মুচকি হেসে ফোনটা কেটে দিলো। ঈশা ঘরে ঢুকে গেলো। ধির গতিতে ডাইনিং এ গিয়ে দাঁড়ালো। আশপাশটা ভালো করে দেখে নিলো। সবাই নিজ নিজ ঘরে। হয়তো এতক্ষনে শুয়ে পড়েছে। বেশ ধির গতিতে ছাতাটা বের করে মোটামুটি নিঃশব্দে বাইরের দরজাটা খুলে আশেপাশে চোখ চালিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত নেমে গেলো। মেইন গেট পেরোতেই দেখা মিলল কাঙ্ক্ষিত মানুষটার। হাত গুঁজে গাড়িতে হেলানি দিয়ে দাড়িয়ে আছে। ঈশাকে দেখা মাত্রই চোখ দুটোতে খেলে গেলো অনাবিল প্রশান্তি। ঈশা দ্রুত রাস্তা পার হয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। বাড়ির দিকে একবার চোখ তুলে তাকাল কেউ দেখছে কিনা। কেউ নেই সেটা নিশ্চিন্ত হতেই ইভানের দিকে দৃষ্টি ফেরাল। কালো শার্টটা ভিজে গায়ের সাথে লেপটে গেছে। চূলগুলো বেয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। মানুষটা কি পাগল নাকি? এই শীতের মাঝে এভাবে বৃষ্টিতে ভিজছে? ঠাণ্ডা লাগছে না? ঈশা তো নিজেই জমে যাচ্ছে। ইভান দুকদম এগিয়ে এসে একদম সামনে দাঁড়ালো। চূলগুলো এক হাতে ঝেড়ে ঈশার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো। ভীষণ চমৎকার হেসে বলল
–নিচে এলে কেন? ঠাণ্ডা লাগবে তো।

ঈশা উত্তর দিলো না। শান্ত চোখ জোড়ায় নিজের দৃষ্টি স্থির করে তাকিয়ে আছে। সম্মোহনী ঐ দৃষ্টি তাকে জব্দ করে ফেলেছে। অদ্ভুত নেশাল অনুভূতি। যা থেকে এতো সহজে ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। বাতাসের বেগ বাড়তেই ইভান কিছুটা কেঁপে উঠলো। বৃষ্টির ফোঁটা বাকা হয়ে ছাতা ভেদ করে ঈশার জামার নিচের অংশ ভিজে যাচ্ছে। সেটা খেয়াল করেই ইভান বলল
–বাসায় যাও। ভিজে যাচ্ছ তো।

ঈশা ইভানের চুলের দিকে তাকিয়ে ভীষণ আবেগি কণ্ঠে বলল
–আপনার তো বৃষ্টি সহ্য হয়না। মাথায় বৃষ্টির পানি পড়লেই জ্বর আসে। তাহলে ভিজছেন কেন? বাসায় যান।

ইভান কয়েক সেকেন্ড চপ থেকে আবারো মিষ্টি হেসে বলল
–মনে আছে তোমার?

ঈশা শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল। শীতল কণ্ঠে বলল
–বাসায় যান।

বলেই ঘুরে গেলো। বাসায় যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই ইভান ভীষণ অভিমানী কণ্ঠে বলল
–কেন যাবো?

ঈশা ঘুরে তাকাল। অনুভুতিশুন্য দৃষ্টি তার। ইভান ঠিকঠাক কিছুই ধরতে পারলো না। শুধু অপেক্ষায় থাকলো উত্তরের। ঈশা গম্ভীর কণ্ঠে বলল
–আমি বলেছি তাই।

ইভান বিস্তর হাসল। এমনটাই হয়তো শুনতে চেয়েছিল সে। চাপা শাসনটা মনে ধরে গেলো। বলল
–ঠিকাছে।

উত্তরটা কানে আসতেই ঈশা দ্রুত পায়ে ভেতরে চলে আসলো। ঈশা পুরোপুরি অদৃশ্য হতেই ইভান ভেজা চূলগুলো উল্টে দিয়ে গাড়িতে বসে চলে গেলো।

————
সারারাত বর্ষণের পরে সকাল বেলা স্বচ্ছ আকাশে ঝলমলে রোদ উঠেছে। রোদের তেজে ঠাণ্ডাটা অনেকটা কমে গিয়েছে। জানালা খুলে বসে আছে ঈশা। বিশাল জানালার এক পাশে মাথা ঠেকিয়ে বাইরে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। দৃষ্টি কোন একদিকে থাকলেও মনটা অস্থিরতায় ভরপুর। ভীষণ এলোমেলো লাগছে নিজেকে। মাথায় তো অনেক ভাবনা কিন্তু কিছুই ভাবতে চাইছে না সে। কিন্তু মস্তিস্ক কি আর ঈশার মন মতো চলবে? সে তো নিজের মতই ভাবনায় বিভোর। ফোন বেজে উঠতেই বিরক্তিতে ভরে গেলো মন। নাম্বারটা দেখে আরও বেশী মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। ফোনটা ধরেই তীব্র ধমকে উঠে বলল
–তুই আমাকে ফোন করবি না কোনদিন। তোর সাথে কোন কথা নেই।

এমন ধমক খেয়ে ইফতি ঘাবড়ে গেলো। ঘটনার কিছুই ধরতে না পেরে কৌতূহলী কণ্ঠে বলল
–এমন ব্যবহার করছিস কেন? আমি আবার কি করেছি?

ঈশা পুনরায় ধমকে উঠে বলল
–তুই সবকিছু জেনেও আমাকে কিছুই বলিস নি। কেন ইফতি? তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড? আমি তো তোকে সবকিছুই বলি। অথচ তোর মুখ থেকে আজ অব্দি কোন কথা বেরয় না। এমন ফ্রেন্ডের আমার কোন দরকার নেই। তোর সাথে আজ থেকে সব সম্পর্ক শেষ।

ইফতি হতভম্ব হয়ে গেলো। ঈশার কথার আগামাথা কিছু বুঝতে পারলো না। ফোনটা কেটে দিলো ঈশা। ইফতি কান থেকে ফোনটা নামিয়ে রাখল। নাস্তার প্লেট থেকে রুটির টুকরো মুখে পূরে দিয়ে গভীর ভাবনায় ডুবে গেলো সে। ইভান ইফতিকে এমন ভাবতে দেখে মাথায় একটা চাটি মেরে বলল
–কি ভাবছিস এতো?

ইফতি হতাশ শ্বাস ছেড়ে বলল
–বুঝতেই পারছি না ভাইয়া। ঈশাকে ফোন করেছিলাম কিসব উল্টা পাল্টা কথা বলে কেটে দিলো ফোনটা। আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকল না।

ইভান মৃদু হাসল। তার মাথায় সবটা ঢুকেছে। ঈশা ভেবেছে ইফতি সবকিছু জানে। কিন্তু ইফতি তো কিছুই জানে না। এমনকি নিজের ফিরে আসার খবরটাও সে বাসাতেই দেয়নি। কাল রাতেই বাসায় এসেছে সে। মুচকি হেসে বলল
–আজ ক্লাসে যাবি না?

ইফতি মাথা নেড়ে হ্যা বলল। ইভান কিছু একটা ভেবে ফোন নিয়ে উঠে গেলো। ঈশার নাম্বারে ফোন করলো। ফোন বেজেই যাচ্ছে কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ তুলছে না। ঈশা স্থির দৃষ্টিতে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। ভাইব্রেট করে রাখা ফোনটা শব্দ বিহীন ভাবে কেঁপে উঠছে। মনের ভেতরে অস্থিরতাও বেড়েই চলেছে তার। অবশেষে নিজের অস্থিরতা দমিয়ে রাখতে না পেরে ফোনটা ধরেই ফেললো। কিন্তু কোন কথা বলল না। ইভান ঈশার নিশ্বাসের শব্দ শুনল কিছুক্ষন। তারপর মৃদু সরে বলল
–ক্লাসে যাবে না?

ঈশা মৃদু সরে বলল
–নাহ!

ইভান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল
–তাহলে তোমার চকলেট গুলো আমি কি নিজেই বাসায় গিয়ে দিয়ে আসবো? তুমি চাইলে আমি করতে পারি। তুমি তো জানই আমি কোন কিছুতেই ভয় পাইনা।

ঈশা থমকে গেলো। ঠাণ্ডা সরের হুমকিতে নড়েচড়ে উঠলো সে। ফুলের কথা মাথায় আসতেই কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল
–যাচ্ছি।

ইভান হেসে ফোন কেটে দিলো। ঈশা রেডি হয়ে নিচে নামল। আশপাশে ভালো করে দেখে নিলো কেউ নেই। রিক্সায় উঠে চলে গেলো ভার্সিটিতে। রিক্সা থেকে নেমে ভেতরে ঢুকতেই খেয়াল করলো সবাই তার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকাচ্ছে। প্রথমে বিষয়টা মাথায় না ঢুকলেও পরে বিষয়টা ঠিকই বুঝতে পারলো সে। আশে পাশের সবাই একে একে তার হাতে চকলেট ধরিয়ে দিলো। হাত ভর্তি চকলেট সামলাতে না পেরে নিচে ফেলেই দিলো সে। তৎক্ষণাৎ মায়া আর বাকি বন্ধুরা এসে সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে মুখোমুখি দাঁড়ালো। স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে মায়া আক্ষেপের সুরে বলল
–তোর উপরে হিংসা হচ্ছে রে। এভাবেও কেউ ভালবাসতে পারে। কি অদ্ভুত মানুষ ভাইয়া।

মায়ার কথা শুনেই সবটা বুঝে গেলো সে যে তারাও এই মানুষটার দর্শন পেয়েছে। অন্য সময় হলে হয়তো তার আচরনের পরিবর্তন হতো। ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়ত। কিন্তু আজ সেরকম কিছুই করলো না। ভীষণ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো। কিছুদুরেই দাড়িয়ে আছে ইফতি। তার দিকে চোখে পড়তেই ঈশা ভ্রু কুচকে ফেললো। ইফতির চাহুনির ধরন বলে দিচ্ছে সে ভীষণ হতাশ সাথে ঈশার উপরে তার খুব অভিমান জমে গেছে। ঈশা ইফতির সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। কোন কথা বলার আগেই ইফতি অভিমানী কণ্ঠে বলল
–তুই আমার সাথে কোন কথা বলবি না। তোর মতো বন্ধুর আমার কোন দরকার নাই।

ঈশা অবাক হয়ে তাকাল। ইফতি অন্যদিকে দৃষ্টি ফিরে বলল
–আমার নাকের নিচে দিয়ে এতোকিছু হয়ে যাচ্ছে অথচ আমার কোন ধারনাই নাই। আমাকে বললে কি হতো? আমি তোর কোন পাকা ধানে মই দিয়েছি যে আমাকে জন্ম জন্মান্তরের শত্রু বানিয়ে দিলি?

ঈশা বিরক্ত হয়ে বলল
–ভঙ্গিমা ছেড়ে কথা বল ইফতি। কি বলছিস স্পষ্ট করে বল।

ইফতি এবার পেছনে ঘুরে তাকাল। বলল
–তোর গায়েবী প্রেমিক যে আমার ভাই সেটা বললে কি আমি তোকে মেরে ফেলতাম? আমাকে বললে কি হতো?

ঈশা ইফতির দৃষ্টি অনুসরণ করে সেদিকে তাকাল। ইভান কারো সাথে কথা বলছে বেশ হেসেহেসে। মোটেও অবাক হল না সে। কারণ ইভানের কথা শুনেই ধারনা করে ফেলেছিল যে সে ভার্সিটিতে আসবে। সেদিকে তাকিয়েই আনমনে বলল
–আমি তো নিজেই জানতাম না। তোকে কিভাবে বলবো?

ইফতি সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকাল। ঈশা করুন চোখে তাকাতেই সে বলে উঠলো
–সত্যিই তুইও জানিস না?

ঈশা মাথা নাড়ল। বলল
–কাল রাতেই জানতে পেরেছি।

ইফতির মুখভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে গেলো। ঠোঁট চেপে হেসে ভীষণ অদ্ভুত ভঙ্গীতে বলল
–ওহ! বুঝলাম। আচ্ছা যাই হোক। আমি আজ সকালেই জেনেছি। ভার্সিটি আসার সময় ভাইয়া বলেছে। আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। কিন্তু খুব ভালো লেগেছে জানিস।

ইফতির খুশী দেখে ঈশা হতাশ শ্বাস ছাড়ল। অসহায় চোখে তাকাল ইভানের দিকে। ইভান এগিয়ে এসে মিষ্টি হেসে নিজের হাতে ধরে থাকা চকলেটের বক্সটা ঈশার হাতে ধরিয়ে দিলো। ঈশা প্রথমে নেবে না ভেবে আশপাশে তাকাল। সবাইকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হলেও নিয়ে নিলো। কারণ ইভানকে অপমান করতে চায়না সে। ইভান চমৎকার হেসে বলল
–ক্লাসে যাও। দেরি হয়ে যাচ্ছে।

ঈশা কোন উত্তর না দিয়ে চোখ নামিয়ে চলে গেলো ক্লাসে। ইভান সেদিকে তাকিয়ে থাকলো মুগ্ধ চোখে।

————-
ইভানের সাথে দেখা হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। আজ ছুটির দিন বলেই ঈশা ঘরে বসে আছে। দুপুরের খাবার সময় এখনো হয়নি। গোসলে যাবে কিনা এই নিয়ে মস্তিস্কে চলছে বিশাল দ্বন্দ্ব। রুমা ঘরে এসে ঢুকল। ঈশাকে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল
–বাবা তোমাকে ডাকছে।

ঈশা সচকিত দৃষ্টিতে তাকাল। কিছু একটা ভেবে বলল
–কেন ডাকছে ভাবী?

রুমা মুচকি হাসল। বলল
–তেমন কিছু না তোমার সাথে একটু কথা বলবে।

ঈশা একটা শ্বাস ছেড়ে বলল
–আসছি।

রুমা ঘর থেকে বের হতে যেয়েই থেমে গেলো। ঘুরে কৌতূহলী কণ্ঠে বলল
–সেদিন রাতের ফুলগুলো…।

কথা শেষ করতে দিলো না। তার আগেই ব্যস্ত ভঙ্গীতে বলে উঠলো ঈশা
–ওগুলো আমিই করেছিলাম।

রুমা কয়েক সেকেন্ড থাকিয়ে থাকলো। তারপর শব্দ করে হেসে উঠলো। বলল
–কতটা ডিপ্রেসড হলে একটা মানুষ নিজের ঘরে এমন করে ফুল ছড়িয়ে রাখতে পারে।

ঈশা অসহায়ের মতো তাকাল। রুমা হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলো। ঈশা তার পেছনেই বেরিয়ে গেলো। বাড়ির সবাই বসে আছে ডাইনিং এ। ঈশা সেখানে দাঁড়াতেই বাবা মুচকি হেসে বললেন
–আমার কাছে বসো।

ঈশা বাবার পাশে পড়লো। মেয়ের মাথায় হাত রেখে তিনি বললেন
–তোমাকে যে ছেলেটার কথা বলেছিলাম। মনে আছে?

ঈশা নিজের ওড়নার মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরল। মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দিলো মনে আছে। তার বাবা মুচকি হেসে বললেন
–তোমার ছোট মামা প্রস্তাবটা এনেছিলেন। ওদের খুব আগ্রহ। আমি তখন তেমন গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু এখন ওরা খুব ধরেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু খোঁজ খবর নিয়েছি। ছেলে কিন্তু খুব ভালো। বলতে পারো আমাদের সবার খুব পছন্দ হয়েছে। কিন্তু আমি চাই তুমি একবার ছেলের সাথে কথা বলে দেখো। তোমার পছন্দ হলেই নাহয় আমরা কথা এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমাদের পছন্দ হলেই তো আমরা জোর করে তোমার উপরে চাপিয়ে দিতে পারিনা। তাই ছেলের বাড়ি থেকেই বলেছে আজ বিকেলে একটা রেস্টুরেন্টে ছেলে তোমার সাথে দেখা করতে চায়। তোমার কোন আপত্তি নেই তো মা? থাকলে নির্দ্বিধায় বলতে পারো। আমি না করে দেবো।

ঈশা সাদা মেঝেতে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। একটু সময় নিয়েই ভাবল। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল
–তুমি যা ভালো মনে করো।

ঈশার বাবা হেসে উঠলেন। সস্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন
–তাহলে আমি জানিয়ে দেই তুমি যাচ্ছ?

ঈশা হ্যা সুচক মাথা নেড়ে উঠে গেলো। ঈশার বাবা সাথে সাথে তার ছোট মামার নাম্বারে ফোন করে জানিয়ে দিলেন ঈশা বিকেলে রেস্টুরেন্টে যাবে।

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here