অনুভূতি_জুড়ে_তুমি পর্ব_০৮

অনুভূতি_জুড়ে_তুমি
পর্ব_০৮
লেখনীতে :স্পর্ষীয়া ভূমি

নিরবতা বিরাজ করেছে আলো অন্ধকারের স্টেজের পেছনের বিস্তর জায়গাটায়।কিছুটা দূর থেকে মানুষের অল্পবিস্তর আওয়াজ ছুটে আসছে এদিকে।কানে আওয়াজ তেমন না বিধলেও বোনের ঘর্মাক্ত মুখের চাহনিটা ভাবাচ্ছে তাকে। চারদিকে জোড়ালো হাওয়া বইছে। তার সাথে রয়েছে ধুলোবালির উড়োউড়ি।গাছের শুকনো মড়মড়ে পাতা গুলোও বাতাসের বেগের সাথে তাল মিলিয়ে ছুটে চলেছে।আকাশের চাঁদের দেখা নেই।দেখা নেই সন্ধ্যা তারারও।ক্ষণে ক্ষণেই গর্জে উঠছে আকাশ।বৃষ্টির অল্প অল্প ফোঁটা পড়া শুরু করেছে মাত্র।রৌদ্র কপাল কুচকে আদ্রিতার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।আদ্রিতার দিকে মিনিট পাঁচ তাকিয়েও কোন সূত্র বের করতে না পেরে বিরক্ত হলো।আদ্রিতার কাঁপা চাহনিতে তাকিয়ে ধমকি দিয়ে বলে উঠলো,

‘ আদি বুড়ি!এবার কিন্তুু চরম লেভেলের বেয়াদবি হয়ে যাচ্ছে।তুই বলবি কী হয়েছে?নয়তো এখানে রেখে চলে যাবো।’

আদ্রিতা ভয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে খামচে ধরলে রৌদ্রের শার্ট তারপর নিজের মোবাইলটা খুঁজতে ব্যস্ত হলো।কিন্তু না।কোথাও পেলো না মোবাইলটা।মোবাইলটা কী তবে সে হারিয়ে ফেলেছে?কপালের চামড়ায় তিন তিনটা ভাজ ফেলে রৌদ্রের দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

‘ ভাইয়া!আমার মোবাইলটা খুঁজে পাচ্ছি না।’

রৌদ্র এবার স্বশব্দে হেসে উঠলো।আদ্রিতার মাথায় সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে বলে উঠলো,

‘ এই জন্য এতো ভয় পাচ্ছিলি?সামান্য একটা মোবাইলে জন্য তো আমার হার্ট অ্যাটাক করে দিচ্ছিলি।বেয়াদব!’

‘ আরেহ না।তুই না জেনেই বকছিস।’

‘ তুই খুব জানিস।হইছে? শান্তি?’

‘ ভাইয়া সত্যি বলছি।’

রৌদ্র শার্টের সাথে আটকে পড়া শুকনো আমের পাতাটাকে সরিয়ে দূরে উড়িয়ে দিয়ে বলে উঠলো,

‘ বুঝলাম তো।মোবাইল হারিয়ে ফেলেছিস।আচ্ছা যাহ কিনে দিবো একটা।এখন চুপচাপ বাসায় চল।বৃষ্টি জোরে শুরু হলে ভিজে চুপসে যাবি।’

রৌদ্র কথাটা বলে কয়েক সেকেন্ড কিছু ভাবলো। তারপর আবারই বলে উঠলো,

‘ আচ্ছা?তুই যখন আমাকে কল দিয়ে বললি ভয় পাচ্ছিস তখন তো তোর মোবাইল ছিলো।তখন ভয় পেয়েছিলি কেন?ভুতে কাঁমড়াইছিলো?’

আদ্রিতা চেতে উঠলো।রাগে গজগজ করে বলে উঠলো,

‘ ভাইয়া তুই কিন্তু বেশি করে ফেলছিস।আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে!’

রৌদ্র চোখ বড়বড় অবক হওয়ার চেষ্টা করলো।আদ্রিতার থুতনিতে চিমটি কেঁটে বলে উঠলো,

‘ এই রে আদি বুড়ি?তুই ক্ষেপে গিয়েছিস নাকি?আমি কিন্তু ভয় পাচ্ছি।’

কথাটা বলেই হু হা করে হেসে উঠলো।আদ্রিতা ক্ষেপে গিয়ে মুখ ফুলালো।ফর্সা মুখের নাকটা লাল হয়ে উঠলো।কপালোজোড়া ফুলকো লুচির মতো দেখালো।রৌদ্র আবারো হাসলো বোনের সাথে কথা বলতে বলতে বৃষ্টির ছোট ছোট ফোঁটা রূপান্তর হলো মুষলধারের বৃষ্টিতে।আকাশে মেঘগুলো চমকে চমকে উঠলো।বজ্রপাতের আওয়াজটা কানে এসে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে।রৌদ্র আদ্রিতার হাতটা চেপে ধরে আমগাছের তলায় দাঁড়ালো।ছাতা নিয়ে আসা উচিত ছিলো।অবশ্য কেই জানতো এভাবে বৃষ্টি আসবে।রৌদ্র মোবাইলের ফ্লাশটা জ্বালিয়ে ঘড়িতে সময় দেখলো। আটটা বেঁজে চল্লিশ মিনিট।রৌদ্র আদ্রিতার দিকে তাকাতেই আদ্রিতা অসহায় কন্ঠে বলে উঠলো,

‘ ভাইয়া,কিছু খাবো।সামনের রেস্টুরেন্টটায় চল না।খেতে খেতে বৃষ্টিটা থেমে যাবে।’

রৌদ্র আদ্রিতার কথায় মুচকি হাসলো।আদ্রিতা খুব ভালো একটা যুক্তি দিয়েছে।রৌদ্র কপাল কুচকে তাকিয়ে আদ্রিতাকে নিয়ে দ্রুত পায়ে দোকানের পাটাতনের চিপাচাপা রাস্তা দিয়ে হাঁটা ধরলো।দুই মিনিটের মধ্যে রেস্টুরেন্টের মধ্যে ডুকেও গেলো।শার্টের বা পাশ ভিজে গিয়েছে।মাথার চুলগুলোও ভিজে টপটপ করে জল পড়ছে কপাল বেয়ে।কপালের ফোঁটা ফোঁটা জলগুলো ডান হাতের তালুতে মুঁছে নিয়ে ধীর পায়ে পা এগুলো।আদ্রিতার শাড়িরও অর্ধেকটা অংশ ভিজে নিয়েছে। একনজর তাকিয়ে মৃদু হেসে বললো,

‘ ঠান্ডা লাগছে তোর আদি বুড়ি?’

আদ্রিতা মুচকি হাসলো। চারপাশটায় একনজর তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো,

‘ নাহ রে।আচ্ছা রিমিরা কী চলে গিয়েছে?’

‘ হ্যাঁ।ওরাতো কতো আগে চলে গেলো।’

রেস্টুরেন্টের জানালা ঘেষা একটা টেবিলে বসে আছে আটজন।জেনীর জম্মদিনের ট্রিট বলে কথা।সবাই হাসি আড্ডায় জমিয়ে তুলেছে টেবিলের ছোট্ট খানিকটা জায়গা।রেস্টুরেন্টে ইটের কণাগুলোও যেন মুগ্ধ হলো তাদের বন্ধুত্বে।আদ্রিতা শাড়ি ঠিক করে আসতেই টেবিলটা ক্রস করে অপর পাশের টেবিলটায় এগিয়ে যেতে নিলেই চমকপ্রদ কিছু আবিষ্কার করলো।উল্টোদিকের মাঝখানের চেয়ারটায় ধবধবে ফর্সা আড্ডায় মত্ত থাকা মেয়েটিকে দেখে নিয়ে তার মুখে ফুটে উঠলো খুশির রেখা।খুশিতে চটফটিয়ে উঠে নির্দিষ্ট টেবিলে গিয়ে বসে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। তারপর বললো,

‘ ভাইয়া?আমি যা দেখি তুই কী তা দেখিস?’

রৌদ্র কপাল কুচকালো।খাবারের থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়ে আদ্রিতার মুখের দিকে তাকালো।তারপর পিছল গলায় বললো,

‘ কেন? আমার চোখ কী মঙ্গলগ্রহ থেকে আমদানি হইছে?’

‘ নাহ।তবুও জিজ্ঞেস করলাম।দেখেছিস?’

‘ কী?’

‘ কিছু না।তুই খা আমি বরং নজর রাখি।যদি ফুরুৎ হয়ে যায়?আজ তো ঠিকানা,মোবাইল নাম্বার সব নিবো।’

রৌদ্র এবার অবাক হলো। চারদিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখতে ফেলো অয়ন্তীকে।আদ্রিতা নিশ্চয় তার কথায় বলছে।রৌদ্র চটানো গলায় বলে উঠলো,

‘ এমন কিছু করবি তো থাপড়াইয়া মুখের সাইজ এবড়োথেবড়ো করে ফেলবো।’

‘ আমি কী তোরে ভয় পাই?’

‘ করবি না এমনটা বলে দিলাম।’

আদ্রিতা কথাটাকে পাত্তা না দিয়ে বলে উঠলো,

‘ ভাবছি ছবি ও তুলে নিবো।তোর মোবাইলটা দিস তো।আম্মুকে দেখাতে হবে না?’

‘ কোন মোবাইল টোবাইল দেয়া হচ্ছে না।’

আদ্রিতা আর রৌদ্রের কথার মাঝেই উঠে দাঁড়ালো ঐ টেবিলের আটজন। আদ্রিতা দ্রুত দাঁড়িয়ে পড়লো।রৌদ্রের পকেট থেকে মোবাইলটা জোরপূর্বক টেনে নিয়ে দ্রুত পা বাড়ালো।আটজনের ভীড়ের মধ্যে গিয়েই কাঙ্ক্ষিত মেয়েটির পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।হাসি হাসি মুখে বলে উঠলো,

‘ আপু কেমন আছো?’

আদ্রিতার কথাটায় চমকে উঠলো তাদের মধ্যে উপস্থিত সকলে।অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকাতেই মেয়েটি চমৎকার হাসলো।আটজনের মনেই মেয়েটিকে নিয়ে প্রশ্নের ঝুড়ি জমলো।অয়ন্তী চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলো,

‘ আমাকে?’

‘ হ্যাঁ, তোমাকেই। কেমন আছো?’

‘ ভালো।কিন্তু তুমি?’

‘ ঐ যে ঐদিন হসপিটালে ? একটা লোকের সাথে ধাক্কা খেয়েছিলে?তারপাশে আমি ছিলাম।মনে আছে?’

অয়ন্তী ভাবলো পরক্ষণেই মনে পড়লো।কপালের চামড়ায় ভাজ ফুটে উঠলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

‘ হ্যাঁ, মনে আছে।’

‘ তুমি রেগে যাচ্ছো নাকি?’

অয়ন্তী দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

‘ নাহ,কিছু বলবে?’

আদ্রিতা মুখ কাচুমাচু করে বলে উঠলো,

‘ ইয়ে মানে তোমার সাথে একটু কথা ছিলো।’

‘ বলো।’

‘তোমার নামটা কী?’

অয়ন্তী কিছু বলার আগেই জেনী হাসিমুখে বলে উঠলো,

‘ অয়ন্তী।অয়ন্তী আহমেদ অন্তি।’

আদ্রিতা মুচকি হাসলো।মৃদু স্বরে বললো,

‘ একটা ছবি তোলা যাবে?ডোন্ট মাইন্ড প্লিজ!’

এবারও অয়ন্তীর কিছু বলার সুযোগ হয়ে উঠলো না।প্রিয়া আগেই সজোরে উত্তর দিয়ে বসলো,

‘ অফকোর্স।’

আদ্রিতা দেরি করলো না।মোবাইলের মসৃন তলে একটি সেল্ফি নিয়ে হাসলো। মোবাইলটা ব্যাগে চালান করে বললো,

‘ ধন্যবাদ আপু।জানি বিরক্ত হয়েছো।তবুও স্যরি। ‘

আদ্রিতার কথার বিপরীতে কী উত্তর দিবে খুঁজে ফেলো না অয়ন্তী।ঠোঁট চেপে কিছু বলার আগেই আদ্রিতা আবার বলে উঠলো,

‘ আমি আসি।হতে পারে পরে কোথাও দেখা হয়ে যাবে।’

কথাটা বলেই দাঁত বের করে হাসলো।তারপর গুঁটিগুঁটি পায়ে কোথায় হারিয়ে গেলো।মেয়েটি সেখান থেকে চলে যেতেই শুরু হলো তাদের বন্ধুদের মধ্যে কথার গুঞ্জন।রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে নিতেই বিনয় বলে উঠলো,

‘ কী রে বইন?কী শুরু করলি?তোর নাম জিগায়, ছবি তুলি নিয়ে যায়।কীরে বাপ!’

বিনয়ের কথায় হেসে উঠলো সবাই।রিয়াদ গদগদ কন্ঠে বললো,

‘ বাহ!হসপিটলে গিয়ে কার সাথে ধাক্কা খেলি অন্তি?আমাদেরও বল।শুনি ধাক্কা থেকে কী কেমিস্ট্রি জমলো?’

মেহু ছাড়া সবাই এক একটা মন্তব্য করে গেলেও মেহু কোন কথা বললো না। নিশ্চুপ হয়ে হেঁটে চললো তাদের সাথে।বৃষ্টিটা এখন থেমেছে।চারদিকে যানবাহনের হালকা শব্দ।রাস্তার বৃষ্টির জলের মেশা কাঁদা গুলো লেগে যাচ্ছে শ্যামলা পায়ের এক তৃতীয়াংশে।আকাশের সাথে সাথে আজ তার মনেও জমেছে বিশাল মেঘ।যে মেঘ কেউ গলাবে না।যে মেঘের নেই কোন ঠিকানা। যে মেঘের সঙ্গ দিবে না কেউ।

অয়ন্তী সহ বাকিরা সবাই নিজেদের বাসার মোড়ে পা এগিয়েছে।মেহু হোস্টেলের মোড়টায় দাঁড়িয়ে কিছুটা সময় নিশ্চুপ থাকলো। সবার যাওয়ার পথে এক নজর তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।সাথে তাকালো অভ্রের বাহুডোরে বন্ধি রিয়ার হাতেও।দুজনের হাত কী সুন্দর আষ্ঠেপৃষ্ঠে আছে।অদ্ভুত সুন্দর লাগছে তাদের দুজনকে।সৃষ্টিকর্তা হয়তো তাদের দুজনকে তাদের দুজনের জন্যই বানিয়েছিলো তাই তো দুজনকে এতো সুন্দর মানায় মেহুর চোখে।মেহু দীর্ঘশ্বাস ফেললো।সবাই আস্তে আস্তে হারিয়ে গেলো এলেমেলো রাস্তার মোড়ে।মেহু দাঁড়িয়ে থাকলো।নয়টা বেঁজে গিয়েছে।দশটার আগে তাকে যে করে হোক হোস্টেলে পৌঁছুতে হবে।অন্যদিন কখনো এতোরাতে সে বের হয় না।তাই এতো রাতে কসরত করে রিক্সাও জোগাড় করতে হয় না।কিন্তু আজ বৃষ্টি হওয়ার দরুণ রিক্সা পাওয়াটা যেন কঠিন হয়ে দাঁড়ালো।সবগুলো খালি রিক্সা না করে দিয়ে চলে যাচ্ছে।এই যেন ভাগ্যও তার সাথে বেইমানি করছে।মেহু অসহায় চাহনিতে এদিক ওদিক তাকালো। হেঁটে যে যাবে তার ও উপায় নেই।একা একা এতোটুকু পথ হেঁটে যাওয়া উচিত হবে না।পনেরো মিনিট যাবৎ একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেই বিরক্ত হলো মেহু।হাতের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে কপাল কুচকে নিলো।সাথে সাথে শুরু হলো মুষুলধারে বৃষ্টি।সামনের দোকানটায় ডুকবে কী ডুকবে না তা ভাবতে ভাবতেই বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে গেলো। পরে আর ডুকলো না।বৃষ্টিতে ভিজে চুপসানো শাড়ি নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকলো ভারী বৃষ্টিতে।

অভ্র রিয়াকে বাসায় পৌঁছে দিয়েই বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সা নিয়েছে।নিজস্ব গাড়ি থাকলেও বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডায় কখনো নিজের গাড়ি নিয়ে বের হয় নি সে।এখন বাসায় ফিরলে নিশ্চয় বাবার কড়া জবাবের সম্মুখীন হতে হবে তাকে।হলে হোক।বন্ধুত্বের কাছে কী আর ওসব বিলাসিতার মূল্য আছে?অভ্র বন্ধুদের সবার কথা গুলো মনে করতেই ভার্সিটির তিনরাস্তার মোড়ে রিক্সাটা উঠতেই কপাল কুচকে নিলো।মেহু এখনো দাঁড়িয়ে আছে?অভ্র দ্রুত ঘড়ির দিকে তাকালো।বিশ মিনিট হয়ে গিয়েছে তারা মেহুকে ছেড়ে নিজস্ব গলিতে পা বাড়িয়েছিলো।মেহু এখনো দাঁড়িয়ে?হোস্টেলে যায় নি যে?পরনের শাড়িটা ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে গেলো।শ্যামলা মানবির শরীরের ভাজে ভাজে ফুটে উঠলো অদ্ভুত সৌন্দর্য!মুখ চোখে বৃষ্টির অনবরত পড়তে থাকা বৃষ্টির পানির উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বল তম শোভা। অভ্র মুহুর্তেই মেহু নামক মেয়েটির নেশায় আটকে পড়লো।বৃষ্টির ঘন ফোঁটায় ভেজা ঠান্ডায় কেঁপে কেঁপে উঠা ঠোঁটজোড়া ছুঁয়ে দিতে মন চাইলো তার।পরক্ষণেই নিজের উপর ঘৃণা হলো।যে মেয়েটাকে সে সহ্য করতে পারে না তার ঠোঁটজোড়া ছু্ঁয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটাকে বিশ্রী থেকে বিশ্রী মনে হলো।অভ্র কি বুঝেই রিক্সাওয়ালাকে রিক্সাটা থামাতে বললো।মেহুর দিকে তাকিয়ে জোরে বলে উঠলো,

‘ মেহু?দাঁড়িয়ে আছো যে?’

মেহু অবাক নয়নে তাকালো।কন্ঠস্বরটা শুনে কেঁপে উঠলো খানিকটা । ভ্রু জোড়া কুচকে সামনে রিক্সায় বসে থাকা যুবকটির দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকলো।তারপর বলে উঠলো,

‘ নাহ, রিক্সা পাচ্ছি না তো তাই।তুই কী রিয়াকে দিয়ে ফিরছিস?’

অভ্র খেয়াল করলো মেহু কথাটা বলতে চায় নি।বাধ্য হয়েই কথাটা বললো সে।এটাও খেয়াল করলো আজকে সন্ধ্যা থেকে মেহু এই প্রথম তার সাথে কথা বললো।জেনিদের বাসায় যাওয়া, নিরবের গান শোনা, রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া এতোটুকু সময়ে সে একবারও কথা বলে নি তার সাথে।অভ্র গম্ভীর কন্ঠে বললো,

‘ হ্যাঁ।রিক্সা পাচ্ছো না মানে?’

‘ রিক্সা পাচ্ছি না মানে পাচ্ছি না অভ্র।তুই হঠাৎ এতোকিছু জিজ্ঞেস করছিস কেন?’

অভ্র অপমান বোধ করলো।রাগে শরীরটা রি রি করে উঠলো।মুখটা লাল হয়ে উঠলো।কী বুঝেই নেমে পড়লো। মেহুর হাতটা চেপে বলে উঠলো,

‘ জিজ্ঞেস করছি মানে এই না একেবারে যত্ন নেওয়া শুরু করে দিয়েছি।রিক্সায় উঠো।তোমায় হোস্টেল পৌঁছে দিয়ে আমি বাসায় ফিরবো।এভাবে একটা ঘরোয়া মেয়ে কে তো আর রাস্তার এই অন্ধকারে ছেড়ে দেওয়া যায় না।অন্তি শুনলে চটে যাবে।বাকি সবাইও খারাপ ভাববে।আমি চাই না কারো জন্য আমার বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক।’

মেহু চোখ ছলছল করে উঠলো।না,সে কাঁদবে না।সবার সামনে কাঁদা যে তার মানা।অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো,

‘ আর আমি?আমি তোর বন্ধু না?’

অভ্র কিছু বললো না। মেহু শান্ত ভঙ্গিতে রিক্সায় উঠতেই সেও তার দিকে চেপে বসে পড়লো।রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় একবার মেহুর মুখের দিকে তাকালো।কপালের টিপটার আঠা উঠে ঝুলে আছে।যেন আরেকটু হলেই পড়ে যাবে।অভ্রের মনে ইচ্ছে জাগলো টিপটা ঠিক করে দেওয়ার।কিন্তু না!মনের এই ছোট ইচ্ছেগুলোকে পাত্তা দেওয়ার কোন মানেই হয় না।কোন না।

#চলবে…

(( দেরি হওয়ার জন্য দুঃখিত! কেমন হয়েছে বলবেন…আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে গল্পটায় আপনাদের রেসপন্স কমে যাচ্ছে…আপনাদের ভালো লাগাগুলোর সাথে খারাপ লাগা গুলোও তুলে ধরবেন… ধন্যবাদ আমার এই বিশ্রী লেখার পাশে থাকার জন্য।অনেক ভালোবাসা সবার জন্য।))

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here