অনুভূতি_জুড়ে_তুমি পর্ব_০৪

অনুভূতি_জুড়ে_তুমি
পর্ব_০৪
লেখনীতে : স্পর্ষীয়া ভূমি

আদ্রিতার পায়ের ব্যাথাটা এই সাতদিনে কমেছে।নেই বললেই চলে।পায়ের হাড্ডি ভেঙ্গে না যাওয়ায় বেশিদিন পস্তাতে হয় নি তাকে।সাত সাতটা দিন বাড়িতে শুঁয়ে বসেই কাঁটিয়ে দিয়েছে সে।তবে তার সাথে অবশ্যই মায়ের বকাবকি ফ্রি ছিলো।ভাইয়ের জ্বালানোর কথা না হয় বাদই দিলো। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে আবারো ডাঃ দেখিয়েছিলো। ডাক্তারের কথা অনুয়ায়ী ঔষুধগুলো কমপ্লিট করে সাত দিনের দিন আবারো একবার চেকাপ করার কথা।সকাল থেকে বাবা তিনবার বলে নিয়েছেন কথাটি।তাই বাধ্য হয়ে রৌদ্রকেই বোনকে নিয়ে আসতে হলো হসপিটালে। বোনকে এক ঘন্টার মাঝে ডাক্তার দেখিয়ে আবার অফিসে ছুটতে হবে তাকে।অফিসের কাজের ক্ষেত্রে সে বরাবরই দায়িত্ববান।উচ্চমধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে সে।দু বছর আগে মাস্টার্স কম্লিট করে এক বছর হলো বড় একটা কোম্পানিতে বড় পদের একটা চাকরি পেয়েছে।চাকরির ক্ষেত্রে কোন দিনই কোন ফাকিবাজি করে নি রৌদ্র। চাকরি পাওয়া অতোটা সহজ না তা সে এক বছরের অভিজ্ঞতাতেই টের পেয়েছে।অবশেষে বাবার শেষ বয়সের পেনশনের টাকায় সংসার চলছে না এটা ভাবতেই আনন্দ লাগে রৌদ্রের।সেই সূত্রেই অফিসের সকল কাজে সে বরাবরই মনোযোগী।অফিসে প্রমোশনটা খুব প্রয়োজনীয় বিষয়।হসপিটালের কাছাকাছি আসতেই রিক্সা থেকে নেমে পড়লো সে।আদ্রিতাকে নামতে বলে ভাড়া মিটিয়ে দিলো। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো হসপিটালে।ডাক্তারের সিরিয়াল আগে থেকেই কেঁটে রেখেছেন রৌদ্রের বাবা।তাই তেমন একটা দেরি হবে না।আদ্রিতা কী বুঝেই হুট করে দাঁড়িয়ে পড়লো।রৌদ্রের হাতটা চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,

‘ ডাক্তার না দেখালে কেমন হয় ভাইয়া?’

রৌদ্র আদ্রিতার কথাটাকে পাত্তা দিলো না।আদ্রিতার মাথায় সজোরে একটা চেটে মেরে হাসলো।তারপর কৌতুক কন্ঠে বললো,

‘ খুবই ভালো হয়।ভালোর থেকেও ভালো।আমার পকেটের টাকাটা বাঁচবে।’

‘আমি মজা করছি না।সিরিয়াস।’

‘ তো, তোর কী মনে হয় আমি মজা করছি?আরেহ আমারই তো লাভ!’

আদ্রিতা ভ্র কুচকালো।আদ্রিতার দৃষ্টি দেখে রৌদ্র আবারো বলে উঠলো,

‘ গর্দভ!আমি কী তোকে হসপিটালে ঘুরতে নিয়ে আসার জন্য অফিসের লাঞ্চ টাইমটা এখানে ব্যয় করছি তোর সাথে?’

‘ ভাইয়া।বোনের আবদার ও শুনতে চাস না তুই।’

‘ তো?বোনের আবদার না শুনলে কী আমি মরে যাবো?’

আদ্রিতা কিছু বলতে যাবে তার আগেই রৌদ্রের সাথে ধাক্কা খেলো কেউ।সামনের জনের হাতে থাকা বোতলটা থেকে সব জল গিয়ে পড়লো রৌদ্রের গায়ে।রৌদ্র কয়েক সেকেন্ড থমকে তাকিয়ে থমথমে মুখে চাইলো।সামনে অতি সুন্দরী এক যুবতী।চেয়ারায় একরাশ মুগ্ধতা।সাদা ধবধবে মুখের কপালে এসে জমেছে কিছু চুল।মেয়েটির দিকে একবার তাকিয়েই নজর সরালো সে।কঠিন কন্ঠে বলে উঠলো,

‘ দেখে শুনে হাঁটতে পারেন না নাকি?এতো বড় হয়েও ছোটদের মতো লাফালাফি করছেন কেন?লাফালাফি করে হসপিটালে ছেলেদের থেকে প্রেমপত্র পাবেন আশা করেন?’

অয়ন্তী প্রথম দফায় স্যরি শব্দটা বলবে ভেবেও বললো না।এমন বেয়াদব লোককে সে কিছুতেই স্যরি বলতে পারে না।লোকটার কথায় স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে তারই সমলোচনা।সেই মোটেই লাফালাফি করছিলো না।আর ছেলেদের থেকে প্রমেপত্র এসব তো মাথায় আসে না।ছিঃ!লোকটির চিন্তাধারা কী বাজে!দেখতে তো ভদ্রই লাগছে।বেশভূশা দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরের মানুষটার চিন্তা ভাবনা এতোটা বাজে।তুলি জল খাবে বলে জল খাচ্ছে না তাই তো অয়ন্তী বোতলের মুখ খুলে বোতলভর্তি জল নিয়ে তুলিকে ধরার চেষ্টা করছিলো।আর তার মধ্যেই এই ধাক্কা।তার মনে এমন কোনই উদ্দেশ্য ছিলো না।অয়ন্তীর এমন মুখটা দেখে সামনের লোকটি আবারো বলে উঠলো,

‘ আশ্চর্য!কী করেছেন দেখেছেন?একটুও অনুশোচনা বোধ তো আপনার মুখে ফুটে উঠছে না।নাকি ইচ্ছে করে করেছেন?হ্যান্ডসাম ছেলে দেখেই লেগে পড়েছেন দেখি।’

অয়ন্তীর সাদা ধবধবে মুখটা এবার লালে রক্তিম হয়ে উঠলো।লোকটা বারবারই তাকে নিয়ে বাজেভাবে কথা বলছে।না এসব অপবাদ তো আর এমনি এমনি মেনে নেওয়া যায় না।অয়ন্তী এদিক ওদিক এক নজর তাকালো।তুলিকে কোথাও না দেখতে পেয়ে চিন্তিত হলো।পরমুহূর্তেই তুলিকে হাসপাতালের করিডোরে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিঃশ্বাস পেলো।সামনের লোকটার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকালো।একদম ফরমাল ড্রেসআপে লোকটিকে বিজ্ঞ বিজ্ঞ মনে হচ্ছে।লোকটিকে সে দেখেছে।কোথায় যেন দেখেছে এই মুহুর্তেই মনে পরছে না।তবে সে দেখেছে।একবার নয় বহুবার দেখেছে।কিন্তু কোথায়?অয়ন্তী কিছুক্ষণ ভাবলো উত্তর পেলো না। সামনের লোকটির জলে ভেজা বুকে লেপ্টে থাকা শার্টটি একবার দেখে নিয়ে তাচ্ছিল্যমাখা হাসি নিয়ে বলে উঠলো,

‘ ওভার কনফিডেন্স আপনার মিস্টার।আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে ভাবতে থাকুন আমার মতো মেয়ের কতগুলি প্রেমপত্র থাকতে পারে।ওকে? ‘

রৌদ্র হাসলো।অয়ন্তীকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত নিরীক্ষণ করে নিয়ে হেসে উঠলো।কপালের চুল গুলো এক সাইডে ঠেলে দিয়ে বললো,

‘ কোথায় আপনার শরীরে কোথাও প্রেমপত্র নেই যে।এক নজর নয় অনেক বার তাকালাম।দেখলাম না যে।’

‘ শাট আপ।আমি আমার শরীরে প্রেমপত্র আছে বলিনি।’

রৌদ্রে ডান চোখের ভ্রু টা উঁচু করে বলে উঠলো,

‘ বলেন নি?’

‘ না।আমি ভাবতে বলেছি।ওকে?আর আমার মতো মেয়ে কখনোই ছেলেদের সাথে যেচে ধাক্কা খেতে যাবে না।’

‘ গ্যারান্টি আছে?’

অয়ন্তী ভ্রু কুচকে তাকালো।

‘মানে?’

‘ধাক্কা খেতে যাবে না এর গ্যারান্টি কার্ড আছে?না মানে এই মাত্রই তো ধাক্কা খেলেন।’

অয়ন্তী বিরক্তে চোখ মুখ কুচকে নিলো।বুঝতে পারলো ছেলেটি ইচ্ছে করেই তাকে বিরক্ত করছে।ছেলেটির প্রতি রাগ জমেছে অনেক।কষিয়ে মুখে একটা থাপ্পড় দিতে পারলেই শান্তি পেতো।কিন্তু তেমন কিছু আর করা হয়ে উঠলো না অয়ন্তীর। বিরক্তিতে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে জোরে বলে উঠলো,

‘ বেয়াদব লোক।ফালতু।খেয়ে দেয়ে আর কোন কাজ নেই তাই মেয়েদের পেছনেই পড়ে থাকেন রাইট?হসপিটালের মতো জায়গাতে এসেও এসব ছাড়েন না।অসহ্য।’

অয়ন্তী কথাটা বলেই হুরহুর করে অন্যদিকে এগোলো।লোকটির সামনে আর এক মুহুর্তও দাঁড়ানোর ইচ্ছে নেই তার।আদ্রিতা ভাইয়ের দিকে অপলক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে।সে এর আগে কোন মেয়েকে এভাবে টিজ করতে দেখেনি তার ভাইয়াকে। দু বোনের সাথে ফাইজলামো সম্পর্কটা সেই ছোটবেলা থেকে।দু বোন ব্যাতীত অন্য কোন মেয়ের সাথে রৌদ্র ইতোপূর্বে এমনটা করেছে কিনা সন্দেহ।আদ্রিতা কিছুটা সময় ভাবলো।না করে নি।সে কখনো তার ভাইকে এমন ছ্যাচড়ামো করতে দেখে নি।মুহূর্তে মুখের কোণে বাঁকা হাসি ফুটলো।রৌদ্রের হাতে চিমটি কেঁটে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।তারপর গম্ভীর ভাব নিয়ে বলে উঠলো,

‘ মিস্টার আদনান মাহমুদ রৌদ্র মেয়েটাকে আপনার মনে ধরেছে?’

রৌদ্র কপাল কুচকে তাকালো।কিছু বলার আগেই আদ্রিতা আবারো বলে উঠলো,

‘ না মানে ভাইয়া মেয়েটা আসলেই সুন্দরী।কী সাদা।ভাবছি আমার ভাবি বানাবো।দারুন হবে না?চাপ নিস না।তোদের কেমিস্ট্রি টা না হয় আমি জমিয়ে দিবো?হি হি হি…’

রৌদ্র কিছু বললো না।মুখের কোণে হাসি ফুটিয়ে আদ্রিতার মাথায় চাটি মারলো।তার বোনের সামনে এমন একটা ব্যবহার করা মোটেই উচিত হয় নি তার।বোন এবার দিন রাত মাথা খাবে নির্ঘাত!সে এমনটা করলোই বা কেন?সে কী প্রথমেই ” ইটস ওকে ” বলে ব্যাপারটা সমাধান করে নিতে পারতো না?শুধু শুধু বিষয়টাকে পাঁচ মিনিটের ঝঞ্জালে পরিণত না করলেও তো হতো।

হোস্টেলের বেলকনিতে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে দাঁড়িয়ে কিছু একটা ভাবতে ব্যস্ত মেহু।সন্ধ্যা নেমেছে ঘন্টাখানেক হলো।রাতের আঁধারের অস্তিত্বকে বিলীন করতে রাস্তায় সোড়িয়ামের আলোর উদ্ভব।হালকা হাওয়া বইছে। হাওয়াটা মেহুর ভালোই লাগছে।খোলা চুলগুলো আজ বেনুনি করা নেই।সামনে এনে ছড়িয়ে রেখেছে। বেলকনির আলোটা না জ্বালানোতে বেলকনিতে বিরাজ করেছে আলো অন্ধকারের ছায়া।রাস্তায় গাড়ির যান্ত্রিক আওয়াজ মাথার ভেতরটা অতিষ্ঠ করে তুলেছে।মেহু মাঝখান বরাবর সিঁথি করে দুপাশে দুই বেনুনি করে ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে রুমে ডুকবে এমন সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে গেলো।কিছুটা সময় আনমনে কিছু ভাবতেই চোখ দিয়ো ঝরলো কয়েক ফোঁটা নোনতা পানি।মুহুর্তেই হাতটা চলে গেলো মাথার মাঝখান বরাবর সিঁথিতে।চোখের সামনে ভেসে উঠলো জ্বলন্ত একটা স্বপ্ন।না স্বপ্ন নয় বাস্তব!তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া এক বাস্তব।যা এখন শুধুই স্মৃতি।এমনটাতো না হলেও পারতো।মেহুর সাথেই কেন এমনটা হলো?কেন?সবার সামনে কখনো নিজের দুঃখ প্রকাশ করা হয়ে উঠে নি মেহুর।দুঃখ বলতে রাতের আঁধারে বাতি নেভানোর পর ঘুমোনোর সময় আর এই বেলকনিতে যতোটা সময় সে একা দাঁড়িয়ে থাকে।এটুকুই তো তার দুঃখ।মেহু বেলকনির দরজায় অন্য কারোর পায়ের শব্দ শুনেই বাম হাতের তালু দিয়ে মুঁছে নিলো চোখের পানি।উল্টোদিকে ফিরে সোনিয়াকে দেখে নিয়ে মৃদু হাসলো।মেয়েটি তার থেকে জুনিয়র।এবার অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে।রুমের তিনটি বেডের একটিতে মেয়েটিও থাকে।মেহু আর দাঁড়ালো না।রুমের ভেতরে গিয়ে মোবাইলটা হাতে নিলো।অয়ন্তীকে কল করবে ভেবে ও কল করলো না কি বুঝে।কিছুটা সময় পর মোবাইলটা নিজে নিজেই বেঁজে উঠলো।মেহু ভ্রু জোড়া কুচকে তাকাতেই মোবাইলের স্ক্রিনে রিয়াদের নাম্বার দেখলো।অলস ভঙ্গিতে কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রিয়াদ হন্তদন্ত হয়ে বলে উঠলো,

‘ দোস্ত!একটা কাজ করে দিতে পারবি?’

মেহু নির্বিকার ভাবেই বললো,

‘কী কাজ?’

‘ একটা প্রেমপত্র লিখে দে না।’

মেহু এবার মৃদু হাসলো।

‘ কেন?প্রেমিকার জন্য প্রেমপত্র লিখতে পারছিস না?’

‘ আরেহ না।আমাদের মধ্যে কখনোই প্রেমপত্র দেওয়া নেওয়া হয় নি।সমস্যাটা অন্য জায়গায়।অভ্রকে নিয়ে।’

অভ্রের নামটা শুনতেই মুখের হাসিটা উবে গেলো মেহুর। এই ছেলেটার মধ্যে কেমন যেন এক মাদকতা আছে।ছেলেটিকে দেখলেই মেহু চোখজোড়া ফেরাতে পারে না।ছেলেটির নাম শুনলেও যেন কেমন এক অস্থিরতায় ভেতরটা হু হা করে উঠে মেহুর।অভ্রের নাম শুনে নিজের দুর্বলতাটাকে যথাসম্ভব কন্ট্রোল করে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজালো সে।শুকনো ঢোক গিলে বলে উঠলো,

‘ অভ্রকে নিয়ে?’

রিয়াদ বিরক্তিত গলায় বললো,

‘ আরেহ!অভ্রের গার্লফ্রেন্ড রিয়া? ও বায়না ধরেছে ওর বার্থডেতে চিঠি লিখেই উইশ করতে হবে।অভ্র নাকি কোনকালে প্রেমপত্র লিখে নি।অভিজ্ঞতা নেই।বিনয় প্রেম করে না তাই বিনয়কে বললো না।কিন্তু আমাকে বলে বসলো চিঠি লিখে দিতে।কেমনটা লাগে বল?’

মেহুর কন্ঠটা খানিক শক্ত হয়ে এলো।কাটকাট গলায় বললো,

‘ লিখে দে।’

রিয়াদ অসহায় গলায় বললো,

‘ এই পর্যন্ত পনেরোটা পৃষ্ঠা ছিড়ে নিয়েছি। সব লন্ডভন্ড।আমি অতোটাও গুঁছিয়ে লিখতে পারি না।অভ্রকে তো জানিস।প্রচুর রাগী।চিঠি লিখি নি জানলে প্রচুর রেগে যাবে।তার উপর যা গম্ভীর পারলে পনেরো দিন কথাই বলবে না ‘

‘ তো?’

‘ অন্তির বোনের ছেলে হয়েছে।ও ওখানে।প্রিয়া তো অলওয়েজ বয়ফ্রেন্ড।জেনীকে কল করেছিলাম সোজা না।বিনয়কে জিজ্ঞেস করলাম কতগুলো কিল ঘুষি বসিয়ে দিলো।আর তুই আছিস।আমি জানি তুই কোন অনুরোধ করলে না করিস না।প্লিজ!তাছাড়া তুই খুব গুঁছিয়েও লিখতে পারিস।’

মেহু কী রেগে যাচ্ছে?শরীরে ঘাম ছুটেছে।মাথার উপরে ফ্যানটা ভো ভো করে চলছে তবুও সে ঘামছে।হাত পা কেমন যেন কাঁপছে।নিজের প্রিয়জনের প্রিয়তমাকে চিঠি লেখা নিশ্চয় এতো সোজা না।মেহু কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলো,

‘ আমার প্রেম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেই।সো পারবো না। রাখছি।’

মেহু কলটা কেঁটে দিবে এমন সময় রিয়াদ আবারো বলে উঠলো,

‘ এই প্লিজ!অভ্রকে চিঠি লিখে না দিলে ও নির্ঘাত আমার আর রিতুর মাঝে ভেজাল লাগিয়ে দিবে।তাছাড়া তুই তো একবার প্রিয়াকে চিঠি লিখে দিয়েছিলি।প্লিজ!’

মেহু জোরে নিঃশ্বাস ফেললো।অভ্র কী এসব ইচ্ছে করে করছে?অভ্র কী তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্যে করছে?অভ্র কী জানতো রিয়াদ চিঠিটা লিখার জন্য মেহুকে বলবে?হয়তো জানতো।নয়তো জানতো না।আচ্ছা অভ্র কী খুব সহজেই রিয়াদকে একটা মিথ্যে বলে দিলো না?সে কখনো চিঠি লেখে নি?লিখেছিলো তো।কোন একটা সময় সে চিঠি লিখেছিলো।চিঠির লেখনীও খুব ভালো ছিলো।তবে মিথ্যে বললো কেন?মেহু কপালের ঘাম মুঁছে নিয়ে ধীর কন্ঠে বললো,

‘ কাল সকালে দিবো।অভ্র যদি জানে তাহলে তো রাগ করবে হয়তো।’

‘ করবে না।’

মেহু আর কিছু বললো না।কল কেঁটে মোবাইলটা ছুড়ে মারলো টেবিলের এককোণায়। মোটা বইয়ের মাঝখান থেকে লাল রংয়ের এক টুকরো কাগজ নিয়ে লিখতে বসলো চিঠি।দীর্ঘশ্বাস ফেলে কলমটা এগিয়ে নিলো। রুমের একটা মেয়ে বাড়িতে গেছে।আরেকজন বেলকনিতে।রুমের মধ্যে বিরাজ করেছে বিশাল এক নিরবতা।সেই নিরবতায় সঙ্গ দিচ্ছে মেহুর দুঃখগুলোকে খুব সুন্দরভাবে ক্ষণে ক্ষণে বেড়ে যেতে।গলা কেমন শুকিয়ে আসছে তার।চোখজোড়া ভিজে এসেছে।চিঠির পাতায় যেন ভেসে উঠলো উজ্জ্বল ফর্সা মুখের সেই চাহনি।মুখের সেই খোঁচা দাড়ি আর মায়াবি চোখজোড়া।গলার কালো কুচকুচে তিলটা মনে পড়তেই ঢোক গিললো মেহু।টেবিলের নিচে থাকা জলের বোতল থেকে গ্লাসে ঢেলে নিলো জল।তারপর মুহুর্তেই শেষ করে নিলো জলের গ্লাসটা।

#চলব….

( দুঃখিত কালকে গল্প দিতে না পারায়।লেখার সুযোগ হয়ে উঠে নি।রুমে মেহমান থাকায় মোবাইলে মনোযোগ দেওয়া তাদের কাছে নেহাৎই বিশ্রী একটা ব্যাপার।অয়ন্তীর পার্টটা পরশুই লিখেছিলাম ছোট হওয়াতে দেয় নি।মেহুর পার্ট টা এই মাত্র লিখলাম।স্যরি লেট হওয়ার জন্য।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here