অনুভূতি_জুড়ে_তুমি পর্ব_০২

অনুভূতি_জুড়ে_তুমি
পর্ব_০২
লেখনীতে : স্পর্ষীয়া ভূমি(ছদ্মনাম)

সকালের আলো ফুটে উঠেছে উজ্জ্বলভাবে।ফুরফুরে বাতাসটা খোলা জানালা দিয়ে উপচে পড়ছে অয়ন্তীর শরীরে।অয়ন্তী জানালার গ্রিল এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বাইরের প্রকৃতি দেখতে ব্যস্ত।দক্ষিণের জানালাটায় দাঁড়ালে আড়াআড়ি ভাবে অনেকটা দূরে দেখা পাওয়া যায় এক সবুজ মাঠের। সেখানে মাঝে মাঝেই পাড়ি জমায় কিছু ছোট ছেলেমেয়ে।প্রাণবন্ত শিশু গুলোকে দেখলে বরাবরই মন ভালো হয়ে যায় তার।কিন্তু আজ তাদের দেখা নেই সে মাঠে।সবুজ ঘাস গুলো বেশ চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে সূর্যের উজ্জ্বল আলোয়।মাঠে একপাশে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটা লালচে সবুজে ভরে উঠেছে।আকাশের নীলচে সাদা রংয়ের সাথে উঁচু কৃষ্ণচূড়া গাছের সবুজ পাতাকে ঘিরে রাখা লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্যটা অপূর্ব লাগলো অয়ন্তীর কাছে।খোলা চুলগুলো হাত খোপা করে নিয়ে গরম কপির মগটায় চুমুক দিয়ে ভাবনায় মগ্ন হলো।কালকের ঘটনাটা ভেবেই শিউরে উঠলো।বিছানায় পড়ে থাকা মোবাইলটা হাতে নিয়ে ডায়াল লিস্টে মেহুর নাম্বারটা খুঁজে নিয়ে কল করলো।মেহু বরাবরই সময় অনুযায়ী চলে। কোন কালে কল করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় নি।কিংবা কোনকালে কল করে অপেক্ষাও করা লাগে নি তার জন্য।এবার ও লাগলো না দুবার রিং হতেই ওপাশ থেকে পরিষ্কার কন্ঠে বলে উঠলো মেহু,

‘ এখন কেমন ফিল করছিস অন্তি?কালকে হঠাৎ এমনটা হলো কেন তোর?কোন কিছু দেখে ভয় পেয়েছিলি?’

অয়ন্তী বরাবরই মেহুর বন্ধুত্বে মুগ্ধ হয়।তার বন্ধুমহলের সবগুলো বন্ধুর থেকেও এই মেয়েটাকে দেখলেই মনে হয় মেয়েটা সবাইকে প্রচুর বোঝে।প্রচুর বুঝদ্বার মেয়ে সে।বন্ধুমহলের সবার থেকে হাইয়েস্ট নাম্বার পেয়েও এতোটুকুও অহংকার বোধ নেই তার।মেয়েটা এতো কেন সরল?কেউ বকে দিলে ও মুচকি হেসে তা মেনে নেয়।কোনকালে কারো সাথে ঝগড়া করেছে কিনা মনে নেই অয়ন্তীর।অয়ন্তী মুচকি হেসে জবাব দিলো,

‘ শোন, একটু আমার বাসার সামনে আসতে পারবি?তোর সাথে কথা ছিলো।’

‘ এখন?’

‘ হ্যাঁ রে।কালকের বিষয়টা নিয়ে।’

‘ ইম্পোর্টেন্ট কিছু অন্তি?না মানে ভার্সিটিতে আসলেও তো বলতে পারিস।’

অয়ন্তী গলা খাকরি দিয়ে বললো,

‘ আমি আজ ভার্সিটি যাবো না।মানে যেতে ইচ্ছে করছে না রে। তুই প্লিজ আসবি?এখন তো সাড়ে সাতটা বাঁজে। তুই বরং এখনি আমার বাসায় চলে আয়।এক কাপ কফি খেয়ে বাসার সামনে মাঠটায় বসবো।তুই তো আবার কোন ক্লাস মিস দিস না।’

মেহু কিছুটা সময় নিরবতার পর বললো,

‘ আচ্ছা আমি আসছি।তুই চাপ নিস না অন্তি।’

রৌদ্র বাসের জানালা ঘেষা একটা সিটে বসে আছে। বাসের জানালা দিয়ে ঝাপটে আসছে ঠান্ডা ফুরফুরে বাতাস।কপালে এসে পড়েছে ঘাড় কালো চুলের একাংশ।গাঁয়ে ব্ল্যাক কালারের টিশার্টের উপর ব্লু কালারের শার্ট।হাতা গুলো গুটানো রয়েছে কনুই পর্যন্ত।কানে ইয়ারফোন জুড়ে দিয়ে গান শুনাতে মগ্ন।দৃষ্টি ছুটন্ত জানালার বাহিরের দৃশ্যে।হঠাৎ গানের বদলে মোবাইল রিংটোন বেঁজে উঠায় অবাক চাহনিতে তাকালো সে। মোবাইলের স্ক্রিনে “আদি বুড়ি” নামটা দেখে মৃদু হাসলো।ইয়ার ফোনটা কান থেকে খুলে নিয়ে মোবাইলটা কানে নিয়ে বলে উঠলো,

‘ কী হলো বুড়ি?আসবি না নাকি?না আসলেই ভালো আমার খরচটা বাঁচে।’

‘ ভাইয়া!আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি এবার।’

‘ তাই নাকি?তোর ছোট্ট শরীরে এতো রাগ আসে কোথায় থেকে কাইন্ডলি একটু বলবি?জানলে সুবিধা হতো।’

‘ তোর বউয়ের মাথা থেকে।হইছে?’

‘ আমি বাসে।ঝগড়া করার জায়গা না এটা।মানুষজন কেমনে তাকাচ্ছে।নয়তো বুঝাইতাম তোরে আমার বউ নিয়ে কথা বলার মজা।বল কী জন্য কল করেছিস?’

‘ তোকে হোস্টেল পর্যন্ত আসতে হবে না।আমি বাসস্ট্যান্ডে ওয়েট করবো।আটটায় রওনা দিবো হবে?’

‘ ভালোই।আমাকে আর তোর হোস্টেলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে না।হোস্টেলে মানুষ থাকে কেমনে?এটাই তো বুঝে উঠি না।আমি আটটা পঁচিশ,ত্রিশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবো।’

‘ এমনে থাকে।ওকে রাখছি ভাইয়া।’

‘ খেয়াল রাখিস নিজের বুড়ি।’

সবুজ ঘাসে মিইয়ে থাকা মাঠে চারপাশে রয়েছে কয়েকটা ইট সিমেন্টের তৈরি বসার জায়গা।তেমনই একটা ইট সিমেন্টের তৈরি বসার জায়গায় বসে আছে অয়ন্তী আর মেহু।দুজনই জুতোজোড়া খুলে একপাশে রেখে সতেজ সবুজ ঘাসে পা রেখেছে।মাঠের ঠান্ডা ফুরফুরে বাতাসটায় অদ্ভুত শান্তি।মেহু এই বাতাসটা শান্ত হয়ে অনুভব করলেও অয়ন্তী পারছে না।সে কোথায় থেকে কোথায় পর্যন্ত বলবে খুঁজে পাচ্ছে না।গুলিয়ে ফেলছে সব।মেহু অয়ন্তীর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই অয়ন্তী বার কয়েক জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে মেহুর ডান হাতটা শক্ত ভাবে জড়িয়ে ধরে।তারপর ধীর কন্ঠে বললো,

‘ কালকে আমার অবস্থা এমনি এমনি এমন হয় নি মেহু।এর পেছনে বিস্তর কারণ আছে।’

মেহু উৎসুক দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করলো,

‘ কী কারণ সেটা বলবি তো অন্তি?’

‘ আমি শাড়ির পিন ঠিক করতে ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম।কিন্তু ওয়াশরুমের সামনে পাঁচ কী ছয়জন দাঁড়িয়ে ছিলো।তাই সিদ্ধান্ত নিলাম কোন ক্লাসরুমে ঠিক করে নিবো।এমনিতেও সবাই মাঠে।কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে ওদিকটায় কেউ ছিলো না বললেই চলে।তাই বেঁছে বেঁছে ওখানেই গেলাম।শাড়ির পিনটা ঠিক করে নিয়ে চলে আসবো এমন মুহুর্তেই মনে হলো কেউ আমার পিঠে হাত দিলো।ভয়ে শিউরে উঠলাম।আমি পেছন ফেরার চেষ্টা করলাম।কিন্তু তা আর হয়ে উঠলো না।আমার চোখজোড়া হাত দিয়ে চেপে ধরলো।তারপর চিৎকার করার চেষ্টা করতে আরেক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরলো।আর আমাকে ইঙ্গিত করে অনেক গুলো খারাপ কথা বললো।লোকটার সাহস হয় কী করে আমাকে এসব বলার?’

মেহু অবাক হলো।চোখজোড়া বড়বড় করে জিজ্ঞেস করলো,

‘মানে?আমাদের ভার্সিটিতে এমন ঘটনা?’

‘হ্যাঁ’

‘লোকটা কে ছিলো?’

অয়ন্তী ভাবহীন ভাবে মেহুর দিকে তাকালো।নিরাস কন্ঠে বললো,

‘আমি জানি না।তবে আমাদের ভার্সিটিরই কোন স্টুডেন্ট।আমি নিশ্চিত।’

‘অন্তি হতে পারে লোকটা তোকে ভালোবাসে?’

মেহুর কথাটা শুনেই মনে পড়লো কপালে সেই নরম ঠোঁটজোড়ার স্পর্ষ।সঙ্গে সঙ্গে শিউরে উঠলো সারা শরীর।চোখে মুখে খোচা দাঁড়ির স্পর্ষটাও ভাবিয়ে তুললো তাকে।লোকটার তবে দাঁড়ি আছে।মেহুর দিকে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে উঠলো,

‘ মেহু লোকটার দাঁড়ি আছে শিউর।আর লোকটা খুব বলিষ্ঠ হবে।শরীরে অনেক শক্তি ছিলো।নিজেকে ছাড়ানোর এতো চেষ্টা করলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলাম না।’

অয়ন্তীর কথা শুনে মেহু মাথায় হাতের উল্টো পাশ দিয়ে চাটি মেরে বলে উঠলো,

‘ পাগল, আজকাল দাঁড়ি সবার আছে প্রায়শই।আর ছেলেরা অধিকাংশই বলিষ্ঠ শরীরের অধিকারী।ভার্সিটিতে এমন অহরহ ছেলে আছে।আমাদের বিনয়, রিয়াদ আর অভ্রেরর শরীরে গড়ন তেমন মুখে দাঁড়িও তো আছে সবার। ‘

অয়ন্তী বোকা বোকা চাহনিতে তাকালো।হতাশ কন্ঠে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো,

‘ তবে তাকে ধরতে পারবো না?আমার প্রতি যা অন্যায় করেছে সে তার প্রতিশোধ?জানিস ভয়ে মরেই যাচ্ছিলাম বোধ হয়।আমার হাত গুলো এখনো ব্যাথা করছে এতোটা শক্ত করে ধরেছে।’

‘ একটা ভার্সিটিই তো।কোন না কোন ভাবে পেয়ে যাবি।লোকটা এতকিছু যখন করেছে কোন না কোন কারণ তো আছেই না?আর যেহেতু কারণ আছে সেহেতু আবারো হয়তো তোরা দুইজন সংস্পর্ষে চলে আসলি।বলা যায় না।এজ এ মিরাক্কেল হয়তো লোকটাকে ধরেও পেললি কোন একদিন।তারপর নাহয় আমরা সাতজন মিলে ধুমছে মারবো তারে।ওক্কে?’

অয়ন্তি আর মেহু দুজনই হাসলো।কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে উপুড় হয়ে বসে ঘাসে পড়ে থাকা কিছু ঝরে যাওয়া ফুল খুঁজতে ব্যস্ত হলো দুজনই।মেহুর মনে পড়লো গ্রামের তাদের বাড়ির উঠোনে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটার কথা।গাছের নিচে বাবা সহ কতোই না আড্ডা জমিয়েছে সে।মা এসে কতোই না ধমকি দিতো।কৃষ্ণচূড়া ফুলের সবুজ অংশটা নখে লাগিয়ে বাবাকে ভয় দেখিয়ে বলতো,” বাবা আমি কিন্তু এখন পেত্নি হয়ে গিয়েছি।দেখো আমার নখ কত বড়?”মেহু স্মৃতিগুলো ভেবেই দীর্ঘশ্বাস পেললো।হোস্টেলে পৌঁছেই বাবাকে কল করবে সে।কথা বলতে হবে মায়ের সাথে ছোট ভাইয়ের সাথেও।কিছু কৃষ্ণচূড়া ফুল কুড়িয়ে নিয়ে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ালো মেহু।গায়ে ঢোলা সালোয়ার কামিজটা ঠিক করে নিয়ে বেনুনিটা পিঠে ঠেলে দিয়ে বলে উঠলো,

‘ আমি আসি অন্তি।লেট হয়ে যাবে নয়তো।’

অয়ন্তী সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালো।মেহুর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ধীর কন্ঠে বললো,

‘ শোন বিষয়টা কাউকে বলিস না।প্রিয়া তো একটা বাঁধরের হাড্ডি।জেনি আর অভ্র যা আছে প্রিয়া, বিনয় আর রিয়াদ নিশ্চিত ট্রল করবে।তার চেয়ে থাক।তোকে এই জন্য বলেছি কারণ মনে হলো বিষয়টা কারো সাথে শেয়ার করলে ভালো লাগবে।আর তুই যে কাউকে বলবি না তা আমি জানি।পুরো চাপা স্বভাবের মেয়ে তুই।সকাল থেকেই মনটা উশখুশ করছিলো তাই তোকেই বললাম।’

মেহু মৃদু হেসে জবাব দিলো,

‘ আচ্ছা।কাউকে বলবো না।খুশি?’

‘ হ্যাঁ।ভার্সিটিতেই যাবি এখন নাকি?’

‘ হ্যাঁ।ভার্সিটিতে যাওয়ার পথে একবার হোস্টেলে যাবো।কিছু শিট নিতে ভুলে গিয়েছি।’

‘ একা যাবি?না মানে অভ্রদের বাসাও এই গলিতে। তুই চাইলে ওর সাথে যেতে পারিস।ভার্সিটিতেই তো যাবি দুজন।আমি কল করে বলি?’

‘ নাহ রে। থাক। বাদ দে।’

কথাটা বলতে না বলতেই সেখানে উদ্ভব ঘটলো অভ্রের।অভ্রকে দেখেই মেহুর নজরটা আটকে গেলো অভ্রের দিকে।রেড কালারের শার্টে ভীষণ মানিয়েছে তাকে।মুখের খোচা দাঁড়িটা ফুটে উঠেছে উজ্জ্বল ফর্সা মুখে।মেহুর তাকিয়ে থাকার মাঝেই তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো অভ্র।মেহু আর অয়ন্তীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নির্বিকার গলায় বলে উঠলো সে,

‘ অন্তি ভার্সিটি যাচ্ছিস নাকি?’

অন্তির উত্তর,

‘ নাহ রে।আজ যাবো না।কিন্তু মেহু যাবে।তোরা দুজন বরং একসাথে চলে যা।’

অভ্র মেহুর দিকে একনজর তাকিয়ে হাতে থাকা কালো বেল্টের ঘড়িটার দিকে নজর দিলো।তারপর মৃদু কন্ঠে বললো,

‘ ও যাবে?’

‘ হ্যাঁ।তোরা একসাথে গেলে ভালোই হয়।’

মেহু চুপ রইলো।প্রতিবারের মতো এবারও অভ্রের প্রতিক্রিয়াটা দেখার অপেক্ষা করলো।অভ্র এদিক ওদিক তাকিয়ে উশখুশ করে বলে উঠলো,

‘ মেহু তুমি একা যেতে পারবে না?এখান থেকে ভার্সিটি তো অতোটা দূর না।নিশ্চয় চেনো রাস্তাটা।রাইট?’

মেহু জানতো এমন কিছুই হবে। বুকের ভেতরের কষ্টটা দমিয়ে রেখে মৃদু হাসলো।

‘ তুই যেতে পারিস অভ্র।আমি একা আসতে যখন পেরেছি একা যেতেও পারবো।অন্তি শুধু শুধু চাপ নিচ্ছে।আর শোন তুই তো এমনিতেও আমার সাথে কথা বলিস না তেমন।যাও বলিস আমি আগ বাড়িয়ে বললে বা একপ্রকার বাধ্য হয়েই।সে যায় হোক তোকে কতবার বলা লাগবে তুমি বাদ দিয়ে তুই বলিস।বন্ধুত্বে তুই টাই বেশি মানানসই।রাইট?’

অভ্র কিছু বললো না।তার মস্তিষ্ক ভেবেছিলো মেহু তার সাথে যেতে চাইবে।পথ চিনে না কিংবা একা যেতে পারে না এমন কিছু বলবে কিন্তু মেহু তেমন কিছুই বললো না।অভ্র বুঝে উঠে না মেহু এমন কেন?আজ তিনবছর মেহু অভ্রকে ভালোবাসে অথচ কোনদিন মুখ ফুটে বলে নি।কেন?মেহু প্রকাশ করে দিলে অভ্রের পক্ষে মেহুকে অপমান করতে তো সহজই হতো।কীসের এতো অহংকারবোধ মেয়েটার? পড়ালেখায় একটু ভালো হলেই কী এতো অহংকার দেখানো লাগে?অভ্রের কাছে বরাবরই মেহুর সরলতাটা ন্যাকামি বলেই মনে হয়।মেহুর বোকা বোকা মায়াবি চেহারাটাও অভিনয় মনে হয়।অভিনয় মনে না হওয়ারই বা কী আছে?যে তিন তিনটা বছর কাউকে ভালোবেসে ভালো না বাসার অভিনয় করতে পারে সে তো যে কোন কিছু নিয়েই অভিনয় করতে পারবে।অভ্র কথা না বাড়িয়ে পথ এগুলো।মেহুর মতো থার্ডক্লাশ মেয়ের সাথের কথা বলার চেয়ে না বলাটাই উত্তম তার মতে।

রিক্সার সিটে বসে আছে আদ্রিতা।মনে তার ভীষণ আনন্দ।কতদিন পর বাসায় যাচ্ছে সে।কতদিন মা বাবা ভাইয়ার সাথে দেখা হবে তার।আবার আড্ডা জমাবে।হৈ হুল্লুড় করে আনন্দ করবে।ভাবতেই আনন্দে ভরে উঠছে মনটা।খুশির ঝিলিক স্পষ্ট মুখে এসে জমেছে।খুশি ভাবটা আর জমলো না। তার আগেই সামনে ব্ল্যাক কালারের একটা কারের সাথে ধাক্কা রিক্সটার।তাল সামলাতে না পেরেই রাস্তার অমসৃন জমিতে উপছে পড়লো সে।
হাত পায়ের কিছুটা অংশ কেঁটে গেলো অমসৃন রাস্তার ঘষাতে।কপালের বামদিকে ও হালকা কেঁটে গিয়েছে।উঠার চেষ্টা করতেই ব্যর্থ হলো সে।বার কয়েক চেষ্টা করেও উঠতে পারলো না সে।অসহায় ভঙ্গিতে এদিক ওদিক তাকাতেই নেমে আসলো সামনের কালো কার থেকে এক লোক।হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসেই বলে উঠলো সে,

‘ আপা ঠিক আছেন?আসলে ভুলে হই গেলো।আমি ইচ্ছে করে করি নাই আপা।’

অাদ্রিতা অসহায় চাহনিতে তাকালো।তার চেনাজানা কেউ নেই এখানে।ভাইয়া, মা, বাবা কারো অস্তিত্ব নেই চারপাশে। চারদিকে ঘুরেফিরে তাকিয়েও কাউকে পেলো না যাকে সে চেনে।অন্যদিকে ডান পায়ের হাঁটুটা শিরশিরিয়ে ব্যাথা করছে।গোঁড়ালিও সে ব্যাথার সাথে তাল মিলিয়ে দ্বিগুণ গতিতে ব্যাথায় মেতেছে।ব্যাথার চোটে কান্নাটা ধুমচে আসছে।কিন্তু এতোগুলো লোকের সামনে কান্না করাটাও তার সম্মানে লাগবে।তাই কান্না আটকানোর অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে।সামনে থাকা লোকটার দিকে আরেক পলক তাকালো সে।গায়ের পোশাক – আশাক এটাই জবাব দিচ্ছে সে ড্রাইভার।আদ্রিতার কিছু বলার অপেক্ষা না করে লোকটি তার গাড়ির কাছে এগিয়ে গেলো।গাড়ির জানালায় মুখ ডুবিয়ে দু এক মিনিট কিছু বলে আবার এগিয়ে আসলো।মুখ কাচুমাচু করে কিছু বলার আগেই রিক্সাওয়ালা লোকটার কলার চেপে ধরে ধমকি দিয়ে বলে উঠলো,

‘ কী পাইছেন কী?বড় গাড়ি থাকবো বইলা কী এমনে তালবেতাল গাড়ি চালাইতে হই নাহি?বাকিগো জীবনের দুই ট্যাহা ও দাম নাই?আমগো কথা ছাইড়াই দিলাম মাইয়াড়ার আরোও বড় কিছুও তো হইতো পারতো।তহন?তহন কী হইতো?’

চারদিকে জড়ো হলো আরো অনেক মানুষ।ড্রাইভারকে ইচ্ছেমতো বকতে লাগলো সবাই।সাথে দু চারটে কিল ঘুষিও।তৈরি হলো বিশ্রী একটা ঘটনা।ড্রাইভার একা পেরে উঠলো না সবার সাথে।অসহায় দৃষ্টিতে কিল ঘুষি হজম করে দাঁড়িয়ে থাকতেই কেউ একজন এসে লোকগুলোর মাঝে দাঁড়িয়ে জোরে বলে উঠলো,

‘ স্টপ।স্টপ প্লিজ।’

লোকগুলো ঐ লোকটার দিকে তাকালো।মুখে মাস্ক চোখে চশমা।মুখ দেখার উপায় নেই।তেড়ে এসে সবাই মিলে কিছু বলার আগেই লোকটা ড্রাইভারকে সরিয়ে দিলো সেখান থেকে দাঁতে দাঁত চেপে ড্রাইভারের কানের কাছে বলে উঠলো,

‘ স্টুপিড!গাড়ি চালানোর সময় ধ্যান কোথায় ছিলো তোমার?’

ড্রাইভার কিছু বললো না তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে চলে গেলো।ড্রাইভারের যাওয়ার পথে একনজর তাকিয়ে এবার রাস্তায় পড়ে থাকা মেয়েটার দিকে নজর দিলো সে।ফর্সা ধবধবে মুখটা লালচে হয়ে উঠেছে।মাথার চুলগুলো তেমন লম্বা না।তবুও মেয়েটির সাথে মানিয়েছে।মেয়েটিকে গুলুমুলু দেখতে।অতোটা স্লিম বডি না থাকলেও দেখতে ভারীই মিষ্টি লাগছে।পিচ্চি একটা মেয়ে।ছেলেটি মেয়েটির গুলুমুলু লালচে মুখটা দেখে ভাবলো ছোটবেলায় মায়ের কাছে এমনই সুন্দর একটা বউয়ের আবদার করতো সে।যাকে দেখতে বাচ্চার মতো হবে।কথাটা ভেবেই নিরব মৃদু হাসলো।তবে সে হাসি বাইরে থেকে দেখা গেলো না। মাস্কের ভিতরেই লুকায়িত রয়ে গেলো। মেয়েটির থেকে নজর সরিয়ে রিক্সা ওয়ালার কাছে এগিয়ে গেলো।একহাজার টাকার চকচকে সাতটা নোট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো,

‘ রিক্সার ক্ষতি হলে ঠিক করে নিবেন।কোথাও চোট লাগলে ডাক্তার দেখিয়ে নিবেন চাচা।’

রিক্সাওয়ালা আর কিছু বললো না।নিরব জানে কাকে কীভাবে ম্যানেজ করতে হবে।সামনে থাকা মেয়েটির দিকে পা এগিয়ে এসে বলে উঠলো,

‘ আর ইউ ওকে?স্যরি স্যরি।ইটস এ মিসট্যাক।প্লিজ ফরগিভ মি।আ’ম একস্ট্রেমলি স্যারি ফর দ্যাট।’

আদ্রিতা অসহায় দৃষ্টিতে ড্যাবড্যাব করে মাথা উঁচিয়ে উপরের দিকে তাকালো।বলিষ্ঠ দেহের লম্বাচওড়া একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।ব্ল্যাক কালারের ব্লেইজারের ভেতর উঁকি দিচ্ছে হোয়াইট কালারের শার্ট।হাতে কালো বেল্টের ঘড়ি।চোখে রয়েছে কালো সানগ্লাস।মুখ ডাকা কালো মাস্কে।মাথার কালো সিল্কি ঘন চুল গুলো ঝুকে পড়েছে কপালে।লোকটির বৃহদাকার শরীর দেখে এটা বুঝতে পারলো লোকটি নিজের মুখটা আড়াল রাখছে।লোকটি কী তবে ভয়ে মুখ লুকিয়ে রাখছে?রাস্তায় এমন একটা দূর্ঘটনা ঘটিয়ে ভয়ে মুখ লুকিয়ে রাখছে?পুরুষ মানুষ হয়েও এতো ভীতু!আদ্রিতা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো।লোকটার লম্বাটে শরীর থেকে নজর সরিয়ে রাস্তার জমিনে এদিক ওদিক তাকিয়ে মোবাইলটা খুঁজে চলেছে আদ্রিতা।মোবাইলটা তার হাতেই ছিলো।হঠাৎ পড়ে যাওয়াতে কোথায় গিয়ে পড়লো কে জানে।এদিক ওদিক তাকাতেই অনেকটা দূরে দেখা গেলো নিজের গোলাপি কার্টুনের কভারে ঘেরা মোবাইলটা।অনেক চেষ্টা করেও সে উঠে দাঁড়াতে পারলো না। সামনের লোকটা বুঝতে পেরে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ো বললো,

‘ মে বি আপনার পা ডেমেজ হয়েছে তাই উঠতে পারছেন না।আমি আপনাকে উঠতে সাহায্য করি?’

আদ্রিতা কোন উত্তর দিলো না।চোখজোড়া লাল হয়ে উঠেছে।আর কান্না আটকাতে পারছে না সে।চোখের জলগুলোও আর বাঁধ মানলো না।চোখজোড়া বেয়ে নরম ফর্সা মুখটা ভিজিয়ে দিলো নোনতা পানি।আদ্রিতা অপরিচিত লোকটার হাতটা জোড়ালো ভাবে ধরে উঠার চেষ্টা করলো। কাজ হলো না।পায়ে ব্যাথা টনটন করছে।দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথাটা সহ্য করার চেষ্টা করে মৃদু গলায় বললো,

‘আমার মোবাইলটা দিতে পারবেন?’

লোকটা কথাটা শুনে এদিক ওদিক তাকিয়ে মোবাইলটা এক হাতে তুলে নিয়েই এগিয়ে দিলো।আদ্রিতা মোবাইলটা দ্রুত হাতে নিয়ে ভাইকে কল দিলো।ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই আদ্রিতা কাঁপা কন্ঠে বলে উঠলো,

‘ ভা ভাইয়া আমার পা ভেঙ্গে গেলো মনে হয়।আমি দাঁড়াতে পারছি না।বাসস্ট্যান্ডের অল্প দূরে রাস্তায় পড়ে আছি আমি ভাইয়া।ভাইয়া আমি বোধ হয় আর হাঁটতে পারবো না।’

কথাটা বলতেই কান্নার বেগটা দ্বিগুণ হলো আদ্রিতার। ওপাশ থেকে বোনের কান্নার মিশ্রনে কন্ঠ শুনে কপালে ভাজ পড়ে গেলো রৌদ্রের।উদ্বিগ্ন গলায় বলে উঠলো,

‘ এই কী হয়েছে তোর?তুই কান্না করছিস কেন?’

আদ্রিতা আর কিছু বলতে পারলো না।কান্নায় গলাটা আরও ভেঙ্গে পড়লো।কথা বলার চেষ্টা করলেও কান্না থামিয়ে কথা বলাটা আর হয়ে উঠলো না তার।জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে আবারো ঢুকরে কেঁদে উঠলো সে।সামনের অচেনা লোকটি কিঞ্চিত বিরক্ত হলো।এতোক্ষণ তো এভাবে কাঁদে নি।এখন এমন হাউমাউ করে কাঁদা আরম্ভ করলো কেন বুঝে উঠলো না। ভ্রু জোড়া কয়েক সেকেন্ড কুচকে নিয়েই সামনের হাঁটু গেড়ে বসে থাকা মেয়েটার থেকে ফোনটা কেড়ে নিলো।কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বলে উঠলো,

‘ আপনি উনার কী হন?’

রৌদ্র অবাক হলো।সাথে অজানা ভয়টা আরো বেশি করে চেপে উঠলো বুকে।নিজেকে শান্ত রাখার বৃথা চেষ্টা করে বলে উঠলো,

‘ আপনি কে?আমি ওর ভাই হই।’

‘ এক্জেক্টলি আমার গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়েছে উনার রিক্সাটা।ছোটখাটো এক্সিডেন্ট বলতে পারেন।আই থিংক উনার বড় কোন ক্ষতি হবে না।মে বি পা ভেঙ্গে বা মচকে গিয়েছে।আই এম এক্স্ট্রেমলি স্যরি ফর দ্যাট।বাট আমি সব কিছুর দায়িত্ব নিবো।পালিয়ে যাচ্ছি না।প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন।ভুলবশতই হয়ে গিয়েছে ঘটনাটা।’

রৌদ্রের কপালের রগটা এবার ফুলে উঠলো।চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো মুহুর্তেই।শ্যামবর্ণের সুদর্শন মুখটায় দেখা গেলো রাগের আভা।অতিসুন্দর চোখজোড়াও লাল আকার ধারণ করলো কয়েক সেকেন্ডে। রাগ,ক্ষোভ,ভয়, হতাশা সব জড়ো হলো কয়েক সেকেন্ডেই কিছু শব্দ শুনেই।হয়তো সে হোস্টেলে গিয়ে বোনকে আনলে এমন কিছুই হতো না?তার বোনের জম্মদিনের সারপ্রাইজটা এমন বাজে ভাবে নষ্ট হতো না?তার বোন ঠিক আছে তো?আদি বুড়ি বলে শয়তানির ছলে বোনের মিষ্টি হাসিটা দেখবে তো সে? চুল টেনে দেওয়া, মাথা চাটি মারা এসব কী সম্ভব হয়ে উঠবে আদৌ কখনো?নিজের ভেতরের অবাধ্য চিন্তাগুলোকে শক্তপোক্ত ভাবে চেপে রেখে জোড়ালো নিঃশ্বাস নিয়ে ক্ষিপ্ত গলায় বললো,

‘গাড়ি চালানোর সময় চারদিকের দৃশ্য দেখতে পান না নাকি মিঃ?সামনে রিক্সা আছে নাকি কী আছে সেটা দেখা আপনাদের কর্তব্যই নয় রাইট?নাকি ড্রাংক হয়ে গাড়ি ড্রাইভ করেন?গার্লফ্রেন্ডের সাথে ফোনালাপে ব্যস্ত ছিলেন?আমার বোনের যদি কিছু হয় তো আপনার নামে থানায় ডায়েরি করা হবে।আমি ছাড়বো না।’

প্রায় আধঘন্টা শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলে অয়ন্তী।চুল গুলো সাদা তোয়ালে তে জড়ানো।পরনে কালো রংয়ের প্লাজু আর টিশার্ট।বিছানায় অলস ভঙ্গিতে বসে পড়তেই ধুম করে পড়ে গেলো টেবিলে থাকা ব্যাগটা।ভ্রু জোড়া কুচকে সেদিকে তাকিয়ে বিরক্তিকে কপাল কুচকে নিলো অয়ন্তী।ধীর পায়ে টেবিলের কাছে গিয়ে ব্যাগের জিনিসপত্র গুলো গুঁছিয়ে ব্যাগে ঢুকানোর মধ্যে আবিষ্কার করলো ভারী চমৎকার কিছু।অবাক চাহনিতে কিছুটা সময় ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস পেললো সে।ঠোঁটজোড়া লালা দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে ফ্লোরে পড়ে থাকা হলুদ রংয়ের কাগজটার দিকে চোখ বড়বড় করে চাইলো।হলুদে কাগজের এক পাশে একটা গোলাপ ফুলও কস্টেপ দিয়ে লাগানো আছে।গোলাপ ফুলটা সতেজ লাল টুকটুকে না।কালচে হয়ে এসেছে পাপড়ি গুলো।ডাটা সবুজ থেকে সবুজে কালোর মিশ্রণ জমিয়েছে।হলুদ কাগজটা কাঁপা হাতে তুলে নিয়ে মনে মনে পড়তে আরম্ভ করলো সে,

প্রিয়তা,

তোমাকে বরাবরই দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।তবুও আমি তোমাতে নতুন করে বার বার মুগ্ধ হই।তুমি কী মুগ্ধতার রানী?তোমার সবকিছুতেই এতো মুগ্ধতা জমিয়ে রাখো কেন প্রিয়তা?আমাকে ক্ষণে ক্ষণে মারার কৌশলই কী তবে এই মুগ্ধতা?তুমি জানো তোমাকে প্রতি ক্ষণে দেখে নিয়েই অদ্ভুত যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠে আমার হৃৎপিন্ডটা?আমার সে তীব্র ব্যাথা তুমি অনুভব করো কী প্রিয়তা?রোজ আমার স্বপ্নে এসে আমার ঘুমেও বিঘ্ন ঘটাও তুমি।এতোটা নির্দয় না হলে ও তো পারা যেতো। কেন এতো নির্দয় তুমি? আচ্ছা মেয়েরা কী এতোটা নির্দয় হয়? রোজকার মতো আজও কী তোমার সৌন্দর্যে মুগ্ধতায় আমাকে না জড়ালে হতো না? তোমার সৌন্দর্যে তীব্র দহনে জ্বলে পুড়ে শেষ হবার উপায় যে আমার।তুমি কী বুঝতে পারো না?বাসন্তী রংয়ের শাড়ি,চোখে কাজল, ঠোঁটে লাল লিপস্টিকটায় অপূর্ব দেখতে লাগছিলো তোমায়।এতোটা সুন্দর না হলেও পারতে।বেলিফুলের মালাটা জড়িয়ে নিয়ো তোমার কালো লম্বা চুলে।প্রিয়তাকে কী বেলফুল ছাড়া মানায়? আমার কাছে মানায় না।আমি তো বেলিফুলের মায়ায় প্রিয়তার প্রেমে পড়েছিলাম।তাহলে কী বেলিফুল ব্যাতীত কল্পনা করা যায় প্রিয়তাকে?

ইতি,

প্রেমিক পুরুষ!

অয়ন্তী চোখ বড় বড় করে চেয়ে রইলো।এই চিঠি তার ব্যাগে কোথায় থেকে আসলো?চিঠির উল্টো পাশে পাওয়া গেলো একটা বেলিফুলের মালা সাদা সুতো দিয়ে বাঁধা।তবে বেলিফুলের সাদা রংটা বাদামি রংয়ে পরিণত হয়েছে।অয়ন্তী কিছুটা সময় ভাবার পরই তার মস্তিষ্ক চমৎকার এক উত্তর দিলো।সে উত্তরেই ভেঙ্গে গেলো তার সব কৌতুহলের জাল।এই চিঠিটা ও সে দিয়েছে।বাসন্তি রংয়ের শাড়ি তো সে কালকেই পরেছে।লোকটা তার চোখ বন্ধ থাকায় অবস্থায় এসব তার ব্যাগে রেখে দিয়েছে।তাই বেলিফুল আর গোলাপ ফুলটা বাসি হয়েছে।অয়ন্তী মুহূর্তেই সব বুঝে গেলো।যেহেতু সে কাল ভার্সিটি থেকে ফেরার পর মোবাইলটা নিয়েই আর ব্যাগ ধরে নি তাই এসব তার চোখেও পড়ে নি।অয়ন্তী কপাল কুচকে ভাবতে লাগলো সে কী আদৌ চেনে এই পত্রলেখককে?এই পত্রলেখক কী তারই কোন পরিচিত?অয়ন্তীর মনে পড়লো না এমন কোন পরিচিতকে।বিতৃষ্ণায় চোখ জোড়া বন্ধ করে নিলো সে।এই অপরিচিত ব্যাক্তির সন্ধান যে তাকে পেতেই হবে।

# চলবে

( আজকের পর্বটি ২৮৮০+ শব্দে লেখা।কেমন হলো জানাবেন।আপনাদের মতামতই লেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।গঠনমূলক মতামত জানাবেন দয়া করে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here