মেঘের_উল্টোপিঠ,১০,১১

#মেঘের_উল্টোপিঠ,১০,১১
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
[পর্ব-১০]

আজ প্রথম পরিক্ষা ছিলো। পরিক্ষা শেষ হতেই পূর্ব এহসানের দ্বারা বার্তা পাঠিয়েছে আমি যেনো পরিক্ষা শেষ হতেই আশপাশ না গিয়ে পূর্বের চেম্বারে গিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করি। আধাঘন্টা যাবৎ বসে আমি পূর্বের চেম্বারে। কিন্তু এই পূর্ব মানবের দেখা নেই! এহসানকে জিজ্ঞেস করতে সে তথ্য দিলো, পূর্ব অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন করছে। প্রতিত্তুর শোনার পর চেম্বার থেকে বের হতে নিলেই এহসান এক প্রকার আকুতি – মিনুতি করে বলল,

‘ ম্যাম! ম্যাম! আপনার পায়ে ধরি প্লিজ যাবেন না। স্যার যদি জানে আপনি চেম্বারের বাহিরে তাহলে আমায় মেরেই ফেলবে। প্লিজ যাবেন না ম্যাম। আরেকটু বসুন! স্যার এখনি চলে আসবে। ‘

‘ এহসান ‘ নামক ছেলেটার কথা ফেলতে ইচ্ছে হলো না। এমন ভাবে আকুতি মিনুতি করেছে ইমোশনাল না হয়ে পারা যাবে না। ফের নিজ স্থানে এসে বসে পড়ি। তবে খানিকক্ষণ বাদেই ধৈর্যহারা হয়ে এহসান এর চোখে ফাঁকি দিয়ে বেড়িয়ে পড়ি চেম্বার থেকে। হেঁটে ক্যাম্পাসে পেড়িয়ে বটতলায় আসতেই পাশে হন্তদন্ত হয়ে এসে কেও দাঁড়ালো। হকচকিয়ে বামে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে দেখা মিললো আয়াফের। চমকে গেলাম অনেকটাই! এই লোক এখানে কেনো?

‘ হেই এঞ্জেল! কতক্ষণ ধরে ডাকছি শুনছেন না কেনো?’

আমি কপালের চামড়ায় সুক্ষ্ম ভাজ ফেলে বলি,

‘ এঞ্জেল? এটা আবার কে?’

আয়াফ হাসলো! নিঃশব্দে নয় স্ব-শব্দে! যেনো আমি বেশ মজার কোনো কৌতূক বলেছি। বিরক্ত হয়ে সামনের দিকে পা ফেলতেই আয়াফ হাসি থামিয়ে ফের আমার পাশে এসে বললেন,

‘ এঞ্জেল টা আপনি দোল! এঞ্জেলের থেকেও মারাত্মক সুন্দরী আপনি। তাই এঞ্জেল বলে ডেকেছি এন্ড এখন থেকে এটা বলেই ডাকবো। ‘

আয়াফের কথায় পদে পদে চমকালাম! লোকটার এতো সাহস? ভাইয়ের বউকে ‘ এঞ্জেল ‘ বলে ডাকছে। কমনসেন্স নেই নাকি? কঠিন কয়েকটা কথা শোনাতে গিয়েও নিজেকে ধাতস্থ করে নিলাম। কৃত্রিম হেঁসে বললাম,

‘ আমার না কাজ আছে ভাইয়া। আজ আসি! অন্য কোনোদিন কথা বলবোনে। আসসালামু আলাইকুম। ‘

অতঃপর পূর্বের চেম্বারের দিকে যেতে নিলেই আয়াফের দ্রুত কন্ঠ কর্ণপাত হয়। সে ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন,

‘ আরে.. আরে..! ওয়েট! এতো তাড়া কিসের? আচ্ছা তোমাকে তুমি করে বলি?’

আমি কোনোমতে বলি, ‘ জি বলুন! ‘

‘ থ্যাংক্স! আজ তোমার পরিক্ষা ছিলো না? কেমন হয়েছে? আচ্ছা শুনো। চলো কোথাও বসে একটু কথা বলি? তোমার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিলো। আসো! বেশি টাইম নিবোনা। জাষ্ট ২০ মিনিট দাও?’

আয়াফের কথা সমাপ্ত হতেই আমি অকপটে বলি,

‘ টাইম নেই ভাইয়া। পূর্ব অপেক্ষা করছে আমার জন্য। ‘

‘ পূর্ব তো অপারেশন করছে। ওর আরো লেট হবে। আসো প্লিজ! ‘

আয়াফের অদ্ভুত চাহনি আমায় অস্বস্তিতে ফেলে দিলো। নিজেকে থাপ্পড় লাগাতে ইচ্ছে করছে এই মূর্হতে! ইশশ! কেনো যে বের হলাম? বের না হলে কি এই পরিস্থিতিতে পড়তে হবে? আয়াফ নামক ‘পাগল’ বান্দা তো আঠার মতো চিপকে আছে। আত্নীয় বলে ঠাস করে চড়-ও লাগাতে পারছি না। তবুও সামনের দিকে পা ফেলতেই হাতে টান পড়লো। ডান হাতের পানে অবলোকন করতেই দৃশ্যমান হলো আয়াফ আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরে আছেন। হতভম্ব হয়ে গেলাম এই ক্ষনটায়! বুদ্ধি লোপ পেলো যেনো হিতাহিত কান্ডে!

আয়াফ হাত ধরার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

‘ এঞ্জেল! প্লিজ একটু! একটু শুনো। ‘

বাম হাত দিয়ে আয়াফের গাল বরাবর চড় মারতে নিবো তার আগেই আয়াফের গালে চড় পড়লো! সে আমার হাত ছেড়ে দিয়ে ছিটকে মাটিতে পড়ে যায়। সামনে দৃষ্টি দিতেই দৃশ্যমান হলো পূর্বের রক্তিম মুখশ্রী! চোয়াল শক্ত করে সে আয়াফের দিকে তাকিয়ে আছে। একহাত দিয়ে তৎক্ষনাৎ সে আমার কাঁধ ধরে টেনে নিজের বক্ষঃস্থলের সাথে আগলে ধরলেন। রুষ্ট কন্ঠে চিবিয়ে বললেন,

‘ বলেছিলাম না দূরে থাকবি ওর থেকে?হাহ্?তোর সাহস কিভাবে হয় ওকে স্পর্শ করার?’

আয়াফ উঠে দাঁড়ালো। ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ছে ওর। কুটিল হেঁসে বলল,

‘ এই তুই কি থাপ্পড় ছাড়া আর কিছু মারতে পারিস না? অন্যভাবে? অলওয়েজ থাপ্পড়? বোরিং লাগে না নাকি?’

পূর্ব আমায় ছেড়ে আয়াফের নিকট গিয়ে নিম্ন কন্ঠে কিছু বললেন। কি বললেন? তা আমার কর্ণপাত হলো না। তবে পূর্বের কথা শ্রবণ করার পর আয়াফের মুখশ্রীর পরিবর্তন স্বরূপ রেগে লাল হয়েছে আঁখি জোড়া! সে নিজেও কিছু বলার পর পূর্ব তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে এসে আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরলেন। এক প্রকার টানতে টানতেই তিনি নিজের চেম্বারে নিয়ে গেলেন। ভাগ্যিস আশ- পাশে কোনো মানুষ ছিলো না।

পূর্ব চেম্বারে এসে এহসানের দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,

‘ একটা কাজও ঠিকমতো হয়না তোমার দ্বারা? কি বলে গিয়েছিলাম আমি?’

এহসান কাচুমাচু ভঙ্গিতে কিছু বলবে তার পূর্বেই আমি চট করে বলি,

‘ এহসানের কোনো দোষ নেই পূর্ব। আমিই ওর চোখ ফাঁকি দিয়ে বেড়িয়ে গিয়েছিলাম। ‘

পূর্ব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকালেন। অতঃপর গলার কন্ঠ উঁচু করে এহসানকে ধমকে বললেন বেড়িয়ে যেতে। এহসান বেচারা ভয়ে এক প্রকার হুড়মুড়িয়ে পালালো! তার পালানোর স্টাইলে হাসি পেলেও এই মূর্হতে হাসা একদমই উচিত না তা ভেবে নিজেকে ক্ষ্যান্ত করলাম!

পূর্ব মানব সেল্ফের নিকট এগিয়ে গিয়ে হাতে ছোট বোতলের মতো কিছু নিয়ে আসলেন। কাছে আসতেই বোধগম্য হলো তার হাতের কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি আসলে ‘ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ‘! উৎসুক দৃষ্টিতে তার পানে তাকাতে তিনি ইশারায় আমায় বললেন বসতে। বিনাবাক্যে আমি বসে পড়তেই পূর্ব আমার পাশে বসলেন। আমার ডান হাত টেনে নিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে রাব করে দিলেন।টিস্যুর বক্স এনে এক এক টিস্যু দিয়ে হাত কোমল ভাবে মুছে দিতে থাকলেন।এক পর্যায়ে টিস্যু বক্স খালি হয়ে গেলে তিনি ক্ষ্যান্ত হলেন। পুরো ঘটনায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে তাকিয়ে আছি। পরিশেষে হতভম্ব হয়ে বলি,

‘ এটা কেনো করলেন আপনি?’

পূর্ব ফিচেল কন্ঠে বললেন, ‘ আয়াফের স্পর্শ ক্ষতিকর তোমার জন্য! ঐ বদমাইশের ছায়া পর্যন্ত দূর্ষিত! ‘

হটাৎ হাসি পেলো খুব! এবার আর হাসি আটকাতে পারলাম না। ফিক করে হেঁসে দিতেই পূর্ব চমকে তাকান আমার পানে! অতঃপর রাশভারী কন্ঠে বললেন,

‘ তোমার হাসি দেখলে আমি আমার নাম পর্যন্ত ভুলে যাই ঘোরে চলে গিয়ে। কিন্তু এবার আমি ভুলছিনা তুমি কি করেছো! সো আমার উইকনেস প্রদর্শন বাদ দিয়ে শাস্তি পাওয়ার জন্য প্রস্তুত হও! ‘

আমি বিমূঢ় হয়ে হাসি থামিয়ে বললাম, ‘ আপনি আমায় শাস্তি দিবেন?কিন্তু কেনো?’

পূর্ব আমার দিকে খানিকটা ঝুঁকে হিসহিসিয়ে বললেন, ‘ কথা অমান্য করার জন্য। চেম্বার থেকে বের হতে নিষেধ করেছিলাম না? হু? ‘

ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে ধীর কন্ঠে বলি, ‘ শাস্তি হিসেবে কি দিবেন? সেদিনের মতো স্কেল দিয়ে ঠাস! ঠাস! মাইর?’

পূর্ব ম্লান হাসলেন। হুট করেই তিনি আমার কোল দখল করে নিজের মাথা রেখে বললেন,

‘ উঁহু! তোমার শান্তি হচ্ছে, এখন আমি ঘুমাবো। আর আমি ঘুম থেকে না ওঠা পর্যন্ত তুমি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে! একদম থামাথামি নেই। থামলে শাস্তি ডাবল হবে। চেম্বারে কিন্তু সিসি ক্যামেরা আছে। তুমি হাত বুলিয়ে দেয়া বন্ধ করলে কিন্তু আমি দেখতে পাবো। ‘

আমি কাঁদো কাঁদো চাহনি দেই। তার মধ্যেই পূর্ব ধমকে বললেন,

‘ Your punishment Start’s form now. so get started ‘

চটপট তার মাথায় হাত রাখি। পূর্ব একদম ছোট বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে আছেন। এই ছোট্ট সোফায় তার বিশাল, লম্বাটে দেহ জায়গা পাচ্ছে না ঠিক মতো। এভাবে ঘুমানো যায় আদও? সেকেন্ড খানিক পর পূর্ব ফের হিসহিসিয়ে বললেন,

‘ আমার ব্যাক্তিগত প্রিয় সম্পদ একান্তই আমার! তাকে স্পর্শ করার অধিকার শুধুমাত্র আমারই আছে। আর কারো নয়! আমি বাদে অন্যকেও তাকে বিন্দুমাত্র বাজে মতলব নিয়ে স্পর্শ করলে সেই ব্যাক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করতেও আমার বুক কাঁপবে না। স্নিগ্ধপরীকে স্নিগ্ধ স্পর্শ তার রাজকুমার করবে কোনো কীট নয়! ‘

ফোনের মধ্যে ব্যাস্ত থাকায় পূর্বের বলা বর্তমান কথাটি ঠিকমতো বোধগম্য হলো না আর না শ্রবণ করা হলো। তবে তার হিসহিসিয়ে কন্ঠস্বর ঠিকই কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে সাহায্য করলো।
_______

বিকেলের দিকে ভাবীর সাথে ছাঁদে আসতে হয়েছে। ভাবী এক প্রকার জোর করেইক নিয়ে এসেছি। প্রথমত আসতে ইচ্ছে না করলেও এখন যেতে ইচ্ছে করছে না। ছাঁদের ডেকোরেশন মনোমুগ্ধকর! বিশেষ করে সকল প্রকারের গাছপালা কে যেভাবে বিন্যস্ত রূপে সাজানো হয়েছে তা অপরূপ, দেখার মতো। আমি হাস্যরত মুখ ভাবীকে জিজ্ঞেস করি,

‘ গাছপালা গুলোকে সারিবদ্ধভাবে তাকে তাকে সাজানের আইডিয়া কিন্তু দারুণ ভাবী। কে করেছে এগুলো? তুমি?’

ভাবী ম্লান হেঁসে প্রতিত্তুরে বলল, ‘ উহু! আমি নই! তোমার বর করেছো সব। পূর্ব গাছপ্রেমী মানুষ। সাথে গাছ নিয়ে যেকোনো আইডিয়া ওর মাথায় ভুড়ি ভুড়ি আছে। এভাবে সাজানোর আইডিয়া ওরই! যেকোনো বিষয়ে আমাদের পূর্ব ফটাফট চমৎকার আইডিয়া দিতে পারে।পূর্ব অনেক ট্যালেন্টটেড! বেশ ভাগ্যবতী তুমি দোলা! পূর্বকে পেয়ে। অবশ্য পূর্বও খুব লাকী বলা চলে তোমাকে পেয়ে। তুমি যেই সুন্দরী। সাথে কিউট এন্ড লক্ষীও বটে! ‘

আমি মৃদু হাসি দেই। প্রসঙ্গ পাল্টাতে তৎক্ষনাৎ বলি,

‘ অভ্র ভাইয়া কম নাকি ভাবী? তুমিও লাকি অলসো অভ্র ভাইয়া! আচ্ছা ভাবী, অভ্র ভাইয়া কোথায়? আকদের দিনও দেখলাম না তাকে। ভাইয়া কি দেশে নেই?’

অভ্র ভাইয়ার প্রসঙ্গ টানতেই ভাবীর মুখশ্রী পাংশুটে আকার ধারণ করলো। তার আঁখিজোড়া জ্বলজ্বল করছে। কাঁপা ওষ্ঠাধর! খানিক বাদে স্থির হয়ে বলল,

‘ দোলপাখি?থাকো একটু এখানে। আমি চুলোয় না দুধ বসিয়ে এসেছিলাম। মা পায়েস রান্না করতে বলেছিলো। আমি রান্না করে আসি। ছাঁদ ভ্রমণ শেষ হলে নিচে চলে এসো। বেশী দেরি করো না আবার। ঠান্ডা লেগে যাবে। ‘

ভাবী নিজের বক্তব্য শেষ করে এক প্রকার ছুটে পালালেন। আমি বিষ্ময়কর দৃষ্টি দিয়ে সেদিকে তাকিয়ে আছি। নিভৃতে এই ঘটনা দেখার পর বারংবার একটাই প্রশ্ন ঘুরছে! ‘ তারা আপু আর অভ্র ভাইয়ার মাঝে কি কোনো সমস্যা হয়েছে? ‘

______

রাতের দিকে আম্মুর সাথে কথ বলা শেষ করে ফোন রাখতেই পূর্ব মানবের আগমন ঘটে! সুদর্শন মানবের মুখশ্রীতে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে রয়েছে। তিনি রুমে এসে সর্বপ্রথম আমাতে দৃষ্টি দিয়ে বললেন,

‘ কার সাথে কথা বলছিলে?’

‘ আম্মুর সাথে! ‘

পূর্ব এপ্রন খুলে সোফায় ছুঁড়ে বললেন, ‘ অহ! ‘

আমি তার সামনে গিয়ে ধীর কন্ঠে বললাম,

‘ আপনার সাথে কিছু কথা বলার ছিলো পূর্ব। ‘

‘ আচ্ছা বলো! তার আগে আমার জন্য কফি নিয়ে এসো। ফ্রেশ হয়ে এসে তারপর তোমার কথা শুনবো। ‘

আমি অকপটে বলি, ‘ ঠিক আছে। আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি কফি বানিয়ে আনছি। ‘

পূর্ব ওয়াশরুমে চলে যাওয়ার পর আমি কফি বানাতে কিচেনে চলে আসলাম। অন্তরালে নিজের কথাগুলো বিন্যস্ত ভাবে সাজিয়ে নিলাম। কফি নিয়ে ওপরে আসার পর রুমে শূন্যতা দৃশ্যমান হলো। পূর্ব এখনো ওয়াশরুম হতে বের হয়নি! কফি টেবিলে রেখে তার ঘর্মাক্ত এপ্রনটা বেলকনিতে মেলে দিয়ে আসতেই পূর্ব মানব তার ভেজা চুল মুছতে মুছতে বললেন,

‘ বাহ্! বউদের মতো দায়িত্ব পালন করা শুরু করেছো। ‘

পূর্ব কফির মগটা হাতে নেয়ার পরপরই আমি চটপট বলি, ‘ আপনাকে কিছু বলার ছিলো। ‘

হেঁটে সে বেলকনিতে গেলেন। ইশারায় বললেন তার সাথে আমায় বেলকনিতে আসতে। বেলকনিতে আসার পরপরই তিনি আমার সামনে কফির মগটা দিয়ে বললেন,

‘ তোমার ওপর বিশ্বাস নেই! সকালের শাস্তির জন্য কফিতে কি মিশিয়েছো চটপট বলো তো! আচ্ছা থাক বলার দরকার নেই। কফিতে সিপ দাও আমার সামনে। ফাস্ট! ‘

‘ হোয়াট?’

‘ যা বলেছি তা করো! ‘

বিরক্তি নিয়ে কফিতে সিপ দেয়ার পর পূর্ব আমার হাত থেকে কফির মগটা এক প্রকার কেঁড়ে নিলেন। আমি যেই স্থান দিয়ে সিপ দিয়েছি পূর্ব মানব ঠিক সেই জায়গায় নিজের অধর লাগিয়ে সিপ(চুমুক) দিলেন। আমি হকচকিয়ে বলি,

‘ আরে ওখান দিয়ে খাচ্ছেন কেনো? ওখানে তো আমি ঠোঁট দিয়েছি। ‘

পূর্ব প্রতিত্তুরে রাশভারী কন্ঠে বললেন, ‘ নান অফ ইউর বিজনেস! কি বলতে চেয়েছিলে বলো।’

লম্বাটে শ্বাস টেনে কিছুটা সামনে আগাই! দম নিয়ে বলি,

‘ পূর্ব? তারা আপু আর অভ্র ভাইয়ার মাঝে কি কোনো সমস্যা হয়েছে? তাদের দুজনকে ফোনে ঝগড়া করতে দেখেছি। অভ্র ভাইয়ার নাম শুনলে আপুর চেহারা কেমন মলিন হয়ে যায়। কেনো?’

পূর্বের মুখশ্রী থমথমে হয়ে গেলো পুরোদমে। তিনি কফির মগটা পাশে রেখে রাশভারী কন্ঠে পুনরায় বললেন…

চলবে…

#মেঘের_উল্টোপিঠ
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
[পর্ব-১১]

‘ অভ্র ভাইয়ার প্রসঙ্গে তোমাকে যেনো আর কখনো কথা বলতে না দেখি দোল। আর ভাবীর সামনে বা ভাবীকে ভাইয়া সম্মন্ধে কিছু জিজ্ঞেস করবে না। ‘

পূর্বের রাশভারী কন্ঠ! থমথমে চেহারায় রাগান্বিত আভাসটা স্পষ্টত খেয়াল করা যাচ্ছে। নিশ্চুপ হয়ে যাই! তাহলে আমার সন্দেহটাই ঠিক। অভ্র ভাইয়াকে নিয়ে কিছু একটদ হয়েছে। মামনিকে অভ্র ভাইয়ার সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলে তিনি এড়িয়ে যান, ভাবীও একই আর এখন পূর্ব! আসল কারণটা সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে অন্তরাল। ছটফটে কন্ঠে বলি,

‘ কিন্তু বলবেন তো! অ..’

পূর্ব তার হাতের আঙুল আমার ওষ্ঠাধরের ওপর চেপে ধরে। ঘাড় কাত করে কথা বলতে নিষেধ করলেন তিনি। ওষ্ঠ দ্বারা অধর আঁকড়ে নিয়ে ফিচেল কন্ঠে বললেন,

‘ বলেছিনা আমি একবার? ভাইয়া সম্পর্কে একটা কথাও হবেনা! হুহ্? রুমে গিয়ে পড়তে বসো। ‘

পূর্বের কড়া দৃষ্টি উপেক্ষা করে আমার আর দ্বিতীয় কোনো কিছু বলার সাহস হলো না। নিঃশব্দে রুমে এসে বই নিয়ে সোফায় বসে পড়ি। তবে পড়ার প্রতি মনোযোগ টা আসছে না। পূর্ব কখনোই আমার পানে কড়া দৃষ্টি দেননি! আজ কি হলো? অভ্র ভাইয়ার বিষয়টা তবে কি খুব জটিল? এ বিষয় কার কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাবো আমি? কৌতূহল, খানিক অভিমান, সবকিছু মিলিয়ে পড়ায় আর টু মনোযোগ আনতে পারলাম না। বই রেখে সোফায় মাথা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি! পূর্ব নিশ্চিত রাগ করবে পড়া ছেড়ে ঘুমিয়ে যাওয়াতে। করলে করুক! আমার কি?

.

আঁখিজোড়া বন্ধ করার কিয়ৎক্ষন পর পূর্ব রুমে আসলেন। চক্ষুপল্লব বদ্ধ থাকলেও স্পষ্টত অনুভব করতে পারলাম তার দৃষ্টি আমাতে নিবদ্ধ। যখন কেও আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে তখন আঁখি যুগল বদ্ধ থাকলেও তা অনুভব করা যায় স্নায়ু কোষ দ্বারা! পদধ্বনির শব্দ কর্ণগোচর হলো খানিক বাদে। ঠিক আমার সামনে এসে শব্দের উৎস থেমে যায়! পূর্ব যে আমার সামনে দাঁড়িয়ে তা বুঝতে বেগ পেতে হলো না। কিয়ৎ পর তিনি বিরক্তিমাখা সুরে বললেন,

‘ পড়তে বসতে বলেছি আর এই মেয়ে ঘুমোচ্ছে। ফাজিল মেয়ে! কোনোদিন যদি ঠিকঠাক এই মেয়ে আমার কথা শুনতো..! ‘

আফসোসের সুরে শেষোক্ত বক্তব্য পেশ করে পূর্ব মৌন রূপ ধারণ করলেন। অতঃপর অনুভূত হলো আমার পায়ের গোড়ালির বেশ খানিকটা ওপরে বলিষ্ঠ এক হাত, পিঠের নিচে আরেক হাত! মাথা গিয়ে ঠেকলো আমার পূর্বের বক্ষঃস্থলের সাথে। শূন্যে ভাসছি পুরোপুরি! পূর্বের আকস্মিক কান্ডে ভিষণ রাগ হলেও দাঁত কিড়মিড় করে সেভাবেই চুপ হয়ে রইলাম! আঁখিপল্লব খোলা দায়! খুলবো না! পূর্বের সাথে কথা বলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই।

পূর্ব দ্রুত গতীতে হেঁটে আমায় বেডে শুইয়ে দেন। মুখশ্রীর সামনে এসে থাকা চুলগুলোকে আলগোছে কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। নিঃশব্দতা! আলত করে আঁখিজোড়া খুলতেই দৃশ্যমান হলো পূর্ব রুমের লাইট বন্ধ করার জন্য সুইচের দিকে যাচ্ছেন। পুরো দৃশ্য দেখে চটপট আঁখিপল্লব আগের ন্যায় করে ফেললাম! খানিক বাদে পূর্ব এসে আমার পাশে ব্যাবধান বজায় রেখে শুয়ে পড়লেন। তবে ভিন্নতা স্বরূপ দেখা মিললো সে তার ডান হাত দ্বারা আমার একহাত আঁকড়ে নিয়েছেন। শিউরে উঠে ‘ আমি ঘুমে আছি ‘ এমন ভান করে হাত সরাতে নিলে কাজ হলোনা।

_____________

৬ দিন পর পর পরিক্ষা! সব পরিক্ষা শেষে আজ শেষোক্ত পরিক্ষা ছিলো। এক্সাম হল থেকে বের হয়ে রিকশা ধরে নিজেদের বাসায় চলে আসি। পূর্বকে জানানো হয়নি তবে এহসানকে বলে এসেছি। আজ পরিক্ষা দিতে আসার আগ সময়ে মামনি, ভাবীকে বলা হয়েছে আমি এক্সাম শেষ করেই নিজেদের বাসায় চলে যাবো। পূর্ব শুনেছিলেন কথাটি। তবে সে নিশ্চুপ ছিলেন। যেনো অনুভূতিহীন মানব সে! মামনি যাওয়ার অনুমতি দিলেও তার মুখশ্রী ছিলো বিষন্নকার!

রিকশায় বসে আমারও কেমন পেইন ফিল হচ্ছিলো।যেনো অতীব মূল্যবান কিছু ফেলে আমি চলে এসেছি। পরবর্তীতে নিজেকে সামাল দেয়ার প্রয়াসে আশেপাশ দেখায় ব্যাস্ত করি আঁখিজোড়া কে। ইশ! কি মুশকিল! বাসার কাছে যতো এগোচ্ছি, খারাপ লাগাটা ঠিক ততভাবে দ্বিগুণ হচ্ছে।
বাসায় পা রাখতেই আম্মুর অশ্রুসিক্ত আঁখিপল্লব দেখে রাগ লাগলো! তবে আম্মুকে বুঝিয়েও লাভ হলো না। ভাইয়া এগিয়ে এসে মাথার পেছনে আলত হাতে থাপ্পড় দিয়ে বলল,

‘ পিচ্চি বড় হয়ে গেছে আম্মু। ও এখন একাই থাকতে পারে। কান্নাকাটি থামাও! ‘

ভাইয়া, আম্মুর সাথে কথার তালে মক্ত থাকার ক্ষনকালে ড্রইং রুমে সরু দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে দৃশ্যমান হলো আপুর পাংশুটে মুখশ্রী। অদ্ভুত চাহনি দিয়ে তাকিয়ে আছে। স্বাভাবিক হয়ে আপুর পাশে গিয়ে বসতেই আপু চট করে বলল,

‘ এতোদিন পূর্বের সাথে থেকেছিস। কেমন কেটেছে দিনকাল? তোরা কি ক্লোজ হয়েছিলি?পূর্ব কি তোকে স্পর্শ করেছে?’

আপুর কথায় বিষ্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকাই তার পানে। আমার সামনে বসে থাকা ব্যাক্তিটি কি আদও আমার বোন? এমন লাগামহীন কথা! উদ্ভট প্রশ্ন! আমি কড়া কন্ঠে বলি,

‘ এটা কেমন প্রশ্ন আপু? তোমার মাথা ঠিক আছে? এসব কি বলছো? বলার আগে তো তোমার কন্ঠনালী কাঁপা উচিত ছিলো। বিবেকে বাঁধেনি এমন কথা বলতে? ভাগ্যিস তুমি আমার বড় বোন। নয়তো এখনি তোমার গালে আমার হাতের চড় পরতে বেশিক্ষণ সময় লাগতো না। ‘

আপুর মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেলো না। আমার কড়া কন্ঠে তার মাঝে খানিক পরিবর্তনও হলোনা। বরঞ্চ সে আগের সুরে বলল,

‘ তোর ভালোর জন্যই জিজ্ঞেস করছি দোলপাখি! তুই পূর্বের সাথে সংসার করিস না বোন। ও একটা পাগল। তোর জীবন ধ্বংস করে দিবে। তুই ফ্যামিলিকে বলে পূর্বকে ডির্ভোস দিয়ে দে! তোকে আরো ভালো জায়গায় বিয়ে দিবো আমরা। ‘

রাগ দমন হলোনা আর! বেশ জোরেসোরে আপুর গালে দুটো থাপ্পড় দিয়ে ক্ষ্যান্ত হই আমি। আম্মু, ভাইয়া ভেতরে চলে গিয়েছিলো ততক্ষণে। আপু বিষ্ময়কর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে আছে আমার পানে! হয়তো আশা করেনি আমি তাকে থাপ্পড় মারবো। পরিশেষে উঁচু কন্ঠে বলি,

‘ আমার হ্যাজবেন্ড কেমন তা আমি বুঝবো আপু। তোমাকে জ্ঞান দেয়ার দরকার নেই। আমার পারসোনাল লাইফে বাম হাত ঢোকানোর তোমার কোনো প্রয়োজন নেই। পূর্ব তোমার প্রাক্তন ছিলো বলে যা ইচ্ছে তাই বলবে আর আমি তা সহ্য করবো তা ভেবোনা। পূর্বকে নিয়ে একটা বাজে কথা বললে আমি তোমায় ছাড় দিবোনা! পূর্ব কেমন? এটলিষ্ট তোমায় নেশাখোর স্বামীর থেকে হাজার গুনে ভালো সে। মানুষকে সম্মান দিতে জানে। আগলে রাখতে জানে! ফারদার যেনো পূর্ব নামটা তোমার মুখে না শুনি। ‘

রুমে এসে শব্দ করে দরজা লাগিয়ে মাটি ঘেঁষে বসে পড়ি। রাগে রীতিমতো আঁখি জোড়া দিয়ে অজস্র নোনাজল গড়িয়ে পড়ছে। এলোমেলো পায়ে বেডে গিয়ে শরীর এলিয়ে দিতেই ঘুম নেমে আসে চক্ষুতে।

________

সন্ধ্যার রঙিন প্রহর! রাঙা আকাশে পাখির দলেরা অবিন্যস্ত রূপে উড়ছে নিজেদের বাসস্থানে ফেরার তাগিদে! হিম শীতল হাওয়া এসে একগাছি চুল মুখশ্রী সম্মুখে এসে আছড়ে পড়ে। গাঢ় ঘুম ভেঙে আড়মোড়া ভেঙে আঁখিপল্লব উন্মুক্ত করা মাত্রই দেখা মিললো অনাকাঙ্ক্ষিত এক ব্যাক্তির। পূর্ব দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আমার পানে গভীরতর দৃষ্টি দিয়ে আছেন। তার এবং আমার মধ্যিকার দূরত্ব কিয়ৎ পরিমাণ! লাফ দিয়ে উঠে বসে হতভম্ব হয়ে বলি,

‘ আপনি এখানে? হাউ?’

পূর্ব ঠোঁট বাকিয়ে বললেন, ‘ কিভাবে মানে কি? দরজা দিয়ে এসেছি। ‘

‘ দরজা তো আমি লাগানো ছিলো। ‘

‘ লাগানো ছিলো! লক করা না। ষ্টুপিড! ‘

বিমূঢ় হয়ে আশপাশে অবলোকন করে চটজলদি ন ওড়নাটা নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্টে মিশিয়ে নিয়ে ফোঁস করে শ্বাস ফেলি। হুট করে এই লোককে দেখায় হৃদপিন্ড অস্বাভাবিক গতীতে লাফাচ্ছে। লম্বা শ্বাস টেনে তার প্রতি দৃষ্টি ফেলে বললাম,

‘ এখানে এসেছেন যে?কোনো দরকার? ‘

পূর্ব তার ডান ভ্রু উঁচু করে বললেন, ‘কেনো? দরকার ছাড়া আসা নিষেধ নাকি?’

থতমত খেয়ে ফিচেল কন্ঠে বলি, ‘ আরে নাহ্! আমি এটা কখন বললাম?’

পূর্ব তার গুটনো হাতজোড়া তুলতুলে বিছনার ওপর স্থাপন করলেন। মাথা খানিকটা আমার মুখশ্রীর প্রতি ঝুঁকিয়ে নিয়ে রাশভারী কন্ঠে বললেন,

‘ বলে আসতে এতো দ্বিধা কিসের তোমার? অলওয়েজ না বলে এখানে – সেখানে চলে যাও! তোমার এই বিহেভটা আমার বড্ড বিরক্তির কারণ। কবে যেনো কন্ট্রোললেস হয়ে ঠা-স করে থাপ্পড় লাগিয়ে বসবো তোমাকে। ‘

কন্ঠের খাদ নামিয়ে বিড়বিড় করে বলি, ‘ হ্যা মারবেনই তো! এই মার দেয়া ছাড়া আপনি আর কি পারেন? বিয়ের পর থেকে যতসব উদ্ভট অত্যাচারের সাথে পরিচিত হতে হচ্ছে শুধুমাত্র আপনার কারণেই।’

চিবুক হতে মাথা তুলে পূর্ণ দৃষ্টি পূর্বের দিকে স্থির করতে দৃশ্যমান হলো তার উষ্কখুষ্ক চুল, অগোছালো শার্ট, কিয়ৎ রক্তিম আঁখিজোড়া। তার মুখ শুকিয়ে একটুখানি প্রায়। পূর্বের অবস্থা দেখে কিঞ্চিৎ অবাক হই। তার এই অবস্থার জন্য দায়ী কে? হয়তোবা দায়িত্ব! আজ তার রোগী দেখার যেমন প্রেশার ছিলো তেমনই অপারেশন করার সংখ্যাও ছিলো লম্বা। এহসানের থেকে এতটুকুই জেনেছিলাম। কোনো বিরতি নেই! সব একটানা! তাই তাকে না বলে চলে এসেছিলাম। এতো সময় তার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব নাকি?

অন্তরালের বার্তা আদান – প্রদান শেষে নম্র কন্ঠে বলি,

‘ খেয়ে আসেননি তো আপনি! যান ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি আম্মুকে খাবার দিতে বলি। ‘

পূর্ব ঠোঁট বাকিয়ে বললেন, ‘ তুমি জানলে কি করে খাইনি?’

‘ আজকে আপনার রোগী দেখা এবং অপারেশন করার সংখ্যা বেশি ছিলো। অবসরের নূনতম টাইম ছিলোনা! তার কারণেই না জানিয়ে এসেছিলাম আপনাকে। আর এই ব্যাস্ত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত খাওয়ার সময় পাননি। বাসায় গিয়েছেন বলে মনে হচ্ছেনা। হসপিটাল থেকে সোজা আমাদের বাসায় এসেছেন না? ‘

পূর্ব বসা থেকে জরতা কাটিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। শার্ট ঠিক করে নিয়ে রাশভারী কন্ঠে বললেন,

‘ খাবার দিতে বলার দরকার নেই। আজ আমরা রেষ্টুরেন্ট যাচ্ছি সবাই। ভাবী, সায়ান, মা, তোমার আম্মু, আর তোমার বড় বোন! সবাই যাচ্ছে। তার জন্য এখানে আসা। মা, ভাবী পৌঁছে গিয়েছে রেষ্টুরেন্টে। তোমাদের নিতে করতে এসেছি আমি। রেডি হয়ে এসো। আমি সায়ানের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসছি। ‘

পূর্ব কথা শেষে চলে যান। আমি আঁড়চোখে সেদিকে পরখ করে নিজের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম।

.

রুম থেকে বাহিরে আসতেই পূর্ব আর ভাইয়াকে দেখা গেলো সোফায় বসে কথা বলছে। আপু তাদের থেকে কিয়ৎ দূরে দাঁড়িয়ে। আপুকে দেখা মাত্র সকালের ঘটনা মনে পড়লো। নিজেকে ধাতস্থ করে পূর্ব আর ভাইয়ার কাছে গিয়ে বলি,

‘ চলুন! আমি রেডি। ‘

আম্মু পাশেই দাঁড়ানো ছিলো। পূর্ব আমার কথা শ্রবণ করে উঠে দাঁড়ালেন। স্পষ্টত খেয়াল হলো তিনি আঁড়চোখে বারংবার আমার দিকে তাকাচ্ছেন।সেদিকে পরোয়া না করে আমু আপুর পানে দৃষ্টি ফেলি! সে উদ্ভটতর ভাবে তাকিয়ে আছে। গাড়িতে পূর্বের পাশে আপু বসতে নিলে আমি চটপট আপুকে থামিয়ে দিয়ে পূর্বের পাশে বসলাম। ম্লান হেঁসে বলি,

‘ তুমি ভাইয়ার পাশে বসো না আপু। তোমার তো ফ্রন্টসিটে বসতে ভালো লাগেনা। ‘

আপু কৃত্রিম হাসলেন! বুঝলাম রেগে গিয়েছে তবে পরিবেশ হিসেবে স্বাভাবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করলেন। রেষ্টুরেন্টে পৌঁছে মামনি, ভাবীর সাথে কুশল বিনিময় করার পর নিজ স্থানে বসতেই খেয়াল হলো চারপাশে আপু নেই! ওয়াশরুমের নাম করে উঠে গিয়ে আপু যেদিকে গিয়েছে সেখানে আসতেই কর্ণগোচর হলো আপুর ফিসফিস কন্ঠ!ফিসফিসিয়ে সে ফোনে বলছেন,

‘ পূর্বের থেকে দোলকে সরানো মুশকিল। দোলা পছন্দ করা শুরু করেছে মেবি পূর্বকে। পূর্বকে নিয়ে নেগেটিভ কথা বলায় আজ ও আমায় দু’টো থাপ্পড় মেরেছে। আমার দ্বারা আর সম্ভব না আর। তুমি অন্য উপায় দেখো। এই প্লানটা ফ্লপ হয়েছে। ‘

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here