মেঘের_উল্টোপিঠ,২৪,২৫

#মেঘের_উল্টোপিঠ,২৪,২৫
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
#পর্ব__২৪

সমুদ্রের পাড় ঘেঁসে হাঁটছে অরিন। বারংবার স্রোত এসে তার পোশাক ভিজিয়ে দেয়ার পর নিজ স্থান হতে বিন্দুমাত্র নড়েনি। একই স্থানে অটল সে। বিষন্ন তার অন্তরাল। কেঁদেকেটে দুনিয়া ভাসাতে ইচ্ছে করছে। ‘ সায়ান ‘ নামক ব্যাক্তিটাকে হটাৎই মেরে ফেলার অদম্য ইচ্ছা জন্ম নিয়েছে তার নিভৃতে। সে এই বিয়েতে মোটেই রাজি নয়। তার অন্তঃস্থল জুড়ে যে অন্য এক পুরুষের বসবাস। কিন্তু সেই মানব আদও তার নয় এটা কেনো যে অরিনের মস্তিষ্ক বুঝে উঠছে না তা ভেবে পায়না প্রকৃতি!

অরিন হটাৎ পদচারণ থামিয়ে কুচকুচে কালো আকাশ পানে সুক্ষ্ম দৃষ্টি ফেলে। তার আখিযুগলে ইতিমধ্যে অশ্রুসিক্ত হয়ে গিয়েছে। অভিমানী কন্ঠে বলল,

‘ আমায় আস্ত এক ভালোবাসার সংসারের স্বপ্ন দেখিয়ে কেনো অদূরে চলে গেলেন অভ্র? আমার কি দোষ? ‘

অরিনের কন্ঠ ভারী হয়ে আসে। ঠোঁট কামড়ে সে কান্না দমন করার প্রয়াস চালায়। যেই লোক তাকে, তার পবিত্র অনুভূতিকে বুঝলো না। মর্যাদা দিলো না। তার জন্য কেঁদে লাভ আছে কোনো?উহুম! একদমই না। অরিন তার হৃদমহল শান্ত করে পিছন ঘুরতেই ভীষণ চমকে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায়। হাত, পা রীতিমতো কাঁপা কাঁপি শুরু করেছে। সামনের ব্যাক্তিটি অরিনের পূর্ণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মলিন হেঁসে এগোল। অরিন তৎক্ষনাৎ দু’কদম পিছিয়ে কাঁপা কন্ঠে বলল,

‘ অ..অভ্র?’

___

বিকেলের মতো একই ভাবে আবারও সুইমিং পুলে পা ডুবিয়ে মৌন রূপে বসে আছি। আমার পাশে যে একজন ব্যাক্তি সেই আধাঘন্টা থেকে আড়চোখে এক দৃষ্টিতে আমাতেই দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে আছে তা বুঝতে বেগ পেতে হলো না। আমি অন্তঃস্থলে ম্লান হাসি। কিয়ৎ লজ্জা এখনো আষ্টেপৃষ্টে জরিয়ে রেখেছে আমায়। পূর্বের বলা ‘ ভালোবাসি ‘ শব্দটা উচ্চারণ করার পর যখন আমি বেশ দ্বিধার মাঝে ভুগছিলাম তখন আমার সঙ্কোচের রেশ, দ্বিধা ঘুচিয়ে পূর্ব বললেন,

‘ আমি শুধু তোমার প্রতি আমার অনুভূতি গুলো প্রকাশ করেছি। দ্যাট’স ইট! এখন তোমাকে আমি নিশ্চয়ই বলিনি আমাকেও তোমার দিকের আমার প্রতি অনুভূতি প্রকাশ করো। তাইনা?বলেছি?বলি নি! তাহলে এতো দ্বিধার মধ্যে আছো কেনো?তুমি আমায় ভালোবাসা আর না বাসো। ভালোবাসলেও প্রকাশ করো আর না করো! তাতে আমার কিছুই যায় আসেনা স্নিগ্ধময়ী। আমি তোমাকে ভালোবাসি এতটুকুই এনাফ! তুমি সম্পূর্ণ আমার আপাতত এটলিষ্ট আমার মৃত্যুর আগ অব্দি আমি তোমায় আমার হতে মুক্তি দিচ্ছি না। মাইন্ড ইট! ‘

তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে নতজানু হয়ে কিয়ৎ হেঁসে ছিলাম শুধুমাত্র। আচ্ছা সব প্রেমিক কেনো পূর্বের মতো হয়না? পূর্বের মতো সকলে হলে অন্ততপক্ষে যারা প্রেমে পড়ে প্রেমিকের কুরুচিপূর্ণ ফাঁদে পড়ে আত্মহত্যা নামক মহাপাপে লিপ্ত হয় তা হয়তো আর হতো না। পৃথিবীটা সুন্দর, স্বচ্ছ এবং পবিত্র ভালোবাসায় পরিপূর্ণতা পেতো।

লজ্জার রেশ ওষ্ঠদ্বয় দ্বারা কোনো শব্দফালি উচ্চারিত না করলেও এক ফাঁকে হুট করে পূর্বকে আলত করে জরিয়ে ধরে তার বক্ষঃস্থলের সাথে মাথা স্পর্শ করে আবার হুট করেই ছেড়ে দিয়ে সুইমিং পুলে পা ডুবিয়ে বসেছি। তার সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ব এসে পাশে বসেছেন আমার। সেই থেকে যে তিনি আঁড়চোখে পূর্ণ দৃষ্টি আমাতে দিয়ে রেখেছেন সরাননি। কিয়ৎক্ষণ বাদে আমি নিজেকে ধাতস্থ করে বললাম,

‘ বাকিরা কোথায় পূর্ব? তারা তো আমার সাথেই এসেছিলো?’

পূর্ব দৃষ্টিপাত ফিরিয়ে সামনে তাকালেন। আলত কন্ঠে বললেন,

‘ আছে আশেপাশেই হয়তো। ‘

অতঃপর ফের আগের মতোই নীরবতা। অলস ভঙ্গিতে বিশাল অনুভূতির পাহাড় নিয়ে বসে থাকা। তবে ক্ষন মাত্র একটু আলাদা কিছু হিসেবে পূর্ব হটাৎ আমার কোলে নিজের মাথা এলিয়ে দিয়ে নম্র কন্ঠে বললেন,

‘ মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও তো। এতদিন বেশ যন্ত্রণা দিয়েছো আমার মস্তিষ্কে। ‘

অবাকের রেশ নিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে উঠি,

‘ হোয়াট? আপনার মস্তিষ্কে আমি যন্ত্রণা দিয়েছি?কিভাবে?’

‘ বিশাল যন্ত্রণা দিয়েছো! তুই মায়া দয়াহীন পাষাণ একজন ব্যাক্তি। আমার প্রতি রাতের ঘুম হারাম করে দিয়ে মাথা ব্যাথার তীব্র যন্ত্রণা দিয়েছো। রাতে ঘুমাতে নিলেই চোখের সামনে ভেসে উঠতো তোমার প্রানবন্ত হাসি! স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে জর্জরিত মুখোশ্রী। এসব দেখে কি ঘুম আসে আর আমার?’

‘ এখানে আমার কি দোষ? আমায় ভুলে গেলেই তো পারতেন। ‘

পূর্ব কাত হয়ে ছিলেন। আমার কথন শ্রবণ করার পর সোজা হয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত দিলেন আমার মুখোশ্রীর প্রতি। আমি খানিক থতমত খাই! তিনি কন্ঠের খাদ নামিয়ে বললেন,

‘ নিজের রুহ, অস্তিত্ব আদও কি ভোলা সম্ভব?হোয়াট ডু ইউ থিংক?হাহ্?’

আমি নিশ্চুপ রইলাম। এর উত্তর’টা আসলে আমার নিকট নেই। কি বলবো?কি প্রতিত্তুর করবো? ভেবেই চুপ থাকলাম। পূর্ব’ও আমার অবস্থা বুঝতে পেরে ঘাড় কাত করে পানিতে দৃষ্টি ফেললেন। আমি কিয়ৎ বাদে হুট করে বলি,

‘ আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করার ছিলো। ঠিকঠাক উত্তর দিবেন? প্রতিবার কখনোই আমার করা প্রশ্নের উত্তর আপনি দেননি।’

পূর্ব তার দৃষ্টি অন্যত্রে স্থির রেখেই প্রতিত্তুরে বললেন,

‘ দিবো উত্তর। বলো কি বলবে?’

‘ আপনাকে যেদিন আমি প্রথম দেখি সেদিন হতেই আমার সন্দেহ ছিলো আপনি আমায় পছন্দ করতেন। ডিপলি! কয়েকদিন বাদে সেই সন্দেহ পরিস্কার হয়েছে। মেয়েদের সিক্স’থ সেন্স অনেক প্রখর ইউ নো না? এতো আগ হতেই যখন আপনি আমায় পছন্দ করতেন তাহলে আমার সাথে এরূপ ব্যাবহার, আপুর সাথে রিলেশন? এসব কেনো করলেন? ‘

পূর্ব নিরুত্তর! আমার এক হাত টেনে নিয়ে উল্টো পিঠে আলত করে চুমু খেলেন। সর্বাঙ্গ তৎক্ষনাৎ শিরশির করে উঠলো এক প্রকার। লজ্জায় চুপসে হাত ছাড়িয়ে নিতে গেলেই বাঁধা প্রদান করলেন তিনি। আমার হাত তার হাত দ্বারা মুঠোয় বন্দী করে ফিচেল কন্ঠে বললেন,

‘ দিবা, আমি কানাডায় থাকাকালীন একই মেডিকেলে পড়তাম। দিবা আমার ব্যাচমেট ছিলো।মেডিকেলে যখন প্রথম পা রাখলাম তার পর হতেই দিবা সর্বদা আমার পিছু পিছু ঘুরতো। ওর মূল উদ্দেশ্য ছিলো আমায় ওর প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওর পিছে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে। মেডিকেলে যেই কাজটা আমার সাথে কেও করতে পারেনি দিবা সেটা চ্যালেন্জ হিসেবে নিয়ে করতে চাইছিলো। আমি বরাবরের মতোই পাত্তা দিতাম না ওকে। কিন্তু তার মধ্যে একদিন তোমার দেখা পেলাম আমি। সম্ভবত কানাডায় তখন সায়ানের সাথে এসেছিলে ঘুরতে। দিবার সাথে তোমাকে এক পার্কে দেখেছিলাম একবার। এন্ড দ্যান! তোমায় প্রথম দেখার পর হতেই আমি পাগলপ্রায় ছিলাম। রাতে ঘুম আসতো না। ছটফট করতো মন! লাভ এট ফার্স্ট সাইট বলে একটা বাক্য আছে সেটা প্রতিফলিত হয়েছে আমার ওপর। ‘

পূর্ব কিয়ৎ থামলেন।আমি নির্বাক ভূমিকা পালন করছি আপাতত। আমার গালে তিনি তার হাত আলত করে রেখে আদুরে ভাবে গাল টেনে দিয়ে বললেন,

‘ এবার বুঝলে তুমি কতোটা সুন্দর দেখতে?কাওকে প্রথম দেখেই পছন্দ করে ফেলা কিন্তু সহজ ব্যাপার না। ‘

আমি প্রসঙ্গ পাল্টাতে আমতা আমতা করে বলি,

‘ এসব কথা রাখুন। তারপর কি হলো?’

পূর্ব মৃদু হেঁসে হাতের মুঠো শক্ত করলেন। কন্ঠে বিনম্রতা এনে বললেন,

‘ পরদিন সকালে আমি তোমাকে খোঁজার জন্য দিবা যেই এপার্টমেন্টে থাকতো সেখানে গিয়েছিলাম কিন্তু আমার বেড লাক! সেদিন রাতেই তুমি বাংলাদেশ ব্যাক করেছিলে। অতঃপর শুরু হয় যন্ত্রণা! আমার বুকের মাঝখানটায় বসে তুমি সর্বক্ষণ সুচালো, তীক্ষ্ণ আঘাত দিতে লাগলে আর আমি তাতে ছটফট করতাম। শেষে না পেরে দিবাকে অব্দি তোমার পরিচয় জিজ্ঞেস করেছিলাম ও কিছু বলেনি। কানাডায় কেও তোমায় চিনতো না আর না তোমার কোনো ছবি ছিলো আমার কাছে। দিবা ধূর্ত ছিলো! ও বুঝতে পেরেছিলো আমি তোমাকে পছন্দ করি। তাই যত লোক দিয়ে আমি ওর কাছে পাঠিয়ে তোমার কথা জিজ্ঞেস করতাম ও সবাইকেই উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতো। একদিন কফিশপে মিট করে বলল আমার সাথে রিলেশনে গেলে ও তোমার সম্পর্কে ইনফরমেশন দিবে আমায়। আমি তখন পাগল পাগল ছিলাম। ‘ হ্যা ‘ বলে দিয়েছি। দিবার ক্ষেত্রে আমার সাথে ইন রিলেশনে যাওয়াটাই বিরাট কিছু ছিলো। কারণটা মেডিকেলে কোনো মেয়ে আমার পাশ দিয়ে অব্দি হেঁটে যাওয়ার সাহস পেতো না সেখানে আমি ওর সাথে রিলেশনে আছি। এটা ওর চ্যালেন্জ জেতাতে যথেষ্ট ছিলো। তারপর ফাইনালি আমি তোমার ইনফরমেশন পাই। জানতে পারি তুমি আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে। দিবার ছোট বোন! ‘

‘ ফুয়াদ নামে ছেলেটা আপনি আমার পিছে লাগিয়েছেন না?’

পূর্ব ঠোঁট বাঁকিয়ে হেঁসে আমার নাক টেনে দিয়ে বললেন,

‘ ইন্টেলিজেন্ট! ইয়েস, যখন তোমার সম্পর্কে সম্পূর্ণ ইনফরমেশন পেলাম তখন থেকেই ফুয়াদকে তোমার পিছে লাগিয়েছি। যেনো ছোট খাটো যেকোনো বিপদে পড়লে ও তোমার হেল্প করতে পারে। আর রইল দিবা! ওর সাথে ব্রেক আপ হয়েছে ১ মাস পরই। আমিই করেছি এবং দিবারও মত ছিলো। দিবার তিশানকে পছন্দ করা শুরু করেছিলো তাই আমি ব্রেক’আপ করার পর তিশানের সাথে রিলেশনে জরীয়েছে ও। দ্যাট’স ইট! সেই কয়েক বছর আগ হতে আমি তোমার ওপর সর্বদা নজর রাখতাম ফুয়াদের মাধ্যমে। তারপর ইতি টানি বাংলাদেশে এসে। বাবা আর তোমার বাবা আমাদের দু’জনের বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলো এবং এই বিয়ের পেছনে’ও আমার হাত আছে। ‘

কথা শেষে চোখ টিপ দিলেন তিনি। আমি নিশ্চুপ। একজন ব্যাক্তি আমার অগোচরে, আমায় নিয়ে এত কিছু কার্য সম্পাদন করেছে অথচ আমার তা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই? ভালোবাসা কি কারো প্রতি এতোটা প্রখর, তীব্র আকার হতে পারে? হয়তো পারে। তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ আমার সম্মুখে থাকা মানবটি! পূর্ব তার অন্যতম এক উদাহরণ।

___

কাল ভোরেই সবাইকে ফিরে যেতে হচ্ছে। তেমন কোথাও যাওয়ার সুযোগ না হলেও সবাই সন্তুষ্ট এতে যে পূর্ব তার ভালোবাসা প্রকাশ করেছে।এতে আমি এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে, সকলে আগ হতেই জানতো পূজা আমায় ভালোবাসেন। তিনি নিশ্চিত বিষয়টা তার বন্ধুমহলকে অবগত করেছে।
তারপর তারা ভাবী। তারা ভাবী পূর্বের বড় বোন সমেত। পূর্ব কখনো ভাবীকে ‘ ভাবী ‘ বলে ডাকে না। সর্বদা আপি বলেই ডাকে! তাদের সম্পর্কটা দেবর – ভাবীর থেকে ভাই বোনের সম্পর্কে আখ্যা পায়।

কাল যেহেতু চলে যাওয়া হচ্ছে তাই আজ সবাই মিলে ‘ ঝিনুক মার্কেট ‘ এ শপিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকলে বাসার সবার জন্য কিছু কিনবে সেখান হতে তাই এই যাত্রা। ঝিনুক মার্কেটে মূলত মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং চীন প্রভৃতি দেশ হতে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মার্কেট।ভাবী, সামাদ ভাইয়া’সহ বাকিরা আপাতত শপিং এ ব্যাস্ত। আমি তাদের থেকে খানিক দূরে দাড়িয়ে অরিনকে খোঁজায় ব্যাস্ত। কাল রাতে যখন রুমে ফিরলাম অরিনকে দেখিনি। মাত্রাতিরিক্ত ঘুম আসায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালেও আমার পাশ খালি ছিলো।

‘ কাকে খুঁজছো?’

পূর্বের কন্ঠ। পিছন তাকাতে দৃশ্যমান হয় সে ফোন পকেটে ঢুকিয়ে এগিয়ে আসছে। আমি চিন্তিত হয়ে বলি,

‘ অরিনকে। ওকে দেখেছেন?কাল রাতেও রুমে দেখলাম না। আমি ভেবেছি ভাবীর সাথে ঘুমিয়েছে। সকালেও দেখলাম না।ভাবী বলল অরিন তার সাথে ছিলো না। ‘

‘ অরিন তো চলে গিয়েছে। সায়ান বলেনি তোমায়? অরিনের আম্মু অসুস্থ ছিলো তাই চলে গিয়েছে একা একাই সায়ানকে বলে। সায়ান যেতে চাই ছিলো ওর সাথে কিন্তু অরিন বলল ওর কাজিন নাকি এসেছে ওকে ড্রপ করতে। ‘

চিন্তা বিন্দুমাত্র কমলো না। অরিন আমায় না বলে চলে গেলো? ও তো কখনো এমন করে না তবে আজ? ভাবনা মগ্নকালীন পূর্ব ফের বললেন,

‘ শপিং করবে না? চলো ভেতরে। এখানে তো বেশি সময় থাকতে পারবো না। হোটেলে ফিরতে হবে। ‘

আমি ঘাড় কাত করে সম্মতি জানাতেই পূর্বের ফোন পুনরায় বেজে উঠলো। তিনি আমায় ভীড় ছাড়া জনমানবহীন এক স্থানে দাঁড় করিয়ে বললেন অপেক্ষা করতে। কিয়ৎক্ষণ পর। হাতে হেঁচকা টান দিয়ে আড়ালে নিয়ে যায় কেও। আমি চমকে সম্মুখে তাকিয়ে অবাকের রেশ কন্ঠে ছাপিয়ে বলি,

‘ শোভন?’

চলবে,

#মেঘের_উল্টোপিঠ
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
#পর্ব__২৫

‘ ব্যাপার কি বলো তো। দিনদিন এতো সুন্দর হওয়ার রহস্য কি? যদিও ভালো হয়েছে একদিকে বলা যায়। খারাপ দিকটা হচ্ছে শুধুমাত্র, আমি কন্ট্রোললেস হয়ে পড়ছি বিয়ের আগেই। ‘

শোভনের দৃষ্টি কুরুচিপূর্ণ! কথা শেষেই কুটিল হেঁসে আমার সর্বাঙ্গে তার বিশ্রি দৃষ্টিপাত এলিয়ে দিলো।রাগে হাতজোড়া মুষ্টিবদ্ধ করে সঠিক চিন্তা এঁটে নিয়ে ঠিক মতোন দাঁড়ালাম। খানিকক্ষণ বাদে শোভন ফের বলল,

‘ আজ তোমাকে বিয়ে করবো। আমার আর তর সইছে না। ‘

বলেই ওষ্ঠাধর দ্বারা ভীষণ বাজে একটা শব্দ করলো শোভন। আমি তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠি,

‘ সেই আশা তোমার কখনোই পূরণ হবেনা। ‘

শোভন শব্দ করে হেসে হাত আলগা করে সরে দাঁড়াতেই আমি নিজের ভাবনা অনুসারে চট করে শোভনের ঘাড়ের কাছটায় সজোরে আঘাত করি। তৎক্ষনাৎ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায় ও। লম্বা শ্বাস টেনে ওড়না ঠিক করে সামনে আগাতে নিলেই বিপত্তির মাঝে ফেঁসে গেলাম। কথায় আছে, বিপদ যখন আসে তখন সবদিক দিয়েই আসে। কথাটা যে কাঁটায় কাঁটায় সত্য তা প্রমাণিত হলো।

পাশেই চৈত্র মাসের প্রথমাংশ উপলক্ষে এক হোটেল কনসার্টের আয়োজন করছিলো। কয়েক গাছি তার সামনেই ফেলা। সেখানে আমার পা দরুন ভাবে পেঁচিয়ে মাটিতে পড়ে যাই। এদিকে শোভন অজ্ঞান বেশিক্ষণ থাকবে না। ৫কিংবা ৬ মিনিট। আমার লক্ষ্য ছিলো ওকে অজ্ঞান করে ফেলে গাড়ি থেকে ফোন নিয়ে পুলিশকে ডেকে শোভনের সকল কু-কর্ম আজ হাতে নাতে প্রমাণ করে দিবো। কিন্তু তা আপাত পরিস্থিতিতে কতটা সফল হবে জানা নেই! আমি উঁচু কন্ঠে পূর্বের নাম ধরে দুই একবার ডাকলাম। ফলাফল শূন্য। আশ- পাশে সাহায্যের জন্য চেঁচিয়ে ডেকে উঠলাম কিন্তু হটাৎ করেই যেনো এই দিকটা জনমানবহীন হয়ে পড়লো। বিপদে পড়লে অনেক সময় মস্তিষ্ক’ও অতিরিক্ত চিন্তায় অচল হয়ে পড়ে। আমার সাথে তাই হলো। তারগুলো পা থেকে খুলতে পারছি না কোনোমতেই।

পরিশেষে কোনোমতে তা’র থেকে পা ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়াতে নিলে হাতে ভীষণ সজোরে টান পড়ে। সামনের দিকে ঘুরতেই গালে পরাপর দুটো থাপ্পড় পড়াতে তাল সামলাতে না পড়ে সেই তা’র এর ওপর পড়ে যেতে হয়৷ থাপ্পড়টা শোভনের দেয়া। এত জলদি জ্ঞান আসবে ভাবিনি। শোভন কর্কশ কন্ঠে বলল,

‘ নিজেরে বহুত চালাক ভাবস না? ***? আমারে টাল করে ভাগতে নিছিলি? ভাবছিলাম বিয়ের আগে তোরে কিছু করবো না কিন্তু…’

শোভন ত্রস্ত পায়ে এগোল। পরিত্যাক্ত এক বিল্ডিং এর মধ্যে টেনে নিয়ে গেলো। বিল্ডিংটায় প্রবেশ করার আগ দিয়ে মনে হলো কেও দৌড়ে আসছে। চেহারা ঠিক মতোন প্রদর্শন হয়নি। সুযোগ বুঝে চিল্লাতে নিলে শোভন মুখ চেপে ধরে ভিতরে নিয়ে দরজা আঁটকে দেয়। পথিমধ্যে তার গায়ে আঘাত করেও লাভ হয়নি। আমায় ফ্লোরে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলতেই আমি ব্যাথা দমন করে চেঁচিয়ে বলি,

‘ দেখ শোভন! যেখানে দাঁড়িয়ে আছিস ওখানেই স্থির থাক। আমার গায়ে একটা আঁচড়া লাগলে তোকে আমি ছাড়বো না।’

‘ আচ্ছা..?’

শোভন কুটিল হেঁসে ফের হেলেদুলে এগিয়ে আসতে নিলো। আমার পিছনে থাকা বালুর বস্তা হতে একমুঠো বালু গোপনে হাতে নিয়ে নেই। তার মধ্যে দর্শন হয় বিল্ডিং’টার গেট দিয়ে কেও তড়িৎ বেগে ছুটে আসছে। অন্ধকার ওদিকটায়। চেহারা প্রদর্শন ফের হলো না। তবে অন্তঃস্থল বারংবার বলছে সেই ব্যাক্তিটি ভাই নয়তো পূর্ব! ওড়না টান দিতেই আমি আমার হাতের বালু শোভনের নেত্র উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে মারি। ওষ্ঠাধর দ্বারা অস্ফুট শব্দ করে কয়েক কদম পিছিয়ে যায় ও। ততক্ষণে সেই ব্যাক্তিও উপস্থিত। আমি দৌড়ে সামনে থাকা মানবের বক্ষঃস্থলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফুপিয়ে উঠে বললাম,

‘ কই ছিলেন আপনি? কত ডেকেছি আপনাকে। ‘

পূর্ব নিশ্চুপ! খেয়াল করলাম ধীরেধীরে আমার পিঠে যেই হাতটা স্থাপন হলো সেটা কম্পমান! হাতটা কাঁপছে তুমুল বেগে। বক্ষঃস্থলের বাম পাশে মাথা ঠেকিয়ে রাখায় স্পষ্টত শোনা যাচ্ছে হৃদপিণ্ডের অস্থিরময় ধুকপুক শব্দ! স্বাভাবিক এর থেকে একটু বেশিই দ্রুত হৃৎস্পন্দন হচ্ছে। আমি মাথা তুলে পূর্বের মুখোশ্রীর প্রতি। লাল হয়ে যাওয়া মুখোশ্রী মাত্রাতিরিক্ত রাগ প্রকাশ করছে। নেত্রে ভেসে ওঠা ভীতি’ভাব কষ্ট প্রকাশ করছে। পূর্বের অচঞ্চল নেত্রযুগল হটাৎ-ই ভীষণ চঞ্চল হয়ে উঠলো। আমায় সে নিজ হতে সরিয়ে হাত, গাল, পা দেখতে দেখতে বললেন,

‘ ব্যাথা দিয়েছে কোথাও এই কু-কু-র’টা তোমায়?হু? গালে দাগ কিসের? ঠোঁটের কোণায় রক্ত! ও কি..? থাপ্পড় মেরেছে? হাহ্?টেল মি দোল! ‘

ধমকে বললেন শেষোক্ত কথাটি। আমি ঘাবড়ে গিয়ে মাথা নাড়িয়ে ‘ হ্যা ‘ বলি। পূর্ব তার আঁখি যুগল বন্ধ করলেন। জোড়াল শ্বাস ফেলে হটাৎই সামনে এগিয়ে গেলেন দ্রুত। কোমড় হতে বেল্ট খুলে নিয়ে রক্তিম দৃষ্টি ফেললেন শোভনের প্রতি। শোভন তখন আঁখি যুগল কচলানো বাদ দিয়ে কিয়ৎ ভীতিকর দৃষ্টিপাত দিয়েছে পূর্বের পানে। পূর্ব রুষ্ঠ কন্ঠে বললেন,

‘ নিজেকে খুব ধূর্ত মনে করিস না? মানুষজন দিয়ে আমায় অদূরে ভিত্তিহীন তর্কে আঁটকে রেখে ভেবে ছিলো ওর সাথে নষ্টামি করবি। কোন হাত দিয়ে থাপ্পড় মেরেছিলি ওকে? বাম নাকি ডান? হাহ?দ্রুত বল! ‘

শোভন ঘাবড়ে গেলো। আমতা আমতা করে বলল,

‘ যেই হাত দিয়েই দেই তোর কি? ১০০ বার থাপ্পড় মারবো ওকে। সমস্যা? ভালো হয়েছে এসেছিস! তোর সামনেই আজ তোর বউকে বিয়ে করবো। নিজের বউয়ের বিয়ে দেখবি। ‘

‘ তাই না?’

পূর্ব প্রশ্ন ছুঁড়ে এক মূর্হত অপেক্ষা করলেন না।হাতে থাকা তার বেল্ট দিয়ে বেধড়ক পেটাতে শুরু করলেন শোভনকে। শোভন এদিক ওদিক ছুটতে নিলে পূর্ব খানিক থেমে পাশে ধুলো-বালি পড়া রশি এনে হাত পা বেঁধে দেয়। তারপর শুরু হয় ফের আগের কর্ম। একেকটা আঘাতে যেনো নিজের সর্বোচ্চ’তম শক্তি প্রয়োগ করছে। পূর্বের মুখোশ্রী দেখে ভয় লাগলো প্রচন্ড। এদিকে শোভনের অবস্থা খারাপ। আর বেশিক্ষণ এভাবে চললে বেঁচে থাকবে কিনা সন্দেহ আছে। শুকনো ঢোক গিলে গলদেশ সিক্ত করে ত্রস্ত পায়ে পূর্বের পাশে দাঁড়িয়ে কন্ঠের খাদ নামিয়ে বলি,

‘ পূর্ব থামুন প্লিজ। মারা যাবে ও। তখন দোষটা সম্পূর্ণ আপনার ঘাড়েই পড়বে। অযথা নিজেকে খু-নি বানানোর কি দরকার? প্লিজ থামুন। ‘

পূর্ব থামলেন না। তার হিংস্র মুখোশ্রী। নেত্রযুগলের রক্তিম অংশ দেখে আগানোর সাহস হচ্ছে না। শেষে নিজেকে ধাতস্থ করে পূর্বের হাত শক্ত করে ধরতেই তিনি থেমে লম্বা শ্বাস টানতে লাগলেন। আমি কাঁপা কন্ঠে বলি,

‘ আর মারবেন না। প্লিজ! ও যদি মারা যায় তাহলে আপনাকে জেলে যেতে হবে। ‘

পূর্ব লম্বা শ্বাস টেনে রুষ্ট কন্ঠে বললেন, ‘ ওকে যদি মেরে ফেলে আমার জেলে যেতে হয় আমি যাবো। তবুও জ্যান্ত ছাড়বো না একে। এই অসভ্যের সাহস কি করে হয় তোমাট গায়ে হাত তোলার খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে? যেখানে আমি তোমার ওপর সামান্য একটা ফুলও পড়তে দেইনা ও তোমায় থাপ্পড় মারলো? একে তো আমি..!’

‘ শান্ত হন পূর্ব! অযথা পাগলামো করবেন না। সরে এদিকে আসুন। ‘

পূর্ব আমার কথা ফেললেন না। হাত থেকে বেল্ট ফেলে শেষবারের মতো সজোরে একটা লাথি মেরে শোভনের থেকে সরে এলেন। শোভন ব্যাথা,যন্ত্রণায় কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে পারলো না। শুধুমাত্র গলা কাটা মুরগির মতো ছটফট করে পড়ে রইল।অতিরিক্ত মার তার ওপর এতোটা জোরে আঘাত পাওয়ার কারণে মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে ওর। আমার বিন্দুমাত্র মায়া কাজ হলো না। দোষী তার প্রাপ্য সাজা পেয়েছে এটাই অনেক। এখনো সাজা কম বলা চলে। শোভন গ্রামে থাকাকালীন মেয়েদের উত্যক্ত করতো। মেন্টালি হ্যারেজম্যান্ট সহ দেহে অব্দি হাত দিতো। এর শাস্তি ও নিশ্চয়ই প্রাপ্য!

___

অতীব সন্তপর্ণে অধরের আহত হওয়া স্থানে পূর্ব ধীরে সুস্থে স্যাভলনে তুলো ভিজিয়ে আঘাত প্রাপ্ত স্থানটি ড্রেসিং করছে। মাঝেমধ্যে আমি জ্বালা করলে চোখমুখ কুঁচকে নিলেই তিনি ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে ফু দেয়া শুরু করেন। উদগ্রীব হয়ে উঠেন সেকেন্ডর মাঝেই। পুরো ব্যাপারটা আমার হৃদ মহলে প্রশান্তির অনিল বয়ে দিয়ে যায়। এই লোক টা এতো ভালো কেনো?এতো কেনো ভালোবাসে আমায়? মাঝেমধ্যে আমার তাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, ‘ আমার মধ্যে এমন কি আছে যে আপনি আমায় এতোটা ভালোবাসেন পূর্ব? ‘

সময় গড়ালো! অনেকক্ষণ যাবৎ একই ভাবে বসে থাকতে থাকতে বিরক্তি লাগছে। পূর্বের নেত্র যুগলের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে বলে উঠলাম,

‘ মাথা ফেটে যাওয়ার পর ড্রেসিং করতে এতোটা সময় লাগেনা যতটা আপনি সামান্য ঠোঁট কেটে যাওয়াতে এতোটা সময় ব্যায় করছেন।আর এই সামান্য আঘাতে কেও ড্রেসিং করে? অদ্ভুত তো! সরুন আমার একই এঙ্গেলে এতক্ষণ যাবৎ বসে থাকতে বিরক্ত লাগছে। ‘

পূর্ব তার দৃষ্টিপাত আমার ওষ্ঠাধরের প্রতি দিয়ে আনমনে বললেন,

‘ জাস্ট আরেকটু ধৈর্য ধরো। হয়ে গিয়েছে প্রায়। ‘

খানিকক্ষণ বাদে সরে গেলেন তিনি। নতজানু হয়ে তপ্তশ্বাস ফেলি। অতঃপর সামনের দিকে দৃষ্টি দিতেই চক্ষু চড়কগাছে আমার! পূর্বের কোল জুড়ে প্রায় অনেকাংশ ব্যাবহৃত তুলো। এরজন্যই বোধহয় এতোটা দেরী লেগেছে। চমকে বলি,

‘ এসব কি? এতো তুলো?’

‘ ঐ বদমাইশ আস্ত একটা কীট। বলা তো যায়না ওর হাতে কোনো ভাইরাস থাকলে। ওকে দিয়ে বিশ্বাস নেই আমার। ‘

আমি নিশ্চুপ। পূর্বকে কিছু বলে লাভ নেই। সে যে কেনো আমার প্রতি এতোটা পজেসিভ তা বোধগম্য হয়না। হুট করে তিনি আমার সন্নিকটে আসলেন। গালের এক পাশ ধরে যেই গালে থাপ্পড় মেরেছিলো শোভন, সেই গালে পরাপর দুটো চুমু দিয়ে বসলেন, কান গরম হয়ে এলো আমার। প্রতিক্রিয়া দেখালো হলো না বহির্ভাগে তবুও।পূর্ব পরিশেষে সরে বসে বললেন,

‘ গালে কি বেশি জোরে মেরেছে? জ্বালা করছে অথবা ব্যথা? ‘

‘ আব.. না! ‘

পূর্ব সোফায় পিঠ এলিয়ে বসলেন। হোটেলে ফিরে এসেছি ১ ঘন্টা হবে। শোভনকে সেখানেই পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমার কাছে যা প্রমাণ ছিলো তা যথেষ্ট ছিলো ওকে দোষী প্রমাণ করার জন্য। কিছু মনে পড়াতে হুট করে বলি,

‘ ফিল্মের হিরোদের মতো নায়িকা যখন বিপদে পড়ে তখন আপনার এন্ট্রি কিভাবে হলো বলুন তো। আমার কাছে এই ব্যাপারটা ফিল্মি, ফ্যান্টাসি টাইপ লেগেছে। ‘

পূর্ব তার আঁখি যুগল বন্ধ অবস্থাতেই মৃদু ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলেন। অতঃপর সেই অবস্থাতেই বললেন,

‘ তোমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে যখন গাড়ি আনতে গিয়েছিলাম তখন কিছু লোক গাড়ি রাস্তার পাশে পার্ক করাতে অযথা তর্ক, ঝগড়া শুরু করেছিলো। এটা একটা ট্রেপ ছিলো শোভনের। আমায় ব্যাস্ত রেখে তোমায় নিয়ে পালাতে চাইছিলো। তুমি যেখানে ছিলে সেখান থেকেও মানুষ সরিয়ে ফেলেছিলো। তখন একজন মধ্যবয়স্ক লোক শোভনের প্লানিং সম্পর্কে আমায় বলে দেয়। সেই লোকটার চায়ের দোকানে বসেই শোভন ঐ লোক দের টাকা দিয়ে প্লান বলছিলো। সবকিছু জানার পর চটজলদি আসতেই দূর থেকে দেখছিলাম তোমাকে শোভন সেই বিল্ডিং’টার ভেতরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো…! ‘

পূর্ব জোড়াল শ্বাস ফেললেন। আমি অন্যমনস্ক হয়ে অন্যদিকে দৃষ্টিপাত ফেলতেই অকস্মাৎ পূর্ব কোনো কথা ছাড়াই আমায় কোলে তুলে নিলেন। লম্বা পা ফেলে বেডে গিয়ে আমায় শুইয়ে দিয়ে তিনি আমার পাশে ধপ করে শুয়ে পড়ে আষ্টেপৃষ্টে জরিয়ে ধরলেন। আমি উত্তেজিত হয়ে বললাম,

‘ অদ্ভুত তো! এমন করছেন কেনো?’

পূর্ব ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দিলেন,

‘ আমরা ঘুমাচ্ছি এখন। তোমার ঘুম না আসলেও ঘুমাতে হবে নয়তো চুপচাপ শুয়ে থাকো আমায় ঘুমাতে দাও। ‘

‘ ঘুমাতে দিবো না আপনাকে। আপনি চোখ বন্ধ করলেই চিল্লিয়ে উঠবো!’

‘ আচ্ছা তাই? ওয়েট…, ‘

কথা মাঝপথে থামিয়ে তিনি আমার সন্নিকটে এসে আমার অধর যুগল নিজ অধর যুগলের আয়ত্তে নিয়ে নিলেন। পরপরই সরে এসে বললেন,

‘ চিল্লাবে? বলো? চিল্লালে যদিও আমার কোনো প্রবলেম নেই। এই একই কাজ পুনরায় করতে আমার মন্দ লাগবে না। ‘

কন্ঠের খাদ নামিয়ে চট করে বলে উঠি,

‘ একদমই চিল্লাবো না। আপনি ঘুমান।’

পূর্ব ফিচেল হাসলেন। আমার কাঁধের নিকট মুখ গুঁজে নেত্রযুগল বন্ধ করে নিলেন তৎক্ষনাৎ। আমি হতভম্ব এখনো। ভীষণ ভাবে বোধগম্য হলো হাত দুটো কাঁপছে সাথে ওষ্ঠাধর’ও।

চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here