মেঘকন্যা☁️ Part_18,19

মেঘকন্যা☁️
Part_18,19
Writer_NOVA
Part_18

নিজের রুমে রাগে ফুঁসছি। ফ্লোরে বিশাল বড় একটা হালকা বাঙ্গি কালার গাউন এলোমেলো হয়ে পরে আছে। গতকাল বিকালে আয়িশেকে মানা করার পরও শোনেনি। আজ নাকি ওর সাথে আমাকে কোথায় যেতে হবে? আমার সারা শরীর রাগে ফাটছে।আমি নিজেও জানি না আমার এমন হচ্ছে কেন?আমি নিজের মনের ওপর কন্ট্রোল করতে কেন পারছি না।আমি তো মনে প্রাণে আয়িশকে নিজের স্বামী হিসেবে চাইতাম।তাহলে এখন আয়িশ আমার স্বামী এটা জানার পর আমার এমন হচ্ছে কেন?তখনি আম্মি আমাকে ডাকতে ডাকতে রুমে ঢুকলো।

আম্মিঃ মেঘা তুই এখনো তৈরি হোস নি কেন?আয়িশ চলে আসবে তো।এসে যদি তোকে তৈরি হতে না দেখে তাহলে রেগে যাবে।

আমিঃ আমি কোথাও যাবো না। (কঠিন গলায়)

আম্মিঃ তোর কি হয়েছে বলতো?দুদিন ধরে খেয়াল করছি নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিস।রুমে ঘাপটি মেরে বসে থাকিস।কারো সাথে ভালো করে কথা বলিস না।তুই কি কোন বিষয় নিয়ে আপসেট? কোন বিষয় নিয়ে আপসেট হলে আমাকে বল।আমি তোকে সাহায্য করবো।তোর মন খারাপ দেখে আয়িশও সবসময় মন খারাপ করে রাখে।তাই তো আজ তোকে নিয়ে রাতের ডিনারে বের হতে চাইছে।

আমিঃ আমার ভালো লাগছে না। আমি এখন যাবো না।তুমি রুমের থেকে যাও তো। আমাকে একা থাকতে দেও।আমার এখন কিছু ভালো লাগে না।

আম্মিঃ ভালো লাগার জন্যই তো আমি বলছি আয়িশের সাথে ঘুরে আয়। ভালো লাগবে।জলদী আমার কাছে আয়তো।আমি তোকে তৈরি করে দেই।চোখ মুখের অবস্থা কি করেছিস সেটা কি আয়নায় দেখেছিস।

আমিঃ অন্য একটা ছেলের সাথে রাত করে পাঠাতে তোমার কোন চিন্তা হচ্ছে না আম্মি?বরং তুমি যেচে আমাকে পাঠাতে চাইছো। তুমি তো আমাকে কোন ছেলের সাথে মিশতে দিতে না।হঠাৎ কি হলো তোমার? আজ নিজে আমাকে তৈরি করে দিবে বলছো।তাও অন্য একটা ছেলের জন্য। বিষয়টা আমার কাছে বেশ রহস্যজনক লাগছে।

আমি আম্মির মুখ থেকে কথা বের করার জন্য কথাগুলো বললাম।স্বপ্নটা না দেখলে আমি হয়তো এই বিয়ের বিষয় কিছুই জানতাম না।আমার প্রশ্ন শুনে আম্মি কাচুমাচু করতে লাগলো।আমতা আমতা করে বললো।

আম্মিঃ আয়িশকে সেই কবের থেকে জানি,চিনি।ছেলেটা ভীষণ ভালো। আজকাল ওর মতো ছেলে দুটো পাওয়া যাবে না।এরকম ছেলের সাথে মেয়ে থাকলে যেকোন মা নিশ্চিন্তে থাকবে।তুই এখন বেশি কথা বলিস না তো।আমায় তোকে তৈরি করতে দে।আয়িশের আসার সময় হয়ে গেছে।

আমিঃ তুমি এমন আমতা আমতা করছো কেন?কিছু কি লুকাচ্ছো আমার থেকে?কিন্তু কেন?আম্মি আমার যথেষ্ট বোঝার বয়স হয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে কথা লুকানোর কোন মানেই হয় না।তারপরেও কেন লুকাচ্ছো তা একমাত্র তোমরা ও আল্লাহ ভালো জানো।তবে এতে ভালো না হয়ে মন্দও হতে পারে। আমি কি কখনো তোমার ও আব্বির কথার অবাধ্য হয়েছি।আমাকে জানিয়ে সব ঠিক করতে।

আম্মি আমার কথা শুনে দমে গেল।কিছু একটা ভাবছে।আমি জানি কি ভাবছে।কারণ তার মনের কথা আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি।সে এখন নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করছে।

আম্মিঃ আমরা কি বিয়ের বিষয়টা মেঘার থেকে লুকিয়ে ঠিক করলাম?ওকে সব জানিয়ে নিলে হয়তো কোন ভুল হতো না। এখন কি আমরা যে ভয় পাচ্ছি তাই হচ্ছে। মেঘা নিজেকে কেন গুটিয়ে নিয়েছে?সেদিনের কথা কি শুনে নিয়েছিল মেঘা?যার কারণে ছেলেটার সাথে এমন খারাপ ব্যবহার করছে।

আমিঃ আম্মি, আম্মি।কি ভাবছো এত মনোযোগ দিয়ে।কি ব্যাপার কথা বলছো না কেন?

আমি আম্মির মুখের সামনে তুড়ি বাজাতেই আম্মির হুশ ফিরলো।সে এতক্ষণ এক ধ্যানে কত কিছু ভেবে ফেললো।তবে এটা সত্যি আমি নিজের মনের বিরুদ্ধে কিছু করছি না।আমার মন যা বলছে তাই শুনছি।আমি জানি এটা ভুল তারপরেও আমি সেটাই করছি।তাহলে কি সত্যি আমার মনের কোন নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই।

আমিঃ তুমি এখন যেতে পারো।আমি আয়িশের সাথে যাবো না।আমার ওকে কেন জানি দুদিন ধরে সহ্য হচ্ছে না।আমাকে একদম জোর করবে না।

আম্মিঃ এটা কেমন কথা মেঘা?তোকে তো বললাম, তোর ভালো লাগছে না বলেই আয়িশ তোকে বাইরে থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে।ছেলেটা সারাদিন কষ্ট করে তোর জন্য একটা সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করেছে। আর তুই না গেলে ওর মনটা খারাপ হয়ে যাবে।মর্জি না করে আমার কাছে আয়।আমি তোকে তৈরি হতে সাহায্য করছি।

আমার আর কোন কথা না শুনে, আম্মি জোর করে আমাকে তৈরি করে দিতে লাগলো।আমি বিরক্তির সাথে নিজেকে সাজাতে লাগলাম।

🌨️🌨️🌨️

অন্যদিকে…….

আয়িশ আজ মেঘার জন্য অনেক সুন্দর করে ডেকোরেশন করছে।চারিদিকে লাল গোলাপ।পুরো সারপ্রাইজ প্ল্যানিং-টা মাটির নিচে করা হয়েছে। ভেতরটা বিভিন্ন রঙের লাইটে আলোকিত হয়ে আছে।বিশাল জায়গা জুড়ে নানা ফেইরি লাইট।কোণার দিকে ছোট একটা টেবিল।সেখানে পুরোটা গোলাপের পাপড়ির ছড়াছড়ি। দুটো গ্লাস উপুর করে রাখা।মাটির ওপর থেকে কয়েকটা সিড়ি নিচে নেমে এসেছে সিঁড়ি টা লাল গলিচা বিছানো।অন্য দিকে বেশ কিছু সারপ্রাইজ প্ল্যানিং করা।পূর্ব দিকে লাল গোলাপ পাপড়ি একটার ওপর একটা আটকে কিছু একটা লুকিয়ে রেখেছে।সেটা হলো মেঘা ও আয়িশের বিয়ের একটা ছবি।যেখানে মেঘা রেজিস্ট্রী পেপারে সই করছে আর আয়িশ এক হাতে মুখের ফুলের লম্বা ফুলের মালাগুলো সরিয়ে মুগ্ধ চোখে মেঘার দিকে তাকিয়ে আছে। সেই ছবির ওপর থাকা পাপড়িগুলো মেঘা আলতো করে ছুঁয়ে দিলেই ঝরে পরে ছবিটি দৃশ্যমান হবে।

উত্তরের দিকে একটা দরজা।দরজাটাও পুরো গোলাপে সাজানো।সেটা খুলে বাইরে গেলে দেখা যাবে একটা ছোট লাল দোলনা।দোলনার পুরোটা লাল গোলাপে মোড়ানো। সামনে ছোট একটা ঝিল।ঝিলের মধ্যে কতগুলো রাজহাঁস মনের সুখে সাঁতার কাটছে।দূরের কোণার দিকে একটা ছোট বাক্স থেকে হালকা সবুজ আলো ঠিকরে বের হচ্ছে। আসলে বক্সটার মধ্যে জোনাকি পোকা আটকানো।মেঘাকে যখন এখানে নিয়ে আসবে তখন চারিদিকে অন্ধকার করে জোনাকি পোকা ছেড়ে দিবে।দোলনার পাশে বিশাল বড় একটা লাভশেইপ আকা। তাও গোলাপের পাপড়ি দিয়ে। সেখানে অগণিত মোমবাতি জ্বালানো।মোট কথা সব কিছু আজ মেঘার পছন্দের লাল গোলাপে সাজানো।

সারা ডেকোরেশন আয়িশ সকাল থেকে একা একা করেছে।আজ আয়িশ মেঘাকে প্রপোজ করবে।যদিও মেঘা ওর স্ত্রী। তারপরও মেঘার মন ভালো করতে এই সারপ্রাইজের আয়োজন করেছে।আজ সবকিছু বলে দিবে।আয়িশ জানে মেঘা সবকিছু জেনে গেছে। তাও বলবে।

আয়িশ হালকা ছাই কালার কোর্ট প্যান্ট পরেছে।সাথে সেই রঙের কোটি।শেষ বারের মতো পুরো ডেকোরেশনে চোখ বুলালো।সবকিছু ঠিক দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছারলো।

আয়িশঃ আমার জানি তুমি জেনে গেছে আমি তোমার স্বামী। আমি জানি এটাই সত্যি।জানি এই সারপ্রাইজে হিতের বিপরীত হতে পারে। তবুও আমি তোমার মুখের হাসির জন্য সারাদিন খেটে এই কাজ করলাম।আমি চাইলে শক্তি ব্যবহার করে এক নিমিষেই সব করতে পারতাম।কিন্তু সেটা করতে মন সায় দিলো না।নিজ হাতে সবকিছু করে তোমায় উপহার দিতে মন চাইলো।আমি খুশি মনে সারাদিন কষ্ট করেছি।শুধু তোমার এক চিলতে মুখের হাসির জন্য। আসলে
কষ্টে করে কিছু উপার্জন করলে তার মর্মটা উপলব্ধি করা যায়।কিন্তু বিনা কষ্টে কোন কিছু পেলে তার মর্মটা আমরা বুঝি না।

আয়িশের মনটা কু ডাকছে। মনে হচ্ছে সামনে খুব খারাপ কিছু হতে চলছে।আয়িশ মেঘাকে বিয়ের কথাটা জানাতে চায়নি এবং এটাও জানতে চাইনি ও মেঘার স্বামী। কারণ তাহলে মেঘা ওকে ভুল বুঝে দূরে চলে যাবে।আয়িশকে নিজের আশেপাশে ভিড়তে দিবে না।যাতে মেঘা একা হয়ে যাবে।আর ইশাল এই সুযোগ ব্যবহার করে খুব সহজে ওর ক্ষতি করতে পারবে।

মেঘা যখন জানবে আয়িশ ওর স্বামী তখন থেকে নিজের মনকে কন্ট্রোল করতে পারবে না। নিজের মাথা ও মনকে প্রচুর প্রেসার দিবে।যাতে সে নিজের মনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে।মাথা কাজ করবে না।সে যা চাইবে না তাই করতে বাধ্য হবে।
আয়িশকে ওর দুচোখের বিষ মনে হবে।কিছুতেই ওকে সহ্য করতে পারবে না।কারণটা হলো মেঘা নিজের শক্তির বিষয় অজ্ঞ।আয়িশ ওর সাথে থাকলে কেউ ওর কোন বিপদে ফেলতে পারবে না।যতক্ষণ না মেঘা নিজ থেকে কোন শক্তি ব্যবহার করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আয়িশ ওর কাছে বিরক্তিকর একজন মানুষ। যার কারণে কেউ মেঘাকে বিষয়টা জানায়নি।সবাই এর জন্য ভয়ে ভয়ে ছিলো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এখন সেটাই হচ্ছে। মেঘা আয়িশকে সহ্য করতে পারছে না।আয়িশ চায়নি মেঘাকে না জানিয়ে বিয়ে করতে।কিন্তু পরিস্থিতি তখন এতটাই খারাপ ছিলো যে ওকে জানানোর মতো সময় হাতে ছিলো না। শুধু ওর বাবা-মা কে জানাতে পেরেছে। মেঘার আম্মি-আব্বি জানে মেঘা ও আয়িশ যে মেঘরাজ্যের কন্যা ও পুত্র ।

আমি এখন আমার পরনের বিশাল গাউন ধরে দাঁড়িয়ে আছি বিরান এক মাঠের মাঝখানে। নিজেকে আহামরি করে সাজাইনি।চুলগুলো খোঁপা করে সামনের বেবি চুলগুলো ছেড়ে রেখেছি।কানের দিকে দুটো পাথরের ক্লিপ আটকানো।গলায় হালকা পাতলার মধ্যে একটা চেইন।মুখে কোন মেকআপ নেই। চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক।এক হাতে গাউন ধরে রাখতে রাখতে বিরক্ত লাগছে।আমি হিজাব পরতে চেয়েছিলাম।কিন্তু আম্মি পরতে দেয়নি।রাতের বেলা কেউ দেখতে পাবে না তাই পরাও হয়নি।অনেক রাত হয়ে গেছে। আয়িশ খুব স্প্রিডে বাইক চালিয়ে এই বিরান মাঠে এসে থামলো।

আমার ডান হাতটা শক্ত করে আয়িশ ধরে আছে। আমি বুঝতে পারছি না ডিনারের কথা বলে আমাকে কোথায় নিয়ে এলো।বিশাল বড় একটা ম্যানহোলের ঢাকনার মতো দেখতে পাচ্ছি।উপরে কতগুলো ছোট ছোট চাকা। আয়িশ কয়েকটা চাকা ঘুরতেই ঢাকনাটা খুলে গেল। ভেতরে যাওয়ার জন্য একটা প্রকান্ড সিঁড়ি দৃশ্যমান হলো।আয়িশ আমাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলো। সিঁড়ি শেষ প্রান্তে এসে ঘন অন্ধকার ছাড়া অন্য কিছু দেখলাম না।হঠাৎ আমার পাশে আয়িশের অস্তিত্ব টের পেলাম না।আমি ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওকে ডাকলাম।ভেতরটা এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার।

আমিঃ আয়িশ, আয়িশ।কোথায় তুই?

আমি ডাকার সাথে সাথে পুরো জায়গা আলো জ্বলে উঠলো। চারপাশ খুব সুন্দর করে সাজানো।
চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের ভরপুর। আমার প্রিয় লাল গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো ছিটানো। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে সামনে তাকাতে দেখতে পেলাম আয়িশ সিঁড়ির লাল গলিচায় এক হাঁটু মুড়ে বসে আমার দিকে একটা লাল বক্স এগিয়ে দিয়েছে।চোখে তার করুন চাহনি।
বক্সের মধ্যে হিরের আংটি জ্বলজ্বল করছে।অন্য সময় হলে আমি খুব খুশি হতাম। কিন্তু এখন আমার এটা দেখে অনেক রাগ উঠে গেল।কারণ _______

চলবে

#মেঘকন্যা☁️
#Part_19
#Writer_NOVA

দুই হাতে বিশাল গাউন ধরে প্রাণপণে ছুটছি আমি।আয়িশের সাথে রাগারাগি করে একাই বাইরে চলে এসেছিলাম।কাঁদতে কাঁদতে হাঁটছি। হঠাৎ অদ্ভুত দেখতে এক ছেলে আমার পথ আটকে দাঁড়িয়ে ছিলো।তাকে দেখে অনেকটা ভয় পেয়ে যাই।সে আমার কাছে আসতে নিলে অদৃশ্য শক্তিতে ছিটকে দূরে পরে যায়।সেই সুযোগে আমিও দৌড়। আচ্ছা, আমাকে বাঁচাতে কি আয়িশ আসবে না।নাকি আমার সাথে ও রাগ করে থাকবে।পেছনে তাকিয়ে ছেলেটা আছে কিনা তা দেখতে নিলেই কারো বুকের সাথে বারি খেয়ে নিচে পরে যাই।তাকিয়ে দেখি সেই ছেলেটা বিদঘুটেভাবে হাসছে।

ইশালঃ এত ছুটে কি লাভ হলো?শুধু শুধু নিজের শক্তি গুলো নষ্ট হলো।আমি ভালো ছেলের মতো তোমার পথ আটকে দাঁড়িয়ে ছিলাম।কোথায় তুমি আমার সাথে ভালো মেয়ের মতো চলে আসবে।তা না করে দৌড়াদৌড়ি খেলছো।

আমিঃ একদম আমার সামনে আসবেন না।ভালো হবে না কিন্তু। আমার স্বামী আপনাকে আস্ত রাখবে না।তাই ভালোয় ভালোয় এখান থেকে কেটে পড়ুন।আয়িশ কোথায় তুই? তোর কথা না শুনে আমি সত্যি ভুল করেছি।তুই তো আমাকে বাইরে আসতে মানা করেছিলি।তোর কথা না মেনে আমি অনেক বড় ভুল করেছি।তুই না সবসময় আমাকে বাঁচাতে আসিস।তাহলে এখন কেন আসছিস না।তোর বউ বিপদে পরেছে। তুই কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না।

চিৎকার করে বলে লাভ হলো না। কথাগুলো বারবার প্রতিধ্বনি হতে লাগলো বিরান মাঠে।

ইশালঃ আহারে!!! তোমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। তোমার আয়িশ এখানে আসতে পারবে না। ওকে আমি সেই সারপ্রাইজ স্পটে শক্তি দিয়ে আটকে রেখেছি। কি বাজে কথা তাই না।

আমি নিচে বসে আছি। পেছনে দিকে যাচ্ছি। কিন্তু ছেলেটা আমার সামনে বসে অনেকটা আমার দিকে ঝুঁকে বললো।

ইশালঃ এই ইশাল তোমার জন্য এতো সময় ব্যয় করতে পারবে না। তাই অল্পস্বল্পতে কাজ সারতে চাই। এমনি তুমি আমার অনেক সময় নষ্ট করেছো।একটা কথা হঠাৎ মাথায় এলো।একটু আগে তোমার সামনে আসতে চাইলে আমি ঝাটকা খেয়ে দূরে ছিটকে পরলাম।কিন্তু এখন আমার কিছু হচ্ছে না কেন?এখনতো তোমার অনেক সামনে আছি।তার মানে তোমার স্বামী এখানে নেই। চলে গেছে তোমাকে একা ছেড়ে।তুমি তার সাথে এতটাই খারাপ ব্যবহার করেছো যে সে তোমাকে ফেলে চলে গেছে। তোমার স্বামী না থাকলে তো আমি তোমার কাছে আসতে পারবো।তাই কথাটা বললাম।

আমিঃ আরে বুদ্ধু আমার স্বামী আমার আশেপাশেই আছে। তখন আমি চেয়েছি তোকে ঝাটকা মারতে তাই তুই ঝাটকা খেয়েছিস।কিন্তু এখন আমি তোকে মারতে চাই না।তাই এখনও আস্ত আছিস।আমি আমার শক্তি ব্যবহার করতে শিখে গেছি।সো,নো টেনশন।আমি তোকে বিশ্বাস করাতে চাচ্ছি যে আমি এখন শক্তির বিষয়ে কিছু জানি না।প্লাস আমার আয়িশ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। তাই তোর মন মতো চলে তো দেখাতেই হবে।(মনে মনে)

বেশি কিছু ভাবতে পারলাম না।তার আগেই ছেলেটা মানে ইশাল চোখ বন্ধ করে হাত মুঠ করে বিরবির করে কিছু একটা পরলো।আমি মুখ বাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করছি বজ্জাত ব্যাটা করছেটা কি?এত দেরী করছে কেন?আমাকে তুলে নিয়ে যাবে, তা না করে সে বিরবির করে কি পরছে?
তারপর হাত খুললে দেখলাম সেখানে সবুজ পাউডার জাতীয় কিছু একটা। ইশাল সেই পাউডারে ফুঁ দিতেই সেটা আমার নাক,মুখে এসে ছড়িয়ে পরলো।আমি ধীরে ধীরে সবকিছু ঘোলা দেখতে শুরু করলাম।ঢলে পরে যাওয়ার আগে ইশাল আমাকে ধরে ফেললো।

🌨️🌨️🌨️

সিঁড়ির মাঝে চুপ করে বসে আছে আয়িশ। মুখে তার কোন হাসি নেই। কিছু সময় আগে মেঘার সাথে তার ভীষণ কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে সেটা শুধুমাত্র ইশালকে দেখানোর জন্য অভিনয় মাত্র। কিন্তু আসল কাজ তো এর মধ্যে সেরে ফেলেছে সে। হঠাৎ করে আয়িশের মুখে বাঁকা হাসি ফুটলো।

আয়িশঃ এই ইশালটা একটু বেশি বোকা।একে আহাম্মক বানানো কোন কষ্টের কাজ নয়।আমার বউটা ওকে ১মে শক্তি প্রয়োগ করে ঝাটকা মারলো তাও বুঝতে পারলো না।এখন যে অভিনয় করে ওর কাছে নিজে নিজে কিডন্যাপ হলো তাও বুঝলো না।আর এই বুদ্ধি নিয়ে সে নাকি আমার ও আমার বউয়ের সাথে লড়বে।বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি করছিস তুই ইশাল।তাই এবার মারার জন্য হাতিয়ার আনতে আমার বউকেই পাঠিয়েছি।তুই তো নিজে ওকে তুলে নিয়ে গিয়ে আমার অনেক বড় উপকার করলি।এবার শুধু সাদা ময়ূর রাজ্য থেকে ভালোয় ভালোয় তোর মৃত্যুর অস্ত্রটা আনতে পারলেই হলো।

বেশ কিছু সময় মনের সুখে হাসলো সে।আয়িশ কখনো ভাবতে পারেনি মেঘা এতো সহজে বিষয়টা বুঝতে পারবে।চোখ বন্ধ করে ইচ্ছে মতো কি জানি বিরবির করে পরলো।তারপর দুই হাত প্রসারিত করে ডানের থেকে বামে ঘুরালো।সাথে সাথে পুরো জায়গা আগের মতো ধূলোময়লায় নষ্ট হয়ে গেলো।সবকিছু হাওয়া হয়ে গেল।দেখে বোঝার উপায় নেই আয়িশ এত সুন্দর করে এটাকে সাজিয়ে ছিলো।

আয়িশঃ আমি জানি মাল্টি কালার, তুই ঠিক সাদা ময়ূর রাজ্য পৌঁছে যাবি।কিন্তু আমিতো তোর আশেপাশে ভিড়তে পারবো না। কারণ তোকে এখন ময়ূর রাজ্যের অধীনে থাকা জঙ্গলে নিয়ে যাবে ইশাল।কিন্তু আমিতো সেখানে প্রবেশ করতে পারবো না।তবে আমি শক্তি কাজে লাগিয়ে অদৃশ্য হয়ে তোকে দেখে আসতে পারবো।তোকে ছাড়া কতদিন থাকতে হয় আল্লাহ জানে।বউ ছাড়া থাকতে ভালো লাগে না🤧।তবে কিছুদিন কষ্ট করলে সারাজীবনের জন্য তোকে পাবো। আমার অনেক কষ্ট হবে তোকে ছাড়া থাকতে।তবে আমাদের মেঘ রাজ্যে ফিরে যেতে ইশালকে তো মারতেই হবো।আর ওকে মারতে হলে সেই ক্ষমতাধারী ছোরা-টা তো লাগবেই। সেটা এখন সাদা ময়ূর রাজের কাছে।আমি জানি তুই অবশ্যই সফল হবি।মেঘকন্যা বলে কথা।তোকে আমি পুরোপুরি আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দিয়েছি।নিশ্চয়ই তিনি যা করবে আমাদের ভালোর জন্য করবে।আমার হাতে এখন কিছু নেই।আজকে এখানে আসার উদ্দেশ্য তো আমার সফল হয়েছে।

আয়িশ কিছু সময় বসে বসে পরবর্তী পরিকল্পনা ভাবলো।ইশালকে না মেরে তারা দুজন মেঘরাজ্যে স্থায়ীভাবে যেতে পারবে না।তাই এই ভয়ংকর পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।তারা জানে এখানে জীবনের ঝুঁকি আছে তবুও আয়িশ ও মেঘা দমে যায়নি।আয়িশ রওনা দিলো মেঘরাজ্যে।সেখানে এখন যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে।মেঘা যেহেতু এদিকটা সামলাবে সেহেতু ওকে তো রাজ্য সামলাতেই হয়।তবু মেঘার হাতে সব তুলে দিয়ে আয়িশ নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না।

🌨️🌨️🌨️

চোখ খুলতেই স্বপ্নের মতো সিচুয়েশনের সম্মুখীন হলাম।ঠিক একিভাবে আটকে রাখা হয়েছে আমাকে।শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা। সেই গোল দাগ টানা,দাগের অপর পাশে কালো কুচকুচে সাপ কিলবিল করছে।এই সাপ দেখে একটুও ভয় করছে না। তবে মনে মনে দরূদ শরীফ পরছি আমার ওপর যেনো কোন টিকটিকি না উঠে।তাহলে আমি আবার অজ্ঞান।কি তাজ্জব কথা!!! এতো সাপ দেখে ভয় করছে না।কিন্তু টিকটিকি ভয় পাচ্ছি আমি।সবকিছু স্বপ্নের সাথে মিলে যাচ্ছে। দূরে পাতার মরমর শব্দ ভেসে এলো।চারদিকে সব অন্ধকার। ইশাল নামের ছেলেটি আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। ওর হাতে দুটো মশাল।মশালে আগুন জ্বালিয়ে গাছের ডালের সাথে বাজিয়ে রাখলো।ব্যাটার মতি গতির আমি ঠিক পাচ্ছি না।

ইশালঃ তোমাকে স্পর্শ করলে নাকি আমি আগুনে ঝলসে যাবো।কোথায় আমি তো তোমাকে কোলে করে ফিরলাম কিন্তু আমার কিছুই হলো না। আমাকে যত ভয় দেখানোর চেষ্টা। তোমার হয়তো প্রশ্ন হতে পারে তোমাকে এখানে নিয়ে এলাম কেন? আসলে রাতে তোমাকে নিয়ে আমার রাজ্যে ফিরতে ইচ্ছে করলো না।তাছাড়া তোমার আয়িশকে মারাতো বাকি আছে। সে তোমার খোঁজে এখানে নিশ্চয়ই আসবে।কিন্তু এই জঙ্গলে সে একদম ঢুকতে পারে না।যদি ঢুকে তাহলে আমি তার সব শক্তি কেড়ে নিবো এমন অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আমি ঘিরে রেখেছি।তোমার জন্য কোন ব্যবস্থা করিনি।কারণ তুমি তো তোমার শক্তি ব্যবহার করতেই পারো না।

আমিঃ এটাই তোর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো ইশাল।যা তুই এখন টের পাবি না।আমাকে স্পর্শ করলে সত্যি তুই ঝলসে যাতি।কিন্তু আয়িশের কথায় আমি সব শক্তি বন্ধ করে রেখেছি।তোর ওপর প্রয়োগ করছি না।তাই এখনো জ্যন্ত আছিস।তুই তো আমার শক্তিতে এখন মরবি না।যদি মরতি তাহলে আর এত কষ্ট করে ময়ূর রাজ্য থেকে আমাকে তোর মৃত্যু ছোড়া আনতে হতো না। আমার শক্তিতে যাস্ট ঝলসে যাবি।তাতে আমাদেরি ক্ষতি।কারণ তুই আবার রূপ পাল্টাবি।যাতে তোকে খুজে পেতে আমাদের সমস্যা হবে। তাই রাগটাকে চেপে রেখেছি।(মনে মনে)

ইশালঃ বসে বসে একঘেয়ে না হয়ে চলো তোমাকে কিছু অজানা সত্য জানাই।

ইশাল গোল দাগের কোনো দাঁড়িয়ে কথা বলছে।এখনো আমার সামনে আসেনি।সাপগুলো ওর পায়ের আশেপাশে ঘুরছে।ইশাল যেদিক যেদিক যাচ্ছে সেদিক থেকে সাপগুলো সরে গিয়ে খালি রাস্তা বানিয়ে দিচ্ছে। হ্যাঁ,এই ইশালই ছিলো সেদিন স্বপ্নে।কারণ ওর হলদে চোখ এবং সেই কালো রাজপোশাক দেখেই চিনেছি। তবে সেদিনের মতো মুখে মাস্কটা নেই।

ইশালঃ তোমার জন্মের সময় তোমার মা মারা যায়। তুমি যখন মাত্র ৩ মাস বয়সী ছিলে তখন তোমাদের মেঘরাজ্য ও আমাদের অঙ্গরাজ্যের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ বেঁধে যায়।ওহ্ তোমাকে বলতে ভুলে গেছি। তুমি এই পৃথিবীর সদস্য নও।তুমি মেঘরাজ্যের মেঘকন্যা। আর আয়িশও কোন সাধারণ মানুষ নয়।সে মেঘরাজ্যের মেঘপুত্র।তোমারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।যেই কথায় ছিলাম,সেই যুদ্ধে আমারা বেঈমানী করি।কারণ আমরা কিছুতেই জিততে পারছিলাম না। আমরা মিথ্যা বলে যুদ্ধ থামিয়ে দেই।আমার বাবা তোমার শ্বশুরকে বলে আমরা হার মেনে নিয়েছি।এবার তোমরা যুদ্ধ বন্ধ করো। তারা আমার বাবার কথা বিশ্বাস করে যুদ্ধ বন্ধ করে ফেলে।তখনি আমরা পেছন থেকে আটক করি।যা তোমার বাবা বুঝতে পারে না।পুরো যুদ্ধের দায়িত্ব তখন তোমার বাবার হাতে ছিলো।সেই যুদ্ধে তোমার বাবাকে হত্যা করে আমার বাবা।তোমার বাবার শেষ ইচ্ছায় তোমাকে পৃথিবীতে রেখে যায় তোমার চাচা মেঘরাজ্যের রাজা।আমি তখন মাত্র ৫ বছরের।আর আয়িশের ৩ বছর।আমি ২৭ বছরের আগে পৃথিবীতে পা রাখতে পারবো না।তার জন্য এতদিন তোমার কাছে আসতে পারিনি।আমার থেকে নিরাপদে রাখতে তোমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।তুমি যাদের বাবা-মা বলে জানো তারা তোমার জন্মদাতা মা-বাবা নয়।তারা নিঃসন্তান ছিলো বলে তাদের দরজায় তোমাকে রেখে যায় তোমার চাচা।আয়িশের যখন ২০ বছর হয় তখন থেকে তোমার সাথে ছায়ার মতো লেগে আছে।আমি তো প্রায় তোমাকে বিয়ে করেই ফেলতাম কিন্তু আয়িশ এসে সব গন্ডগোল করে দিলো।

আমি বিরক্তির সাথে হাই তুলছি।এক কথা কয়বার শুনতে ভালো লাগে।হোক না তারা আমার আপন বাবা-মা নয় তাতে ভাই তোর কি?আমাকে তারা নিজের সন্তানের চেয়ে কোন অংশ কম দেখিনি।আমি সামান্য একটা ব্যাথা পেলে তারা ব্যস্ত হয়ে পরে।মনে হয় তারাই ব্যাথা পেয়েছে। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি কোটি শুকরিয়া। তিনি আমার মতো এতিম মেয়েকে এত ভালো আব্বি-আম্মি দিয়েছেন।

🌨️🌨️🌨️

আমি হাই তোলা দেখে ইশাল খুব অবাক প্লাস বিরক্ত হলো।আমি যে ওর কথা আমলে নিচ্ছি না তা ও বেশ বুঝতে পারছে।

ইশালঃ তোমার কি আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না।

আমিঃ আপনি রূপকথার গল্প বেশ ভালো বলতে পারেন।আপনি ছোট বাচ্চাদের ভালো গল্প শোনাতে পারবেন।এরকম মন গড়া কাহিনী আপনার রাজ্যে গিয়ে তা বাচ্চাদের শুনিয়েন।আমাকে নয়।আমার যথেষ্ট বোধ শক্তি আছে।

ইশালঃ আমি মোটেও কোন মন গড়া কাহিনী বলছি না।আমি যা বলেছি তা সব সত্যি।

আমিঃ আমি জানি।আজ আয়িশ আমাকে সবটা খুলে বলেছে।কিন্তু তোর মুখে এসব কথা আমি শুনতে চাইছি না।তোকে যাস্ট অসহ্য লাগছে।আমি যে কি কষ্টে তোকে সহ্য করছি তা একমাত্র আমি জানি।ধূর,এই ছেমড়ায় সরলে আমি একটু গাছের সাথে মাথা হেলান দিয়ে ঘুমাতে পারতাম।(মনে মনে)

ইশালঃ তুমি কি কখনো আয়িশ কে জিজ্ঞেস করেছো তোমরা ওর বাবা-মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলে ও এতো রেগে যায় কেন?চলো সেই কারণটাও আমি বলে দিচ্ছি। আয়িশ কখনো তোমার কাছে মিথ্যা কথা বলে না।তাই ওর বাবা-মা নিয়েও কোন মিথ্যে কথা বলতে চায়নি।তোমাদের যদি বলে ওর বাবা-মা মেঘরাজ্যের রাজা,রাণী তোমরা নিশ্চয়ই তোমাদের পৃথিবীর এই ডিজিটাল যুগে বিশ্বাস করতে না।হেসে উড়িয়ে দিতে। তাই আয়িশ আলগা রাগ দেখাতো।যাতে তোমারা মনে করতে আয়িশের বাবা-মায়ের সাথে ওর ঝামেলা আছে। তোমারা তাই মনে করতে।তবে আয়িশ, তোমার ও মেঘরাজ্যের বিষয়ে তোমার পালিত বাবা-মা কিন্তু সব জানে।তুমি ছোট থাকতে তোমার চাচা মানে তোমার বর্তমানে শ্বশুর একদিন এসে সবটা বলে গিয়েছে।তারা খুব সহজে বিশ্বাস করে নিয়েছে।কারণ তোমার মধ্যে তারা অন্য দশটা সাধারণ বাচ্চাদের বৈশিষ্ট্য দেখিনি।বরং অবিশ্বাস্য সব গুণ খুঁজে পেয়েছে।

আমিঃ উফ্ এই ছেমড়া থামে না কে?আমার কান দুইটা বয়রা বানাইয়া কি এসব কথা থামাইবো।আজ আমি সব জানছি আয়িশের থেকে।আবার এই ছেমড়াডাও পটরপটর শুরু করছে।ইচ্ছাডা করতাছে হাত দুইটা শক্তি দিয়া ছুটাইয়া গাছের ডাল ফিইক্কা মারি।কিন্তু এখন হাত ছুটানো মানে পুরো প্ল্যান ভেস্তে দেওয়া।আগামীকাল সকাল পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করতে হবে।যদি ময়ূর রাজ্যের কাউকে পেয়ে যাই।(মনে মনে)

🌨️🌨️🌨️

যখন আয়িশ আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আংটি হাতে নিয়ে বসে ছিলো তখন আমি রেগে কিছু বলতে চাইছিলাম।আয়িশ হুট করে আমাকে জরিয়ে ধরে। আমি ওকে রেগে,প্রাণপণ লাগিয়ে জোরে ধাক্কা মারতেই ও বিদ্যুতের গতিতে অনেকটা দূরে ছিটকে পরে।ভাগ্যিস ও নিজেকে সামলে নিয়েছে। হঠাৎ আমার হাতে এত পাওয়ার কোথা থেকে এলো?আমি অবাক হয়ে নিজের হাত দুটো দেখতে থাকি।তখনি মনে হলো মাথার ওপর থেকে অনেক বড় একটা পাথর সরে গেল। মাথা ও মন দুটোই হালকা লাগছে।একে একে সবার সাথে করা খারাপ ব্যবহারগুলোর কথা মনে পরে গেল।মনে পরতেই নিজেই অবাক প্লাস লজ্জা পেয়ে গেলাম।আমি আয়িশের সাথে এতটা খারাপ ব্যবহার কিভাবে করতে পারলাম।আয়িশ দৌড়ে এসে খুশিমনে জড়িয়ে ধরলো।

আয়িশঃ আমি পেরেছি তোকে তোর শক্তি ব্যবহার করাতে।তুই এখন নিজেকে রক্ষা করতে পারবি।আমার যে কি খুশি লাগছে। এখন তুই নিজের মনকে কন্ট্রোল করতে পারবি।আমাকে তোর অসহ্য ও বিরক্ত লাগবে না।আজ আমি তোকে সব বলবো।তোকে তোর শক্তি ব্যবহার করতে শিখাবো।

নাহ্ এবার আর আয়িশকে ধাক্কা মারলাম না।ভীষণ ভালো লাগা কাজ করছে। আমার আয়িশ আমার স্বামী। এটা মনে হতেই খুশিতে মনটা ভরে উঠলো।তারপর আয়িশ আমার হাতে আংটিটা পরিয়ে দিলো।

আয়িশঃ এটা কোন সাধারণ আংটি নয়।তুই কখনো এটা হাত থেকে খুলবি না। আমার যখন বিপদ হবে তখন আংটির রং বদল হয়ে সবুজ বর্ণ ধারণ করবে।তুই কোন বিপদে পরলে আংটির কাছে সাহায্য চাইলে আমি শুনতে পারবো।তখন আমি কাউকে তোর সাহায্যের জন্য পাঠিয়ে দিবো।

আমিঃ আমি দুঃখীত আয়িশ।তোর সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি।আমি তখন নিজের মধ্যে ছিলাম না।তোকে না জানি কি থেকে কি বলে ফেলেছি।মাফ করে দিস।

আয়িশঃ ধূর বোকা মেয়ে। আমিতো সব জানতাম। তুই তখন নিজের মধ্যে ছিলি না।শোন,তোকে অনেক কথা বলার বাকি আছে। তুই মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনবি।

ইশাল আমাকে বাবা-মা, শক্তি,মেঘকন্যা, মেঘরাজ্যের বিষয় যা যা বললো।আয়িশ আগেই আমাকে বলে দিয়েছে।তারপর এটাও বললো যে আমাকে এখন ময়ূর রাজ্য যেতে হবে।কারণ ইশালের মৃত্যু ছোড়া ঐ রাজ্য আছে। আর সেটা না আনলে আমরা ওকে মারতে পারবো না। মেঘরাজ্যেও সারাজীবনের জন্য যেতে পারবো না।
সেখানে যেতে পারবো শুধুমাত্র ইশালের মাধ্যমে। তাই সেখানে কিছু সময় আমরা ঝগড়ার অভিনয় করলাম।কারণ আমরা জানি ইশাল আমাদের ওপর নজর রাখছে।তারপর মিথ্যে রাগ দেখিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম।আর আমাদের প্ল্যান মোতাবেক ইশাল আমাকে এখানে তুলে এনে আটকে রাখলো।আগামীকাল সকালে ময়ূর রাজ্যে যাওয়ার রাস্তা খুঁজতে হবে।এখন এভাবে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই।

ইশালের কথায় আমার ধ্যান ভাঙলো।ইশাল গোল দাগ ভেদ করে আমার কাছে আসতে চাইলো।কিন্তু আমি আমার শক্তি দিয়ে ওকে সামনে আসতে দিলাম না।এক ঝাটকায় শত হাত দূরে ছিটকে ফেলে দিলাম।ইশাল রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সেখান থেকে চলে গেলো।ইশাল ভাবছে আয়িশ এই জঙ্গলে এসেছে। তাই ওকে খুঁজতে চলে গেল। আমি মুচকি হেসে গাছের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।ঘুম পরী খুব জলদী আমাকে ঘুমের দেশে নিয়ে যেতে লাগলো।

হাতে থাকা আংটির দিকে ঘুম ঘুম চোখে তাকালাম।অন্ধকারেও সাদা ডায়মন্ড পাথরটা চিকচিক করছে।সাদা আলো ঠিকরে বের হচ্ছে। তার মানে আমার আয়িশ ভালো আছে।ইচ্ছে করছে আংটিতে ঠোঁট ছোঁয়াতে।কিন্তু হাত বাঁধা থাকায় তা আর হলো না। আমি ঘুমানোর আগে সেই দৃশ্যগুলো কল্পনা করলাম।যখন আয়িশ আমাকে শক্তি সম্পর্কে জানাচ্ছিলো আর তা কিভাবে করতে হয় তা করে দেখাচ্ছিলো।ওর হাতের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকা হালকা আকাশি কালার মতো দেখতে আভাগুলো অনেক চিকচিক করছিলো। দিকে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।আর আয়িশ আমার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।তখন অনেক খুশি লাগছিলো।হঠাৎ এতো ঘুম কোথা থেকে আমদানি হলো কে জানে?ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলাম।কিন্তু সকালে উঠে যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।সকালে_______

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here