মায়াবন_বিহারিনী 🖤 #পর্ব_১৩ও১৪

#মায়াবন_বিহারিনী 🖤
#পর্ব_১৩ও১৪
#আফিয়া_আফরিন

ইমনের মেজাজটা প্রচন্ড রকম ভাবে বিগড়ে আছে। মায়াকে সেদিন ওই ছেলেটার সাথে কতক্ষণ যাবৎ কথা বলতে দেখেছে। তার মধ্যে নিলাও আজকে মায়ের ফোনে পাভেল নামে কারো সাথে কনভারসেশন দেখালো। যদিও সে নীলার কথা পুরোপুরি ভাবে বিশ্বাস করেনি, তবুও নিজের চোখে তো দেখেছে। মায়াকে জিজ্ঞাসা করতেই সে সরাসরি স্পষ্ট ভাবে অস্বীকার করে ফেলল। মূলত এই কারণেই মেজাজটা অতিমাত্রায় খারাপ রয়েছে তার।
সে হিসেব মিলাবার চেষ্টা করছে, পাভেল নামের ছেলেটা আর সেইদিন রাতে দেখা ছেলেটা এক কিনা!

ইমন কিছু দিন ধরে মায়ার সাথে কথা বলা তুলনামূলক কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাপারটা মায়া লক্ষ্য করলেও পাত্তা দেয়নি।
তার ধারণা ইমন মিছেমিছি সন্দেহ করছে।
আর ইমন নিজে যখন নীলার সাথে কথা বলে, তখন কিছুই না।
আর মায়া সামান্য কারো সাথে কথা বললেই দোষ?
মায়া মনে মনে বলল, “তুমি থাকো তোমার জেদ আর ইগো নিয়ে। আমি কখনোই আর আসবো না তোমার মিথ্যে রাগ অভিমান ভাঙ্গাতে। যদি পারো, তুমি তোমার ওই নীলাকে নিয়েই ভালো থাকো।”

সকাল বেলা কলিং বছল বেজে উঠলে মায়া গেলো দরজা খুলতে। দরজা খুলেই দেখলো তার ফুপা ও ফুপি দাঁড়িয়ে। মায়া হাসিমুখে তাদের সালাম দিল।
ইমনের বাবা আমানুজ্জামান সাহেব রাজশাহী ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের একজন প্রফেসর। তিনি রাজশাহীতেই থাকেন। তবে ছুটি ছাটাতে ঢাকায় আসেন। ইমন আর সুহাদা ও সময় পেলে রাজশাহী চলে যায়।

জামান সাহেব মায়া কে দেখে বলল, “কেমন আছো মা?”

“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি কেমন আছেন?”

“আলহামদুলিল্লাহ!”

মিমো দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরল।

সুহাদা বসতে বসতে বললেন, “কিরে তোদের অবস্থা ভালো তো? খাওয়া দাওয়া করছিস ঠিকমত? রান্নাবান্নায় কোন অসুবিধা হয়নি তো?”

মিমো বললো, “না মা একদম না। তোমার মত আরেকজনকে রেখে গেছো যে! মায়া আপু থাকতে এতো টেনশন করা লাগে নাকি?”

“হ্যাঁ, ওর ভরসা করেই তো চলে গেছি।”

জামান সাহেব ইমনের কথা জিজ্ঞেস করলেন। নীলা উত্তরে বলল, “চাচা, ইমন তো বাহিরে গেছে। বাসায় নেই।”

“আজ তো হিসেব অনুযায়ী সরকারি ছুটির দিন। আজকেও বাইরে ঘোরা লাগবে ওর? দু’দন্ড স্থিরতা নাই!”

সুহাদা বললেন, “ও এখন বড় হয়েছে। নিজের একটা স্বাধীনতা আছে না? কই আর যাবে? আছেই দেখো বন্ধুদের সাথে।”

“হ্যাঁ, তাই থাকুক। দিনরাত ক্লাবে পড়ে থাকুক আর সিগারেট টানুক।”
.
.
মিমঝ ঘরে এসে মায়াকে বলল, “আপু ভাইয়ার সাথে কি তোমার কোন প্রবলেম হয়েছে নাকি? ইদানিং কেমন তোমরা আগের মতো কথা বলো না।”

“ইগো বুঝেছিস, সব হচ্ছে ইগো। তোর ভাইয়ের ইগোটা সারা জীবন বেশি ছিল। আল্লাহ ভালো জানে, এত ইগো তারা আসে কোথা থেকে!”

“কেন কি হয়েছে?”

“যাই হয়ে যাক না কেন, সবের মূলে আছে নীলা আপু।”

“নীলা আপু?”

“হ্যাঁ। কাল নাগিনী একটা!”
.
.
.
আজ মায়া আর মিমোর আবিদের বাড়ি যাওয়ার কথা। মায়া অনেকবার না করা সত্ত্বেও আবির বায়না করেছিল আর বলছিল, “ছোট ভাইয়ের অনুরোধ তুমি রাখবে না? এমন বোন কেন তুমি?”

অগত্যা মায়া রাজি হয়েছিল। ছেলেটা অসম্ভব ভালো। মায়াকে আপু করে ডাকে, যথেষ্ট সম্মানও করে। আর ইমন কিনা এই ছেলেটাকে নিয়ে ও মায়াকে সন্দেহ করে!
আবির নিজে এসে মায়া আর মিমোকে নিয়ে এলো। বাসায় গিয়ে আবিরের মা মীরা বেগমের সাথে ওদের পরিচয় করিয়ে দিল। তিনি খুব খুশি হলেন।

মায়াকে বললেন, “ও তো সব সময় তোমার কথা বলে।”

মায়া হাসলো। আবির বলল, “বসো তোমরা।”

মায়া আর মিমো অনেকক্ষণ পর্যন্ত আবিরদের বাসায় ছিল। মীরা বেগমের সাথে বেশ কিছুক্ষণ গল্প গুজব করে ফিরে এলো।
.
.
সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে, তবুও এমন বাড়ি ফিরে নাই। জামান সাহেব সেই সকালে এসেছেন, তার ছেলে এখনো বাড়ি ফেরে নাই তাই মেজাজটা চড়া হয়ে আছে।
ইমন কে ফোন দিলেও, সে ফোন ধরে না।

রাত বারোটা পার হয়েছে। সবাই ঘুমাতে চলে গেছে। শুধুমাত্র মায়া সোফায় হেলান দিয়ে বসে ইমনের জন্য অপেক্ষা করছে।
কিছুক্ষণ পর দরজার হালকা কড়া নাড়ার শব্দ হলো। মায়া উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল। দেখলো ইমন দাঁড়িয়ে আছে। সে মায়া কে কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে ঘরে ঢুকলো।

মায়া দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বলল, “কোথায় ছিলে?”

“কোথাও না।”

“কোথাও না, এটা কি ধরনের উত্তর? কোথাও তো ছিলে একটা। এত রাগ করে বাড়ি ফেরার কারণ কি?”

“সব কৈফিয়ত কি তোকে দিতে হবে?”

“অবশ্যই দিতে হবে। এত রাত পর্যন্ত কোথায় থাকবে তুমি? খাওয়া-দাওয়া কিছু হইছে রাতে?”

“তোর এত কিছু না জানলেও চলবে। আর কি বললি? এত রাতে পর্যন্ত কোথায় থাকি আমি? কেন আমি কি, ‌ তোর কাছে কৈফিয়ত চাইছি তুই সন্ধ্যায় কার বাসায় গিয়েছিলি?”

“কি বললে তুমি?”

“যেটা তুই করেছিস সেটাই বলেছি। এখন নকশা করিস না।”

মায়ার মনে পরল আবিরের বাসায় যাওয়ার কথা। কিন্তু এটা ইমন জানল কিভাবে? আর জানলেই বা সে এভাবে কথাটা কেন বলবে?

“তুমি কি জানো ইদানিং তোমার কথা বলার ধরনটা কেমন চেঞ্জ হয়ে গেছে?”

“তুই যা শুরু করেছিস, তাতে তো কেবলমাত্র কথা বলার ধরনটা চেঞ্জ হয়েছে। পরবর্তীতে যে আরো কত চেঞ্জ হয়, সেটা কে বলতে পারে?”

“বাহ! মানুষ কি সুন্দর বদলে যেতে পারে? অথচ দুই দিন আগে পর্যন্ত তুমি! থাক, আগের প্রসঙ্গ নাইবা তুললাম। শুধুমাত্র নীলা আপুর কথা বিশ্বাস করছো তুমি। আমার কথার কোন দাম নাই তোমার কাছে?”

“আমি নীলার কথা বিশ্বাস করছি না। নীলা যেসব বলেছে সে সব ভিত্তিহীন। আমি কখনোই ওর উপরা কথা বিশ্বাস করব না। কিন্তু নিজের চোখে যেটা দেখেছি, সেটাকে অবিশ্বাস করব কিভাবে?”

“কি দেখছো তুমি?”

“দয়া করে আমাকে এত কিছু কৈফিয়ত দিতে বলিস না। পারবো না আমি এত কথা বলতে তোকে। বাধ্য নই আমি।”

“চেঁচাচ্ছ কিসের জন্য এভাবে তুমি? ফুপা আছে বাসায়।”

ইমন অবাক হল। বলল, “বাবা আসছে?”

“হ্যাঁ!”

“কখন?”

“সকালে।”

“ও আচ্ছা।”

“খাইছো রাতে?”

“যা ঘরে গিয়ে ঘুমা। এমনিতেই মাথা গরম আছে আমার। তুই সামনে থাকলে মুখ থেকে কি কি বেরিয়ে যাবে, আল্লাহ ভালো জানে!”

মায়া চুপচাপ চলে এলো। মাঝে মাঝে তার ইমনকে নিয়ে খুব কনফিউশন হয়। ইমন মাঝে মাঝে খুব ম্যাচিউরিটি দেখায়, আবার একদম অবুঝ বাচ্চা হয়ে যায়। অদ্ভুত আচরণ!
অযথাই আবিরকে নিয়ে সন্দেহ করছে, অথচ আবির তার ছোট।
কোথায় থেকে যে এসব হাওয়ায় উড়ানো খবর পায় কে জানে?

এই নীলা আসার পর থেকে সম্পর্কটা এমন যাচ্ছে। একদিন ভালো তো আরেক দিন জঘন্য!
.
.
সকালবেলা আবার সবকিছু ঠিকঠাক। ইমন যেন ভুলেই গিয়েছিল, রাতে কিছু একটা হয়েছে। দিব্যি বাবার সাথে হেসে খেলে কথা বলছে। মায়ার সাথেও স্বাভাবিক আচরণ করছে। দেখে কে বলবে, কাল রাতেও এই ছেলেটা মায়ার সাথে তুমোল ঝগড়া করেছে।

নীলা এত প্ল্যান করেও বারবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছিলো। মায়ার ভালোবাসার এতই জোর?
________
একটা প্রহর ভালো কাটলে বোধহয় আরেকটা প্রহর খারাপ কাটে। এইতো কিছুক্ষণ আগে পাভেল অর্থাৎ নীলার সেই নিলয় নামের ওই ফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়েছিল। ইমন আর মায়া বাইরে বের হয়েছিল। মায়াকে ওই ছেলেটি পেছন থেকে ডাক দিল, মায়া জিজ্ঞাশু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়।

ছেলেটি সামনে এসে বলল, “অনেকদিন পর তোমার সাথে দেখা।”

“কে আপনি?” মায়া বলল।

“কি বলো? আমায় চিনতে পারছ না? আমি পাভেল।”

“না তো। আপনাকে কি আমার চেনার কথা?”

ইমন তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে। পাভেল একবার ইমন এর দিকে তাকিয়ে মায়ার দিকে তাকালো।
তারপর বলল, “ইনি কে?”

মায়া জবাব দিল, “আগে দয়া করে নিজের পরিচয়টা দেন।”

পাভেল হেসে বলল, “কি আজব তাই না? এখন তোমাকে আমার পরিচয় দিয়ে চেনাতে হবে? আর একটা সময় তুমি আমায় ভালবাসতে।”

প্রচন্ড রকমের শকড খেলো ইমন আর মায়া।
ইমন এগিয়ে এসে বলল, “কি ফালতু কথা বলছেন ভাই? মায়া এক সময় আপনাকে ভালোবাসতো মানে?”

“ভালোবাসতো, তার কোন মানে হয়? সে এক সময় আমায় ভালোবেসে ছিল। সময়ের বিবর্তনে এখন আমরা আলাদা পথে।”

মায়া রেগে গেল।
“কি বলছেন কি আপনি? কার সাথে কাকে গুলিয়ে ফেলছেন? আমি তো আপনাকে চিনিই না ভাই!”

“হ্যাঁ, এখন আমায় চিনবে কিসের জন্য?”

ইমন পাভেলকে থামিয়ে বলল, “আপনি চুপ করেন। আপনার সাথে যদিও ওর সম্পর্ক হয়ে থেকে থাকে এখন তো নাই। তাহলে পুরনো কথা কেন তুলছেন? নাকি আপনাদের সম্পর্ক এখনো আছে?”

“নাই।”

“ব্যাস। তাহলে তো আর কথা বলার মানেই হয় না। যান এখন এখান থেকে।”

পাভেল মুখ কালো করে সরে পড়ল।

মায়া ইমন কে বলল, “তুমি কি বিশ্বাস করলে উনার কথা?”

“রাস্তায় আমি কথা বাড়াতে চাই না। তুই বাড়ি চল।”

“যাচ্ছি। আগে প্লিজ বলো, তুমি ওর কথা বিশ্বাস করো নাই। আর আমি তো ওকে চিনি না। জীবনে কোনদিন দেখিও নাই।”

“কিন্তু আমি দেখছি।”

“কোথায়?”

“আমি পরে বলব সব। নিজে আগে কিছু ব্যাপারে শিওর হয়ে নেই।”

মায়া ছোট করে বলল, “আচ্ছা।”

তারপর দুজনে বাড়ি ফিরে এলো। বাড়ি ফিরে এসে আলাদা ভাবে কথা বলার কোন সুযোগ পেল না।
মায়ার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে আছে। এমনিতেই ইমন আবিরের ব্যাপারটা নিয়ে সন্দেহ করছে, তার মধ্যে আবার আরেক উটকো ঝামেলা এসে বসেছে।

ইমন ঘরে বসে আজকের ব্যাপারটা নিয়েই ভাবছিল। আজকের ওই ছেলেটাকে খুব চেনা চেনা লাগছিল। কিন্তু সে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত, ছেলেটার বলার সমস্ত কথাই মিথ্যা।
মায়াকে ইমন চেনে, প্রচন্ড বিশ্বাসও করে। তার স্বভাবে মিথ্যে বলা বা অধিক প্রেম করার ধাত নেই।

রাতের বেলায় ইমন মায়া কে ফোন করে নিচে নামতে বলে। দুজনে একসাথে নিচে নেমে বাড়ির পেছনে উঠান মত একটা জায়গা আছে, সেখানে বসে।

প্রথম কথাটা ইমনই বলল, “তুই চিনিস ওই ছেলেটাকে?”

“কসম কেটে বলছি, আমি চিনিনা।”

“কসম কাটতে বলছি আমি তোকে?”

“না, কিন্তু আমি সত্যিই ওকে চিনি না।”

“কিন্তু আমি ওকে চিনি।”

“কে?”

“কলেজে থাকতে ওই ছেলের সাথে নীলাকে অনেকবার দেখেছিলাম। অনেক আগে তো তাই মনে ছিল না।”

মায়া অবাক হয়ে বলল, “তুমি শিওর বলছো? ওই ছেলেটা নীলা আপুর ফ্রেন্ড?”

“হ্যাঁ, আর আমি যদি খুব ভুল না করি; তাহলে আজ ও যা বলেছে সেটা নীলার কারসাজি।”

“কি বলছ কি তুমি?”

“হ্যাঁ। ঘটনাগুলো পরপর মিলিয়ে দেখ। নীলা আমাকে তোর ফোনে পাভেল নামে একজনের কনভারসেশন দেখাই ছিল। অথচ তুই জানিসই না এ সম্পর্কে কিছু। আমার মনে হয় ওই এসব করছে। আমি এখন ওর ব্যাপারে একদম শিওর হয়ে গেলাম।”

“কোন ব্যাপারে?”

“আরে আজকের এই ব্যাপারে।”

“ও। কিন্তু নীলা আপু কি পাচ্ছে এসব করে?”

“গাধী! এতদিন তো খুব বলতিস, নীলা আমাদের সম্পর্কটাকে নষ্ট করতে চাচ্ছে। এখন আমি বুঝলাম, আর তুই বোকা বনে যাচ্ছিস কি জন্য?”

“তাহলে কি করবা এখন?”

“ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে। তুই যেন নীলাকে আগেই এসব বলিস না। আচ্ছা তুই প্রথমে বুঝেছিস কেমন করে, নীলা আমায় পছন্দ করে?”

“পছন্দ করে না, ভালোবাসে ও তোমায়। আর আমি একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা মেয়ের চোখের ভাষা বুঝি। এটা কোন ব্যাপার না আমার জন্য।”

“ভালোবাসে? এটাকে তুই ভালোবাসা কিভাবে বলিস?”

“সে যাই হোক, তুমি বললে না তো কি করবে?”

“নীলার মেইন উদ্দেশ্য আমাদের আলাদা করা?”

“হ্যাঁ।”

“তাহলে নীলার এই উদ্দেশ্যটা সফল হলে কেমন হয়?”

“মানে?”

“আয় কানে কানে বলি।”

ইমন আর মায়া দুজনে বসে কিছুক্ষণ প্লান করল।

মায়া বলল, “তারমানে এখন আমাদের আলাদা হতে হবে?”

“উফ। দিনদিন এরকম উচ্চ পর্যায়ের গাধা হয়ে যাচ্ছিস কিভাবে? তোকে এতক্ষণ ধরে কি বোঝালাম আমি?”

“ও আচ্ছা বুঝতে পারছি।”

“তবে এই প্ল্যানের ফাস্ট স্টেপ তোকেই শুরু করতে হবে।”

“ওকে করব। তবে একটা কথা, এটা যেন শুধুমাত্র আমাদের একটা প্ল্যান এর ই অংশ হয়। সত্যি যাতে না হয়।”

“তুই নিশ্চিন্তে থাক, আমার দিক থেকে কখনোই সত্যি হবে না।”

“আচ্ছা।”

“এখন আমায় একটা সত্যি কথা বল?”

“কি কথা?”

“সেদিন কার বাসায় গেছিলি? তুই আর মিমো?”

মায়া থমকে গেল। ইমন এই কথা এখনো ভুলেনি।

“যার বাড়ি গেছিলাম তার নাম আবির।”

“কে সে? মানে তোর সাথে কিভাবে পরিচয়?”

“বিশ্বাস করো ও আমার ছোট। আমাকে আপু বলে ডাকে। তুমি এটা ভেবো না যে ওর সাথে আমার রিলেশন আছে।”

“রিলেশনের কথা কোথা থেকে আসছে? আমি জাস্ট তোকে জিজ্ঞাসা করছি?”

“শোনো তুমি আমাকে বিশ্বাস করো তো নাকি? সিরিয়াসলি যদি বিশ্বাস করো, তাহলে ওই কথা আর তুলনা। আমি সত্যি বলছি ও আমার ছোট ভাই।”

“আচ্ছা, তুললাম না ঐ কথা।”

“ওকে। কথা শেষ, এখন ঘুমাতে যাব।”

“যা আমিও উঠবো।”

“তাহলে চলো একসাথে যাই।”

“তুই যা, আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে আসছি।”
মায়া উঠে ঘরে চলে এলো। দেখলো নীলা এখনো ঘুমায়নি। মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলছে। মায়াকে আসতে দেখে ফোন রেখে মিষ্টি করে হাসলো। মায়া ও উত্তরে হাসি বিনিময় করল। তারপর চোখ মুখ অন্ধকার করে নীলার পাশে বসলো।

নীলা বললো, “ওরকম চোখ মুখ করে আছো কেন?”

“ভালো লাগছে না।”

“কেন? ইমনের সাথে কিছু হয়েছে?”

“হ্যাঁ। মাত্রই এক দফা ঝগড়া করে আসলাম। ওর কাজ নাই কর্ম নাই সারাদিন শুধু আমার ভুল বোঝে। আর উল্টাপাল্টা কথা বলে মেজাজ গরম করে দেয়। কি যে করি?”

“কেন ভুল বুঝে কেন?”

“কিছু বিষাক্ত পোকার জন্য!” তীক্ষ্ণ কণ্ঠে জবাব দিল মায়া।

“মানে?”

“মানে হলো ইমনের স্বভাবটাই এমন, অতিরিক্ত সন্দেহ করা। আমার তো মনে হয়, আমাদের এই সম্পর্কটা আর কন্টিনিউ করা সম্ভব হবে না।”

নীলা অবাক হলো প্রচন্ড। সাথে ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠলো।

নীলা সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “টেনশন করো না সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“আমি অযথা টেনশন করে নিজের মাথা খারাপ করব কেন? আর আমার মনে হয় এই সম্পর্ক আর ঠিক না হওয়া ভালো। আমি চলে যাব এখান থেকে।”

“কোথায়?”

“কেন? আমার বাড়ি নাই?”

“ও আচ্ছা। কবে যাবা?”

“কাল অথবা পরশু।”

নীলার চোখ মুখ ১০০ ওয়ার্ড বাতির মত উজ্জ্বল হয়ে গেল। এ তো দেখি মেঘ না চাইতে জল। এত তাড়াতাড়ি দুজনের মাঝখানে ফাটল ধরানো যাবে, কল্পনার বাহিরে ছিল। আজ তার মানে পাভেল কে পাঠিয়ে ভালোই হয়েছে। বেশি সুবিধা হল।

নীলা মায়া কে বলল, “আচ্ছা ঘুমিয়ে পড়ো তুমি।”

মায়া উঠে বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। ঠোঁটে ফুটে উঠল তাচ্ছিল্যের হাসি।
মনে মনে বলল, “তুমি যে কি পাও এসব করে আল্লাহ ভালো জানে? কি দরকার একজনের সম্পর্ক নষ্ট করার? সামনে দিন পড়ে আছে, যে খেলা তুমি শুরু করেছো তার ফল নিশ্চয়ই পাবা! ভবিষ্যতেও দিন আসবে।”

সকালে ঘুম থেকে উঠে ইমনের সাথে এক দফা কথা কাটাকাটি হয়ে গেল মায়ার। মিমো থামানোর হাজারো চেষ্টা করলেও থামাতে পারল না। শেষমেষ মাকে ডেকে নিয়ে এলো। তিনি এসে ধমকে দুজনকে থামালেন। নীলা নিরব দর্শক হয়ে সবই দেখছিল।

মায়া বলল, “আমি আজকেই বাড়ি ফিরে যাব। আমার এখানে থাকার আর কোন প্রয়োজন নাই। এখানে আর এক মুহূর্ত ও নয়। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।”
.
.
.
.

চলবে……

[কার্টেসী ছাড়া কপি করা নিষেধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here