ভয়ংকর মৃত্যুপুরী,পর্বঃপ্রথম

ভয়ংকর মৃত্যুপুরী,পর্বঃপ্রথম
লেখাঃMd_Tarajul_Islam(Shihab)

“মা আমি আর এই দেশে থাকবো না,,আমি বিদেশ যাবো সেখানে একটা ভালো কাজের অফার পেয়েছি আমি”
সাবিলার এই কথায় ওর মা সুরভী বেগম বেশ অবাক হলেন।কিছুক্ষণ সাবিলার দিকে তাকিয়ে চুপ করে রইলেন।সাবিলা ওর মাকে চুপ থাকতে দেখে বলল
->কি ব্যাপার মা তুমি এমন চুপ কেন?
সাবিলার মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন
->হঠাৎ এভাবে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলি কেন?
সাবিলা মুখ মলিন করে ওর মায়ের দিকে অশ্রুভরা চোখে তাকিয়ে বলল
->কি করবো মা বলো।এই পাড়া প্রতিবেশীদের কথা আমার আর সহ্য হচ্ছে না।সবাই জেনে শুনে আমায় কথা শোনায়।
সাবিলার চোখ থেকে টুপ করে এক ফোটা জল নিচে গড়িয়ে পড়লো।সুরভী বেগম সাবিলার কাছে এসে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে দিয়ে বলল
->এভাবে কান্না করিস না মা?আর মানুষের কথায় দেশ ছাড়বি কেন তুই?
->তাছাড়া আর কি করবো বলো?আমি তো আর শখ করে ডিভোর্সি হইনি তাই না।কিন্তু তারপরেও সবাই আমায় দায়ী করে।তাই আমি আর এসব শুনতে পারবোনা।
->ঠিক আছে তুই যেটা ভালো মনে করিস তাই করবি।
->হুমম।
সাবিলার এক বছর আগে পারিবারিক ভাবে আরিয়ান নামের এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছিলো।সাবিলার বয়স চব্বিশ।তার স্বামীর বাইরের চেহারা ছিলো একরকম ভিতরটা ছিলো আরেক রকম।বিয়ের আগে ওর স্বামীর যার সাথে সম্পর্ক ছিলো তাকে সাবিলার সাথে বিয়ের দুই মাস পর বিয়ে করে বাড়ি আনে।তাই তাদের মধ্যে তখনই ডিভোর্স হয়ে যায়।সাবিলার সবসময় চাইতো আর যাইহোক সে নিজের স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে পারবে না।
সাবিলা বিদেশ যাওয়ার সমস্ত কিছু ঠিক ঠাক করলো।আজ রাত নয়টার সময় সাবিলার ফ্লাইট।সাবিলা এয়ার্পোটে ঢুকার আগে শেষ বারের মতো ওর মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।তারপর ওর মা-বাবাকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলো।সাবিলা বিমানে উঠে ওর সিটে বসলো।একটু পর বিমান ছেড়ে দিবে।সাবিহলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।এমন সময় সাবিলা হাতে কে যেন টোকা দিলো।সাবিলা তাকিয়ে দেখলো বছর পাঁচেকের এক মেয়ে।সাবিলা চোখ মুছে মুচকি হেসে বলল
->কিছু বলবে মামুনি?
->চকলেট খাবে?
সাবিলা মুচকি হেসে মেয়েটির মুখে হাত বুলিয়ে বলল
->না মামুনি তুমি খাও।
->আচ্ছা।
মেয়েটি খুব শান্ত শিষ্ট ভাবে চকলেট খেতে লাগলো।সাবিলা মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছে,,আমার যদি এরকম একটা মেয়ে থাকতো তাহলে সবসময় ওকে বুকের মধ্যে আগলে রাখতাম।পরক্ষণে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।সাবিলা মেয়েটিকে বলল
->মামুনি তোমার নাম কি?
মেয়েটি খাওয়া অফ করে আস্তে করে জবাব দিলো
->আমার নাম রিফা।।
->বাহ খুব মিষ্টি নাম তো।
সাবিলা মেয়েটির সাথে কথা বলার পর মনটা ভালো হয়ে গেলো।সাবিলা রিফাকে নিজের কোলেও ওপর নিলো।তা দেখে রিফার মা সাবিলাকে বলল
->জানেন আমার মেয়েটা না খুব মিশুক।সহজে মানুষের সাথে মিশতে পারে।
->হুম তা তো দেখতে পাচ্ছি।এরকম বাচ্চাদের আমার খুব ভালো লাগে।
এভাবে কথা বলতে বলতে বিমান ছাড়ার সময় হয়ে গেলো।রিফাকে ওর মা নিজের কোলে নিলো।বিমান ছাড়ার পর সাবিলা চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিলো।সাবিলা কখন ঘুমিয়ে পড়েছে টের পাইনি।হটাৎ সাবিলার পুরো শরীর ঝাকুনি দিয়ে উঠলো সেই সাথে মানুষের আর্ত চিৎকার।সাবিলার চোখ খোলার সাথে সাথে দেখলো পুরো বিমান থর থর করে কাঁপছে আর সেটা ক্রমশ নিচের দিকে নামছে।সাবিলার বুঝতে বাকি রইলো না যে বিমান নিচে পড়ে যাচ্ছে।সবার চোখের সামনে মৃত্যু উপস্থিত।বিকট একটা শব্দ হয়ে বিমান নিচে পড়ে গেলো।এরপর আর কারো কিছু মনে নেই।
যখন সাবিলার জ্ঞান ফিরলো চারদিকে অন্ধকার।তবে একটা লাল আলোর মতো জ্বলছে।সে বিমানের মেঝেতে পড়ে আছে।হাতে পায়ে প্রচন্ড ব্যথা।সাবিলা কোনমতো উঠে দাঁড়ালো।বিমান একটু কাত হয়ে আছে।বেশির ভাগ মানুষের অবস্থা আশংকাজনক।এমন সময় রিফা তার মাকে ডাকছে,আম্মু উঠো,চোখ খুলো।রিফার মা কোন কথা বলছে না।সাবিলা রিফার কাছে বসলো।রিফা সাবিলাকে দেখে বলল
->আন্টি আর আম্মু কথা বলছে না কেন?
রিফা কাঁদতে লাগলো।সাবিলা রিফার মাকে ডাকতে শুরু করলো।
এমন সময় বাইরে থেকে কেউ একজন বলে উঠলো
->যে বা যারা বেঁচে আছেন তাড়াতাড়ি বাইরে আসুন বিমানে আগুন ধরে গেছে।
এমন সময় এক শীতল হাত সাবিলার হাত চেপে ধরলো।সাবিলা দেখলো সে রিফার মা।রিফার মা বলল
->আপনি রিফাকে নিয়ে চলে যান।
->আপনিও উঠুন আমি ধরছি।
রিফার মা আর কিছু বলতে পারলো না সেখানে তিনি মারা গেলেন।বিমান নিচে পড়ে যাওয়ার সময় রিফার মা সিট বেল্ট খুলে সেখানে নিজের মেয়েকে বসিয়ে নিজে মৃত্যু মুখে পতিত হোন।মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগেছিলো ওর।রিফা জোরে জোরে কাঁদছে।এমন সময় বাইরে থেকে একজন ছেলে ভিতরে এসে সেখানে বেঁচে থাকা লোকদের খোঁজ করতে লাগলো।এমন সময় সে সাবিলার পাশে এসে বলল
->তাড়াতাড়ি চলুন সময় খুব কম।
সাবিলা তাড়াতাড়ি রিফাকে কোলে তুলে নিলো।রিফা যেতে চাইছে না মাকে ছেড়ে।সাবিলা এক প্রকার জোর করে রিফাকে নিয়ে বিমান থেকে নেমে এলো।মাটিতে পা রাখতে সাবিলার পা কাঁদার মধ্যে ডুবে গেলো।সাবিলা তাকিয়ে দেখলো ওরা জঙ্গলের মধ্যে এসে পড়েছে।তার মানে এটা হয়তো জলাভূমি।সেই ছেলে বলল
->তাড়াতাড়ি আসুন।
সাবিলা সেই ছেলের পিছন পিছন যেতে লাগলো।জলাভুমির মধ্যে দিয়ে হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।রিফা বিমানের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে।ওই ছেলে সাবিলাকে নিয়ে বিমান হতে বেশ কিছুটা দুরে একটা উচু টিলার ওপর নিয়ে আসলো সেখানে প্রায় ২০-২২ জন লোক রয়েছে।একটু বাদে বিকট শব্দে বিমান ব্লাস্ট হয়ে গেলো।
বেঁচে যাওয়া প্রত্যেক মানুষ বেশ আঘাত পেয়েছে।সবাইকে বের করে আনা ছেলেটিকে দেখে তেমন আঘাতপ্রাপ্ত মনে হচ্ছে না।সে নিজের ফোন বের করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে কিন্তু একটুও নেট নেই।রিফা কান্না একটু থামিয়েছে।সবাই নির্ঘুম।মশার কামড়ে প্রত্যেকের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।বিপদের রাত যেন সহজে পেরোতে চায় না।সাবিলা রিফাকে কোলে নিয়ে গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসলো।ওর গায়ে থাকা চাদর দিয়ে রিফাকে ঢেকে নিলো যাতে মশা না ধরে।সাবিলা রিফার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে সে ঘুমিয়ে পড়ে।তখন ওই ছেলেটি সাবিলার সামনে এসে বসে।সে সাবিলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে
->মেয়েটির মা মনে হয় মারা গেছে তাই না?
->হুম।এতটুকু একটা মেয়ে এই বয়সে মারা হারা হয়ে গেলো।ভাবতে কেমন যেন লাগছে।
->যতক্ষন না আমরা এখান থেকে উদ্ধার হচ্ছি ততক্ষণ আপনি ওকে আগলে রাখুন।
->হুমমম।
ওই ছেলের সবার সাথে কথা বলে সবাইকে শান্ত থাকার চেষ্টা করছে।কথা বলার এক পর্যায়ে ছেলেটির নাম জানা গেলো।ওর নাম সিহাব।
সারারাত অনেক কষ্টে গেলো।যখন সকাল হলো তখন চারদিক তাকিয়ে সবাই অবাক।ওদের সামনে বিশাল বড় বড় গাছ।গাছের কারনে সূর্যের আলো প্রবেশ করছে না।সেই সাথে শুকনো জমি নেই।পুরোটায় একটা জলাভূমি।যার গন্ধে নাক বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা।মাঝে মধ্যে জলের মধ্যে কি যেন নড়ে উঠছে।হঠাৎ এক লোক বলে উঠলো,,আমি আর এখানে এক মুহুর্ত থাকবো না আমি খোলা জায়গায় যাবো”।
এই বলে লোকটি জলাভুমিতে নেমে সামনের দিকে যেতে লাগলো।সিহাব বেশ কয়েকবার ডাকলো কিন্তু শুনলো না।হঠাৎ সে একটা চিৎকার দিয়ে পড়ে গেলো।তার এভাবে পড়ে যাওয়া দেখে সবাই অবাক।সেখানে পানি নড়ছে।সিহাব সহ সেখানে আরো দুইজন যাবে আর তখন সাবিলা বাধা দিয়ে বলল
->দাড়ান ওখানে যাবেন না তাহলে আপনারাও এভাবে মারা পড়বেন?
->কেন?
->কারন ওই জায়গায়,,,,

চলবে,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here