তোকে ঘিরে,Part_09,10,11,12

তোকে ঘিরে,Part_09,10,11,12
Ariyana Nur
part -9

মানহা বাসায় এসে ওর চোখ কপালে উঠে গেলো।কেননা ড্রয়িং রুমে সকালের ঐ মহিলাগুলো বসে আছে আর সাথে মামুনি এক কোনায় বসে আছে।মানহা কোন কথা না বলে নিজের রুমে চলে যেতে লাগলো।

—কোথায় ছিলে এতোক্ষন????

কথাটা শুনে মানহা থমকে দাড়ায়।মনে মনে আল্লাহ্ কাছে প্রার্থনা করে পিছন দিকে ঘুরে ও অবাক হয়ে সামনের মানুষটির দিকে তাকিয়ে রইল ।কেননা সামনে মানহার হিরো দাড়িয়ে আছে।

আরহামের চোখদুটো লাল হয়ে আছে।দেখেই মনে হচ্ছে অনেক রেগে আছে।মানহা কিছু না বলে চুপ করে রইল।কি বলবে কিছুই ওর মাথায় ঢুকছে না।আর তার থেকে বড় কথা ওর মাথায় ঘুরছে, ও এখানে কি করে এল???

মানহাকে চুপ থাকতে দেখে আরহাম জোরে ধমক দিয়ে বলল….
—কি হল কথা বলছো না কেন???

আরহামের ধমকে মানহা কেপে উঠল।আরহামের এই রূপটাকে ও ভয় পাচ্ছে।কেননা আরহামকে এই রূপটা ওর অচেনা।আরহামের সাথে মানহার যতবার দেখা হয়েছে ওকে সব সময় হাসি মজা করতে দেখেছে।এমন রূপে দেখেনি।

যারা বেশি হাসি খুশি থাকে তাদের রাগি রূপটা আসলেই অনেক ভয়ংকর হয়।তারা সহজে রাগে না আর রাগলে তাদের কেউ থামাতে পারে না।

একজন মহিলা বলল…
বাবা…এই মেয়ে কি বলবে দেখো গিয়ে কি করে বেরিয়ে…..

মহিলাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে আরহাম চিৎকার দিয়ে বলল….

—চুপ থাকুন…..
আমাদের হাজবেন্ড ওয়াইফের মাঝে আপনাকে কথা বলতে বলি নি….

আরহামের কথা শুনে সব মহিলারা হা করে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইল আর মামুনি আয়েস করে ভালো ভাবে বসল।

তাদের থেকে একজন কাপা কাপা গলায় বলল….
—বাবা…তুমি এই মেয়েটাকে বিয়ে করেছো!!!!

আরহামঃকেন আন্টি আপনার আপসোস হচ্ছে আপনার ঐ ঢংগি মেয়েকে আমার গলায় ঝুলাতে পারেননি বলে।

—তুমি এই মেয়েটার জন‍্য আমার মেয়েকে এভাবে বলতে পারলে???

—সো…সরি আন্টি।লাগলো আপনার…..
আমিতো শুধু আপনার মেয়েকে ঢংগি বলেছি তাতেই আপনার লাগছে আর আপনি যে,আমার ওয়াইফকে কি কি বলেছেন তখন??? আপনি ওকে কি বলেছেন মনে হয় না আপনার এতো তারাতারি ভুলে যাওয়ার কথা।

আরহামের কথা শুনে মহিলাটি চুপ করে থাকলো।আরেক জন গর্জন দিয়ে বলল…

—তুমি এভাবে বড়দের সাথে কথা বলছো কেন???তাও আবার এই রাস্তার মেয়েটার জন‍্য।

আরহাম জোরে চিৎকার দিয়ে বলল….

—জাস্ট সেট আপ….
কাকে রাস্তার মেয়ে বলছেন।ভুলে যাবেন না ও কে।মানহাকে হাত ধরে টেনে এনে ওদের সামনে দাড় করিয়ে বলল….

ভালো করে শুনে রাখুন ও হচ্ছে মিসেস মানহা আরহাম শিকদার।এই শিকদার বাড়ির পূএ বধু।কথাটা যেন মনে থাকে। আর কি যেন বলছিলেন,আমি কেন বড়দের সাথে এভাবে কথা বলছি??
বড়রা যখন নিজেদের সিমানার বাহিরে চলে যায় তাখন তো ছোটদের মুখ খুলতেই হবে তাই না।আপনাদের সাহস কি করে হয় আমার বাসায় এসে আমার ওয়াইকে বাজে কথা বলার???নিজের মেয়ের বয়সী একটা মেয়েকে এসব বাজে কথা বলতে আপনাদের একটুও কি মুখে বাঝেনি।আপনারা নিজেদেরকে ভদ্র বলছেন, এই আপনাদের ভদ্রতার পরিচয়???

—ও তখন বলেনি কেন ও তোমার বউ।আর তুমি যদি বিয়ে করে থাকো তাহলে ঐ মেয়েটা কার??তোমার বিয়ে হয়ে গেছে আর মেয়ে আছে আমাদের কে জানাও নি কেন???আর এতোদিন ও যেখানে ছিল সেখানে কেন বলে বেড়িয়েছে ও বিধবা???

—গোয়েন্দাগিরি তো তাহলে ভালই করেছেন।ক্রাশ….এগুলো নিজের সন্তানদের জন‍্য একটু করতেন।

আরহাম একটু থেমে তারপর বলল….
—আর এটা আমাদের পারসোন‍্যাল ব‍্যপার।আপনার ছেলের যে দুইবার বিয়ে হলো দুদিন আগেও জেল থেকে আসলো তা কি আপনারা মানুষকে ঢোল পিটিয়ে জানিয়েছেন???আপনাদের ফেমেলির অনেক কিছুই কিন্তু আমার জানা তাই আমার মুখ খুলাবেন না।আর একটা কথা মানহা আমার ওয়াইফ আর তুর আমার মেয়ে।আমার ওয়াইফ আর মেয়েকে নিয়ে খারাপ কথা বললে কিন্তু আমি কাউকে ছাড়বো না।বিশেষ করে আমার মেয়েকে কিছু বলবেন না।যদি আপনারা ওকে কিছু বলেন তাহলে আমার চেয়ে খারাপ কিন্তু কেউ হবে না।এতোদিন আমার ভালো রূপটা দেখেছেন আমার খারাপ রূপটা দেখতে আসবেনা।
কথাটা মাথায় রাখবেন।

আরহামের কথা শেষ হতেই তারা মাথা নিচু করে সবাই চলে গেলো।

মনহা মাথা নিচু করে কান্না করছে।মামুনি মহিলারা চলে যেতেই সে মানে মনে কেটে পরলো।চলে যাওয়ার আগে মানহার কানে কানে ফিসফিস করে বলল….

—বাবু কিন্তু অনেক রেগে গেছে।তুমি ছাড়া আর কেউ ওকে সামলাতে পারবে না।আর দেখো নিজের যেন কোন ক্ষতি না করে।আমি গেলাম।

কথাগুলো বলে মামুনি নিজের রুমে চলে গেল।আর মানহা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইল।

—আমার সামনে তো কথার ঝুলি নিয়ে বস।একটা কথাও মাটিতে পরতে দাও না তখন তাদের কিছু বলনি কেন???

মানহা কোন কথা না বলে চোখের পানি ফেলছে।
মানহাকে চুপ থাকতে দেখে আরহাম সজোরে দেয়ালে ঘুষি দিয়ে বলল….

—এন্সার মি….

আরহামের হাত দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত পরছে আর ওর পুরো শরীর রাগে থরথর করে কাপছে।মানহা কাপা কাপা গলায় বলল…..
—আপনার হাত থেকে রক্ত পরছে…..

আরহাম ঐ হাতে আবার দেয়ালে ঘুষি দিয়ে বলল….

—পরুক তাতে তোমার কি???হাতের ক্ষতটাই তো দেখবে মনের ক্ষতটা তো আর দেখতে পারবে না।

—আমি…..

মানহাকে থামিয়ে দিয়ে আরহাম বলল….
—চুপ….আর একটাও কথা বলবে না।ভাগ‍্য ভালো মেয়ে তখন বাসায় ছিলোনা।ও যদি এই সব কথা শুনতো তাহলে কি হত একবার ভেবে দেখেছো???

মানহা গুটি গুটি পায়ে আরহামের সামনে এসে ওকে অবাক করে দিয়ে ওকে জরিয়ে ধরে বাচ্চাদের মত ফুপিয়ে কান্না করতে লাগলো।আর আরহাম এদিকে মানহার কাহিনি দেখে পথরের মত দাড়িয়ে রইল।

চলবে

তোকে ঘিরে
Part_10
Ariyana Nur

মানহা বিছানায় বসে বসে চোখের জল ফেলছে আর গভীর ভাবনায় ডুবে আছে।সব কিছু যেন ওর মাথার উপর দিয়েই যাচ্ছে।এতোদিন ও আরহামের বাসায় ছিলো আর ও বিন্দু মাএও টের পায়নি।আর মামুনি যদি আরহামের মা হয়ে থাকে তাহলে কি করে ওকে মেনে নিল।আরহাম কি তাকে জোর করেছে???কিন্তু এতোদিনে তো তারমাঝে কোন ক্ষোভ বা রাগ মানহা দেখতে পায়নি।এখনো কি দুনিয়াতে এতো ভালো মানুষ আছে???

সামনে কারো উপস্থিতি বুঝতে পেরে মানহা মাথা তুলে তাকালো।তাকিয়ে দেখে মামুনি খাবার প্লেট নিয়ে ওর সামনে বসে আছে।ও ছলছল নয়নে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

মামুনি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল….

—সরি মা….আমি তোমার আর আরহামের সম্পর্কে সব কিছু জানা সর্তেও তোমার সাথে মিথ‍্যে বলেছি।এই ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না।আমি মিথ‍্যে না বললে তুমি এই বাসায় থাকতে না ।আর তোমাকে অন‍্য কোথায় রেখে আমরাও শান্তিতে থাকতে পারতাম না।আমাকে তুমি মাফ করে দিও।

মানহা কিছু না বলে মামুনিকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো আর বলল….

—সরি মামুনি….
আমার জন‍্য আজ বাড়িতে এতো কিছু হয়ে গেলো।প্লিজ…মামুনি আমাকে তুমি মাফ করে দাও।আমাকে ভুল বুঝো না।আমি…আমি….কলকেই বাসা থেকে চলে যাব।
কান্না করতে করতে মানহার হেচকি উঠে গেছে।

মামুনি মানহাকে সোজা করে বসিয়ে বলল….

—দেব কানের নিচে এক।কোথায় যাবি তুই???এই তুই আমার মেয়ে???এখনি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছিস???আমাকে এতো তারাতারি পর করে দিলি নাকি আমি এতোই খারাপ যে আমাকে তোর আর সয‍্য হচ্ছে না।

মানহা কান্না থামিয়ে এক দৃষ্টিতে মামুনির দিকে তাকিয়ে আছে।মানহার মা মারা যাওয়ার পর ওকে এভাবে কেউ শাষন করে নি।মানহাকে চুপ থাকতে দেখে মামুনি ধমক দিয়ে বলল…

—কিরে কথা বলছিস না কেন???

মানহা আনমনেই বলে ফেলল….
—তুমি এতো ভালো কেন???

মানহার কথা শুনে মানুনি কতক্ষন ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।তারপর মুচকি হেসে বলল…..

—তুমি যে ভালো তাই আমাকে তোমার ভালো মনে হচ্ছে।আর আমি কিন্তু অনেক পাজি কথা না শুনলে কিন্তু পিটুনি দিব।

—তুই করে বলনা মামুনি….
তোমার মুখে তুই তাই বেশি মানায়।জানো মা মারা যাবার পর এভাবে কেউ আমাকে বকেনি।আমার মা তো নেই মা থাকলে মনে হয় আমাকে এভাবে বকতো।

—কে বলেছে তোর মা নেই আমি আছি না।আমাকে পারবিনা ওদের মত মা বলে ডাকতে???

মানহা ছলছল নয়নে তার দিকে তাকিয়ে বলল….
—পারবো মা…পারবো….
এই বলে আরাব তাকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।

—বোকা মেয়ে আবার কান্না করছিস কেন???এবার উঠ খাবারটা খেয়ে নে।সকাল থেকে তো মনে হয় না কিছু খেয়েছিস।

মানহা কান্না করছে আর মামুনি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।মানহার মনে হচ্ছে ও ওর এক মাকে পেয়ে গেছে।

আসলে যাদের মা নেই তারাই যানে মা না থাকাটা কত কষ্টের।

একটু পর মানহাকে মামুনি নিজ হাতে খাবার খাইয়ে দিয়েছে।মানহা খাবার খেয়ে কাচামাচু করছে কিছু বলার জন‍্য।মামুনি আচলে হাত মুছতে মুছতে বলল…

—কিছু বলবি….

মানহা সাহস নিয়ে বলল….
—মা রাগ করোনা প্লিজ আমার কথাটা মন দিয়ে শুনো।আমি এখান থেকে চলে যাব।দেখো তিনি আমার থেকে ভালো কাউকে পাবে।তাছাড়া আমার একটা মেয়ে আছে।তুমি তাকে বুঝিয়ে বললে বুঝবে…..

—কথা শেষ….(রেগে)

—মা বুঝার চেষ্টা কর….

—দেখ তুই এতোদিন যে ভাবে এ বাড়িতে ছিলি সে ভাবেই থাকবি আমি বা বাবু তোকে কোন জোর করবো না।কিন্তু তারপরেও এই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলবি না।

—মা…প্লিজ….

মামুনি কঠর গলায় বলল…
—আবার যদি এ বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি।কথাটা বলে মামুনি হন হন করে চলে গেলো।

এদিকে মানহা বোকার মত তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে একা একাই বলতে লাগলো…..

—এটা কি হল….
মা দেখি বাংলা সিনেমার ডায়লগ বলে গেলো….
মনে হয় বাংলা সিনেমা বেশি দেখে 🤔কিন্তু বাংলা সিনেমা বেশি দেখলে তো তার ছেলেকে এই কথাটা বলা দরকার….যদি তুই এই মেয়েকে এই বাড়িতে রাখিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি আথবা তোকে মা আর বউ এর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে।মা কি তাহলে ভুল জায়গায় ভুল ডায়লগ দিয়ে গেলো🤔

মানহা এদিকে একা একাই কথা বলছে আর দরজার বাহির থেকে মানহার কাহিনি দেখে মা মিটমিট করে হাসছে।

____________________________

মিষ্টি আর তুর মিষ্টির এর আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে গিয়েছে।আরহাম আসার আগেই ওকে ফোন করে বলে দিয়েছে মিষ্টিকে, তুর কে নিয়ে কোথাও যেতে।

সকালে তখন মিষ্টি আরহামের সাথে ফোনে কথা বলছিল। মহিলাদের চেচামেচি শুনে মিষ্টি সেখানে আসে এদিকে আরহামও লাইনে ছিল।মহিলাদের সব কথাই আরহাম শুনে।
মহিলাদের কথা শুনে আরহামের মাথায় রক্ত উঠে যায়।আরহাম তারাতারি করে এখানে চলে আসে।আর এসেই সব মহিলাদেরকে খবর পাঠায় বাড়িতে আসার।মহিলারা যেহেতু আরহাম বলতে পাগল সেহেতু তারাও এসে পরে।তারপরের বাকিটা তো সবারি জানা।

তুর বাড়িতে এসেই দেখে আরহাম সোফায় বসে আছে।ওকে দেখে তুর দৌড়ে ওর কাছে এসে বলল….

—সুপারম‍্যান তুমি চলে এসেছো…
মিষ্টি মনি দেখো আমার সুপারম‍্যানকে…..

আরহাম তুরকে ওর কোলে বসিয়ে বলল….
—কেমন আছো আম্মু???

—ভালো..তোমাকে পেয়ে আরো ভালো হয়ে গেছি…
তোমার হাতে কি হয়েছে….

—ঐ কিছু না….

মিষ্টি সামনে এসে বলল….
—আবার হাতে কিছু করেছো???

তুরঃমিষ্টি মনি তুমি সুপারম‍্যান কে চিনো???(অবাক হয়ে)

মিষ্টিঃ হুম তোমার সুপ‍্যারম‍্যন আমার বড় ভাই।

মিষ্টি আরহামের দিকে তাকিয়ে বলল….
—সুপ‍্যারম‍্যান তুমি মিষ্টি মনির ভাই!!!

আরহামঃ হ‍্যা আম্মু আমি ওর ভাই।তা সারাদিন কোথায় ছিলে তুমি???কিছু খেয়েছো???

তুরঃআমি তো মনির সাথে ব‍েড়াতে গিয়েছিলাম।আর হ‍্যা খেয়েছিতো???আচ্ছা সুপ‍্যারম‍্যন তুমি কি এখানেই থাকবে???

মামুনি পাশে এসে বসে বলল…
—বনু তোমার সুপ‍্যারম‍্যন এখানেই থাকবে।

তুর খুশি হয়ে হাতে তালি দিতে দিতে বলল….
—ইয়াহু….সুপ‍্যারম‍্যন আমাদের সাথে থাকবে।কিন্তু সুপ‍্যারম‍্যন আমি তোমাকে কি বলে ডাকবো???

আরহামঃকেনো পাপা বলে ডাকবে।পাপা ডাকতে কোন অসুবিধা আছে।

তুর মাথা নাড়িয়ে না বলল।

আরহামঃতাহলে….

তুর কিছু না বলে চুপ করে রইল।

তুরকে চুপ থাকতে দেখে মামুনি বলল….
—মাম্মাম বকবে না।তুমি আমার বাবুকে পাপা বলেই ডাকতে পারো।আমি মাম্মামকে বলে দিব।

তুরঃ তোমার বাবু আছে??? কোথায় সে???আর আমি তাকে পাপা কেন বলবো???

মামুনি মুচকি হেসে বলল….

—এই যে তোমার সামনে।এই হচ্ছে আমার বাবু।

তুরঃ সুপ‍্যাম‍্যন তোমার বাবু!!!কিন্তু তিনি তো অনেক বড়!!!বাবু হল কিভাবে???

মামুনিঃও তো আমার ছেলে তাই আমি আদর করে ওকে বাবু বলে ডাকি।

তুরঃতাহলে মিষ্টি মনিকে আদর করে কি বলে ডাকো???

মিষ্টিঃমিষ্টি বলে ডাকে।

তুরঃতোমার নাম মিষ্টি না???

মিষ্টিঃআমার নাম আনিশা।মা আদর করে মিষ্টি ডাকে আর ভাইয়া…..

আরহামঃটমেটো….

আরহামের কথা শুনে তুর খিলখিল করে হাসতে হাসতে বলল….
—এ…মা….
মনি তোমার নাম টমেটো….
টমেটো কোন নাম হল…এই বলে ও আবার হাসতে লাগলো।

তুর কে এভাবে হাসতে দেখে সবাই মিটমিট করে হাসছে।

দুর থেকে মানহা তুর এর কাহিনী দেখে চোখের জল ফেলছে।আর মনে মনে ভাবছে…মানুষ কতটা ভালো হলে অন‍্যের বাচ্চাকে এতো সহজে মেনে নেয়।

____________________________

আরহাম বেলকেনিতে দাড়িয়ে এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।মনের মধ্যে তার ঝড় শুরু হয়ে গেছে।এ ঝড় কখন থামবে তার নাম ঠিকানা নেই।

দরজায় নক পরার শব্দে আরহামের ধ‍্যান ভাঙ্গলো।আরহাম পিছন দিকে না তাকিয়েই বলল…
—টমেটো চলে যা আমি খাব না।আর আমাকে ডিস্টাব করিস না।

এইটু পর আবার আবার দরজায় নক পড়লো।আরহাম বিরক্ত হয়ে পিছনে তাকিয়ে……

চলবে

তোকে ঘিরে
Part_11
Ariyana Nur

আজ মানহার ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেছে।ফজরের নামাজ পরে বিছানায় সোয়ার পর কখন যে চোখ লেগে গেছে তা ও নিজেও জানে না।

মানহা তারাতারি উঠে ফ্রেস হয়ে তুর কে রেডি করিয়ে নিল।নাস্তা বানানোর ও সময় নেই।তাই ঠিক করেছে বাহির থেকে মা মেয়ে খেয়ে তারপর স্কুলে যাবে।যেই ভাবা সেই কাজ।
মানহা আর তুর দরজার সামনে আসতেই পিছন থেকে মা বলল….

—কোথায় যাচ্ছিস???

মানহাঃ স্কুলে যাচ্ছি মা।

মাঃনা খেয়ে কেন যাচ্ছিস???

মানহাঃমা….এখন খেতে গেলে দেরি হবে।আমরা বাহির থেকে খেয়ে নিব।

মা ধমক দিয়ে বলল….

—কথা ঘুরানো শিখে গেছিস???তুই যে সকানে নাস্তা বানাস নি তাই খাবি না তাকি আমি জানি না।

মানহাঃ তেমন কিছু না।আ….

মাঃচুপ কোন কথা শুনবো না।তারাতারি এসে নাস্তা কর।বাবু তোদের পৌছে দিবে।

মানহাঃ না না আমরা চলে যেতে পারবো।

আরহাম সামনে এসে তুরকে বলল….

—তুর আম্মু…চল আমরা তারাতারি নাস্তা করে নেই।তারপরে আমি তোমাকে স্কুলে পৌছে দিব।

তুর খুশি হয়ে বলল….

—ইয়াহু….আজ আমাকে মাম্মাম আর পাপা স্কুলে নিয়ে যাবে।কি মজা…কি মজা….

তুর এর খুশি দেখে মানহা আর কিছু না বলে রাজি হয়ে গেল।কেননা ওর কাছে সবার আগে তুর এর খুশি বাকি অন‍্য কিছু।

_____________________________

মাহান মাথা নিচু করে বসে আছে।সকাল বেলা মিসেস শিকদার ফোন করে মাহানকে মানহা আর আরহামের কথা জানায়।

নিধি হাতে চায়েপ কাপ নিয়ে রুমে এসে দেখে মাহান মাথা নিচু করে বসে আছে।নিধি ওর পাশে বসে বলল….

—তুমি কি খুশি হওনি।

মাহান মাথা উঠিয়ে বলল….

—খুশি হব না কেন।আমি তো এটাই চেয়েছিলাম ওর জীবনে কেউ আসুক।দেখো আল্লাহ্ আমার দোয়া কবুল করেছে।
এখন শুধু আল্লাহ্ এর কাছে একটাই দোয়া ও ভালো থাকুক সুখে থাকুক।

—ভদ্র মহিলার কথা শুনে তো ভালই মনে হল।আর আফরার থেকে খবর নিয়েছি ছেলেটাও নাকি অনেক ভালো।

—ভালো হলেই ভালো।এখন আল্লাহ্ এর কাছে দোয়া কর ও যেন ভালো থাকে।

বাইকের সামনে মানহা দাড়িয়ে আছে।আরহাম আর তুর বাইকে বসে আছে।মানহা এক পা আগাচ্ছে দু পা পিছাচ্ছে।কিভাবে ও বাইকে বসবে তা নিয়ে সংকোচ বোধ করছে।তুর চিৎকার দিয়ে বলল….
—মাম্মাম আমার দেরি হচ্ছে।

মানহা এবার কোন কথা না বলে বাইকে উঠে বসল।আর যতটুক পারলো দুরুত্ব বাজায় রেখে বসল।

তুর স্কুলে গিয়ে ওর চেনা জানা যাদের দেখছে তাদেরকেই আরহামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।ওরা তুর কে ক্লাসে দিয়ে আসার সময় আরহাম তুরের সামনে হাটু গেড়ে বসে ওকে আদর দিয়ে বলল….

—ভালো করে লেখাপড়া করবে মা…আর বেশি দুষ্টুমি করবে না।ছুটির সময় পাপা এসে তোমাকে নিয়ে যাবে।

তুর আরহামকে আদর দিয়ে ওকে পাপা বলে চলে গেলো।

মানহা গাল ফুলিয়ে দাড়িয়ে রইল।তুর ফিরে এসে মানহাকে আদর দিয়ে বলল….

—দেখলে পাপা মাম্মাম কেমন হিংসুটে।তোমাকে আদর দিয়েছি কিন্তু মাম্মাম কে দেই নি দেখে গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তুর এর কথায় ওরা দুজন হেসে দিল।মানহা রাগি ফেস করে বলল….

—তবেরে…পাজি মেয়ে…দাড়াও তুমি…

তুরকে আর কে পায়।তুর দিল ভৌ দৌড়।

মানহা আর আরহাম গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় একজন মানহার সামনে এসে বলল….
—কেমন আছেন মিসঃ

মানহাঃভালো।আর আমি মিসঃ না মিসেস….

—ও আমি তো ভুলেই গেছিলাম।তা আপনার হাজব্রেন্ড তো….

মানহা আর কিছু বলতে না দিয়ে বলল…
—আমাকে কেন জিগ্গেস করছেন আমার হাজব‍্যেন্ড কেমন আছে??আপনার সামনেই তো আছে নিজেই জিগ্যেস করুন।

—মানে(অবাক হয়ে)

মানহা আরহামকে দেখিয়ে দিয়ে বলল….
—এই হচ্ছে আমার হাজব‍্যেন্ড।

সামনের মামুষটি আরহামের দিকে তাকিয়ে হা করে রইল।তা দেখে মানহা বলল….

—আসি স‍্যার আমদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।এই বলে মানহা আর আরহাম চলে গেল।

___________________________

আফরা বসে বসে সেই কখন থেকে ন‍্যকা কান্না করছে।মানহা এবার বিরক্ত হয়ে বলল….

—থামবি তুই।তোর এই ঢং কিন্তু আমার ভালো লাগছে না।

আফরা নাক টেনে বলল….
—তুই আগে কেন বলিস নাই আরহাম ভাই আমার জিজু।

—উস্টা চিনোস….ঐ জিজু হয় কেমনে???তুই না আমার বড়???

—রাখ তোর বড়।আমি তো তোর জামাইরে জিজুই কমু।তা আমার জিজু কই???

—খুইজ্জা আন দেখাইয়া দেই।

ওরা কথা বলছে ওদের কথার মধ্যেই মিষ্টি এসে বলল….
—ভাবী মা..বলছে চা কি এখান দিবে না কি পরে।

মানহাঃআফরা বলে দে আমি কারো ভাবী না আর না আমি কারো সাথে কথা বলছি।

মিষ্টি মানহার গলা জরিয়ে ধরে বলল…..

—ভাবী গো…ও….ভাবী…..
তোমার এই পিচ্ছি ননদটার সাথে আর রাগ করে থেকো না।দেখো আমি কান ধরছি।দরকার পরলে কান ধরে উঠবস করবো।তারপরেও রাগ করে থেকো না।তুমি না আমার ভালো ভাবী,কিউট ভাবী।প্লিজ…

মানহাঃ হয়েছে আর পাম দিতে হবে না।

মিষ্টিঃরাগ নেই তো আমার উপর।

মানহাঃনা নেই এবার খুশি….

মিষ্টিঃঅনেক….

আফরাঃমিষ্টি তা আমার জিজু কোথায়???

মিষ্টিঃতোমার জিজু কোথায় তা আমি জানি না।কিন্তু আমার জিজু কোথায়???তুমি কেমন গো ছবিও দেখালেনা।

মানহাঃআজ পযর্ন্ত আমাকেও দেখায়নি ছবি।

আফরাঃ এতো পাগল হচ্ছো কেন।একেবারে বিয়ের দিনই দেখো।আগে দেখলে আমার জামাই পুরোনো হয়ে যাবে।

মিষ্টিঃজিজুকে পরে দেখবো তাতে সমস‍্যা নেই।বলছি কি জিজুর কোন ছোট টাই ভাই আছে নাকি???জানো আমার কত ইচ্ছা ছিল আমার ভাবির ভাই এর সাথে চুটিয়ে আড্ডা দিব ঘুরবো ঘারবো।কিন্তু আমার সব আশায় পানি ঢেলে দিছে।তাই তোমাকে জিগ্যেস করলাম।

মানহা চোখ ছোট ছোট করে বলল….
—বেশি বেশি হচ্ছে না।

মিষ্টিঃ আরে রাখো তোমার বেশি বেশি।আপু বললে না তোমার দেবর আছে কি না।

আফরাঃআহারে আমার বিয়াইন সাহেবা আপনার জন‍্য আরো এক বালতি সমবেদনা।আমার কোন দেবর নাই।

মিষ্টি মন খারাপ করে বলল….
—ধুর আমার কপালটাই খারাপ।একটাও বিয়াই কপালে জুটলো না।

মিষ্টির কথা শুনে ওরা হাসতে লাগলো।

____________________________

আরহাম আর ওর বন্ধুর পাশাপাশি বসে আছে।ওর বন্ধু রাগি গলায় বলল…..

—শালা তোর জন‍্য এতো কিছু করলাম।আর তুই আমাকে কিছুই জানালি না।

—দেখ রাগ করিস না।আমি তখন কোন পরিস্থিতিতে ছিলাম তা তোকে বলে বুঝাতে পারবো না।

—থাক এবারের মত মাফ করলাম।পরের বার আমাকে কিছু না জানালে খবর আছে তোর।তা তোর কথায় বুঝা যাচ্ছে তুই কাল প্রচুর রেগে ছিলি।হাতে মনে হয় নিজেই কিছু করেছিস।

—হুম….

—আমার জানা মতে তোর রাগ উঠলে তোর সাভাবিক হতে২,৩দিন লাগে।তা এতো তারাতারি কিভাবে সাভাবিক হয়ে গেছি।

ওর কথা শুনে আরহাম কাশতে লাগলো।

চলবে

তোকে ঘিরে
Part 12
Ariyana Nur

১০দিন পর……
মানহা মন খারাপ করে বেলকেনিতে দাড়িয়ে আছে।কি করবে কিছুই ওর মাথায় আসছে না।আরহাম যে এতো রাগি হবে তা ওর ধারনার বাহিরে।সেদিনের পর থেকে ওর সাথে একটা কথাও বলে নি।কিন্তু সব সময় ওর খবরা খবর ঠিকই রাখছে।প্রতিদিন ওকে আর তুরকে স্কুলে দিয়ে আসে আবার নিয়ে আসে।আর আসার সময় ওর পছন্দের চকলেট তুর এর হাতে ধরিয়ে দেন।মিষ্টি আর তুরেরটা তো আলাদা আছেই।এদিকে মাহাব ও ওদের ওখানে যেতে বলছে।আরহাম যদি ওর সাথে কথা নাই বলে তাহলে ব‍্যপারটা খারাপ দেখায়।সবাই কি না কি মনে করবে।মানহা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরাসরি আরহামের সাথে কথা বলবে।যা হবে দেখা যাবে।

আরহাম বাহির থেকে এসে ফ্রেস হয়ে বিছানায় কপালে হাত দিয়ে শুয়ে আছে।এমন সময় দরজায় নক পড়লো।ও না দেখেই বলল….

—টমেটো শব্দ করিস না।এমনি মাথা ধরেছে।চা টা দিয়ে যা।

মানহা গুটি গুটি পায়ে আরহামের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বলল…

—সরি…আমি না জেনেই আপনার জন‍্য কফি করে নিয়ে এসেছি।

মানহার কথা শুনে আরহাম তারাতারি সোয়ার থেকে উঠে নিজের চোখ ঢলে আবার মানহার দিকে তাকালো।কেননা এই কয়দিনে মানহা একবারও ওর রুমে আসে নি।আজ তো এসেছে সাথে কথাও বলছে।জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছে না তো!!!

আরহামের এই কান্ডে মানহা ফিক করে হেসে দিল।

আরহাম ওর দিকে ভ্রু কুচকে তাকাতেই ও বলল….

—সরি সরি সরি….
আসলে আপনার সাথে কিছু কথা ছিল ।সমস‍্যা নেই আপনি অসুস্থ পরে কথা বলা যাবে।আর চা আমি পাঠিয়ে যাচ্ছি।

এই বলে মানহা চলে যেতে নিলেই আরহাম বলল….

—বসেন।আর চা লাগবে না কফি হলেই চলবে।কি বলবেন বলুন।

মানহা মনে মনে বলল….

—হুহ…ঢং দেখলে বাচি না।ভাব কত।শুধু দরকারটা আমার দেইখা তা না হলে আপনার সাথে কথা বলার জন‍্য আমার বয়েই গেছে।মানহা মাথার থেকে শয়তানি বুদ্ধি ঝেড়ে ফেল ভাব এই খবিসরে কেমনে লাইনে আনা যায়।একবার লাইনে আনতে পারলে বুঝাইয়া দিমু কত ধানে কত চাল।মানহা কথা গুলো মনে মনে বলে মুখ ভেংচি দিয়ে বিছানার এক কোনায় বসল।

যা আরহামের চোখ থেকে এড়ালো না।আরহাম মানহার কাহিনী দেখে মনে মনে হাসছে।আরহাম এতোদিন ইচ্ছে করেই মানহার সাথে কথা বলেনি।যাতে মানহা নিজের থেকে ওর সাথে কথা বলে।

মানহাঃধন‍্যবাদ। সেদিন আমার হয়ে মহিলাদের সাথে লড়াই করার জন‍্য।আজ পযর্ন্ত আমার ভাই আর বাবা ছাড়া কেউ আমার জন‍্য এভাবে লড়েনি।আপনি সেদিন জিগ্গেস করেছিলেন না,আমি কেন সেদিন তাদের উচিত জবাব দেইনি।আসলে কি জানেন…আমি দুষ্টুমিতে সেরা।কিন্তু নিজের জন‍্য প্রতিবাদ আমি কখনই করতে পারি নি।আমাকে ছোটবেলা থেকে কেউ কিছু বললে কান্না করতে করতে বাসায় চলে আসতাম।কিন্তু প্রতিবাদ আমি কখনই করতে পারতাম না।তার জন‍্য ভাইয়ার অনেক বকুনিও খেয়েছি।

আরহামঃএখন আমি কি করতে পারি???

—আপনাকে কিছু করতে হবে না।শুধু আমার সাথে রাগ না করে থাকলেই চলবে।

—আমি রাগ করে থাকলে আপনার সম‍্যসা কি???

মানহা মনে মনে বলল…

—আপনি রাগ করে থাকুন বা না থাকুন।যা মন চায় তা করুন।তাতে আমার বিন্দু মাএ কোন সম‍্যসাই নাই।কিন্তু সম‍্যসা তো ঐ এক জায়গাই।

মানহাকে চুপ করে থাকতে দেখে আরহাম বলল….
—বললেন না।

মানহা কাচুমাচু করে বলল….
—আমার সাথে কেউ রাগ করে থাকলে আমার ভালো লাগে না তাই….

আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বলল….
—কখনো কখনো নিজের লড়াই নিজেরি লড়তে হয়।সব সময় কেউ যে তোমার জন‍্য লড়বে তা ভাববে না।কখনো কাউকে বুঝতে দিবে না তুমি দুর্বল।নিজের জন‍্য যদি লড়তে না পারো তাহলে অন্ন‍্যের জন‍্য নিজের পরিবারের জন‍্য কিভাবে লড়াই করবে।তোমার দুর্বলতা তোমার কাছেই রেখো কারো কাছে প্রকাশ করো না।

________________________________

তুরঃমাম্মাম প্লিজ আমি দুধ খাবো না।জানো আজ আমি অনেকগুলো খাবার খেয়েছি।আমার পেটে একটুও জায়গা নেই।আর একট কিছু খেলে আমার পেট ফেটে যাবে।

মানহা তুর কে অনুকরন করে বলল….

—মাম্মাম আমার পেটে একটুও জায়গা নেই হুহ….
বললেই হলো তারাতারি শেষ করো এটা।

—আমি খেতে পারবো না তুমি খাও।

—আমি কেন খাব।দেখি তুমি কি করে না খেয়ে থাকো।

—প্লিজ আমি খাব না মাম্মাম।

—প্রতিদিনি তোমার দুধ খেতে নিলেই যত বাহানা না।আজকে পেট ব‍্যথা,কাল পেট ভরা,পরশু বমি পাচ্ছে ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি।

—প্লিজ তুমি জোর করো না।আমি কাল ঠিকি খাব।

—আসতে পারি….
কথাটা শুনে মানহা আর তুর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে আরহাম দাড়িয়ে আছে।

তুরঃপাপা পাপা…আসোনা।আর দেখো মাম্মাম আমাকে বকছে।

মানহাঃএই পাজি মেয়ে আমি কখন তোমাকে বকলাম???

আরহামঃকার এতো বড় সাহস আমার মেয়েকে বকছে???

তুরঃমাম্মাম….

—কেন মাম্মাম বকছে???

তুর গাল ফুলিয়ে বলল….
—দুধ খাই নি বলে।

আরহাম কিছু মনে করার অভিনয় করে বলল….
—আজ কি কেউ আমার কাছে গল্প শুনবে???

তুর অবাক হয়ে বলল….
—তুমি গল্প পারো???

—হুম…পারি তো…..

তুর আবার গাল ফুলিয়ে বলল….

—তাহলে মাম্মাম কেন বলতো তুমি গল্প পারো না।তোমার মত হনুমান নাকি গল্প বলতে পারে না।পারে শুধু মেয়ে মানুষের মত ঝগড়া করতে আর বকর বকর করতে।

তুর এর কথা শুনে মানহা মাথা চুলকাতে চুলকাতে মনে মনে বলল…

—মানহারে তোর মেয়ে হাটে পুরো হাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে।তুই এবার কি করবি।

আরহাম মানহার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলল…

—তোমার মাম্মাম যেমন ঢেড়স সবাইকে তাই মনে করে।

আরহামের কথা শুনে মানহা রাগি চোখে ওর দিকে তাকালো।আরহাম ওকে পাত্তা না দিয়ে বলল….

—এবার বল গল্প শুনবে কি না।না শুনলে আমি চলে যাচ্ছি।

তুর খুশি হয়ে বলল….
—শুনবো…শুনবো….

—ঠিক আছে তাহলে তো দুধটা খেতে হবে।

—কেন???আমি খাব না।

—দুধটা খেলে তোমার দেড়িতে ঘুম আসবে তুমি পুরো গল্প শুনতে পারবে।আর না খেলে তুমি তারাতারি ঘুমিয়ে পড়বে।এখন বল তুমি কি করবে।পুরো গল্প শুনবে না অর্ধেক গল্প।

—আমি পুরো গল্প শুনবো।

আরহাম মানহার থেকে দুধের গ্লাসটা নিয়ে তুরের মুখের সামনে ধরে বলল….

—তাহলে তারাতারি শেষ কর এটা।

তুরও খুশি খুশি খেতে লাগলো।আর আরহাম ওকে গল্প শুনাতে লাগলো।

_________________________________

আফরাঃ শায়তান,বান্দর,হনুমান আর জীবনেও আমার ফোন দিবি না।

ফোন রিসিভ করেই এমন কথা শুনে ফোনের অপর পাশের লোকটি বলল….

—কি হয়েছে তোমার???এতো রেখে আছো কেন???

—কথা বলবিনা আমার সাথে।সরাদিন কোন মেয়ের সাথে ব‍্যস্ত ছিলি যে আমাকে একবার ফোন দেওয়ার সময় পাসনি।

—সরি সরি সরি…আমি একটা কাজে বিজি ছিলাম।তুমি তো জানোই আমার এই সময়ে কাজের চাপ বেশি থাকে।ভুল হয়ে গেছে আমার আর এমন হবে না।প্লিজ রাগ করো না।

—আফরা কিছু না বলে ফুপিয়ে কান্না করছে।আফরার কান্না শুনে ফোনের অপর পাশের লোকটি উৎতেজিত হয়ে বলল….

—কি হয়েছে এমন কান্না করছো কেন???দেখ আমি সরি বলছি তো।প্লিজ আর কান্না করো না।দেখ তুমি যদি এখন কান্না না থামাও তাহলে আমি এখনি তোমার বাসায় আসছি।

আফরা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতে করতে বলল….

—আসতে হবে না তোমার।খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে থাক।আর খবরদার আমাকে কিন্তু ডিস্টাব করবে না।

আফরা আর কোন কথা না বলে লাইন কেটে দিল।আর আপর পাশের লোকটি মুচকি হেসে বলল….
—পাগলী….

চলবে

(ভুলক্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কেমন হচ্ছে জানাবেন।ধন‍্যবাদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here