তার_শহরের_মায়া_২,পার্ট_৮,৯

তার_শহরের_মায়া_২,পার্ট_৮,৯
Writer_Liza_moni
পার্ট_৮

হাসির শব্দে কেঁপে উঠছে টং এর দোকান। তূর্যর বন্ধুরা হাসিতে ফেটে পড়েছে তূর্যর কথা শুনে।
তূর্য ঘাড় বাঁকিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে ধমকের স্বরে বললো,,
মজা লাগে তোদের?হাসির কথা কিছু বলছি আমি?

রাশেদ হাসতে হাসতে বললো,,
ভাই তোর এই লুতু পুতুর জন্য আমি দশ টাকা দামের একটা ডেরি মিল্ক কিনে আনবো?

ধুরর পোলা।

এনি ড্যাব ড্যাব করে তূর্য আর ওর বন্ধুদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

তূর্য এক হাত কোমরে রেখে আরেক হাত দিয়ে মাথার চুল টেনে ধরেছে।ভ্রু জোড়া কুঁচকানো।
কপালে ভাঁজ পড়ে আছু। আশেপাশে তাকাচ্ছে শুধু। এমন সময় চোখ পড়লো অনুর দিকে।

কিছুক্ষণ আগেই অনু ঘুম থেকে উঠে রাতের জন্যে বাজার করতে বাজারের দিকে হাঁটা ধরলো।

ম্যাস থেকে বাজারে হেঁটে যেতে মাত্র দশ মিনিট লাগে। বাজারে হেঁটে হেঁটে গেলে শরীর টা ঠিক থাকবে।আজ সারা দিন হাঁটা হয়নি তার।

অনু রাস্তার পাশের টং দোকানের দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হয়ে যায় তূর্যর সাথে। তূর্য ও তার দিকে তাকিয়ে ছিল।

তূর্য বেবি শুনো,,
তূর্য এক পলক এনির মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,,
সময় নাই।

তূর্য দ্রুত হেঁটে অনুর পিছু নিলো।

এই যে মিস শুনেন,,,

অনু পেছনে ফিরে তাকিয়ে আবার হাঁটতে শুরু করলো। পাত্তা দিলো না তূর্য কে।

তূর্য আবারো ডাকলো কিন্তু অনু হাঁটা না থামিয়ে হাঁটার গতি আরো বাড়িয়ে দিলো।
এই সব ছেলেকে এক দম পাত্তা দিবি না অনু। আসার সময় বাবা কী বলেছে মনে নেই? একদম দাঁড়াবি না।

এই যে এই মেয়ে শুনেন?
আমার গাছের ফুল চুড়ি করে নিয়ে যাচ্ছেন আবার এত দেমাগ?

তূর্যর কথায় অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেছে অনু।সে এবার হাটা থামিয়ে তূর্যর দিকে তাকিয়ে বললো,,
বড্ড অসভ্য লোক তো আপনি।দেমাগ দেখালাম কখন?আর ফুল কে চুরি করেছে?

তূর্য দৌড়ে এসে অনুর সামনে দাঁড়িয়ে গাল ফুলিয়ে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।তারপর বললো,,
এটাতো আপনাকে দাড় করানোর নিনজা টেকনিক।

তূর্যর কথা শুনে ভ্যাবা চ্যাকা খেয়ে গেছে অনু। লোকটা কে দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এ খুব চালাক।

আর শুনেন আপনি দেমাগ দেখাচ্ছিলেন।এত বার ডাকলাম শুনে ও না শুনার ভাব করছিলেন।

তূর্য আর অনুর দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে এনি। তূর্য তাকে ইগনোর করে অনুর পিছনে ছুটে যাঝয়াটা একদমই মেনে নিতে পারছে না এনি। রাগে পা থেকে হিল গুলো খুলে রাস্তার পাশে ছুঁড়ে মেরে খালি পায়ে হেঁটে গাড়িতে উঠে ড্রাইভার কে বললো,,
বাড়িতে চলুন।

তূর্য আর অনুর সামনে দিয়ে চলে গেল এনির গাড়ি। তূর্য একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। তারপর অনুর মুখের দিকে ভালো করে তাকাতেই থমকে যায়।

উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণের মেয়ে অনু। ধবধবে ফর্সা না।দুধে আলতা গায়ের রং না তার। চোখের পাপড়ি গুলো ঘন কালো হওয়ায় চোখ গুলো বেশ ভালো লাগলো তূর্যর।বা চোখের ভ্রুর উপর একটা তিল আছে অনুর। পাতলা হালকা গোলাপি ঠোঁট জোড়া।

তূর্য অনুর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বললো,,

I am very sorry.
শুধু শুধু আপনার সময় নষ্ট করেছি। again sorry.
ফুল চোর বলার জন্য। কিছু মনে কইরেন না। আজাইরা ঝামেলা থেকে বাজতে আপনাকে বিরক্ত করলাম।সরি ফর দিছ।

তূর্যর উপর ভীষণ বিরক্ত হলো অনু। আজাইরা ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ও মানুষ এখন তাকে ফুল চোর ও বলছে।তাও রাস্তায় মানুষের সামনে।

অনু তূর্য কে কিচ্ছু না বলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। তূর্য সেখানে দাঁড়িয়েই অনুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

মেয়েটা কিছুই বললো না? বেশি বিরক্ত করে ফেলেছি মনে হয়।এই এনির ন্যাকামি থেকে বাঁচতেই এইসব করলাম।মাইয়াডা কোন দিন যে আমাকে মুক্তি দিবে?
.
.
রান্না সেরে সেলিং ফ্যান ছেড়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো অনু।ঘেমে একাকার হয়ে গেছে।

নিজের রুমের বারান্দায় বসে গিটারে টুং টাং সুর তুলছে তূর্য।রাত নয়টা বাজছে। আকাশ একদম পরিষ্কার।লক্ষ লক্ষ তাঁরা মিটি মিটি করে জ্বলছে। তাঁরারা ঘিরে রেখেছে থালার মত চাঁদ টাকে। উজ্জ্বল চাঁদের গায়ে ও দাগ আছে। চাঁদের ও খুঁত আছে। তাহলে একটা মানুষ কী করে নিখুঁত হবে? বুঝতে পারে না তূর্য।

চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তূর্য গেয়ে উঠলো,,

পূর্ণিমা সন্ধ্যায় তোমার রজনী গন্ধায়,,
রূপ সাগরের পাড়ের পানে
উদাসী মন ধায়।
তোমার প্রজাতির পাখা
আমার আকাশ চাওয়া মুগ্ধ চোখে রঙিন স্বপন মাখা।
তোমার চাঁদের আলোয়
মেলায় আমার দুঃখ সুখের সকল অবসান।
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।

জুঁই তূর্যর বারান্দার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে তূর্যর গাওয়া গান শুনছে।তার ভাই এত সুন্দর করে গান গাইতে পারে বলে মাঝে মাঝে খুব হিংসা হয় তূর্যর গান শুনে।
সে কেন এমন সুন্দর করে গান গাইতে পারে না?

এহ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ,,,
কাকের গলায় কোকিলের সুর।

তূর্য ভ্রু কুঁচকে জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,,
এই তোর সমস্যা কি?
আমাকে অপমান করে কী শান্তি লাগে?বলতো আমার জল্লাদ বোন।

এত সুন্দর করে গান গাইবি না প্লিজ ভাইয়া। কোন দিন দেখবি তোর গানের সুরের টানে আমাদের বাড়ির গেটের সামনে মেয়েদের সিরিয়াল পড়ে যাবে। শুধু তোর জীবন সঙ্গী হয়ে এই মিষ্টি কন্ঠের গান শোনার জন্য।

জুঁই এর কথায় হাসতে হাসতে শেষ তূর্য।
তূর্যর পাশে মোড়া টেনে বসে হাসিতে যোগ দিলো জুঁই ও। তূর্য হাসলে নজর কাড়া সেই টোল টা কে ও হিংসা করে জুঁই। তার ভাইয়াটা একদম কিউটের ডিব্বা।

জিম করে না তূর্য। সাধারণ মানুষের মতো বডিই পছন্দ তার।সিক্স প্যাক ওয়ালা বডি বানানোর চিন্তা তার মাথায় আসেনি কোনো দিন।

হলদে ফর্সা গায়ের রং টা খুব মানিয়েছে তূর্য কে।

ওহ শিট। আম্মু তোকে ডিনার করার জন্য ডাকতে বললো আমাকে।আর আমি তোর সাথে বক বক করে যাচ্ছি।

খেতে আয়। আব্বু ও বসে গেছে খাবার খাওয়ার জন্য। জলদি আয় বলে জুঁই চলে গেল।
তূর্য মুচকি হাসলো।
.
.
রেস্ট নেওয়ার জন্য বিছানায় শুয়ে ছিল অনু। কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল বুঝতেই পারেনি। হাত দিয়ে চোখ কচলে শোয়া থেকে উঠে ওয়াস রুমে চলে গেল চোখে মুখে পানি দেওয়ার জন্য।

মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে খাবার বেড়ে খেয়ে নিল।সব কিছু গুছিয়ে মোবাইল নিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে কল করলো তার বেস্ট ফ্রেন্ড রিফাকে।

দুই বার রিং হতেই কল রিসিভ করে রিফা বলতে শুরু করলো,,
এত দিনে আমার কথা মনে পড়েছে বড় লোক্স উল্টা প্রো মেক্স আফার। ভুলেই গেছেন এই নব জাতক বাচ্চা কে।

বইন চুপ কর। তুই নব জাতক বাচ্চা তাই না?শালি আজ বিয়ে দিলে আগামীকাল তুই নিজেই বাচ্চার মা হবি। সেখানে নিজেকে নব জাতক বাচ্চা বলতে লজ্জা করে না?

আচ্ছা দোস্ত সরি।আর কমু না।এই বার বল তো,,
তনু আপুর বিয়েতে কেমন আনন্দ করলি?বেয়াই টেয়াই আছে নাকি?না মানে আমরা সিঙ্গেল রা মিঙ্গেল হতাম আর কি।

আপুর বিয়েতে যা হইছে তা তুই কেন আমি নিজেই কোনো দিন ভাবি নাই।

রিফা কৌতুহল নিয়ে বললো,,
কী হয়েছে তাড়াতাড়ি বল।যতক্ষন না শুনমু ততক্ষণ আমার পেটের ভাত হজম হবে না।আর রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে।

এখন কিছু কইতে পারতাম না। আগামী কাল কখন আসবি ভার্সিটিতে?

ধুর তুই না বললে আমি ও কমু না। কখন যামু ভার্সিটিতে।

অনু মুচকি হেসে বললো,, আচ্ছা ঠিক আছে।বলতে হবে না।রাখছি,,

এই কুত্তি শোন,,
আমার ঘুম তো আর রাতে হবে না।মাথার মধ্যে শুধু ঘুরপাক খাবে তনু আপুর বিয়েতে কী এমন হয়েছে যে তুই নিজেও তা ভাবিস নাই। তুই যখন বলে দিয়েছিস এখন বলতে পারবি না,, তাহলে বোম মেরে ও তোর মুখ থেকে সেই কথা আর বের করতে পারবো না।এটা আমি খুব ভালো করেই জানি।

বুঝতে পারার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

হুঁ ঢং। আমি দশটার দিকে ক্যাম্পাসের ওখানের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে অপেক্ষা করবো।লেট লতিফার মতো যদি লেট করিস তো তাইলে উষ্টা দিয়ে তোর হবু জামাইয়ের কাছে পাঠাই দিমু।

রিফার কথা শুনে অনু হেসে দিলো।
আচ্ছা ঠিক আছে তোকে গোনে গোনে ২০ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে তার পর আমি তোর কাছে যামু।

চলবে,,,, 🍁

#তার_শহরের_মায়া ২
#পার্ট_৯
#Writer_Liza_moni

জানালার কাঁচ ভেদ করে সূর্যের আলো পড়েছে ঘুমন্ত তূর্যর মুখে। সকাল আটটা বাজে। ফজরের নামাজ পড়ে যে ঘুমিয়েছে এখনো ঘুম ভাঙ্গিনি তার। কাক গুলো কর্কশ গলায় কা কা করতে লাগলো।
মোবাইলের এলার্মের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল তূর্যর।
পিট পিট করে চোখ মেলে তাকালো।

রাত জেগে অফিসের জমে থাকা কাজ করে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে ছিল তূর্য। সাড়ে নয়টার দিকে আবার অফিসে যেতে হবে। বিরক্ত হয়ে আড়মোরা ভেঙ্গে শোয়া থেকে উঠে বসে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো আটটা দশ বাজে।

তূর্য হাই তুলতে তুলতে কাভার্ড থেকে ট্রাউজার আর টি শার্ট, তোয়ালে নিয়ে ওয়াস রুমে চলে গেল।
.
.
সকাল আর দুপুরের জন্য রান্না করে নিয়েছে অনু।ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। কাপড় নিয়ে ওয়াস রুমে চলে গেল গোসল করার জন্য।এই ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে থাকতে খুব অসস্থি বোধ করছিলো সে।

গোসল করে বের হয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে থাকে। মোবাইলের রিং টোনের শব্দ পেয়ে বালিশের পাশ থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো তনু কল করেছে।অনু ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে কল রিসিভ করে বলতে লাগলো,,

জামাই পেয়ে আমাকে ভুলে গেছিস? একবার ও মনে পড়ে না তাই না আমার কথা? স্বার্থপর মেয়ে। তোর যে একটা ছোট বোন আছে সেটা তোর মনে আছে?

অনুর এত গুলো প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললো তনু। সেই ছোট বেলার মতই তার বোনটা একসাথে এতগুলো প্রশ্ন করে বসলো।

আস্তে আস্তে,,এক সাথে এত গুলো প্রশ্ন করলে আমি কয়টার উত্তর দিবো?

সব গুলোর দে।

তনু মুচকি হেসে বললো
আমার একটা মাত্র ছোট বোনকে আমি কখনো ভুলে যেতে পারি?

ঢং করিস না তো। তুই ভুলে গেছিস।

আরে না বনু।

আচ্ছা বাদ দে। কেমন আছিস?

ভালো তুই?

ভালো। আচ্ছা আমার দুলাভাইয়ের কোনো খবর নেই কেন? ওনার এক মাত্র শালি কোথায় ফোন করে খোঁজ খবর নিবে তা না।আমার কথা ভুলেই বসে আছে।

তনু হেসে বললো,, অফিসে গেছে। রাতে আসলে আমি বলবো তোকে কল করতে। তুই ইচ্ছে মতন বকে দিস।
.
.
অফিসের জন্য তৈরি হয়ে নিজের বাইক নিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় রিকশায় অনু কে দেখতে পায় তূর্য।তূর্যর দিকে তাকালেও চিনতে পারে নি অনু।কারন তূর্যর মাথায় হেলমেট।
রিফাকে ওয়েট করাবে বলে নিজেই আগে আগে ভার্সিটিতে চলে গেল অনু।

তূর্য অফিসটা অনুদের ভার্সিটি থেকে কিছুটা সামনেই।
.
ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকতেই অনু কে জড়িয়ে ধরলো রিফা। অনেক দিন পর প্রানের বেস্টুরে পেয়ে আনন্দ যেন উপচে পড়ছে।

অনু রিফার পিঠে একটা কিল মেরে ফকিন্নি,,
তুই নাকি দশটা বাজে এসে আমার জন্য অপেক্ষা করবি? এখন তো দেখছি ৯:৪৫ এ এসে বসে আছিস।

কিছু নোটস নেওয়ার দরকার ছিল। আমাদের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট মিস্টার হাবা গোবার কাছ থেকেই এত সময় ধরে লিখ ছিলাম। আমার লেখা শেষ। তুই তো এখন লিখতে পারবি না।

লিখতে পারবো না কেন এখন? চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো অনু।

রিফা হেসে বললো আমাকে তনু আপুর বিয়ের কাহিনী বলবি তাই।

বয়েই গেছে আমার।কমু না কিছু।

বইনা ভালো না আমার। আমি তোরে নোটস গুলোর ছবি তুলে what’s app এ পাঠিয়ে দিবো।

পাক্কা?

একদম পাক্কা।

ক্যান্টিনে গিয়ে বসলো অনু আর রিফা। এমন সময় কোথা থেকে আরকটা মেয়ে এসে অনুর চুল টেনে দিয়ে বললো,,
রিফাই তোর বেস্ট ফ্রেন্ড শুধু। আমি কেউ না।

অনু মুচকি হেসে মেয়েটার হাত ধরে পাশের চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বললো,,
তুই ছিলি না কেয়া।এই মাত্র আসলি তুই।আর এসেই ঠিক আমাদের খুঁজে বের করে নিয়েছিস।

কেয়া একটু ভাব নিয়ে বললো,,
ঈগলের চোখ আমার। তোদের কে খুঁজে বের করা কোনো ব্যাপার না।

পাশ থেকে রিফা বলে উঠলো,,
ঈগলের চোখ না। তোর হলো শকুনের চোখ।যাকে দেখবি তার দিকেই শকুনের দৃষ্টিতে তাকাবি।

ভাই চুপ কর তোরা। মানুষের চোখে তোদের। শকুনের ও না। ঈগলের ও না।হুদাই ঝগড়া করার কোনো মানে হয় না।

আচ্ছা বাদ দে এই সব। এখন বলতো তনু আপুর বিয়েতে কী হয়েছে?

অনু হালকা কেশে গলা পরিষ্কার করে বলতে শুরু করলো তনুর বিয়েতে ঘটে যাওয়া সম্পুর্ন ঘটনা।
.
.
তূর্য ভাই তোকে বস ডেকে পাঠিয়েছে।এনি কে ও দেখলাম বসের রুমে।

তূর্য হাতের ফাইলটার দিকে তাকিয়ে বললো,,
এই অফিসের চাকরি টা আমি খুব তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিবো। তার পর তোদের সবাই কে ট্রিট দিয়ে এই উটকো ঝামেলা থেকে মুক্তি নিয়ে ট্রাভেলিং করে
বেড়াবো।আর না হয়, একটা মেয়ে কে বিয়ে করে আগুনে ঝাঁপ দিবো।বুঝলি রনি।

তুই ভাই আসলেই পাগল। এনি দেখতে কত সুন্দর।বড় লোকের মেয়ে। তোর জন্য এতো পাগলামি করে। শুধু মাত্র তোর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।আর তুই ওকে বিরক্তকর মনে করে এড়িয়ে চলিস।
আমার জন্য এমন পাগলামি করলে আমি তো সেই কবেই বিয়ে করে ফেলতাম।

শুধু গায়ের রং ফর্সা হলেই তাকে সুন্দরী বলে না।এক গাদা মেকআপ করে এসে আমাকে বলে ও নাকি ন্যাচারাল সুন্দরী।
আমাকে ও ন্যাচারাল সুন্দর,আর কৃত্রিম সুন্দরের পার্থক্য শিখাতে আসে।

তোকে বস কেন ডাকছে সেটা শুনে আয় আগে। বেশি দেরি করলে আবার রেগে বোম হয়ে যাবে।

তূর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,
রেগে গেলেও আমার কী?কয়েক দিনের মধ্যে চাকরি টা আমি এমনিতেই ছেড়ে দিবো। আমার কোনো পিছুটান নেই।

তূর্য বসের কেবিনের দিকে চলে গেল।রনি হাসলো। ছেলেটা আসলেই অনেক মেয়ের মন চুরি করার মতো যোগ্যতা নিয়ে বসে আছে।
.
.
মে আই কাম ইন স্যার?

মিস্টার জুয়েল চৌধুরী তূর্যর দিকে তাকিয়ে বললো,,
আসো, ইয়াং ম্যান আসো। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।

তূর্য ভেতরে এসে বললো,, আসসালামুয়ালাইকুম স্যার। কেমন আছেন?

বস সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,, ভালো আছেন।

তূর্য কে দেখে সোফায় বসে লজ্জা পাওয়ার ভান করছে এনি।যেনো সে এই প্রথম কোনো ছেলের সামনে এসেছে।

তূর্য এক বারের জন্য ও ভুল করে এনির দিকে তাকায়নি। এতটাই অপছন্দ করে সে এনিকে।

শুনেছি,,
তুমি নাকি গতকাল আমার মেয়েকে ছেড়ে অন্য একটা মেয়ের পেছনে ঘুরেছো?

তূর্য স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দিলো,,
জ্বি ঘুরেছি। মেয়েটাকে আমার পছন্দ হয়েছে বলেই তার পেছনে ঘুরছি।

আমার মেয়ে কোন দিক থেকে অযোগ্য তোমার?যে আমার মেয়ের দিকে ফিরে ও তাকাতে ইচ্ছা হয় না।

তূর্য খুব স্বাভাবিক থেকেই মুচকি হেসে বললো,,
আসলে ব্যাপারটা কি জানেন স্যার?
যার তার প্রতি ফিলিংস আসে না।এনিকে আমি সব সময় আপনার মেয়ে আর আমার বোন হিসাবে দেখতাম। এখনো দেখি।ওর প্রতি আমার কোনো ফিলিংস আসে না।ওর এই সব পাগলামি আমার ভালো লাগে না।

জুয়েল সাহেব বসা থেকে উঠে এনির দিকে এগিয়ে গেলেন। গতকাল তূর্য তাকে ইগনোর করায় সে রেগে বেলেট দিয়ে হাত কেটে বসে।

জুয়েল সাহেব মেয়ের হাত ধরে তূর্যর সামনে নিয়ে গিয়ে বললো,,
এই দেখো,,
আমার মেয়েটা তোমাকে কতটা ভালোবাসে, পছন্দ করে বলে গতকাল তুমি ওকে ইগনোর করেছো বলে ও হাত কেটে কী করেছে।

তূর্য ভ্রু কুঁচকে এনির ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে তাকিয়ে বললো,,
আপনার মেয়েকে সময় থাকতে এই সব পাগলামি করতে বারন করুন প্লিজ।ওরে আমার ভাল্লাগে না।ও নিজের হাত কেন?গলা ও যদি কেটে ফেলে তবুও আমি ওরে কোনো দিন ভালোবাসতে পারবো না।

একটা কথা বোঝার চেষ্টা করুন,,যাকে আমার ভালোই লাগে না তাকে আমি কী করে ভালোবাসবো বলুন তো?

তূর্যর সোজা সাপ্টা উত্তর শুনে রেগে গেলেন জুয়েল চৌধুরী। তিনি রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠলেন,,
আগামীকাল থেকে তোমাকে আর অফিসে আসতে হবে না। রেজিগনেশন লেটার জমা দিয়ে আজকেই বিদায় হও আমার অফিস থেকে।

জুয়েল সাহেবের কথা শুনে তূর্য যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পেলো।এতটা খুশি হয়েছে সে।গাধার মত খাঁটিয়ে মাস শেষে বেতন দেয় অল্প। তার উপর এই এনি নামক উটকো ঝামেলা লেগেই থাকে কাঁঠালের আঠার মত।

ধন্যবাদ স্যার। আমি নিজেই বলতাম চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা। সেখানে আপনি নিজেই বলে দিলেন। আমি এত কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার কাছে।আরাবু স্যার।আসি,,,

তূর্যর এমন খুশি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ঠিক হজম করতে পারলেন না, জুয়েল চৌধুরী এবং তার আটা ময়দা মাখা ন্যাচারাল সুন্দরী কন্যা।

চলবে,,,,, 🍁

(আসসালামুয়ালাইকুম 💜
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here