তার_শহরের_মায়া ২,পার্ট_৬,৭

তার_শহরের_মায়া ২,পার্ট_৬,৭
Writer_Liza_moni
পার্ট_৬

গায়ে হলুদের রাতের মতো এখন আর বাড়িতে মানুষের ভীড় নেই।বড় খালামনি আজ সকালেই চলে গেছেন।বাড়িতে তার কাজ আছে।

অনু বিছানার মাঝে গালে হাত দিয়ে মন খারাপ করে বসে আছে। আগামী কাল আবার ঢাকা চলে যেতে হবে।সবাই কে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না তার।আজ আবার তনু কে ও বিদায় দেওয়া হবে।বউ ভাতের আয়োজন করা হয়নি।এত ভেজালের মধ্যে। আরাফাতের মা আগে থেকেই তনু কে পছন্দ করতেন।তাই এই বিয়েতে তার কোনো অসম্মতি প্রকাশ করেন নি।হাসি মুখে তনুকে ছেলের বউ হিসাবে মেনে নিয়েছেন।

কলাপাতা রঙের একটা শাড়ি পড়ে সারা বাড়িতে ঘুর ঘুর করছে তনু।মন খারাপ লাগছে খুব।আজ এই বাড়ি থেকে চলে যাবে। ছোট থেকেই এই বাড়িতে বেড়ে উঠা।এই বাড়ির আনাচে কানাচে কতো সুন্দর সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
ভাবতেই মনটা আরো বেশি খারাপ হয়ে গেল।

এই দিকে আরাফাতের আব্বু আম্মু তাড়া দিচ্ছে বাড়ি যাওয়ার জন্য। তাদের বড় মেয়ে আরিয়া তার হাসবেন্ড নিয়ে চিটাগাং আসবে।রওনা দিয়ে দিয়েছে কিছুক্ষণ আগেই।আর খাগড়াছড়ি থেকে চিটাগাং যেতে ও অনেক সময়ের প্রয়োজন।

প্রায় সকাল নয়টার দিকে তনুকে বিদায় দিয়ে আহাজারি করছেন তনুর মা।বড় মেয়েটাকে ছাড়া বাড়িটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।

আগামীকাল তো অনু ও চলে যাবে। তখন বাড়িটা আরো বেশি খালি খালি লাগবে।
.
.
বেলকনির গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে অনু। ভেজা চুল থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে।আলসেমি করে গোসলের পর চুল না মুছে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।ভাল্লাগছে না তার।তনু কে খুব মিস করছে।

মনের মাঝে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সেই তনুর বিয়ের দিন থেকে।সেটা হলো,,
তনু কী করে জানলো মাহির আর তার রিলেশনের
কথা?অনু কখনো বলেনি এই বিষয়ে তনু কে।

এই অনু কয়টা বাজে দেখেছিস? দুপুরের খাবার কী রাতে খাবি?এখনো খাবার খেতে আসলি না কেন?

আসছি আম্মু।

ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন অনুর আব্বু, ছোট খালামনি, ছোট ফুফু, তানিশা, মনিষা, আর ছোট্ট পরি। ছোট খালামনির মেয়ে এই পরি।

অনু কে দেখেই হাসলো পরি।অনু চেয়ার টেনে বসলো বাবার পাশে।

বাবা এক পলক অনুর মুখের দিকে তাকিয়ে ভাত মাখতে মাখতে বললো,,
তুমি ও তো চলে যাবা আগামীকাল সকালে।

অনু প্লেটে ভাত নিতে নিতে ছোট্ট করে বললো হুম।

আমি রাতে তোমার জন্য টিকেট কেটে রাখবো। সকাল ৭টায় বাস স্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে থেকো।

আচ্ছা আব্বু।

পড়ালেখা হচ্ছে তো ঢাকায়?নাকি অন্য কিছু তে মেতে আছো? তুমি আমার ছোট মেয়ে। তোমাকে আর তনু কে দুই জনকেই সমান ভালোবাসি আমি। তুমি ঢাকায় থেকে পড়ছো তাতে আমার সমস্যা নাই। কিন্তু সব সময় একটা কথা মাথায় রাখবা।এই সমাজে আমার একটা সম্মান আছে।সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমি যেনো সবাইকে গর্ব করে বলতে পারি,,
আমার দুই মেয়ে হিরের টুকরো।এরা আমার বেস্ট সন্তান।

বাবার বলা কথা গুলো গিলছে অনু। চুপ করে কথা গুলো গিলা ছাড়া এখন আর তার কোনো কাজ নেই।
.
.
বিকেলের দিকে ছোট খালামনি ও চলে যান অনুর নানু বাড়িতে। তানিশা, মনিষা আর ছোট ফুফুকে যেতে দেয়নি অনু।
তারা চলে গেলে বাড়ি একদম খালি হয়ে যাবে।
অনু চলে গেলে তারাও চলে যাবে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে অনুর রুমের বিছানায় বসে আড্ডা দিচ্ছে তানিশা, মনিষা আর অনু।
তাদের আড্ডার টপিক হলো,,মনিষার বয় ফ্রেন্ড।

তানিশা আর অনু মিলে মনিষার প্রেমের গল্পই শুনছে।আর মাঝে মাঝে খিল খিল করে হেসে উঠছে।

তোদেরই কপাল বোন। ইন্টারে পড়ে ও প্রেম করিস।আর আমি অর্নাস তৃতীয় বর্ষে পড়ে ও এখনো সিঙ্গেল রয়ে গেলাম।

তুই ও কিন্তু ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে মাহির ভাইয়ার সাথে প্রেম করতি হুঁ।

অনু মুচকি হেসে তানিশার পিঠে একটা কিল মেরে বললো,,
হুসসস মাইয়া।ওটাকে প্রেম বলে নাকি? আবেগ,সবই আবেগ। আবেগের বসে মানুষ কিনা করে?

সত্যি বলতে মাহির ভাইয়ার প্রতি এখন আর আমার তেমন কোনো অনুভূতি কাজ করে না। এই বার ঢাকা থেকে এসে উনাকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে আমি কান্না ও করে ফেলে ছিলাম।আর এখন বর্তমানে সেই সব কিছু মনে পড়লে আমার এমন হাসি পায় কী বলবো। এত্ত টা বোকা ছিলাম আমি?

বলেই হাসতে লাগলো অনু।
.
.
মাহিরের সাথে তার মা ছাড়া আর কেউ তেমন কথা বলছে না।এই দিকটা খুব খারাপ লাগছে তার নিজের কাছেই।সবাই তাকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে ভুল করেছে। অনেক বড় ভুল করেছে।

নিজের রুমের বিছানায় কপালে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে মাহির।রাত প্রায় ১১টার কাছাকাছি।রাতে না খেয়েই শুয়ে পড়েছে।

তনুর কথা খুব করে মনে পড়ছে। কিন্তু তনু তার দিকে ফিরে ও চাইবে না।তা সে খুব ভালো করেই জানে।আর তার চেয়ে ও বড় কথা হলো,,তনু এখন অন্য কারো বিয়ে করা বউ।এক রাশ বিষন্নতা নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগলো সে।
.
.
মোবাইলের ভাইব্রেশনের কারনে পুরো বিছানা কেঁপে উঠায় অনু দরফরিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে চিল্লাতে লাগলো,,
আম্মু, ভূমিকম্প হচ্ছে,,

হঠাৎ চুপ করে,
চোখ কচলে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো সিম কোম্পানি থেকে কল করেছে। মেজাজ চটে গেছে তার।এত শান্তির ঘুম টা এত সকালে নষ্ট করে দেওয়ার কোনো মানে হয়?

এই সিম কোম্পানির মালিকরে পাইলে এক বালতি পানিতে চুবিয়ে মারবো। অসহ্য যন্ত্রণা।যখন তখন কল করবে।

মোবাইল রেখে আবার ও ঘুমানোর জন্য বালিশে মাথা রাখতেই এলার্ম বেজে উঠলো।

অগত্যা অনু বিরক্ত হয়ে ঘুমের চিন্তা বাদ দিয়ে ওয়াস রুমের দিকে চললো ফ্রেশ হতে।

ফ্রেশ হয়ে এসে মোবাইলে টাইম দেখে নিলো। সকাল ছয়টা ১২ বাজছে।
জলদি তৈরি হয়ে নাস্তা করে বাস স্ট্যান্ডে যেতে হবে।
এক পাহাড় মন খারাপ এসে ভীড় করলো তার মনে।এত দিন এখানে থাকার ফলে এখন আর যেতে ইচ্ছে করছে না ঢাকায়।
.
.
বাবা বাসে বসিয়ে দিয়ে নেমে গেলেন বাস থেকে।বাস ছেড়ে দিলে অনু জানালা দিয়ে মাথা বের করে বাবাকে বিদায় জানালো।

আবারো একা একা এত বড় শহরে তাকে থাকতে হবে।
তবে নিজের জেদের জন্যই সেখানে একা থাকতে হবে তাকে।

বাস চলছে নিজের গতিতে।অনু চোখ বন্ধ করে বাসের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে। মাথা ব্যথা করছে হঠাৎ করেই।
.
.
সাড়ে ১২টার দিকে বাস এসে থামে বনানীতে।অনু সুইট কেস নিয়ে বাস থেকে নেমে আসে। অসহ্য মাথা ব্যথা করছে।ম্যাসে যেতে এখান থেকে ২০ মিনিট লাগবে।

একটা সিএনজিতে উঠে বসলো অনু। পেসেঞ্জার চার জন না হলে সিএনজি চালাবেন না বলে দিলো সিএনজি চালক।
অনুর বিরক্তির মাত্রা বেড়ে গেলো আরো কয়েক ধাপ।

কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে লম্বা চওড়া সুন্দর একটা চাপ দাঁড়ি ওয়ালা সুদর্শন এসে সিএনজি চালক কে জিজ্ঞেস করলেন,,
মামা যাবেন?

হ যামু।

ছেলে টা সিএনজির ভেতরে ঢুকতে গিয়ে দেখলো একটা মেয়ে সেখানের এক পাশে বসে আছে। ছেলে টা কিছু না বলে ডোন্ট কেয়ার ভাব করে অনুর পাশে গিয়ে বসলো।

আরো দুজন পেসেঞ্জার চলে আসায় সিএনজি স্টার্ট দিল সিএনজি চালক।

ছেলেটা গুন গুন করে গান গাইতে থাকে।
এক মুরুব্বি বলে উঠলো,,
গুন গুন করে না গেয়ে একটু জোরে গাও আমরা ও শুনি।

ছেলেটা মুচকি হেসে গাইতে লাগলো,,

চলে যাই দুচোখের পথে,,
বলে যাই কথা তোরি যে,,
মন আমার ভবঘুরে,যাবে দূরে তোকে না পেলে।
কেন তুই দূরে দূরে বল
আকাশে উড়ে উড়ে চল

মিশে যাই এই আকাশে
তোর বাতাসে
পাখনা মেলে।
দিন শুরু তোর কথায়
তুই ছাড়া নামে না রাত
চাঁদ থেকে।
আকাশের বৃষ্টি তোর
বৃষ্টি তোর
মনে মেঘ জমে।
জানালার হাওয়াতে চাওয়াতে
মনের রোদ কমে।

ছেলেটার গাওয়া এইটুকু গান শুনে মন ছুঁয়ে যায় অনু্র।

বাহ বাহ তুমি তো খুব সুন্দর গান গাও।

ধন্যবাদ আঙ্কেল।
মুচকি হেসে বললো ছেলেটা।

তা বাবা তোমার নাম কী?

তূর্য,,,,
তাওহীদ তূর্য।

চলবে,,,, 🍁

#তার_শহরের_মায়া ২💜
#পার্ট_৭
#Writer_Liza_moni

মামা এইখানে থামান।
চিএনজি থামলে অনু নেমে ভাড়া মিটিয়ে চলে গেল ম্যাসের ভেতরে।
তূর্য মাথা কিছুটা বের করে অনু কে এক পলক দেখে নিলো।

সিএনজি আরো কিছুটা সামনে এগিয়ে গেলে তূর্য ও সিএনজি থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেল।

প্রায় এক সপ্তাহ পর নিজের ছোট ছেলে তূর্য কে দেখে জড়িয়ে ধরেন তূর্যর আম্মু মিসেস তৃনা আহমেদ।
তূর্য ও মাকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,,
মাত্র এক সপ্তাহতেই এই অবস্থা?

আমার তো মনে হয় টেনশন হয় না তোকে নিয়ে? ছন্নছাড়া হয়ে গেছিস তুই তূর্য।
বিয়ে দিয়ে তোকে সাংসারিক করতে হবে। বুঝতে পারছি আমি।

উফফ আম্মু। বাড়িতে আসতে না আসতেই বিয়ের কথা শুরু হয়ে গেছে?এই জিনিস টা একদম ভাল্লাগে না আমার।

ভাইয়া তুই বরং বড় ভাইয়ার মতোই দেবদাস হয়ে থেকে যা সারা জীবন।

তূর্য কাঁধের ব্যাগটা সোফার উপর রেখে জুঁই এর চুল টেনে দিয়ে বললো,,
জুঁই ফুল জুঁই ফুলের মতো থাকবি।এত বক বক করিস কেন?

তোর কী মনে হয় আমি ছ্যাকা খাইছি তিয়াশ ভাইয়ার মতো?

খাস নাই।তবে খাবি।

খাইলে বলিস।আর আম্মু তুমি আমার বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে তোমার বড় ছেলের বিয়ের কথা ভাবো।
দেখছো না দেবদাস হয়ে গেছে।

তিয়াশ সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বললো,
হ্যাঁ ভাবছি এবার বিয়েটা করে ফেলবো। দেবদাস হয়ে থাকবো না আর।

তূর্য চোখ ছোট ছোট করে তিয়াশের পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে নিলো।
তিয়াশের মাথায় কোঁকড়া চুলগুলো এলোমেলো।গাল ভর্তি দাঁড়ি। লম্বায় ৫.৯ হবে। তূর্য থেকে দুই ইঞ্চি কম। তূর্যর ৬.১।

এই ভাইয়া শুন,,
তুই আগে তোর এই দেবদাস লুকিং টা চেঞ্জ করে।তার পর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যা।আর না হলে কোনো জরিনা,ছকিনার মাও তাদের মেয়ে দিবে না।

তূর্যর কথা শুনে উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো জুঁই।মুখে হাত চেপে ধরে হাসতে হাসতে সোফায় গিয়ে বসল সে।

মা মুচকি হেসে বললো,,
তূর্য যা।আগে ফ্রেশ হয়ে আয়। চিটাগাং থেকে জার্নি করে এসেছিস।ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে রেস্ট নিবি যা।

জুঁই চট করে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তূর্যর সামনে গিয়ে হাত পেতে দিয়ে বললো,,
এই আমার পায়েল কোথায়?তোকে না বলেছি আসার সময় আমার জন্য পায়েল নিয়ে আসবি।

এই ফকিন্নি যা তো। নিজের জন্য কিছু কিনতে পারি নাই। আবার তোর জন্য কিনমু পায়েল।ঠেকা পড়ছে নাকি আমার?

জুঁই ধুম ধুম করে তূর্যর পিঠে কয়েকটা কিল বসিয়ে দিয়ে গাল ফুলিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।

আম্মু তোমার এই হাতি মাইয়ারে কম করে খাইতে দিবা।কী জোরে মারলো। কাঁধে হাত বুলাতে বুলাতে বললো তূর্য।
.
.
বিছানায় চোখ বন্ধ করে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে অনু।এত সময়ের জার্নিতে শরীর ব্যথা হয়ে গেছে।

মন খারাপ করছে খুব। আবারো রুটিন মাফিক চলতে হবে।

অনু একলা জীবন অনেক সুখের হয়। নিজেকে নিজে শান্তনা দিলো সে।

গোসল করতে হবে।শরীর সায় দিচ্ছে না। আজকাল যা গরম পড়েছে।ম্যাসে তার রুম মেট রিয়ানা এখন নেই।সে নাকি আজ সকালে গ্রামে চলে গেছে। না হলে মেয়েটা রান্না করে রাখতো। এখন আবার রান্না করতে হবে।ধূর পারবো না। পাশের হোটেল থেকে বিরিয়ানি কিনে আনবো নি।

মিনিট পাঁচেক চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকার পর অনু এক সমুদ্র বিরক্ত নিয়ে ওয়াস রুমে চলে গেল গোসল করার জন্য।
.
.
তুই যা করছিস করে ফেলেছিস।এর জন্য আমার মান সম্মান বাড়েনি বরং কমেছে। আমার ছোট বোনের কাছে আমি ছোট হয়েছি।
এখন এমন রুমের দরজা বন্ধ করে রুমের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে থাকলে চলবে না।
তোর পুরো লাইফ পড়ে আছে। এখন এমন নাটক করে কোনো লাভ হবে না।তনু আর ফিরে আসবে না।আর না আসবে অনু।
তুই যেটা করেছিস, সেটা অন্যায়।

মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে বাবার কথা শুনছে মাহির। সেদিনের পর থেকে নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নিয়েছে।
বাইরে ও বের হয় না। অফিসে ও যায় না। বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা ও দেয় না।

আগামীকাল থেকে অফিসে যাবা। ভুলে যেও না তুমি একজন ইঞ্জিনিয়ার। তোমাকে আমি ঠিক মতো মানুষ করতে পারলাম না। আমার সারা জীবনের আফসোস রয়ে যাবে।

বাবার কথার প্রতি উত্তরে কিছুই বললো না মাহির।আসলে সে কী বলবে?বাবা যা বলেছেন সব ঠিকি বলেছেন।

.
.
গোসল করে বের হয়ে কোনো রকম চুল মুছে মাথায় ওড়না দিয়ে মোবাইল আর টাকা নিয়ে বিরিয়ানি কেনার উদ্দেশ্যে বের হলো অনু।ক্ষিদা ও লেগেছে ভীষণ।

খাবার টেবিলে বসে আছে তূর্য। একটার পর একটা তরকারি তার প্লেটে দিয়ে যাচ্ছেন মিসেস তৃনা।

কতো শুকিয়ে গেছে এই কয়েক দিনে আমার ছেলেটা।ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস নাই নিশ্চয়।

জুঁই ছোট এক টুকরো মাংস মুখে পুরে চিবাতে চিবাতে বললো,,
হুম আম্মু। আসলেই ভাইয়া অনেক চিকন হয়ে গেছে।কয়েক দিন পর বেলুনের মতো ফুলে আকাশে উড়ে যাবে।

সব কিছুতেই তোর ফাজলামি করতেই হবে তাই না জুঁই?বাপ যেমন, বাপের আদরের মেয়ে ও তেমন।

তূর্য খাবার খেতে খেতে নিরব দর্শকের মতো মা আর বোনের খোঁচা খুচি উপভোগ করছে।তিয়াশ তো খেয়েই যাচ্ছে। তার এই দিকে কোনো মন নেই।
.
.
অনু বিরিয়ানি কিনে নিয়ে ম্যাসে ফিরে প্লেটে বেড়ে নিয়ে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।আর কিছুক্ষণ না খেয়ে থাকলে তাকে আর খুঁজে ও পাওয়া যেতো না।

খেয়ে দেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে সব গুছিয়ে বাড়িতে কল করে মা বাবার সাথে কথা বলে একটা ভাত ঘুম দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো অনু। শরীর টা সত্যিই খুব ক্লান্ত লাগছে। ঘুম দিলে সতেজ হয়ে যাবে।
.
.
বন্ধুদের সাথে একটা টং এর দোকানে বসে চা খাচ্ছে আর আড্ডা দিচ্ছে তূর্য।
হাঁসি মজার এক পর্যায়ে তূর্যর বন্ধু রাশেদ বলে উঠলো,,
তূর্য ভাই তোর লুতু পুতু আসছে।

রাশেদের কথা শুনে তূর্য ঘাড় ঘুরিয়ে পাশের রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখলো তার বর্তমান প্রেমিকা তার দিকে এগিয়ে আসছে।
প্রেমিকা বললে অবশ্য ভুল হবে। তূর্য মেয়েটাকে একদমই পছন্দ করে না।মেয়েটাই কাঁঠালের আঠার মতো তার পেছনে লেগে আছে।যা তূর্যর একদম অসহ্য লাগে।
তূর্য প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে বললো,,
চলে আসছে মেন্টাল বড় লোকের মাইয়া।ন্যাকামি শুরু হয়ে যাবে এখন। অসহ্য।এর জ্বালায় চিটাগাং চলে গিয়েছিলাম। আবার আসছে জ্বালাইতে।

ব্রেকাপ করে দিতে পারছিস না।এত বিরক্ত লাগলে।

অফিসের বসের মেয়ে বলে কিছু বলতে পারছি না।না হলে এই মেয়েরে আমি কোন দিন উষ্টা দিয়ে ফেলে দিতাম।

পেন্সিল হিল পরে হেলে দুলে তূর্যর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো এনি।
তূর্যর কাছে এসে তূর্যর কাঁধে হাত রেখে ন্যাকা কন্ঠে ঢং করে বলতে লাগলো,,
বেবি,,
কতো দিন পর তোমাকে দেখলাম। আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেছিলা তুমি?কত কল করেছি। রিসিভ করোনি কেন?

তূর্য এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো,,
সুন্দর করে কথা বলো।এত ন্যাকামি আসে কই থেকে বুঝি না।আর বেবি কী হুম?
আমাকে দেখে কী বাচ্চার মতো মনে হয়?

এনি কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো,
সরি বাবু,,

আবার বাবু।হুররর মাইয়া।এই সব বাবু,বেবি বললে উষ্টা দিমু।

এমন করে বলতে পারলা তুমি আমাকে? আমি না তোমার গার্লফ্রেন্ড। আমাকে তুমি একটু ও ভালোবাসো না।

তূর্যর এনি কে এই মূহুর্তে জাস্ট অসহ্য লাগছে। বন্ধুরা সবাই ওর আর এনির দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।

তূর্য কোমরে দুহাত রেখে আশেপাশে তাকিয়ে এনির মুখের দিকে তাকিয়ে বললো আমি আসলেই তোমাকে ভালোবাসি না। কেন শুধু শুধু আমার পেছনে পরে আছো বলো তো?
কতো ছেলে তোমাকে পছন্দ করে। তাদের কাছে যাও না।

এনি হঠাৎ কান্না করতে শুরু করলো।এনির এমন কান্ডে ঘাবড়ে গেল তূর্য। পাবলিক প্লেসে কী এই মেয়ে এখন পাবলিকের হাতে তাকে কেরানি খাওয়াবে নাকি?

তূর্য এনির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,,
কাঁদিস না বইন।তোরে দশ টাকা দামের একটা ডেরি মিল্ক খাওয়ামু।

চলবে,,,, 🍁

(আসসালামুয়ালাইকুম 💜
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here