তার_শহরের_মায়া ২,পার্ট_১০

তার_শহরের_মায়া ২,পার্ট_১০
Writer_Liza_moni

টিট ফর ট্যাট,,
যেমন কর্ম তেমন ফল।তনু আপুকে আমার পক্ষ থেকে এত্ত গুলো উম্মাহ। আমি তো চাই ঐ চিটিং বাজটা সারা জীবন সিঙ্গেল থাকুক।মেয়ে না জুটুক ওর কপালে।আমিন,,,

রিফার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে অনু।বলে কী এই মেয়ে? মাহির ভাই সারা জীবন সিঙ্গেল থাকবে।এটাও সম্ভব?

এমন দোয়া করিস না রিফা।মনে হয় না কবুল হবে।

হতেও তো পারে কেয়া।

ধুর,কিযে বলিস তোরা।দেখবি একদিন মাহির ভাইয়ার জীবনে ও কেউ একজন আসবে। মাহির ভাই এখন আর আগের মতো নেই। ভুল থেকেই তো মানুষ শিখে।
তাই না?

হইছে আপনাকে আর মানব দরদী হতে হবে না।

অনু মুচকি হাসে। আমাকে নোটস গুলো দিস তো।লিখে নিতে হবে।

আমি তোর what’s app এ ছবি দিয়ে দিয়েছি।রাতে বসে বসে লিখে নিস।

অনু,রিফা চল ফুচকা খাই আসি।শফিক চাচা রাস্তার পাশে ছোট করে একটা দোকান খুলে বসছে।সেখান থেকে।

কেয়ার কথা শুনে নাক ছিটকে রিফা বললো,,
রাস্তার ধারে আমরা যাবো ফুচকা খেতে? পাগল নাকি?

বড় লোকি দেখাবি না একদম। এমন ভাব করছিস যেনো কোনো দিন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাস নাই?

চুপ কর তো তোরা। ফুচকা খাইতে যেতে বলছিস শুধু। কিন্তু কে টাকা দিবে সেটা বললি না কেন?

সেটা আবার বলতে হবে নাকি অনু? আমাদের বড় লোক্স উল্টা প্রো মেক্স রিফা ম্যাডাম আছে না?তিনিই দিবেন।ধরে নে ওর পক্ষ থেকে ট্রিট।

দিলি তো ফাঁসিয়ে আমায়? তুই এমন বড় লোক, বড় লোক করিস,,যেনো আমি টাকার গাছ লাইছি।

অনু বসা থেকে উঠে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,,
দুই শাকচুন্নীর ঝগড়া শেষ হলে ফুচকা খেতে আয়।টাকা আমি দিবো।
.
.
তূর্য তার ডেক্সে বসে হাসতে হাসতে শেষ। তূর্য কে এমন হাসতে দেখে অফিসের সবাই ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

রনি তূর্যর কাঁধে হাত রেখে বললো,,
কিরে ভাই এমন করে হাসিস কেন তুই? পাগল হয়ে গেলি নাকি?

তূর্য হাসি থামিয়ে বললো,,
ভাই আমি কখনো ভাবি নাই জুয়েল স্যার উনার মেয়ের জন্য আমার কাছে সেপাই গাইবে।

ওহ এই ব্যাপার।এক কাজ কর তুই স্যার কে গিয়ে বলে দে,,এনিরে আমার ভাল্লাগে।

তূর্য চোখ ছোট ছোট করে রনির দিকে তাকিয়ে সিরিয়াস কন্ঠে বললো,,
রিয়া কে?ও জানলে তোর হান্ডি গুড্ডি সব ভেঙ্গে ফেলবে।

মজা করছি ভাই।তোর চাকরি আছে এখন ও?

তূর্য ভেংচি কেটে বললো,,
আগামীকালই রেজিগনেশন লেটার জমা দিয়ে এই অফিস থেকে বিদায় নিচ্ছি।

তূর্যর বলা কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেল তারই কলিগ সিনথিয়ার।
বসা থেকে উঠে তূর্যর কাছে এসে বললো,,
সেকি তূর্য,,
তুমি চলে যাবা এই অফিস থেকে? চাকরি কেন ছেড়ে দিচ্ছো?

তূর্য বা ভ্রু উঁচু করে সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,, আমার ইচ্ছা তাই।এই অফিসে কাজ করার শখ নাই আমার। যদিও শখের বশে এই অফিসে জয়েন করে ছিলাম। এখন আর আমার সেই শখ নেই।

তাহলে চাকরি ছেড়ে কী করবি ভাবছিস তুই?

ঘুরে বেড়াবো। আমার জন্মভূমি কে এখনো ভালো করে দেখা বাকি।

বিয়ে করে ফেল।বউ নিয়ে ঘুরে বেড়াইস।

ধুর শালা।বউ টউ হলো উটকো ঝামেলা।বুঝে কম চিল্লায় বেশি। আমার বড় ভাই এখনো বিয়ে করে নাই। সেখানে আমি বিয়ে করবো? অসম্ভব।

তোমার সাথে আমাকে ও ঘুরতে নিয়া যাই ও।

তূর্য সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে সোজা সাপ্টা উত্তর দিলো,,
নিজের নাই ঠিক,, আবার উটকো ঝামেলা ঘাড়ে চাপানোর ইচ্ছে নেই আমার। বিয়ের পর জামাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়ি ও।

আমি গেলাম। আগামীকাল এসে সবার সাথে শেষ বার দেখা করে যাবো। আল্লাহ হাফেজ।

এই তূর্যর এত ভাব কিসের কে জানে?এত করে ওরে বুঝাতে চাই ওরে আমার পছন্দ। সেটা যেনো বুঝিয়ে ও না বুঝার ভান করে।
বিড় বিড় করে বললো সিনথিয়া।

লাভ নাই,লাভ নাই,, সিনথিয়া আফা।যেখানে তূর্য এনি কে পাত্তা দেয় না। সেখানে আপনাকে পাত্তা দিবে বলে আমার মনে হয় না।

রনির দিকে চোখ গরম করে তাকালো সিনথিয়া।বিয়ে তো আমি তূর্য কেই করবো।

জেগে জেগে স্বপ্ন দেখেন।হইলে ও হইতে পারে স্বপ্ন পূরণ।
.
.
তূর্য বাইক নিয়ে যাবার সময় রাস্তার পাশে অনু কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাইক সাইড করে দাঁড় করিয়ে মাথায় হেলমেট পরেই অনুর দিকে এগিয়ে গেল।অনু তখন আপন মনে ফুচকা খাচ্ছে।
সাথে কেয়া আর রিফা ও আছে।ঝালে হা হু করছে কেয়া আর রিফা।অনু একটার পর একটা সাবার করে যাচ্ছে। পছন্দের খাবার বলে কথা।

তূর্য অবাক চোখে তাকিয়ে আছে অনুর মুখের দিকে। ঝালে মেয়েটার চোখে পানি চিকচিক করছে।এখনি টপ করে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়বে। অথচ মেয়েটা কেমন শান্ত হয়ে ফুচকা খেয়ে যাচ্ছে।

বোন ৩০ টা হয়ে গেছে।আর খাইস না। তুই বাজিতে জিতে গেছোস।আর খাইতে হবে না।আর খাইলে তোর ঘরে বাইরের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে।
মিনমিনে গলায় বললো কেয়া।

চাচা অনুরে আর ফুচকা দিয়েন না। আজকে যদি ওর পেট খারাপ না হইছে দেইখেন।

অনু মুখের ভেতর ফুচকা চিবাতে চিবাতে বললো,,আরো দশ বারো টা ফুচকা দাও চাচা।
অনেক দিন পর খাচ্ছি।কী টেস্ট,আহা,,,

তূর্য বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। বুকের মাঝে দুই হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে অনুর উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,,

এই যে মিস,,
আর একটা ফুচকা ও খাইয়েন না। আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি এখনি ঢলে পড়ে যাবেন।

অনু টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে তূর্যর দিকে ভালো করে তাকালো। ভয়েস টা কেমন চেনা চেনা লাগছে।

অনু শফিক চাচার দিকে তাকিয়ে বললো,,আর বানাইয়েন না চাচা।আর খামু না। আজকে নির্ঘাত আমার পেট খারাপ করবে।

অনু যে তূর্যর কথা শুনেছে এইটা ভেবে কেন যেনো খুব ভালো লাগলো তূর্যর।

অনু তূর্যর দিকে এগিয়ে এসে বললো,কে আপনি? চিনেন আমাকে?

তূর্য মাথা থেকে হেলমেটটা খুলে এলোমেলো চুল গুলো হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে বললো হুম অল্প কিছুটা চিনি।

তূর্য কে দেখে কিছুটা বিরক্ত হলো অনু।
ওহ আচ্ছা আপনি। বলেই অনু চলে যাবার সময় তূর্য অনুর হাত ধরে ফেললো।

অনুর গায়ে যেনো ১২০ বোল্টের ঝটকা লাগলো। পেছনে ফিরে ঝটকা মেরে হাত সরিয়ে নিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো,,

হাত ধরলেন কেন আপনি?এত সাহস কে দিয়েছে
আপনাকে?

তূর্য ভাব নিয়ে বললো,,
আমি জানি, আমি সাহসী।

কেয়া আর রিফা ও এগিয়ে আসলো। তূর্য কে দেখে কেয়া বলেই দিলো,

উরিম্মা কী জোস ছেলে,,,,

চোখ গরম করে কেয়ার দিকে তাকালো অনু। ইচ্ছে করছে ঠাঁটিয়ে এক চড় মারতে কেয়ার গালে।

পাশ থেকে রিফা কেয়ার কোমরে চিমটি কেটে বললো,,
কোথায় কী বলতে হয় জানিস না?

তূর্য মুচকি হেসে ওদের তিন জনের দিকে তাকিয়ে আছে।

অনু চোখ পাকিয়ে তূর্যর দিকে তাকিয়ে রিফা আর কেয়ার হাত ধরে টান মেরে বললো,,
চল এখান থেকে।

আমার টাকা গুলো দিয়া যান‌ আফা।

শফিক মিয়ার কথা শুনে অনুর মেজাজ গেল আরো খারাপ হয়ে।
এই লোকটা রে আমি চাচা ডাকি।আর এই ব্যাটা আমারে আফা ডাকে? সিরিয়াসলি?

কী হইলো আফা,,টাকা দেন,,,

দিমু না টাকা। আপনাকে আমি চাচা ডাকি,, আর আপনি আমাকে আফা ডাকলেন? আমি আপনার মেয়ের বয়সী চাচা।

আচ্ছা আফা,,,

আবার আফা?অনু এখন রাগে যেনো কান্না করে দিবে। বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে তূর্য।

অনু ঠোঁট উল্টে ক্যাম্পাসের ভেতরে চলে যাওয়ার জন্য হাঁটা ধরলো।

কেয়া আর রিফা ও দৌড় দিল অনুর পিছনে।
শফিক মিয়া গামছা কাঁধে দিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে বললো,,
আরে আমার টাকা দিয়া যান।

কেয়া গলা উঁচু করে বললো,,
আফা বলে রাগাই দিছেন।মা বললে বোনাস ও পাইতেন। এখন আর টাকা পাওয়ার চিন্তা করে লাভ নাই।বসে বসে ঝাল দিয়ে ফুচকা খান।

আরে আমার টাকা দিয়া যান।ও আফা,,,আফা,,,

তূর্য হাসতে হাসতে শেষ। পকেট থেকে মানি ব্যাগ বের করে শফিক মিয়ার কাছে গিয়ে বললো,,
কত টাকা চাচা,,?

শফিক মিয়া তূর্যর দিকে তাকিয়ে বললো,,
আমনে টাকা দিবেন কা?

তূর্য মুচকি হেসে বললো,,
এমনিতেই। বলুন কত টাকা?

শফিক মিয়া ক্যাবলা হেসে বললো,,
পাঁচশ আশি টাকা।

তুর্য পাঁচশ টাকার একটা নোট আর একশো টাকার একটা নোট শফিক মিয়ার হাতে দিয়ে বললো,, ওদের থেকে আর টাকা নিবেন না আশা করি।আর বিশ টাকা দিতে হবে না।রেখে দিন। আসছি চাচা,,,,

চলবে,,,, 🍁

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here