তার_শহরের_মায়া ২ 💜,পার্ট_৪,৫

তার_শহরের_মায়া ২ 💜,পার্ট_৪,৫
Writer_Liza_moni
পার্ট_৪

তনুর সাথে সবার ছবি তোলা শেষ হলে তনু কে হলুদ ছোঁয়াতে যায় বড়রা। চার দিকে বাতাস বইতে শুরু করে। অকাশে ও ঘন কালো মেঘ জমতে শুরু করে। বৃষ্টি পড়বে মনে হয়।
আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনে বিরক্ত হয় সবাই।

আজকেই বৃষ্টি পড়তে হবে?

কথাটা বলতে না বলতেই ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। তনুর কোনো ভাব ভঙ্গিমা বুঝতে পারছে না অনু। বৃষ্টি পড়ে তার সুন্দর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান টা ভেস্তে দিলো।তাতে যেনো মেয়েটার কিচ্ছু আসে যায় না।

মুষলধারে বৃষ্টি পড়া শুরু করলে সবাই ছাদ থেকে বাড়ির ভেতরে চলে আসে।

তনুর রুমের বিছানায় মন খারাপ করে বসে আছে সব কাজিনরা। তনুর গাঁয়ে হলুদ নিয়ে তাদের সবার কত্ত প্লান ছিল।এই বৃষ্টি সব নষ্ট করে দিল।

তনু বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চিল মুডে বৃষ্টি বিলাস করছে। বৃষ্টি আসায় তনু যেনো আরো বেশি খুশি হয়েছে।

অনু ভ্রু কুঁচকে তনুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

তুই মন খারাপ না করে এমন চিল মুডে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি বিলাস করছিস?
তোর হলুদের এত সুন্দর আয়োজন নষ্ট হয়ে গেছে আপু। তোর মন খারাপ হচ্ছে না?

অনুর কথা শুনে তনু হাসে। বেলকনির গ্রিলের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে বৃষ্টির পানি নিয়ে অনুর মুখে ছুড়ে মেরে মুচকি হেসে বললো,,
প্যারা নাই চিল।
হলুদের অনুষ্ঠান নিয়ে আমার তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। আগামীকাল বিয়েটা ঠিকমতো হলেই হলো।

অনু কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেল। রুমে এসে তনুর জন্য রাখা মেহেদী নিয়ে আবারো চললো তনুর রুমে।হাতে মেহেদী পড়িয়ে দিবে তনু কে।

তানিশা অনুর ফুফাতো বোন আর অনু মিলে তনুর হাতে মেহেদি দিয়ে দিচ্ছে।

এমন সময় আধ ভেজা চুল ঝাড়তে ঝাড়তে তনুর রুমে প্রবেশ করলো আরাফাত।
আরাফাত কে এমন ভিজা দেখে তনু অস্থির কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,,
এই আরাফাত ভাই,,
এমন ভিজলে কী করে? বৃষ্টির পানি তোমাকে সয় না।জ্বর আসবে তো।

তনুর কথা শুনে অনু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তনুর মুখের দিকে। আরাফাত ভাইয়ের বৃষ্টি সয় না?এই কথা শুনে অনু কন্ঠে বিষ্ময় নিয়ে বললো,,

ভাইয়ার সম্পর্কে আমরাই তো এত কিছু জানি না। তুই এত কিছু জানিস আপু?

না জানার মতো কী আছে?বড় ফুফুর কাছে তো অনেক বার শুনেছি।

অনু আর কিছু না বলে মেহেদী লাগানোর দিকে মন দিল।

তনু ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।
.
.
বৃষ্টি থেমেছে দশ মিনিট হবে।অনু বাড়ির উঠানে নেমে গেছে ভেজা মাটির ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য।
বৃষ্টির পর এই ভেজা মাটির ঘ্রাণ তার এত ভালো লাগে কেন? সেটা অনুর নিজেরি অজানা।

অনু কে বাহিরে দেখে তনু তার রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চিল্লিয়ে বললো,,

এই অনু,,
আমার ফুলের বাগানে হলুদ গোলাপ গাছে একটা গোলাপ ফুল ফুটেছে।ওটা নিয়ে আয় তো।

অনু মাথা নাড়িয়ে বললো,,
আনছি। অপেক্ষা কর।

বাড়ির ডান পাশে ছোট্ট একটা ফুলের বাগান আছে। ছাদে ও আছে তবে সেটা অনুর।অনুর অনুপস্থিতিতে মা আর তনুই গাছ গুলোর যত্ন করেন।

গাছ থেকে ফুলটা নিয়ে অনু তনুর কাছে চলে গেল।ফুলটা তনুর ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে মায়ের কাছে চলে গেল।

আরেএএএ,,
অনু তো চলেই গেল। আমার হাতে তো মেহেদী।ফুলটা খোঁপায় গুঁজে দিবে কে? তানিশা, মনিষা কাউকেই তো দেখছি না।

রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এ দিক ও দিক তাকিয়ে দেখছে তনু।যদি কাউকে পাওয়া যায়। এমন সময় আরাফাত কে দেখলো ড্রইং রুমের দিকে যাচ্ছে।

এই আরাফাত রহমান
শুনেন বড় ভাই,,,

আরাফাত তনুর কাছে এসে মুখ মলিন করে বললো
কী হয়েছে ?

তনু ড্রেসিং টেবিলের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে বললো,,
ফুলটা খোঁপায় গুঁজে দেন না প্লিজ।

আরাফাত গম্ভীর কণ্ঠে বললো,,
তোমাদের এই সব মেয়েলি কাজ আমার দ্বারা হবে না।অনু, তানিশা, মনিষা,
এদের কাউকে ডেকে বলো।

আপনি বড্ড খারাপ আরাফাত ভাই। অসভ্য লোক।লাগবে না আপনার সাহায্য।

আরাফাত মুখটাকে মলিন করে চলে গেল।
আরাফাতের চলে যাওয়ার দিকে চোখ কটমট করে তাকিয়ে রইলো তনু।
খুব খারাপ লোক।
.
.
.
সেই কখন থেকে মাহির তনু কে ভিডিও করে যাচ্ছে।তনু কল রিসিভ করছে না বরং বার বার কল কেটে দিচ্ছে। মেহেদী শুকিয়ে গেছে। হাত ধুয়ে ও নিয়েছে কিছুক্ষণ আগে।

তনু এখন মাহিরের সাথে কথা বলতে চাইছে না একদম। কল কেটে দেওয়ার সাথে সাথেই আবারও কল করছে মাহির।তনু বিরক্ত হয়ে এক পর্যায় মোবাইল বন্ধ করে দিয়ে শান্তির একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।
.
.
সকাল থেকেই অনু কে এটা ওটা করতেই হচ্ছে।সবাই তৈরি হয়ে গেছে পার্লারে যাওয়ার জন্য।তনুর সাথে পার্লার থেকে সেজে কমিউনিটি সেন্টারে যাবে অনু, তানিশা, মনিষা,পরি,আরো কয়েক জন।

অনু রুমে এসে গোসল করে তৈরি হয়ে চললো গাড়ির দিকে।সবাই অপেক্ষা করছে তার জন্য।

মাহিররা কমিউনিটি সেন্টারে এসে বসে আছে। মাহির খুব খুশি।এত দিনে তনু কে নিজের করে পাবে বলে।
তবে তনুর প্রতি তার একটু অভিমান জমেছে। গতকাল এত বার কল করার পরো কল রিসিভ না করে মোবাইল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।যদি ও সে ঠিক জানে না।আসলে এই কাজটা কে করেছে?

পার্লার থেকে বের হওয়ার সময় তনু কে কোথাও খুঁজে পেলো না অনু। হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে গেছে সে।অনু তনুর মোবাইলে কল করে দেখে,,
মোবাইল তার সামনেই রিং হচ্ছে।এই দিকে আব্বু, আম্মু,ফুফুরা সবাই কল করে যাচ্ছে অনু কে।

তনু কে সব জায়গায় খুঁজে ও পায়নি তারা।
অনুর ভয় হতে লাগলো।মাকে ফোন করে বললো,,
তনু কে খুঁজে পাচ্ছে না তারা। তাদের সাথেই ছিল। হঠাৎ করেই লাপাত্তা হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আগে পড়েনি অনুর মা।তনু হঠাৎ করে কোথায় চলে গেল বুঝতে পারছেন না তিনি।

তুই সবাইকে নিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে চলে আয়।

অনু মায়ের কথা মতো সেটাই করলো।তনু কে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কথা টা মাহিরের কানে পৌঁছাতে বেশি দেরি হলো না।

কপালে হাত দিয়ে বসে আছে সবাই।তনু হঠাৎ করে কোথায় গায়েব হয়ে গেলো? এমন তো নয় যে তনুর কোনো গোপন প্রেমিক আছে। তার আব্বু আম্মু যত টুকু জানেন,,
মাহির আর তনুর আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক আছে।

কিন্তু তনু কোথায় চলে গেল? মেয়েটার কোনো বিপদ হলো না তো?

অস্থির হয়ে পায়চারি করছে অনু। চিন্তা হচ্ছে খুব। আব্বু,বড় ফুফা, ছোট ফুফা, ছোট চাচা,বড় মামা সবাই বের হতে যাবেন তনু কে খুঁজতে এমন সময় তনু আরাফাতের হাত ধরে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে আছে।

সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তনু আর আরাফাতের দিকে।

অনু তনুর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,,
কোথায় ছিলি আপু?
আজ তোর বিয়ে।আর তুই আরাফাত ভাইয়ের হাত ধরে আছিস কেন?

তনু স্পষ্ট কন্ঠে বললো,,
বিয়ে কার? আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে।

মাহির তনুর কাছে এসে বললো,,
মানে?বিয়ে হয়ে গেছে মানে কি তনু?

মানে খুব সহজ মিস্টার মাহির রেদওয়ান।
আপনি যেমন ডেয়ার নিয়ে আমার বোনের আবেগ নিয়ে গেমস খেলেছেন।ঠিক তেমনি আমি ও ডেয়ার নিয়ে আপনার সাথে গেমস খেলেছি।

তনুর কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে।অনু বিষ্ময়ে কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে গেছে।

আপু জানে এই সব? কখনো বুঝতে দেয় নি তো।

মাহির ভাই শুনেন,,
একটু চিটিং বাজি না করলে আপনাকে শিক্ষা দেওয়া হতো না। জানি আপনি আমার মামাতো ভাই। আমার শ্রদ্ধেয় বড় মামার ছেলে। তবুও আপনাকে আপনার কাজের ফল ভোগ করতেই হতো।

তনু অনুর হাত ধরে টান মেরে নিজের কাছে নিয়ে এসে মাহির চোখে চোখ রেখে বললো,,
আমার এই ছোট্ট বোনের মন নিয়ে খেলার জন্যই আপনাকে এমন শাস্তি দিয়েছি আমি।
জানি আপনি ও ভালোবাসেন আমাকে।তাই বুঝবেন কারো মন ভাঙ্গলে কেমন লাগে।

আমি আর আরাফাত আজ সাড়ে চার বছর ধরে একে অপরকে ভালোবাসি। তাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে বিয়ে করবো?এটা ভুলে ও ভাবিনি আমি।

তনু মাহিরের চোখের দিকে চোখ রেখে বললো,,
আমি আপনাকে কোনো দিন ও ভালোবাসিনি। মাহির ভাই। কোনো দিন ও না।

চলবে,,,, 🍁

#তার_শহরের_মায়া ২💜
#পার্ট_৫
#Writer_Liza_moni

তনুর কথা শুনে স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাহির। তনুর বলা,,
আমি আপনাকে কোনো দিন ও ভালোবাসিনি মাহির ভাই।কথাটা তার কানে যেনো এখনো বাজছে।

কমিউনিটি সেন্টারে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তনুর মুখের দিকে।

মাহির অনুর সাথে ও রিলেশনে ছিল?
বলে উঠলো মাহিরের আব্বু।

তনু মাহিরের আব্বুর কাছে গিয়ে বললো,,
হুম বড় মামা।তনু তার বড় মামার হাত ধরে বললো,,
আমাকে ক্ষমা করে দিও। মাহির ভাই যেটা করেছে সেটা একদম ঠিক করেনি।

আমার বোনের ভালোবাসা নিয়ে খেলার জন্যই তাকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। আমি তাকে বুঝাতে চেয়েছি যে ভালোবাসার মানুষটা ঠকালে ঠিক কেমন লাগে?

ভালোবাসা,
খুব সুন্দর একটা শব্দ।এই ছোট্ট শব্দটার অনেক বড় একটা অর্থ আছে। ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই তো মানুষের এত ব্যাকুলতা। আমাদের পরিবার আমাদের ভালোবাসে। আমাদের বন্ধু বান্ধব আমাদের ভালোবাসে। মানুষের মাঝে যেমন মায়া, ভালোবাসা আছে। তেমন তো পশু পাখিদের ও ভালোবাসা,মায়া আছে।একে অপরের প্রতি।

তনু মাহিরের কাছে গিয়ে বললো,,
আচ্ছা তুমি সেই সব মানুষের আত্ম চিৎকার শুনতে পাও না?
যারা প্রার্থনায় কেঁদে ও ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের করে পায় না।

মাহিরের মুখ থেকে কথা হারিয়ে গেছে। একটা টু শব্দ ও বের হচ্ছে না তার মুখ থেকে।

অনু তাজ্জব বনে গেছে। এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়তে হবে ভাবতেই পারেনি সে। তার এখন ঠিক কেমন রিয়েকশন করা উচিত বুঝতে পারছে না সে।
নিরব দর্শকের মতো চোখ গোল গোল করে সব কিছু দেখে যাচ্ছে।
.
আব্বু আম্মু,বড় মামা,বড় মামি, মাহির ভাই সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও।
আমি মাহির ভাই কে কখনো ভালোবাসিনি। আমি আরাফাত কে ভালোবাসি। আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে জীবনে ও করতাম না।

অনুর বড় মামি প্রচন্ড রেগে আছে তনুর উপর।

বিয়ে যদি নাই করতি তাহলে এত নাটকের কী দরকার ছিল?এত আয়োজন করে এত গুলো টাকা নষ্ট করে কী এখানে নাটক করতে এত আয়োজন করেছিস?

তনু ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো। তার পর শক্ত কন্ঠে বললো,,
তোমাদের একটা টাকা ও খরচ হয়নি বড় মামি।

বড় মামি একটু থমকালো।
আমি আমার ইনকামের টাকা খরচ করেই এত সব করেছি। সেটাকে নাটক বলো আর যাই বলো সেটা তোমার ইচ্ছে।

তুই একদম ঠিক করেছিস তনু। চিটিং বাজদের সাথে চিটিং বাজি করাটাই উচিত। এদের বুঝিয়ে দেওয়া উচিত কারো মন নিয়ে খেললে কেমন লাগে?
বললেন তনুর বড় খালামনি।

বর্তমান সময়ে ডেয়ার নিয়ে মানুষের মাতামাতি টা অতিরিক্ত বেশি হয়ে গেছে।
সত্যিকারের প্রেমিক প্রেমিকা খুঁজে পাওয়া দায়।
তোর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। তুই একদম ঠিক কাজ করেছিস। মাহির আমার ছেলে বলে আমি এই সবে ওকে সাপোর্ট করবো তা না। আমি নিজেও বুঝি, ভালোবাসা হারালে কেমন লাগে।

বড় মামার কথায় মুচকি হাসে অনু।
.
.
তনুর রুমটা খুব সুন্দর করে সাজাচ্ছে অনু, মনিষা, তানিশা,আর রুবেল।

তনু আপাতত বড়দের মাঝে বসে আছে।রাত প্রায় নয়টা বাজে। আরাফাত সোফায় বসে তনুর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।

তনু আরাফাতের হাসি দেখে লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে আছে।
.
.
আচ্ছা অনু তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

অনু বিছানায় ফুল ছিটিয়ে দিতে দিতে বললেন,,
হুম বলো মনিষা আপু।

তোর আর মাহিরের রিলেশন হইছিলো কবে?

অনু মনিষার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,,
ঐ সব কিশোরী বয়সের আবেগ। হুদাই কানছি আমি।

সেটা বুঝলাম। কিন্তু তোরা রিলেশনে কখন ছিলি?

আমি যখন ইন্টার প্রথম বর্ষে ছিলাম তখন। মাহির ভাইয়ার প্রতি কেমন একটা ফিলিংস কাজ করতো।উনার সব কিছুই ভাল্লাগতো।
একদিন উনি আমাকে হঠাৎ প্রোপজ করে বসে। আমি ও তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে উনার প্রেমে উল্টাইয়া পড়ি।

তাহলে ব্রেক আপ হইলো কেন?

উনি নিজেই ডেয়ার ছিল বলে ব্রেকাপ করে ফেলেছিলেন। আমি ও পাগলের মত কত দিন কান্না করছি।বলেই হাসলো অনু।

টিট ফর ট্যাট।তনু আপু ও একদম ঠিক কাজ করছে। অনেক ভাব না মাহির কা বাচ্চার।আমারে একটু ও পাত্তা দিতো না।বললো তানিশা।

তানিশার কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।
.
.
রাত প্রায় ১১টার দিকে তনু কে রুমে নিয়ে গিয়ে
বিছানায় বসিয়ে দিয়ে যায় অনুরা।
তনু কে রুমে বসিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অনুরা সবাই। আরাফাত কে ডুকতে দিবে না।যতক্ষন না তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা দিচ্ছে।

আরাফাত ভাই থুক্কু দুলাভাই,,
এত দিন তলে তলে অনেক কিছু করে ফেলছেন। অথচ আমি কিচ্ছু বুঝতে ও পারি নাই। এখন আপনার একমাত্র শালির আবদার পূরণ করে তার পর ভেতরে যেতে পারবেন।আর তা না হলে আজ সারা রাতে এক মিনিটের জন্যও এই জায়গা থেকে নড়ছি না আমরা।

গনে গনে দশটা ৫০০ টাকার নোট অনুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে অনুর মাথায় হাত রেখে দোয়া করার ভঙ্গি নিয়ে বললো,,,
তারা তারি বিয়ে করে নাও শালিকা।যেনো আমার পকেট থেকে আর টাকা না যায়।

আরাফাতের কথা শুনে সবাই হেসে বললো কিপ্টা দুলাভাই।
.
.
বেলকনিতে আরাম কেদারায় বসে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে মাহির।
মনটা বড্ড খারাপ তার। সামান্য একটা ডেয়ার তার জীবন থেকে সুন্দর মূহূর্ত গুলো কেড়ে নিবে ভুলে ও ভাবেনি সে।

আজ সে উপলব্ধি করতে পারছে। ভালোবাসা নিয়ে গেমস খেললে আসলে কেমন কষ্ট লাগে।
তনু আজ তার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভালোবাসার মানুষ ঠকালে বেঁচে থাকতে ও ইচ্ছে করে না।

আজ খুব আফসোস হচ্ছে তার। সেদিন সেই কিশোরী অনুর মন টা নিয়ে না খেললেই হতো।

Revenge of nurture
বলে একটা কথা আছে। আজ বুঝি সেটাই ঘটলো আমার সাথে?
.
.
বাইরের পরিবেশ নাতিশীতোষ্ণ হলেও ভারি গয়না পরে থাকায় তনুর অবস্থা খারাপ।মুখে ভারি মেকআপের আস্তোরন।চোখে আলগা পাপড়ি গুলো সমস্যা করছে।

তনু কে উশখুশ করতে দেখে আরাফাত বললো,,
আর এই সব ভারি গয়না,শাড়ি, মেকআপ নিয়ে থাকতে হবে না।যলদি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।

তনু মুচকি হেসে কাভার্ড থেকে একটা শাড়ি নিয়ে ওয়াস রুমে চলে গেল।দম বন্ধ হয়ে আসছে তার এত ভারি জিনিস পড়ে থাকতে।
.
.
বিছানায় শুয়ে শুয়ে পরির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে অনু। পিচ্চি টা বায়না ধরেছে সে আজ অনুর কাছে ঘুমাবে।পরি ঘুমিয়ে পড়েছে কিছুক্ষণ আগেই।অনুর ও ঘুম পাচ্ছে খুব।সারা দিনের এত কাজের ধকল সহ্য করতে হয়েছে।শরিরের এখন একটু আরাম চাই।পরিকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো অনু।

তনু ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসে শান্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো।
আরাফাত তনুর কাছে এসে বসে তনুর হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বললো,,
নামাজের ওযু করে আসতে একবারে।
অনেক ক্লান্ত লাগছে না?

তনু মুচকি হেসে আরাফাতের দিকে তাকিয়ে বললো,,
ক্লান্ত লাগছে বটে।তবে এর চেয়ে ও বেশি শান্তি লাগছে। তোমাকে পেলাম সারা জীবনের জন্য নিজের করে। তুমি আবার মাহির ভাইয়ার মতো হবা না ভুলে ও।তাহলে একদম খুন করে ফেলবো।

আরাফাত মুচকি হেসে তনু কে জড়িয়ে ধরে বললো,,নারে পাগলী। তুমি আমার রক্তে মিশে গেছো।তোমাকে ছাড়া তো আমি নিজেই থাকতে পারবো না।

যাও অযু করে আসো। আমরা এক সাথে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নতুন জীবন শুরু করবো।
.
.
তনুর ঘুম পাচ্ছে খুব।শরিরটা ব্যাথা করছে খুব। আরাফাত পাঞ্জাবির পকেট থেকে এক জোড়া নুপুর বেড় করে তনুর পায়ে পড়িয়ে দিলো।

এটা তোমার জন্য। অনেক আগে বানিয়ে রেখিছিলাম। আজকের দিনে দিবো বলে।আজ নিজের হাতে পড়িয়ে দিয়ে এত দিনের ইচ্ছা পূরণ করলাম।

চলবে,,, 🍁

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here