আমার_একাকীত্বের_শহরে__আপনি,১২,১৩

#আমার_একাকীত্বের_শহরে__আপনি,১২,১৩
#লেখিকা__ফিহা_আহমেদ
#পর্বসংখ্যা_১২

প্রিয়তি গাড়ি থেকে নেমে সামনে তাকাতেই মাথায় যেন বাজ পরলো। সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরের লেখা “কাজি অফিস”।
প্রিয়তিঃ আপনি আমায় কাজি অফিসে নিয়ে আসলেন কেন।
জিহানঃ কাজি অফিসে মানুষ কেন আসে।
প্রিয়তিঃ কেন আসে মানে বিয়ে করতে আসে।
জিহানঃ তো এই সিম্পল কথাটি তোমার মাথায় আসছে না।বিয়ে করতে এসেছি।
প্রিয়তি চিৎকার করে — কি….কি বললেন আপনি বিয়ে। কার বিয়ের কথা বলছেন আপনি।
প্রিয়তির দিকে তাকিয়ে হেসে বলে — তোমার আর আমার।
প্রিয়তিঃ আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন। আপনার মাথা ঠিক আছে। আমি কিছুতেই বিয়ে করবোনা আপনাকে।
জিহানঃ নিজে থেকে না করলে জোর করে করবো।
প্রিয়তিঃ আপনি কেন এমন করছেন।আপনার মা আমায় কি ভাববে। প্লিজ আপনার ছেলেমানুষীর জন্য আমায় সব হারাতে হবে।

জিহান প্রিয়তির হাত ধরে টেনে কাজি অফিসে নিয়ে আসলো।
— রাদিম সব ঠিক করেছিস তুই।
রাদিমঃ সব কাজ হয়ে গেছে।
জিহানঃ কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করেন।
প্রিয়তিঃ আমি কিছুতেই বিয়ে করবো না আপনাকে আমার হাত ছাড়ুন প্লিজ।
জিহানঃ বেশি কথা বললে মুখে টেপ মেরে দিবো। চুপ করে থাকো।
কাজি সাহেবঃ ভাই মেয়েটাকে জোর করে বিয়ে না করলে হয়না।
কাজির কথায় জিহানের মাথা গরম হয়ে গেল।
জিহানঃ এই কাজি শুন,,,তোকে যে কাজ করতে দিয়েছি সেটা কর নাহলে খুব খারাপ হবে।

জিহানের ধমক খেয়ে কাজি বিয়ের কাজ শুরু করলো।
কাজি সাহেবঃ পেপারে সাইন করে দিলেই বিয়ে শেষ।
জিহান সাইন করে দিলো। কিন্তু প্রিয়তি করছেনা।
জিহানঃ প্রিয়তি সাইন করো পেপারে।
প্রিয়তিঃ আমি করবো না সাইন।
জিহানঃ করবেনা ঠিক আছে। কিভাবে সাইন করাতে হয় আমার ভালোভাবে জানা আছে।
জিহান নিজের মাথায় রিভলবার ধরলো।
জিহানঃএইবার বলো সাইন করবে কিনা।না হয় নিজেকে শেষ করে দিবো।আমি এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত বলবো তুৃমি এর মধ্যে সাইন না করলে আমি নিজেকে শেষ করে দিব।
প্রিয়তিঃ আ….আপনি পা…পাগল হয়ে গেছেন জিহান এইসব কেন করছেন।না আপনি আমায় ভালোবাসেন বলুন।কেন পাগলামি করছেন।মাথা থেকে রিভলবার সরান প্লিজ। আমার ভয় লাগছে।
জিহানঃ এক……..দুই……. তিন……..চার…পাঁ…
প্রিয়তিঃ আ….আমি সাইন করছি।প্লিজ আপনার কোনো ক্ষতি করবেন না।
প্রিয়তি আর কোনো উপায় না পেয়ে পেপারে সাইন করে দিলো।
প্রিয়তির মাথায় কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।
— আমার মা-বাবা নেই। আমাকে কি ওনার বাবা-মা মেনে নিবে পুএবধূ হিসেবে।

জিহানঃ দাঁড়িয়ে আছো কেন।চলো বাড়ি যাব।
জিহানের কথায় প্রিয়তি জিহানের দিকে তাকালো।
প্রিয়তি চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরলো।
প্রিয়তি পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। হাঁটার শক্তি নেই। মনে হচ্ছে অনেক বড় পাপ করেছে।
জিহান প্রিয়তিকে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কোলে তুলে নিলো।
কোলে তুলে গাড়িতে বসিয়ে দিলো।

<★>

আতিক সাহেব আর রোহা জিহানদের ড্রইং রুমে বসে আছে। জিহানের জন্য অপেক্ষা করছে বাড়ির সবাই। জিহান আসলেই রোহা আর জিহানের বিয়ের ডেট ফাইনাল করবে।
রোহাঃ আঙ্কেল আর কতক্ষণ জিহান আসবেনা।আমি আর অপেক্ষা করতে পারছিনা।
রাজিব খানঃ মামনি চলে আসবে। আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো।
সবার কথার মাঝে কলিং বেল বেজে উঠল।
রোহাঃ ওইতো জিহান মনে চলে এসেছে।

রোহা এক্সাইটেড হয়ে দরজা খুলতেই থমকে গেল।
রোহাঃ জিহান এই মেয়ে তোমার সাথে কেন।
জিহানঃ ওর একটা নাম আছে রোহা।ওই মেয়ে এই মেয়ে বলা বাদ দিয়ে ওর নাম ধরে ডাক।
আর হ্যাঁ এখন থেকে ওকে ভাবি বলে ডাকবে। ভাবি হয় তোমার। সামনে থেকে সরো ভিতরে যাব।
রোহাঃ তুমি মজা করছো তাই না জিহান।এইরকম থ্রাড ক্লাস টাইপের মেয়ে তুমি বিয়ে করবে আমি বিশ্বাস করিনা।
জিহানঃ তুমি বিশ্বাস করলে কি আর না করলে কি তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।সামনে থেকে সরো।
রোহা মাথা ঘুরে পরে গেল জিহান আর প্রিয়তির বিয়ের কথা শুনে।
আর প্রিয়তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিরব দর্শকের মতো সব দেখছে আর শুনছে।
রোহাকে দরজার সামনে ঘুরে পরে যেতে দেখে সবাই দরজার সামনে আসলো।
আতিক সাহেবঃ রোহা মামনি কি হয়েছে তোমার।চোখ খুলো মামনি।

জিহানঃ অধিক পরিমাণে খুশি হয়ে আপনার মেয়ে ঘুরে পরে গেছে।
আতিক সাহেবঃ কি বলতে চাইছো তুমি জিহান।
জিহানঃ কিছুনা। আমার বউকে নিয়ে আর কতক্ষণ দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবো।
রাজিব খানঃ বউ মানে।
জিহান প্রিয়তির কাঁধে হাত দিয়ে — এই যে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আমার বউ।
আতিক সাহেবঃ বাহ্ রাজিব খান আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক করতে এসে আমাকে সারপ্রাইজ দিয়ে দিলেন। আমার মেয়ের কিছু হলে আপনাদের কাউকে ছাড়বো না আমি।
আতিক সাহেব মেয়েকে নিয়ে চলে গেলেন।
আর রাজিব খান রাগী দৃষ্টিতে জিহানের দিকে তাকিয়ে আছেন।
রাইসা বেগমঃ যা হবার হয়ে গেছে। এখন থেকে প্রিয়তি আমার বউমা। আমি ওকে মেনে নিয়েছি। প্লিজ তুমিও মেনে নেও।
রাজিব খানঃ আমার বন্ধুর কাছে আমার মান-সম্মান নষ্ট করেছে।কিছুতেই আমি এই বিয়ে মেনে নিবো না।তোমরা যা ইচ্ছে করো।বলে ঘরে চলে গেলেন।

রাইসা বেগমঃ কিছু মনে করো না প্রিয়তি। আস্তে আস্তে ওনি তোমাদের মেনে নিবেন।এখন একটু রেগে আছেন।পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।জিহান তোর খবর আছে আমাকে না জানিয়ে এইসব করেছিস।যা ঘরে যা আমি কিছুক্ষণ পর প্রিয়তিকে তোর ঘরে দিয়ে আসবো।
রাইসা বেগম প্রিয়তিকে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন।
রাজিব খান প্রিয়তিকে দেখে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন।
প্রিয়তির অনেক কষ্ট লাগলো রাজিব খানকে এইভাবে চলে যেতে দেখে।
রাইসা বেগমঃ যাও ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।
প্রিয়তি ফ্রেশ হয়ে বের হতেই রাইসা বেগম প্রিয়তিকে খয়েরী রঙের শাড়ি পরিয়ে দিয়ে জিহানের ঘরে দিয়ে আসলো।

জিহান ওয়াশরুম থেকে গোসল করে বের হলো চুল ঝাড়তে ঝাড়তে।
প্রিয়তির জিহানের দিকে চোখ পরতেই সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিলো।
জিহানঃ এইভাবে চোরের মতো না তাকিয়ে সরাসরি তাকালেই তো পার।এখন আমি তোমার ব্যাক্তিগত সম্পদ তাই চোরের মতো তাকানোর দরকার নাই।
প্রিয়তিঃ আমি কখন আপনার দিকে চোরের মতো তাকালাম।
দুজনের কথার মাঝে রাইসা বেগম আসলেন খাবার নিয়ে।
রাইসা বেগমঃ প্রিয়তি, জিহান দুজন আমার পাশে এসে বসো।
জিহানঃ কেন মামনি।
রাইসা বেগমঃ দুজনকে খাইয়ে দিব।
খাইয়ে দেওয়ার কথা শুনে জিহান মায়ের পাশে গিয়ে বসলো।প্রিয়তি আগের জায়গায় বসে আছে।
রাইসা বেগম প্রিয়তিকে বসে থাকতে দেখে প্রিয়তির পাশে বসলেন খাবার নিয়ে।
জিহানঃ বাহ্ মামনি বউ পেয়ে আমাকে ভূলে গেলে।
রাইসা বেগমঃ ও আমার বউ নয় ও আমার মেয়ে হয় গর্দভ। এইদিকে আয় তুই দুজনকে একসাথে খাইয়ে দিবো।
রাইসা বেগম জোর করে প্রিয়তিকে খাবার খাইয়ে চলে গেল।

<★>

খাটের ওপর এইভাবে বসে না থেকে ঘুমিয়ে পরো।
প্রিয়তি আগের মতোই বসে আছে কোনো নড়চড় নেই।
প্রিয়তিকে বসে থাকতে দেখে — বাসর করার ইচ্ছে আছে নাকি।
জিহানের কথায় প্রিয়তির চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেছে।
প্রিয়তিঃ আমি কোথায় ঘুমাবো।
জিহানঃ এত বড় খাটে না হলেও চার-পাঁচ জন ঘুমাতে পারবে।তুৃমি আমার সাথে এক বিছানায় ঘুমাবে।
প্রিয়তিঃ অসম্ভব আমি কিছুতেই আপনার সাথে ঘুমাবো না।
জিহানঃ তাহলে আর কি তুৃমি যদি মনে করো নাইকাদের মতো ফ্লোরে ঘুমাবে ওকে তেলাপোকাদের সাথে গিয়ে ঘুমাও। কিন্তু তেলাপোকা দেখে চিৎকার করলে তখন দেখবে তোমার কি হাল করি।
তেলাপোকাদের কথা শুনে প্রিয়তি ভয় পেয়ে গেল। এমনিতেই তেলাপোকা ভয় পায়।কোনো উপায় না পেয়ে প্রিয়তি জিহানের পাশে শুয়ে পরলো।
চোখ বন্ধ করতেই প্রিয়তির তৃধার কথা মনে পরলো।
প্রিয়তি শোয়া থেকে ওঠে বসে পরলো।
জিহান মোবাইল স্ক্রোল করছিলো। প্রিয়তিকে হঠাৎ এইভাবে বসতে দেখে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।
জিহানঃ আবার কি মনে করে ওঠে পরলে।
প্রিয়তিঃ আসলে তৃধা বাড়িতে একা রয়েছে। আপনার মোবাইলটা দিবেন প্লিজ তৃধার সাথে কথা বলবো।
জিহানঃ আমি কথা বলে নিয়েছি।
প্রিয়তিঃ মানে কখন বলেছেন।
জিহানঃ এতকিছু জানার দরকার নাই। আর তৃধা বাড়ি চলে গেছে।ওর জন্য টেনশন করার দরকার নাই। চুপচাপ ঘুমাও আর একবারও ডিস্টার্ব করলে নিচে তেলাপোকার সাথে ঘুমাতে হবে তোমার।
তেলাপোকার কথা শুনে প্রিয়তি আর কিছু না বলে চুপচাপ শুয়ে পরলো।

<★>

সকালে পাখির কিচিরমিচির শব্দে জিহানের ঘুম ভেঙে গেল।
চোখ খুলতেই দেখলো প্রিয়তি তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। জিহান প্রিয়তিকে না সরিয়ে প্রিয়তির ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
জিহানঃ এখন কি সুন্দর পিচ্চিদের মতো ঘুমাচ্ছে। যদি সজাগ থাকতো নিশ্চিত আমাকে লুচুদের দলের একজন বলতো।জিহান মনে মনে এইসব বলছে আর মুচকি হাসছে। প্রিয়তির কপালের উপরে পরে থাকা ছোট চুল গুলো হাত দিয়ে সরিয়ে দিতেই প্রিয়তি নড়েচড়ে উঠলো।
জিহান তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান করে।
প্রিয়তি চোখ খুলতেই চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল।

প্রিয়তি নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে নিজেই জিহানকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে।
প্রিয়তিঃ ইস্ কি লজ্জা। ওনি তো ঘুমিয়ে আছেন।যদি সজাগ থাকতেন তাহলে নিশ্চিত লুচিদের দলের একজন ভাবতেন।
প্রিয়তি জিহানকে ছেড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি শাড়ি ঠিক করে নিলো।
— ছিঃ ছিঃ কি বিশ্রী ভাবে শুয়ে ছিলাম।শাড়ি হাঁটুর ওপর ছিল।ধন্যবাদ আল্লাহ আমাকে ওনার কাছে লজ্জা পাওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য।
প্রিয়তি ওয়াশরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে বেরিয়ে আসতেই দরজা ধাক্কানোর শব্দ পেলো।

দরজা খুলে দেখে রাইসা বেগম ট্রলি ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রিয়তিঃ মামনি তুমি।
রাইসা বেগম প্রিয়তির হাতে ট্রলি ব্যাগ দিয়ে — ব্যাগে তোমার জামা-কাপড় সহ প্রয়োজনীয় সব কিছু রয়েছে। তুমি গোসল সেরে নেও।বলে চলে গেলেন রাইসা বেগম।
প্রিয়তি ব্যাগ থেকে একটা সবুজ রঙের শাড়ি বের করে ওয়াশরুমে চলে গেল গোসল করতে।

প্রিয়তিকে ওয়াশরুমে ডুকতে দেখে জিহান চোখ খুললো।
জিহানঃ এতদিন সিঙ্গেল ছিলাম।এখন আমি মেরিড।এখন বউয়ের সাথে রোমাঞ্চ করমু তারও উপায় নাই। একে বাবা জিদ ধরেছে রোহাকে বিয়ে করতে। আর আমি প্রিয়তিকে ছাড়া কাউকে নিজের হৃদয়ে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়।জোর করে বিয়ে করলে যা হয় আরকি। বউয়ের সাথে রোমাঞ্চ করার স্বপ্ন না দেখাই ভালো।জোর করে রোমাঞ্চ করার চেষ্টা করলে বউ পুলিশ পিটানি খাওয়াবে।

ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ শুনে জিহান চোখ বন্ধ করে ফেললো।
প্রিয়তি আয়নার সামনে এসে গামছা দিয়ে চুল ঝাড়ছে।আর প্রিয়তির চুলের পানি জিহানের চোখে গিয়ে পরলো।জিহান চোখ খুলে ফেললো।
প্রিয়তির দিকে তাকাতেই থমকে গেল। সবুজ রঙের শাড়িতে প্রিয়তিকে সুন্দর লাগছে। শরীরের সাথে রঙটা মানানসই। অনেক স্নিগ্ধ লাগছে তার প্রেয়সীকে।মন চাচ্ছে একটু ছুঁয়ে দিতে।
জিহানঃ দেখে কি লাভ ছুঁতে তো পারবোনা।শুধু শুধু লোভে পরে কি লাভ (মনে মনে)।
জিহান মন খারাপ করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।
প্রিয়তি আয়না দিয়ে সব দেখে মুচকি মুচকি হাসছে।
বেচারা বউকে না ছুঁতে পেরে শোক করছে প্রিয়তি সেটা ভালো করেই বুঝেছে।

প্রিয়তিঃ জোর করে হোক আর যেভাবেই হোক বিয়ে তো হয়ে গেছে।এখন ওনি আমার স্বামী। আর আমি ওনাকে ভালোবাসি।ওনি আমায় ভালোবাসে কিনা জানিনা।যেদিন আমায় ওনি ভালোবাসার কথা বলবে সেদিন আমি ওনাকে সম্পূর্ন নিজের করে নিবো।

প্রিয়তি নিচে চলে গেল।প্রিয়তি চলে যেতেই জিহান শোয়া থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে গেল। নিচে গিয়ে খাওয়ার টেবিলে বসে চেঁচিয়ে,,,,,,,,,,
জিহানঃ মামনি মামনি।
রাইসা বেগম কিচেন থেকে খুন্তি নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে — এইভাবে চিৎকার করছিস কেন জিহান।
জিহানঃ মামনি প্রিয়তিকে বলো খেয়ে রেডি হয়ে নিতে।আমার সাথে ভার্সিটি যাবে।
রাইসা বেগমঃ এই কথা বলতে এত চিল্লাচিল্লি করা লাগে।আচ্ছা ঠিক আছে। খাবার দিচ্ছি তোদের দুজনকে খেয়ে ভার্সিটি চলে যা।

রাইসা বেগম কিচেনে গিয়ে প্রিয়তিকে বলে– প্রিয়তি জিহান চাচ্ছে তুমি ভার্সিটি যাও ওর সাথে।
প্রিয়তিঃ মামনি আমি একাই যেতে পারবো।
রাইসা বেগমঃ কখনোই নয়।তুমি জিহানের সাথে ভার্সিটির যাবে। আর আসার সময় একসাথে আসবে।
রাইসা বেগমের মুখের ওপর প্রিয়তি কিছু বলতে পারলোনা।
ব্রেকফাস্ট করে দুজন ভার্সিটির যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হলো।

চলবে……..
[ভুল-ক্রটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]

#আমার_একাকীত্বের_শহরে__আপনি
#লেখিকা__ফিহা_আহমেদ
#পর্বসংখ্যা_১৩

দুজন ভার্সিটি গিয়ে একসাথে গাড়ি থেকে নামলো।
সবার দৃষ্টি তাদের দিকে।বিশেষ করে মেয়েদের হৃদয় জ্বলে – পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে প্রিয়তিকে জিহানের সাথে দেখে। প্রিয়তি গেইটে ডুকতেই দেখে সব মেয়েরা কেমন রাগী দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সবার রাগী দৃষ্টি দেখে শুকনো ঢোক গিললো।
প্রিয়তি জিহানের দিকে তাকালো।জিহান কারো দিকে না তাকিয়ে প্রিয়তির দিকে তাকিয়ে আছে।
জিহানঃ ক্লাসে যাও। ক্লাস শেষে গেইটে আমার জন্য অপেক্ষা করবে।যদি কথা না শুনো তাহলে শাস্তি পাবে।
প্রিয়তিঃ ঠিক আছে আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করবো।
জিহান ক্লাসে চলে গেল।

প্রিয়তি ক্লাসেই যাচ্ছিলো তার আগেই রোহা আর তার বান্ধবীরা প্রিয়তিকে ঘিরে ধরে।
রোহা প্রিয়তিকে উদ্দেশ্য করে বলে — বড়লোক ছেলেদের ভালোই ফাঁসাতে পারো। জানো তো প্রিয়তি তুমি খুব বোকা টাইপের মেয়ে।তোমার মতো এতিম মেয়েকে বিয়ে করেছে জিহান এমনি এমনি তো নয়ই। নিশ্চয়ই তার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে।উদ্দেশ্য পূরণ হলে তোমায় জিহান ছুড়ে ফেলে দিবে।আর হ্যাঁ একটা কথা ভালো করে মাথায় ডুকিয়ে নেও,,,, আমি আর জিহান তিন বছর ধরে রিলেশনশিপে আছি।শুধু শুধু রানী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো।কিছুদন পর এমনিতেই তোমাদের ডিভোর্স করিয়ে দিবেন আঙ্কেল। কথা গুলো ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নেও।
আরো অনেক কথা শুনিয়ে সেখান থেকে চলে যায় রোহা আর তার বান্ধবীরা।

রোহার এইসব কথা শুনে কষ্টে প্রিয়তির বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
— কেন এমন করলেন জিহান। আমি কি ক্ষতি করেছি আপনার।আপনি যখন রোহা আপুকে ভালোবাসেন তাহলে আমাকে কেন বিয়ে করলেন।রোহা আপু ঠিকই বলেছে যার মা-বাবা নেই তাকে কে বিয়ে করবে।কোনো উদ্দেশ্যতো আছেই। এইভাবে আমায় ঠকালেন।
প্রিয়তি চোখের জল মুছে ক্লাসে চলে গেল।
ক্লাসে যেতেই ক্লাসের মেয়েরা প্রিয়তিকে ঘিরে ধরে।
তাদের ক্লাসের মিতালী নামের একটা মেয়ে জিহানকে অনেক পছন্দ করে প্রিয়তিকে দেখেই বাজে কথা বলা শুরু করে দেয়।
প্রিয়তি চুপচাপ সবকিছু শুনে যায় কোনো কথা বলেনা।
প্রিয়তি আশেপাশে তাকিয়ে তৃধাকে খুঁজছে।
— মনে হচ্ছে আমার সাথে রাগ করে ভার্সিটি আসেনি।বেচারির মনের অবস্থা ও তেমন ভালো না।

প্রিয়তি ক্লাস শেষ করে জিহানের জন্য অপেক্ষা না করে নিজে নিজে বাড়িতে চলে আসে।
এদিকে জিহান ক্লাস শেষ করে প্রিয়তিকে না দেখে টেনশনে পরে যায়।
— এই মেয়ে এত ত্যাড়ার ত্যাড়া। কতবার করে বললাম ক্লাস শেষে গেইটের সামনে দাঁড়াতে। কে শুনে কার কথা। কোনো বিপদ হয়নি তো আবার । একবার পাই সামনে থাপ্পড়িয়ে গাল ফাটিয়ে দিবো।জিহান পুরো ভার্সিটি তন্নতন্ন করে প্রিয়তিকে খুঁজে কিন্তু কোথাও পায়নি।জিহানের কলিজা কেঁপে উঠে।
— ওহ্ শিট বাড়ির কথাতো ভুলেই গেছি।মামনিকে ফোন দিয়ে দেখি বাড়ি গেছে কিনা।
জিহান রাইসা বেগমকে ফোন করে…..
জিহানঃ মামনি প্রিয়তি বাড়ি গিয়েছে।
রাইসা বেগমঃ হ্যাঁ প্রিয়তি বাড়ি চলে এসেছে।
রাইসা বেগম আরো কিছু বলার আগেই জিহান ফোন কেটে দিলো। দ্রুত গাড়ি চালিয়ে বাড়ি চলে আসল।

<★>

বাড়িতে এসেই জিহান ঘরে এসে দেখে প্রিয়তি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রিয়তি কিছু বুঝে ওঠার আগেই জিহান থাপ্পড় মেরে বসে প্রিয়তির গালে।
জিহান রাগী দৃষ্টিতে প্রিয়তির দিকে তাকিয়ে আছে। কপালের রগ ফুলে গেছে। প্রিয়তি গালে হাত দিয়ে জিহানের দিকে চলচল চোখ নিয়ে তাকালো।চোখে জল স্পষ্ট।
জিহান প্রিয়তিকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে।
জিহানঃ ক্লাস শেষে তোকে দাঁড়াতে বলেছি আর তুই আমার কথার অবাধ্য হয়ে নিজেই ঢেং ঢেং করে বাড়ি চলে আসলি।কতটা টেনশনে ছিলাম আমি জানিস তুই ।কথার অবাধ্য হলি কেন।তোকে এত বড় সাহস কে দিয়েছে। আমি তোর স্বামী এখন থেকে তুই আমার সব কথা মেনে চলবি। কথার একপা নড়চড় হবে তো খুব খারাপ হবে।
প্রিয়তি কিছু না বলে চুপচাপ কান্না করে যাচ্ছে। প্রিয়তির চোখে জল দেখে জিহানের মাথা আরো গরম হয়ে গেল।
জিহানঃ একদম ন্যাকা কান্না করবিনা। চোখ থেকে যেন আর এক ফোঁটা জল পরতে না দেখি। তাহলে আরো বড় শাস্তি পেতে হবে।
প্রিয়তি ভয় পেয়ে কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করছে কিন্তু হচ্ছে না। প্রিয়তিকে কথা শুনতে না দেখে জিহান রেগে প্রিয়তির ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে প্রিয়তিকে চুমু না দিয়ে কামড়িয়ে ঠোঁটের অবস্থা খারাপ করে দিচ্ছে।
— প্রিয়তি আর সহ্য না করতে পেরে আওয়াজ করে কান্না করে দেয়।প্রিয়তিকে আওয়াজ করে কান্না করতে দেখে জিহান প্রিয়তির ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
আর প্রিয়তি কান্না করতে থাকে।ঠোঁট প্রচন্ড ব্যাথা করছে প্রিয়তির।প্রিয়তি কাঁদতে কাঁদতে বেলকনিতে ঘুমিয়ে পরলো।

কিছুক্ষণ পর রাগ কন্ট্রোল করে জিহান ঘরে এসে দেখে প্রিয়তি এখনো বেলকনিতে বসে আছে।
জিহান বেলকনিতে এসে দেখে প্রিয়তি ঘুমিয়ে পরছে।
জিহান প্রিয়তিকে কোলে তুলে খাটের ওপর শুইয়ে দিলো।
প্রিয়তির ঘুমন্ত মুখের দিকে জিহান তাকিয়ে আছে।
জিহান প্রিয়তির মাথায় হাত রেখে,,,,,,
— আমাকে ক্ষমা করে দিও “মায়াবিনী”। তোমাকে না দেখে এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে পাগল মনে হয়েছে । নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারিনি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। যে হাত দিয়ে তোমায় মেরেছি সেই হাতের শান্তি দিব আমি।””ভালোবাসি মায়াবিনী””। তোমায় মায়ায় আক্রান্ত হয়ে গেছি।নিজেকে তোমার মায়া থেকে সরানো অসম্ভব। যদি কোনোদিন সম্ভব হয় তবে সেটা আমার মৃত্যুতেই হবে।
আরো কিছুক্ষণ প্রিয়তির দিকে তাকিয়ে থেকে প্রিয়তির কপালে অধর চুইয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।

<★>

প্রিয়তির ঘুম ভাঙতেই মাথা অনেক ভারী ভারী লাগছিলো।
পাশে তাকাতেই দেখে রাইসা বেগম চিন্তিত মুখ নিয়ে বসে আছে।
প্রিয়তি শোয়া থেকে উঠার চেষ্টা করতেই,,,,,
— প্রিয়তি তুমি অসুস্থ শুয়ে থাকো উঠতে হবেনা।
প্রিয়তিঃ মামনি আমি ঠিক আছি।
রাইসা বেগমঃ শরীরে জ্বর বাঁধিয়ে বলো ঠিক আছো।
আস্তে আস্তে উঠে বসো দেখি খাবার খেতে হবে তোমায়।
প্রিয়তিঃ মামনি তুমি….
রাইসা বেগমঃ আর একটাও কথা বললে মাইর আছে।
রাইসা বেগম প্রিয়তিকে খাবার খাইয়ে ওষুধ খাইয়ে দিল।
রাইসা বেগমঃ চুপচাপ শুয়ে থাকবে।জ্বর ভালো না হওয়া পর্যন্ত শোয়া থেকে উঠবেনা। আমি একটু পর পর আসবো।বলে চলে গেলেন।

প্রিয়তিঃ ওনি যে আমায় পছন্দ করেননা সেটা ওনি আজকে ভালোমতোই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। রোহার সাথে যদি সম্পর্ক থেকে থাকে তাহলে আমায় কেন বিয়ে করলেন। এর পিছনে কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
ভাবনার মাঝে প্রিয়তি চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনতে পেল। প্রিয়তি আস্তে আস্তে শোয়া থেকে উঠে ঘর থেকে বাহির হলো।

— মামনি তুমি কি করে এই বিয়েটা মেনে নিলে।আমি তোমাকে বলেছিলাম আমি প্রিয়তিকে ভালোবাসি বিয়ে করতে চাই ।আর তোমার ছোট ছেলে কি করলো আমার ভালোবাসার মানুষটিকে কেঁড়ে নিলো।খুব খারাপ করেছে ও। ওকে আমি ছাড়বো না। এইসব বলে ড্রয়িং রুমের সব কিছু ভাংচুর শুরু করে দিলো। রাইসা বেগম আদনানকে কিছুতেই থামাতেই পারছেননা।উপায় না পেয়ে থাপ্পড় মারলো আদনানের গালে।আদনান ভাংচুর বন্ধ করে মায়ের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
— মা তুমি ওই রাস্তার ছেলের জন্য আমাকে মারলে।যাকে কুড়িয়ে এনেছিলে তার জন্য দরদ উতলে পরছে। আর নিজের পেটের সন্তানের গায়ে হাত দিলে তুমি।

রাইসা বেগমঃ সাবধান আদনান তুই জিহানকে আর একবার রাস্তার ছেলে বলেছিস তাহলে খুব খারাপ হবে।
আদনানঃ কি করবে মা মেরে ফেলবে মেরে পেল।তবুও ওকে আমি রাস্তার ছেলেই বলমু।ও আমার আপন ভাই নয়।রক্তের ভাই কি এইভাবে বেঈমানী করে।
এইসব বলে আদনান বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
রাইসা বেগম কাঁদতে কাঁদতে নিজের ঘরে চলে যায়।
এতক্ষণ প্রিয়তি ওপরে দাঁড়িয়ে সব শুনেছে। সব শুনে প্রিয়তির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরলো।
— জিহান তাহলে আদনান ভাইয়ার ভাই নয়।
প্রিয়তির সেখানে থেকে ঘরে গিয়ে স্থির হয়ে বসে আছে।

এইদিকে জিহান বাড়িতে ঢুকতেই আদনানের বলা শেষ কথাটি শুনে পেলে।
জিহানের পুরো পৃথিবী থমকে গেলো।
জিহান বুকভরা কষ্ট নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গেল।

<★>

আদনান গাড়ি চালাচ্ছে আর শয়তানি হাসি দিচ্ছে।
— বাহ্ আদনান কি নাটকটাইনা করলি তুই।
এমন নাটক করলি “সাপ ও না মরে লাঠি ও না ভাঙে”। আমি তো ইচ্ছে করে জোরে জোরে বলেছি যেন প্রিয়তি জানতে পারে জিহান এতিম তার বাবা-মা কেউ নেই। তাকে আমার বাবা-মা দয়া করেছে।হা হা হা৷ তুই আমার ভালোবাসা কেঁড়ে নিয়েছিস জিহান এর মূল্য তোকে দিতেই হবে।আমি প্রিয়তিকে আমার করেই ছাড়বো যেভাবেই হোক।তোকে আর প্রিয়তিকে আলাদা করেই ছাড়বো আমি।

চলবে……..
[ভুল-ক্রটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here