অপ্রকাশিত ভালোবাসা,পর্বঃ ৯+১০

অপ্রকাশিত ভালোবাসা,পর্বঃ ৯+১০
আইরিন সুলতানা
পর্বঃ ৯

সন্ধেবেলা……

রায়হান তার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যায়। গিয়ে দেখে সবাই চলে আসছে…..
আপনার এই আসার সময় হলো। ( নিলয়)
সরি আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম। কখন এলি তোরা। (রায়হান)
৫ মিনিট হবে আর কি। (সিহাব)
জরুরী দেখা করার কারন কি আজ? আবির ফোন দিয়ে বলল জলদি আসতে। (রায়হান)
আমাকে রবিন বলেছিল সবাইকে ডাকতে এখন দেখ ঐ শালা ই লেইট করতেসে। (আবির)
রবিন রে ফোন দিয়ে বল চালু আসতে বাসায় যেতে হবে আমাকে জলদি। (রায়হান)
তুই তো বাসায় যাবি ই তুর কলিজা টা তো আবার বাসায় রাইখা আসছিস। (পিছন থেকে রবিন)
বেশি বক বক না কইরা বল কেনো ডাকছিস।(রায়হান)
হাইপার হইতেছিস কেন। বড় ভাই এর বিয়ে ঠিক হইছে। তাই তোদের বলতে আসলাম কাল ব্যাগ প্যাক করে আবার বাসায় চলে আসবি। (রবিন)
কি বলিস রিদয় ভাই বিয়ের জন্য রাজি হইলো কেমনে। ( অবাক হয়ে আবির)
ভাই আমার প্রেমে পড়ছে। সেই মেয়েকে খুজে বের করেছি অনেক কষ্টে তার সাথেই বিয়ে। (রবিন)
কাহিনী কি বল তো? (সিহাব)
পরে বলবো এখন আমি যাই কাল কিন্তু সবাই এসে পড়বি কোনো বাহানা দিলে চলবেনা। ( রবিন)
রিদয় ভাই এর শালি আছে নি রে রবিন্না। (নিলয়)
মাইয়া ছাড়া আর কিছু বুঝিস না তাই না। ( নিলয়ের মাথায় টোকা মেরে বলল রায়হান)
তোর তো একটা আছেই তুই কি বুঝবি Single দের মনের কষ্ট। (মন খারাপের ভাব ধরে নিলয়)
উফ থামবি দুই টায় বিয়ে বাড়িতে মেয়ের ছড়াছড়ি থাকে জানস না। ( সিহাব)
আই লেবু বন্ধু তুই আমার মনের কথা টা কইলি। (নিলয়)
এভাবে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে যে যার বাসায় চলে গেলো।
________________________________________________________

এদিকে আমাদের হিয়া রানির তো রান্না করতে গিয়ে অবস্হা বেহাল। প্রথম রান্না বলে কথা। অনেক খাটা খাটনির পর হিয়া তার আব্বুর পছন্দের বিড়িয়ানি রান্না শেষ করলো। কিন্তু রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে মামনির চোখ কপালে।

একি হিয়া রান্নাঘরের এই নাজেহাল অবস্হা কে করলো। ( মামনি)
মামনি বিড়াল করেছে আমি না কিন্তু আমি কিছুই করিনি। ( ভেবলা মার্কা হাসি দিয়ে হিয়া)
হ্যা বিড়াল টা অনেক বড় বুঝতে পারছি আমি। (মুখ টিপে হাসছে মামনি)
মামনি Its not fair একটু হলুদ মরিচ ই তো ছড়িয়েছে রান্না ঘরে তাই বলে তুমি হাসবে। (ন্যাকা কান্না করে বলল হিয়া)
কই হেসেছি আমার হিয়া মা যে হাত পুড়িয়ে আমাদের জন্য রান্না করেছে এটাই তো অনেক। আচ্ছা তুই রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নে যা আমি ততক্ষনে রান্নাঘর টা পরিষ্কার করে নেই। (মামনি)
আচ্ছা ঠিক আছে। শাওয়ার নিয়ে আসছি আমি। (হিয়া)
বেশিক্ষণ শাওয়ার নিবি না হিয়া। না শুনেই চলে গেলো। পারি না আর এই মেয়েটাকে নিয়ে। (মামনি)
________________________________________________________

মামনি এখন আচ্ছা মতো আমাকে বকবে সেটা আমি যানি তাই তো উপরে চলে এলাম। রুমে এসে আমি একটা লম্বা শাওয়ার নিলাম নিজেকে রিফ্রেশ করার জন্য। তারপর রান্নাঘরে গিয়ে কফি বানিয়ে ছাদে চলে গেলাম। সন্ধাবেলার এই পরিবেশ টা আমার কাছে অনেক ভালোলাগে। ইচ্ছে করে ডানা মেলে আকাশদেশ টা ঘুরে আসি। ছাদে কিছুক্ষণ থেকে আবার রুমে ব্যাক করলাম। বই মেলে পড়তে বসলাম সামনে আমার ২য় বর্ষে উঠার পরিক্ষা। প্রায় ঘন্টাখানেক পড়াশুনা করে বারান্দায় গিয়ে দাড়ালাম। এর মধ্যেই টেবিলের মধ্যে আমার ফোন টা বেজে উঠলো।
কি বিরক্তিকর একটা ব্যাপার এখন আবার কে কল করলো। Unknown number কল রিসিভ করা টা কি ঠিক হবে এসব ভাবতে ভাবতে আবার কল আসলো এবার রিসিভ করলাম।

আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন? (হিয়া)
ওয়ালাইকুম আসসালাম। মাশাল্লাহ। কেমন আছিস তিতুপাখি। (অপরিচিত)
আলহামদুলিল্লাহ ভালো। কিন্তু আপনার পরিচয় টা দিন। কাকে ফোন করেছেন। ( তিতুপাখি তো আমাকে জয় ডাকতো কিন্তু জয় তো পড়াশোনার জন্য বিদেশে চলে গিয়েছিল নিজের মনে এসব ভাবছে হিয়া)
হ্যালো… এই যে তিতুপাখি আছিস নাকি ভাবনার জগতেই কাটাবি সারাজিবন। আগের মতো ভাবুক ই রয়েগেলি তাহলে। ( অপরিচিত হাসছে আর বলছে)
আজব কে আপনি পরিচয় না দিয়ে নিজের মতো বক বক করেই চলেছেন। ( এবার একটু রেগেই বলল হিয়া)
ওরে বাবা আমার তিতুপাখি দেখি রাগতেও জানে। তুই বল আমি কে হতে পাড়ি। (অপরিচিত)
আপনি কি জ…য়। (কাপা কাপা গলায় বলল হিয়া)
যাক মনে রেখেছিস তাহলে আমি ভেবেছিলাম ভুলেই গেছিস আমাকে। (জয়)
আপনি আমাকে কল কেনো দিয়েছেন। (রাগে কান্না চলে আসছে হিয়ার কারন টা একটু পরেই নাহয় জানলেন)
ওমা এতো দেখি আগের মতো কাদুনে বুড়ি এ আছে একটুও পালটাস নি তাই না। তিতু পাখি I’m Sorry দেখ আজকে দেশে আসছি এসেই তুরে কল করেছি। ( কান্নাকন্ঠে জয়)
আপনিও আগের মতোই ইমোশোনাল ই রয়ে গেছেন। (ফিক করে হেসে দিলো হিয়া)
রাগ ভেঙেছে তোর। (জয়)
আমার জন্য কি নিয়ে এসছিস বল আগে। (হিয়া)
অনেক কিছু তুই কথার বিয়েতে আসবি তো। (জয়)
হু কাল আসবো। (হিয়া)
ফাইনালি কাল তুরে দেখতে পারবো জানিস কথা তুরে দেখতেই দিতেছে না। একটা ছবি ও দেখতে দেয় না কতো চেষ্টা করলাম। ঘুষ ও দিবো বলছি তার একটাই কথা সামনাসামনি দেখে নিবি। (জয়)
ভালো করছে। দেখবো কেমন মনে রাখছিস আমাকে। (হিয়া)
ওকে। দেখা যাবে। (হিয়া)
আচ্ছা তাহলে কাল দেখা হবে। আব্বু আসার কথা আজ নিচে গিয়ে দেখি আসলো কিনা। (হিয়া)
আল্লাহ হাফেজ। (জয়)
আল্লাহ হাফেজ। (হিয়া)

জয় আমার ছোটবেলার খেলার সাথী। আমাদের ছোটবেলা টা আমরা একসাথে কাটিয়েছি সুখ দুঃক্ষ সব ভাগাভাগি করে নিতাম আমরা। আমার পরিবারে আমাকে যতোই অবহেলা অপমান করতো জয়ের পরিবার আমাকে ততো বেশি ভালোবাসতেন। জয়ের মা আমাকে কখনো জয়ের থেকে আলাদা করে দেখে নি। জয় ছোট বেলায় পড়াশোনার জন্য লন্ডন চলে যায়। যাওয়ার সময় আমাকে একটাবার বলে পর্যন্ত যায় নি। তাই আমি জয়ের সাথে রাগ করে এতোদিন কথা বলিনি। জয় অবশ্য মাঝেমাঝে আমাকে কল করতো। আমি নিকেই রেসপন্স দেখাই নি। যাইহোক এবার আমি নিচে যাই এতোক্ষণে হয়তো আব্বু ও চলে এসেছে।
________________________________________________________________

ড্রয়িংরুমে এসে দেখি সবাই আড্ডা দিচ্ছে একমাত্র আমি বাদে। রাগ চড়ে গেলো মাথায় তাই ঘুড়ে চলে আসছিলাম তখন আব্বু ডাকলেন……..
Princes আব্বির সাথে কথা না বলেই চলে যাচ্ছিলে যে। (আব্বু)
এসে একটাবার খুজ নিয়েছেন। সামনে এসেছি বলে কথা বলতে আসছে। হুহ। (মুখ ভেংচিয়ে বলল হিয়া)
তুমি তো ফোন কলে ব্যস্ত ছিলে। (আব্বু)
বলি আমার ফোন কল আগে নাকি আমার আব্বিজান আগে হ্যা। (গাল ফুলিয়ে হিয়া বলল)
হুম বুঝলাম কিন্তু ফোনের অপরপাশের ব্যক্তিটি যদি আমার মেয়ের পুতুলখেলার সাথী হয় তাহলেও কি বিরক্ত করা যায় বলেন আমার আম্মিজান। (আব্বু)
জয়কে আমার ফোন নাম্বার তাহলে তুমি দিয়েছ। (হিয়া)
হুম কি করবো বলেন আপনার বন্ধু আমার অফিস অব্দি চলে গিয়েছে আপনার ফোন নাম্বারের জন্য। (আব্বু)
ভালো তো। আচ্ছা শুনো তোমার আর মামুর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে আজ। (হিয়া)
কি সারপ্রাইজ হিয়া মা আমাদের কি বলা যাবে। (মি. শরিফ)
উহু পরে এখন তোমার গুণধর ছেলেকে ফোন করে বলো বাসায় আসতে আমার খিদে লেগেছে খুব। (হিয়া)
আচ্ছা মামনি আমি কল করছি। (মি. শরিফ)
আর ফোন করতে হবেনা আমি চলে এসেছি। (পেছন থেকে রায়হান)
আসছে নবাবজাদা সারাদিন বাহিরে টই টই করে ঘুরে বেড়ানো ওনার কাজ। (হিয়া)
আমাকে নিয়ে তোর ভাবতে হবে না আগে নিজেকে নিয়ে ভাব বুঝলি। (হিয়ার মাথায় গাট্টা মেরে) আসসালামু আলাইকুম ফুফা। ভালো আছেন। (হিয়ার আব্বু কে উদ্দেশ্য করে বলল রায়হান)
ওয়ালাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুমি ভালো আছো। (আব্বু)
আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। আপনারা একটু অপেক্ষা করুন আমি হাত মুখ ধুয়ে ডাইনিং এ আসছি। (রায়হান)
আচ্ছা যাও। (আব্বু)

রায়হান নিজের রুমে চলে গেলো।
_________________________________________________________

প্রিন্সেস কথা মামনির বিয়েতে তুমি যাবে না। (আব্বু)
হ্যা আব্বি কথা বলেছে আমি না গেলে ও নাকি আমার সাথে কথা বলবেনা। (হিয়া)
হ্যা এই নাও কিছু টাকা গিফট কিনা লাগবে। (আমার হাতে ৫হাজার টাকা দিয়ে বলল আব্বু)
আমার কাছে টাকা আছে আব্বি এটা এখন লাগবেনা। (হিয়া)
কখন কিভাবে টাকা প্রয়োজন পরে বলা যায় না রাখো এটা তোমার কাছে। (আব্বু)
You are the best father in the world আব্বু। (হিয়া)
পাগলি মেয়ে। চল খাবার খাবে রায়হান চলে এসেছে। (আব্বু)

আমরা সবাই ডাইনিং টেবিলে বসলাম। মামনি সবাইকে খাবার। পরিবেশন করে দিচ্ছে।
আজ রিড়িয়ানি কি উপলক্ষে। (মি. শরিফ)
আগে খেয়ে বলো কেমন হয়েছে। তারপর সব বলছি। (মামনি)
বিড়িয়ানি টা কিন্তু অনেক মজা হইছে আম্মু। কিরে হিয়া খাওয়া শুরু কর। না খেয়ে নখ কামড়াচ্ছিস কেনো। (রায়হান)
হু খাবো। বিড়িয়ানি কি ভালো হয় নি মামু। আব্বু চুপচাপ খাচ্ছ যে খারাপ হলে ফেলে দাও। (মন খারাপ করে বলল হিয়া)
রান্না টা কে করেছে। সেলিনা। (আব্বু বলল)
হিয়া রান্না করেছে দুলাভাই। (মামনি)
হিয়াকে তুমি রান্নাঘরে যেতে দিলে কেনো। (গম্ভিরভাবে বলল মি. শরিফ)
না মানে হিয়া জোর করেছিল খুব আমি দিতে চাই নি। (মামনি)
রান্না ভালো হয় নি তাই না মামনি অন্য কিছু করে দাও সবাইকে আমি রুমে যাই। (হিয়া)
আম্মিজান আমার পাশে একটু বসেন তো। (আব্বু)
হুম। (আমি)
জানেন আম্মিজান আজকে আমি অনেক খুশি। ( এক লোকমা আমার মুখের সামনে ধরে বলল আব্বু)
কেনো আব্বু। (হিয়া)
আগে খাবার টা মুখে নাও। তারপর বলছি। (আব্বু)
হুম। ( খাবার তো ঠিকি আছে মনে মনে ভাবলাম আমি)
খাবার টা অনেক ভালো হয়েছে। আর আমার খুশির কারন টাও তুমি আমার আম্মিজানের প্রথম করা বিরিয়ানি আমার ভাগ্যে ছিল এটা ভেবে। তুমি কি জানো আমি তোমাকে কতোটা ভালোবাসি। আমার আম্মিজান আজ রান্না করেছে করেছে এটা ভাবলেই তো মন জুড়িয়ে আসে আমার। জানো আম্মিজান রান্না টা অনেক ভালো হয়েছে। (আব্বু)
I Love You আব্বিজান। ( আব্বুকে জরিয়ে ধরে বললাম। আমিমি)
আব্বিজান আসাতে মামু কে কারো চোখে লাগেনা। ( মি. শরিফ)
মামু আমার তো সবার আদর চাই বুঝেছ। আরর তোমার ছেলেকে দেখো বসে বসে গিলছে শুধু আমাকে চোখে দেখেনা জেনো। (আমি)
তুরে দেখে আমি কি করবো। (রায়হান)
এতো কষ্ট করে রান্না করলাম এখন সবাই আমাকে খাওয়ায় দিবে বুঝেছ। (আমি)
হুম আসেন মহারাণী। (রায়হান)

খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবাই ঘুমাতে চলে গেলো।
_____________________________________________________

সকালবেলা কি হয়েছে সেটা আগামি পর্বে জানবেন…

চলবে………

অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
আইরিন সুলতানা
পর্বঃ ১০

সকালবেলা হিয়া আজানের শব্দে ঘুম থেকে উঠে অজু করে নামাজ আদায় করে কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করে। তারপর হিয়া নিচে যায় নিচে গিয়ে দেখে মামনি অলরেডি নাস্তা বানাতে শুরু করে দিয়েছে। হিয়া রান্নাঘরে গিয়ে চুলায় কফির জন্য পানি বসতে দিয়ে টেবিলের উপরে বসে চুপ করে। কিছুক্ষণ পর মামনি বলে..
আজ এতো তাড়াতাড়ি ঘুম ভাংলো কিভাবে আমার হিয়ামনির। (মামনি)
নামাজ পরে কোরআন তেলাওয়াত করার পর আর ঘুম আসেনি মামনি তাই নিচে এলাম। (আমি)
বাহ খুব ভালো করেছো। তোমার আব্বু আর মামু ঘুম থেকে উঠেছে কিনা দেখে এসো আমি কফি করে দিচ্ছি তোমাকে। (মামনি)
আচ্ছা ঠিক আছে মামনি। (আমি)
আমি আব্বুর রুমে উকি দিলাম..
Princes উকি দিচ্ছিলে কেনো রুমে এসো। (আব্বু)
নামাজ পরেছিলে আব্বিজান। (আমি)
হ্যা আম্মিজান পড়েছি। আব্বিজানের জন্য চা নিয়ে আসবে। (আব্বু)
নিচে এসো আমি মামু কে ডেকে দিয়ে চা দিবো। (আমি)
আচ্ছা তুমি যাও আম্মিজান আমি আসছি। (আব্বু)

আমি মামুর রুমে উকি দিয়ে দেখি মামু মনযোগ দিয়ে বই পড়ছে।
মামু আসবো। (আমি)
হ্যা হিয়ামনি আসো। কিছু বলবে। (মি. শরিফ)
মামু ফজরের নামাজ আদায় করেছিলে আজ। (আমি)
হ্যা পড়েছি তো। (মি. শরিফ)
চলো নিচে চলো আব্বিজান নিচে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। (আমি)
আচ্ছা চলো একসাথে যাই। (মি. শরিফ)

নিচে এসে আব্বিজান আর মামুকে বললাম কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো আমি চা নিয়ে আসছি।
মামনি চা বানানো হইছে কি আব্বিজান আর মামু চা চেয়েছে। (আমি)
এইতো হয়েছে। নিয়ে যা সবার জন্য আর তোর কফি রেডি একসাথে আড্ডা দে কিছুক্ষণ আমার রান্না শেষ হতে অল্প বাকি। নাস্তা রেডি হলেই আমি টেবিলে দিয়ে দিচ্ছি। (মামনি)
আচ্ছা। ( ট্রে হাতে মিয়ে ড্রয়িংরুমে চলে আসলাম)
চা হাজির। আব্বিজান আপনি কি আমাকে নিয়ে বাসায় যাবেন। (আমি)
না আম্মিজান আমাকে ঢাকা জেতে হবে আজ তোমাকে একাই যেতে হবে। (আব্বু)
একা ছাড়বো নাকি আমি। রায়হান দিয়ে আসবে হিয়ামনি কে। (মি. শরিফ)
গাড়িতে উঠায় দিলেই হবে। (আমি)
কলেজে যাবে না আজকে। (আব্বু)
অবশ্যই। কলেজে না গেলে ছুটি নিবো কিভাবে। (আমি)
আচ্ছা রেডি হয়ে এসো নাস্তা করে তারপরে কলেজে যাবে। (মি. শরিফ)

আমি উঠে রুমে চলে আসলাম আব্বিজান আর মামু কি নিয়ে কথা বলছিল একটু সিরিয়াস ভাবে। আমি আর ওসবে পাত্তা না দিয়ে শাওয়ার নিলাম তারপর কলেজ ড্রেস পরে ভাইয়ুর রুমে গেলাম ভাইয়ু কে ডাকতে। ভাইয়ু কে ডেকে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে দিয়ে আমি রুম টা একটু মানুষ করলাম। তারপর একসাথে নাস্তা টেবিলে আসলাম। সবাই আমাদের দিকে একটু অন্যরকমভাবে তাকিয়ে আছে তাই আমি বললাম…
এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো সবাই। (আমি)
না আম্মিজান তেমন কিছুনা তোমাকে সুন্দর লাগছে তো অনেক তাই আর কি। (ভেবাচেকা খেয়ে বলল আব্বু)
ও আচ্ছা চলো নাস্তা শুরু করো। মামনি আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিবে প্লিজ আমি কি নিবো ভেবে পাচ্ছি না। (নাস্তা করতে করতে বললাম আমি)
কোথায় যাবি তুই। (একটু বিচলিত হয়ে বলল রায়হান)
আমার একটা বান্ধবীর বিয়ে তাই সেখানেই যাবো। (খেতে খেতে বললাম আমি)
আমাকে আগে বলার প্রয়োজন মনে করিস না নাকি এখন। (রায়হান)
তুমি বাসায় থাকো যে তোমাকে বলবো। (আমি)
কার সাথে যাবি। (রায়হান)
তুমি গাড়িতে তুলে দিবে। (আমি)
আচ্ছা বিকেলে রেডি হয়ে থাকিস। (রায়হান)
হুম। (আমি)
________________________________________

আমি কলেজে চলে আসলাম। কলেজ গেটের কাছে আসতেই দেখি আমার জান্টুস গুলা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। কলেজে আমার নতুন কয়েকজন বন্ধু হয়েছে তবে ছেলে বন্ধু একটাও টিকে নি। ভাইয়ুর কড়া আদেশ ছেলেবন্ধু থাকা চলবেনা। গেটের সামনে আসতেই ইসা বলল..
এতোক্ষণে সময় হলো কলেজে আসার তাই না। (রেগে আমার দিকে তাকিয়ে বলল ইসা)
আব্বিজান আসছেন কালকে তাই দেড়ি হয়েছে। (আমি)
আচ্ছা চল কলেজে ঢুকি বাহিরে দাঁড়িয়ে ঝগড়া না করে। (ঊর্মী)
আমরা গিয়ে ক্লাসে বসলাম..
তানহা বলল – ছুটি নিবি কেনো হিয়া।
আমার ছোটবেলার খেলার সাথীর বিয়ে আর একজন বিদেশ থেকে এসেছে তাই যেতেই হবে। কথা বলেছে আমি না গেলে সে আর আমার সাথে কথা বলবে না। (আমি)
তোকে ছাড়া আমরা থাকবো কি করে। আমাদের গ্রুপে একজন ছাড়া বাকিরা অচল জানিস না। (কান্না মাখা কন্ঠে বলল আদিবা)
আব্বে আমি কই মইরা যাইতেছি নাকি শুধু ৩ দিনের ব্যাপার মরা কান্না করতেছিস কেনো। (হিয়া)
হিয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া।। ( নিলা&শান্তা)
ওকে সরি সরিইইইইইই🙉🙉 আর হইবো না আফারা আইজকার লাইগা মুড়ে মাফ কইরাদেন। আমি আন্নেগো কাছে খমা চাইতাছি। (আমি)
আমার এমন কথা শুনে সবাই ফিক করে হেসে দিলো। আমি হাত বাড়াতেই ৫ টা পেত্নি আমার উপর হামলে পড়লো। (জড়াইয়া ধড়ছে আন্নেরা উলডা পালডা কতা ভাবেন কে)

তারপর আমরা ৬ জন ক্লাস করে অনেক আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে মামনির সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম। মামনি বলল রেডি হয়ে নিতে আমিও সাদা ফতুয়া আর লাল লং স্কার্ট পড়ে হালকা সাজ নিলাম চোখে আইলায়নার দিয়ে মোটা করে কাজল দিলাম আর ঠোটে হালকা গোলাপি লিপবাম দিলাম। ব্যস আমার সাজ শেষ এবার ব্যাগ নিয়ে ভাইয়ুর রুমে গেলাম গিয়ে দেখি ভাইয়ু চুল স্টাইল করে ব্রাশ করছে।..
ভাইয়ু আমি রেডি চলো এখন যাই নইলে আমার পৌছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে তো। (ভাইয়ু আমার দিকে ফিরতেই আমি ফিদা কালো শার্ট কালো জিন্স পরে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক রাজকুমার)
রায়হান মনে মনে ভাবছে – এ আমি কাকে দেখছি এটা হিয়া নাকি কোনো পরি হালকা সাজ আর কাজলে যে কাউকে এতো সুন্দর লাগে হিয়াকে না দেখলে জানতেই পারতাম না আমি। এই মেয়েটা আমাকে পাগল করে দিবে আজ। কন্ট্রোল রায়হান কন্ট্রোল। নিজেকে কন্ট্রোল করে রায়হান হিয়ার সামনে যায় আর। বলে
এতো সেজেছিস কার জন্য। পেত্নির থেকে কম লাগছেনা। (রায়হান)
চলো দেড়ি হয়ে যাচ্ছে। (আমি)
হুম চল যাই। (রায়হান)

আমরা নিচে গিয়ে মামনির থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে গেলাম। রাস্তায় আমি ভাইয়ুর সাথে একটাও কথা বলি নি। অভিমান করেছে আমার মন। কথা বলবো না আর হুহ দেখি কি করতে পারে আমাকে। এসব একমনে ভেবে যাচ্ছিলাম এসব তখন ভাইয়ু আমার হাত ধরে। আমার সারা শরির আলাদা এক শিহরনে শিহরিত হলো। আমি চোখ তুলে ভাইয়ুর দিকে তাকালাম সে Don’t Care ভাব নিয়ে আমার হাত ধরে রাস্তা পাড় হচ্ছে। আমি ভাইয়ুর চোখের দিকেই তাকিয়ে থাকলাম কিন্তু সে আমার দিকে একটাবার ও আমার দিকে তাকালো না। রাগে চোখ ফিরিয়ে নিলাম আমি। রাস্তা পাড় হয়ে ভাইয়ু আমাকে গাড়িতে বসিয়ে দিলো আর বলল…
একদম লক্ষি মেয়ে হয়ে থাকবি দুষ্টুমি করবি না। আর জলদি চলে আসবি আমি তুর অপেক্ষায় থাকবো। (অনেকগুলো চকলেট হাতে দিয়ে) ৩ দিনের জন্য এই চকলেটে চলবে নাকি আড়ও এনে দিয়ে যাবো। (রায়হান)
নাহ আর লাগবেনা। তুমি নিজের খেয়াল রেখো। খাবার খাবা ঠিক মতো। আমি খুব জলদি চলে আসবো। টা টা (আমি)
গাড়ি ছেড়ে দেয় আমি পেছনে ফিরে ভাইয়ুর দিকে তাকিয়ে থাকি ভাইয়ু ইশারা করে বায় দিলে আমি মুচকি হেকে সামনের দিকে ফিরে বসি।
__________________________________________

প্রায় ৪৫ মিনিট পর আমি কথাদের বাড়ির সামনে এসে দাড়াই ভিতরে খুব হইচই হচ্ছে বিয়ে বাড়ি বলে কথা। আমি বাড়ির বেল বাজাই একটা ছেলে দরজা খুলে দেয় ছেলেটাকে দেখে আমার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি উদয় হয়। তারপর কি হবে সেটা নাহয় আগামী পর্বেই জানবেন……

চলবে…………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here