True_Love_Never_Breaks,Part_24,25 last

#True_Love_Never_Breaks,Part_24,25 last
#writer_Fayeja_Sultana_Piu
#Part_24

আরিয়ান এখন পুরাপুরি সুস্থ।পিউর সেবাই সে একমাসেই একদম টিক হয়ে গেছে।এই দিকে ইসু আর ঈশানের বিয়ে হয়ে গেছে।বিয়েতে আরিয়ান পিউ আর মাইশা ও গেছে।পিউ ইসুর বাবাকে ইসুর প্রয়োজন সম্পর্কে বুঝিয়েছে কাজে কর্মে।পরে গিয়ে ইসুর আব্বু ইসুকে মেয়ে বলে ভালবাসা টা প্রকাশ করল।এতদিন যা করেছে তা নিয়ে ইসুর থেকে ক্ষমা চাইল ইসু ও বাবার এই ভালবাসায় অনেক খুশি।পিউ কে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ দিল।বিয়ে শেষে পিউ আরিয়ান মাইশা যখন চলে যাচ্ছে তখন পথের মধ্যে আয়ানের সাথে দেখা হল।মাইশা আয়ানকে দেখে ডাকতে লাগল।

আয়ান তার নাম ধরে কাউকে ডাক দিতে শুনে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল সেই দিনের ঐ পাগলি মেয়েটা সাথে পিউ আর আরিয়ান।প্রথমে যেতে না চাইলেও পিউ কে দেখে আয়ান সেদিকে গেল।আয়ান যাওয়া মাত্রই মাইশা বলল।

মাইশাঃ পিউ এই সে আমার হ্যান্ডসাম ভুত।

পিউঃ কি বলছিস এসব তুই।

মাইশাঃ হুম এর সাথে তো সেদিন ধাক্কা খেয়ে মনের মাঝে লাড্ডু ফুটিছিল।

পিউঃ ওহহ।

আয়ানঃ এই চুপ মেয়ে।শুন আমি তোমাকে কখনো ভালবাসব না।কারন এই পিউকে দেখতেছ ও আমার ভালবাসা।

মাইশাঃ হুর,পঁচা কথা বলেনা।দেখ পিউ আর আরিয়ান কি সুখে আছে একে অন্য কে পেয়ে।তুমি শুধু শুধু ওদের মাঝে ডুকে ডিস্টার্ব করতেছ।

আয়ানঃ তবুও পিউ আমার।

মাইশাঃ দেখ ওকে তুমি কখনো পাবেনা।ওরা একে অন্য কে ভালবাসে।আর সত্যি কারের ভালবাসাই মৃত্যু ছাড়া কেউ আলাদা করতে পারেনা।তেমনি তুমি আমাকে না বাসলেও তোমাকে আমরন ভালবেসে যাব।

পিউঃ দেখ আয়ান।এতদিন তোমাকে ভালবাসার কেউ ছিলনা তাই আমাকে ভালবাসার জন্য এমন করেছ।আসলে তুমি আমাকে ভালবাস না।আরিয়ানের উপর জেতার জন্য তুমি আমাকে পেতে চাচ্ছ।বাট জানো কি ভালবাসাই হার জিত থাকেনা।ভালবাসা তো ভালবাসাই।মাইশা তোমাকে অনেক ভালবাসে তুমি ওকে ভালবেসে আপন করে নাও।আর আমি বন্ধু হিসেবে না হয় তোমার থাকব।

এই বলে পিউ আরিয়ান কে নিয়ে চলে গেল।

মাইশাঃ হেই দাড়া আমি যাব তো।

পিউঃ তোর হ্যান্ডসাম ভুতের সাথে আস যা ভাগ।

মাইশাঃ আরে ও কি আমকে নিবে নাকি?

পিউঃ নিবে নিবে।
পিউর গাড়ি চলে গেল।মাইশা আচতে আচতে আয়ানের পাশে এসে দাড়ালো।আয়ান পিউর কথা গুলো ভাবতেছে।পাশে মাইশা কে দেখে বলল আস গাড়িতে পৌছে দিয়ে আসি।

মাইশাঃ হুম।

মাইশা আর আয়ান গাড়িতে গিয়ে বসল।গাড়িতে কেউ একটা কথা বলতেছেনা।কিছুক্ষণ পর মাইশা বলে উঠল।

মাইশাঃ আমি তোমাকে ভালবাসি কিন্তু তোমকে ভালবাসতে হবে এমন কোন কথা নাই।তবে কি জানো তো আয়ান একজন ভালবাসলে অন্য জন না বাসলে অনেক কষ্ট লাগে হয়ত তুমি তা জানো।প্লিজ আয়ান পিউ কে ছেড়ে দাও ওরা অনেক সুখে আছে।প্লিজ তোমার হাত ধরে বলতেছি। আয়ানের হাত ধরে। আর আমাকে ভালবাসতে হবেনা তুমি অন্য কোন মেয়ে কে ভালবেসে বিয়ে কর আমার কোন অভিযোগ থকবেনা।

আয়ান ভাবতেছে সত্যি তো একজন মানুষের ভালবাসা গ্রহন না করা কত টা কষ্ট সেটা তো আমি পাচ্ছি। আর পিউ তো আরিয়ানের সাথে সত্যি অনেক ভাল আছে।তাহলে কেন শুধু শুধু আমি ওকে ডিস্টার্ব করতেছি না না আর করবনা।

গাড়িতে থাকা অবস্থায় মাইশার বাড়ির এড্রেস নিয়েছিল।মাইশার বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামালো আয়ান।মাইশা গাড়ি থেকে নেমে বলতে লাগল।

মাইশাঃ তোমকে বাড়িতে আসতে বললে আসবেনা জানি।তবুও বলল আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।ভাল থেক তুমি আর ভেব আমার কথাটা।এই বলে মাইশা চলে গেল।

আয়ান মাইশার কথার জবাবে কোন উত্তর না দিয়ে গাড়ি ব্যাক করে বাড়ি চলে গেল। সোজা রুমে গিয়ে ঝর্ণার নিচে দাড়িয়ে থাকল।পিউ আর মাইশার কথা গুলো ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সত্যি তো ওরা যা বলেছে সব টিক কি করব আমি এতদিনের ভালবাসা ছেড়ে দিব।আরিয়ানের কাছে হেরে যাব।আরে দুর কিসের ভালবাসা পিউ তো আমাকেই ভালবাসেইনি তাহলে কিসের ভালবাসা।আর ভালবাসায় হার জিত নাই সেটা তো পিউ বলল তাহলে ওরা আমাকে লোজার আর বলবেনা।আর মাইশা ও আমাকে ভালবাসে এখন আমি কি করব মাইশা কে কি মেনে নিব।উফ আর ভাবতে পারছিনা।

আয়ান শাওয়ার ছেড়ে খাটে এসে শুয়ে পড়ল সব চিন্তা বাদ দিয়ে দিল এক আরামের ঘুম।

মিম ফোন করল পিউকে।

মিমঃ কিরে তোর কোন খবর নাই।

পিউঃ আমি কি টিভি নাকি খবর পাবি?

মিমঃ বজ্জাত মাইয়া ফাইজলামি রাখ।ইসুর বিয়ে থেকে এসে আর খবর নাই কেন।

পিউঃ আরে জার্নি হয়েছে তাই আরামের ঘুম দিছি।

মিমঃ হারামি তাই বলে একটা কল ও করবিনা।

পিউঃ হয়ছে মা আর কিছু বলিসনা।কি বলবি বল।

মিমঃ দুইটা সংবাদ আছে একটা ভাল আর একটা খারাপ।

পিউঃ ঝটপট বলে পেল।

মিমঃ কোনটা শুনবি আগে।

পিউঃ ওমমমম।আগে খারাপ টা বল।

মিমঃ আমরা ঢাকায় শিপ্ট হচ্ছি।মেরাজের ঢাকায় ট্রান্সপার হয়ে গেছে।

পিউঃ ওহহ।মন খারাপ করে।।আচ্ছা ভাল টা বল।

মিমঃ মেরাজের প্রমোশন হয়েছে আর আমি মা হতে চলেছি।

পিউঃ কি বললি সত্যি তুই। সত্যি আমি অনেক হ্যাপি।বাট আমি তো দেখতে পাবনা মনে হয়।তোরা যদি ঢাকায় চলে যাস তাহলে পিচ্চি টাকে কেমনে দেখব।

মিমঃ যখন হবে তখন তোকে নিয়ে যাব।

পিউঃ আচ্ছা তাহলে হবে।

মিমঃ আচ্ছা রাখি মেরাজ ডাকতেছে।

পিউঃ যা যা এখন থেকে তোকে চোখে হারাবে হাজার হলেও ওর অস্তিত্ব তোর পেটে।

মিমঃ হুম সেটা তো অবশ্যই। দোয়া করিস রে।

পিউঃ হুম আচ্ছা যা জিজু আবার হয়রান হয়ে যাবে ডাকতে ডাকতে।

মিমঃ আচ্ছা যাচ্ছি বাই।
পিউঃ বাই।

চলবে,,,,,,,,,

#True_Love_Never_Breaks
#writer_Fayeja_sultana_Piu
#Part_25/Last part

আয়ান সারা রাত ধরে ভাবলো। শেষে সে একটা ডিসিশন নিল।এর একটা বিহীত আজ করবে ও।তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নিল সে।ব্ল্যাক শার্ট উপরে কপি রং য়ের ব্লেজার।ব্লু রংয়ের জিন্স, ব্লাক সু আর শার্টের বুকে ব্ল্যাক সানগ্লাস ঝুলানো।চুল গুলা হালকা এলোমেলো দেখতে অসাধারণ লাগতেছে।রেডি হয়ে গাড়ি করে মাইশার কলেজের সামনে গিয়ে দাড়ালো।কিছুক্ষণ ওয়েট করার পর মাইশা কে দেখতে পেল আয়ান।দেখে হাত নেড়ে ডাকল মাইশা কে।আয়ান কে দেখে মাইশা আরও একবার ক্রাশ খেল।তবে বেশিক্ষণ খাইতে পারলনা তার আগেই আয়ানের হাতের ইশারা দেখে ওর সামনে গেল।

মাইশাঃ আরে তুমি আজ আমার কাছে। সূর্য কোনদিক দিয়ে উদয় হল।

আয়ানঃ সূর্য টিক জায়গা দিয়ে উদয় হয়েছে। আর আমি কি আসতে পারিনা নাকি।

মাইশাঃ সেটা কখন বললাম।

আয়ানঃ আচ্ছা চল এখন পিউর কাছে।

মাইশার খারাপ লাগল আয়ানের কথা শুনে এত কিছু বলার পরেও পিউ কে চাই আয়ান ভাবতেই চোখের কোণে জল চলে আসে যা আয়ানের চোখ এডায়নি।তবুও আয়ান কিছু বলল না।

আয়ানঃ কি দাড়িয়ে থাকবে নাকি যাবে।

মাইশাঃ তুমি যাও। আমার কাজ আছে।

আয়ানঃকোন বাহানা চলবেনা চল আমার সাথে।

মাইশাঃ আবব,,,,

আর কোন কথা বলতে না দিয়ে আয়ান মাইশা কে গাড়িতে বসাই দিল।সে ডাইভিং সিটে বসে ডাইভিং শুরু করে দিল।কি আর করার মাইশা চুপ করেই রইল।

পিউ দেখ চুতে পারলে অনেক কিছু হয়ে যাবে।

আগে তো চুয়ে দেখ হিহিহি দৌড়াতে লাগল পিউ আর পিছনে আরিয়ান।দৌড়াতে দৌড়াতে এক পর্যায়ে পিউকে ধরে ফেলল আরিয়ান।

আরিয়ানঃ এখন কি হবে জান ওমম ওমম।

পিউঃ কককককি হবে।কিছু না।ভয়ে ভয়ে।

আরিয়ানঃ আরে তোতলাচ্ছ কেন এখনতো কিছু করলামই না।

পিউঃ কককই তো তোতলাচ্ছি হে।আর ভয় পাব কেন হু।

আরিয়ানঃ তাই বুঝি তাহলে তো বলে আগাতে লাগল পিউর আরও কাছে।চোখ তার পিউর ঠোঁটে। আরিয়ানের এমন আগানো দেখে ভয়ে পিউ চোখ বন্ধ করে জামা শক্ত করে ধরল।যেই আরিয়ান পিউর ঠোঁট চুবে তখনি কলিং বেল বাজল।তাতেই পিউর হুঁশ আসল তাড়াতাড়ি আরিয়ান কে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে দরজা খুলতে চলে গেল।

আরিয়ানঃ শিট, কলিং বেল বাজার সময় পেলনা।

আরিয়ানের রাগ মার্কা পেস দেখে পিউ মুখ টিপে হাসতেছে।

আরিয়ানঃ হাসা হচ্ছে তাইনা পরে দেখাবো।

পিউঃ হু দেখা যাবে।

দরজা খুলে দিল।সামনের মানুষ টাকে দেখে অভাক পিউ।

পিউঃ তুমি এখানে।

আয়ানঃ কেন আসতে পারিনা বুঝি।

পিউঃ মানে,,,,,,

আয়ানঃ বন্ধুর বাড়িতে বন্ধু না এসে কে বসবে বলো।

পিউঃ বন্ধু,,, তার মানে তুমি মাইশা কে মেনে নিয়েছ।

আয়ানঃ এখনো নিনি তোমার সামনে নিব বলে।

পিউঃ ওহ আচ্ছা আচ্ছা ভিতরে আস।

আয়ান আর মাইশা ভিতরে আসল।আয়ান আরিয়ানের সাথে হ্যান্ডসেক করল।

আয়ানঃ আমাকে ক্ষমা করে দাও আরিয়ান আমি আসলে তোমার উপর অনেক অন্যায় করেছি।

আরিয়ানঃ আরে কিসের অন্যায় আমি সব ভুলে গেছি।তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছো সেটাই অনেক।

আয়ানঃ আসলে তোমরা অনেক ভাল।জানো কি ছোট থেকে মা ছিলনা শাসন করার জন্য বাবা সবসময় ব্যবসা নিয়ে থাকত। বাবার আদর ও কপালে থাকলনা ১২ বছর বয়সে বাবা ও চলে গেল।এরপর বাড়ীর কেয়ারটেকার দের কাছে বড় হলাম ওদের কাছে বড় হলেও সমসময় নিজের কথা মত চলছি।ভুল করলে শুধরিয়ে দেওয়ার মত কেউ ছিলনা যখন বড় হলাম ব্যবসা টা নিজে দেখতে লাগলাম আর বড় হয়েই প্রথম মেয়ে ছিল পিউ।ওকে ডিস্টার্ব করতে লাগলাম ভালবাসি ভালবাসি বলে প্রতিনিয়ত জ্বালাচ্ছিলাম।আসলে ভালবাসা কি সেটাই তো আমার জানা ছিলনা। তার উপর আমাকে ভাল না বেসে আরিয়ান কে ভালবাসল।রাগ উঠে গেছিল ইগো হার্ট হয়েছিল তখন মাথায় একটা কথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল যে করে হোক পিউকে চাই।তাই আরিয়ানের এক্সিডেন্ট করিয়ে সরিয়ে দিতে চাইছিলাম।কিন্তু সেটা তো হল না।সেই এক্সিডেন্ট এ মাইশার সাথে ধাক্কা আর এরপর থেকে ওর ভালবাসা জাহির করা। মাইশার বলা প্রত্যক কথা আমাকে ভাবিয়েছে ওর কথায় বুঝলাম সত্যি আমি অনেক বড় ভুল করতেছিলাম।তো আরকি এখন সব বাদ দিয়ে মাইশার ভালবাসা টা কেই আপন করে নিব।

আয়ানের কথা শুনে সবার চোখে পানি টলমল।সত্যি আয়ানের জীবনে এমন কষ্ট আছে কেউ জানতনা।ও যে এতিম মা বাবা নাই সেটা জানতনা কেউ। আসলেই তো এখানে আয়ানের দোষ নাই আর এখন তো সে নিজের ভুল বুঝতেও পেরেছে তাই কিছু বলার প্রশ্নই আসেনা।

মাইশাঃ সত্যি তুমি আমাকে মেনে নেবে আয়ান।কান্না করে।

পিউঃ আরে কান্না করতেছিস কেন এই খুশির দিনে।

আরিয়ানঃ আমি কিন্তু মানবনা মাইশা আর আয়ানের সম্পর্ক। আর জিজু হিসেবে আমার কথার অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

পিউঃ কি বলছ কি তুমি হে মানবেনা কেন।

মাইশাঃ জিজু কি বলছ এসব।

আয়ানঃ আরিয়ান আমি তো ক্ষমা চাইলাম তবে মানবেনা কেন বলো।

আরিয়ানঃ আরে কুল কুল।তুমি কি প্রপোজ করেছো নাকি যে মেনে নিব।

পিউঃ উফ তুমি তো ভয় পাইয়ে দিছ।আসলেই তো প্রপোজ ছাড়া হবে কেমনে।

মাইশাঃ জিজু তুমি তো আমকে মারার ধান্দা করছিলা।যাই হোক প্রপোজ কর মিস্টার হ্যান্ডসাম ভুত।

আয়ানঃ আমি তো প্রপোজ করতে জানিনা।অসহায় পেস করে।

পিউঃ আরে যেমন জানো তেমন ভাবে কর।

আয়ানঃ আচ্ছা।

আয়ান পিউদের বাসার একপাশে একটা ফুলের টবের কাছে গিয়ে একটা প্লাস্টিকের গোলাপ নিয়ে মাইশার সামনে হাটু গেড়ে বসে ফুলটা ওর সামনে আগাই ধরে বলতে শুরু করল,,

দেখ আমি প্রপোজ কেমনে করে জানিনা তবুও তোমার কাছে জানাতে চাই আমার মনের না বলা কথা।তোমার সেই প্রথম দিনের চাহনি দেখে কিছু টা বিরক্ত হলেও ভাল লাগছিল।তোমার পাগলামো কথা গুলো আমার মন কেডেছিল।তোমার বলা প্রত্যেক কথা আমাকে তোমাকে ভাবিয়ে তুলত।জানিনা কবে কি করে তোমাতে দুর্বল হয়ে গেলাম পরিশেষে বুঝতে পারলাম তোমার প্রতি আমার ভালবাসা।জানি আমি একজন গুন্ডা মাফিয়া কিন্তু তোমার ভালবাসায় আমি এক স্বচ্ছল মানুষ হয়ে তোমার প্রেমে সারাজীবন কাটাতে চাই।চাই প্রতি মুহূর্তে হ্যান্ডসাম ভুত বলার কাউকে।চাই টিক চুল এলোমেলো করার জন্য তোমাকে।হবে কি তুমি আমার ছোট্ট কুটিরের রাণী হবেকি আমার না হওয়া প্রিন্সেস এর জননী।বল হবেকি আমার জীবন সঙ্গী।

আয়ানের এই রকম প্রপোজ দেখে মাইশা অভাক হয়ে গেল তাড়াতাড়ি হাত দিয়ে ফুল নিয়ে নিল হ্যা বলে।আয়ান উঠে জড়িয়ে ধরল মাইশা কে।

পিউঃ উহু উহু আমরা ও আছি এখানে।

পিউর কথায় দুজনেই লজ্জা পেয়ে ছেড়ে দিল।

🌺🌺
মিম আর মেরাজ ঢাকায় চলে গেল যাওয়ার আগে পিউকে জড়িয়ে কান্না করেছিল অনেক আর বলে গেছে বেবি হওয়ার টাইম কাছে আসলে পিউ কে নিয়ে যাবে।

সাদুর একটা ফুটফুটে ছেলে হয়েছে।সাদু আর মনিরের খুশি দেখে কে।আজ মনে হল ওদের পরিবার পূর্ণ হল।বড় করে অনুষ্ঠান করল ছেলের আকিকার উদ্দেশ্যে।সেখনে পিউরা সবাই উপস্থিত ছিল।ছেলে নিয়ে সাদু অনেক সুখেই সংসার করতেছে সাথে তো মনিরের ভালবাসা আছেই।

ইসু আর ঈশান লন্ডন চলে গেল সাদুর ছেলের অনুষ্ঠানের দিন রাত্রেই।ইসু তো যেতে চাচ্ছিল না।কারন এখানে ওর ফ্রেন্ড বাবা মা সব। ঐখানে গেলে একলা হয়ে যাবে।তবুও ঈশানের প্রতি ভালবাসা আর ওর চিন্তার জন্য যেতে হল।

আয়ান আর মাইশার ভালবাসার কথা পিউ মাইশার বাবা কে বলল। মেয়ের পছন্দই ওনার পছন্দ বলে মেনে নিল তাদের সম্পর্ক। আয়ানের সাথে দেখা করে বিয়ের ডেট ও ফিক্স করে ফেলল।এক সপ্তাহ পরে।

আরিয়ানের বাবাও পিউর বাবাকে বিয়ের ডেট দেওয়ার জন্য বলল।ওনারা ও পরের সপ্তাহ মানে আয়ান আর মাইশার বিয়ের দিন ডেট ফিক্স করল।মানে একই দিনে একই জায়গায় দুটি বিয়ে।

অবশেষে সেই দিন আসল সবাই বিয়ে নিয়ে মত্ত বউ সেজে পিউ আর মাইশা বসে আছে।

কিছুক্ষণ পর আওয়াজ আসল বর এসেছে বলে।আরিয়ান আর আয়ান দুজনেই দুলার ভেসে আসল।
বিয়ের কাজ আয়ান আর মাইশার সম্পন্ন হল।

যখন আরিয়ান আর পিউর বিয়ে হতে যাবে তখন পিউ উঠে দাড়ালো।
পিউর উঠা দেখে সবাই ভয় পেয়ে গেল।
মিজান তাঃ কি হল মা উঠে গেলি কেন।

সিহাব চৌঃ কিছু কি হয়েছে মা বল।

পিউঃ আমি এই বিয়ে করবনা।

আরিয়ানঃ হোয়াট।মানে কি পিউ।

সবাই ভয় পেয়ে গেল।হৈ-হুল্লোড় করতে লাগল।

পিউঃ বিয়ের আগে আমাকে আবার সেই প্রথম দিনের মত প্রপোজ করতে হবে তাহলে ই বিয়ে করব।

আরিয়ানঃ আল্লাহ তুমি কি পাগল তার জন্য এমন করবে আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।

পিউঃ হিহিহি।আচ্ছা করে পেল ঝটপট।

আরিয়ানঃ হুম

🌺🌺
অনেক সাধনার পরে ফিরে পেলাম আমার রাণীকে
পেতে হয়েছে অনেক কষ্ট অনেক আলোকে
ভালবাসি বলা হলেও হওয়া হয়নি এক
আজ সেই ভালবাসার মানুষ সামনে আমার দেখ।

বুঝাতে পারবনা বুকের হাজারো হাসি
বলতে পারবনা হয়তবা ভলবাসি
যদি বল দাও তুমি প্রান আমারো লাগি
নির্দ্বিধায় লুটিয়ে দিব প্রান খানি

আজ সেই দিন হবেকি জান
হবে কি তুমি পূর্ণ ভাবে আমার
অপেক্ষায় আছে মোর হৃদয় খানি
কবে পাবে তোমার সেই বলা উত্তরের
বলে দাও এক হব আমরা দুজন
মিলন হবে দুটি হৃদয়ের।

আরিয়ানের প্রপোজ শেষে সবাই হাত তালি দিল।পিউ ও হ্যা বলে আবার বসে পড়ল।অতঃপর বিয়ে হয়ে গেল।এখন ওরা যে যার ঘরে মানে আর কি কোথায় আপনারা জানেন না।ওদের ডিস্টার্ব করা টিক হবেনা যে যার বাসাই চলে যান।

আল্লাহ হাফেজ।।

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here