Wednesday, April 15, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প কিছু ভালোবাসার রং এমনও হয়🌹 কিছু_ভালোবাসার_রং_এমনও_হয়🌹,Part—4

কিছু_ভালোবাসার_রং_এমনও_হয়🌹,Part—4

#কিছু_ভালোবাসার_রং_এমনও_হয়🌹,Part—4
#Susmita_Jana

উনি একটা জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে তুলে নিলেন। আমার চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে আসে। আমি বুঝতে পারছি না কি হতে চলেছে!! আমি জানি না উনি আমার সাথে কি করবেন!! আমি কাঁপা কাঁপা গলায় উনাকে বলি,,,

— আ…আপনি..কি.. করত.. করতে.. চাই.. ছেন..?

উনি মুচকি হেসে আমার পেটে চুমু দেন। আমি উনার মাথাটা হাত দিয়ে ধরতে গেলে উনি আমার হাতটা খপ করে ধরে ফেলেন।

— তুমি এই হাত দিয়ে ওদের সাথে হাত মিলিয়েছিলে তাই না!

উনার হাতে থাকা মোমবাতির মোম গলে আমার হাতে পড়তে থাকে। আমি সামান্য চিৎকার দিলেই উনি আমার মুখটা চেপে ধরেন।

— চুপপপ,,, চিৎকার কোরো না । সবে তো দু ফোঁটা মোম পড়েছে এখনো অনেক পড়বে। তবে হাতে না পেটে! হ্যা জান কাউকে তো জানানোর প্রয়োজন নেই আমি তোমার সাথে কি করি। তাই সেটা আড়ালেই থাক।

আমার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিলেন। আমি কেঁদে ফেললাম। উনি মোমবাতিটা আমার পেটের কাছে নিয়ে আসলেন। দু ফোঁটা মোম পড়তেই আমি চিৎকার করে উঠি।

— তুমি জানো স্বামী স্ত্রীর রুমটা অনেক রহস্যময় হয়! সবাই জানে সেখানে কি হয় কিন্তু আসলে কি হয় সেটা তো শুধু স্বামী স্ত্রীই জানে!!

আমি অনবরত কেঁদে চলেছি আর উনি হাসছেন। খুব জ্বলছে আমি আর সহ্য করতে না পেরে চোখ বন্ধ করে ফেলি।

🥀
🥀
🥀
🥀

চোখ মেলে তাকাতেই শরীরে ব্যাথা অনুভব করি। এতোটাই ব্যাথা যে চোখে পানি চলে আসে। উঠতে পর্যন্ত পারছি না আমি। আমি হাতটায় দেখি লাল দাগ বসে গেছে। পেটটায় দেখছি চামড়া উঠে লাল হয়ে আছে তাকানো যাচ্ছেনা। আমি বিছানার চাদর খামচে ধরে উঠে বসলাম।

শরীরে পানির ছিটা পড়তেই আমি চিৎকার করে উঠলাম। ফ্লোরেই শুয়ে ছটফট করছি। আমি এখানে থাকবো না।

ওয়াশরুম থেকে কোনরকমে শাড়িটা পেঁচিয়ে পরে বেরিয়ে আসলাম। এখন আর হেঁটে বিছানার কাছে যাওয়ার মতোও শক্তি নেই। দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। হঠাৎ দেখলাম উনি এলেন। দরজাটা সশব্দে বন্ধ করে আমার কাছে আসলেন। মানুষটার মুখটা দেখতেও ঘেন্না হচ্ছে আমার। আমি চোখটা বন্ধ করে কান্না করতে থাকি।

— কি হল জান! সামান্য এইটুকুতেই হাঁপিয়ে গেলে! এখনো যে অনেক কিছু করার বাকি আছে!

উনি আমার কানে কানে কথাগুলো ফিসফিস করে বলে উঠলেন। আমি চোখ খুলে তাকাই। স্থির গলাতেই বলি।

— আর কি কি করবেন? এক্ষুণি করে ফেলেন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। মুক্তি দিন আমায়!

আমি কান্না করে কথাগুলো বলে ওনার সামনে মেঝেতে বসে পড়ি। উনি আমার হাত ধরে টেনে বুকে তুললেন।

— জান তুমি তো আমার কাছে সারাজীবন থাকবে। তাহলে একেবারেই সব কষ্ট দিবো কেন? একটু একটু করে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে তোমায় মেরে ফেলবো।

আমি উনার শার্টের কলার টেনে ধরি।

— মেরেই যখন ফেলবেন তখন বিয়ে কেন করলেন? আমাকে যখন এতোই অপচ্ছন্দ ছিলো তখন বিয়েটা না করতেই পারতেন? আমাকে মেরে ফেলবেন কেন? আমি চলেই যাচ্ছি ।

আমি কলার ছেড়ে চলে আসতে গেলে উনি আমার হাতটা টেনে ধরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরেন।

— এখান থেকে বের হওয়া এতোটাও সহজ না মিসেস তানভীর তনুজা আহমেদ! আমি না চাইলে তুমি আমার জীবন থেকে কেন এই বাসা থেকেও বেরোতে পারবা না!

— আপনার কথায় না কি? আমি আজি আমার বাবার বাসায় চলে যাবো। থাকবো না আপনার মতো জানোয়ার এর সাথে। আর আমি আপনার আম্মুকে গতকালের সব ঘটনা বলবো।

আমি উনার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চলে আসতে গেলেই, উনি আমার হাত ধরে টেনে এনে বিছানায় ফেলে দেয়। আর তখনই উনার ফোন বেজে উঠে।

— একটা আওয়াজ করবি না একদম চুপ থাকবি। জ্বী আম্মু তোমার আদরের তনু মা ঘুম থেকে উঠেছেন। কথা বলো এই নাও…।

উনি স্পিকার দিয়ে মোবাইলটা আমার সামনে ধরেন। আর আমার পেটের চোট দেওয়া জায়গাতে হাত রাখেন।

— হ্যা তনু মা। আমি আর তোর বাবা কয়টা মাসের জন্য সিঙ্গাপুর আসছি। এখানে আমার বাবা আছেন উনি খুব অসুস্থ। তোদের বিয়েতেও আসতে পারলো না। হঠাৎ করেই আসার প্রোগ্রাম করেছি। সকালে ভাবলাম তোকে জানাবো। কিন্তু আমার এই পাগল ছেলেটা বললো তুই ঘুমাচ্ছিস। আর ও তোকে কোনো ভাবেই জাগাতে চায় না।

— ও, হ্যা মা আমি ঘুমাচ্ছিলাম। মা আপনাকে কিছু বলতে চাই,,।

কথাটা বলার সাথে সাথেই আমার পেটের ক্ষতটায় উনি আঙুল চেপে ধরলেন আর আমি জোরে চিৎকার করে উঠলাম। উনি মুখটা চেপে ধরলেন আর চোখের ইশারায় বোঝালেন আমি যেনো চালাকি না করি।এদিকে আমার চিৎকার শুনে শাশুড়ী মা ব্যস্ত হয়ে পরেছেন।

— তনু মা কি হয়েছে তোর? তুই ঠিক আছিস তো? এই ভীর বৌমার কি হল রে!

— আরে আম্মু কিছু হয়নি গো। তোমার বৌমা আমার জন্য নাস্তা তৈরি করছে। আর শশা কাটতে গিয়ে হাতটা একটু হালকা কেটে গেছে তাই।

— ও ভীর কি বলিস! বৌমার হাত কতোটা কেটেছে! ও ঠিক আছে তো?

তানভীর আমাকে চোখের ইশারায় উত্তর দিতে বলছে। আমি অনেক কষ্টে কান্নাটা বুকের ভিতর দমিয়ে নিই।

— হ্যা …ম.. মা.. মা আমার হাত খুব একটা কাটেনি। আপনারা সাবধানে যাবেন। নিজেদের খেয়াল রাখবেন মা।

— তুই তোর খেয়াল রাখিস মা। আর আমার ছেলেটার খেয়াল রাখিস। আচ্ছা মা আমি এখন ফোন রাখি। ফ্লাইট ছাড়বে আমি পৌঁছে তোদের আবার কল দিবো। ভালো থাকিস।

লাইনটা কাট হয়ে যায়। আমি এবার চিৎকার করে কেঁদে ফেলি।

— তাহলে জান এবার তুমি কি করবে? আম্মুকে বলবে না? আর বাবার বাসায় কখন যাবে?

— আমি থাকবো না আপনার সাথে। আমার ভাইয়াকে কল দিব যাতে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যায়।

আমি কথাটা বলতেই উনি আমার গলাটা টিপে ধরেন।
.
.
.
.
চলবে….. …
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here