কিছু_ভালোবাসার_রং_এমনও_হয়🌹,Part—5

#কিছু_ভালোবাসার_রং_এমনও_হয়🌹,Part—5
#Susmita_Jana

আমি কথাটা বলতেই উনি আমার গলাটা টিপে ধরেন।

— আমি বললাম তো জান আমি না চাইলে তুমি এই বাসা থেকে বেরোতে পারবে না। তুমি আমার বিয়ে করা স্ত্রী। মৃত্যু ছাড়া কোন শক্তি আমাদের আলাদা করতে পারবে না জান।

উনি আমার গলাটা ছেড়ে দেন। আমি ধাক্কা দিয়ে উঠে বসি। উনি আমাকে পুনরায় ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে দেন। আমি কিছু বলার আগেই উনি আমার ঠোঁট কামড়ে ধরেন। আমি ব্যথায় কুঁকড়ে উঠি। উনি আমার বুক থেকে আঁচল সরিয়ে দিতে গেলে, আমি উনার হাত দুটো ধরে কেঁদে ফেলি।

— প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।

উনি নিজের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত। আমি চিৎকার করে কাঁদছি। উনার একটুও মায়া হলো না।

🥀
🥀
🥀
🥀

চোখে মেলে তাকিয়ে দেখি চারদিক অন্ধকার তবে এটুকু বুঝতে পারছি আমি রুমেই আছি। ওই লোকটার করা পাশবিক অত্যাচার এর কথা মনে পড়ে যায়। আমি ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকি।শরীরটা অসাড় হয়ে আছে। উঠার ক্ষমতা আমার নেই। মাথাটা ভীষণ ভারী লাগছে। আমি যে বেড সাইডের টেবিলে থাকা আলোটা জ্বালাবো সেই ক্ষমতাও আমার নেই। চোখটা ঝাপসা লাগছে। খুব কষ্ট হচ্ছে, মনে হচ্ছে এর থেকে মৃত্যুটা খুব আরামদায়ক। সব কিছুতেই গরম অনুভব করছি। এটুকু বুঝতে পারছি আমার জ্বর হয়েছে।

খুব জানতে ইচ্ছা করছে আজ আমার এমন অবস্থার জন্য কে দায়ী? ? ওই মানুষটা নাকি আমি নিজেই?? যাকে সব কিছু দিয়ে ভালবাসলাম সেই এভাবে হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গেল!! টানা দুইটা মাস আর কোন যোগাযোগ রাখে নাই। কেন এমন করলে তুমি??

শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেছে।না পারছি উঠে বসতে আর না পারছি চিৎকার করে কাঁদতে। চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে পড়তে এক সময় সেও থেমে গেছে। এক অজানা রকম যন্ত্রণা হচ্ছে যা আমি প্রকাশ করতে পারছি না।

আচমকা আলো জ্বলে গেলো। আমি তাকিয়ে দেখলাম তানভীর রুমে এলো। আমার দিকে না তাকিয়েই ওয়াশরুমে চলে গেলো।

আলো জ্বালাতেই আমি নিজেকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আমার ক্ষত বিক্ষত শরীরটা অর্ধ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে আছে। রক্ত গুলো শুকনো হয়ে গেছে যা ঘসা দিলেই ঝরে পড়বে। আমি এতোটাই দূর্বল হয়ে আছি আমার শরীরটায় যে একটা কাপড় দিয়ে ঢাকবো সেই ক্ষমতাও আমার নেই।

উনাকে দেখলাম তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে বেরিয়ে আসলেন। তোয়ালে টা বিছানায় ছুঁড়ে ফেললেন। তোয়ালের এক ঝটকা আমার চোখে পড়লো আর তার সাথে সাথে গরম আগুনের মতো তরল কিছু গড়িয়ে এলো।

— এই এমন নোংরা অবস্থায় পড়ে আছো কেন? যাও ফ্রেশ হয়ে এসো। আর হ্যা ফ্রেশ হয়ে এসে ব্লাক কফি বানিয়ে দিবে।

উনি আমাকে কথাগুলো বলে কানে মোবাইল নিয়ে ব্যালকেনীতে চলে যান।

আমি নোংরা অবস্থায় পড়ে আছি! হুম আমার এই নোংরা অবস্থা তো উনিই করেছেন। হয়তো আট দশ ঘণ্টা আগে করে গেছেন। আমি জানোয়ার বলে ছিলাম বলে। সত্যিই অনেক নোংরা হয়ে পড়ে আছি আমি। আমার গা গুলাচ্ছে। কিন্তু আমার যে উঠার ক্ষমতা। আর এখন চোখ দিয়ে শুধু গরম তরল অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে আমার গলায়। আমাকে যদি এখন বরফের চাঁই এর মধ্যে শুইয়ে রাখা হতো তাহলে আমি খুব আরাম পেতাম।

উনি কিছুক্ষণ পর রুমে এসে আমাকে ধমকে উঠলেন।

— আরে কি হল তোকে আমি কি বলে গেলাম? পনেরো মিনিট হয়ে গেলো এখনো তুই শুয়েই আছিস? না নিজেকে পরিস্কার করেছিস আর না আমার কফি নিয়ে এসেছিস?

উনি রাগে ফুঁসছেন, তা উনার চোখে মুখেই ফুটে উঠছে। উনার এই ভয়ার্ত চেহারা দেখে আমি ভয় পাচ্ছি কিন্তু আমি উঠতেই পারছি না। মনে হচ্ছে আমি কোন আঠার মধ্যে চিপকে আছি।

আমি শুধু উনাকেই দেখছি, উনার হাত পা। উনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। বলার জন্য খুব চেষ্টা করছি কিন্তু আমার ঠোঁটে যেনো কেউ সেলাই করে দিয়েছে। অসহ্য ব্যথা অনুভব করছি কিছুতেই ঠোঁট জোড়া আর আলাদা হচ্ছে না।

— হোয়াট দ্যা হেল,,, এই শোন একটা কথা আমার দুবার বলতে ভালো লাগে না আমার। মাথা গরম হয়ে আছে আমার কফি বানিয়ে নিয়ে আয়।

উনি আমার হাতের আঙ্গুল ধরে টেনে তুলে বসান। আমার চারপাশটা ঘুরছে মনে হচ্ছে কেউ আমাকে দোলায় বসিয়ে দিয়েছে। আমার চোখ দুটো ঝাপসা লাগছে আমি আবার শুয়ে পড়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি।

— আরে এই তোর কি হয়েছে বল তো? মার খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছে না কি? দেবো না কি কানের নিচে দু চারটা থাপ্পড়!

উনি কথাগুলো বেশ রেগেই বলছেন। হয়তো এক্ষুণি মারতে শুরু করবেন। আমি কি করবো না পারছি মুখ থেকে আওয়াজ বের করতে আর না পারছি উঠে বসতে। উনি এবার আমার হাত ধরে তুলতে গেলে থেমে যান। আমার কপালে গলায় হাত রাখেন।

— তোমার শরীর এতো গরম! জ্বর হয়েছে সেটা তো বললেই হয় মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকার কি আছে । বাসায় তো ঔষধ আছেই খেয়ে নিতে পারতে। যাও ঔষধ খেয়ে নাও ।

আমি নিজের মনেই হেসে উঠি । যেখানে আমি মাথা তুলতেই পারছি না সেখানে ঔষধ কি করে খাবো! অনেক ক্ষণ হয়ে গেলো আমার কোন রেসপন্স না পেয়ে উনি আমার মুখে জোর করে ঔষধ ঢুকিয়ে পানি খাইয়ে দিলেন।ঔষধ খাওয়ার পর আমার শরীর আরও বেশী খারাপ লাগছে। গা গুলিয়ে উঠছে মনে হচ্ছে এক্ষুণি বমি উঠে আসবে, আর ঠিক তাই হল। মুখের ভিতর টা তেতো হয়ে গেল।

— ইয়াক! হোয়াট ইজ দিস,,, কি করলে উঠে যেতে পারলে না?

আমি এবার জোরে কেঁদে ফেলি। ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলি,,,

— আ. ম. আমার.. শরীর.. টা.. ভী.. ষণ.. খারাপ। আম.. মা..কে.. এক.. একটু.. সাহা.. সাহায্য.. করুন.।

— এই তুই চুপ করতো। নিজেও নোংরা হয়ে আছিস সাথে এই জায়গাটাও নোংরা করলি। এই তাকা আমার দিকে, সামান্যতম জ্বর হয়েছে। জ্বর কি আর কারুর হয় না এতো ন্যাকামি করার কি আছে!
আধঘন্টা পর আমি ফিরে আসছি এসে যেনো দেখি সবকিছু পরিস্কার হয়ে গেছে।

উনি বেরিয়ে চলে গেলেন। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। ইচ্ছে করছে কারুর সাহায্য পেতে একটু ভালো সেবা পেতে। আমার মাকে খুব মনে পড়ছে।আমি বিছানার চাদর টেনে উঠার চেষ্টা করি কিন্তু পারি না। বেশ কিছুক্ষণ ওভাবেই শুয়ে থাকি। কিন্তু আমাকে যে উঠতে হবে, উনি বলে গেছেন তো সবকিছু পরিস্কার চাই। আমি উঠে দাঁড়িয়ে ফ্লোরে বসে পড়ি। বিছানার চাদর টেনে ফেলে দিই। সাইড টেবিলে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াই। দেওয়াল ধরে গিয়ে আলমারি থেকে বিছানার চাদর বের করি। জায়গাটা পরিস্কার করে বিছানার চাদরটা কোন রকমে পেতে দিয়ে মেঝেতেই লুটিয়ে পড়ি।

🥀
🥀
🥀
🥀

হয়তো এখন মাঝরাত্রি কারুর কথার আওয়াজে কানে পেয়ে চোখ খুলি। আমি মেঝে থেকে উঠে বসে বিছানার দিকে তাকাই। তানভীর কোথায়! মুখ ঘুরিয়ে দেখি উনি সোফায় বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কারুর সাথে ফোনে কথা বলে রাখলেন কি কথা হলো তা স্পষ্ট শুনতে পেলাম না। হঠাৎ উনি এসে আমার চুলের মুঠি টেনে ধরে।

— কি শুনলি বল?

.
.
.
.
চলবে… ,..
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here