#নাম: এলাকার বড় আপু
#পার্ট: ৫
#লেখক: Osman
👉নিলার অনেক ভয় করছে। কারন সে দুই সপ্তাহ এদিক দিয়ে আসে না। আগে এসব রাস্তা তার কাছে মাঠ মনে হয়েছে। আর এখন কেমন জানি লাগছে কেমন যেনো ভুতুড়ে। নিলার কলিজায় পানি নাই । শরীর যেনো কাঁপছে। পিছন থেকে কে জানি ডাকছে
“এই যে শুনছেন”। পিছনে তাকিয়ে দেখে মুরাদ।
নিলা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো।
নিলা: তুই এখানে এতো রাতে এখানে?
মুরাদ: স্মোক করতে বাইরে বের হয়েছিলাম।
নিলা: তুই আমাকে ঐদিন এতো জ্ঞান দিয়ে এখন কিনা তুই নিজেই স্মোক করস।
মুরাদ: তোমাদের মেয়েদের স্মোক করা ঠিক না।
নিলা: কেনো?
আমি: তোমাদের পেটে বাচ্চা আসবে এর আগেই যদি এসব খেয়ে সমস্যা করে রাখ । তাহলে বুঝতেই পারছো বাচ্চার কি হবে।
নিলা: তুই আমাকে বাচ্চার স্বপ্ন দেখাচ্ছিস। আচ্ছা বলতো আমাকে কে বিয়ে করবে?
মুরাদ: কে জানি? বাদ দেন আপনাকে কিন্তু দারুণ দেখাচ্ছে।
নিলা: আর শুন সিগারেট খাস না। ধন্যবাদ।
মুরাদ: এই ছোট্ট একটা ছেলেকে আপনি ধন্যবাদ দিচ্ছেন।
নিলা: আমাকে একটু হেল্প করবি?
মুরাদ: আপনার যেকোনো হেল্প করতে রাজি। বলেন কি হেল্প?
নিলা: আমাকে একটু এগিয়ে দে। আমার ভয় করছে।
মুরাদ: অবশ্যই। চলেন।
👉নিলা আর মুরাদ পাশাপাশি হাঁটছে। একটু হাঁটার পর নিলাকে মুরাদ বলল।
মুরাদ: আপু একটা কথা বলি রাগ করবেন নাতো।
নিলা: বল।
মুরাদ: মারবেন নাতো।
নিলা: না বল।
মুরাদ: আমার না বড় আপুদের অনেক ভালো লাগে।
👉নিলা মনে মনে এটায় চায় । কোনো মতে মুরাদের কাছে বিয়ে বসতে পারলেই হলো।
নিলা: হুম ভালো। তাহলে জোৎস্নাকে বিয়ে করে ফেল।
মুরাদ: ধুর ।
নিলা: তাকে ভালো লাগে না।
মুরাদ: না। আচ্ছা একটা প্রশ্ন আমার মনের ভিতর খুব জালাচ্ছিলো।
নিলা: কি?
মুরাদ: আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন। কোনো যায়গায় গিয়েছিলেন।
নিলা: বাড়িতেই ছিলাম।
মুরাদ: আপনাকে তো দেখি নাই।
নিলা: বের হয়ছিনা। চুপ কর । চুপ চাপ হাঁট। আর ভালো লাগছে না।
👉মুরাদ চুপ হয়ে যায়। নিলা মিটি মিটি হাসছে। নিলা বুঝতে পারলো মুরাদ তাকে অনেক সম্মান করে।
কিছু ক্ষণ হাঁটার পর মুরাদ আবার বলল।
মুরাদ: আমার না বড় আপুদের হাত ভালো লাগে।
নিলা: তো আমি কি করবো?
মুরাদ: আপনার হাতরা……
নিলা কোনো চিন্তা ভাবনা না করেই ঠাস ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো দূইটা । নিলা বলল।
নিলা: তর সাহস কি করে হয় আমার হাত ধরতি?
👉মুরাদ গালে ধরে নিলার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মুরাদ দাঁড়িয়ে যায় কিছু না বলে । চুপ চাপ গিয়ে রাস্তার ফুটপাতে গিয়ে বসলো।গালে ধরে মাথা নিচু করে বসে রইলো। নিলা আবার বলল।
নিলা: কিরে যাবি নাকি? নাকি আমি একাই চলে যাবো।
মুরাদ কিছু বলছেনা মাথা নিচু করে বসে আছে।
নিলা বলল।
নিলা: তুই থাক আমি যাই।
👉এই বলে নিলা হাঁটা ধরলো। নিলা বুঝতে পারলো না কাজটা সে কি করেছে? চোখের পলকেই সব ঘটে গেলো। নিলা হাঁটছে আর তার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। আর ভাবছে এটা কি করলাম আমি? যাকে কিনা আমি বিয়ে করার স্বপ্ন দেখি। তাকে চড় মারলাম। আসলে নিলা এমন কথার সাথে পরিচিত না। আর আগে নিলাকে প্রেম করার যেই প্রস্তাব দিয়েছে সেই চড় খেয়েছে। তাই ভুলে এমন কথা শুনে আপনি আপনি হাত চলে যায় মুরাদের গালে। নিলা ভুল বুঝতে পারে। পিছনে তাকিয়ে দেখে মুরাদ এখনো বসে আছে। নিশ্চয় কাঁদছে। নিলা আবার হাটা ধরলো মুরাদের দিকে।
👉আমি নিলাকে এই অবস্থায় পেয়ে অবাক হয়ে যাই। আমি হারে হারে টের পেয়েছি আমার কথা গুলো কাজে লেগেছে। সে জন্য নিলাকে দুই সপ্তাহ দেখা যায় নাই। আমি ভাবি নাই নিলার সাথে এখানে দেখা হবে। নিলার এমন পরিবর্তন আমার অনেক ভালো লাগছে। আগে কেমন দেখা যেতো?আর এখন সত্যি এক নারি দেখা যাচ্ছে। যে কেউ তাকে কাছে পেতে চাইবে। যখন আমাকে নিলা আপু চড়টা দেই। তখন আমি ভাবছিলাম ফাজলামো করছে পরে ঠিকই দিবে হাত ধরার জন্য। কিন্তু না নিলার ভিতরের আসল রুপ প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। নিলা আপুর কথা গুলো তীরের মতো বিদ্ধ করে আমার বুকে। দেখি নিলা চলে যাচ্ছে। আমি মনে মনে নিলা আপু যাসনা আমাকে সান্তনা দিয়ে যা। নাহলে আমাকে আর পাবি না। বুকের কষ্টে আমার চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি পড়লো । আর সে হেটে চলে যাচ্ছে। মন চাচ্ছে এখনো তাকে ধরে জোড় করে তার মনের ইচ্ছা মত লিপ কিস করতে। কিন্তু সেটা বোধহয় আর সম্ভব না। এখন যদি সে আর না আসে তাহলে আমাকে আর জীবনেও পাবে না। আবার আড় চোখে তাকিয়ে দেখি নিলা আপু আসছে। এসে আমার পাশে বসলো। বলল
নিলা: কিরে তর কি হয়েছে ? চড়টা বেশি লেগেছে।
আমি: হুম।
নিলা: হাত ধরবি ?
আমি কিছু বলছি না। নিলা আপু হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল।
নিলা: নে ধর।
👉আমার সামনে নিলা আপু ও দুই হাত । সেদিকে আমার কোনো ইন্টারেস্ট নাই। আমার ইচ্ছা হলো নিলা আপুর দুই ঠোঁট । লাল লিপস্টিকে ঠোঁট দুটো থেকে যৌবন বেরিয়ে আসতে চাইছে। মন চাচ্ছে সেই যৌবন গুলো আমি লুফে নেই। আমি ধরছি না দেখে নিলা আপু আবার বলল
নিলা: ধরবি নাকি। হাত ব্যাথা করছে শীতে। মনে হচ্ছে বরফ হয়ে গেছে।
👉আমি কোনো চিন্তা না করেই নিলার মাথা ধরে। আমার ঠোট এগিয়ে দিলাম নিলা মুখ সরিয়ে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি মাথা ধরাতে নিতে পারছে না। অবশেষে নিলার ঠোঁটের সাথে আমার ঠোট লেগেই গেলো লাল টকটক ঠোঁটটা। এতো নরম আপুর ঠোঁটটা। এভাবে ৪৫ সেকেন্ডের মতো নিলার ঠোঁটে আমার ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখলাম। তারপর ছেড়ে দেই। এবার আবার এক চড়। বলল
নিলা: তর কাছে আশাটাই আমার ভুল হয়েছে। এটা কি করলি তুই?
আমি: এটা হলো আপনার শাস্তি।
নিলা: কিসের শাস্তি।
আমি: আমাকে চড় দেয়ার।
নিলা: এখন তকে এমন শাস্তি দিবো।যা তুই কল্পনা করতে পারবি না।
এই বলে মোবাইল ফোন বের করলো।
আমি: কাকে কল দিচ্ছেন।
নিলা: আসলেই দেখবি।
আমি: কাওকে কল দিয়েন না। আপনার কি ভালো লাগে নাই?
নিলা: কেমন জানি? অন্যরকম একটা ফিলিংস।
👉আমি বুঝতে পারলাম আর একটু থাকলে এতক্ষনে নিলা আপুকে ঠান্ডা করা কঠিন হয়ে যেতো।
আমি বললাম
আমি: চলেন আপনাকে বাসায় দিয়ে আসি ।
নিলা: চল। শুন আজ থেকে আমাকে তুমি করে বলবি।
আমি: ওকে। আপু।
👉কিছুক্ষণ হাঁটার পর । হঠাৎ কুকুরের চিৎকারে আপু আপু ভয় পেয়ে একেবারে আমার পাশাপাশি হাঁটছে।আরেক চিৎকার দেয়াতে আপু ভয় পেয়ে আমার হাত ধরে আমার শরীরের সাথে ঘেঁষে ঘেঁষে হাঁটছে। আমার হাত ধরাতে আমি উত্তেজিত হয়ে চলেছি। কি করবো ? আরেকটু ঘেষলেই লজ্জায় পড়ে যাবো। আস্তে আস্তে হেটে আপুর বাড়ির সামনে আসলাম। আমি বললাম।
আমি: যাই।
নিলা: ভিতরে আয়?
আমি: ইমপসিবল।
নিলা: হুম । (হেসে বলল)
আমি: তাহলে আমি যাই।
নিলা: আজকের রাতরা আমার স্বরনীয় হয়ে থাকবে।
আমি: এই রাতে কি এমন হলো ? স্বরনীয় হয়ে থাকবে।
নিলা: আজকে তুই আমাকে অন্য একটা জগত থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে এসেছত।
আমি: হুম। চাইলে আবারো দিতে পারি।
নিলা: সোজা নিজের রাস্তা দেখ।
👉আমি চলে আসলাম।ঘরে ঢুকলে মা অনেক বকা দিলো। এসাইনমেন্টের কথা বলে আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। আধঘন্টা পর বের হলাম। এসে বিছানায় শুয়ার সাথে ঘুমাই যাই।
চলবে…….