তুলি_কোথায়,৪র্থ_পর্ব (শেষ)

#তুলি_কোথায়,৪র্থ_পর্ব (শেষ)
#Misk_Al_Maruf

একটু ভালোভাবে খেয়াল করতেই বুঝতে পেলাম চিৎকারের আওয়াজটি আর কারো নয় বরং আমার একমাত্র চাচাতো বোন এবং হবু স্ত্রী তুলির গলার চিৎকার। আমার বুকের হৃৎকম্পন এতোটাই বেড়ে গেলো যে মনে হচ্ছে কেউ যেনো আমার বুকে ঢোল পিটাচ্ছে। কিন্তু এই গভীর সুরঙ্গে কেই বা তুলিকে আটকে রাখলো? এতসব ভাবতে ভাবতেই আমি অজস্র কৌতূহল নিয়ে কুয়ার ভিতরে সুরঙ্গের দিকে পা বাড়ালাম। ইতোমধ্যে চিৎকারের আওয়াজ অনেকটাই নির্জীব হয়ে গেছে।
সুড়ঙ্গ দিয়ে বেশ কিছুটা পথ যেতেই একটি মাঝারি আকারের বেজমেন্টের মতো পাতাল রুম দেখে আমার কৌতূহলের সীমা রইল না। হয়তো আগের কালের জমিদাররা এই গোপনীয় রুমে নিজেদের মূল্যবান জিনিস লুকিয়ে রাখতো।
ঘরের এককোণে মিটমিট করে আলো জ্বলছে। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ বাদেই হয়তো আলোটা নিভে যাবে। টর্চের আলোটি ঘরের সেই কর্ণারে নিক্ষেপ করতেই অর্ধ মুমূর্ষু তুলিকে দেখে আমার সমস্ত শরীর জুড়ে এক শীতলতায় ছেয়ে যায়। আমি একমুহূর্ত দেরী করলাম না বরং তুলি বলে এক চিৎকার দিয়েই শিকলে বাঁধা তুলির কাছে দৌড়ে গেলাম।
অনেকটা কষ্ট করেই তুলি আমার দিকে একপলক তাকালো এরপর দুর্বল শরীরের ভার সইতে না পেরে সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে গেলো। ওর শরীরের দিকে তাকিয়ে যতটুকু বুঝলাম নিশ্চয়ই ওকে এখানে আটকে রেখে ওর সাথে কেউ খারাপ কিছু করেছে। কিন্তু কার সাথে ওর এতো শত্রুতা? কেইবা এমন করলো ওর সাথে? সেটা এখনো আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে তুলি, এখনো জ্ঞান ফেরেনি। ওর চারপাশে আমাদের পরিবারের সবাই বেশ অসহায় দৃষ্টিতে বসে আছে আবার কেউবা দাঁড়িয়ে আছে। আমার মা কিছুক্ষণ বাদে বাদেই আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলছেন,
“ওর সাথে কে এমন করলো? এমন নিষ্পাপ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে কি একটুও ভাবলো না?”
আমি মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম,
“তুমি এসব ভেবে এখন কষ্ট পেওনা তো! আমরা ওকে ফিরে পেয়েছি এটাই এখন বড় কিছু। আর কে ওর সাথে এই কাজ করেছে তা এখন ওকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই। ওকে নিয়ে আগে বাড়ি যাই এবং পরিপূর্ণ সুস্থ হোক তারপর ধীরেসুস্থে জিজ্ঞেস করা যাবে। এখন এমনিতেই ওর মানসিক এবং শারীরিক অবস্থা দুটোই খারাপ।”
আমার কথা শুনে সবাই সায় দিলেও মায়ের কান্না কোনোভাবেই যেনো থামছে না। সত্যি বলতে আমার চাচী আমাকে যেমন তার নিজের সন্তানের থেকেও বেশি ভালোবাসেন ঠিক তেমনি আমার মা-ও আমাদের ভাইবোনদের থেকে তুলির প্রতি তার ভালোবাসাটা অনেকটাই বেশি।
কিছুক্ষণ বাদেই একজন ডাক্তার এসে বললেন,
“কয়েকদিন যাবৎ ঠিক মতো খাবার না খাওয়ার কারণে এবং পানির অভাবে ওনার শরীরে প্রচুর পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে।”
পরক্ষণেই থেমে ইতঃস্তত ভঙ্গিতে তিনি সকলের সামনেই বললেন,
“আর আমরা যতটুকু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বুঝতে পেরেছি যে উনি যৌ*ন নিপীড়নের স্বীকার হয়েছেন।”
ডাক্তারের কথা শুনে আমি তেমন প্রতিক্রিয়া দেখালাম না, কারণ এটা আমি প্রথমেই আঁচ করতে পেরেছি। কিন্তু আমার বাবার দিকে তাকাতেই খেয়াল করি তিনি এই কথা শুনে কেমন যেন হাঁসফাঁস করছেন। পরক্ষণেই উৎকন্ঠা নিয়ে বলেন,
“কি বলছেন এসব?”
ডাক্তার নির্লিপ্ত স্বরে বললো,
“আপনাদের এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্য। কিন্তু এখন ওনার মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ, ওনার সাথে কেউ বেশি কথা বলবেন না।”
এই বলেই তিনি তুলির পালস চেক করে কিছুক্ষণ বাদেই প্রস্থান করলেন। ডাক্তার চলে যেতেই বাবার দিকে তাকিয়ে খেয়াল করি তার শরীর বেয়ে ঘাম ঝরছে, হয়তো ভাতিজির এমন পরিস্থিতিতে নিজের মনকে কোনোভাবেই সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। ইতোমধ্যে ডাক্তারের কথা শুনে সকলের চোখেমুখে অসহায়ত্বের অবয়ব আরো বেশি ফুটে উঠেছে। কিন্তু খেয়াল করলাম আমার ছোটভাই মুনিম কি মনে করে যেনো আস্তে করে কেবিন থেকে বের হয়ে গেলো। আমি আর এই বিষয়টিকে তেমন পাত্তা দেইনি।

মধ্যরাত…
হাসপাতালের কেবিনে তুলি শুয়ে আছে। কেবিনের আরেক খাঁটে আমার চাচী আর নিচেই আমি একটি গামছা বিছিয়ে শুয়ে আছি। এই কদিনে যেই ধকল গেছে তাতে আজ বোধহয় বেশ মনের মতোই ঘুম হবে। যদিও আমার নরম বিছানা ব্যতীত তেমন ঘুমের অভ্যাস নেই কিন্তু তবুও তুলি কে খুঁজে পাওয়ার আনন্দে আজকের ঘুমটা যে মনের মতোই হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার বাবা-মা সহ পরিবারের অন্যসব সদস্যদের আমি বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি আগেই। কারণ এখানে এতো বিশৃঙ্খলা করার কোনো মানে নেই, রাত পোহালেই তারা তাদের আদুরে কন্যাকে দেখতে পাবে।
হঠাৎই গভীর রাতে পেটে খানিকটা ব্যাথা অনুভূত হওয়ায় যখনি ওয়াশরুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিবো তখনি খেয়াল করলাম দরজার ওপাশ থেকে কোনো একটি ছায়া যেন আস্তে করে সরে গেলো। সামান্য কৌতূহল জাগলেও সেটাতে আর মাথা না ঘামিয়ে তৎক্ষনাৎ ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালাম। সমস্যা হচ্ছে যেই কেবিনে উঠেছি সেটায় আবার কোনো দরজার ব্যবস্থা নেই, যদিও একটি পর্দা টাঙানো আছে। তাই যে কেউ চাইলেই কেবিনের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে।
কেবিনের গেট থেকে বেড়িয়েই কি মনে করে যেন ওয়াশরুমের খুব কাছে এসে থমকে দাঁড়ালাম। মনের মধ্যে এক অজানা সন্দেহ উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে বারংবার তাই আর দেরী না করে একটু আড়াল হয়ে ওয়াশরুমে না গিয়ে আমাদের কেবিনের দরজার দিকে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ করে খেয়াল করি আবছা আলোতে এক মানবসত্ত্বা চুপি চুপি আমাদের কেবিনে প্রবেশ করছে। এই মধ্যরাতে হাসপাতালের সমস্ত লাইট বন্ধ থাকায় মানুষটির চেহারা আমার দৃষ্টিগোচর হলো না। লোকটি কেবিনে ঢুকতেই আমিও অজস্র কৌতূহল নিয়ে আস্তে করে দরজার সামনে চলে আসি এবং হালকা করে পর্দাটি সরাতেই খেয়াল করি পকেট থেকে কি যেনো বের করে খাঁটে শুয়ে থাকা তুলির ঝুলানো স্যালাইনের বোতলে ইনজেকশন দিয়ে মেশানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি সেই সুযোগ না দিয়ে আচমকাই ভিতরে ঢুকে লাইট জ্বালিয়েই শক্ত করে সেই মানবসত্ত্বাকে আঁকড়ে ধরলাম। সাথে সাথে মুখ থেকে রুমালটি সরাতেই আমি থমকে যাই।

সকাল হয়েছে…
তুলির-ও ঘুম ভেঙেছে অনেক আগেই। এখন অনেকটাই সুস্থ অনুভব করছে আমার হবু অর্ধাঙ্গিনী। তুলি যখন আমার সাথে কিছুটা স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা শুরু করে তখন আমি ওর কাছে গিয়ে কানে কানে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
“তোমার সাথে এসব কে করেছে? তুমি কি তাকে চেনো?”
আমার প্রশ্ন শুনে তুলি সাথে সাথে কেঁদে দিয়েছিল। আমি যদিও গতকাল রাতেই জেনে ফেলেছি আসল নাটের গুরু কে তবুও শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্যই মূলত ওকে জিজ্ঞেস করা। ওর এভাবে কেঁদে দেওয়াটাও খুব স্বাভাবিক ছিল কারণ ছোটবেলা থেকে যার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলা করেছে কিংবা পড়ালেখা করেছে একসাথে সেই প্রিয় বন্ধু এবং ভাই যদি ওর সাথে এমন কাজ করে সেটা নিশ্চয়ই যেকোনো মেয়ের মনে বিশাল ক্ষত সৃষ্টি করতে যথেষ্ট। আমি স্বাভাবিক কণ্ঠে অস্ফুট স্বরে বলি,
“মুনিম করেছে তোমার সাথে এসব কাজ?”
তুলি যেন নাম উচ্চারণ করার সাহস পাচ্ছে না। হয়তো এই কদিনে ওর সাথে নারকীয় অত্যাচারের কারণেই এক জানোয়ার রূপী চাচাতো ভাইয়ের নাম উচ্চারণ করতে ভয় পাচ্ছে ও। তবুও আমাকে মাথা নাড়িয়ে সায় দিতেই আমি শতভাগ নিশ্চিত হলাম এবং মুহূর্তেই উদঘাটন করে ফেলি সেই জ্বীনের রহস্য।
তুলি নিখোঁজ হওয়ার পর যেভাবে আমার চাচী বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ঠিক সেরকমই আজ আমার মা-ও তার ছেলের এমন কান্ডে কিছুক্ষণ কাঁদছেন আবার অজ্ঞান হচ্ছেন। হয়তো নিজের ছেলের এমন কর্মকাণ্ড তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারউপর যেই মেয়েটাকে তিনি এতো ভালোবাসেন তার সাথেই এমন কাজ! সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

পুলিশ ইতোমধ্যে মুনিম কে থানা হেফাজতে নিয়েছে। আমার মন চাচ্ছিল ওকে তখনি খু*ন করি, কিন্তু যখন ভাবলাম নিজের মায়ের পেটের ভাই তখন কেনো যেনো আমার অন্তর্সত্ত্বা বাঁধা দিয়েছিল এমন কাজ করতে।

বাবা আর আমি বসে আছি পাশাপাশি, তার মুখে কোনো কথাই নেই বরং মুখটা সেই থেকে ভার হয়ে আছে। তবুও কিছুক্ষণ বাদেই তিনি নিরবতা ঠেলে বললেন,
“মুনিম এমন একটি কাজ করবে ভাবতে পারিনি। কিন্তু তুই এসব কিভাবে বুঝতে পারলি? আমাকে একটু খুলে বলতো!”
তিনি এই প্রশ্নটা যে আমাকে করবেনই সেটা আমি অনেকটাই নিশ্চিত ছিলাম। আমিও কিছুক্ষণ থেমে বলি,
“একটা বিষয় খেয়াল করেছিলে শুরুর দিকে? বাড়ির অনেকেই নাকি সেই জ্বীনটাকে দেখেছে কিন্তু তুমি আর মা দেখোনি। আসলে মুনিমের উদ্দেশ্য ছিল চাচা আর চাচীকে নিজের ভূতের অবয়বটি দেখিয়ে তাদের মনে একটি ভয় ঢুকানো যাতে তুলিকে কিডন্যাপ করলে সেটা সরাসরি থানা অব্দি না গিয়ে একটা ভৌতিক বিষয়ের দিকে চলে যায়। আমার মনে হয় ও অনেকদিন যাবৎই এটার প্ল্যান করে রেখেছিল যাতে আমার সাথে তুলির বিয়ে হওয়ার আগেই নিজের স্বার্থ হাসিল করতে পারে। ওদের এই বয়সটাই এমন, এই বয়সে কোনো কিছু করার সময় মাথায় এতোকিছুর চিন্তা আসে না যে এর ভবিষ্যত ফল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। আসলে বড় হওয়ার সাথে সাথে ওদেরকে আলাদা করে দেওয়াটা উচিৎ ছিল কিন্তু আমরা সেটা না করে ভেবেছিলাম ছোটবেলা থেকেইতো দুজন একসাথে বড় হয়েছে তাই এখনও বা একসাথে থাকলে কি সমস্যা?”
এই বলেই আমি সামান্য থেমে যাই। পরক্ষণেই বলি,
“ছেলেটা প্রতিদিন রাতে ভূতের বেশভূষা ধরে ঐ বেজমেন্টে যেতো তুলির জন্য খাবার নিয়ে এবং ওকে অমানবিক নির্যাতন করতো। আর কখনো নিজের জুতা পরে যেতো না বরং তোমার পুরাতন যে মোটা জুতাটি আছে সেটা পরে যেতো যেন আমি ওকে সন্দেহ করতে না পারি। আর সেদিন আমার মাথা ফেটেছিল কেন, জানো? তোমার এই হিংস্র ছেলেকে ধরতে গিয়েই। যদিও একটুর জন্য ওর রুমালটা মুখের ওপর থেকে সরাতে পারিনি, নাহলে আগেই ধরে ফেলতাম ওকে। সুড়ঙ্গটা বেশ নির্জনে হওয়ায় হয়তো আমরা সেটার খোঁজ পাইনি কিন্তু মুনিম কিভাবে যেন খোঁজ পেয়ে গেছিলো। আর তুলি কে উদ্ধার করার পর ও ধরা পরে যাওয়ার ভয়ে কাল রাতে স্যালাইনের সাথে বিষ মিশিয়ে ওকে মেরে ফেলতে চেয়েছে, সেটাতো তোমরা জানোই।”
আমার বাবা অসহায় দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“কিন্তু ও এমন কাজ কেনো করলো? ওতো জানে কদিন পরেই তোর সাথে তুলির বিয়ে আর তাছাড়া তুলি ওর সমবয়সী বোনের মতো।”
আমি মুচকি হেসে বাবাকে বলি,
“তোমার ছেলে হয়তো তুলিকে ভালোবাসতো কিন্তু তুলিকে হারানোর ভয়ে হয়তো ওর মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। ছেলেকেতো ছেড়ে দিয়েছো আর অপার স্বাধীনতা দিয়ে মাথায় তুলেছিলে। আজ তারই ফল এটা।”
বাবা আর কথা বললেন না হয়তো মনে মনে নিজেকেই গালিগালাজ করছেন। কিন্তু আমি তাকেও দোষ দিচ্ছি না পুরোপুরি, শয়তান কাকে কখন বিপথে নিয়ে যায় সেটা বোধহয় খোদাতায়ালা বৈকি আর কেউ জানেন না।

পুকুরের ঘাঁটপারে তুলিকে একা একা বসে থাকতে দেখে আমি এগিয়ে যাই। হয়তো মেয়েটি এতোদিনের নৃশংসতা এখনো পুরোপুরি ভুলতে পারেনি। আমি পাশে বসতেই সামান্য চমকে আমার দিকে তাকায় পরক্ষণেই মুখ ঘুরিয়ে ফের পুকুরের দিকে তাকিয়ে রইলো। যদিও ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি স্বল্পভাষী স্বভাবের কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। আমি সামান্য কেশে বলি,
“তুলি! তোমার শরীরটা এখন কেমন লাগছে?”
অস্ফুট স্বরে সেদিকে তাকিয়েই বলে,
“ভালো!”
ওর একটি শব্দ শুনে আমার হৃদয় গহীনে সামান্য চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হয়। পরক্ষণেই বলি,
“তোমার সাথে আমার কাল বিয়ে হওয়ার কথা ছিল! কিন্তু আমি জানি তোমার মনের অবস্থা একদমই ভালো নেই। এমন একটি অঘটনের পর হয়তো তুমি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে কিনা তাও জানিনা।”
আমার কথা শুনে তুলির কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে পেলাম না বরং পূর্বের অবস্থাতেই বসে আছে একনজরে পুকুরের দিকে তাকিয়ে। আমি ইতঃস্তত ভঙ্গিতে বলি,
“কালকেই আমার অফিসের ছুটি শেষ, কিন্তু আমি চাচ্ছি আজই চলে যেতে।”
এই বলেই পুনরায় থেমে যাই কিন্তু এবারও তুলির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে যখনি চলে আসতে যাবো তখনি অস্ফুট স্বরে মেয়েটি আমাকে ডাক দিলো। আমি হাজারো আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকাতেই সে নির্লিপ্ত স্বরে বলে,
“শুনুন! আমার না এই বাড়িতে আর ভালো লাগছে না, খুব ভয় করে আমার। আমাকে আপনার সাথে নিয়ে চলুন না!”
আমি অবাক চিত্তে তাকিয়ে বলি,
“এমনি এমনি কিভাবে নিয়ে যাবো, বলোতো? বিয়ে না করে একটি মেয়েকে নিজের সাথে রাখলে লোকে কি বলবে?”
তুলি হুট করে বলে,
“তাহলে এখনি আমাকে বিয়ে করে নিয়ে যান, আমি এখানে একটুও থাকতে চাইনা!”
তুলির উক্ত কথা শুনে মুহূর্তেই আমার চোখেমুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে, পুরো শরীর খুশিতে আন্দোলিত হয় বারংবার। আমি হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলি,
“তুমি সত্যি বলছো?”
মেয়েটি এক মায়া মাখা হাসি দিলো শুধু যেই হাসিতে বুঝে গিয়েছি জীবনটা হয়তো একাকিত্বকে বিদায় দিতে ডাকছে আমায়। মেয়েটি উঠে এসে আলতো করে আমার ডান হাতটা আঁকড়ে ধরলো। আমিও কাঁপা আঙ্গুলে নমনীয় হাতটিকে যত্ন সহকারে আঁকড়ে ধরলাম। সেই ছোট্ট তুলির হাত ধরতে আজ ভয় পাচ্ছি কেনো বুঝতে পারছি না। হয়তো সে আমার জীবনেরই একটি অংশ হতে চলছে, হয়তো তাকে আমি খুব ভালোবাসি। এছাড়া আর কিইবা কারণ থাকতে পারে? বলুনতো একবার। আপনাদের কি জানা আছে এর সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর? হয়তো নেই আর থাকবেও না কখনো!

(সমাপ্ত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here