Wednesday, April 15, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প ++ওগো প্রণয়ের নিমন্ত্রণ🌼 ওগো_প্রণয়ের_নিমন্ত্রণ🌼 #লেখিকা:-Nowshin Nishi Chowdhury #১০_পর্ব

ওগো_প্রণয়ের_নিমন্ত্রণ🌼 #লেখিকা:-Nowshin Nishi Chowdhury #১০_পর্ব

#ওগো_প্রণয়ের_নিমন্ত্রণ🌼

#লেখিকা:-Nowshin Nishi Chowdhury

#১০_পর্ব

দুপুরের পরপরই আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘের আগমন। তার সাথে ঝড়ো বাতাস পরিবেশটাকে বেশ শীতল করে তুলেছে। ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজটা মুখরিত হয়ে উঠেছে সদ্য বিদায় নেওয়া উজ্জ্বল নক্ষত্রদের আগমনে।

দেয়ালের ঝোলানো রেজাল্ট সিটে নিজেদের নাম দেখার জন্য শিক্ষার্থীরা ভিড় জমিয়েছে স্কুলের ব্লাক বোর্ডে। রেজাল্ট দেখে কারো কারো মুখ হাস্যজ্জল হয়ে উঠছে আবার কারোর একটু মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

একদল মাঠের মাঝখানে ড্রাম পেটাচ্ছে। আরেকদল তালে তালে নাচছে।

যেন এক অন্যরকম উৎসব মুখর পরিবেশ। যেখানে ভালো ফলাফলের উল্লাস আছে আবার তার পাশাপাশি প্রিয় স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিদায়ের বেদনা।

মাইশা পুরো স্কুলটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। সে এখানে দীর্ঘ ১০ বছর কাটিয়েছে। এই স্কুল এন্ড কলেজ কে ঘিরে নানার সুখ দুঃখের অনেক স্মৃতি তার মনের মনিকোঠায় জমা আছে ‌।

শিক্ষকদের সাথে দেখা করলো মাইশা। তার ক্লাস টিচার তাকে জড়িয়ে ধরে তাকে অভিনন্দন জানালো তার দুর্দান্ত রেজাল্ট এর জন্য। মন খুলে দোয়া ও করলেন তিনি।

— বড় হয়ে বাবা মার মত হয়ও। তাদের দেখানো পথে চলো। তারা সব সময় তোমার ভালো চায়। এবং নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হও তুমি এটাই রইল তোমার জন্য আমার দোয়া।

মাইশা বাবা মার হাত ধরে বেরিয়ে আসলো স্কুল থেকে এবং সমাপ্তি ঘটালো দীর্ঘ ১০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত একটি অধ্যায়।

________🤎________

কলেজ থেকে বের হওয়ার পর মিসেস মেহরিমা চৌধুরীর ফোনে একটি কল আসে। ফোন বের করে তিনি দেখেন তার বড় বোন ফোন দিয়েছেন। তৎক্ষণাৎ রিসিভ করে কানে তোলেন তিনি। সালাম বিনিময় করে মেয়ের রেজাল্টের কথা তাকে জানান।

মিসেস মেহেরিমার বড় বোন মিসেস মেহরিমাকে রাত্রে ডিনারের জন্য সপরিবারে দাওয়াত করে। এবং মিসেস মেরীমাকে এখনই চলে আসতে বলেন তাদের বাড়িতে ।

মিসেস মেহরিমা চৌধুরী ফোন কেটে দিয়ে স্বামীর উদ্দেশ্যে বললেন,

— ডিনারে বড় আপা আমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছে। এখনি যেতে বলছে আমাদের। যাবে নাকি?

শারাফাত চৌধুরী মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন। মুখের স্পষ্ট বিষন্নতা বিরাজমান। প্রিয় স্কুল ছেড়ে আসার কষ্ট। তিনি এটাও জানেন তার মেয়ের মুখ ঠিক করার নিনজা টেকনিক।

তিনি স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন,

— তুমি এখন চলে যাও আপাদের বাসায়। আমি আর পুতুল পরে আসবো।

মিসেস মেহরিমা চৌধুরী মেয়ের গাল টেনে দিয়ে বললেন,

— মন খারাপ করে না। যখন মন চাইবে তখন স্কুল থেকে এসে ঘুরে যাবি। আমি তোর বড় খালামণির বাসায় যাচ্ছি। তোর আব্বুর সাথে ঘুরে তারপরে আসিস।

কথা শেষ করে মিসেস মেহেরিমা চৌধুরী চলে গেলেন।

শারাফাত চৌধুরী মেয়ের হাত জড়িয়ে ধরে রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে লাগলেন। এমন সময় বৃষ্টি শুরু হতে ফুটপাত ব্যস্ত হয়ে পড়ল অজস্র মানুষের পদধূলিতে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে যে যার পাশের মুদি দোকান চায়ের দোকানের ছাউনীর নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।

শারাফাত চৌধুরীর মেয়ের হাত জড়িয়ে ধরে দৌড়ে এক চায়ের দোকানের মধ্যে গিয়ে ঢুকলো। টিনের চালে বৃষ্টির ঝুম ঝুম আওয়াজ মুহূর্তেই মাইশার মনটা ভালো করে দিলো। সারাফাত চৌধুরী দোকানিকে দুটো চায়ের অর্ডার দিলেন।

এমন সময় মাইশা বেরিয়ে আসো টং ঘরের বারান্দায়। টিনের চাল ছুঁয়ে যে পানি পড়ছে হাত পেতে তা মুঠো বন্দি করল। সে যেন ভারী মজা পেল। সে আরো কিছুটা ঝুঁকে হাত বাড়িয়ে এবার বৃষ্টির পানি মুঠোবন্দি করার চেষ্টা করল।

এমন সময় সারাফত চৌধুরী বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। মেয়েকে বৃষ্টির পানির সাথে খেলতে দেখে হাত ধরে তাকে টেনে সরিয়ে আনলেন। মাইসার সামান্য বৃষ্টির পানিতেও জ্বর আসে। কিন্তু সেই বৃষ্টি মেয়েটার বড্ড প্রিয়।

মাইশা বাবার হাতের মধ্য থেকে হাত ছাড়িয়ে এনে বারান্দার খুঁটি জড়িয়ে ধরে আবার হাত বাইরে মেলে ধরল।

রাস্তার ওপার থেকে এক জোড়া দৃষ্টি মুগ্ধ হয়ে দেখছে সেই দৃশ্য ‌। তার চোখে যেন সজীবতা খেলে গেল। ঠোঁটের কোন প্রসারিত হলো। চশমার আড়ালে থাকা চোখগুলো হেসে উঠলো। বৃষ্টির কারণে সেও আটকে গিয়েছিল এই বেইলিরোডের মায়ায়।

তাকে দেখে ফালাকের মনটা বলে উঠলো ,

— এই গোধূলি লগ্নের বৃষ্টিটা তার নামেই লেখা হোক। যারা আহবানে এই অসময়ে বেইলিরোড হলো সিক্ত। হে দুরন্ত কিশোরী আজ এই দিনটাকে আমি মনের খাতায় লিখে রাখবো।

________🤎__________

বাবার সাথে সারা সন্ধ্যা ঘোরাঘুরি করার পর মাইশা অবশেষে রাত আটটার পরে এসে পৌঁছালো খালামনির বাসায়। ডাইনিং রুমে যেতেই তার খালামনি তাকে জড়িয়ে ধরে অভিবাদন জানালো তার সাফল্যের জন্য। বেশ আদর করে দিলেন তিনি।

মাইশা ও খালামণিকে ফিরতে আদর দিয়ে রান্নাঘরে উঠিয়ে দিল। দেখতে পেল তার মা বেশ কোমরে আঁচল গুজে রান্না করছে। সে বেশ দুষ্টুমি করে চেঁচিয়ে উঠলো,

— আম্মুউউউউউ!

মিসেস মেহেরিমা চৌধুরী বেশ মনোযোগ সহকারে রান্নার কাজ করছিলেন। তিনি জানতেন না মেয়ে চলে এসেছে। হঠাৎ এমন চিৎকারে বেশ ভড়কে গেলেন তিনি। পেছনে ফিরে তাকানোর আগেই মায়ের ভয়ে মাইশা পগার পার।

সে তাড়াতাড়ি করে চলে আসলো ড্রয়িং রুমে। গিয়ে দেখল সোফা সেটের পরে বসে তার ছোট খালাতো ভাই সামনে থাকা অ্যান্ড্রয়েড টিভিতে ভিডিও গেমস খেলছে।

মাইশা তার পাশে বসে অভির মাথায় চাটি মেরে বলল,

— কীরে হাদা? পড়াশোনা নেই তোর এখানে বসে ভিডিও গেমস খেলছিস।

অভি নিজের মাথা ডোলে বলল,

— আজ বাসায় তোমরা এসেছ না তাই আমার পড়া বন্ধ।

— বাহ! বেশ ভালো তো।

অভি মাইশার দিকে তাকিয়ে বলল,

— ভালো না। আম্মু বলে দিয়েছে। আমার মত রেজাল্ট করতে না পারলে ঘর থেকে বের করে দেবে।

তখনই পেছন থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

— বের করে দেবে না তো কি করবে? তা বসিয়ে বসিয়ে কি আমার মা-বাবা একটা গাধা লালন পালন করবে?

কথা শেষ করে এক সুঠাম দেহের হাস্যজ্জল যুবক তাদের অপজিটের সোফায় এসে বসলো। ভাইয়ের দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে জবাব দিল,

— এসএসসির রেজাল্ট দেখেছো আমার। আর আমি বলছি এসএসসির রেজাল্টটা তোমাদের সবাইকে পেছনে ফেলে দেবো আমি। হুহ।

অভির বলার ধরন শুনে আবির এবং মাইশা একসাথে হু হু করে হেসে উঠলো। মাইশা আবিরের দিকে ঘুরে বসে বলল,

— কেমন আছো আবির ভাইয়া?

আবির দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

— ছোটবেলায় তুই কিন্তু আমার নাম ধরে ডাকতিস। আবি এ্যআই আবি বলে ডাকতিস। আর আমি তোর সাথে খেলতে না চাইলে হাতের কাছে যা পেতে তাই ছুড়ে মেরে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলতে,

— খেল খেল নাআআ আবি মাববো ।

আবিরের কথায় মাইশা আবার হাসলো। তারপর বাচ্চাদের মতো করে বলল,

— আবি ভাও আছু?

আবির ও ব্যঙ্গ করে বলল,

— ভাও আছইইই।

তোর একটা ট্রিট পাওনা হয়ে গেল আমার কাছ থেকে কবে নিবি বল। এই এক সপ্তাহ আমি বেশ ফ্রি আছি। যেদিন বলবে সেদিন তোকে আর এই বাঁদরটাকে ট্রিট দেব।

মাইশা মাথা নাড়িয়ে বলল,

— ওকে।

আবির মাইসার দিকে বেশ কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলল,

— তো এরপরে কি ইচ্ছা কোন দিকে যাবেন ম্যাডাম? মেডিকেল , ইঞ্জিনিয়ারিং নাকি ইউনিভার্সিটি?

মাইশা ফোনে যেন কি করছিল। আবিরের কথায় তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— মেডিকেল না । আমি রক্ত, কাটাছেঁড়া এগুলোতে খুব ভয় পাই। ইঞ্জিনিয়ারিং আর ইউনিভার্সিটি দুটোর জন্যই পরীক্ষা দেবো আমি।

-সেটাই ভালো না হলে দেখা যাবে অপারেশন থিয়েটার রোগীর অপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তার নিজেই বেহুশ হয়ে পরে রইলো মেঝেতে।

_______🤎______

রাতে খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে বড়রা ড্রয়িং রুমে বসেছে গল্প করার জন্য আর মাইশা অভির রুমে চলে গেছে ক্যারাম খেলার জন্য। আবির ও নিজের রুমে চলে গেছে।

দীর্ঘদিন পর বড় বোনের সাথে বসে গল্প করছে মেহেরিমা চৌধুরী। কত জমানো কথা দুই বোন একে অপরের সাথে আলাপ করছে। বেশিরভাগই তাদের ছেলেমেয়েদেরকে ঘিরে।

অপর পাশের সোফা সেটে এ বসে টিভিতে নিউজ দেখছেন সারাফাত চৌধুরী। পাশের সোফায় বসে থাকা দুই বোনের কথায় তেমন মনোযোগ নেই তার।

কথা বলতে বলতে মেহেরিমা চৌধুরীর বড় বোন তাহরিমা আহমেদ শারাফাত চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,

— শারাফাত ভাই আপনার কাছে একটা জিনিস চাইবো দিবেন?

শারাফাত চৌধুরী প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাহারে মাহমাদার দিকে তাকালেন,

— অনেকদিন আগে আপনি আমাকে একটা কথা দিয়েছিলেন ভাই

শারাফাত চৌধুরী টিভি অফ করে দিয়ে তাহরিমা আহমেদের দিকে ঘুরে বসে বললেন,

— কি কথা বলুন আপা। আমি বুঝতে পারছি না আপনি কোন ব্যাপারে বলেছেন?

তাহরিমা আহমেদ লম্বা শ্বাস ছেড়ে বললেন,

— আবির এবং মাইসার বিয়ের ব্যাপারে।

কথাটা শুনতে মিসেস মেহেরিমা চৌধুরী এবং সারাফাত চৌধুরী একে অপরের দিকে তাকাবেন। এমন একটা দিনে এমন একটা কথা টেনে আনা বেশ অবাক করেছে তাদের দুজনকে।

মিস্টার এন্ড মিসেস চৌধুরীর নীরবতা দেখে তাহরিমা আহমেদ বলেন,

— আরে আমি এখনই বিয়ের কথা বলছি না ‌। আমি আসলে আবির এবং মাইশার এনগেজমেন্ট এর কথা বলছি। আমি চাই আবিরের বাবা বিজনেসের কাজে বিদেশে চলে যাওয়ার আগে এনগেজমেন্টটা এর কমপ্লিট করতে।

— শুধুমাত্র এনগেজমেন্ট। আর কিছু না।

#চলবে…!

[ গল্প সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য অবশ্যই করবেন। আমি আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রইলাম।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here