হৃদয়ের_কথা #প্রজ্ঞা_জামান_তৃণ [বিয়ে_স্পেশাল] |১২|

#হৃদয়ের_কথা
#প্রজ্ঞা_জামান_তৃণ
[বিয়ে_স্পেশাল]
|১২|

২৩.
একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে রিধিমা ওর সামনে নিজেকে ধাতস্থ করে বসে আছে মেহনাজ। মেয়েটার চোখে মুখে ভয়ের ছিটে ফোটা। রিধিমার ভ্রু কুচকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলো। এই মেয়েটাকে দেখলে এখন ওর মেরে ফেলতে ইচ্ছে করে। নিশ্চয় কোন মতলবে এসেছে। রিধিমা বিরক্ত হয়। দুর থেকে কেউ মেহনাজের দিকে অগ্নিচুক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে। মেহনাজ কাউকে লক্ষ‍্য করে ভয় পায়। রিধিমা বিরক্ত হয়ে উঠে যাবে মেহনাজ ওর হাত ধরে রিকুয়েস্ট করে বসতে। সে শুধু পাচমিনিট কিছু কথা বলবে।
রিধিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চেয়ারে বসে,

_’যা বলার তাড়াতাড়ি বলেন। আপনার জন‍্য আমার কলেজ মিস গেলো আজ।’

মেয়েটাকে সম্মান দিয়ে আপু বলতো রিধিমা। কিন্তু সেদিনের পর থেকে সম্রাট আর এই মেয়েকে সহ‍্য করতে পারছে না।

মেহনাজ বলতে শুরু করে,

_’সম্রাটকে আমি অনেক আগে থেকে পছন্দ করতাম। ও জানে কিন্তু কোনদিন পাত্তা দেয়নি। আমরা কলেজ থেকে পরিচিত ছিলাম। ওকে প্রপোজ করেছিলাম তখন জানতে পারি ও কাউকে ভিষণ ভালোবাসে। যখন জানতে পারি মেয়েটা তুমি। সম্রাটের কাজিন। আমার ভিষণ রাগ হয়েছিল তোমার উপর। সম্রাটকে হারানোর ভয়ে সবটা বলে দেই বাড়িতে। বাবা মা সম্রাটের পরিবারকে জানায়। তারা কোন রেসপনস করেনি। চৌধুরী বাড়িতে আমি একটা উদ্দেশ্যে গেছিলাম। সেখানে বারবার তোমার উপর নজর রেখেছি। শেষে সম্রাটের সঙ্গে আরেকবার কথা বলে কনভেন্স করার জন‍্য চেষ্টা করি। ও সরাসরি আমাকে ইগনোর করে দেয় কান্না করছিলাম তখনই তোমাকে দেখতে পায় ব‍্যস সম্রাটকে পাওয়ার আশায় কোনকিছু না ভেবেই চুমু দিয়ে বসি ওর ঠোঁটে। যেটা আমার জন‍্য কাল হয়ে যায়। উদ্দেশ্যে ছিল তোমাকে ভুল বোঝাব সফল ও হলাম। কিন্তু তুমি বেরিয়ে যাওয়ার পরপর সম্রাট আমাকে খুব মেরেছে,,,!’

একটানে কথাগুলো বলে থামল মেহনাজ। নিজেকে ধাতস্থ করে রিধিমার দিকে করুণ করে তাকাল।

রিধিমার ফেস লাল হয়ে আছে। রেগে গেছে ভিষণ। সে সম্রাট পছন্দ করে কিন্তু কোনদিন তাকে চুমু খায়নি। আর তার সামনে বসা মেয়েটি সম্রাটকে চুমু খেয়ে তার প্রথম চুমু ছিনিয়ে নিয়েছে। রিধিমা নিজের রাগ সংবরন করতে চোখ বন্ধ করে রইল। এই অসভ্য মেয়ের জন‍্য আজ বিশদিন সম্রাটের সঙ্গে কোন কন্ট্রাক নেই। তার নিজের ভিষণ কষ্ট হয়েছে। সম্রাটের মনে তার জন‍্য জাইগা আছে সে আগেই অনুভব করেছে। জাইগা না থাকলে রিধিমাকে টলারেট করতো না, রিধিমার রেগে থাকায় এতোটা উন্মাদনা সম্রাট দেখাতো না। যখন থেকে সম্রাট বাড়ি ছেড়েছে তার প্রতি রিধিমার ভালোবাসা গভীর ভাবে উপলব্দি করেছে। আর সম্রাটের মনে মাঝে তার একটু হলেও জায়গা ছিল উপলব্দি করেছিল। সেদিন বিয়ে বাড়িতে সে সম্রাটকে সব খুলে বলতো সে কতোটা চায় সম্রাটকে কিন্তু মাঝখানে এই মহিলা কু’বুদ্ধি করে তার ভদ্র সভ‍্য সম্রাট ভাইকে তার কাছে অপরাধী করেছে। তার ভালোবাসাকে অসম্মান করেছে।

মেহনাজ রিধিমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,

_’সম্রাটের দোষ নেই। আমি এসব কিছু ইচ্ছে করে করেছি তোমাকে ওর থেকে দুরে সরানোর জন‍্য।’

রিধিমা লাল ফেস নিয়ে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। মেহনাজ চমকে উঠে। রিধিমার লাল ফেস দেখে চিন্তিত হয়ে জিগ্যেস করলো,

_’তুমি ঠিক আছো?’

রিধিমা আশেপাশে কিছু খুজলো। ওকে এমন অশান্ত দেখে মেহনাজ ঘাবড়ে গেলো। রিধিমা টেবিলের পাশে কাচের বোটল দেখতে পেয়ে নিজেকে শান্ত করে; ছো মেরে হাতে তুলে নেয় সেটা দিয়ে মেহনাজের মাথায় বাড়ি দেয়। কাচ ভাঙার শব্দে আশেপাশের সবাই তাদের টেবিলের দিকে তাকাল। মেহনাজ ব‍্যাথা পেয়েছে। চিকন বোটলটা ভেঙে গেছে কিন্তু মেহনাজের কিছু হয়নি দেখে কাচটা ফেলে মেহনাজের চুল ধরে ফেলে। মেহনাজ গঙিয়ে উঠল। কলেজের ড্রেস পরিহিত একটা মেয়ের এমন ডেন্জারাস লুক দেখে আশেপাশের সবাই হতভম্ব।

_’সাল্ট একটা,,!তোকে সম্মান দিয়ে আপু বলতাম আর তুই আমার ক্ষতি করতে উঠে পরে লেগেছিস। তোর জন‍্য তাকে আমি কতো ইগনোর করেছি। আজ তোকে মেরেই ফেলবো।’

আশেপাশে সবাই ভেবে নিলো যে মার খাচ্ছে সে কলেজ ড্রেস পড়া মেয়েটির ভালোবাসা ছিনিয়ে নিয়েছে। সবাই জোরে বলে উঠল,

_’রাম ধলাই দেন আপু,! ছাড়বেন না একদম। এমন মেয়েদের জন‍্য কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না।’

রিধিমা পাশে তাকিয়ে সৌজন্য হাসি দিলো। তারপর আরো জোরে চুল পেচিয়ে ধরলো। মেহনাজ চিৎকার করতে লাগল। মেহনাজের চিৎকার শুনে সম্রাট একপ্রকার দৌড়ে এলো। সে একপ্রকার ধারণা করেছিলো এমনটাই করবে রিধিমা।

_’রিধি ছাড় ওকে। আশেপাশের মানুষ দেখছে।’

রিধিমা ফুসে উঠল,

_’ছাড়বো না। ওর সাহস কতো আমার অধিকার আদায় করতে আসে।’

মেহনাজ কেদেঁ ফেলে,

_’আমি ভুল করেছি আমাকে মাফ করে দেও রিধিমা। কিন্তু প্লীজ ছাড়ো প্রচুর ব‍্যাথা পাচ্ছি।’

সম্রাট ব‍্যস্ত হয়ে বলে,

_’ও তোর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিল। ছেড়েদে; রিধি আমি ওকে শিক্ষা দিয়েছি।’

বলে একপ্রকার জোরে টেনে নিলো। রিধিমা রাগে হাসঁফাস করেছে। সম্রাট ওকে শান্ত করতে মুখটা আজলা করে চোখ দিয়ে মাথা নাড়িয়ে নিষেধ করলো। আশেপাশের সবাই যেন ফ্রীতে বিনোদন পাচ্ছে। এতো বিশৃঙ্খলা দেখে ম‍্যানেজার চলে এসেছে। সম্রাট চোখ দিয়ে ইশারা করতেই মেহনাজ চলে যায়। যেন প্রাণ হাতে নিয়ে পালাচ্ছে। সম্রাট ম‍্যানেজারকে কিছু টাকা পয়সা ধরিয়ে ঝামেলাটা মিটিয়ে নেয়। রিধিমাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার আগে বিলটা টেবিলের উপর রেখে দেয়।

হাত ধরে টেনে গাড়িতে বসিয়ে সম্রাট একটু রাগ দেখায়।রিধিমা কিছু বলতে চায় হাত দিয়ে নিষেধ করে। রিধিমা কেদেঁ ফেলে। মনে মনে সম্রাটকে পাষাণ উপখ‍্যান দিতে ভুল করেনি। অনেক কষ্ট পেলো সে।সম্রাট আড়চোখে একবার দেখলো। মিনিট দশেক পর একটা নির্জন রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে বলে,

_’বিয়ে করবি আমায়?’

সঙ্গে সঙ্গে রিধিমার কান্না স্টপ হয়ে যায়। চমকে তাকায় সম্রাটের দিকে। সম্রাট ভাবলেশহীন। রিধিমার জবাব শোনার আগেই বলে উঠে,

_’আমার বাপ হচ্ছে ছেলের প্রেমে সবচেয়ে বড় বাধা। ভরসা নেই তোকে অন‍্য কারো হাতে তুলে দিতে পারে।আমি আর রিক্স নিতে পারবো না। এমনিতেও বাড়িতে যায়গা দেয়নি। তোকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকা পসিবল না। আমার ভয় হয়।

রিধিমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। সম্রাট কি বলছে এগুলো? তাদের সম্পর্কে কোন প্রপোজ নায়, প্রেম নায়, কিস নায়, সোজা বিয়ে? এতো ফার্স্ট তার সম্রাট ভাই? সম্রাটের কপালে হাত দিয়ে বলে উঠল,

_’জ্বর এসেছে?’

সম্রাট রিধিমার হাত ধরে ফেলে। একদম শীতল চাহনী দিয়ে বলল,

_’জ্বর তো আমার ভালো হবে তোকে পেয়ে,,!’

রিধিমা কেপেঁ উঠল এ কোন সম্রাটকে দেখছে। সম্রাট একটু হেসে গাড়ি ঘুড়িয়ে বলে উঠল,

_’তোর আঠারো পরবে তিনমাস পর ঠিক না??’

রিধিমা নিশ্চুপ! সম্রাট কিছু না বলে হৃদ আর সৌভিককে কল করে। তারপর কিছু বুঝিয়ে ফোন রেখে দেয়।
রিধিমা নির্বাক হয়ে শুনছে। এতটা কি এক্সপেক্টেবল ছিল?

আধা ঘন্টার মধ‍্যে সব ঠিক করে সম্রাটকে ফোন দেয় হৃদ,

_’চলে আয় সব ম‍্যানেজ হয়ে গেছে দোস্ত; শোন মিষ্টি নিয়ে আসবি কিন্তু,,!

_’শালা রাখ!’

স্রমাট কাজী অফিসের কাছে গাড়ি দাড় করায়। রিধিমার বুক কেপে উঠল। কিছু না বলেই রিধিমার হাত ধরে টেনে বের করে হাটাঁ লাগাল। কাজী প্রথমে মানতে চায়নি সৌভিক আর হৃদ এমন ভয় দেখায়ছে শেষে তিনি রাজি হয়ে যান। পরবর্তীতে রিধিমা রাজি হচ্ছিলো না। বড় বাবা, বাবা, মাকে কি উত্তর দেবে সবাই ভুল বুঝবে ভেবে রাজি হতে চায়নি। শেষে সম্রাট ধমকে কবুল প্লাস সই করিয়ে নেয়। বিয়েটা হয়ে যাওয়ায় সম্রাট বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে আলিঙ্গন করল। এদিকে রিধিমা আসন্ন বিপদ চিন্তা করে চোখের কোনের পানিটা মুছে ফেলল।

২৪.
রিধিমা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে, চোখে জল। কলেজ ড্রেসটা ঘামে ভিজে রয়েছে। সম্রাট মাথা উচু করে দাড়িয়ে । বাড়ির সকলে হতভম্ব হয়ে আছে। কেউ কিছু বলতে পারছে না। শাখাওয়াত সাহেব রেগেমেগে তেড়ে আসলেন সম্রাটের দিকে। সম্রাট নিশ্চুপ,

_’এইইই দামড়া ছেলে তোমার শাহস হলো কিভাবে এতো বড় কান্ড করার? কার পারমিশন নিয়েছিলে? আমি এই বিয়ে মানিনা।’

শাখাওয়াত সাহেব উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। ছেলের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাবোধ নায়। ভাইকে কি জবাব দেবে তিনি। তারা কি ভাববে সারওয়ার সাহেব শহীদ সাহেব ভাইকে শান্ত হতে বললেন। মাহিমা বেগম আর রুবায়াত বেগম আড় চোখে চাইলেন একে অপরের দিকে। রাহুল,সাহিল,মেধা তো বিস্মিত। এতো তাড়াতাড়ি সব হবে ভাবতেই পারেনি। তিনজনে বলে উঠে,

_’সম্রাট ভাই এতো ফার্স্ট?’

সম্রাট নিশ্চিন্তে রয়েছে রিধিমা বড় বাবাকে রাগ করতে দেখে ভয় পেয়ে আরো কাদঁছে। সম্রাট দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠে,

_’তোমার মানার সঙ্গে যায় আসছে না। রিধিমা আমার বউ আমি মানলেই হলো। এখন বলো এই বাড়িতে থাকতে পারবো নাকি বউ নিয়ে চলে যাবো, এভাবে দাড়িয়ে থাকতে পারছিনা,?’

সোফায় বসে কপালে হাত দিয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করছিলেন শাখাওয়াত সাহেব। ছেলের ঘাড় ত‍্যাড়া জবাবে রেগে গেলেন কিছু বলবেন এমন সময় সারওয়ার সাহেব বললেন,

_’ভাই আপনার সঙ্গে কিছু কথা ছিল একটু ঘরে চলুন আলাদা করে বলি?’

শাখাওয়াত সাহেব দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন হ‍্যা চলো। সম্রাটকে তিনি পরে দেখে নিবেন বলে ঠিক করল। পেছন পেছন শহীদ সাহেব ও গেলেন। তাদের সঙ্গে বাড়ির তিন কর্তীও গেলেন। ওরা চলে যেতেই সম্রাট ধপ করে সোফাতে বসল। রিধিমাকেও টেনে বসাল। মেয়েটা তখন থেকে কাদঁছে। ফর্সা চেহারা লাল হয়ে গেছে। এজন্যই কেউ সাহস পায়নি তাকে বকার। সবটা সম্রাটের উপর দিয়ে গেলো। সম্রাট মনে মনে ঝড় মোকাবেলার জন‍্যই প্রস্তুত ছিল। ‘যাব পেয়ার কেয়া তোহ ডারনা কেয়’ সালমান খানের এই উক্তিটা সম্রাটের সঙ্গে বেশ যায়।

শাখাওয়াত সাহেব ভাইদের সবটা খুলে বলেন সম্রাট কেমন পাগলামি শুরু করেছিল রিধিমাকে বিয়ে করার জন‍্য। এজন্যই তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। সবাই বিস্মিত। সারওয়ার সাহেব আনন্দে আত্মহারা সম্রাটকে সে ভারি পছন্দ করে। একদম গুনি যগ‍্য ছেলে। তার মেয়েকে কতো আগলে রাখে। সম্রাটের কাছে তার মেয়ে সুখী হবে তিনি নিশ্চিত। কিন্তু অবাক হচ্ছেন সম্রাট এতটা পাগলামি করেছে তার মেয়ের জন‍্য। আনন্দে বুকটা ঝলমল করছে। তিনি ভায়ের কাধে হাত রেখে বললেন,

_’সম্রাটের মতো সুপাত্র আমি কোনদিন পেতাম না ভাইয়া। রিধিমাকে ও যতটা সহজে শান্ত করে, সমস্ত আবদার রাখে। আমার আদুরে মেয়েটাকে দুরে কোথাও দিয়ে শান্তি পেতাম না। এখনতো আমার সামনেই সবসময় থাকবে। আমার বিশ্বাস আছে আমার মেয়েটা সম্রাটের কাছে সুখী থাকবে ভাই। তুমি ওদের মেনে নেও।’

সারওয়ার সাহেবের কথায় রুবায়াত বেগম সায় দিলেন। মাহিমা বেগম বলে উঠলেন,

_’আমিতো অনেক আগে থেকে রিধিমাকে ছেলের বউ করার কথা ভেবেছিলাম কিন্তু শাহস করে প্রস্তাবটা দিতে পারিনি।’

শাখাওয়াত সাহেব আড় চোখে চাইলেন স্ত্রীর দিকে।
শহীদ সাহেব ভাইকে সবটা মেনে নিতে বলেন। শাখাওয়াত সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলেন হতচ্ছারা ছেলেটা কোন উপায় রাখেনি না মেনে নেওয়ার। রিধিমাকে তিনি ভিষণ ভালোবাসেন। নিজের ছেলের মতো বেয়ারা কারো হাতে তুলে দিবেন আশা করেন নি। নিজে থেকে সম্রাটকে সুক্ষ্ণ হেয় করলেন। সবাইকে কেমন হাত করেছে হতচ্ছারাটা।
ভাইয়ের সম্মতি পেয়ে সারওয়ার সাহেব ভাইকে জরিয়ে ধরলেন। শহীদ সাহেব ও যোগ দিলেন। বাড়ির তিন কর্তীরাও সমস্বরে হেসে একে অপরকে আলিঙ্গন করল।

পাক্কা দু’ঘন্টা পর বাড়ির সবাই নেমে আসল। সম্রাট একটু নড়েচড়ে বসল। রিধিমা তখন ও অশান্ত। কান্না থেমে গেছে।
সবাই আশা মাত্র সে উঠে দাড়ায়। শাখাওয়াত সাহেব বললেন,

_’তোমার কোন দোষ নেই। আমি খুব ভালো মতো বুঝতে পারছি আমার দামড়া ছেলে তোমাকে জোর করেছে।’

ভাইয়ের কথায় সারওয়ার সাহেব হতাশ হয়ে ডাকল।
শাখাওয়াত সাহেব বললেন,

_’আমাকে কথাটা শেষ করতে দিবে তো নাকি।’

একটু থেমে তিনি আবার বললেন,

_’তোমরা যখন বিয়ে করেই ফেলেছো আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু কথাটা সবাই উল্টো ভাবে নেওয়ার আগে জানিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে দিতে চায়। তাছাড়া এই বিয়ে আমি মানিনা। আজ থেকে তিনদিন পর সবাইকে জানিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করবো। আপাতত তোমরা স্বাভাবিক বিহেভ করো।’

বলেই চলে গেলেন। মাহিমা বেগম রিধিমার দিকে তাকিয়ে স্বামীর কাছে ছুটলেন। সারওয়ার সাহেব রুবায়াত বেগম দুজনের উদ্দেশ্যে মুচকি হাসি দিয়ে চললেন। শহীদ সাহেব ও স্ত্রীকে নিয়ে চললেন। রাহুল সাহিল মুচকি হেসে চলে গেল। মেধা রিধিমাকে চোখ টিপে চলে গেলো। শুধু থেকে গেলো সম্রাট আর রিধিমা। সম্রাট শরীর এলিয়ে দিলো সোফায়।
অনেকক্ষণ পর চোখ মেলে চাইল রিধিমার দিকে।

_’তোকে কোলে করে নিয়ে যেতে হবে?’

রিধিমা হকচকিয়ে উঠে গেলো। মনে মনে সম্রাটকে ভিষণ বকে দিলো। সম্রাট মুচকি হেসে মাথা চুলকালো।

পরপর সেও রুমে গেলো। কতোদিন পর চেনা রুমটাই পা ফেলল। সবকিছু আগের মতোই রয়েছে যেভাবে ফেলে গেছিলো। হালকা হেসে শাওয়ার নিতে চলে গেলো। আজকের দিনটা ওর জীবনে সেরা দিন কারণ রিধিমাকে পেয়ে গেলো। রিধিমা তার বউ ভাবতেই ভালো লাগার শিহরণ বয়ে গেলো।

~চলবে

| খুব দ্রুত শেষ করে দিবো এজন্যই বিয়ে দিয়ে দিলাম! উপস দাওয়াত দিতে পারিনি সমস্যা নাই বড় অনুষ্ঠান হবে তখন সবার দাওয়াত থাকবে 😇|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here