হাইওয়ে ১১,১২,১৩,১৪ শেষ

হাইওয়ে ১১,১২,১৩,১৪ শেষ
শানজানা আলম
পর্ব:১১

গাড়ির যা কন্ডিশন, এটা নিয়ে আরিচা অবধি যাওয়া যাবে না। অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তন্বীর ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করতে হবে।

এখানে তো কোনো অপশন নেই। মতলব মিয়া এগিয়ে আসছে। মতলব মিয়া সেই লোক, যাকে আকাশ সিরিয়ালের জন্য ঠিক করেছে।

-ভাইজান, শুনতেছেন তো ঘটনা। অয়েট করা ছাড়া তো গতি নাই!

-হুম, এইখানে বাথরুমের ব্যবস্থা কী? সাথে মহিলা আছে, ফ্রেশ হইতে হবে।

-ওইখানে আছে পাবলিক টয়লেট।

দূরে আঙুল তুলে দেখাল মতলব মিয়া।

-ওহ নো, অবস্থা দেখে আকাশের মুখ থেকে এমনিতেই শব্দটা বের হয়ে গেল।

-এইখানে যাইতে পারবে না, তাই না?

-হু, এইখানে যাওয়া সম্ভব না। ফেরী কখন ছাড়বে জানেন কিছু?

-জোয়ার আসব শেষ রাতে, এখন সাড়ে আটটা বাজে।

তাই তো, ঘড়ি দেখে আকাশ বলল, বাপরে, এত বেজে গেল!
তারপর তন্বীকে বলল, এখানকার ওয়াশরুমে যাওয়া সম্ভব না। চলুন দেখি, আসেপাশে কিছু পাই কিনা৷

তন্বী বের হলো। মতলব মিয়া বলল, ভাইজান, এক কাজ করেন। ভাবীরে নিয়ে রসুল ফিলিং স্টেশনে যান৷ ওইখানে ফ্রেশ হওয়ার রুম আছে। আমি দেলুরে সাথে দিয়া দিই। পৌছায়া দিবে। ফেরী তো সকালের আগে ছাড়ব না।

তন্বী বলল, সারারাত বসে থাকব এখানে?

আকাশ এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলল, আশেপাশে তো থাকার মত ভালো কিছু নেই মনে হয়। তাছাড়া অনেক গাড়িই থাকবে এখানে।

মতলব মিয়া বলল, ভাইজান, পেট্রোলপাম্পের উপরে একটা রুম আছে, ম্যানেজার থাকে। এই রকম অসুবিধায় পড়লে, ব্যবস্থা কইরা দেওয়া যাবে। আপনে ভাবীরে নিয়া থাকেন, ফেরী ছাড়লে আমি ফোন দিমু, আপনে চইলা আসবেন৷ গাড়ির চাপও কমবে সেইসময়।

আকাশ তন্বীর দিকে তাকাল।

তন্বী বলল, চলেন যাই। এখানে বসে থেকে কি হবে৷

অগত্যা দেলু সহ আকাশ তন্বীকে নিয়ে গাড়ি ঘোরাল৷ প্রায় দুই কিলো দূরে একটা ফিলিং স্টেশনে দেলু ওদের পৌছে দিয়ে নিজে আবার ব্যাক করল। মতলব মিয়া আগেই ফোনে কথা বলে ঠিক করে রেখেছিল।

আকাশ গাড়িটা পার্ক করে তন্বীর লাগেজ বের করে ঢুকল ভেতরে। ভেতরে ঢোকার আগে তন্বীকে বলল, এখানে আপনি আমার মিসেস। এটা যেন ভুল না হয়৷

তন্বী হাসল একটু৷

ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ওদের রুমটা খুলে দিলো৷ বেশ বড় একটা রুম। একটা চৌকি পাতা। পাশে টেবিল আছে, একটা দড়িতে জামাকাপড় ঝুলছে।

আকাশ লাইট জ্বেলে ওয়াশ রুম চেক করে তন্বীকে দেখিয়ে দিলো। তন্বী ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে তন্বী লাগেজ খুলে নিজের টাওয়েল বের করল।

এসময় দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ,
-কে?
আকাশ একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করল।

-স্যার আমি মোবারক, ম্যানেজার।

চলবে

শানজানা আলম

হাইওয়ে -১২

-কি দরকার এখন?

সাথে তন্বী আছে, আকাশের নার্ভাস লাগছে। হাইওয়ের পাশে একটা পেট্রোল পাম্প। দূরে গ্রামের ঘরবাড়ির টিমটিমে আলো দেখা যাচ্ছে। কোনো লোকজন নেই আশেপাশে। বিপদ ঘটতে কতক্ষণ।

-স্যার, রাতে কিছু খাইবেন?

-ওহ আচ্ছা। কী পাওয়া যাবে?

-আপনেরা বললে ভাত রানব।

– না না, এত ঝামেলা লাগবে না।

-আমরা দুইজনের জন্য রান্ধি তো।

-ওহ, তাইলে করেন। দুইজনের খাবার। কত লাগবে
-স্যার অতো ভালো বন্দোবস্ত না, ডিম ভাজা আর ডাইল। দিয়েন খুশি মতো কিছু।

-আচ্ছা। খাবারটা রুমে দিয়ে যাইয়েন।।
-ওকে স্যার।

তন্বী টাওয়েল এগিয়ে দিয়ে বলল, ফ্রেশ হয়ে আসুন।

আকাশ একটু ইতস্তত করে টাওয়েলটা নিলো।
ওয়াশ রুমে ঢুকে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে টাওয়েল দিয়ে মুছতে যেতেই কেমন একটা সম্মেহনী সুবাস নাকে লাগল। মেয়েদের গায়ের সুবাস এমন হয়! আকাশের পুরুষ সত্তা একটু নড়ে উঠল। কি মোহময় সুবাস! আকাশ অনেকক্ষণ নাকে ধরে ঘ্রাণটা টেনে নিলো। এটা কী তন্বীর গায়ের! নাকি কোনো কসমেটিকস এর!

নিজেকে সামলে নিলো আকাশ। আজ সকাল থেকে অনেক ধকল, ঝড় ঝাপ্টা গেল। এখন এসব ভাবার সময় না।
বের হয়ে আকাশ জিজ্ঞেস করল, তন্বী ভয় লাগছে নাকি?

-নাহ, ভয় লাগবে কেন!

-আপনি একজন অচেনা মানুষের সাথে আছেন?

তন্বী হেসে বলল, নাহ, বিশ্বাস জন্মে গেছে। ভয় লাগছে না।

তন্বী প্যানিকড না দেখে আকাশেরও সস্তি লাগছে৷

-এখান থেকে দেড়শ কিলো পাড়ি দেওয়া আনার পঙ্খিরাজের গায়ে সইবে না। একটু অপেক্ষা করি বরং। বাসায় জানিয়েছেন কিছু?

-ফেরীঘাটে জ্যামে আটকা। খালামনি আপনার প্রশংসা করেছেন বলে, আব্বা আম্মা চিন্তা করছেন না।

আকাশ একটু মুচকি হাসল।

-এখানকার কথা কাউকে বইলেন না। সবার মন তো পরিস্কার না!

-হ্যা ঠিক!

-মশা আছে?

-তেমন একটা না। গুডনাইট আছে, জ্বালিয়ে দিব?

-হ্যা, দিন।

এরপর কিছু সময় কেটে গেল। আকাশ চেয়ার টেনে বসেছে। তন্বী বালিশটা ওয়ালে দিয়ে একটু হেলান দিয়ে বসেছে।
তন্বী হঠাৎ নিরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করল, আকাশ, আপনি বিয়ে করবেন কবে?

আকাশ ইষৎ হেসে বলল, হঠাৎ এই প্রশ্ন।

-না মানে, একটা মেয়ের সাথে এভাবে থাকছেন, বিষয়টা যখন আপনার ওয়াইফ শুনবে কীভাবে নেবে সেটা ভাবছি!

আকাশ হো হো করে হেসে বলল, সব কথা জানাতে হবে, এমন কে বলল!

-জানাবেন না বলছেন?

-প্রয়োজন না হলে জানাব না। লুকানোর মতোও কিছু নয়।

-হুম।

-আপনি কী করবেন? হাজবেন্ডকে আবার জানাতে যেয়েন না যেন!

-কেন! না জানানোর কি হলো!

-ছেলেরা এত সহজ ভাবে কোনো কিছু নেয় না! শেষ পর্যন্ত অনেক দূর ভেবে ফেলবে।

-ওহ আচ্ছা। সেটাও ঠিক। খাবার কখন দেবে?

-খিদে পেয়ে গেল?

-না, পায়নি।

-তাহলে?

-এমনিই জানতে চাইলাম।

তন্বী উঠে জানালার পাশে গেল। আকাশ লাইট কমিয়ে দিলো। দূর থেকে দেখা যাবে নয়তো। ফাঁকা জায়গা! সাবধানে থাকাই ভালো।

-আকাশ, এদিকে আসুন।

আকাশ এগিয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়াল।

দেখুন, ওই দূরের গ্রামের আলো দেখা যাচ্ছে। কেমন রহস্যময় লাগছে তাই না!

আকাশ বলল, হু!

-আজকের রাতটা খুব অদ্ভুত। আমরা কেউ কাউকে ভালো করে চিনি না। কিন্তু একে অপরকে ভরসা করে আছি!

আকাশ বলল, ভয় লাগছে? টেনশন হচ্ছে?

-নাহ, অদ্ভুত একটা অনুভূতি। ঠিক বোঝাতে পারব না৷

আকাশ বলল, সকাল হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

এসময় দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ হলো।

আকাশ সন্তর্পনে এগিয়ে গেল।

-স্যার খাবারটা আনছি।

আকাশ আলো জ্বেলে খাবারটা নিলো। সহজ খাবার। ভাত, আলুভর্তা, ডিমভাজি, পাতলা ডাল আর মরিচ ভর্তা। প্রচন্ড গরম বোধহয়, ধোঁয়া উড়ছে। আকাশ মানিব্যাগ থেকে পাঁচশ টাকা দিয়ে বলল, দামটা রেখো, বাকিটা বখশিশ।

লোকটা সালাম দিয়ে চলে গেল।

-ভাত ডাল আলুভর্তা পাঁচশ টাকা দিলেন!

-থাক, গরীব মানুষ!

-এতে কিন্তু বিপদ হতে পারে, এরা বুঝবে আপনার টাকা আছে তারপর রাতে দলবল নিয়ে এটাক করলে!

আকাশ হাসল। তবে চিন্তাটা ওকেও ছুঁয়ে গেল। এত নার্ভাস কখনো লাগেনি। একটা মেয়ের দায়িত্ব ওর উপরে। রাতে, সম্পূর্ণ অপরিচিত জায়গায়।

খাবারের ট্রেটা বিছানায় রাখল আকাশ। তন্বী নেমে গিয়ে লাগেজ খুলল।

আকাশ তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, কিছু খুঁজছেন?

-হুম, খালামনি ঘি দিয়েছে আম্মাকে। সেটা বের করি।

ঘিয়ের বয়ামটা নিয়ে এসে আকাশের প্লেটে দিয়ে দিলো তন্বী। ভেবেছিল খিদে পায়নি, কিন্তু খাবারটা এত স্বাদ লাগল, দুজনেই পেট ভরে খেয়ে নিলো।

খাওয়া শেষে তন্বী বলল, খেয়ে তো নিলাম, যদি কিছু মেশানো থাকে?

আকাশ বলল, আর টেনশন করতে হবে না। এখন শুয়ে পড়ুন। আমি আসছি।

-ধূমায়িত শলাকার সাথে প্রেম করবেন?

আকাশ মাথা নাড়ল।

তন্বী কিছু বলল না, আকাশ বারান্দায় গিয়ে সিগারেট ধরালো। উদ্দেশ্য আশপাশে চোখ বোলানো। তবে তেমন সন্দেহজনক কিছু দেখল না। পেট্রোল পাম্প খোলা। দুয়েকটা গাড়ি ঢুকছে, বের হচ্ছে।

আকাশ ভেতরে এসে দেখল, তন্বী পাশে জায়গা রেখে জানালার দিকে এগিয়ে শুয়েছে। মেয়েটা একটু অদ্ভুত। অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত একটা ছেলের সাথে বিছানা শেয়ার করছে এত সহজে! একটু বেশিই সোজা মনে হয়!
আকাশ বিছানায় না শুয়ে চেয়ারে বসে মোবাইল স্কল করতে শুরু করল। একবার মতলব মিয়াকে কল করে ঘাটের খবরটাও জেনে নিলো। প্রায় আধঘন্টা পরে তন্বী উঠে বসে বলল, আকাশ আপনি শুয়ে পড়ুন। সারাদিন ড্রাইভ করেছেন, আপনার একটু ঘুমানো উচিত।

আকাশের অবশ্য সত্যিই ক্লান্ত লাগছে, চোখ লেগে আসছে। ও গিয়ে আরষ্ট ভাবে শুয়ে পড়ল। তন্বী আবার উঠে বসে বলল, প্লিজ ইজি হয়ে শুয়ে পড়ুন। আমি কিছু মনে করব না।

আকাশ এবারে ঠিক হয়ে শুয়ে পড়ল ফোনে এলার্ম দিয়ে।

চলবে

শানজানা আলম

হাইওয়ে -১৩

প্রচন্ড টেনশন আর সারাপথ গাড়ি চালিয়ে আকাশের ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসতে সময় লাগল না।

যতদূর চোখ যায় বিস্তৃত জলরাশি, কোথায় ঘাট, কোনো মানুষ নেই। তন্বী পা দুলিয়ে বসে আছে।

আকাশ রেগে গিয়ে বলল, আপনার কোনো টেনশন হচ্ছে না?

তন্বী হাসতে হাসতে বলল, কেন, মেয়েরা সব সময় টেনশন করবে, এটা কেন ভাবছেন। ফেরী আসবে, তারপরে পাড় হবো।

সহসা বড় একটা লাল ইটের বিল্ডিং সামনে এলো। আকাশ আর কিছু েদখতে পেল না। প্রচন্ড শব্দ হচ্ছে। শব্দটা মাথায় লাগছে।

ধরফর করে উঠে বসল আকাশ। ফোন বাজছে।
গভীর ঘুমে ছাড়া ছাড়া অর্থহীন স্বপ্ন আসে৷
ফোন করেছে মতলব মিয়া ফেরী চলাচল শুরু হয়েছে। ওপার থেকে রওনা হয়েছে। আকাশ এখন চলে আসতে পারে। প্রায় সাড়ে চারটা বাজে।

তন্বী ওপাশ ফিরে ঘুমুচ্ছে। প্রচন্ড ক্লান্তিতে ওর একবারো ঘুম ভাঙেনি।

-তন্বী, উঠে গুছিয়ে নিন প্লিজ।

চোখ ডলে উঠে পড়ল তন্বী। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে জামাটা পাল্টে নিলো৷ ঘিয়ের বয়াম গুছিয়ে রেখে চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো। আকাশ বের হয়েছে। তন্বী টাওয়েল এগিয়ে দিলো। আবারও সেই মিষ্টি ঘ্রাণটা। আকাশ নিজেকে নিজে বলল, ছি ছি আকাশ, নিজেকে চরিত্রবান মনে করলেও মনের মাঝে এসব চিন্তা তোমার! ২৪ ঘন্টাও হয়নি মেয়েটার সাথে আলাপ হয়েছে, ওকে নিয়ে এমনটা ভাবলে কেন!

আকাশ কেমন যেন অস্থিরতা বোধ করছে। তন্বীকে এখন দূরের কেউ মনে হচ্ছে না। বরং ওকে খুব আপন কেউ মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওর সাথে আরো কিছুটা সময় গল্প করা গেলে ভালো লাগত। খুব নিজের কেউ ভাবতে ইচ্ছে করছে।

আকাশ কখনো প্রেম করেনি। বিয়ের কথা হলেও সেটা সামাজিক সম্পর্ক হিসেবে এগিয়েছে, আকাশের নিজস্ব ভালোলাগার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে এই প্রথম। কিন্তু কেন তন্বীর উপর এই অনুভূতি আসছে, এত অল্প সময়ে। মেয়েটার দায়িত্ব ওর উপরে। ওকে পৌছে দিতে হবে। এই অবস্থায় ওকে ভালো লেগে গেল কেন! ভালোবাসা কি তবে অর্থহীন অনুভুতি, একটু বেশি সময় মেয়েটা পাশে আছে বলেই তাকে ভালো লাগতে শুরু করল।

-আমি তৈরি, আপনার হয়েছে?

আকাশ তন্বীর ডাকে ফিরে টাওয়েলটা এগিয়ে দিলো। তন্বী টাওয়েলটা পলিথিনে মুড়ে লাগেজ বন্ধ করল।

চলুন বের হই?

-হ্যা চলুন, চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিন তো একবার কিছু রেখে গেলেন কিনা!

তন্বী চারপাশে চোখ বুলিয়ে বলল, নাহ, ঠিক আছে।

আজান দিয়েছে কিন্তু আলো ফোটেনি। ভাড়া মিটিয়ে একটানে ঘাটে গিয়ে ফেরীতে উঠল আকাশ। মতলব মিয়া এসে দেখা করল ফেরীতে। গাড়িটা একদম সামনে রেখে আকাশ বের হয়ে মতলব মিয়াকে বখশিশ দিয়ে বিদায় করল।

এরপর জানালায় উঁকি দিয়ে তন্বীকে বলল, চলুন, উপরে যাই।

-হ্যা, চলুন৷ আমিও বলতে চাচ্ছিলাম।

ফেরীর সিঁড়ি দিয়ে তন্বীকে আগে উঠিয়ে দিলো আকাশ। একদম উপরে গিয়ে ফাঁকা জায়গায় রেলিংয়ের পাশে দাঁড়াল ওরা। সূর্য উঠছে, মনে হচ্ছে মাঝ নদী থেকে টকটকে লাল সূর্যটা আকাশের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। দিকচক্রবালের রক্তিম আভা পূব আকাশে। এক অপূর্ব দৃশ্য, তন্বী মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিল, আর আকাশ তাকিয়েছিল তন্বীর দিকে। নিজেকে বড় অচেনা লাগছে, তন্বীর সাথে গল্প করতে মন চাইছে৷
কিন্তু তন্বী অনেকটা সময় চুপচাপ আছে।

-ঢাকায় পৌছে তো আপনার কাজ আছে?

-হ্যা, আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আমি গাড়িটা ওয়ার্কশপে দিব। আরো কিছু কাজ সেরে তারপর ব্যাক করব। আজ হয়তো কাজ শেষ হবে না৷ কাল বিকেলে ব্যাক করার কথা ভাবছি।

-আচ্ছা। আমাদের বাসায় একটু বসবেন না?

-দেখা যাক, মনে হয় না সময় হবে।

-হুম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমার জন্য যথেষ্ট প্যারা নিলেন।

আকাশ হেসে বলল, মাঝে মাঝে প্যারা নিতে ভালোই লাগে। নয়তো সব সহজ হলে জীবনের আনন্দ থাকত না

হুম, সেটা সত্যিই বলেছেন।

কালকের মত এত কষ্ট বোধহয় কখনো করেননি!

বিশ্বাস করবেন কিনা, এতো রিলাক্সে কখনো জার্নি করিনি! কোনো টেনশন ছিল না।

বাহ, ড্রাইভার হিসেবে আমাকে রেটিং কত দিবেন?

উমম, আপনি তো ড্রাইভার না!

আকাশ হেসে ফেলল। কাছাকাছি চলে এসেছে ফেরী। যাত্রা প্রায় শেষের দিকে।
এ ডিম, এ ডিম বলে ডিমওয়ালা ঘুরছে।

-তন্বী ডিম খাবেন?

-নাহ। চা খাব।

-আচ্ছা আসুন।

ফেরীর টি স্টলে সকালে ভীড় নেই। রঙচা পাওয়া গেল। তন্বী আকাশ দুজনেই চা নিয়ে এসে দাঁড়াল।

আকাশের মনে হলো৷ তন্বী সারাজীবনে আরও কতবার জার্নি করবে, এবারের কথা কী মনে থাকবে? না থাকাই ভালো, কিছু গল্প পথে পড়ে থাকাই ভালো৷

ঘাট দেখা যাচ্ছে, আকাশ তন্বীকে নিচে নামল।

(পরের পর্বে শেষ হবে)

শানজানা আলম

“ফুলবউ” এর সেল একটা কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে আলহামদুলিল্লাহ 🥰
যারা এখনো পড়েননি, পড়ে ফেলতে পারেন।

Check out Fulbou on Boighor

হাইওয়ে -শেষ পর্ব

তন্বীর বাসা ধানমন্ডিতে। বাসার নিচে এসে আকাশ বলল, পৌছে গেলাম তবে!

-হ্যা, অবশেষে আমাদের পথ শেষ হলো।
আসুন বাসায় একটু বসে যান প্লিজ।

-নাহ, আজ বসব না তন্বী। অন্য কোনো সময় আসব।

-আচ্ছা৷ আপনার ফোন নম্বরটা নেওয়া হয়নি আমার।

-ওহ আচ্ছা, আপনার নম্বর বলুন, আমি টেক্সট করছি৷

তন্বী নিজের নম্বর দিলো।

তন্বী নিজের ব্যাগ হাতে নিয়ে বলল, আকাশ, আপনার কিছু ডিউ আছে, সেই সাথে কাল আপনি অনেক খরচ করেছেন। কিছু মনে করবেন না, আমি সেটা শোধ করে দেই।

আকাশ বলল, হ্যা ডিউটা শোধ করে দিন কিন্তু কালকের খরচের কথা আপনার ভাবতে হবে না। তন্বী কথা বাড়ালো না। বাকি টাকাটা শোধ করে বের হলো গাড়ি থেকে।

লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে তন্বী বলল, বাসায় একটু বসে গেলে পারতেন৷

-আজ বসতে গেলে বেশ দেরী হয়ে যাবে। পরে কখনো আসব না হয়৷

তন্বী একটু হাসল শুধু।

আকাশ তন্বীকে লিফটে উঠিয়ে দিয়ে নিজে বের হলো।

তন্বীকে হুট করেই খুব ভালো লেগে গেল। এমন অনুভূতি আগে কখনো হয়নি। তন্বীকে একটা কথা বলা হলো না। হয়তো হবেও না। আর কখনো হয়তো দেখা নাও হতে পারে। কাল থেকে আজ ২৬ ঘন্টা, এই ২৬ ঘন্টা আকাশের মনে থাকবে।

আকাশ রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে চলতে চলতে একবার মনে মনে ভাবল, তন্বী, তোমার কী মনে থাকবে? হয়তো না! আমার অনেক দ্বিধা, তোমারও কোনো অনুভূতি তৈরি হলে আমি হয়তো দ্বিধাহীন ভাবে বলতে পারতাম, এক তারা ভরা রাতে তুমি কি জোনাক নিয়ে ফিরবে?

ভাবনা ব্যস্ততায় আগায় না। আকাশ এগিয়ে যায় তার নিজের কাজে।

শেষ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here