স্বামী,০৫

স্বামী,০৫
Ariyan Shaiquat

— আচ্ছা ঐ সব বাদ দাও কিন্তু তুমি আমার ফ্যান মানে বুঝলাম না। কবে থেকে কেমনে কি?[জাহান]
— আচ্ছা বলছি। [আমি]
— হুম বলো,
— তোমার মনে আছে, তোমার প্রথম একাউন্টের কথা? উদ্দেশ্য হীন লেখক।
— হ্যা কিন্তু কেনো?
— একাউন্ট টা কেনো বন্ধ করেছিলা?
— একটা হেডিকের কারনে। সারা দিন জ্বালাইতো। বলতো ভালোবাশি৷ কিন্তু আমার প্রেমে পরে নাই ঐ মেয়ে ও পড়ছিলো আমার লেখার প্রেমে, আমার চিন্তা ধারার প্রেমে। কিন্তু আমি যা যা লিখি৷ যেই ভালো গুন গুলা লিখি একটাও আমার মধ্যে নাই। এটা আর ঐ মেয়েরে বুঝাইতেই পারি নাই৷ তাই একাউন্ট ডিয়েক্টিভ করে দিছিলাম৷ মেয়েটাও নাকি গল্প লিখিতো৷ কিন্তু তুমি কেনো জিজ্ঞেস করছো?
— মেয়েটার একাউন্টের নাম কি, তুশার কন্যা ছিলো?
— ঐ তুমি কি করে জানো?

বলেই জাহানের দিকে তাকালাম৷ অগ্নী দ্রিষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে খুন করবে এখনি।

আমি বুঝলাম এই মেয়েই সেই হেডিক। তা নাহলে এতো কিছু জানার প্রশ্নই আসে না৷ আর তার উপরে যে পরিমানে রাগছে ও৷

ঝাপিয়ে আমার উপরে পরলো। বললো,
— আমি হেডিক তাই না?
— ৩ মাস সময় লাগছে তোমাকে দিয়ে এস এম এস এর রিপ্লায় পেতে। পেওত্যেক দিন অপেক্ষা করতাম কখন রিপ্লাই দিবা৷ এক দিনে ১০০ বার ফেক করতাম৷ সব কিছুর প্রতিসোধ নিবী আজকে।
বলেই কলার ধরলো আমার শার্টের। আমিতো ভয়ে প্রায় শেষ। সাথে সাথে জাহান আমাকে ছেরে দিয়ে আমার বুকে মাথা ঠেকিয়ে বলতে লাগলো,
— তুমি জানো আমি কত কান্না করেছি তোমার রিপ্লাই পাইনা বলে। তখন একদিন মেঙ্গানিজ আমাকে দেখে নেয়৷ তার পরে বলে ওওনাকি তোমার ফ্যান। আর এভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায়।

আমি জাহানের কথা থেকে বুঝতে পারলাম, সে কান্না করছে৷ সাথে সাথে আমি বললাম,
— বুঝছি তুমি চাও না আমি জান্নাত পাই।
— মানে? (আমার দিকে তাকিয়ে)
— সকালে প্রমিস করলাম। চোখের কাজল নষ্ট হতে দেবো না৷ আর এখনি নষ্ট করে ফেলছো। তাহলে জান্নাত পাবো কিভাবে?

সাথে সাথে জাহান চোখ মুছে। আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললো,দারাও ভুলটা সোধ্রাই। বলেই আয়নার সামনে গেলো। আমি বললাম।
— দারাও একেবারেই ঠিক কইরো লিপ্সটিক আর কাজল।
— মানে?

বলে আমার দিকে ঘুরতেই আমি দিলাম কিস। সব লিপ্সটিক খেয়ে নিলাম। 😁

জাহান নিজেকে ছারিয়ে নিয়ে। আমাকে বললো,
— কত বছর ধরে না খেয়ে আছো?
কথাটা কিছুটা রাগ দেখিয়ে বললেও। কিন্তু তার চোখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো একটা অরাপ্তির ছাপ।

হ্যা জাহান পেয়েছে। ও আজকে নিজের জন্যে একটা খুব ভালো বন্ধু পেয়েছে। নিজের জীবন সঙ্গী পেয়েছে। তার চেয়েও বেশি সে তার জীবনের সব চাইতে বেশি পছন্দের মানুষটা বা লেখকটা কে পেয়েছে।

আমি মুখিটা গোমড়া করলাম। জাহান কিছু না বোলে আবার লিপস্টিক দিয়ে, চোখের কাজল মুছে। দৌড়ে আমার কাছে চলে এলো। বললো,
— এবার কিন্তু ওরেঞ্জ ফেলভার। তোমার পছন্দেরটা।

তার পরেও খুব কষ্টে চুপ করে চলে আসলাম বিছানায়৷ যদি ইচ্ছে ছিলো আজকে ফুল লিপস্টিক টা শেষ করার জাহানের ঠোট থেকে। তবুও ও আমাকে বলেছে আর আমি ওর কথায় কষ্ট পেয়েছি তাই আমি আর খাবো না এখন।

সুয়ে আছি। জাহান কিছুক্ষন দারিয়ে ছিলো৷ তার পরে আয়নার সামনে থেকে কিছু একটা নিয়ে চলে এলো খাটে ঘুমাতে। আরে ভুলেই গিয়েছিলাম লিখতে। আমিতো কোলবালিশ নিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। তাই জাহান রাগি হয়ে তাকিয়ে ছিলো।

আমি চোখ বুজে আছি জাহান তার এসে চুপ করে সুয়ে রইলো কিছুক্ষন তার পরে। বালিশটা সরাবার একটু চেষ্টা করলো। যখন বুঝতে পারলো আমি খুব শক্ত করে থরে আছি। তখন প্রায় আমার সাথে যুদ্ধ শুরু করে দিলো এবং আমার বালিশটি নিয়ে নিলো।

আমি হা করে তাকায় ছিলাম। কি মেয়ে একটা কোলবালিশ কেও হিংসা করছে। কোলবালিশটা নিয়ে সে। কিন্তু এসে আমার বুকে ঘুমায় নি। সে কোলবালিশটা। নিয়ে বাথ্রুমে পানি দিয়ে ভিজিয়ে। ফেলে দিলো।

তার পরে এসে অপর দিকে সুয়ে পরলো। আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। আমি জাহানের কমোরের দিকে তাকালাম। ঐ যায়গাটায় যে কলিজা ফুটো করার মতো একটা তিল আছে সেটা জানতো কে?

আমি ঠাস করে গিয়ে চুমু খেয়ে বসলাম। জাহান কেপে উঠলো। আর ঘুরে আমাকে চেপে ধরলো তার পেটের সাথে। এই প্রথম আমি জাহানের ঘ্রান নিচ্ছিলাম মন ভরে। প্রান ভরে গেলো তার ঘ্রানে। কেমন যেনো একটি পবিত্র ঘ্রান ছিলো।

তার পরে যা হওয়ার হয়েছিলো। এতো জানতে হবে না আপনাদের। আগামী পর্বে দেখা হবে।,,,,

To be Continue……..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here