সুখ_পাখি #Ayrah_Rahman # part :- 02

#সুখ_পাখি
#Ayrah_Rahman
# part :- 02

পরের দিন সকাল…..

আরু এই আরু উঠনা বইন আমার দিশা কিন্তু এখন ই চলে আসবে পরে আর তাড়াহুড়ো করবি না।
আমাকেও কিন্তু বলতে পারবি না আপুনি এইটা দাও, আপু ওইটা করো,
,আমি কিন্তু কিচ্ছু শুনবো না বলে দিলাম,,,

আরুঃ– ওফফফ,,আপুর বা*চ্চা আপু,, সর তো,, আমারে ঘুমাইতে দে,, আমি ঘুমাবো
তরুঃ- হেএ ঘুমা ঘুমা পরে যখন টা*ক*লা স্যার কানে ধরে ক্লাসের বাইরে দার করাই রাখবে তখন মজা লাগবে,,
মানুষ দেখবে আর হাসবে,,

আরুঃ– হাসুক বেশি করে হাসুক,পারলে তুই গিয়ে লাফিং গ্যা*স দিয়ে আসিস,তাও এখন এখান থেকে যা তো,, আমার ঘুম হয় নাই।।

তরুঃ– আরু তুই উঠবি,নাকি পানি দিবো??( রেগে)
আরুঃ– উঠতাসি উঠতাসি,তোরে যে কবে বিয়ে দিবো আর আমি শান্তি তে ঘুমাতে পারমু আল্লাহ ই জানে,,
তরুঃ– আমি চলে গেলে সত্যি তুই খুশি হবি।
আরুঃ– দুর পা*গলি তোকে ছাড়া কি আমার চলে নাকি,,,তুই না থাকলে আমি আমার এত কথা কার কাছে বলবো,
,,কার সাথে মা*রামা*রি করবো,,কে আমাকে আম্মুর মা*রের হাত থেকে বাঁচাবে,,
তুই আমার ভাই তুই ই আমার বোন,, মানে আমার আরেকটা পৃথিবী,
তরুঃ- আমার সোনা বোন,,যা এবার ফ্রেস হো আমি নাস্তা রেডি করি গিয়ে,,
আরুঃ– ওকে আপুই(তরু চলে গেলো).

আরুঃ- (মনে মনে) তুই যদি না থাকতি আপু সত্যি আমি ম*রে যেতাম,,,আমার অ’তীত যে আজো ভিষণ ভাবে পু*রাই,,,কে ছিলো সে আজও মনে করতে পারি না,,আবছা স্মৃতি তো আজও আমার পিছনে তা*ড়া করে!
দুর এসব পরে চিন্তা করমু নে এখন আগে ফ্রেস হই,,
আরু ফ্রেস হয়ে নিচে গেলো,,

মাহমুদ ঃ– গুড মর্নিং মা
আরুঃ– গুড মর্নিং বা’ছাধ’ন,,কি অব’স্থা,, ঔষধ খাও তো ঠিক মতো?
মাহমুদঃ– জি আম্মা খাই,,না খেয়ে কি আর উপায় আছে?আমার দুইটা আম্মা তো আছেই আমাকে দেখবার জন্য,,
আরুঃ- গুড ভেরি গুড,,এই যে কাজের বেটি সখিনা( তরুকে উদ্দেশ্য করে) খাবার দাও,,খিদে লেগেছে,,
তরুঃ– আরু,, কি বললি তুই,, আমি কাজের বেটি সখিনা
আরুঃ– আরে না কি যে বলিস না তুই,,, তুই কাজের বেটি হতে যাবি কোন সুখে সরি দুঃখীত,, কাজের বেটি তো আমি,, হে হে
তরুঃ– কিই
আরুঃ– ইতা করস কি’ল্লা’ই,,,আমার বুজি ড*র লাগে না
তরুঃ– তাড়াতাড়ি খাবার শেষ কর,,,দুই টা রুটি দিসি একটু যদি থাকে তবে আজকা তরে….
আরুঃ- কি করবি!
তরুঃ– তেমন কিছু না ঠান্ডা পানি দিয়া গোসল করামু
আরুঃ– কিহ,,জীবনেও না,, এই শীতে আমি তো জীবনেও ঠান্ডা পানি দিয়া গোসল করমু না
তরুঃ- মাত্র তো নবেম্বর মাস,,,শীত তো এখনো আসলই না,,
আরুঃ– তাও করমু না,
তরুঃ- না করতে চাইলে সবটা শেষ করো,,,দিশা এখনি চলে আসবে,,একটা দিনও তুই ঠিক সময়ে যেতে পারিস না,, আর স্যারে ব’কা খাস সাথে দিশা কেউ খাওয়াস,,
আরুঃ– জানিস তো আমি দরদি,,যা খাই সবাই কে নিয়েই খাই
তরুঃ– কথা না বলে,, খা,, আমি রেডি হতে গেলাম,,ভার্সিটিতে ক্লাস আছে,,
আরুঃ- আচ্ছা যা,,,এই শুননা( তরুকে উদ্দেশ্য করে)
তরুঃ- আবার কি?
আরুঃ- আম্মু কইরে দেখি না তো,,
তরুঃ– আম্মু একটু বড় মামির বাড়িতে গেছে চলে আসবে বিকেলে

আরুঃ– ওহ,, আচ্ছা যা,,

এতক্ষণে তো চিনেই ফেলছেন তরু কে!!

(তরুর পুরো নাম তরু রাহমান,,এবার অনার্স ৩য় বর্ষে,,ঢাকা ভার্সিটিতে বাংলাই করছে,,,ভিষণ মেধাবী তেমনি বুদ্ধিমতি,,সব কাজ যেনে বুঝে করে আরু,, তরুর পুরো উল্টো,, সব কাজেই তাল ঘোল পাকাবে,,)
_______________________________

খান ভবনে……

আম্মু,, আম্মু,, এই আম্মু,,, একটু শুনে যাও না,,আমার হোয়াইট শার্ট টা কোথায় রাখছো পাচ্ছি না তো,,,,

রাহেলা খানঃ– পাচ্ছো না মানে কি,,,দেখো তোমার আলমারি তেই আছে,,আমি চু’লাই তরকারি বসিয়েছি, আসতে পারবো না।

শুভ্র ঃ– আসো না আম্মু,,সত্যি ই পাচ্ছি না,,
রাহেলা খানঃ– ওফফ ছেলেটার য*ন্ত্রণাই আর ভাল্লাগে না।
( রাহেলা খান শুভ্রের রুমে আসলো)

রাহেলা খানঃ– কোথায় দেখি,, কি পাচ্ছো না,,
শুভ্র ঃ– আমার সাদা শার্ট
রাহেলাঃ– দেখি সরো আলমারি টা দেখি,,
শুভ্র ঃ– হুমমমমম
রাহেলাঃ– এই যে নেন,, আপনার শার্ট,,( শার্ট টা হাতে দিয়ে) কোথাও যাচ্ছো?

শুভ্র ঃ– হুম মেডিকেল এ যাবো,, ছয় মাস পর ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল এক্সাম তো তাই,, যেতে হবে,,নোট কালেক্ট করতে হবে।( শুভ্র মেডিক্যালের ৪ র্থ বর্ষের ছাত্র)
রাহেলাঃ– আচ্ছা, সাবধানে যাও,,,আর শুনো?
শুভ্র ঃ–হুম বলো,,
রাহেলাঃ– — চড়ুইয়ের কোন খোজ পেলে?
শুভ্র ঃ– হুম,,,,কিন্তু ওর সাথে যে আমার অনেক হিসাব নিকাশ বাকি আছে মা,,ও কেন এমন টা করলো,,আর দুরেই বা চলে গেলো কেন? কাল দেখা হয়েছিল কিন্তু এমন ভাব করলো যেন আমায় চেনেই না।

রাহেলাঃ– তাই!!কেমন দেখতে হয়েছে রে মেয়েটা,,কত বছর দেখি না,,,
শুভ্র ঃ– আগের থেকে আরও সুন্দরী হয়েছে যাকে বলে আ*গুন সুন্দরী,,
রাহেলাঃ– একবার নিয়ে আসিস তো,, ওকে দেখার জন্য মন টা ভিষণ টানে,,

শুভ্র ঃ– আনবো আনবো,,একেবারেই নিয়ে আসবো,,আগে ওর শা*স্তি টা দিয়ে তারপর আনবো,,( মনে মনে) আচ্ছা মা আসি,,,দেরি হয়ে যাচ্ছে,,
রাহেলাঃ– খেয়ে যাবা না?
শুভ্র ঃ– নাহ,,বাইরে খেয়ে নেবো,, সময় নেই,,
রাহেলাঃ– সাবধানে যেও,,,
শুভ্র ঃ– আচ্ছা,, তুমিও সাবধানে থেকো,,
(শুভ্র চলে আসার পর)

রাহেলাঃ– আল্লাহ,, সব কিছু যেন ঠিক হয়,,আমার ছেলের জীবনে আর কোন ঝ*ড় দেখতে চাইনা,,সেই সময়ের কথা মনে হলে আজও শিউরে ওঠি,,তুমি দেইখো আল্লাহ,,,

————————-

আরু সাওয়ার নিয়ে মাত্র বের হয়েছে,, এরই মাঝে হঠাৎ ক্রলিং বেল বেজে উঠলো,,,

আরুঃ- এই রে,,টিসু পেপার মনে হয় আইয়া পরছে,,আল্লাহ বাচাইয়া দেও,,
আমি আর জীবনেও দেরিতে উঠুম না,,,

মাহমুদ রাহমান গিয়ে দরজা খুলে দেখে দিশা দাড়িয়ে আছে,,

দিশাঃ- আসসালামু আলাইকুম বাবাই,,,কেমন আছো?
মাহমুদ ঃ– আলহামদুলিল্লাহ আম্মু,, তুমি কেমন আছো? বাইরে দাড়িয়ে কেন ভিতরে আসো,,
দিশাঃ- আমি ভালো,,বাবাই আরু কোথায়? আজও লেট!
মাহমুদ ঃ– হা হা হা,,দেখো গিয়ে তুমি,উপরেই আছে,
,( বলে খবরের কাগজ নিয়ে পড়া শুরু করলেন)

দিশাঃ- এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারা যায় না,,ওফফ
দিশা উপরে উঠে দেখে আরুর রুমের দরজা ব’ন্ধ

দিশাঃ- আরু এই আরু দরজা খুল,,আজও দেরি??
আরুঃ- দোস্ত তুই ৫ মিনিট নিচে বস আমি দশ মিনিটে আসতাছি
দিশাঃ- ঠিক আছে,,তাড়াতাড়ি কর,,

আরুঃ– ওকে ওকে,,,দিশা নিচে নেমে এলো,,
নিচে নেমে এলো,,,আরুদের বাসা ডুপ্লেক্স,, উপরের আরু আর তরু থাকে বাকি রুম গুলো ফাকা,,

মাহমুদ ঃ– কি!!! রেডি হয়নি?
দিশাঃ– নাহ,,১০ মিনিট লাগবে,,
২০ মিনিট পর….

দোস্ত সরি সরি,,,, আর জীবনেও দেরি করুম না,,চল চল,,হঠাৎ এমন কথায় দিশা উপরে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেললো,,
কারণ আরু তাড়াহুড়ায় চুল আঁচ রাতেই ভুলে গেছে,ঘুম থেকে উঠে আর চুল আচরাইনি ফলে পুরো পাখির বাসা,,,
দিশাঃ- কিরে চুল আচরাস নি?
আরুঃ- ওহ সরি ভুলে গেছি,,,দাড়া আসতাছি
দিশাঃ- আর যেতে হবে না,,আমি ঠিক করে দিচ্ছি
আরুঃ- ওকে,,

আরুর চুল আচরানো শেষে,,
দিশাঃ- এবার চল,,,

কলেজে,,,,

আহানঃ– কিরে রিয়া,,, ওই ফ*কি*ন্নি দুইটা কইরে??এখনো আসলোনা,,

রিয়াঃ– এখনি আসবে নাকি??ক্লাস শুরু হোক তারপর,,
আহানঃ– তাও কথা,,,,এত তাড়াতাড়ি তো জীবনেও আসবে না,,

রাকিব ঃ– দোস্ত আজ মনে হয় সূর্য উত্তরে উঠছে😵‍
আহানঃ- কেন কি হয়েছে?

রাকিবঃ– ওই যে গেইটে দেখ
আহানঃ– গেইটের দিকে তাকিয়ে,,,রিয়ু বেবি আমাকে একটা চি*মটি দে তো,,আমি কি ভুল দেখছি,,
এরই মাঝে দিশা আর আরু এসে হাজির ওদের সামনে,,,

আরুঃ- কিরে ফ*কির মিস*কিনরা এবা কইরা চাইয়া আছস কি’লিগ্গা,,আইজ কি আমাগো হুর পরি লাগদাছে!

দিশাঃ- মনে তো হয়,,,আরু চল আমরা মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতাই নাম দিয়ে আসি,,,

এদের কথায় ৩ বন্ধু র ঘোর ভাঙে…

রিয়াঃ– কিরে আজ এত তাড়াতাড়ি??
আরুঃ– এমনি রে,, আমি ঠিক করছি এখন থেকে নিয়মিত সময় মতো আসবো
,,
দিশা+ আহান+ রাকিব+ রিয়াঃ– কিহহ

দিশাঃ- তুই আর সময় মতো কাজ,, ইম্পসিবল,
আহানঃ- বাদ দে,,চল ক্লাসে,,পদার্থ কিছু পারি না,,আজ দাড়ায় থাকতে হবে,, নোট ও করি নাই,,

হঠাৎ আরুর মাথায় বুদ্ধি চলে আসলো,,

আরুঃ- জানুরা একটা বুদ্ধি আছে,,বলবো?
সবাই ঃ– হুম বল
আরুঃ- নোট আমার কাছে আছে,, আমরা সবাই সিরিয়ালে বসে,, মানে একজনের পর আরেক জন,, পরে স্যার তো লাইন শেষ করে করে আসে,, তো আমার টা পাস করলেই হবে,,,আর নোটে তো স্যার কখনোই সাইন করে না,,সো চিল কর

দিশাঃ- বাট আরু,,এটা রি*স্ক হয়ে যাবে না,,
আরুঃ- দুর বাদ দে,,কিচ্ছু হবে না,,ক্লাসে চল,,

ক্লাসে…..

ঘন্টা পরায় স্যার ক্লাসে চলে আসলো…

স্যারঃ- সবাই কি পড়া কমপ্লিট করছো?
সবাইঃ– জি স্যার,,,.
স্যারঃ– তো বের করো,,আর শুনো পড়া শুরু করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবো,,সবাই মনোযোগ দাও

সবাইঃ- জি স্যার,,,

স্যারঃ– আজ আমাদের কলেজে নোটিশ এসেছে, যেহেতু ঢাকায় আমাদের কলেজ অন্যতম,, তাই মেডিকেলের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই কলেজের ২য় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দের নিয়ে একটা সংগঠন করতে চাই,,,কাল ওদের লি*ডার আসবে এই বিষয়ে কথা বলতে আসা করি তোমরা সবাই উপস্থিত থাকবে,,,,

সবাই ঃ– জি স্যার,,,
স্যারঃ– এবার তোমাদের নোট বের করো,,দেখবো,
সবাই ঃ–( সবাই সবার নোট বের করে সামনে রাখলো)
স্যার সবার একে একে দেখলো,,প্রথমে আরু,,পরে দিশা এভাবে একে একে ৫ বন্ধু একই নোট দেখালো কিন্তু স্যার বুজতে পারলো না,,,(এমন আমরা নিজেরাই অনেক করে থাকি))

ক্লাস শেষে,,,

আরুঃ- দেখলি আমার কি বুদ্ধি। তোদের বাচাই দিলাম,,,

দিশাঃ- ধইন্যা পাতা
আরুঃ- খা’লি মুখে চিড়া ভিজবো না,,ফুসকা খাওয়া
আহানঃ- তোর খাঃলি খাই খাই,,,তের জামাই দুই দিনে ফ*কির হয়ে যাবে,,

আরুঃ- এই কথা তোরে চিন্তা করা লাগবো না,,তুই,খাওয়াবি,,মানে মোট ৪ প্লেট,,

রিয়াঃ– ওমা গো! খাইতে পারবি ৪ প্লেট?
আরুঃ- এটা কোন ব্যা’পার হলো?

সবাই মিলে ফুসকার দোকানে গেলো,,

আরুঃ– মামা ৯ প্লেট ফুসকা দেন তো,,
মামাঃ– আইচ্ছা আম্মা,,
রিয়াঃ- তুই!!
আরুঃ- এবা চাস কে,,,

আরু পুরা ৪ প্লেট ফুসকা খেয়ে শেষ করলো,,

আরুঃ- ওফফ মামা জোশ ছিলো,,,
দিশাঃ- আরু অনেক লেট হয়ে গেছে,, চল বাসায় যায়,
আরুঃ– চল,,
আরু আর দিশা একই পথে আর রাকিব, আহান,রিয়া উ’ল্টো পথে হাটা দিলো,,

এবার আসেন পরিচয় দেই,,

আহান যার পুরো নাম আহান সরকার,,,মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান,, যেমন ভদ্র তেমনি দু*ষ্ট,, বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই সে যে কেমন দু*ষ্ট,, তবে আরু দিশা আর রিয়া কে আপন বোনের মতো আগলে রাখে,,,মা বাবার একমাত্র ছেলে,,
রাকিব,, যার নাম রাকিব পা’টোয়ারী,,
বাবা ব্যবসায়িক,,উচ্চ মধ্যবিত্ত যাকে বলে,, ছোট একটা ভাই আছে,,খুবই ভালো ছেলে,,,তবে মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে ফ্লা*র্ট করতেও ছাড় দেয় না,,বিশেষ করে বড় আপুদের,,

রিয়া,, পুরো নাম রিয়া চৌধুরী,, বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে,,,অ’হং’কা’রী ও বটে,,কিভাবে জানি আরুদের বন্ধু মহলে নাম লিখাইছে আল্লাহ ই ভালো জানে,,

বিকেলে…..

চলবে???…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here