শেষ_প্রহর,পর্বঃ ০৫,০৬

শেষ_প্রহর,পর্বঃ ০৫,০৬
জাহান আরা
পর্বঃ ০৫

চন্দ্রর ভার্সিটি থেকে বাসায় ফেরার পর থেকে নিষাদের মাথার ভিতর দাউদাউ করে জ্বলছে। এই মেয়েটা এতো বহুরূপী!
নামাজের সিজদাহ্ তে তার যে রূপ দেখেছিলো সেটা কি তাহলে নকল রূপ ছিলো?
চন্দ্রর সাহস হলো কিভাবে তার সামনে ওই ছেলের কাঁধে মাথা রাখার নিষাদ ভেবে পাচ্ছে না।

চন্দ্র বাসায় ফেরার সময় হয়ে এসেছে,নিষাদ গিয়ে গেটের বাহিরে অপেক্ষা করে।
আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে,মেঘের গুমগুম শব্দ হচ্ছে।হালকা বাতাস দিচ্ছে,নিষাদের ইচ্ছে ছিলো এমনিই কোনো এক মূহুর্তে খোলা বারান্দায় নিজের অর্ধাঙ্গিনীর সাথে দাঁড়িয়ে চা খাবে,দুষ্ট বাতাস এসে তার অবাধ্য চুলগুলোকে এলোমেলো করে দিবে মুখ ঢেকে দিবে,নিষাদ চুল কানে গুজিয়ে দেওয়ার বাহানায় ছুঁয়ে দিবে তাকে।শিউরে উঠবে সে নিষাদের আকস্মিক স্পর্শ পেয়ে।

হেসে ফেলে নিষাদ,জীবনে বউকে নিয়ে কতো পরিকল্পনা তার ছিলো অথচ কি হলো!
তার বউ মাথা রাখে অন্যকারো কাঁধে তারই সামনে।

আচ্ছা আমি যে চন্দ্রর এই কাজের জন্য এতো রেগে আছি আমি নিজেও তো চন্দ্রকে কম কথা শুনাই নি গতকাল দুপুরে।আমিও তো বলেছি চন্দ্র ছেলেদের সাথে মিশলেও আমি কিছু বলবো না,চন্দ্র আমার কেউ না।

তবে আমার এতো রেগে যাওয়ার কি আছে!
আমি নিজেই তো অপরাধী,চন্দ্রর ভুলের শাস্তি যদি পেতে হয় তবে আমাকে ও পেতে হবে।

আবার মনে পড়ে,আমি তো আজ থেকে সুস্মিতা কে ভুলে গেছি,মন থেকে কোনো ফিলিংস নেই আমার সুস্মিতার জন্য তবে কেনো চন্দ্র অন্যকারো হবে?

দ্বিধাদ্বন্দে ভুগতে ভুগতে গেটের ভিতর পা বাড়ায়। টুংটাং শব্দ করে বাহিরে একটা রিকশা এসে থামে,নিষাদ পেছন ফিরে তাকায়।
চন্দ্র নেমে আসছে রিকশা থেকে,সেই ছেলেটা রিকশায় বসে আছে।
চন্দ্র আদিবকে বায় জানিয়ে,রাতে কথা হবে বলে ভিতরে প্রবেশ করে দেখে নিষাদ সামনে দাঁড়িয়ে আছে,চন্দ্রর কোনো ভাবান্তর হয় না নিষাদকে দেখে,যেনো সেখানে নিষাদ না,দাঁড়িয়ে আছে একটা কারেন্টের খাম্বা যার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা,এমন ভাব করে ভিতরে চলে যায় চন্দ্র।
নিষাদ চন্দ্রর এই ব্যবহারে হকচকিয়ে যায়,চন্দ্র একটুও বিব্রত হলো না নিষাদ তাকে আর ছেলেটা কে দেখেছে একই রিকশায় তার পরে-ও?
তবে কি চন্দ্র নিষাদ কে কিছুই মনে করে না?
এতোটাই ফেলনা হয়ে গেছে নিষাদ?

মাথা ঠান্ডা করে ভিতরে প্রবেশ করে,চন্দ্রকে এই ছেলের কথা জিজ্ঞেস করতেই হবে।
বাগানে কিছুক্ষণ পায়চারি করে নিষাদ ভিতরে যায়।চন্দ্রর খাওয়া দাওয়া শেষ,মাজেদা খালা সব তুলে ফেলছে।

নিষাদ সিদ্ধান্ত নেয় আজ সে নিজ মুখে চন্দ্রকে বলবে খাবারের কথা।
রুমের দরজা ভেজানো,নিষাদ দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেই ৪০০ বোল্টের শক খায়,চন্দ্র ড্রেস চেঞ্জ করছে,ফর্সা পিঠ দেখা যাচ্ছে পিছন থেকে।
নিষাদ তাকিয়ে থাকে আজ আর চোখ সরাতে ইচ্ছে করে না।
কেনো চোখ সরাবে,চন্দ্র তার স্ত্রী,তার পূর্ণ অধিকার আছে চন্দ্রর উপর। নিষাদের কেমন যেনো অস্থির লাগছে,মনের ভিতর জেগে উঠেছে অন্যরকম অনুভূতি,কি এই অনুভূতি,কেনো হচ্ছে এরকম,পুরো শরীর কাঁপছে,ইচ্ছে করছে একছুটে গিয়ে চন্দ্রকে জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে পিষে ফেলতে। নিজেকে কেমন তৃষ্ণার্ত মনে হচ্ছে,যেনো কতো জনম ধরে পানি খেতে পাচ্ছে না,এই তৃষ্ণা কিসের?
নিষাদ বুঝতে পারে।

ভিতরে এসে দেখে টেবিলে খাবার এনে রাখা আছে,একটা ফ্লাস্ক ও আছে সাথে,নিষাদের জন্য চা রাখা আছে নিষাদ বুঝতে পারে।

চন্দ্র বইখাতা নিয়ে বসে গেছে ফ্লোরে,নিষাদের মনে পড়ে তখনই একটা পড়ার টেবিল দরকার চন্দ্রর জন্য। বাড়িতে স্টাডিরুম আছে,তারা সবাই সেখানে পড়তো।

নিষাদ খাবার খেয়ে উঠে চা ঢেলে নেয়,চন্দ্রর সাথে কথা বলার অযুহাত খুঁজছে সে।
গড়িমসি করে বলেই ফেললো,”তোমার সাথে যে ছেলেটা এসেছিলো কি নাম তার?”

“আদিব”

“তোমার সাথে কি সম্পর্ক?ভালোবাসার?”

“হু”

চন্দ্রর এই সহজ স্বীকারোক্তি নিষাদের বুকের ভিতরের আগুন শতগুণ বাড়িয়ে দেয়।

“ঠিক করে উত্তর দাও,হু-হা করবে না”

চন্দ্রর ফোন বেজে উঠে ততক্ষণে।নিষাদ স্পষ্ট দেখতে পায় আদিব লিখা ভেসে উঠেছে স্ক্রিনে। ফোনের স্ক্রিনটা যদিও ফেটে গেছে অনেকটা।

“আপনাকে একটা ধাঁধা জিজ্ঞেস করি,যেদিন সঠিক উত্তর দিতে পারেন সেদিন আমি আদিব সম্পর্কে খুলে বলবো”

নিষাদ ভ্রু কুঁচকে তাকায়।

“আসছে যতো,আসবে ততো,তার অর্ধেক,তার অর্ধেক,আপনাকে নিয়ে একশ করি”

ফোন হাতে নিয়ে চন্দ্র বারান্দায় চলে গেলো। নিষাদ বসে বসে ভাবছে আসছে যতো,আসবে ততো,কে আসছে?
আজব কথাবার্তা!

না আবার মনোযোগ দেয় কিন্তু মাথায় কিছু ঢুকছে না নিষাদের।
বারান্দায় চন্দ্র কথা বলছে,টুকরো টুকরো কথা ভেসে আসছে নিষাদের কানে।

“আরে বিয়ের টেনশন তুই ছাড়,আমি ম্যানেজ করে নিবো,তুই তোর যেটা করা দরকার সেটা কর”

————–

“এতোই সোজা নাকি কারো মন পাওয়া,যেই মনে তুই আছিস সেই মন অন্যকেউ পাবে এতো সহজে?”

—————

“দূর,এটা কোনো কথা হলো,অনেক টাকাপয়সা থাকলেই কি মানুষের মন পেয়ে যায় না-কি, টাকাপয়সা তো ফকিরের ও আছে,ভালোবাসা না থাকলে টাকাপয়সা তে কি এসে যায়”

নিষাদ আর শুনতে পারছে না,নিষাদ বুঝে যায় কি হচ্ছে। নিষাদের ফোন বেজে উঠে, ভাইয়ের কল।
কল রিসিভ করে রুম থেকে বের হয়ে যায় নিষাদ।ফিরে আসে গম্ভীর হয়ে,ভাবীর কন্ডিশন ভালো না।

কথা শেষ করে ভিতরে এসে দেখে চন্দ্র এখনো কথা বলছে,হাসাহাসি শোনা যাচ্ছে। নিষাদ কানে বালিশ চাপা দিয়ে শুয়ে পড়ে। আদিবের বিষয় টা মাথায় থাকে,ধাঁধার উত্তর খুঁজতে খুঁজতে ঘুমিয়ে যায়।

ঘুম ভাঙে চন্দ্রর কান্নায়,নিষাদের আজ আর শুনতে ভালো লাগে না,সব নকল,সব মানুষ নকল এই দুনিয়ায়।
বুকের ভিতর কি ভীষণ অভিমান জমে তা কেউ বুঝতে পারে না।

চন্দ্র ফজরের নামাজের পর সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।নিষাদ ও নামাজ পড়তে উঠে যায়।

নামাজ পড়ে এসে ওয়ারড্রব থেকে নতুন একটা ফোন বের করে চন্দ্রর সিমকার্ড খুলে তাতে লাগিয়ে দেয়।চন্দ্রর পুরোনো ফোনটা রেখে দেয় লুকিয়ে নিজের কাছে।

“বাসর রাতে স্ত্রীকে গিফট দেওয়ার প্রচলন আছে আমাদের সমাজে,সে রাতে দিতে পারলাম না আজকে দিলাম,পুরোনো ফোনটা ফেলে দিয়েছি,সিম কার্ড লাগিয়ে দিয়েছি,ব্যবহার করলে খুশি হবো”

চিরকুট লিখে ফোনের সাথে লাগিয়ে রেখে দেয় ফোন যেখানে ছিলো।তারপর বের হয়ে যায় বাসা থেকে সকালেই।

চন্দ্র ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়ে টাইম দেখে,ফোন হাতে নিতেই চমকে উঠে।তার ফোনের উপরের গ্লাস ফেটে চৌচির ছিলো এটা এতো স্মুথ লাগছে কেনো?

শোয়া থেকে উঠে বসে যায় চন্দ্র।চোখ কচলে ভালো করে তাকিয়ে দেখে এটা তার ফোন না,একটা আইফোন। সাথে একটা চিরকুট।
চিরকুট পড়ে বুঝতে পারে নিষাদের কাজ এটা।কিন্তু তাকে কেনো দিচ্ছে,সে-তো তার স্ত্রী না,নিষাদ তো তাকে মানে না স্ত্রী হিসেবে।

সাড়ে আটটা বেজে গেছে,১০ টায় ক্লাস।চন্দ্র উঠে ব্রাশ হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। গোসল শেষ করে দৌড়ে বের হয়ে আসে,আজকে প্ল্যান করেছে সবাই কালো শাড়ী পরবে তারা,আদিব কালো পাঞ্জাবী।
বিয়েতে অনেক শাড়ী পেয়েছে সব ওয়ারড্রবে রাখা,চন্দ্র খুঁজতে খুঁজতে জর্জেটের মধ্যে হালকা কাজ করা একটা শাড়ি পেয়ে যায়।

তাড়াতাড়ি পরে,চোখে কাজল দিয়ে বের হয়ে যায়। ভেজা চুল হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নেয়।বের হয়ে যায় না খেয়েই।
ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখে আদিব ছাড়া সবাই হাজির।তাকিয়ে আছে সবাই চন্দ্রর দিকে,কালো শাড়ি,খোলা চুল,চোখে কাজল,চন্দ্রকে মনে হচ্ছে যেনো অপ্সরা।
চন্দ্র কাছে আসতেই নিশি প্রথম বলে উঠে,”তোর বর আজকে তোকে দেখেছে চন্দ্র এভাবে?”

“না তো,কেনো?”

“বিশ্বাস কর চন্দ্র,তোকে আজকে দেখলে ওই বেটার মাথা হ্যাঙ করবে,কিসের মডেল ফডেল,বেটা তোর প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাবে”

“হইছে অনেক মজা করা,আদিব্বা আসে না কেনো,কল দিয়ে দেখ মিরা”

মুখে বিষন্ন ভাব মিরার,আদিব কে ফোন দেয়।ওপাশ থেকে কিছু শুনেই মিরার বিষন্ন চেহারা বদলে ভয়ার্ত হয়ে যায়। ঠাস করে বসে পড়ে মিরা সেখানে।

নিশি,রুমি,চন্দ্র মিরাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে কি হয়েছে।

“আদিব কে কারা যেনো খুব মেরেছে,আদিব এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে”

মিরার কথা শুনে ৩ জনেই চমকে উঠে,রুমি পিচ পিচ করে কান্না শুরু করে।

“কোন হাসপাতালে আছে আদিব?”

“যারা মেরেছে তারাই না-কি হাসপাতালে নিয়ে গেছে,দ্যা কেয়ার হাসপাতালে আছে”

“উফফ,গরু মেরে জুতো দান করে গেছে শালারা”

ক্লাস রেখে চারজন রওনা দেয় হাসপাতালের দিকে,দ্যা কেয়ারে পৌঁছাতে ওদের ৪৫ মিনিট সময় লাগে,মিরা ছুটে যায় রিসিপশনে,আদিবের কথা জিজ্ঞেস করতেই শুনে আদিব ৬ তলায় ভিআইপি কেবিনে আছে,লিফটে উঠে ৬ তলায় পৌছায়। আদিবের মাথায় ব্যান্ডেজ,হাত পা সব ছিলে গেছে।

আদিবকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে,ঘুমিয়ে আছে আদিব।
ওদেরকে বলা হলো রিসিপশনে গিয়ে অপেক্ষা করতে,ক্লান্ত,বিধ্বস্ত ৪ জন রিসিপশনে গিয়ে বসে।রিসিপশনিস্টের পেছেনের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে নিশি চমকে উঠে,নিশি রুমি কে দেখায়,রুমি চন্দ্রকে দেখায়,চন্দ্র নিজেও চমকে উঠে দেখে।

নিষাদ চন্দ্রর বলা ধাঁধা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে,কিছুতেই বের করতে পারছে না।মেজাজ খারাপ হয়ে যায় নিষাদের,একটা সোজা কথা সোজা ভাবে বললেই তো হতো,এতো ধাঁধা কিসের আবার!

রেস্টুরেন্টে বসে বন্ধুরা সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে,নিষাদ এখনো ভাবছে।

“গুরু,বৌয়ের কথা এখন একটু ভাবা বন্ধ করে আমাদের সাথে কথা বল”

“বিয়ে করবে না করবে না করে,এখন বিয়ে করার পর আমাদের সাথে আড্ডা তে ও মন দেয় না।”

সবাই হাসাহাসি করতে থাকে।সবার হাসি থামার পর কৌশিক জিজ্ঞেস করে,”তুই কি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত নিষাদ,আরে কি আছে চিন্তার বাকি বল,আমরা সলভ করে দিবো,আমরা আছি তো ইয়ার”

নিষাদ কিছুক্ষণ ভেবেচিন্তে বললো,আমাকে একটা ধাঁধার উত্তর দে,এই ধাঁধার উত্তর না পেলে আমি ঘুমাতে পারবো না,স্বস্তি পাবো না।

“ধাঁধা কি বৌদি দিয়েছে বস?” ময়ুখের প্রশ্ন।

” হু ”

সবাই আবার একচোট হেসে উঠে।

“এইজন্যই তো বন্ধু আমার উদাস হয়ে আছে,ভাবী নিশ্চয় বলেছে ধাঁধার উত্তর না দিতে পারলে বিছানায় জায়গা দিবে না”

সবার হাসাহাসি শুনে নিষাদের কান ঝালাপালা হয়ে যায়।

“আচ্ছা,ধাঁধা কি বল?”

”আসছে যতো,আসবে ততো,তার অর্ধেক,তার অর্ধেক,আপনাকে নিয়ে একশ করি”

সবাই ভ্রু কুঁচকে একে অন্যের দিকে তাকায়।কেউ বুঝতে পারছে না ধাঁধার মানে।

“বৌদি কোন বিষয় নিয়ে পড়ে রে নিষাদ? ম্যাথ নাকি?”
ময়ুখ জিজ্ঞেস করে।

“ফিন্যান্স”

“হু এইজন্যই এসব অংক টংকের ধাঁধা জিজ্ঞেস করে। ”

কৌশিকের মুখ হাসিহাসি হয়ে যায়।

“দোস্ত,পাইছি ধাঁধার উত্তর ”

চলবে……???

#শেষ_প্রহর
পর্বঃ০৬
জাহান আরা

৬ তলায় রিসিপশনে তোজাম্মেল সাহেব,নিশান,নিষাদের ছবি লাগানো বড় করে।রুমি এগিয়ে গিয়ে রিসিপশনিস্টকে জিজ্ঞেস করে এই ছবিগুলো কাদের।

রিসিপশনিস্ট জবাব দেয় হাসপাতালের মালিক ওনারা।
রুমি সবার নাম জেনে এলো।

চন্দ্র ঠোঁট কামড়ে বসে আছে,রুমির বাড়াবাড়ি চন্দ্রর সহ্য হচ্ছে না।আদিবের এই এক্সিডেন্টের কথা রুমি বেমালুম ভুলে গেলো,রুমি বসে বসে নিষাদের গুণকীর্তন করছে,নিষাদ কে দেখে মনেই হয় না কতো ধনী পরিবারের ছেলে নিষাদ,কি সুন্দর রুমির সন্ধানে ভার্সিটি তে চলে গেলো রুমি বিশ্লেষণ করে বলছে।

রুমির ফালতু বকবকানি মিরার ও সহ্য হলো না,এক দমক দিয়ে উঠে মিরা।
চন্দ্রর মাথা ধরে যায় রুমির বকবকানি শুনে,পরে আসবে বলে বের হয়ে যায়। টিউশনিতে কল দিয়ে বলে আজকে যেতে পারবে না।

বাসায় পৌঁছে সোজা রুমে চলে যায়। চেঞ্জ না করেই সোফায় দপ করে শুয়ে যায়।চিন্তায় কিছু ভালো লাগছে না।অনেক দিন মায়ের সাথে,অনিতার সাথে কথা হয় না।
অনিতার ফোন নেই,অনিতার সাথে কথা বলতে হলে মা’কে কল দিতে হবে কিন্তু মায়ের উপর কেমন অভিমান জমে গেছে,কেনো মা সুলতানার কথা তে এখানে বিয়ে দিয়ে দিলো,বলির পাঁঠা হতে হলো তাকে।
এই মিথ্যা সম্পর্ক কতো বয়ে বেড়াবে সে?

এই জীবন নরকের মতো লাগছে চন্দ্রর,এতো আরাম আয়েশ সে চায় নি,রোজ রোজ রাজকীয় খাবার ও চায় না,দুবেলা দুমুঠো কোনোমতে খেতে পারলেই তো খুশি ছিলো।

সেই আগের জীবন,ঘুম থেকে উঠে অনিতা চলে যেতো পড়াতে,মা ও চলে যেতো পড়াতে,চন্দ্র রান্নাবান্না করে রাখতো,মা অনিতা ফিরে এলে খেয়ে সবাই বের হতো কলেজ,ভার্সিটি আর স্কুলের জন্যে। ভার্সিটি শেষ করে চন্দ্র টিউশনি করতে যেতো,ফিরতে ১০ টা বেজে যেতো।

কি কষ্টের দিন ছিলো,তবু প্রতি শুক্রবার ছিলো ঈদের মতো আনন্দের,সপ্তাহে এই একদিন সবাই বাড়ি থাকতো,ছুটোছুটি নেই। আরাম করে ঘুমাতো দুবোন মিলে।
সপ্তাহের এই দিনটি মা চাইতো একটু ভালো কিছু রান্না করতে,অভাবের সংসারে ভালো খাবারের স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা।

তবু তিনি চেষ্টা করতেন সেদিন অন্তত মেয়েদের জন্য কিছু রান্না করার।

আর এখন,প্রতিদিন মাছ,মাংস,ডিম হাজার আইটেম,সব আইটেম মুখে দেওয়া ও হয় না তবু রোজ রোজ রান্না হয়।
এই রাজকীয় খাবার চন্দ্রর মুখে রোচে না,খেতে বসলে মনে পড়ে ছোট বোনটা না জানি কি খেয়েছে,হয়তো মা আজকেও ডিম ভেজে রেখে দুই ভাগ করে রেখেছে দুই বেলা দুই টুকরো খাবে বলে অনিতা।

আচ্ছা বাবা কেনো এতো তাড়াতাড়ি চলে গেলো?
বাবা থাকলে তাদের জীবন বড় খালাদের মতো সুখের হতো।
জীবনের সব টুকরো টুকরো স্মৃতি মনে পড়ে যায় চন্দ্রর,কিছু স্মৃতি আছে এতোই ভয়ংকর যা কখনো কাউকে বলতে পারে নি চন্দ্র।
জীবনে কতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যায় প্রতিটি মানুষের কে জানতে পারে সেটা!

চন্দ্র বাসায় চলে এসেছে শুনে নিষাদ ও আসে।চন্দ্র শুয়ে আছে সোফায় নিষাদকে দেখে উঠে বসে চন্দ্র।

চন্দ্রকে শাড়ি পরা দেখে নি নিষাদ ভালো করে বিয়ের রাতে,আজ এই নরমাল সাজে চন্দ্রকে দেখে নিষাদের বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথা হতে থাকে।

খোলা চুল উড়ছে,কালো শাড়ির উপর দিয়ে চন্দ্রর নাভি দেখা যাচ্ছে,কি গভীর,এই নাভির দিকে তাকিয়েই নিষাদের নিজেকে মাতাল মাতাল লাগে।
ইচ্ছে করছে ছুঁয়ে দিতে,কিন্তু সামনে বাঁধা,এক অদৃশ্য দেয়াল তাদের মাঝে,কিন্তু মনের আগুন তো কোনো বাঁধা মানছে না।
চন্দ্র কেনো সোফায় ঘুমোয়?
সোফার একটা ব্যবস্থা করতে হবে,মনে মনে নিজেকে কন্ট্রোল করে নিষাদ।

“তোমার ধাঁধার উত্তর পেয়েছি কিন্তু আমি”

“বলুন তবে”

“৩৬+৩৬+১৮+৯+আমি=১০০”

“হ্যাঁ হয়েছে”

“এবার তোমাদের ভালোবাসা সম্পর্কে বলো,আমার ভালোবাসা তো আমাকে ছেড়ে চলে গেছে দেখি তোমাদের সম্পর্ক জোড়া লাগিয়ে দিতে পারি কি-না”

“আমাদের সম্পর্ক মানে?” চন্দ্র অবাক হয়।

“তুমি না বললে তোমরা একজন আরেকজনকে ভালোবাসো,সম্পর্ক আছে?”

“ওটা তো বন্ধু হিসেবে ভালোবাসি সেটা বলেছি”

নিষাদ হকচকিয়ে যায় চন্দ্রর কথা শুনে। “তু তু তুমি তো কাল বলো নি বন্ধু হিসেবে ভালোবাসো”

“প্রেমিক হিসেবে ভালোবাসি সেটা ও তো বলি নি”

নিষাদ এবার পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে যায়। কি বলছে এই মেয়ে!!
তবে যে সে আদিবকে মেরে এলো!!
কাল রাতেই তো চন্দ্র ফোনে বলেছিলো বিয়ের টেনশন তুই ছাড় আমি সামলে নিবো,তারপর আরো কি যেনো?
ওহ,টাকা পয়সা থাকলেই মন পাওয়া যায় না।

নিষাদের মাথায় প্যাচ লেগে যায়। এই মেয়ে এতো ধোঁয়াশায় রাখছে কেনো তাকে,সোজা কথা সোজা ভাবে বলতে পারে না।

যেচে পড়ে নিষাদ আবার জিজ্ঞেস করে।

“যদি আরেকটা ধাঁধার উত্তর দিতে পারেন তবে বলবো”

নিষাদ হাল ছেড়ে দেয়।অসম্ভব এই মেয়েকে কাছে পাওয়া,কে জানে হয়তো ভীষণ উত্তেজক মুহূর্তে ও এই মেয়ে বলে বসবে আগে ধাঁধার উত্তর দিন তবে আদর করতে দিবো।

নিরাশ ভঙ্গিতে নিষাদ জিজ্ঞেস করে,”কি ধাঁধা বলো?”

” কোনো ক্লাসে যতোজন শিক্ষার্থী আছে তারা তত পয়সা করে চাঁদা দেওয়ায় ৩৬ টাকা উঠলো,ক্লাসে কতোজন শিক্ষার্থী আছে? ”

নিষাদ ধাঁধা শুনে রুম থেকে বের হয়ে যায়। চন্দ্রর থেকে কোনো কথা বের করার আশা নিষাদ ছেড়ে দেয়।
বাগানে হাটতে হাটতে চিন্তা করে কি হতে পারে।
মাথা কুলোচ্ছে না নিষাদের।

কৌশিক,ময়ূখসহ সবাইকে গ্রুপ কল দেয় আবার।১০ মিনিটের মধ্যে ধাঁধার উত্তর চাই বলে ফোন কেটে দেয়।
বাগানের এই মাথা থেকে ওই মাথা চষে ফেলেছে নিষাদ ভাবতে ভাবতে কিছুতেই মাথায় কিছু আসছে না।

হঠাৎ নিষাদের মনে পড়ে মাত্র ২ দিনে চন্দ্রকে সে কি রকম ভালোবেসে ফেলেছে। চন্দ্রর সাথে কথা বলার জন্য ধাঁধার মতো সামান্য বিষয় নিয়েও সে মাথা ঘামাচ্ছে।
বৌ বুঝি এটাকেই বলে!
মনে মনে সুলতানা কে ধন্যবাদ দেয়।

৭ মিনিটের মাথায় ময়ূখ কল দেয়,ধাঁধার উত্তর জানতে পেরেছে তাদের স্কুলের গণিতের স্যারের থেকে।বেচারাকে স্যার এখন বসিয়ে অংক শিখাচ্ছে,ফোনে ময়ূখ নিষাদকে হাজার কথা শুনিয়ে দেয়।
হাসতে হাসতে নিষাদ ফোন রাখে।

রুমে গিয়ে দেখে চন্দ্র এখনো সেভাবে বসে আছে।

“ধাঁধার উত্তর পেয়েছি”

“বলুন”

“৬০ পয়সা করে চাঁদা দেয় ৬০ জন শিক্ষার্থী।”

“আপনার তো ব্রেইন খুব ভালো দেখছি”

“এবার বলো”

“আসলে সমস্যা হচ্ছে মিরাকে নিয়ে,সেই এসএসসির আগে থেকে আদিব আর মিরার প্রেম,মিরার বাবা হুট করে মিরার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। মিরা আদিবের কথা বলেছে,উনি বলেছে আদিব এখনো স্টুডেন্ট,মিরাকে বিয়ে করতে হলে ওকে অবশ্যই একটা চাকরি পেয়ে দেখাতে হবে ওনাকে,যেখানে মাস্টার্স কমপ্লিট করে মানুষ বেকার ঘুরে আপনার মতো,সেখানে ওতো এখনো অনার্স শেষ করতে পারে নি,কিভাবে কি হবে,সেটা নিয়েই কথা বলছিলাম”

“আমি বেকার ঘুরি বলে তোমার ধারণা?”

“ধারণা কেনো হবে,আমি তো জানি আপনি যে বেকার,সেই কবে থেকেই তো আপনাদের বাড়িতে আছি,কখনো তো কোনো কাজ করতে দেখালাম না আপনাকে,তো কি বলবো?”

নিষাদ চন্দ্রর কথা শুনে থমকে যায়,চন্দ্রর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে না-কি!
চন্দ্র কি জানে না তাদের কতোবড় বিজনেস?
হাসপাতাল,হোটেল,গার্মেন্টস,হাউজিং,বাস,ট্রাক,ট্রাভেল,শিপিং বিজনেস,কি নেই তাদের?

“তুমি আমাকে বেকার বলছো?
তুমি জানো আমি যে আমাদের সব কোম্পানির এমডি?”

“না-তো,কিভাবে জানবো?
কখনো তো দেখি নি কোনো কাজে আপনাকে,আমার তো ধারণা আপনাকে অফিসের পিয়নের চাকরি ও দিবে না কেউ”

নিষাদের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কি বলছে এই মেয়ে?
” আমি চাইলে এখনই অফিসে যেতে পারি,কি ভেবেছো তুমি আমাকে?
নিষাদ চৌধুরী কে তুমি কি ফেলনা মনে করো?”

“মনে করবো কেনো,আমি তো জানি আপনি ফেলনা ই”

নিষাদের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। এই মেয়ে তাকে কি-না বলে সে বেকার,মাস্টার্স পাস করে বেকার ঘুরছে?
রাগে মাথার রগ দপদপ করছে নিষাদের।

“ওয়েল,জাস্ট ওয়েট এন্ড সি মাই ডিয়ার ওয়াইফ,আমি আগামীকাল থেকেই অফিস করবো,দেখিয়ে দিবো তোমায়,মাইন্ড ইট”

গজগজ করতে করতে নিষাদ রুম থেকে বের হয়ে যায়।
চন্দ্র মুচকি মুচকি হাসতে লাগে নিষাদের রাগ দেখে।আপার খুব ইচ্ছে ছিলো নিষাদ ব্যবসায় দেখাশোনা করুক,কিন্তু সে ওসব মাথায় ও নেয় নি।
রাগের মাথায় যদি দায়িত্ব নেয় তবে তো ভালোই।

ধানমন্ডি লেকে বসে আছে নিষাদ।আদিবের সাথে যে অন্যায় করে ফেলেছে তার জন্য কিভাবে মাফ চাইবে তাই ভাবছে। না জেনে না বুঝে ছেলেটার এতো ক্ষতি করলো সে!

হাসপাতালের দিকে রওনা হয় নিষাদ।৬ তলায় গিয়ে দেখে কেবিনের বাহিরে বিমর্ষ হয়ে বসে আছে একটি মেয়ে।এই মেয়েটি মিরা নিষাদ বুঝতে পারে।
এগিয়ে গিয়ে মিরার পাশে বসে।

নিষাদ কে দেখে মিরা অবাক হয়ে যায়।

“হাই,আমি নিষাদ”

“হ্যালো”

“ভুল না করলে তুমি মিরা,রাইট?”

“কিভাবে জানলেন আমার নাম?”

“তোমার ফ্রেন্ডের থেকে”

“রুমির থেকে?”

“রুমি কে?”

“কেনো,যাকে আপনি ভালোবাসেন,যার জন্য গতকাল আমাদের ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সে-ই তো রুমি”

নিষাদ হাহাহা করে হেসে উঠে। যেনো এতো মজার জোকস ও জীবনেও শোনেনি।
কোনোমতে হাসি থামিয়ে মিরাকে বলে,”আমি তো ভার্সিটিতে গিয়েছি আমার স্ত্রী কে দেখতে,ও ব্রেকফাস্ট করে যায় নি,তাই মা খাবার পাঠিয়েছিলো।”

মিরা এবার অবাক হয়।

“তোমার বান্ধবী চন্দ্র,সি ইজ মাই বেটারহাফ”

মিরা অবাকের সপ্তমে পৌঁছে যায় এই কথা শুনে। এই ছেলেটা চন্দ্রর হাজবেন্ড,অথচ চন্দ্র ওদের কে দেখালো না।

“আমি এসেছি ক্ষমা চাইতে,সেই সাথে ক্ষতিপূরন দিতে”

“কিসের ক্ষমা?”

“চলো কেবিনে গিয়ে বলি”

আদিব জেগে ছিলো,মিরাকে দেখে আদিবের দুচোখ বেয়ে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। এতোক্ষন মিরাকে কেউ ভিতরে আসতে দিচ্ছিলো না,অথচ এখন কেউ কিছু বলে নি।উপরন্তু একটা সোফা দিয়ে গেছে দুজন ওয়ার্ড বয় এসে।

নিষাদ মিরাকে বসতে বলে নিজেও বসে।
তারপর দুজনের দিকে তাকিয়ে বলে,”আমি আসলে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি,এরজন্য হয়তো শাস্তি পাওয়া উচিৎ আমার।আমি ক্ষমা চাচ্ছি তাই তোমাদের কাছে।”

“কি করেছেন আপনি? ”

“তোমার ভালোবাসার মানুষ কে আমিই মার খাইয়েছি। গতকাল চন্দ্রকে ওর কাঁধে মাথা রাখতে দেখে আসলে আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। তারপর রাতে আদিব চন্দ্রর সাথে এক রিকশায় যায়,আবার রাতে দুজন ফোনে কথা বলে যা আমার সহ্য হয় না। চন্দ্র আমার স্ত্রী,অথচ আজ পর্যন্ত চন্দ্র আমার সাথে কথা বলে না।
অন্য ছেলের সাথে ওর এরকম কথা তাই আমার সহ্য হয় নি।কিন্তু কিছুক্ষণ আগে চন্দ্রর থেকে সব জানার পর ভীষণ লজ্জিত আমি,বিশ্বাস করো ভাই,আমি যদি জানতাম আগে তবে এরকমটা করতাম না।”

আদিব হেসে ফেলে,মিরার চোখ জলে ছলছল করে।

“ভাইয়া,আমাকে মেরেছেন তাতে আমার যে ব্যথা ছিলো,চন্দ্রর প্রতি আপনার ভালোবাসা দেখে সেই ব্যথা আমার নিমিষেই মুছে গেছে”

“চন্দ্রর থেকে জানতে পেরেছি তোমাদের ভালোবাসা সম্পর্কে,আমি যদি তোমাকে একটা রিকুয়েস্ট করি ভাই হিসেবে তুমি কি রাখবে ভাই,আমার ভুল শোধরাবার একটা সুযোগ আমি চাই,প্লিজ বলো রাখবে?”

নিষাদের কাতর চাহনির দিকে তাকিয়ে মিরা আদিব দুজনেই অবাক,এই ছেলেটাই দুদিন আগে চন্দ্রকে অপছন্দ করতো,অথচ আজ কি পাগল সে!!!

“বলুন ভাইয়া”

“তোমাকে যে আঘাত করেছি তা হয়তো মুছে দিতে পারবো না,তবু আমি যদি আমাদের কোম্পানি তে তোমাকে জব অফার করি তুমি কি রাজী হবে??
তুমি হ্যাঁ বললে আমি আগামীকাল ই তোমায় এপয়েন্টমেন্ট লেটার,দুমাসের এডভান্স দিয়ে দিবো।সেই সাথে কোম্পানি থেকে তোমার জন্য একটা ফ্ল্যাট আর গাড়ি থাকবে,আমাকে এই ক্ষুদ্র উপকারটুকু করতে দিবে?”

মুহূর্তের জন্য মিরা আদিব দুজনেই বোবা হয়ে যায় যেনো।মিরা খুশীতে চিৎকার করে উঠে। এভাবে স্বপ্ন পূরণ হবে ভাবতেই পারে নি তারা কেউ।

“আপনি বুঝতে পারছেন না ভাইয়া আপনি আমার কি উপকার করেছেন,একটা চাকরির অভাবে আমি আমার ভালোবাসা হারিয়ে ফেলতে চলেছিলাম,আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দিবো আমি জানি না”

“ধন্যবাদ দিতে হবে না,তবু একটু ফেভার চাই”

“কি বলুন”

“চন্দ্র যাতে না জানে তোমার এই অবস্থা আমি করেছি অথবা এই জব আমি দিয়েছি,তোমাদের সাথে আমার কোনোরকম কথা বা দেখা হয়েছে এটা যেনো না জানে চন্দ্র”

“ঠিক আছে ভাইয়া,চির কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার কাছে আমি আর মিরা”

নিষাদ চলে যায় উঠে।

মিরা আদিবের হাত শক্ত করে ধরে কাঁদছে অঝোরে। সুখের কান্না তার এটা।জিতে যাওয়ার কান্না।

চন্দ্র রান্নাঘরে উঁকি দেয়,বিয়ের পর থেকে একবার ও রান্নাঘরে যায় নি।মাজেদা খালা কাটাকুটি করছে,নাসিমা বেগম রাতের রান্না করছেন।

চন্দ্রকে দেখে নাসিমা বেগম খুশি হয়ে যায়। কালাম কে ডেকে বলে চেয়ার দিয়ে যেতে।কালাম চেয়ার দিয়ে যাওয়ার পর চন্দ্রকে চেয়ারে বসিয়ে প্লেটে খাবার বেড়ে দেয়
দুপুরে চন্দ্র খায় নি সেটা তিনি ভোলেন নি।

শাশুড়ী মায়ের এই আদরে চন্দ্রর চোখের কোণ ভিজে উঠে ।
এই বাড়ি থেকে চলে গেলে এই মানুষ টাকে চন্দ্রর ভীষণ মনে পড়বে।

নিষাদ উঁকি দিয়ে দেখে চন্দ্র কিচেনে বসে আছে। নিষাদ উপরে চলে যায়।হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সোফার নিচের অংশ ভেঙে ফেলে যাতে চন্দ্র শোয়া মাত্র বা বসা মাত্র ভেঙে নিচে পড়ে যায়।

নিষাদের বিকেলে কফি খাওয়ার অভ্যাস,চন্দ্র এক মগ কফি নিয়ে উপরে উঠে। নিষাদ চন্দ্রকে আসতে দেখে বিছানায় গিয়ে নিরীহ ভাব নিয়ে বসে পড়ে।

কফির মগ টেবিলের উপর রেখে চন্দ্র সোফার দিকে এগিয়ে যায়,নিষাদ অপেক্ষা করছে কখন চন্দ্র সোফায় বসবে,চন্দ্র এগিয়ে গিয়ে সোফার সামনে দাঁড়ায়।

চলবে……???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here