শেষ_প্রহর,পর্বঃ ১১(শেষ পর্ব)

শেষ_প্রহর,পর্বঃ ১১(শেষ পর্ব)
জাহান আরা

অপারেশন থিয়েটারের বাহিরে বসে আছে সবাই।সুলতানার মা,বাবা,ভাই,চন্দ্রর মা সবাই চলে এসেছে।
নিষাদ চন্দ্রর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। চন্দ্রর মা শায়লা বেগম আর সুলতানার মা সুরাইয়া বেগম দুজনেই অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন,কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছেন না।

অপারেশন থিয়েটার থেকে ডাক্তার বের হয়ে এলো।সুলতানা কিছুতেই সিজার করতে দিবে না,সুলতানার কন্ডিশন খারাপ হয়ে গেছে। সিজার করতেই হবে।

নিশান অপারেশন থিয়েটারে গেলো।সুলতানার দুই পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয় বাচ্চাদের মতো।
“কখনো তোমার কোনো ইচ্ছে অপূর্ণ রাখি নি,তুমি যখন যা চেয়েছো তখন তাতে রাজী হয়েছি,বিশ্বাস ছিলো অগাধ তুমি ভুল সিদ্ধান্ত নিবে না।আজকের সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে দাও সুলতানা,আমার বাবু,আমার বৌ,দুজনকেই চাই,প্লিজ রাজী হও সিজারের জন্য”

“আজ পর্যন্ত আমার কোনো সিদ্ধান্ত কি ভুল ছিলো?”

“না তা ছিলো না”

“তবে আজকের সিদ্ধান্ত ও ভুল না,আমার সিদ্ধান্ত থেকে আমি নড়বো না নিশান,তুমি ডাক্তার কে বলো আমাকে ব্যথার ইনজেকশন দিতে,আমি নরমাল ডেলিভারি চাই,আমি বুঝতে চাই একটা সন্তানের জন্ম হওয়ার সময় একজন মা’কে কতোটা মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়,মা হওয়া কতোটা কষ্টের,আমি আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে সে ব্যথার অনুভব পেতে চাই,আমি জানতে চাই আসলেই সে কষ্ট তীব্র কি-না,সেই কষ্ট পাওয়ার পর কোনো মা কি পারে সন্তান ছেড়ে থাকতে। এটা আমার একটা গবেষণা বলতে পারো তুমি।”

“যা হওয়ার হয়েছে,আমার সন্তানের যদি ক্ষতি হয়ে যায়,আমি কিভাবে সহ্য করবো সেটা??”

“আমি ও তো কারো সন্তান নিশান,আমার বাবা কি এরকম ভাবতে পারে নি সেই সময়?”

“আমি পারবো না তোমাকে বুঝাতে,আমি তোমার মা’কে পাঠাচ্ছি,তোমার সিদ্ধান্ত আমি সব সময় মেনে নিবো,কিন্তু আমার বাচ্চার অথবা তোমার যদি কোনো ক্ষতি হয় তোমার জন্য আমি সেটা মেনে নিবো না সুলতানা,সেই মুহূর্ত হবে আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত। বাঁচলে আমরা তিনজন একইসাথে বাঁঁচব,নয়তো তিনজনকেই একই সাথে মাটিচাপা দিতে হবে।”

“শুনো না”

“বলো” নিশানের গলার স্বর অস্পষ্ট,কান্নার জন্য কথা আসছে না নিশানের।

“আমাকে একটা চুমু খাবে,পুরো ১ মিনিটের? যদি মরে যাই,কষ্ট যাতে না থাকে তোমার আদর পেলাম না বলে”

নিশান এগিয়ে যায়। সুলতানার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের মধ্যে টেনে নেয়,দুজনের চোখের পানি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। জীবনে কিছু সময় আসে,যখন মুখ নিরব থাকে,অশ্রু বলে যায় সব না বলা কথা।

“নিশান,আমি জানি আজকে আমার জীবনের শেষ দিন,আমাকে তুমি মাফ করে দিও,অনেক অন্যায় আবদার করেছি,তুমি সব সময় হাসি মুখে মেনে নিয়েছো,আমার শেষ একটা ইচ্ছে পূর্ণ করো,ডাক্তার কে বলো একজন অভিজ্ঞ,বয়ষ্ক নার্স আর আমার মা’কে পাঠাতে,আমি চাই আমার মা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দেখুক আমার কষ্ট”

নিশান মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে চলে গেলো। এতো অভিমানী ও মানুষ হতে পারে তা সুলতানা কে না দেখলে কেউ বুঝবে না।অবশ্য কেউ জানে না সুলতানার অভিমানের কথা,নিশান ছাড়া।

নিশান কে ওটি থেকে বের হতে দেখে সবাই ছুটে আসে সুলতানা রাজী হয়েছে কি-না জানতে।

“সুলতানা বলেছে ভিতরে একজন অভিজ্ঞ,বয়ষ্ক নার্স আর ওর মা যাতে ভিতরে যায়,নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করে যাতে।সুলতানা সিজার করতে দিবে না।”

ডাক্তার হতাশ হয়ে মাথা নেড়ে নার্স রাবেয়া কে আসতে বলে।শায়লা বেগম তাকিয়ে আছে ফ্লোরের দিকে,সুরাইয়া বেগম ছুটে গিয়ে শায়লা বেগম কে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠে। সুলতানা কেনো এই ক্রিটিকাল সময়ে এরকম জেদ করে আছে,মেয়ের যদি কিছু হয়ে যায় তিনি কি করবেন।

শায়লা বেগম নড়াচড়া করছে না।স্থির হয়ে আছেন।নার্স আসতেই সুরাইয়া বেগম এবার আরো চিৎকার করে কাঁদতে লাগে।”শায়লা তুই যা ভিতরে,আমি সহ্য করতে পারবো না,তোর যাওয়া উচিৎ,শায়লা তুই যা”

“আমি যাবো না আপা,তোমার মেয়ে তার মা’কে যেতে বলেছে আমাকে না,আমি কেনো যাবো?আমি এখানেই থাকবো”

দুই বোনের এরকম তর্কাতর্কি নাসিমা বেগমের সহ্য হচ্ছে না।তিনি ছুটে এসে কান্না করে বলেন,”আপনারা এখন কথা কাটাকাটি করে দেরী করবেন না,আমার বৌ টা অনেক কষ্ট পাচ্ছে,বেয়াইন সাহেবা আপনি যান,ছোট বেয়াইনকে তো বৌ যেতে বলে নি,দেরি করবেন না।আমার বৌয়ের কিছু হলে আমি মরে যাবো”

সুরাইয়া বেগম চোখ মুছে ভিতরে প্রবেশ করে। ওটির দরজা অফ হয়ে যেতেই শায়লা বেগম দরজার কাছে গিয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠেন।

চন্দ্র চুপচাপ কেঁদেই যাচ্ছে,নিষাদ বারবার চন্দ্রর চোখ মুছে দিচ্ছে।কাঁদতে কাঁদতে চন্দ্র নিষাদ কে জড়িয়ে ধরে।

অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয়। নিশান চোখ বন্ধ করে এক মনে আল্লাহ কে ডেকে যাচ্ছে,স্ত্রী,সন্তান সবাই যেনো ঠিক থাকে।

অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। বাচ্চার পজিশন চেঞ্জ হয়ে গেছে। শিশুটি যে পজিশনে আছে তাতে ডেলিভারি হবে না। সে চলে এসেছে বার্থ ক্যানেলের মুখে। সেখানে তার মাথা থাকার কথা–মাথা নেই। শিশুটি বার্থ ক্যানেলে আড়াআড়িভাবে পড়ে আছে। তার অক্সিজেনের অভাব হচ্ছে।
রাবেয়া বেগম হতভম্ব হয়ে গেলেন কি করবেন,এমন না যে এরকম কেস আগে হয় নি,এটা হয়ে থাকে মাঝেমাঝে কিন্তু এখন বিষয় টা তেমন না,এরা এই হাসপাতালের মালিক,এই বাচ্চা তাদের পরিবারের প্রথম বাচ্চা,বৌ তাদের চোখের মনি,তার সামান্য ভুলের জন্য বা অসাবধানতার জন্য যদি মা বা বাচ্চা কারো কোনো ক্ষতি হয় তো নিজের প্রাণ দিয়েও তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে না।
তিনি রিস্ক নিতে পারবেন না।
ওটির দরজা খুলে রাবেয়া বেগম বের হয়ে এলেন,তিনি কিছু করতে পারবেন না।

বাহিরে কান্নাকাটির রোল পড়ে গেছে,প্রচন্ড ব্যথায় সুলতানা গলাকাটা মুরগির মতো তড়পাচ্ছে,কিন্তু ডিসিশন চেঞ্জ করছে না।নিশান আল্লাহকে ডেকেই যাচ্ছে।

সুরাইয়া বেগম তাকিয়ে আছে ওটির দরজার দিকে।শায়লা বেগম দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। সুলতানা হাত ইশারায় শায়লা বেগম কে ডাকলেন,শায়লা বেগমের পেছনে নাসিমা বেগম ও চলে এলেন,চন্দ্র ও এলো।

সুলতানা শায়লা বেগমের হাত শক্ত করে চেপে ধরে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো,নাসিমা বেগম এই প্রথমবার দেখছেন সুলতানা কে এভাবে কাঁদতে।

“আমাকে একটা বার তোমাকে মা বলে ডাকতে দিবে মা?
সারাজীবন আমি যে একটা সুযোগ খুঁজেছিলাম তোমাকে মা বলার,বিদায় বেলায় একবার মেয়ে বলে বুকে টেনে নাও”

“আমি তোর খালা সুলতানা,কেনো তোর মা’কে কষ্ট দিচ্ছিস এসব বলে? ”

“বাবার শরীরে জন্মদাগ থাকলে সেই দাগ সন্তানের ও হয়।বাবা যখন মারা যান তখন তাকে শেষ বার পানি খাওয়ানোর সময় মুখের দিকে তাকাতেই দেখেছিলাম,বাবার কপালের পাশে একটা জন্মদাগ আছে,সেই দাগ চন্দ্রর আছে,অনিতার আছে,আমার ও আছে মা।
অথচ যাকে এতোদিন ধরে বাবা বলে ডেকেছি তার শরীরে কোনো জন্মদাগ নেই,আমার ভাইদের শরীরে ও নেই।
চন্দ্র,অনিতা,আমি দেখতে হুবহু একই রকম,তবু কি তুমি বলবে আমি তোমার মেয়ে না?”

“তুই আমার মেয়ে না,বড় আপার মেয়ে”
শায়লা বেগমের কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে নিজের মেয়েকে এভাবে অস্বীকার করতে,তিনি ওয়াদা করেছিলেন কখনো মেয়েকে বলবেন না তিনি তার আসল মা।

সুলতানার জন্মের সময় তার জমজ একটি ভাই হয়,দুটো সন্তান কে নিয়ে শায়লা বেগম খানিকটা ঝামেলা তে পড়ে যান।সুলতানার দায়িত্ব নেন তখন সুরাইয়া বেগম। কিছুদিন যেতেই সুরাইয়া বেগম টের পেলেন তার স্বামী,দুই সন্তান সুলতানা কে ছাড়া কিছুই বুঝে না।একই বাড়িতে দুই বোন থাকার ফলে সুরাইয়া বেগম বেশীর ভাগ সময় সুলতানার দেখাশোনা করতেন।
বিপত্তি বাঁধে সুলতানার বয়স যখন ৭ মাস তখনই সুরাইয়া বেগমের স্বামী আলতাফ সাহেবের বদলি হয়ে যায় মফস্বল থেকে ঢাকাতে।কিন্তু তিনি সুলতানা কে ছাড়া যাবেন না কিছুতেই,এই মেয়েটিকে তিনি নিজের মেয়ে বলে দাবী করেন।

শায়লা বেগমের স্বামী মাসুদ সাহেব নিজের সন্তান কে দিতে রাজী হন না।আলতাফ সাহেবরা চলে যান ঢাকায়,ঢাকায় যাওয়ার পর আলতাফ সাহেব মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন,একটা ছোট শিশুর অনুপস্থিতি তিনি মেনে নিতে পারেন না। মাসুদ সাহেব মেয়ের নাম রেখেছিলেন সূর্যমুখী। বার বার আলতাফ সাহেব বলেন সূর্যমুখী তার মেয়ে,তার মেয়েকে তার কাছে এনে দিতে।

স্বামীর অসুস্থতা সুরাইয়া বেগম নিতে পারেন নি,শায়লা বেগম আর মাসুদ সাহেবের পা চেপে ধরতে ও দ্বিধা করেন নি সেদিন।বুকে পাথর চাপা দিয়ে শায়লা বেগম রাজী হয় মেয়েকে দিয়ে দিতে,কথা দেয় জীবনে সূর্যমুখী কে জানতে দিবে না কেউ তার আসল বাবা মা কে।

নাম বদলে রাখেন সুলতানা।

কেটে যায় অনেক বছর,চন্দ্র অনিতার জন্ম হয়,আলতাফ সাহেব মেয়েকে কখনো খালার বাড়ি বেড়াতে যেতে দেন নি,গ্রামের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখেন নি,সুলতানা যাতে কোনোভাবে জানতে না পারে।

১২ বছর বয়সে চন্দ্রর ভাই মারা যায় ছাদ থেকে পড়ে। তার পরের বছর শায়লা বেগমরাও ঢাকা চলে আসেন তারপর মারা যান মাসুদ সাহেব।
মৃত্যুশয্যায় বারবার বলতে লাগলেন আমার সূর্যমুখী কই,আমার মা কই,আমার মায়ের হাতের পানি খেয়ে আমি মরতে চাই,আমার সূর্যমুখী,আমার মা,আমার তিন কন্যা।

সুলতানা এসেছিলো,তার হাতের পানি খেয়ে তিনি মারা যান,সেদিনই সুলতানা আবিষ্কার করে তার আসল বাবা মা কে।

কখনো কাউকে বলে নি সেই কথা নিশানকে ছাড়া। আলতাফ সাহেব,সুরাইয়া বেগম,ভাইদের এতো ভালোবাসা অগ্রাহ্য করে নিজের বাবা মায়ের কাছে ছুটে আসতে পারেন নি,যেটা সবাই তার থেকে লুকিয়ে রেখেছে অনেক বছর ধরে অনেক যত্নে সেটা সে প্রকাশ করে সবার মনে কষ্ট দিতে চাই না।কিন্তু বড় বোনের দায়িত্ব ঠিকই পালন করে গোপনে।

“মা,তুমি যেমন জেদি ঠিক তেমনই আমি জেদি হয়েছি,চলে যাও তুমি ওটি থেকে,আমার শেষ সময় চলে এসেছে। নিশানকে দেখে রেখো সবাই।

চন্দ্র,আমার বোন,একটা বার আমাকে আপু বলে ডাক,মা তো মেনে নিলো না মেয়ে বলে তুই বোন বলে মেনে নে,আমার ভাইটাকে কষ্ট দিস না লক্ষ্মী বোন আমার,আমি তো থাকবো না তুই নিষাদকে ছেড়ে যাস না,তোর বোন তোর জন্য সেরা পরিবার খুঁজে দিয়েছে ”

চন্দ্র এতোক্ষণ থ হয়ে ছিলো,তারমানে সুলতানা সত্যি সত্যি তার বোন।তার জন্যই সুলতানার এতো ভালোবাসা তাদের দুই বোনের জন্য। সুলতানার হাত চেপে ধরে আপু বলে কেঁদে উঠে চন্দ্র,কালেমা পড়ে মৃত্যুবরণ করে সুলতানা।

মুহুর্তে যেনো থমকে যায় সম্পূর্ণ জগৎ সংসার।তারপর পুরো হাসপাতাল কেঁপে উঠে চন্দ্রর আপু বলে চিৎকারের সাথে।

শায়লা বেগম ফ্লোরে লুটিয়ে বসে পড়ে বাহিরে,চন্দ্র ওটির ভিতরে জ্ঞান হারায়।
ডাক্তার নার্সদের ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। নেমে আসে বিষাদ পুরো হাসপাতাল জুড়ে।

সুরাইয়া বেগম শায়লা বেগমের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। আচ্ছন্নের মতো তাকায় শায়লা বেগম সুরাইয়া বেগমের দিকে।একটা জেদের জন্য,শুধুমাত্র মা হয়ে ও নিজের মেয়েকে কাছে রাখে নি বলে তার মেয়ে তাকে শাস্তি দিয়ে চলে গেলো। শায়লা বেগমের বুক ফেটে যাচ্ছে। আর কতো
সহ্য করবেন তিনি।ছেলে,স্বামী,কন্যা চলে গেলো জীবন থেকে। সব কিছু যেনো স্লো-মোশনে হচ্ছে। শায়লা বেগম তাকিয়ে দেখছেন সুলতানার লাশ বের করে এনেছে বাড়ি নেয়ার জন্য। না সুলতানা না,তার সূর্যমুখী।
তার সূর্যমুখী কি ভীষণ অভিমানী ছিলো,সারাজীবন তাকে খালা বলে ডেকে এসেছে,এক ফোঁটা দুর্বলতা দেখায় নি কখনো তার জন্য অথচ সে জানতো তার আসল মা তিনি তবু কতো নির্বিকার ছিলো,কাউকে বুঝতে দেয় নি নিজের মনের ব্যথা।
সূর্যমুখীকে নিয়ে যাচ্ছে,তারপর পরই বাহিরে কান্নাকাটি আরো বেড়ে যাচ্ছে,কে যেনো ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। নিশান আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আর কিছু দেখতে পাচ্ছেন না। মাথা ঝিমঝিম করছে।

গোসল শেষ করে খাটিয়া তে রাখা হয়েছে সুলতানা আর নিশানের লাশ।ইমাম সাহেব জানাজা পড়ালেন।মসজিদের পাশে কবর দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হলো। পাশাপাশি কবর দেওয়া হলো দুজনকে।

চন্দ্র দ্বিতীয় বারের মতো জ্ঞান হারিয়েছে নিশানের মৃত্যুর খবর পেয়ে।হাসপাতালে আছে চন্দ্র।
জানাজা শেষ করে নিষাদ হাসপাতালে আসে।

চন্দ্রর জ্ঞান ফিরে আসে রাত ১টার পরে। চোখ মেলে দেখে নিষাদ বসে তাকিয়ে আছে তার দিকে।চন্দ্র মুহূর্তে ভুলে যায় কি হয়েছিলো।

তারপরেই মনে পড়ে বোন দুলাভাই দুজনেই চলে গেছে দুনিয়া ছেড়ে। চন্দ্র বেড থেকে লাফ দিয়ে নেমে দরজার দিকে যেতে নেয়,নিষাদ উঠে জড়িয়ে ধরে চন্দ্রকে।তারপর হঠাৎ করেই চন্দ্রর পা জড়িয়ে ধরে বলে,”ভাইয়া যেভাবে ভাবী কে ভালোবেসেছিল আমাকে সেই সুযোগ টুকু দিও চন্দ্র,তোমার অতীতে যা হয়েছে ভাবী সব বলেছে আমাকে,সেই পশুকে ভাবী নিজেই শাস্তি দিয়েছে,আমার কোনো সমস্যা নেই,আমি জানি আকাশের চন্দ্রে কলঙ্ক থাকতে পারে আমার চন্দ্রে নেই,আমাকে ছেড়ে যেও না চন্দ্র তুমি”

চন্দ্র নিষাদের সামনে ফ্লোরে বসে যায়।নিষাদের বুকে লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকে।
“আমার বোন এতো অভিমানী ছিলো কেনো নিষাদ,কেনো চলে গেলো এভাবে,আমি যে মনভরে বোনকে ডাকতে পারি নি,আপু তো বড় বোনের দায়িত্ব সবসময়ই পালন করেছে আমি যে ছোট বোনের দায়িত্ব পালন করি নি নিষাদ,আমার এই শোক আমি কিভাবে সামাল দিবো?”

নিষাদ জানে না কি জবাব দিবে।

রিকশায় করে চন্দ্র আর নিষাদ বাসায় যাচ্ছে।বাহিরে কেমন শান্ত পরিবেশ,যেনো সবাই টের পেয়েছে আজ শোকের দিন,দূরে কোথাও অস্পষ্ট গান ভেসে আসছে,”মরিলে কান্দিস না,আমার দায় রে যাদু ধন”

চন্দ্র নিষাদের বুকে মাথা রেখে হু হু করে কেঁদে উঠছে এই গান শুনে। বুকের ভিতর একরাশ বেদনা জমে আছে।

(সমাপ্তি)

কিছু গল্পে স্যাড এন্ডিং ভালো মানায়। কিছু হাসিখুশী মানুষ দুনিয়া ত্যাগ করে বুকের ভিতর কিছু অভিমান জমিয়ে রেখে।আমরা ক’জনার খবর রাখি?
কে জানে কার বুকে কিসের ব্যথা জড়িয়ে আছে। স্যাড এন্ডিং দেয়ার জন্য দয়া করে কেউ মন খারাপ করবেন না।সব গল্পের তো হ্যাপি এন্ডিং হয় না,যেমন হয় না সব মানুষের জীবনে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here