শেষ_পেইজ #পর্ব_8

#শেষ_পেইজ
#পর্ব_8

আমি বন্যা আপুর সামনে ঝুঁকে বললাম,

– সেদিন কি হয়েছিলো আপু?

বন্যা আপুর চেহেরাটা পুরো চেঞ্জ হয়ে যায়। চোখ গুলো রক্তঝড়া চোখ যেন। চোয়াল টা এত দৃঢ়।

আমার দিকে তাকাতেই আমার শিড়দাঁড়া দিয়ে যেন ঠান্ডা স্রোত নেমে যাচ্ছে।

-কি হয়েছিলো আপু? তুমি ছাড়া তো আর কেউ বলতে পারবে না।

বন্যা আপু অনেকক্ষন চুপ থেকে দুইহাত মুখে চেপে জোরে একটা নিঃশ্বাস নিলেন। তারপর বলতে শুরু করলেন,

– আবীর রোজ রাতে বাসায় ঢুকে আমাকে চেয়ারে বেঁধে আমার হাতে ইঞ্জেকশন দিতো । আমার জোর করার শক্তি থাকতো না।
মাঝেমধ্যে ডোস এত বেশি থাকতো যে দুই দিন আমার কোন হুশ থাকতো না।

গত কয়েক মাস ধরে আবীর মাতাল হয়ে বাসায় ফিরতো।
আমি একবার নেশার ঘোরে থাকার শর্তেও আবীরকে আঘাত করার চেষ্টা করি।

তখন আবীর বলে, আমি নাকি এত খারাপ আমার কাছে একাও আসা যাবে না।
আমাকে শাস্তি দেওয়ার আবীর তখন সর্বনিম্ম কাজ টা করা শুরু করলো।আবীর বাড়ি ফেরার সময় টাকা দিয়ে ভাড়া করা মেয়ে আনতে শুরু করে৷
আমাকে শাস্তিও দেওয়া হলো ওর একাও থাকা হলো না।

এইভাবে নরক যন্ত্রণা দিতো সে আমাকে। আমার সামনেই বিছানায় অন্য মেয়ের সাথে-

বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলেন বন্যা আপু। আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে৷ মানুষ এত নীচ কীভাবে হতে পারে?

আমার শরীরে তখন অল্প নেশায় কাজ হচ্ছিলো না। আমি জেগে থাকতাম।
ও যখন এইসব করত আমি বক বক করতাম মেয়ে গুলোকে আজেবাজে কথা বলতাম তাই অনেকেই চলে যেত। আবীর এতে অনেক ক্ষিপ্ত হয়ে যেতো। মেয়েগুলো চলে যাওয়ার পর আমার সাথে অত্যাচার করতো৷ মারধোর করতো। আমি আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে কান্না করতাম। কেউ কখনো আসে নি আমাকে বাঁচাতে। আমি বুঝে গিয়েছি কেউ আসবে না আমাকে বাঁচাতে।

তাই আমি একদিন ঠিক করি। সেদিনও আবীর একটা মেয়ে নিয়ে হাজির হলো। আমি অন্য রুমের ফ্লোরে পড়ে রইলাম।

মেয়েটা চলে যাওয়ার পর আবীর যখন ক্লান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকে আমি ধীরে ধীরে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার গায়ের সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যায় পানির জগ।

আবীরের ঘুম ভেঙে যায় সে উঠে আমাকে তার ফ্লোরে পড়ে থাকা বেল্ট দিয়ে আমাকে মারতে শুরু করে, সেটা যখন ছিড়ে যায়, এরপর সে বেড উল্টে লোহার রড দিয়ে আমাকে মারে। এই রড টা সেই রেখেছিলাম যাতে আমি বিছানায় ভয় না পায়।

কিন্তু পানি জগ ভেঙে পড়ায় ফ্লোরে পানি হয়ে যায়৷ আবীর মাতাল ছিলো তার উপর ক্লান্ত৷ সে পানিতে পা পিছলে ফ্লোরে পড়ে যায় । আমি তাড়াতাড়ি উঠে সে লোহার রড টা দিয়ে ওকেই মারি হাতে।

আবীর আবার উঠে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু পা কাঁচ ডুকে যাওয়ার কারণে পারে না৷ তখন সে হাত দিয়ে আমার চুল ধরে। আমি খাটের পাশে ধাক্কা খাই।
বেডের নিচে লোহার রড ছাড়াও আরো একটা জিনিস ছিলো। সেটা হলো ধারালো দা। যা আবীরেই রেখেছিল বেডের নিচে যখন আমি প্রেগন্যান্ট ছিলাম। সে দা টা নিয়ে আমি সোজা কোপ দিই ওর হাতে। সেটা আলাদা হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।
সে জোরে চিৎকার করে উঠে।
আমি বুঝাতে পারব না আমার এক ধরনের সুখ অনুভূতি হয়েছিলো৷ যেমন সুখ সন্তানের কান্নায় মায়েরা পায়।

আমার তখন আমার সব অপ্রাপ্তি যেন হুড়মুড় করে বের হয়ে আসতে চাইলো।
আমি জোরে কোপাতে লাগলাম একে একে আবীরের হাত পা।
কারণ আবীর যদি পারতো হাত পা যা পারতো তা দিয়েই আমাকে খুন করতো৷

আমি নিজেকে বাঁচাতে আবীরকে আঘাত করেছি।
বন্যা আপু দুহাতে মুখ ঢেকে হাটু মুড়ে দিয়ে মাথা গুজে কান্না করতে করতে বলতে লাগলো৷

আমি নিজেকে বাঁচাতে আবীর কে আঘাত করেছি।

বন্যা আপুর সাথে কান্না করছে সবাই। পুলিশ ডাক্তার নার্স। রায়হান ভাইয়া।। আমিও।

আমি যেন কোন শব্দেই খুঁজে পাচ্ছি না।
তখন রায়হান ভাইয়া বন্যা আপুর কাঁধে হাত রেখে বলল,
– তুমি কোন ভুল করো নি। তুমি দোষী নও৷ দোষী ওরা যারা এতদিন তোমাকে এত অত্যাচার করেছে। তুমি আত্মরক্ষা করার জন্য করেছিলে। যা করেছো।
আমি তোমার জন্য শহরের সেরা উকিল ঠিক করবো। শাস্তি ওরা পাবে। তুমি না।

আমি উঠে বন্যা আপুর কাছে গেলাম এখন আর নিজেকে আটকাতে পারলাম না। বন্যা আপুকে জড়িয়ে ধরলাম।

বন্যা আপু কান্না করে যাচ্ছে। আমি বললাম,

-রায়হান ভাইয়া একদম ঠিক বলেছে। তুমি দোষী নও৷ দোষী ওরা। তোমাকে আমি শাস্তি পেতে দেব না।
তোমার সন্তান তোমার কাছে ফেরত দেব আমি। আই প্রমিজ।

বন্যা আপু বলে উঠলেন, সত্যিই? তুই পারবি আমার সন্তান দের আমার কাছে ফিরিয়ে দিতে?

আমি মাথা নেড়ে সায় দিতে আপু আবার আমাকে ঝাপ্টে জড়িয়ে ধরে। মনে হচ্ছিলো এই জীবনে বন্যা আপুর ঋণ আমি শোধ করতে পারবো বন্যা আপুর এই সুখ ফিরিয়ে দিয়ে।

কিন্তু সেদিনে সে আলিঙ্গনেও আমি বুঝতে পারি নি। আমি কি ভুল করতে চলেছিলাম। আমিই ছিলাম একটা দাবার গুটি।

-চলবে।

আগামী পর্বে শেষ পর্ব তাই এইটা একটু ছোট হলো।

অনেকে জানতে চেয়েছেন আমার বই আছে কিনা? তাদের জন্য বলছি আমার বই আছে ‘অভয়াচারিণী ‘। আপনারা রকমারীতে বা আমার আইডিতে অর্ডার লিংক পাবেন।

#দোলনা_বড়ুয়া_তৃষা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here