শেষ_পেইজ #পর্ব_7

#শেষ_পেইজ
#পর্ব_7

আমি চেয়ারে হেলান দিয়ে দুই হাতে কলম টা ধরে তাকিয়ে আছি উনার দিকে।

বললাম,

– আপনি খুব ভালোবাসতেন বন্যা আপুকে, তাই না?

উনি চুপ করে থেকে আমার দিকে তাকালে।

– তুমি যা ভাবছো তা একদম না। হ্যাঁ, আমি গিয়েছি তবে আমি বন্যার বলার পর ওর বাসায় গিয়েছি। তুমি যদি চাও আমি তোমাকে মেসেজ গুলো দেখাতে পারো।

পকেট থেকে মোবাইল বের করে উনি মেসেজ গুলো দেখালেন। খুব বেশি কনভাসেশন না থাকলেও আমি দেখলাম ইনবক্স গুলো।

-বন্যা আপুর গায়ে মারের দাগ, আর হাতে ইঞ্জেকশন এর দাগ গুলো নিয়ে আপনি কি বলবেন?

– এই গুলো আবীরের কাজ তা বলার কি আর কোন অপেক্ষা রাখে? সে লোক টা যে এত দিন বেঁচে ছিলো সেটায় ছিলো পৃথিবীর জন্য অভিশাপ।

– আপনারা সবাই জানতেন বন্যা আপুর সাথে কি হচ্ছে। তাও কেউ কেন কোন একশন নেন নি? আপনারা সবাই কি দোষী নয়?

– দেখো আমি যা জানি তা আমি বলেছি। আমি স্বেচ্চায় এসেছি থানায় তুমি আমাকে দোষী বানাতে পারো না বা আমাকে কোন জোড়জবস্তি।
আবার লাগলে ফোন দিবে। আমার মিটিং আছে৷ আমি আসি।

উনি উঠে বের হয়ে যাচ্ছিলেন। তখনিই আমার ফোন বেজে উঠলো,
অঙ্কিতার ফোন,
– এই শোন, বন্যা আপুর জ্ঞান ফিরেছে।
– বন্যা আপুর জ্ঞান ফিরেছে?

আমার কথা শুনে থেমে গেল রায়হান ভাইয়াও।

-তুই তাড়াতাড়ি চলে আয়।

– আচ্ছা আসছি। উনাকে জাগিয়ে রাখ।

– আচ্ছা।

আমি ফোন রেখে বের হচ্ছিলাম, তখন রায়হান ভাইয়া বলল,

-আমিও যাবো। না হলে পুলিশ ওর সাথে দেখা করতে দেবে না৷

– কিন্তু এইটা আমি পারি না৷

উনি আমার হাত ধরে ফেললেন, তুমি আমাকে একবার ওর সাথে কথা বলতে দেবে। আর আমি ছাড়া আর কেউ তো নেই ওর। একটা মানুষ এই জ্ঞান ফেরা অবস্থায় কোন প্রিয়জন তো দেখতে চায়।

আমি বললাম, চলেন।

আমরা হাসপাতালে ঢুকতেই, দেখলাম বন্যার আপুর কেবিনের সামনে বিরাট জটলা। উনি সমানে চিৎকার করে যাচ্ছেন।

আমি ভীড় ঠেলে এগিয়ে যেতে অঙ্কিতা ফাইলে মুখ ঢেকে রেখেছে মাথা নিচু করে আছে।

আমি ওর গায়ে হাত দিতেই ও আতৎকে উঠলো।

-তুই? যা সামলা। উনি যে এমন পাগল হয়ে গিয়েছেন। তা কি করে জানবো?

– কি হয়েছে?

– যা সামনে পাচ্ছে ছুড়ে মারছে। উনার শরীর ড্রাগস চাইছে। একহাতে হ্যান্ডকাপ দিয়ে বাঁধা আছে বলে বেঁচে গেসি।

আমি ঢুকতে চাইলাম।।আমাকেও সমানে মেরে যাচ্ছে জিনিস।

আমাকে ঠেলে রায়হান ভাইয়া ঢুকলো এইবার।
উনাকে দেখে বন্যা আপু চুপ হয়ে গেলো। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,

রায়হান ভাইয়া বন্যা আপুকে বলল,

– শান্ত হও বন্যা।

-তুমি?

-হ্যাঁ, তুমি নিজেকে শান্ত কর প্লিজ।

বন্যা আপু নিজেকে অনেকটা সামলে নিলেন,

আমি কেবিনে ঢুকলাম, বন্যা আপুকে আগের চেয়ে অনেক ভালো দেখাচ্ছে। ইউনিফর্ম পরা আমাকে দেখে উনি প্রথমে ঘাবড়ে গেলেন।

আমি গিয়ে চেয়ার টেনে বসে একটা হাসি দিলাম,
মনে হলো আমাকে চিনতে পারছেন,

আমি হেসে বললাম,

– বন্যা আপু আমাকে চিনতে পেরেছো?

উনি ভ্রু কুচকে তাকালেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রুক্ষ ঠোঁট গুলো যেন আরেক টু জোরে হাসলে ফেটে রক্ত পড়বে। যা দেখে আমার মনটা আবারো খারাপ হয়ে গেল।

– লাবণী তুই? কত বছর পর দেখলাম।

আমার ইচ্ছে করছিলো ঝাপ্টে গিয়ে বন্যা আপুর বুকে পড়ি। কিন্তু ডিউটিতে তাই সামলে নিলাম নিজেকে।
উনার এক হাত বেডের সাথে হ্যান্ডকাপ লাগানো।
অন্য হাত উচু করতে আমি এগিয়ে গেলাম, আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে লাগলেন,

– কত বড় অফিসার হয়ে গেলি তুই। বিয়ে শাদী করেছিস?

– হ্যাঁ। একটা ছেলে আছে আমার।

উনি হাসার চেষ্টা করছেন। তখন অঙ্কিতা ঢুকলো।
-আপু,
বলে ডাক দিলো।
বন্যা আপু ওকে চিনতে পারে নি।
আমি বললাম, তোমার ডাক্তার বুড়িটা। এই হাসপাতালে আছে। তোমার চিকিৎসা এই করাচ্ছে।

উনার চোখ গুলো পানিতে চকচক করছে। হয়ত একটা মায়া।

তখন রায়হান ভাইয়া বলে উঠলো,

-ওরা দুজনে মিলে তোমার জন্য যা করেছে।

আমি বললাম,

– বন্যা আপু আমাদের জন্য কি ছিলো তা তো আপনি জানেন না। বন্যা আপুকে এই অবস্থায় এইভাবে দেখবো ভাবতে পারি নি কোনদিন।
এখনো তেমন কিছুই করা হয় নি বন্যা আপুর জন্য।
বন্যা আপু রায়হান ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
– আবীর?
-বেঁচে আছে, এই হাসপাতালে।

আমি বন্যা আপুর দিকে তাকিয়ে বললাম,

-তোমাকে হয়ত দ্রুত আবার জেলে নিয়ে যাওয়া হবে। এই কেসের ইনচার্জ আমি না। সে দুদিন ছুটিতে আছে তাই আমি আছি এখন৷ সে ফিরে এলে সে তোমাকে দোষী বানিয়ে ছাড়বে। তাই তোমার যদি এখন বলতে কষ্ট না হয়। আমি তোমার জবানবন্দী নিতে চাই। আমি চাই না যা তুমি কর নি তার শাস্তি তুমি পাও।

বন্যা আপু আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন, আমি এইবার জিজ্ঞেস করলাম,

-তুমি কি আবীর ভাইয়ার এই অবস্থা করেছো? আমি শুনেছি বিয়ের পর তোমার সাথে যা যা হয়েছে। আবীর ভাইয়ার ফ্যামিলি তোমার মা বাবা। তোমার বাচ্চারা৷ সব।
কিন্তু সেদিন কি হয়েছিলো কেউ জানে না। কেন তোমার গায়ে এত মারের দাগ। কেন তুমি ড্রাগস নাও। প্লিজ বলো, কি হয়েছিল সেদিন?

আমার কথা শুনে বন্যা আপু প্রথমে কান্নায় করে দিলো। হিচকি দিতে দিতে বলল,

-তুই যে সবার মতো আমাকে দোষী বানিয়ে ফেলিস নি সেটায় ভালো লাগছে।
জানি না তোকে সবাই কী কী বলেছে? ওদের ভাষায় আমি সাইকো। আমি সবাইকে খুন করেছি। আমার সন্তান দের। আবীর কে অত্যাচার করতাম।

– হুম।

– তারা বলে নি আমার শরীরে এইসব কিসের দাগ? কে করেছে৷ কি হয়েছিলো আমার সন্তানদের সাথে?

– কোথায় এখন ওরা তুমি জানো?

বন্যা আপু মাথা নিচু করলো।

-তুমি জানো ওরা বেঁচে আছে?

– হ্যাঁ। অর্পিতা আর আবীর মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে৷

-কখন জানতে পেরেছিলে তুমি?

– আমার সেকেন্ড বেবিটা হওয়ার পর। আমি কখনো অর্পিতার বাড়ি যাই নি। আবীর আমাকে যেতে দিতো না। ও বাইরে গেলে আমাকে ঘরে তালা মেরে যেতো।
আবীর আর অর্পিতার আমার উপর আক্রোশ টা ছিল চিরকাল। আমার জন্য তাদের বাবা মারা গিয়েছে৷ মা। ওদের ঘর। মান সম্মান সব।
আবীর যখন আমাকে ফেলে চলে আসে। আমি নিজেকে সামলাতে পারতাম না। আবীরকে ছাড়া আমার ভালো লাগতো না। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতো। শুধু ওকে দেখলে ওর একটা হাসি শুনলেই আমার সব ক্লান্তি চলে যেতো।

যখন জানলাম আমি প্রেগন্যান্ট, আমি আবীরের বাড়িতে ফিরে গেলাম। কিন্তু ওখানে কেউ আমার সাথে কথা বলতো না। আবীর আমাকে তালা মেরে রেখে যেতো। আমি কিছুই করতে পারতাম না।

আমি কিছু বললেই আবীর আমার গায়ে হাত তুলতো। আবার ক্ষমা চাইতো। আমিও বার বার মাফ করে দিতাম। আমি যে ওকে ভীষণ ভালোবাসতাম।

বলেই উড়না টেনে মুখ ঢেকে কান্না করতে লাগলো বন্যা আপু। আবার সেই কষ্ট টা আবার লাগছে।

বন্যা আপু থেমে গেল, আবীর বার বার আমাকে মিথ্যা বলতো, আমার সন্তান জম্ম নেওয়ার পর ওদের লুকিয়ে আমাকে বলেছে তারা মারা গিয়েছে৷

যখন দ্বিতীয় বার আমার সন্তান হলো, আমি তার কান্না শুনেছি। কিন্তু যখন আমার হুশ ফিরে তখন আমাকে বলা হয় বাচ্চাটা মারা গিয়েছে৷ আমার বিশ্বাস হয় নি৷ আমি জানতাম আমার বাচ্চা বেঁচে আছে। আমি চুপ থাকি। অপেক্ষায় থাকি আবীরের কোন ভুলের জন্য।

আবীর আমাকে বাসায় নেওয়ার পর একদিন বিকালে বের হয়ে মার্কেটে যায়। আমিও যাই ওর পেছন পেছন। গিয়ে দেখি ও বাচ্চাদের ড্রেস কিনে অর্পিতার বাসায় যায়।

আমিও ওর বাসায় যেতেই সেই বেবির কান্নাটা আবার শুনতে পাই। আমি দৌঁড়ে গিয়ে আমার বাচ্চাটা কোলে নিই। যে সন্তান পেটে এত গুলো মাস থাকে তাকে বলতে হয় না এই তোমার মা। মাকেও বলতে হয় না কোন টা তার সন্তান৷ এই অনুভূতি টা সব মাকে সৃষ্টিকর্তা দেয়।

সেদিন বাসা ভর্তি মানুষ ছিল ওদের। অনুষ্ঠান হচ্ছিলো৷ আমি সবার সামনে বুকে দুধ খুলে ওকে খাওয়ালাম৷ তার কান্না বন্ধ হয়ে গেল।
সবাই তাকিয়ে রইলো।

আবীর আর অর্পিতা এসে আমাকে বলল,

-কি করছ তুমি?

আমি আবীরের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-এইটা আমাদের সন্তান। এই কান্নায় আমি শুনেছি।

আবীর যেভাবে মুখে বিরক্তি টেনে আমার কোল থেকে বাচ্চাটা নিতে চাইলো আমি অবাক হয়ে তাকালাম। সেদিন জানলাম আবীর সব জানতো।
অর্পিতা জোর করে আমার কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে নেয়।
আমি চিৎকার করে উঠলাম।

-এইটা আমার সন্তান আমাকে দিয়ে দাও তুমি৷

অর্পিতা সবার দিকে তাকিয়ে বলল,

– আমার ভাবী, কিছু দিন আগেই ডেলিভারিতে বাচ্চা মারা গিয়েছে তাই। পাগল হয়ে গিয়েছে।

আমি আরো জোরে চিৎকার করে উঠলাম।

-মিথ্যা কথা। মিথ্যা কথা বলছো তুমি। এইটা আমার সন্তান। তুমি হঠাৎ কোথায় পেলে?

-আমি এত দিন যে প্রেগন্যান্ট ছিলাম সবাই দেখেছে। বড় করে অনুষ্টান হয়েছে।
আমার সন্তান এইটা।

অনেক জোরে চেচামেচি হচ্ছে তাই অর্পিতার ভেতরের রুম থেকে কেউ বের হয়ে আসতেই,ও চেঁচিয়ে উঠল,

-তুমি কেন আসছো? যাও।

আমি বসা অবস্তায় মাথা বাঁকা করে দেখলাম একটা সাত বছরের মেয়ে। দেখতে একদম আমার মতো। আমার মতো চুল, চোখ, হাত পা গায়ের রং।

সেও অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।

-এইটা কে মাম্মা?

-তোমার মামী।

আমি দ্রুত উঠে দাঁড়ালাম। ওকে বুকে নিতে চাইলাম। অর্পিতা মাঝে এসে দাঁড়ালো৷

-আমার মেয়ের থেকে দূরে থাকো তুমি।

-এই মেয়েটা তোমার মেয়ে হলে আমার মতো দেখতে কেন? আমার মতো চুল, চোখ, মুখ।
এইটাও আমার মেয়ে তাই না? যাকে তোমার আমার কাছ থেকে এতদিন লুকিয়ে রেখেছো৷

আমি আবীরের দিকে তাকালাম। আবীরের চেহেরা দেখে মনে হচ্ছে না ও অবাক হয়েছে।

আমি জোরে চেঁচিয়ে উঠলাম।

-সবাই আমাকে মিথ্যা বলেছো৷ তোমরা ঠক।

সবার দিকে তাকিয়ে বললাম,
-আপনারা বলুন। এই মেয়েটা আমার মতো না দেখতে?

অনেকে মাথা নাড়ালো। গুন গুন করে উঠলো। হ্যাঁ তো।

অর্পিতার স্বামী ওর কাছে এসে বলল,

-এইসব কি বলছে তোমার ভাবী?

– আরে ওর মাথা খারাপ তুমি জানো না? তাই তো আবীর ওকে তালা মেরে রাখে। ওর কথা তুমি বিশ্বাস করছো?

আমি আবার চেঁচিয়ে উঠলাম, যে মেয়েকে আমি কোন দিন দেখি নি সে আমার মতো কি করে হয়? যেদিনেই আমার সন্তান মারা গেল সেদিনেই তোমার সন্তান কি করে হয়?

আমার কথায় সবাই কথা বলা শুরু করেছিলো।
তখন আবীর আর অর্পিতা অবস্থা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে আবীর এগিয়ে এসে আমাকে টানতে শুরু করলো।

-চলো তোমার ওষুধের টাইম হয়েছে। ওষুধ না খেলে কি সব কর? কি সব বল তুমি?

আমি আবীর কে জোরে ধাক্কা দিলাম, ও ফ্লোরে পরে গেল। আমার এত রাগ হয়েছিলো। আমি আবীরকে এলোপাতাড়ি ঘুসি মারতে রাখলাম। এত গুলো বছর আমাকে এত যন্ত্রনা দিয়েছে এই লোক টা। শুধু ভালোবাসি বলে সহ্য করে গিয়েছিলাম সেদিন সব রাগ যেন বের হয়ে আসতে চাইছিল৷

বোনের ঘর বাঁচাতে কেউ নিজের সন্তান দিয়ে দেয়?

তখন অর্পিতা চিৎকার করতে লাগলো৷

-দেখুন দেখুন, ও যে পাগল তার প্রমাণ দেখুন। পাগল না হলে কেউ স্বামীকে এইভাবে মারে?

এই কথা শুনে আমি অর্পিতার দিকে এগিয়ে যেতেই ও স্বামী সহ আরো অনেকেই আমাকে ধরে ফেলল। সেদিন সবার চোখে আমি আস্ত পাগল হয়ে গেলাম।

এই কথা বলেই থামলেন বন্যা আপু। আমি নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসলেও আমি দেখলাম অঙ্কিতা ফ্যাসফ্যাস করে কান্না করছে।

বন্যা আপু আবার বলতে লাগলেন,

আমাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে আবীর বলেছিলো,

-আমিই দিয়েছি বাচ্চাগুলো। তোমার জন্য শুধু তোমার জন্য আমার বাবা মারা গেসে। মা পাগল হয়ে মারা গিয়েছে। অর্পিতা নরকের জীবন যাপন করেছে। মা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে। শুধু তোমার সাথে পালানোর জন্য৷ আমি এত বলার পর সেদিন তুমি আমার কথা শোন নি৷ আমাকে পালাতে বাধ্য করেছো৷

আমি অবাক হয়ে বলেছি, তুমি বাধ্য হয়ে পালিয়েছিলে। আমাকে ভালোবাসতে না?

আবীর পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে বলেছিলো,

– পাগল হয়ে গিয়েছিলাম যে তোমার মতো মেয়েকে আমি ভালোবেসেছি। সাইকো তুমি। পাগল। আমার জীবন শেষ করে দিয়েছো। সব সুখ কেড়ে নিয়েছো৷ তাই আমিও তোমাকে কোন সুখ দেব না। অর্পিতা স্বামী যদি জানতে সে কখনো মা হতে পারবে না। তাহলে হয়ত ছেড়ে দিতো৷ তাই আমি এত গুলো বছর তোমাকে সহ্য করে গিয়েছি।তোমার পাগলামী। যাতে ওকে ওর সুখ দিতে পারি। ধরে নাও এইটা আমার প্রশ্চচিত্ত
কিন্তু আর না এইবার তোমাকেই আমি পাগল বানিয়ে রাখবো।

তখন থেকে জোর করে করে আবীর আমায় ড্রাগস দিতো। আমি নিতে না চাইলে আমাকে হুমকি দিতো সে বাচ্চাদের খুন করবে। নইলে আমাকে মারধর করতো। খেতে দিতো না৷ চেয়ারে বসিয়ে বেঁধে রাখতো।

যাতে দুনিয়ার কাছে আমি পাগল থাকি। আমি রায়হানের সাথে যোগাযোগ করি। আবীর না থাকলে আলাদা চাবি দিয়ে রায়হান আমার জন্য ওষুধ আর খাবার নিয়ে যেত।

বন্যা আপু হু-হু কাঁদছে আবার।

আমি বললাম,
-আপনি পুলিশ কে খবর দেন নি কেন?
-কীভাবে দেব? সবার কাছে যে আমি পাগল ছিলাম।

আমি বন্যা আপুর সামনে ঝুঁকে বললাম,

– সেদিন কি হয়েছিলো আপু?

বন্যা আপুর চেহেরাটা পুরো চেঞ্জ হয়ে যায়। চোখ গুলো রক্তঝড়া চোখ যেন। চোয়াল টা এত দৃঢ়।

আমার দিকে তাকাতে আমার শিড়দাঁড়া দিয়ে যেন ঠান্ডা স্রোত নেমে যাচ্ছে।

-চলবে।

অনেকে জানতে চেয়েছেন আমার বই আছে কিনা? তাদের জন্য বলছি আমার বই আছে ‘অভয়াচারিণী ‘। আপনারা রকমারীতে বা আমার আইডিতে অর্ডার লিংক পাবেন।

#দোলনা_বড়ুয়া_তৃষা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here