শুধু_তুমি_চাও_যদি 🥀 #পর্ব – ০৯

#শুধু_তুমি_চাও_যদি 🥀
#পর্ব – ০৯
#লেখনীতে – Aloñe Asha [ছদ্ম নাম]
#Kazi_Meherin_Nesa

আদিত্য — কারণ এখানে আসার পর থেকে তোর মাথায় কিসের প্ল্যানিং চলছে সেটা জানা হয়ে গেছে আমার তাই ওকে নিয়ে আর একটা কথা শুনতে চাইনা আমি তোর মুখে..

আদির কথা শুনে থতমত খেয়ে যায় ধ্রুব, আদির তো ওর প্ল্যানিং সম্পর্কে জানার প্রশ্নই ওঠেনা তাহলে জানলো কিভাবে..?

ধ্রুব — ক..কি বলছিস এসব তুই?

আদিত্য — কি বলছি সেটা তো তুই আমার থেকে বেটার জানবি তাইনা?

ধ্রুব — দেখ তুই তোর নিজের দোষ আমার ঘাড়ে ফেলার চেষ্টা করিস না আদি, তুই দিয়ার সাথে মিসবিহেভ করেছিস!

আদিত্য — হ্যা করেছি, আমি জানি সেটা আমার ভুল ছিলো..ইন ফ্যাক্ট আমি এখন রিয়ালাইজ করছি যে এখন অব্দি ওর সাথে আমি যতো খারাপ ব্যবহার করছি সব আমার ভুল ছিলো..

ধ্রুব ভাবতেই পারেনি যে ওর চাল উল্টো ওর ওপরই ভারী পড়ে যাবে..আদির সামনে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না ও কারণ ও বুঝে গেছে এখন মুখ খুললে আদি ওকে ছাড়বে না..

আদিত্য — তুই কি ভেবেছিস তোর কথা ভেবে আমি ওকে অবিশ্বাস করেছি, সকালে এটাই আমার রাগের কারণ ছিল তাইতো? নো..! আমার রাগের কারণ ছিলি তুই..দিয়ার আশেপাশে তোর ঘোরাঘুরি.. দিয়া আমার ম্যারেড ওয়াইফ জানার পরও তুই রাস্তার কতগুলো চিপ ছেলেদের মতো ওর সাথে চিজি হচ্ছিলি.. তবে মজার ব্যাপার কি জানিস? আমি না বলার পরও আমার বউ সেটা বুঝে গেছে যে তোর জন্যেই আমি রাগ করেছি ওর ওপর..তুই তো আবার দিয়ার সামনে ভালো সাজার নাটক করছিলি খুব, মহান হতে গেছিলি তাইনা? আমাকে ভুল বুঝিয়ে তুই দিয়াকে নিয়ে নিবি, আর আমি চুপ করে দেখবো?.. এতোই সহজ সবকিছু?

ধ্রুব শকড হয়ে তাকিয়ে আছে, মাথাতেই আসছে না ও তো কাওকে কিছু জানায়নি তাহলে আদি জানলো কোত্থেকে এগুলো? আদি ওর কলার ছেড়ে দিয়ে ওকে একরকম ধাক্কাই দেয়, কিছুটা দূরে ছিটকে যায় ধ্রুব..এরপর আদি তাচ্ছিল্যের সুরে বলে ওঠে..

আদিত্য — তুই কি ভেবেছিলি, তুই এসে বলবি দিয়ার সাথে তোর সম্পর্ক আছে আমি মেনে নেবো?..হ্যাংলার মতো দিয়ার হয়ে দুটো কথা বলবি, আমাকে ভুল বোঝাবি যে তোদের মধ্যে সম্পর্ক আছে আর আমি দিয়াকে অবিশ্বাস করতে শুরু করবো? এতটা ইডিয়ট ভাবিস আমাকে তুই? আরে দিয়াকে আমি তখন থেকে চিনি যখন ও দুটো ছোট ছোট ঝুঁটি বেধে, বেবি ফ্রক পড়ে ঘুরতো, আমাদের বাড়িতে আসতো.. সেই মেয়েকে আর নিজেকে তুই আমার সামনে লাভ কাপল হিসেবে প্রেজেন্ট করার ভালো প্ল্যান করেছিলি

আদি পয়েন্ট টু পয়েন্ট সব এমনভাবে তুলে ধরছে দেখে ধ্রুবের মাথা হ্যাং হয়ে যায়, কোথায় কি ভেবেছিল আর এখানে তো পুরো উল্টো হয়ে নিজেই ধরা খেয়ে গেলো..তবে নিজেকে বাঁচাতে তো কিছু বলতে হবে এখন, তাই ধ্রুব বলে ওঠে..

ধ্রুব — এসব কি বলছিস তুই? সব তোর মন গড়া কথা, আমি..আমি কেনো এরকম করতে যাবো!

আদিত্য — নো মোর ওয়ার্ডস..! নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে আর কি লাভ আছে ধ্রুব? সবটা জানা হয়ে গেছে আমার তোর সম্পর্কে, তুই কি কেমন আর কি করতে চাইছিলি সব..তবে খারাপ লাগছে আমার এটা ভেবে যে তুই আমার এতদিনের বন্ধু হবার পরও আমারই সাথে এটা কিভাবে করতে পারলি? গিলটি ফিল হলো না তোর এক মুহূর্তের জন্যেও?

ধ্রুব — কি প্রমাণ আছে তোর কাছে যে তুই যা বলছিস এগুলো সত্যি? আমি যে এগুলো বলেছি তার কি প্রমাণ আছে?

এতকিছুর পরও ধ্রুব নিজের হয়ে সাফাই গাইছে দেখে আদির আরও রাগ হচ্ছে, তবে ও ধ্রুবের ওপর হাত তুলতে চায় না, ডান হাত দিয়ে কপালটা চেপে ধরে নিজেকে কন্ট্রোল করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে ও..

আদিত্য — ব্যস ধ্রুব..! তুই ভুল করেছিস সেটা স্বীকার করে নে..! কেনো শুধু শুধু এসব বলে নিজেকে আমার সামনে আরো ছোটো করে দিচ্ছিস?

ধ্রুব — আর যদি আমি বলি তুই নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিস তাই আমার নামে এইসব বলছিস?

আদিত্য — প্রমাণ চাই তো তোর..? ফাইন..! দেখ তো এই ভয়েস নোটটা চিনতে পারিস কিনা..!

আদি ওর ফোন থেকে একটা রেকর্ডিং প্লে করে, সেখানে নিজের কথা নিজের কানে শুনে চুপসে যায় ধ্রুব..হ্যা এটা তো ওরই বলা কথা.. গত রাতের কথা এগুলো যখন ও নিজের বোনের সাথে কথা বলছিল.. আদি কিছুটা প্লে করেই আবার বন্ধ করে দেয়, ধ্রুব একদম মুখে কুলুপ এঁটে নিয়েছে এবার..

আদিত্য — এইটুকু প্রমাণই আশা করি তোর জন্যে যথেষ্ট, এইতো ২৪ ঘণ্টা আগের কথা এগুলো, নিশ্চয়ই ভুলে যাসনি যে কি কি বলেছিলি তুই..! নিজের গলার আওয়াজ চিনতে পেরেছিস তো?

ধ্রুব — এ..এটা তুই কোত্থেকে পেলি..? তুই আমার ওপর নজর রাখছিলি?

আদিত্য — নাহ, তবে ভাবতে পারিনি তুই যে এমন একটা জঘন্য কাজ করতে পারবি.. কাল রাতে তুই তোর বোনের সাথে কথা বলছিলি, বাইরে বসে..আমিও এখানেই ছিলাম তখন, ঘুম আসছিলো না বলে বাইরে এসেছিলাম..ভাগ্যক্রমে তোর প্ল্যানিং এর কথা তোর মুখ থেকেই শুনে নিয়েছিলাম..
.
.
ফ্ল্যাশব্যাক শুরু…

গত রাতে দিয়া আদিকে জোর করে শুইয়ে দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু আদির ঘুম আসেনি কিন্তু দিয়া ঘুমিয়ে গেছিলো..অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করার পরও যখন ঘুমাতে ব্যর্থ হলো আদি তখনই ও উঠে বাইরে চলে আসে, তখন ধ্রুব ওর বোনের সাথে কথা বলছিল ফোনে..রাত হওয়ায় একদম সুনসান ছিলো চারপাশ, তাই ধ্রুবের কথাগুলো একদম পরিষ্কার শুনতে পেয়েছিল আদি..ধ্রুব বলছিলো..

ধ্রুব — জানিস আপু, আমার মনে হয় আমি দিয়াকে একেবারে হারিয়ে ফেলিনি, ওকে আমি আমার কাছে ফেরাতে পারবো..আদির সাথে ও না একদম ভালো নেই, আমি চেষ্টা করছি ওকে, ওকে আমার কাছে ফেরানোর..আজকে আদিকে আমি যা বলেছি তারপর আমি নিশ্চিত আদি দিয়াকে ভুল বুঝবেই

আদি থ হয়ে যায়, কি বলছে এইসব ধ্রুব? ও দিয়াকে নিজের কাছে ফেরানোর চেষ্টা করছে? কিন্তু কি লাভ হবে ওর এসব করে? দিয়া তো ওকে ভালোবাসে না আর এই ব্যাপারে আদি শতভাগ নিশ্চিত..! ওপাশ থেকে ধ্রুবের বোন কিছু একটা বলেছে সেটা শুনে ধ্রুব উত্তর দেয়..

ধ্রুব — আপু আমি কোনো ভুল করছি না, যেটা করছি সেটা দিয়ার ভালোর জন্যে..আপু, আমি ওকে অনেক ভালোবাসি সেটা তো তুইও জানিস..আর ভালোবাসায় সব করা যায়, নিজের বন্ধুকে ধোকাও দেওয়া যায়..শুধু একটাই আশা আছে এতে আমি দিয়াকে আবার ফেরত পেতে পারি..

ধ্রুবের কথাগুলো শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছে আদি কারণ এই ধ্রুবকে ও চেনে না, এই ছেলেটা তো ওর বন্ধু ছিলো না..কিভাবে পারলো ও এগুলো করতে?

আদিত্য — দিয়ার বিয়ের আগে কারো সাথে সম্পর্ক ছিল না সে বিষয়ে আমি আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলাম কিন্তু ধ্রুব..? শেষে কিনা ধ্রুব আমাকে আর দিয়াকে আলাদা করার জন্যে এত চিপ ট্রিক কাজে লাগালো? (মনে মনে)

আদি তখনই গিয়ে ধ্রুবের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইছিল কিন্তু কিছু একটা ভেবে থেমে গেলো..

আদিত্য — নাহ! ওকে এখুনি গিয়ে যদি কিছু জিজ্ঞাসা করি তাহলে নিশ্চিত রাতের বেলা একটা ঝামেলা হবে..এখানে কেউ জানেনা যে আসলে আমাদের মাঝে কি নিয়ে কথা হয়েছে..কাওকে জানানো যাবেনা এই ব্যাপারে এখন! ধ্রুবের বিরুদ্ধে আগে প্রমাণ দরকার..তারপর ওর সাথে কথা বলবো (মনে মনে)

আদি আর বেশি না ভেবে নিজের ফোন রেকর্ডার অন করে, ধ্রুবের কথাগুলো রেকর্ড করতে শুরু করে যাতে পরে ধ্রুবকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ও অস্বীকার না করতে পারে..ওদিকে ধ্রুবের বোন কিছু বলছে তার উত্তরে ধ্রুব রেগে গিয়ে বলে..

ধ্রুব — আপু তুই এভাবে কেনো বলছিস? আমি তোর কাছে আমার মনের কথাগুলো বলছি আর তুই এরকম রিয়্যাক্ট কেনো করছিস? ওকে আমি ভালোবাসি তো..!

এরপর আরো অনেক কথাই বলে ধ্রুব, আদিও ধ্রুবের ব্যাপারে সবটা জানতে পারে যে দিয়াকে নিয়ে ও কি খেলা খেলতে চাইছে আদির সাথে..

ফ্ল্যাশব্যাক শেষ…
.
.
ধ্রুব মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে কারণ সব প্রমাণের পর আদির দিকে আর চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না..

আদিত্য — পরে যে তুই নিজের কথাগুলোই অস্বীকার করবি সেটা তো অবভিয়াস ছিলো, তাই রেকর্ড করে নিয়েছি..একচুয়ালী তোর ভুল কি হয়েছিল জানিস? তুই নিজেই নিজের মুখে স্বীকার করে নিয়েছিস সবটা, একা ছিলি বিধায় ভেবেছিস যা ইচ্ছে বলবি কেউ তো কিছু শুনবেই না,সবাই তো ঘুমাচ্ছে, এদিক ওদিক তাকানোর প্রয়োজন অব্দি অনুভব করিসনি তাইনা?..কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমিও সবটা শুনে নিয়েছিলাম.. দিয়ার প্রতি আমার যে বিশ্বাসটা ছিলো সেটা জিতে গেছে আর তোর মতো বন্ধুর আসল মুখোশটা খুলে গেছে..ধ্রুব চোখ নিচু করেই বলে..

ধ্রুব — আমার তোর সাথে কোনো শত্রুতা নেই আদি, তুই আমার বন্ধু..আমি তো শুধু দিয়া..

আদিত্য — এটাই লাস্ট টাইম, দিয়ার নাম আর যেনো তোর মুখে না শুনি..

আদি কিছুটা চিৎকার করেই কথাটা বললো, ধ্রুব আর কথা না বাড়িয়ে একদম চুপ করে গেলো..নিজের চুল নিজেরই ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে ওর, কেনো কথা বলার সময় এদিক ওদিক একবারও দেখেনি ধ্রুব? নাহলে আজকে এভাবে ওর প্ল্যান পন্ড হতো না..একটু থেমে আদি বলে ওঠে..

আদিত্য — তুই ঠিকই বলেছিলি ধ্রুব, তোর আর দিয়ার মধ্যে সেই সম্পর্ক আছে যেটা আমার আর দিয়ার মধ্যে নেই, তোদের দুজনের মধ্যে শুধু দুদিনের দেখা হওয়া দুজন অপরিচিত লোকের সম্পর্ক কিন্তু আমার আর দিয়ার সম্পর্কটা ঠিক তার উল্টো, তোদের দুদিনের সফরের সম্পর্ক আর আমাদের সারাজীবনের..সবথেকে বড় কথা ও আমার ওয়াইফ, কিন্তু তোর কেউ না আর না ওর মনে তোর জন্যে কিছু আছে..সবটাই তোর সাজানো নাটক ছিলো

ধ্রুব — তারমানে তুই দিয়াকে আমার সত্যির কথাটা জানাসনি? নাহলে তো এতক্ষণে আমার গালে দিয়ার থাপ্পড় পড়ে যেতো..!

ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে আদি, হুট করেই সকালের কথা মনে পড়ে যায়, মেয়েটার সাথে আজকে একটু বেশি রুড হয়ে গেছিলো ও..

আদিত্য — কালকে দিয়ার জন্মদিন, আর আমি চাইনি আজ এসব বলে ওর মুড নষ্ট করতে..কালকের দিন পার হয়ে গেলেই সব বলে দিতাম ওকে কিন্তু তার আগেই তুই..সকালে তোর জন্যে, আমি..আমি ওর সাথে মিসবিহেব করলাম..

ধ্রুব এবার চোখ তুলে তাকায় আদির দিকে, আসলে এখন তো প্ল্যান ডুবেই গেছে, দিয়াকে আর পাওয়া হবেনা ওর..তাই ভাবলো বেকার রেষারেষি করার আর কোনো মানেই হয় না…

ধ্রুব — দিয়া তোকে ভালোবাসে?

প্রশ্নটা শুনেই শান্ত দৃষ্টিতে ধ্রুবের দিকে তাকায় আদি, চোখের সামনে দিয়ার সমস্ত করা দুষ্টুমি, ওর না লুকানো ভালোবাসাগুলো ভেসে উঠছে..

আদিত্য — বিয়ের পর হয়ে যাওয়া প্রত্যেকটা ইনসিডেন্ট এর কথা তুই জানিস, তারপরও সন্দেহ আছে যে ও ভালোবাসে না আমাকে?

ধ্রুব — হুমম! ও তোকে ভালোবাসে, আমিও তার প্রমাণ এই ২ দিনেই পেয়েছি..সব মানলাম কিন্তু তুই, তুই কি ওকে ভালবাসিস?

আদি চুপ হয়ে যায়, আসলে ভালোবাসা বিষয়টা বরাবর ওর কাছ জটিল লাগে, তবে দিয়ার সাথে থাকতে থাকতে, ওর ভালোবাসা প্রকাশের পন্থাগুলো দেখে এই অনুভূতি সম্পর্কে অবগত হয়েছে..ভালোবাসা জিনিসটা সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করেছে, আর হয়তো আজকে সফল হয়েছে..তাইতো দিয়াকে অন্য কারো সাথে দেখে রাগ হয় ওর..

আদিত্য — ইয়েস, আই লাভ হার..!

এবার ধ্রুবের মুখটা আরো ছোট্ট হয়ে যায়, কোথায় ভেবেছিল আদি দিয়াকে ভালোবাসে না তাইতো এতকিছু করলো..এখন তো দেখে উল্টে সব ভুল ওর নিজেরই ছিলো, ওই বুঝতে ভুল করছিলো..ধ্রুব কিছু বলতে যাচ্ছিল তখনই…

দিয়া — আদিত্য..!!

দিয়ার ডাক শুনে দুজনেই সামনের দিকে তাকায়, মেয়েটা বাম পা খুঁড়িয়ে হাঁটছে, আদি ওকে দেখে এক ন্যানসেকেন্ড ও দাড়ায়নি, ছুটে এসে দিয়াকে জড়িয়ে ধরে ও..

আদিত্য — খোদার লাখ লাখ শুকরিয়া যে তুই ঠিক আছিস.. কোথায় চলে গেছিলি আমাকে না বলে? (রেগে)

দিয়ার বিশ্বাসই হচ্ছেনা আদি ওকে জড়িয়ে ধরেছে তাও আবার প্রথমবার, ওর যেনো মনে হচ্ছে কোনো সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছে ও..

আদিত্য — কথা বলছিস না কেনো? এরপর আরেকবার একরকম করলে দেখবি কি করি আমি..! পায়ে শিকল পড়িয়ে দেবো তোর, এত্তো টেনশনে ফেলে দিয়েছিলি তুই আমাকে

আরো শক্ত করে চেপে ধরেছে আদি ওকে নিজের সাথে, দিয়া ও এবার আস্তে আস্তে দু হাতে আদিকে জড়িয়ে ধরে, বুঝতে পারলো ও কোনো স্বপ্ন দেখছে না..এটা সত্যি! ধ্রুবের এই দৃশ্য দেখার পর আর বুঝতে বাকি নেই যে ওরা দুজনেই একে অপরকে ভালবাসে, দিয়া জেনে ভালোবেসেছে আর আদি অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছে..নিজের কর্মের ওপর হুট করেই অনুশোচনা হতে শুরু করে ধ্রুবের.. প্রায় ৩-৪ মিনিট পর আদি ওকে ছেড়ে দিয়ে দিয়ার দু বাহু ধরে রেগে বলে..

আদিত্য — কোথায় গেছিলি তুই হুম? আর ফোন কেনো ধরছিলি না আমার? জানিস কতবার ফোন করেছি তোকে?

দিয়া কান্না স্বরে বললো..

দিয়া — আবার তুই করে বলছো কেনো? তুমিই তো ঠিক ছিলো!

আদিত্য — মজা করবি না একদম..! বল কোথায় ছিলি তুই আর, তোর পায়ে কি হয়েছে দেখি..

দিয়া — হোচট খেয়ে পড়ে গেছিলাম তাই একটু..

আদি নিচু হয়ে বসে দিয়ার পা দেখে, আঙ্গুলের দিকে ছড়ে গেছে অনেকটা..

আদিত্য — এটা একটু? রাস্তায় দেখে হাটিস না? আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটিস নাকি?

দিয়া কোনো উত্তর দিলো না, একে বেচারি অনেক ক্লান্ত হয়ে আছে তার ওপর আচমকা আদির জড়িয়ে ধরা সবমিলিয়ে এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছে ও..সিমি আর পলাশ ও চলে এসেছে..!

পলাশ — স্যার, ম্যাডাম আসলে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলেন, তাই ফিরতে দেরী হয়ে গেছে..তবে উনি নাগালের মধ্যেই চলে এসেছিলেন, আমরা নিয়ে এলাম

সিমি — হ্যা স্যার, তবে ম্যাডামের পায়ে একটু চোট লেগেছে.. ব্যান্ডেজটা..

আদিত্য — আমি রুমে গিয়ে করিয়ে দেবো! আর তুই রাস্তা চিনিস না বেরোতে গেছিলি কেনো? কোথাও ঘোরার হলে আমাকে বলতিস আমি নিয়ে যেতাম

দিয়া — আমি জানতাম নাকি রাস্তা হারিয়ে ফেলবো? দুপুরে গেছিলাম, তারপর বিকেল হয়ে গেলো, অন্ধকার হওয়ায় রাস্তা চিনতে পারিনি! সরি! আর হবেনা এমন

আদিত্য — কথায় কথায় এতো সরি বলার অভ্যাসটা বন্ধ কর এবার..! তবে ধ্রুব এখন তোকে কিছু বলতে চায়..

দিয়া — ধ্রুব? কি বলবেন উনি আমাকে?

ধ্রুব আদির দিকে তাকায়, দিয়াকে নিজের মুখে কিছু বলার মনোবল নেই ওর, অবশ্য বলার মতো কথাও তো নয় এটা..!

আদিত্য — তোর মধ্যে যদি মিনিমাম অনুশোচনা থাকে তাহলে নিজেই দিয়াকে সবটা বলে দে

দিয়া প্রশ্নোত্তক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ধ্রুবের দিকে, পলাশ আর সিমি তো দেখেই গেছে ওদের দুজনের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিল কিন্তু ধ্রুব দিয়াকে কি বলবে সেটা বুঝতে পারছিল না.. পরে ধ্রুব দেখলো নিজের মুখেই নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়াটাই উত্তম হবে! ও দিয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়..আদি এখনও দিয়ার পাশেই দাড়িয়ে আছে, সরেনি ওখান থেকে..

ধ্রুব — দিয়া, অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি আমি..আবেগের বশে অনেক..অনেকটা নিচু কাজ করে ফেলেছি যার জন্যে আমি ক্ষমা চাইছি!

দিয়া — মানে? ক্ষমা কেনো? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না আর, আপনাদের মুখের এই অবস্থা কেনো? কি হয়েছে এখানে? (ভ্রু কুচকে)

দিয়া ধ্রুব আর আদি দুজনেরই মুখের দিকে আরেকবার ভালোভাবে দেখলো..

দিয়া — আদিত্য, কি হচ্ছিল এখানে তোমাদের দুজনের মধ্যে?

আদিত্য — আমার পুরোনো আর তোমার এই নতুন দুদিনের বন্ধু ভাবছিলো তুমি আমার সাথে ভালো নেই, তাই তোমাকে রেসকিউ, ওহ সরি সরি..! তোমাকে আমার থেকে মুক্ত করে নিজে অ্যাচিভ করার জন্যে আমাকে বলেছে যে তোমার আর ওর মধ্যে রিলেশন আছে..আমি ঠিক বললাম তো ধ্রুব?

কথাগুলো শুনে চমকে ওঠে দিয়া, যেখানে ও আদি ছাড়া কোনো ছেলেকে কোনোদিন অন্য নজরে দেখেনি, আর এই ধ্রুবকে তো ভালোভাবে জানেনা অব্দি ও সেই ছেলে কিনা এসব বলেছে ওর নামে? দিয়া রেগে তাকায় ধ্রুবের দিকে..

ধ্রুব — দিয়া দেখো, আমি ভেবেছিলাম আদি আর তোমার মধ্যে কিছু ঠিক নেই আর, আর আমি তোমাকে লাইক করতাম তাই..

পুরো কথা শেষ করতে পারেনি ধ্রুব তার আগেই ওর গালে থাপ্পড় পড়ে, অনেক রেগে গেছে দিয়া ধ্রুবের মুখ থেকে এইরূপ কথা শুনে..ধ্রুবকে তো শুধু একজন নরমাল বন্ধু ভেবেছিল ও..

দিয়া — আমাদের দেখাই হলো কদিন যে আপনি আমাকে লাইক করতে শুরু করলেন হ্যা? আর আমি কি কোনোদিন আপনাকে বলেছি যে আপনাকে পছন্দ করি? তাহলে আপনার সাহস কি করে হলো আমাকে নিজের সাথে জড়িয়ে একটা মিথ্যে সম্পর্কের কথা তাকে বলার যাকে আমি ভালোবাসি?

চলবে…

[ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন..!!]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here