লেডি_হ্যাকারের_সাইকোগিরি,১৬,১৭ শেষ

#লেডি_হ্যাকারের_সাইকোগিরি,১৬,১৭ শেষ
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_১৬

সেন্ট্রাল মিনিস্টারের কথা শুনে উপস্থিত যারা ছিলো,তাঁদের সবার হুঁশ উড়ে যায়!বিশেষ করে সেই পুলিশ অফিসারের!সে যেনো মৃত্যুকে খুব নিকট থেকে দেখতে পাচ্ছে!আকাশের আসল পরিচয় জেনে সেই পুলিশ অফিসারের উত্ত্যক্ত মেজাজ মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত হয়ে যায়!সে থরথর করে কাঁপতে আরম্ভ করে….
.
অন্যদিকে আকাশ সেই পুলিশ অফিসারের দিকে ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে!মনে হচ্ছে যেনো চোখের মাধ্যমেই সেই পুলিশ অফিসারকে গিলে খেয়ে ফেলবে!আকাশের ভয়ানক চাহনি দেখে পুলিশ অফিসার ভয়ে নজর ঘুরিয়ে ফেলে!সে ভেবে কুল করতে পারছে কি করবে এখন সে!কারন সে পরিস্থিতি বহু আগেই বিগড়ে দিয়েছে!
.
এদিকে আকাশ মাটি থেকে উঠে সেই পুলিশ অফিসারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।পরে তার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে!
তারপর হুট করেই সে পুলিশ অফিসারের সামনে থেকে সরে গিয়ে সেন্ট্রাল মিনিস্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।পরে সকলের সামনেই সেন্ট্রাল মিনিস্টারের কলার চেপে ধরে!আর সেন্ট্রাল মিনিস্টারকে বলতে থাকে….

–কিরে মামুর বেটা তোকে এতো পাকনামি করতে কে বলেছে?তোকে কি কেউ বলেছি”Z”এর ইন্ট্রো দিতে?
.
আকাশের এমন অদ্ভুত আচরণে সেন্ট্রাল মিনিস্টার ভয় পেয়ে যায়!

–ভাই দুঃখীত আসলে আমি বুঝতে পারিনি।

–এই তোর বুঝতে পারার গুষ্টি মারি!তুই এতো গুলা মানুষের সামনে আমার নাম নিয়ে পাকনামিটা করলি কোন দুঃখে?আমি কি একবারো বলেছি,যে ভয়ানক ভাবে আমার ইন্ট্রো দিয়ে সবার সামনে আমার আসল পরিচয় আত্মপ্রকাশ করতে?

–নাহ বলেন নি।

–তাহলে কেন করলি এই কাজ টা?
আমার এতো দিনের সব কিছু মূহুর্তের মাঝেই তুই ধুলোয় মিশিয়ে দিলি!কেন আমি কি চাইলে পারতাম না” Z”এর নাম ব্যবহার করে মানুষের সামনে উড়াউড়ি করতে?কিন্তু সেটা তো আমি করিনি।কিন্তু তুই পাকনামি করে আমার সমস্ত কিছু ভেস্তে দিলি কেন?

–ভাই আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখীত।বিশ্বাস করেন আমি জানতাম না যে আপনার আসল পরিচয় মানুষের সামনে তুলে ধরাতে আপনার মনে আঘাত লাগবে!
ভাই আমি না জেনেই এমনটা করে ফেলেছি।ভাই আমাকে এবারের মতন ক্ষমা করে দিন।

–দেখ আমি আগেই বলেছি,যে আমার উড়াউড়ি করার কোনো ইচ্ছে নেই।আর না আছে নাম ব্যবহার করে মানুষের চোখে হিরো সাজার ইচ্ছে।আমি চাই একদম সাধাসিধা জীবন যাপন করতে।কিন্তু তুই সব কিছুকে একদম শেষ করে দিলি।সো এবার তুই সব কিছু সামলাবি।আমি জানিনা,যে তুই কি করবি।কিন্তু এটুকু জানি,আমাকে যেনো মানুষ আকাশ নামেই চিনে।
“Z” হিসেবে যেনো আমার পরিচয় আর কেউ না জানে।

–ভাই,ভাই আমি সমস্ত কিছু ঠিকঠাক করছি।

–হুম ঠিক কর।
.
তারপর আকাশ সেন্ট্রাল মিনিস্টারের কলার ছেড়ে দেয়।আর সেন্ট্রাল মিনিস্টার সেখানে উপস্থিত সকলের সামনেই রিকোয়েস্ট করে,যে কেউ যাতে আকাশের আসল পরিচয় আর কারোর সামনে পাবলিশ না করে।
যদি কেউ আকাশের আসল পরিচয় পাবলিশ করে,তাহলে সে আর দুনিয়ার কোলাহল দেখতে পাবে না।রাতের আঁধারেই তাঁকে এনকাউন্টার করে মারা হবে।
.
সেন্ট্রাল মিনিস্টারের কথা শুনে সবাই আকাশের আসল পরিচয় ভিতরে ভিতরে দাফন করে ফেলে!কারন কারোর এই মরার ইচ্ছে নেই।

–ভাই আমি সবাইকেই বলে দিয়েছি।এখানে উপস্থিত যারা আছে,তারা বাদে কেউ আর আপনার আসল পরিচয় জানতে পারবে না।ভাই এবার তো আমায় মাফ করে দিন।
.
আকাশ সেন্ট্রাল মিনিস্টারের কথার কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা সেই পুলিশ অফিসারের গাড়ির সামনে চলে যায়।সেখানে গিয়ে সে দেখতে পায় জেমস গুটিশুটি মেরে গাড়ির সিটের মধ্যে বসে রয়েছে।সে জেমসের উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছে।জেমসকে দেখে আকাশ তাঁকে ইশারা করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে।জেমস আকাশের কথা মতন কাঁপতে কাঁপতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে।তারপর আকাশের সামনে এসে নজর মাটির দিকে রেখে দাঁড়ায়।আর ঠিক তখনি আকাশ জেমসের গালে অনেক কয়টা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়!

–কিরে গুটিবাজের বংশধর,তোকে না বারন করেছিলাম বেহরোজের নামে কিছু না বলতে?কিন্তু তার পরেও তুই আমার কথা অমান্য করে পুলিশ আনলি কেন?
.
জেমস ভয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে!তার মুখ দিয়ে কোনো ধরনের কথা বের হচ্ছে না!

–দেখ চুপচাপ থাকবি তো পাড়িয়ে মেরে ফেলবো সোজা।কি কারনে তুই আমার কথার অমান্য করলি সেটার উত্তর দে।আমি তো তোকে ভালো ভাবেই বলেছিলাম বেহরোজের বিষয়ে কাউকে কিছু না বলতে।তাও কেন তুই ওর বিষয়ে পুলিশকে জানালি?
বল কি কারনে এমন করেছিস?

–ভাই তাঁকে আমি অনেক বেশি ঘৃণা করি!কারন সে আমার এতো বছরের কেরিয়ারে দাগ লাগিয়ে দিয়েছে!
আমার হাতে গড়া বেস্ট ইলেভেনের মান ইজ্জৎ পুরো ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে সে।তাই তার উপরে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পুলিশকে জানিয়েছি সমস্ত কিছু।

–কিন্তু সে যে লেডি-হ্যাকার সেটা তুই পুরোপুরি শিওর হলি কি করে?তার বিষয়ে তো এখনো আমি নিজেই শিওর না!আর তাছাড়া সে আমায় কখনো মিথ্যা বলবে না।সে যদি সত্যিই লেডি-হ্যাকার হতো,তাহলে সে এতো সময়ে সব কিছুই জানিয়ে দিতো আমাকে।কিন্তু তুই গুটিবাজিটা করলি কেন তার বিষয়ে পুরোপুরি শিওর না হয়ে?

–ভাই আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে।আমায় আপনি ক্ষমা করে দিন।

–নাহ সবার ক্ষমা হলেও তোর ক্ষমা নাই।কারন তোর কারনেই আমার প্রিয় মানুষটার গায়ে আজকে হাত উঠিয়েছে পুলিশ।সো তোর বারোটা বাজবেই।
এই যে স্যার এদিকে আসেন তো।
.
পুলিশ অফিসার আকাশের ডাক শুনে দৌড়ে তার দিকে যায়।

–জ্বি ভাই….

–ওরে কি করবেন করেন।কারন তার জন্যই আপনি আজকে আমার প্রিয় মানুষের গায়ে হাত উঠিয়েছেন।
তার একটা চরম শিক্ষা হওয়া চাই।অবশ্য আপনিও কম দোষী না।কিন্তু আমি আপনাকে কিছুই বলবো না।কারন আপনি আইনের লোক।তাছাড়া আপনার কোনো দোষ নেই এতে।কারন আপনারা সব সময় দেশের মানুষের জন্য কাজ করেন।আর এখনো কাজেই এসেছেন।যে লেডি-হ্যাকারকে ধরে নিয়ে যাবেন।যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোনো ক্রাইম না করতে পারে সে।কিন্তু আসল মুদ্দাটা হচ্ছে সে লেডি-হ্যাকার নয়।সো তার মানে এই জেমস আপনাদেরকে হয়রানি করিয়েছে লেডি-হ্যাকারের কথা বলে।সো বাকিটা আপনি বুঝেন এবার।

–ভাই এই হারামজাদাকে আমি জন্মের শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো।কারন এই বেটাই আজকে আমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলো!ভাগ্যিস উপর ওয়ালা বাচিয়েছে আমাকে!কিন্তু উপর ওয়ালা আমাকে বাঁচালেও এই বেটা আমার হাত থেকে বাঁচবে না!এই বেটাকে নিয়ে গিয়ে এখনি লপআপে ঢুকাচ্ছি আমি।

–সে যাই করবেন করেন,মোট কথা হলো তার শিক্ষা হওয়া চাই।
.
তারপর পুলিশ অফিসার সবাইকে আদেশ করে জেমসকে ধরে নিয়ে যেতে।পুলিশ অফিসারের আদেশ পেয়ে বাকিরা এসে জেমসের হাত হাতকড়া পড়ায়,তারপর জেমসকে নিয়ে ঢুলতে ঢুলতে গাড়ির মধ্যে উঠে!পুলিশ গুলোর ঢুলার কারন ওভার পাওয়ারের ছেলেপেলের হাতে অতিরিক্ত মাইর খাওয়া।ওভার পাওয়ারের হাতে মাইর খেয়ে কেউ যেনো সুস্থ স্বাভাবিক নেই।সেই পুলিশ অফিসার এবং সবাই জেমসকে নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।এদিকে আকাশ আবার হেঁটে হেঁটে এসে প্রধানের সামমে দাঁড়ায়।তারপর প্রধানকে বলে…

–স্যার আপনি আপনার ভাগ্নীকে কি বলবেন বলেন।
তার থেকে একটু জানুন,যে সে সত্যিই লেডি-হ্যাকার কিনা।

–আকাশ ভাই এসবের মাঝে আমি নেই।কারন আগের বার আমার শিক্ষা হয়ে গিয়েছে।সো আমি এসবের মাঝে আর জড়াবো না।আপনার যা ইচ্ছে হয় করুন।
কিন্তু বাপু এর মাঝে আমি নেই।যদিও সে আমার ভাগ্নী হয়,কিন্তু আমি আগ বাড়িতে তার সম্পর্কে আর মাথা ঘামাবো না।আমি আর সেন্ট্রাল মিনিস্টার চলে যাচ্ছি।বাকিটা আপনি বুঝে নিন।

–ঠিক আছে তাহলে আমিই দেখছি।
.
সেন্ট্রাল মিনিস্টার আর প্রধান যেই গাড়িতে করে এসেছে,তারা দু’জন আবার সেই গাড়িতে করে চলে যায়।তারা যেতেই আকাশ ওভার পাওয়ারকে ইশারা করে চলে যেতে।আকাশের ইশারা পেয়ে ওভার পাওয়ারের ছেলেপেলেরাও চলে যায়।তারপর আকাশ বেহরোজকে নিয়ে রিক্সায় উঠে।বেহরোজ ভয়ে গিড়গিড় করে কাঁপছে!আকাশ বেহরোজকে নিয়ে একটা পার্কে যায়।সেখানে গিয়ে একটা বেঞ্চে বসে।পরে আকাশ বেহরোজকে জিগ্যেস করে…

–বেহরোজ তুই কি সত্যিই লেডি-হ্যাকার?

–নাহ,আমি লেডি-হ্যাকার না।

–তাহলে সব কিছুর সুত্র কেন তোর সাথে গিয়ে জুড়ছে?

–সে আমি জানি না।হয়তো কেউ আমায় ফাঁসাতে চাচ্ছে।কিন্তু আমি লেডি-হ্যাকার নই।

–কে তোকে ফাঁসাতে চাচ্ছে,সে আমি জানি না!কিন্তু আমার নিজের ক্যালকুলেশন মোতাবেক ও তো তোর দিকেই সব কিছু ইশারা করছে!

–কিন্তু আমি তো লেডি-হ্যাকার না।

–কি করে বিশ্বাস করবো বল?ভয়েসের মিল পেলাম।তারপর লেডি-হ্যাকার দেখা করতে আসবে বললো,সেখানে তুই চলে আসলি।সুত্র মেনে অংক করার পরে সব কিছুই তো তোকে ইশারা করছে।

–আমি তোকে কি করে বিশ্বাস করাবো বল,যে আমি লেডি-হ্যাকার না।

–সে আমি জানি না,কিন্তু যতো সময় না পর্যন্ত তুই নিজেকে প্রমাণ করতে পারছিস,বা তোর বিপরীতে অন্য আরেকজনের কোনো কিছু আমার হাতে লাগছে,ততো সময় পর্যন্ত তুই আমার কাছে সন্দেহজনক হয়ে থাকবি।
.
বেহরোজ চুপ করে আছে।কারন তার কাছে বলার মতন কোনো ভাষা নেই।ঠিক তখনি আকাশের ফোনে একটা ফোন আসে।সে ফোনটা রিসিভ করতেই অপরপাশ থেকে ওভার পাওয়ারের লিডার বলে…

–ভাই আমরা আপনার ঐখান থেকে আসার পর দেখি আমাদের কম্পিউটার লেডি-হ্যাকার হ্যাক করে নিয়েছে।তার নামের”M.B.Z” আলফাব্যাট টা আমাদের কম্পিউটার স্ক্রিনে রান করছে।

–কতো সময় আগে কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে অণুমানিক,সেটার একজেক্টলি সময়টা বলতে পারবে কি?আর তোমরা শেষ কোন সময় কম্পিউটার ওপেন করেছো?

–আপনার ঐখানে গিয়েছি ঘন্টা দুই হবে।তার আগে সব কিছুই ঠিক ছিলো।আমি আপনার ঐখানে যাওয়ার আগে নিজেই কম্পিউটার অফ করেছি।তখন সব কিছুই ঠিক ছিলো।কিন্তু সেখান থেকে এসে দেখি এই অবস্থা।তার মানে যা হওয়ার এই ঘন্টা দুইয়েকের মধ্যেই হয়েছে।
.
আকাশ চমকে উঠে ওভার পাওয়ারের লিডারের কথা শুনে!কারন বেহরোজকে নিয়ে গতকাল থেকে করা সন্দেহ সমস্ত কিছুই ভুল প্রমাণিত হলো!সে বিগত তিন-চার ঘন্টার বেশি হলো আকাশের সাথে।সে আকাশের কলেজে যখন আসে,তখন তার তৃতীয় ঘন্টা চলছিলো,তারপর সে চতুর্থ নাম্বার ঘন্টা করে ব্রেকে বেরিয়ে আসে।তারপর ও তিন ঘন্টার বেশি সময় হলো বেহরোজ আকাশের সামনে।কিন্তু কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে দুই ঘন্টার মধ্যে।তার মানে বেহরোজ এর সাথে নেই।আকাশের যেনো মাথা ফেটে যাচ্ছে সমস্ত কিছু ভেবে!কারন কে রয়েছে এই সমস্ত কিছুর পিছনে!তার মাথায় যেনো কোনো কিছুই আর কাজ করছে না!সে ফোন কেটে দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বেহরোজের পাশে চুপচাপ বসে আছে!আর তখনি বেহরোজ পাশ ঘুরে আকশের গলায় কিস করতে আরম্ভ করে….

চলবে..?

#লেডি_হ্যাকারের_সাইকোগিরি
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#অন্তিম_পর্ব

বেহরোজ আকাশের সামনে।কিন্তু কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে দুই ঘন্টার মধ্যে।তার মানে বেহরোজ এর সাথে নেই।আকাশের যেনো মাথা ফেটে যাচ্ছে সমস্ত কিছু ভেবে!কারন কে রয়েছে এই সমস্ত কিছুর পিছনে!তার মাথায় যেনো কোনো কিছুই আর কাজ করছে না!সে ফোন কেটে দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বেহরোজের পাশে চুপচাপ বসে আছে!আর তখনি বেহরোজ পাশ ঘুরে আকশের গলায় কিস করতে আরম্ভ করে!

–বেহরোজ আমার এখন এসব ভালো লাগছে না!
প্লিজ এসব বন্ধ কর।

–আরেহ তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেন,আমি তো শুধু তোর মন খারাপটা দূর করছি ভালোবাসা দিয়ে।

–নাহ তার কোনো প্রয়োজন নেই।উঠলাম আমি এখন।আমার একটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়েছে।তাই এখন যেতে হবে আমাকে।আর তুই তো আজকে রাতের গাড়িতে চট্টগ্রাম ফিরে যাচ্ছিস।তার মানে তোর সাথে আর এর মধ্যে দেখা হচ্ছে না।সো হোপ করি ভালোয় ভালোয় চট্টগ্রাম পৌঁছাবি তুই।

–নাহ আমি চট্টগ্রাম যাবো না।আমি এখানেই থাকবো।

–মানে কি বেহরোজ!চট্টগ্রাম যাবি না মানে কি?

–মানে হলো আমি আর চট্টগ্রাম যাবো না।তোকে বিয়ে করে তোর সাথেই ঢাকায় থেকে যাবো।

–এই মেয়ে মাথা গেছে নাকি তোর হ্যাঁ?কি সমস্ত উল্টো পাল্টা কথাবার্তা বলছিস তুই?আমাকে বিয়ে করে ঢাকায় থাকবি মানে কি?

–মানে হলো আমি আর চট্টগ্রাম যাচ্ছি না।আর কোনো উল্টো পাল্টা কথাও বলছি না।বাবা আমায় বেশ অনেকদিন থেকে বিয়ের কথা বলছে।যে আমার কোনো পছন্দ থাকলে বাসায় জানাতে।না হয় তিনার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করে নিতে।সো আমি আজকে বাবাকে তোর বিষয়ে জানিয়ে দিব,যে আমি তোকে ভালোবাসি।আর আম্মু আর আব্বুকে ঢাকায় এসে বলবো তোর বাসায় বিয়ের কথাবার্তা বলতে।

–বেহরোজ এমন পাগলের মতন আচরণ করছিস কেন তুই হ্যাঁ?এখন বিয়ে করবি মানে কি?

–বিয়ে করবো মানে তো করবোই….

–বেহরোজ এখন কিন্তু অতিরিক্ত হচ্ছে!তুই তোর এই সমস্ত পাগলামি বন্ধ কর!কি সব বলছিস তুই হ্যাঁ?আমাদের দুজনের কারোর কি এখনো বিয়ের সময় হয়েছে?দুজনেই তো এখনো পড়ালেখা করছি।আর পড়ালেখা শেষ হলেই দুজনে বিয়ে করবো।

–নাহ আমি তোর কথা শুনবো না।আমি কয়েকদিনের মাঝেই তোকে বিয়ে করবো।

–সরি তাহলে আমি তোকে বিয়ে করতে পারবো না।
কারন আমার এখনো নিজেকে গোছানো বাকি আছে।তাই কোনো ভাবেই আমি তোকে এখন বিয়ে করবো না।
আর যদি তুই আমাকেই বিয়ে করতেই চাস,তাহলে সুন্দর ভাবে আজকে চট্টগ্রাম চলে যা।পরে যখন আমাদের পড়ালেখা শেষ হবে,তখন দুজন দুজনের বাসায় জানিয়ে বিয়ে করে নিব।

–আকাশ তাহলে তুই ও শুনে রাখ,আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছি না।আর আগামী এক সাপ্লাহের মাঝে যদি তুই আমায় বিয়ে না করিস,তাহলে আমার মৃত দেহ তুই দেখতে পাবি।একদম শপথ করে বললাম নিজেকে একদম শেষ করে দিব আমি।
.
বেহরোজের এমনধারা জেদ আর ভয়ানক হুমকি শুনে আকাশের হুঁশ উড়ে যায়!সে এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না!কারন বেহরোজকে তাঁকে বেড়িকলে আঁটকে দিয়েছে!

–আরেহ বেহরোজ তুই এমন করছিস কেন বল তো?
আমি তো বললাম,যে সময় আসলে তোকেই বিয়ে করবো।প্লিজ তুই এখন এভাবে জেদ করিস না।

–তোর সময়ের গুষ্টি মারি!তোর সময় টময় দেখার মতন পরিস্থিতিতে আমি নেই!সো আগামী এক সাপ্লাহের মাঝেই আমাকে তোর বউ বানাতে হবে।
না হয় যেটা বললাম সেটাই করবো আমি।
.
আকাশের কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়তে শুরু করে!
সে এক গভীর চিন্তায় পড়ে যায় বেহরোজের কথা শুনে!তার মুখে কুলুপ এঁটে নিয়েছে সে।অপরদিকে বেহরোজ অন্য পাশ ফিরে কান্না করছে!কিন্তু তার কান্নার আওয়াজ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছোচ্ছে না!আকাশ বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করে বেহরোজকে বলে…

–ঠিক আছে আমি তোকে আগামী এক সাপ্লাহের মাঝেই বিয়ে করবো।
.
আকাশ তখনি লক্ষ্য করে বেহরোজ কান্না করছে!
বেহরোজের কান্না দেখে আকাশ থতমত খেয়ে যায়!

–এই পাগলী তুই এভাবে কান্না করছিস কেন?
.
বেহরোজ এবার শব্দ করে কান্না করে দেয়!
সে কান্না করতে করতে আকাশকে বলে..

–তুই আমায় ভালোবাসিস না।

–আরেহ পাগলী কে বলেছে আমি তোকে ভালোবাসি না?

–আমি দেখতেই পাচ্ছি সব কিছু।

–আরে নাহ তুই ভুল দেখেছিস।আমি তোকে অনেক ভালোবাসি।আর আগামী এক সাপ্লাহের মাঝেই তোকে নিজের বউ বানাবো।দেখি আয় এবার কাছে আয়..
.
বেহরোজ তাও কান্না করছে চুপচাপ বসে বসে।
এবার আকাশ তাঁকে টান নিয়ে নিজের বুকে নিয়ে নেয়।পরে কপালে অনেক কয়টা চুমু দিয়ে বেহরোজের কান্না থামায়।পরে তার সাথে অনেকটা সময় কাটিয়ে তাঁকে তার খালার বাসা অব্দি পৌঁছে দিয়ে আসে।পরে সেও বাসায় চলে আসে।তারপর বাসায় এসে কম্পিউটার ওপেন করে ওভার পাওয়ারের কম্পিউটার ঠিক করার কাজে নামে।দীর্ঘ দুই ঘন্টার প্রচেষ্টার পর সে ওভার পাওয়ারের কম্পিউটার সেই লেডি-হ্যাকারের হাত থেকে ফিরিয়ে আনে।
.
এদিকে বেহরোজ বাসায় আসতেই তার বাবাকে ফোন করে সমস্ত কিছু বলে।বেহরোজের বাবা তার মেয়ের কথাতেই রাজি হয়ে যায়।কারন মেয়ের পছন্দের গুরুত্ব তিনি দিতে জানেন।এভাবেই আরো দুই দিন কেটে যায়।বেহরোজের বাবা,মা ঢাকায় চলে আসে।পরে আকাশের পরিবারের সাথে বিয়ের কথাবার্তা বলে আগামী শুক্রবার আকাশের আর বেহরোজের বিয়ের ডেট ফিক্সড করে।বেহরোজ তো চরম খুশি।তবে আকাশ এখনো তার বিয়ের বিষয়টাকে পুরোপুরি মেনে নিতে পারেনি।কিন্তু তাতে কারোর এই কিছু আসে যায় না।
আর তারো এখন আর কিছু করার নেই।পরিস্থিতির চাপে পড়ে তারো বিষয়টাকে মুখ বুঝে মেনে নিতে হয়।
.
দেখতে দেখতে শুক্রবার চলে এসেছে।আজ আকাশ আর বেহরোজের বিয়ে।সবাই মহাখুশি।কিন্তু আকাশ এখনো আপসেট।তবে সেও বিষয়টাকে মেনে নেওয়ায় চেষ্টা করে।বেহরোজের সাথে তার বিয়েটা হয়ে যায়।
রাতের বেলায় দুজন মিলে বাসর ঘরে বসে আছে।তখনি বেহরোজ আকাশের হাত শক্ত করে চেপে ধরে….

–কিরে কি হয়েছে তোর?তর সইছে না নাকি?

–না তেমন কিছুনা।আসলে তোকে একটা কথা বলার ছিলো।

–কি কথা?

–আগে বল রিয়েক্ট করবি না তুই?

–আরেহ আগে তো বল।রিয়েক্ট করবো কি না করবো সেটা তো কথাটা শোনার পর এই বুঝতে পারবো।

–নাহ তুই বল যে একদম রিয়েক্ট করবি না।

–আচ্ছা যা রিয়েক্ট করবো না।এবার বল….

–আকাশ তুই ভিতরে ভিতরে যেই লেডি-হ্যাকারের তালাশ করছিস আমিই সেই লেডি হ্যাকার!
.
আকাশের চোখ কপালে উঠে যায় বেহরোজের কথা শুনে!সে পুরো বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে!

–প্লিজ তুই আমায় মাফ করে দে।বিশ্বাস কর আমি না জেনে এই সমস্ত কিছু করেছি।

–বেহরোজ এতো কিছু করার পরেও বলছিস যে না জেনে করেছিস?

–হুম আমি না জেনেই করেছি।

–তুই যদি না জেনেই এতো কিছু করে থাকিস,তাহলে তোর এসবের পিছনের আসল মাখসাদ বা উদ্দেশ্য কি?
সেটা তো অবশ্যই তোর জানা আছে?আর তুই সেদিন ওভার পাওয়ারের কম্পিউটার হ্যাক করলি কি করে আমার সামনে থেকে।

–হুম সেটা আমার জানা।আমি ওভার পাওয়ারের কম্পিউটার যেদিন হ্যাক হয়েছে,তার আগের রাতেই হ্যাক করেছি।কিন্তু সেটাতে আমি সিকিউরিটি টাইমার লাগিয়েছিলাম,যে এতো ঘন্টা পরে তারা আর নিজের কম্পিউটারে ঢুকতে পারবে না।আর ভাগ্যক্রমে সেটা তোর সাথে থাকা অবস্থাতেই হয়।যার কারনে তুই আমাকে বিশ্বাস করে নিস।আর “Z”এর বিষয়ে বলতে গেলে,দেখ আমি”Z”এর একজন পাগলা ভক্ত।আমি”Z”কে আমার আইডল মনে করতাম।কারন সে অল্প সময়েই বেশ নাম কামিয়েছে।আর আমারো বহু আগ থেকে স্বপ্ন ছিলো,যে আমিও এমন কিছু করবো,যাতে করে মানুষ আমায়”Z”এর মতন এক নামে চিনে।তাই আমি”Z” সংস্পর্শে থেকে তার মতন কাজ শিখতে চাইছিলাম।কিন্তু আমি কোনো ভাবেই”Z”এর নাগাল পাচ্ছিলাম না।তাই আমি একটা প্লান করি,যে বিভিন্ন হ্যাকিং ট্যাকিং করে”Z”এর ফোকাসে যাবো।কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হলো না।
তাই আমি ভিন্ন আরেকটা প্লান সাজাই,যে”Z”এর সিকিউরিটি হ্যাক করে তার ফোকাসে আসবো।তাই আমি ইন্টারন্যাশনাল কয়েকজন হ্যাকারকে হায়ার করি”Z”এর ডিভাইস হ্যাক করতে।যখন সেই ইন্টারন্যাশনাল হ্যাকার গুলো”Z”এর ডিভাইস হ্যাক করে,তখন কেন জানি আমার চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটে!আর অনেক বেশি অহংকার চলে আসে!যে আমি যদি”Z”এর মতন মানুষের ডিভাইস হ্যাক করে ফেলতে পারি,তাহলে অবশ্যই আমি তার চাইতেও শীর্ষে পৌঁছাতে পারবো।”Z”যে অনেক বড় মাফিয়া,সেটা তখন মূহুর্তের জন্য আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো।পরে যখন”Z” উল্টো সেই ইন্টারন্যাশনাল হ্যাকারদের নাকানিচুবানি খাওয়ায়,তখন অতিরিক্ত পরিমাণে রাগ উঠে আমার!যে এতো গুলো টাকা খরচ করলাম ইন্টারন্যাশনাল হ্যাকারদের পিছনে,আর”Z”আমার সব কিছুই ধুলোয় মিশিয়ে দিলো!সো তাঁকে আমি ছাড়বো না।তখন থেকেই আমি”Z”এর পিছনে লাগি।আর এটা ওটা করে তার ক্ষতি করার চেষ্টা করি।কিন্তু বিশ্বাস কর আমি জানতাম না,যে তুই এই”Z”!যদি জানতাম,তাহলে তোর সাথে কখনোই লাগতে যেতাম না।কারন তুই হলি আমার মনের মানুষ।তবে হ্যাঁ”Z”এর উপরে আমার অনেক রাগ ছিলো!আর যেদিন থেকে”Z”এর উপরে আমার রাগটা জন্ম নেয়,সেদিন থেকেই আমি”Z”এর ক্ষতি করতে চাইতাম।তাই আমি সব সময়”Z”এর তালাশ করতাম তার ক্ষতি করার জন্য।আমি”Z”এর ক্ষতি করার জন্য দেশের সমস্ত হ্যাকারদের লিষ্ট ও বানাই।কিন্তু তোর নামটা সেখানে ছিলো না।তবে তুই তাঁদের মাঝেই ছিলি।আর আমি তোর নামটা পেয়েছিলাম একটা সেমিনারে বিজয়ীদের মধ্যে থেকে।কিন্তু সেখানে তোর নাম ছিলো ভিন্ন।সেমিনার বিজয়ীর তালিকায় তোর নাম ছিলো আরিয়ান।আর সেটা আমার ঠিক করা লোকজনদের থেকে একজন জানিয়েছিলো,যে আরিয়ান নামক ব্যাক্তিটার মাঝেই সমস্যা দেখা গিয়েছে।তখন এই আমি বুঝে ফেলি যে আরিয়ান নামক মানুষটাই হলো”Z”।কারন আমার ঠিক করা লোকজন লিস্ট মোতাবেক আরিয়ান নাম ডেকে তোকে একটা রুমে নিয়ে যায়।আর পরেই সমস্যাটা হয়। তখন তাঁদের সাথে আমি কলেই ছিলাম।আর তুই হয়তো তখন তাঁদেরকে মেরেছিস,যার ফলে তাঁদের সাথে আমার অডিও কনফারেন্সটা কেটে যায়।তখনি আমি বুঝতে পারি”Z”এর আসল নাম আরিয়ান।আর তাছাড়া তুই কিন্তু তখন তোর ডিভাইস টা তাঁদের ল্যপটপে লগইন করেছিলি,যেটার কারনে আমি পাকাপোক্ত ভাবে শিওর হয়ে যাই আরিয়ান এই “Z”।কিন্তু কয়েকদিন আগে জানতে পারলাম”Z”এর নাম আরিয়ান না,”Z”এর নাম হলো আকাশ।আর সে হলো আমার প্রিয় মানুষ।
আমি মাঝে সেই সেমিনার দেওয়া লোকজনদের সাথে আলোচনাও করেছিলাম আরিয়ানের ব্যাপারে।কারন তখনো জানতাম”Z”এর নাম আরিয়ান।কিন্তু সেই লোক গুলো আমায় সোজা না করে দেয়,যে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বা অংশগ্রহণ কারীর থেকে কারোর ইনফরমেশন এই দেওয়া যাবে না কাউকে।তাই আমি তোর কোনো খোঁজ পাইনি।না হয়তো সেই আরিয়ানের সুত্র ধরে তোর কাছে পর্যন্ত চলে আসতাম।
.
আকাশ বেহরোজের এই সমস্ত কথা শুনে তাজ্জব হয়ে যায়!এবার তার বুক ধুপধুপ করে কাঁপতে শুরু করে!অবশ্য বেহরোজ তার পরিচয় দিয়ে আগেই তার হুঁশ উড়িয়ে দিয়েছে!কিন্তু এখন বেহরোজের এতোশত কথা শুনে সে আর নিজের অবস্থাতে নেই!অন্যদিকে তার আবার ব্যাপক রাগ ও উঠছে বেহরোজের উপরে!

–আকাশ প্লিজ আমার উপরে রাগ করে থাকিস না।প্লিজ তুই আমায় মাফ করে দে।দেখ আমি তোকে সমস্ত সত্যি টা বলে দিয়েছি।কারন আমি চাইনা মিথ্যে নিয়ে দুনিয়ায় তোর সাথে বসবাস করতে।দেখ আমার সমস্ত কিছুই ছিলো”Z”এর জন্য।আর আসল”Z”হলি তুই।তোর
খোঁজ এই যখন আমি পেয়ে গেছি,তাহলে আমি চাইলে লেডি-হ্যাকারের ক্যারেক্টারটা মাটিতে দাফন করে দিয়ে তোর সাথে মিশে থাকতে পারতাম।কারন আমার প্রিয় মানুষটাই হলো আমার আইডল।আর আমি আমার প্রিয় মানুষটার নামেই নামকরণ করেছিলাম,যে”M.B.Z”যার আসল মিনিং হলো মাফিয়া বেহরোজ।আর”Z”আসল মিনিং আমি জানিনা।আমার আইডল লাগিয়েছে,তাই আমিও লাগিয়েছি।তেমনটা করলে কিন্তু আজীবন ও কেউ আর লেডি-হ্যাকারকে খুঁজে পেতো না।কিন্তু আমি তেমনটা করিনি,কারন আমি চাইনা মিথ্যে নিয়ে বাঁচতে।কারন আমি চাইনা,যে যেই মানুষটা ভরা মজলিসে আমায় নিয়ে গর্ব করে বড় গলায় কথা বলে,যে সে যদি লেডি-হ্যাকার হতো,তাহলে সে অবশ্যই আমাকে বলতো।সো বেহরোজ লেডি-হ্যাকার না।আর আমি সেই মানুষটাকে কি করে ঠকাই বল?বল আমি তোকে ভালোবেসে কি করে ঠকাই আকাশ?
.
বেহরোজের কথা শুনে আকাশ রাগ কমে যায়!কিন্তু তার চরম অভিমান হয় বেহরোজকে নিয়ে!আর অভিমান টা হওয়াই স্বাভাবিক!কারন বেহরোজ এতো বড় কথা তার কাছ থেকে লুকিয়েছে,সো অভিমান হবেই স্বাভাবিক।আকাশের জায়গায় অন্য কেউ হলে ঠিক আকাশের মতন অভিমানটাই করতো।তাই সে অভিমান করে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে।

–আকাশ প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দে।আমি কখনো আর কোনোকিছু তোর থেকে লুকাবো না।আমি কখনো আর ওমনধারা কাজকর্ম করবো না।আমার আর কোনো নামের প্রয়োজন নেই।আমি এখন থেকে তোর নাম নিয়েই দুনিয়ায় বাঁচবো।তোর হয়েই বাঁচবো।মানুষ আমাকে তোর নামেই চিনবে,যে আমি আকাশের বউ।
আলাদা আর কোনো উপাধির দরকার নেই আমার।
.
বেহরোজের কথা শুনে আকাশ ভিতরে ভিতরে অনেকটা খুশি হয়,যার ফলে তার রাগ অনেকটা কমে আসে।তবে পুরোপুরি না।আর একটা জিনিস সে বুঝতে পারে বেহরোজের সমস্ত কথা শুনে,যে বেহরোজ তার আসল পরিচয় পাওয়ার পর থেকে ভিতরে ভিতরে গিল্টি ফিল করছিলো!অবশ্য গিল্টি ফিল করার এই কথা,কারন প্রিয় মানুষটার থেকে এতো গুলো কথা লুকিয়ে রাখা কোনো দু’টো চারটে কথা নয়।
আর সে তাঁকে হারানোর ভয় ও পাচ্ছিলো।তাই সে চটজলদি তার বাবাকে বলে তাঁকে বিয়ে করে করে নিয়েছে।

–কি হলো এখনো রাগ করে থাকবি তুই আমার উপরে?
ঠিক আছে দাঁড়া আমি তোর রাগ কমাচ্ছি..
.
বেহরোজ আকাশকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে তার উপরে উঠে বসে।পরে তার হাত বিছানার সাথে চেপে ধরে তার গলায় কিস করতে শুরু করে।
.
অন্যদিকে আকাশ মনে মনে ভাবে,

–যে তাঁকে নিয়ে যেহেতু সংসার এই করতে হবে আমার,তাহলে সব কিছু ভুলে যাওয়াই ভালো।আর সে তো সরি হয়েছে আমার কাছে।নাহ সব কিছু মেনে নেই।
কিন্তু তার আগে একটু প্রতিশোধ নিব।কারন মাফ করে দিলেও মনের ভিতরে কিছুটা খুঁত রয়েছে,সেটাকে দূর করতে হবে প্রতিশোধ নিয়ে।
.
তখনি আকাশ জোরে মোচড় দিয়ে বেহরোজকে গায়ের উপর থেকে বিছানায় ফেলে দেয়।পরে সে বেহরোজের হাত বিছানার সাথে চেপে ধরে তার গায়ের উপরে উঠে বসে….

–ক্ষমা করে দিব অবশ্যই,কিন্তু তার আগে তোর থেকে কিছুটা প্রতিশোধ তো নিবই।পরেই তুই ক্ষমা পাবি।
.
পরে আকাশ আর কোনো কিছু না ভেবে সোজা বেহরোজের ঠোঁটে কিস বসিয়ে দেয়।বেহরোজ নড়াচড়া করার মতন কোনো শক্তি পাচ্ছে না।কারন আকাশ তাঁকে ভালো করেই চেপে ধরেছে।পাঁচ মিনিট ওভার হয়ে গিয়েছে,কিন্তু আকাশ তাঁকে এখনো ছাড়ছে না।
এদিকে বেহরোজের নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে।তখনি আকাশ বেহরোজ কে ছেড়ে দেয়।কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার আগে সে একটা কামড় বসিয়ে দেয় বেহরোজের গালে!
আর বেহরোজ চেঁচাতে শুরু করে।যার ফলে আকাশ আবার তার ঠোঁটে চুমু খেতে আরম্ভ করে।জানি না ভাই আকাশ এতো চুমু খেয়ে কি মজা পায়!সে যে পরিমাণ লুচু,হয়তো আজকে সারারাতেও বেহরোজকে ছাড়বে না!কিন্তু সে-সব কাহিনী তো আর পাঠকদেরকে বলা যাচ্ছে না,তাই বিদায় নিচ্ছি….

সমাপ্তি….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here