লেডি_হ্যাকারের_সাইকোগিরি,১২,১৩

#লেডি_হ্যাকারের_সাইকোগিরি,১২,১৩
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_১২

“Z” এর কম্পিউটারে লেডি-হ্যাকারের সেই আলফাব্যাট টা রান করছে!যেটা ছিলো”M.B.Z”!এই দৃশ্য দেখে আকাশ পুরো “থ” হয়ে তাকিয়ে আছে কম্পিউটারের দিকে!

–কি করে সম্ভব এটা!এতো কড়া সিকিউরিটিকে ভেঙ্গে কম্পিউটার হ্যাক করলো কি করে সেই লেডি-হ্যাকার!
নাহ তাড়াতাড়ি কিছু একটা করতে হবে আমার।
.
আকাশ তার অন্য একটা ল্যাপটপ ওপেন করে।তারপর সে সেই ল্যাপটপটা দিয়ে নিজের ডিভাইসকে ফিরিয়ে আনার ট্রাই করে।কিন্তু কোনো ভাবেই সে তার হ্যাক হওয়া কম্পিউটারের ডিভাইসে ঢুকতে পারছে না।তার মাথা পুরে জ্যাম খেয়ে যায়!সে দু-হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বসে আছে।আর নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।কিছুক্ষণ পর সে নিজেকে শান্ত করে নিয়ে আবার ল্যাপটপে হাত রাখে।সে শান্ত মাথায় এবার কাজ নিচ্ছে।ভিন্ন একটা প্লান কাজ করছে তার মাথায়।আর সে সেই প্লান মোতাবেক কাজ করে।সে ল্যাপটপ দিয়ে তার আসল ডিভাইসকেই আবার হ্যাক করে নেয়।যার ফলে তার কম্পিউটার থেকে লেডি-হ্যাকারের আলফাব্যাট টা সরে যায়।আর তার ডিভাইসে লগইন করার রাস্তা সে পেয়ে যায়।সে যখন তার ডিভাইস লগইন করে,তখন সে দেখতে পায় আলাদা একটা ফোল্ডার তার ডিভাইসে।আকাশ তাড়াতাড়ি ফোল্ডার টাকে ওপেন করে।ফোল্ডারটা ওপেন করতেই দেখতে পায় তার মধ্যে কয়েকটা ভয়েস মেইল সেভ করা।আকাশ ভয়েস মেইল গুলা ওপেন করে।তখনি সে মেকানিক্যাল কন্ঠে লেডি-হ্যাকারের গলা শুনতে পায়।

–“Z”আমি জানি তুই অনেক বড় হ্যাকার।আর তোর সাথে পাঙ্গা নিয়ে কখনোই জিততে পারবো না।কিন্তু তাও কেন জানি মজা লাগছে তোর সাথে পাঙ্গা নিতে।তাই আমি তোর ডিভাইস টাকে হ্যাক করেছি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তোর ডিভাইসে প্রবেশ করেও কোনো প্রোগ্রামে ঢুকতে পারিনি।চুপচাপ ডিভাইসটা ওপেন করে বসে থাকতে হয়েছে শুধু আমাকে।তবে সমস্যা নেই।আবার ওয়ার করবো তোর সাথে।তখন আমার দম কতটুকু তুই সেটা দেখতে পাবি।লেডি-হ্যাকারের আসল পাওয়ার তুই এখনো দেখিস নি।সময় হোক ফেইস টু ফেইস খেলা হবে।আর তুই কি আতংক ছড়িয়েছিস ডার্ক সাইডে,যেদিন আমি আসল খেলা দেখাবো,সেদিন তোর থেকেও ভয়ানক ভাবে নাম পাবলিশড হবে আমার।তখন পুরো ডার্ক সাইডের কুইন একজন এই হবে।সে হলো লেডি-হ্যাকার,মানে “Z.M.B”।আর শোন তোর নামের আলফাব্যাট ব্যবহার করার জন্য মনে কিছু নিস না।আমি তোর নামের আলফাব্যাট টা এজন্যই ব্যবহার করেছি,যাতে করে তোর নাম যখন ধুলোয় মিশিয়ে দিব আমি,তখন যেনো মানুষ আমাকে” Z”কিলার কুইন নামে চিনে।যে কেউ একজন “Z” এর মতন মানুষকেও টপকে দিয়েছে।
তারপর আর কোনো ভয়েস নেই।
.
লেডি-হ্যাকারে সমস্ত ভয়েস শুনে আকাশের মাথায় পুরো আগুন জ্বলতে শুরু করে!তার এতো পরিমাণে রাগ উঠছে,যে সে চোখে মুখে কিছুই দেখতে পারছে না!

–লেডি-হ্যাকার তুই এবার শেষ মনে কর!
তোর ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে!একবার খালি তোর কোনো কিছু আমার চোখের সামনে পড়ুক।তারপর তোর হ্যাকারি চিরতরে বের করে দিব আমি।
.
এভাবে একদিন কেটে যায়।কিন্তু লেডি-হ্যাকারে উপর থেকে আকাশের রাগ কমে না।সে লেডি-হ্যাকারের তালাশ করতে থাকে।এর মাঝেই একটা কোম্পানি অনলাইনের মাধ্যমে একটা ট্রাম্প প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।সেখানে যেই ব্যাক্তিটা সব চাইতে বেশি ভোট পাবে,তাঁকে পাঁচ হাজার ডলার পুরুষ্কার দেওয়া হবে।প্রতিযোগিতার নিয়ম হচ্ছে একটা পোল থাকবে,যেটাকে একজন মানুষ ভোট করলেই ত্রিশ পয়েন্ট করে যোগ হবে।আর পোল লিমিট হচ্ছে পাঁচ হাজার।যে সবার আগে পাঁচ হাজার পয়েন্ট আনতে করতে পারবে,তাকেই পুরষ্কৃত করা হবে।এখানে অনেকেই অংশগ্রহণ করেছে।কিন্তু আকাশ করেনি।কারন তার এসবের প্রতি কোনো আকৃষ্টতা নেই।তাই সে এসবে নিজেকে ইনভলভ করেনি।কিন্তু কৌতূহল করে সে প্রতিযোগীদের ভোট পয়েন্ট ভিজিট করতে থাকে।
প্রতিযোগিতার লিডার বোর্ডে সবার পয়েন্ট দেখা যাচ্ছে।আকাশ দেখতে পায় প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঘন্টা খানিকের মাঝেই কেউ একজন পাঁচ হাজার পয়েন্ট কালেক্ট করে ফেলেছে।সেই প্রতিযোগীকে দেখে তার কেমন যেনো একটা সন্দেহ হয়।তাই সে সেই প্রতিযোগীর একাউন্ট হ্যাক করে।পরে সেই একাউন্ট কোন ডিভাইস দিয়ে খোলা হয়েছে সেটা চেক করে
সেই প্রতিযোগীর সিস্টেমকেউ হ্যাক করে।তখনি সে দেখতে পায়,যে সে যার একাউন্ট হ্যাক করেছে,সেটা সেই লেডি-হ্যাকারের।এটা দেখে আকাশ তো খুশিতে লাফ দিয়ে উঠে!

–বাছাধন এবার পালাবা কোথায়।আমি তো এই সুযোগের এই অপেক্ষায় ছিলাম।তোমার হ্যাকারি এবার বের করতেছি।তোমার সমস্ত সিস্টেমের মাঝে নাড়া বাঁধিয়ে দিব এবার আমি।তারপর দেখবো কি করে তুমি তোমার ডিভাইসকে আমার হাত থেকে রক্ষা করো।
.
আকাশ লেডি-হ্যাকারে সমস্ত সিস্টেমকে হ্যাক করে নিজের মতন সিকিউরিটি লাগিয়ে দেয় তার মধ্যে।কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সে কম্পিউটার হ্যাক করেও তার মধ্যে লেডি-হ্যাকারে কোনো কোনো আইডেন্টিটি খুঁজে পায় নি।মানে৷ হলো লেডি-হ্যাকারের ছবি বা আদারস কিছু।আর তার প্রোগ্রামেও তেমন কিছু নেই।তবে সে ব্যাপক খুশি।কারন লেডি-হ্যাকারের কোনো তথ্য না পেলে কি হয়েছে,তার কম্পিউটার তো সে হ্যাক করে নিয়েছে।আর এই কম্পিউটারের মাধ্যমেই লেডি-হ্যাকার নিজে তার সামনে আসবে।সে লেডি-হ্যাকারে সিস্টেমে নিজের সিকিউরিটি বসিয়ে দিয়ে জেমসকে ফোন করে….

–আকাশ ভাই আপনার মতন মানুষ হটাৎ আমায় ফোন দিলো?

–আরেহ সে কোনো বড় কিছু নয়।বড় কিছু হচ্ছে লেডি-হ্যাকার তো জালে আটকা পড়েছে।

–কিহহহহহহ!

–হুম লেডি-হ্যাকারের সিস্টেমকে আমি হ্যাক করে নিয়েছি।আমি জানি লেডি-হ্যাকার তার সিস্টেমকে আনলক করার জন্য যে কোনো ভাবেই আমার সামনে আসবে,বা আমার সাথে কন্টাক্ট করবে।তাই আমার সাথে কন্টাক্ট করার জন্য তার ডিভাইসে আলাদা করে আমার একটা মেইল সেট করে রাখবো।সেটা সে কম্পিউটার ওপেন করলেই দেখতে পাবে।সো আপনাদের কাজ হচ্ছে থানায় লেডি-হ্যাকারের নামে একটা মামলা করা।আমি তার ডিভাইসে ট্রেকার বসিয়ে দিব।আর সিকিউরিটি একটু দূর্বল করে দিব।যাতে করে সে আবার নিজের ডিভাইসে লগইন করতে পারে।আর সেই ট্রেকারের মাধ্যমে তার লোকেশন আমরা ট্রাক করে তাঁকে ধরে নিতে পারি।অবশ্য ট্রেকার ছাড়াও তাঁকে ধরা পসিবল হতো,কারন তার ডিভাইস আমার কাছে।কিন্তু সমস্যা হলো এখন তার ডিভাইসে কোনো লোকেশন নেই।কারন সে ভিপিএন ব্যবহার করেছে।
যার কারনে বাহিরের কান্ট্রিতে দেখাচ্ছে তার লোকেশন।কিন্তু সে যখন সিকিউরিটি ভেঙ্গে আবার ডিভাইসে ঢুকবে,তখন আমার ট্রেকারের কারনে সঠিক লোকেশন দেখাবে।

–ভাই অনেক ভালো আইডিয়া।আমি তাহলে থানায় মামলা করে দিচ্ছি লেডি-হ্যাকারের নামে।আর আপনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই কাজ চালান।এবার দেখি তার শেয়ানাগিরি কোথায় যায়।সে আমাদের বেস্ট ইলেভেনের নাম পুরো ধুলোর সাথে মিশিয়ে দিয়েছি।তাঁকে এবার ছাড়ছি না আমরা।

–হুম প্লান মোতাবেক কাজ করছি।আর আপনাকে আমি যেটা বলেছি,আপনি সেটা করুন।
.
জেমস আকাশের কথা মতন থানায় একটা মামলা করে লেডি-হ্যাকারের নামে।আর এদিকে আকাশ ঘাপটি মেরে বসে আছে লেডি-হ্যাকার কখন তার প্যাটার্নকে ভেঙ্গে নিজের ডিভাইসে প্রবেশ করে।যখনি লেডি-হ্যাকার ডিভাইসে প্রবেশ করবে,তখনি সে তার লোকেশন ট্রেক করে জেমসকে দিয়ে দিবে।আর জেমস তাঁকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিবে।
.
চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলো,কিন্তু লেডি-হ্যাকার চুপচাপ বসে আছে।সে তার ডিভাইসকে ফিরিয়ে নেওনার জন্য কোনো কিছুই করছে না।লেডি-হ্যাকারের এই জিনিসটা আকাশের কেমন যেনো হজম হয় না!কারন সে নিজের ডিভাইসকে ফিরিয়ে আনার জন্য কতো তড়িঘড়ি করেছে,কিন্তু লেডি-হ্যাকার হাত পা গুটিয়ে নিয়ে বসে আছে!আকাশ ও হাল ছাড়ার মতন পাবলিক না।ধৈর্য ধারন করে আসল খেলার জন্য অপেক্ষা করছে।দুই দিন পেরোতে চললো।আর এক ঘন্টা ফুরোলেই দু’দিন পেরোবে।রাতের বাজে এগারোটা।ঠিক সেই সময় আকাশের সেট করে দেওয়া সেই মেইল টাতে লেডি-হ্যাকার একটা মেইল পাঠায়।যে…

–“Z” আমি জানি আমার সিকিউরিটি সিস্টেমকে ফিরিয়ে দে তুই।না হয় কিন্তু আমার চাইতে খারাপ আর কেউ হবে না।আমি জানি তুই আমার সিকিউরিটিতে
ট্রেকার লাগিয়েছিস।তাই আমি ইচ্ছা করেই সিকিউরিটি ভেঙ্গে ডিভাইস ওপেন করিনি।তবে একবার চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তু তখনি তোর মেইল আমার চোখে পড়ে।আর কম্পিউটারের কন্ডিশন দেখে আমার যা বুঝার আমি বুঝে নিয়েছি।
.
আকাশ লেডি-হ্যাকারের কথা শুনে হাসতে থাকে।
আর তাঁকে হেঁসে হেঁসে মেইলের রিপ্লাই পাঠায়।

–তোর ডিভাইস থেকে কখনো ট্রেকার সরাবো না আমি।সো তোর যা করার করে নে।
.
পরে লেডি-হ্যাকার ও আবার মেইল করে।তারা মেইলের মাধ্যমে কথা বলতে থাকে।

–দেখ তুই কিন্তু আমায় রাগিয়ে দিয়ে ভালো কাজ করছিস না।

–আরেহ ভালো খারাপ দেখার সময়টা আমার কাছে নেই।তুই আমায় আগে রাগিয়েছিস,সো তোর ডিভাইস থেকে ট্রেকার সরবে না।
.
লেডি-হ্যাকার এবার নরম হয়ে যায়।

–আচ্ছা তার জন্য দুঃখীত আমি।এবার সরিয়ে দে ট্রেকার টা।

–উল্টো আমি সরি।ট্রেকার কখনোই সরবে না ডিভাইস থেকে।তবে হ্যাঁ একটা শর্তে আমি ডিভাইস থেকে ট্রেকার সরাতে পারি,যদি সেই শর্তে রাজি থাকিস তুই।

–কি শর্ত?

–তুই আমার সাথে ফেইস টু ফেইস দেখা করবি।তারপর তোর ডিভাইস থেকে ট্রেকার সরিয়ে দিব আমি।
.
আকাশের কথা শুনে লেডি-হ্যাকার থতমত খেয়ে যায়!
কারন সে তো কখনো কারোর সামনে আসবে না।কিন্তু এখন পরিস্থিতি তাঁকে তার মতের বিরুদ্ধে নিয়ে যাচ্ছে।

–কি হলো কিছু বল?

–ঠিক আছে আমি দেখা করবো।বল কোথায় দেখা করবি?আর কখন দেখা করবি?

–রমনা পার্ক চিনিস?চিনলে আগামীকাল সেখানে দেখা কর।

–হ্যাঁ রমনা চিনি।আর সেটা আমার বাসা থেকে অনেক কাছেই।সো ঠিক আছে সেখানে দেখাবো করবো আগামীকাল সকাল এগারোটায়।আমার কাঁধে লাল ব্যাগ থাকবে।একদম গেইটের পাশেই আমি দাঁড়িয়ে থাকবো।

–ঠিক আছে।

–কিন্তু মাথায় রাখিস কোনো চাল চালবি না।তাহলে কিন্তু অনেক ভয়ংকর রূপ দেখতে পাবি তুই আমার।
.
আকাশ আর কোনো কথা বলে না।সে চুপচাপ হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে পড়ে।পরেরদিন সকাল বেলায় আকাশ ঘুম থেকে উঠে জেমসকে ফোন দিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলে।জেমস আকাশের কথা মতম তার সাথে গাড়ি নিয়ে দেখা করতে চলে আসে।

–ভাই বলেন হটাৎ আবার কি জরুরী তলবে ডাকলেন?
লেডি-হ্যাকারের লোকেশন পেয়ে গেছেন কি?

–নাহ সে ডিভাইসে লগইন করে নাই।কিন্তু সে আমায় মেইল করেছে দেখা করবে বলে।শোনেন আপনি রমনায় চলে যান।লেডি-হ্যাকার সেখানেই আসবে।কাঁধে লাল ব্যাগ নিয়ে রমনার গেইটের সামনে দাঁড়াবে।আমার বদলে আপনি”Z”সেজে সেখানে যাবেন।
আর এই হিডেন ক্যামেরাটা আপনার বুক পকেটে লাগিয়ে নিন।আর ফোনে অডিও কনফারেন্স চালু রাখবেন।আমি কলেজে চলে যাচ্ছি।কারন আজকে তৃতীয় ঘন্টায় খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস নিয়ে আলোচনা করবে স্যার।তাই আমার যেতে হবে।আমি
মোবাইলের মাধ্যমে আমি সব কিছুই দেখতে পাবো।আর কনফারেন্সে তো কথা হবেই।আমি আপনাকে সমস্ত কিছুই বলে দিব কি কি করতে হবে।

–ঠিক আছে ভাই।

আকাশের বদলে জেমস”Z”সেজে সেখানে যায়।আর আকাশ কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব কিছু ফোনের মাধ্যমে দেখছে।সে এখন ক্লাসে যাবে না।তৃতীয় ঘন্টার সময় একেবারে ক্লাসে ঢুকবে।অন্যদিকে লেডি-হ্যাকার বোকার মতন রমনার সামনে চলে আসে।তার কল্পনাতেও নেই যে “Z” তার সাথে গেইম খেলা চালু করেন দিয়েছে।লেডি-হ্যাকার রমনার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে।মুখে কোনো মাস্ক নেই তার।একদম নরমাল পোশাকে এসেছে সে।যাতে করে মানুষ তাঁকে দেখে কোনে ধরনের সন্দেহ করতে না পারে।একটু পর জেমস ও গিয়ে রমনার সামনে দাঁড়িয়ে লেডি-হ্যাকারের তালাশ করছে।হটাৎ তার চোখে পড়ে লাল সাইড ব্যাগ কাঁধে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশ সব কিছুই ফোনের মাধ্যমে দেখছিলো।যখনি জেমস লেডি-হ্যাকারে সামনে যায়,তখনি লেডি-হ্যাকারকে দেখে আকাশের হুঁশ উড়ে যায়!আর তার হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায়!কারন সেই লেডি-হ্যাকারটা তার অনেক কাছের একজন মানুষ।

চলবে?

#লেডি_হ্যাকারের_সাইকোগিরি
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_১৩

যখনি জেমস লেডি-হ্যাকারে সামনে যায়,তখনি লেডি-হ্যাকারকে দেখে আকাশের হুঁশ উড়ে যায়!আর তার হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায়!কারন সেই লেডি-হ্যাকারটা তার অনেক কাছের একজন মানুষ!
আকাশ জেমসের শরীরে লাগিয়ে দেওয়া ক্যামেরার মাধ্যমে দেখতে পায়,যে বেহরোজ কাঁধে লাল কালারের ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!তখনি জেমস আকাশকে বলে…

–ভাই লেডি-হ্যাকারকে পেয়ে গেছি।
আমি এখনি পুলিশকে ফোন করে ইনফর্ম করছি।
.
জেমসের কথা শুনে আকশের বুক ধুপধুপ করতে থাকে!কারন একে তো তার প্রিয় মানুষটার আড়ালে থাকা এই ভয়ানক রূপ দেখে সে বিস্মিত হয়ে আছে!দ্বিতীয়ত তাঁকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে!তাই সে তাড়াতাড়ি জেমসকে না করে…

–এই জেমস স্যার না,না ভুলেও এটা করবেন না।চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন আপনি সেখানে।

–ভাই আপনি না বললেন লেডি-হ্যাকারকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিতে?তাহলে এখন আবার না করছেন যে?

–জেমস স্যার আমি যেটা বলেছি সেটা করেন আপনি।আপনি চুপচাপ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন।আর দেখেন সে কি করে।আর আমিও একটু মানুষটাকে ভালো করে দেখি,যে সে কি করতে চায়!আর আপনি কিন্তু ভুলেও তার সাথে কথা বলতে যাবেন না।

–আচ্ছা ঠিক আছে ভাই।
.
আকাশ চোখ বড় বড় করে বেহরোজের দিকে তাকিয়ে আছে!তার যেনো কোনো ভাবেই বিশ্বাস হচ্ছে না,যে বেহরোজ এই লেডি-হ্যাকার।সে ড্যাভড্যাভ করে বেহরোজের দিকে তাকিয়ে আছে!বেহরোজের থেকে যেনো তার কোনো ভাবেই নজর সরছে না!আকাশ পুরো ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছে!তখনি জেমস একটু জোর গলায় আকাশকে বলতে থাকে…

–ভাই মেয়েটাতো চলে যাচ্ছে।এখন কি করবো?
.
জেমসের কথায় আকাশের ঘোর কাটে।

–জেমস স্যার,আপনি দৌড়ে গিয়ে তার পথ আটকান।তারপর তাঁকে জিগ্যেস করেন কেন সে এখানে এসেছে।

–ঠিক আছে ভাই।
.
জেমস আকাশের কথা মতন বেহরোজের সামনে গিয়ে পথ আঁটকায়।বেহরোজ এটা দেখে ব্যাপক ভয় পেয়ে যায়!কিন্তু সে ভয় পেলেও স্বাভাবিক ভাবে জেমসকে জিগ্যেস করে..

–কে আপনি?

–সেটা একটু পরেই বলছি।কিন্তু তার আগে আপনি আমার কিছু কথার উত্তর দিন।

–কি কথা?

আকাশ কিন্তু ফোনের মাধ্যমে দু’জনের কথাই শুনছে।

–আপনি নিশ্চয়ই লেডি-মাফিয়া তাই না?

–মানে কি এসবের হ্যা?কি সব উল্টো পাল্টা কথাবার্তা বলছেন আপনি?মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে নাকি আপনার হ্যা?

–তাহলে কে আপনি?আর লাল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে রমনার সামনে কি করছেন?আর কেনই বা এসেছেন এখানে?

–আমি মানুষ।আর কেনই বা এসেছি এখানে,সেটা আমার নিজেরো অজানা।

–এই মেয়ে পাগল পেয়েছেন আমাকে?না উল্লু মনে হয় আমাকে?কোনটা একটু ক্লিয়ার করে বলেন তো?

–দেখুন মিস্টার আপনার সাথে কথা বলে আমার মাথার মেজাজ অতিরিক্ত পরিমাণে খারাপ হচ্ছে!কারন আপনার কথাবার্তার ধরন দেখে কোনো মতেই সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বলে মনে হচ্ছে না আপনাকে আমার!

–দেখুন আপনি আমায় যা ভাবার ভাবুন।সেটা নিয়ে আমার বিন্দু পরিমাণে মাথা ব্যথা নেই।কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর আমি চাই।কারন আমি এখানে একজনের তালাশে এসেছি।আর সে আমায় বলেছে,যে সে লাল কালারের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে রমনার গেইটের সামনে এসে দাঁড়াবে।সেই ব্যাক্তির কথা অনুযায়ী লাল কালালের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে এসে আপনি রমনার সামনে দাঁড়িয়েছেন।সো তাড়াতাড়ি বলুন আপনি কে,আর কেন এসেছেন এখানে।না হয় কিন্তু আপনাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করাবো।
.
বেহরোজ জেমসের কথা শুনে আবারো ঘাবড়ে যায়!সে এবার গলার আওয়াজ কমিয়ে নিয়ে জেমসকে বলে…

–আসলে অচেনা কেউ একজন আমার নামে একটা পার্সেল কুরিয়ার করেছে।যেই পার্সেলের ভিতরে ছিলো একটা লাল ব্যাগ আর হাজার বিশেক টাকা এবং একটা ছোট ক্যামেরা আর একটা চিঠি।যেই চিঠির মাঝে লিখা ছিলো,এই লাল ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে শরীরের যে কোনো একটা অঙ্গে ক্যামেরাটা ফিট করে রমনার সামনে এসে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে।যার ফলে তার পাঠানো টাকা গুলো আমার হয়ে যাবে।আর না হয় আমি যদি তার কথা মতন কাজ না করি,তাহলে সে আমার বিশাল একটা ক্ষতি করে দিবে।হতে পারে সেটার জন্য আমার প্রাণ ও নাকি যেতে পারে।তাই আমি এখানে এসে তার সমস্ত নিয়মকে ফলো করে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম।যাতে করে সে আমার কোনো ধরনের কোনো ক্ষতি না করে।আর দশ মিনিট শেষ হয়েছে দেখেই আমি চলে যাচ্ছি।
.
জেমসকে বলা বেহরোজের সমস্ত কথা গুলো অপরপ্রান্তে থেকে আকাশ শুনে আরো বড়সড় একটা ঝাটকা খায়!কারন সে ভেবেছে সে একাই লেডি-হ্যাকারের বিরুদ্ধে চাল চেলেছে।কিন্তু এখন বুঝতে পারছে,যে লেডি-হ্যাকার তার থেকেও বড় চাল চেলে রেখেছে!আকাশ তাড়াতাড়ি জেমসকে বলে….

–জেমস স্যার আপনি সেখান থেকে তাড়াতাড়ি চলে আসুন।আর সেই মেয়ের বিষয়ে কাউকেই কিছু বলবেন না।আর তাঁকে নিয়ে টানা হেঁচড়াও করবেন না।কারন সে লেডি-হ্যাকার না।

–ঠিক আছে ভাই আমি চলে আসছি।
.
অবশ্য জেমস আকশের সাথে কনফারেন্সে আছে,সেটা সম্পর্কে বেহরোজ কিছুই জানে না।কারন জেমস অনেক সাবধানতার কাথে আকাশের সাথে কথা বলেছে।তারপর জেমস আকাশের কথা মতন সেখান থেকে চলে আসে।আর বেহরোজ ও একটা রিক্সা নিয়ে সেখান থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।দুজন দু’জনের ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছে।কিন্তু এদিকে আকাশের আরেকটা জিনিস ভেবে মাথায় বাজ পড়েছে!যে সেই লেডি-হ্যাকার কি করে বেহরোজ মানে তার প্রিয় মানুষটাকে টার্গেট বানালো!তার মানে কি সেই লেডি-হ্যাকার কি তার ব্যাপরে সমস্ত কিছু জেনে গিয়েছে!সে তাড়াতাড়ি বেহরোজকে ফোন করে…

–এই তুই কোথায় রে?

–এই তো বাসার দিকে যাচ্ছি।

–তুই যেখানেই আছিস না কেন তাড়াতাড়ি আমার কলেজের সামনে এসে দেখা কর।

–ঠিক আছে আসছি আমি।
.
বেহরোজ ত্রিশ মিনিটের মধ্যে আকাশের কলেজের সামনে চলে আসে।

–কিরে হটাৎ এতো জরুরী ভাবে ডাকলি যে আমায়?
আর তোর না এখন কলেজ টাইম চলছে?তাহলে ক্লাস না করে বাহিরে কি করছিস?

–আসলে ক্লাসে যেতে ইচ্ছে করছিলো না,তাই তোকে ফোন করে ডেকেছি।কিন্তু একটা কথা বল তো বেহরোজ,তোর চেহারার এমন বারোটা বেজে আছে কেন?কি হয়েছে তোর?

–আরেহ আসলে একটা ঝামেলা হয়েছে।

–কি ঝামেলা?

–থাক সেটা আর তোর শুনতে হবে না।যেটা হয়েছে সেটা মিটিয়ে এসেছি।

–আরেহ আজীব!কি হয়েছে সেটা বলবি তো আমায় নাকি?

–আরেহ আসলে আমার কাছে হুমকিভরা একটা পার্সেল এসেছিলো…
.
তারপর জেমসকে বলা সমস্ত কথাই বেহরোজ আবার আকাশকে বলে….

–তাই বলে কি তুই সেখানে যাবি নাকি?আর গেছিস গেছিস আমায় জানালি না কেন এই বিষয়ে?

–আরেহ তোকে খামোখা টেনশনে ফেলতে চাইনি।

–বাহ কি সুন্দর কথা।আগে বলিসনি টেনশন হবে দেখে,কিন্তু এখন মনে হচ্ছে একদম এই টেনশন হচ্ছে না আমার!

–তাই তো তোকে বলতে চাইনি।

–বেহরোজ রাগ উঠাবি না একদম বলে দিলাম।তোর আরো আগেই আমাকে বলা উচিৎ ছিলো।

–আরে আরে রাগ করছিস কেন!থাক না বাদ দে এখন ওসব কথা।

–হুম ভালোবাসিস খালি মুখেই বলে যাস।কাজেকর্মে কোনো কিছুই করিস না।বিপদ আসবে তো তুই একাই সামলানোর চেষ্টা করবি।আমার যে তোর বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মতন একটা দায়িত্ব কর্তব্য আছে,সেটা পালন করতে দিবি না।

–বাপরে বাপ,কি দায়িত্ববান বিএফ টারে আমার!থাক হয়েছে আর গাল ফুলাতে হবে না।আগামীতে কিছু হলে তোকে জানাবো।এবার তো শান্ত হ…

–হুম হয়েছি।আচ্ছা তুই চট্টগ্রাম যাবি কবে?তোর তো পড়ালেখার বেশ ক্ষতি হচ্ছে ঢাকায় থেকে।

–হুম কয়েকদিনের মাঝে চলে যাবো রে।
আর আমিও জানি যে আমার পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।তাছাড়া গতকাল বাবাও ফোন দিয়ে বলেছে চট্টগ্রাম চলে যেতে।

–হুম তাই কর।খামোখা এতোদিন ঘুরে ফিরে পড়াশোনা নষ্ট করার কোনো মানে নেই।

–হুম…

–আচ্ছা চল রেস্টুরেন্টে বসে কফি খাই দুজনে মিলে।

–হুম চল।
.
দু’জনে মিলে রেস্টুরেন্টে কফি খেতে বসে।পরে অনেকটা সময় রেস্টুরেন্টে কাটিয়ে দু’জন দুজনের বাসায় চলে যায়।বেহরোজ বাসায় এসে বসে বসে আকাশের কথা ভাবছে,যে এতোদিন হয়ে গেলো,কিন্তু তার মনের সন্দেহ সে এখনো দূর করতে পারেনি।তার মানে হয়তো তার সন্দেহটাই ভুল।তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় যে দু’দিন পর চট্টগ্রাম চলে যাবে।
.
এদিকে আকাশও বাসায় চলে এসেছি।তার আজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস ছিলো।কিন্তু সে সেটাকে লাটে উঠিয়ে দিয়েছে।কারন তার মনের অস্থিরতা বেড়ে গিয়েছে বেহরোজের সেই বিষয়টা নিয়ে!সে বাসায় এসে অস্থিরতা নিয়েই কম্পিউটার টা ওপেন করে।কারন তার কেন জানি মনে হচ্ছিলো লেডি-হ্যাকার তাঁকে আবারো মেইল করেছে।তাই সে কম্পিউটার টা ওপেন করেছে।সে কম্পিউটার ওপেন করতেই দেখতে পায় মেইল বক্সটা লাল হয়ে আছে।তার মানে তার ধারণাই ঠিক হয়েছে।লেডি-হ্যাকার তাঁকে অনেক গুলো মেইল করেছে।সে শান্ত মাথায় মেইল গুলো ওপেন করে।মেইল ওপেন করতেই দেখতে পায় জেমসের ছবি!আর সাথে কিছু ভয়েস!সে ভয়েস গুলা প্লে করে….

–আরেহ”Z”আমি তো তোকে অনেক বড় খিলাড়ী মনে করেছিলাম,কিন্তু তুই তো দেখি বাচ্চা!তুই সত্যিই দেখি আমার সাথে দেখা করার জন্য চলে এলি!বাহ সেই তো দেখতে লাগে তোকে!তবে একটা জিনিসে একটু গড়বড় লাগছে,যে তোর বয়সটা একটু বেশি কেন!তোর যেই মেধা,সেই মেধার সাথে তোর বয়সের মিলটা কেন জানি খুঁজে পাচ্ছি না!
.
লেডি-হ্যাকারের কথা শুনে আকাশ এবার হেসে দেয়!কারন লেডি-হ্যাকার জেমসকেই”Z”মনে করেছে।

–যাক বাবা লেডি-হ্যাকার আমার বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি!কিন্তু বেহরোজের বিষয়টা এখনো একটা রহস্য রয়ে গিয়েছে!নাহ এখন বেহরোজের বিষয়টা সাইডে রেখে লেডি-হ্যাকারের বাকি ভয়েস মেইল গুলা শুনি।
.
আকাশ বাকি ভয়েস মেইল গুলা ওপেন করে।

–“Z”তুই মানুষের জন্য যত ভয়ংকর হ্যাকার এই হস না কেন,কিন্তু তুই আমার জন্য একটা দুধের বাচ্চা।সো আর এতো বেশি চাপ নিচ্ছি না।তোর সাথে কি করে খেলতে হয় সেটার রাস্তা আমি পেয়ে গেছি।তুই তো আমার সিস্টেমকে হ্যাক করেছিস বলে অনেক উড়েছিস,কিন্তু শুনে রাখ এই সিস্টেম দিয়ে কোনোই কাজ নেই আমার।তুই আমার যেই সিস্টেমকে আয়ত্তে করেছিস,সেটাকে এখন আমি পুরোপুরি ক্রেশ করে দিব।তারপর দেখি তুই আমার প্রোগ্রাম দিয়ে কোন মরা মানুষের পশম ছিঁড়িস।
.
তারপর লেডি-হ্যাকার তার সিস্টেমকে ক্রেশ করে দেয়।
সে নিজের আসল ল্যাপটপকে তসনস বানিয়ে দেয়!গুঁড়ি গুঁড়ি করে ফেলেছে ভেঙ্গে তার ল্যাপটপকে।
যার ফলে আকাশের কাছ থেকে তার ডিভাইস ব্যান খায়।আকাশ চাইলে এখন আর লেডি-হ্যাকারের ল্যাপটপে প্রবেশ করতে পারবে না,কারন লেডি-হ্যাকারের ডিভাইস আর নেই।কিন্তু তার প্রোগ্রাম গুলো চাইলে সে নিজে ব্যবহার করতে পারবে।লেডি-হ্যাকার ল্যাপটপ ক্রেশ করে আবারো একটা রানিং ভয়েস মেইল করে।

–“Z”তুই আমায় আর কখনো নাগাল পাবি না।আমার ডিভাইসকেই আমি তসনস করে দিয়েছি।যা সব শেষ।কিন্তু মাথায় রাখিস শেষটা আমার জন্য নয়।শেষটা হলো তোর জন্য।কারন আমার প্রোগ্রাম গুলো তোর কোনো কাজেই আসবে না।সো তুই এবার মুড়ি খা।আর আমি আবার নতুন আরেকটা ডিভাইস দিয়ে খেলা শুরু করি।আর শোন এখন যেই জিমেইল দিয়ে তোর সাথে মেইলের মাধ্যমে কথা বলছি,সেটাকে আবার হ্যাক করে লোকশেন ট্রাক করার চেষ্টা করিস না।কারন করলে কিছুই পাবি না।বেহুদা তোর এই কষ্ট হবে।কারন আমি ব্লাংক জিমেইল দিয়ে তোর সাথে মেইল করছি।যেটা চাইলে মুহূর্তের মাঝেই ভেনিস করে দেওয়া সম্ভব।
.
লেডি-হ্যাকারের কথা শুনে আকাশ তাড়াতাড়ি লেডি-হ্যাকারকে একটা ভয়েস মেইল করে।কারন লেডি-হ্যাকার হয়তো যে কোনো সময় জিমেইল টা ভেনিস করে দিবে।তাই তড়িঘড়ি করে লেডি-হ্যাকারকে ভয়েস মেইল করে।যে…

–“M.B.Z”তুই ও কিছু কথা শুনে রাখ।তোর চিন্তা ভাবনা অনুয়ায়ী আমাকে তোর কাছে দুধের বাচ্চা মনে হতে পারে,কিন্তু বাস্তবে না আমিও কম নই।তুই কি খেলোয়াড়,তুই চাইলেও বাপ লেভেলের খেলোয়াড় আমি।তুই কি ভেবেছিস,যে আমি সরাসরি তোর সাথে দেখা করতে গিয়ে তোর প্লানে পা দিব?তাহলে তুই ভুল ভাবছিস।মনে রাখিস আমিও”Z”!হাতের কোনো মাখানো মুড়ি না!সো যে তোর সাথে দেখা করার জন্য গিয়েছে সে”Z”নয়।সে ছিলো অন্য কেউ।
.
আকাশের এমন কথা শুনে লেডি-হ্যাকারের চরম রাগ উঠে যায়!সে পুরো সাইকোর মতন আচরণ করতে শুরু করে!কারন সে এতোটা সময় ভেবেছে,যে সে আসল”Z”কে দেখে নিয়েছে!”Z”একটা দুধের বাচ্চা!কিন্তু সে এখন এসে জানতে পারে যে সেটা অন্য কেউ ছিলো!যাকে সে দেখেছে সেটা আসল “Z”নয়!তাই সে রাগের চোটে গিয়ে জিমেইল টাকে ভেনিস করে দেয়!আর ভিতরে ভিতরে রাগে ফুলতে থাকে!,
.
মামুর বেটা তোকে তো আমি ছাড়বো না।সময়ে দেখবি তুই আসল খেলা।
.
এদিকে আকাশ হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ে!কারন সে বুঝে গিয়েছে,যে লেডি-হ্যাকারের অনেকটুকু ফাটিয়ে বাজিয়েছে সে!আকাশের হাসি যেনো কোনো মতেই থামছে না!কিছুক্ষণ পর তার হাসি আপনা আপনিই থেমে যায়।পরে সে কম্পিউটার রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।
.
পরেরদিন সকাল বেলায় আকাশ যখন ঘুম থেকে উঠে,তখন সে শুনতে পায় গভমেন্টর পার্সোনাল ওয়েবসাইট হ্যাক করার দায়ে পুলিশ জেমসকে” Z” ভেবে কে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে!এই খবর পেয়ে আকাশের মাথায় যেনো বাজ পড়েছে মতন অবস্থা!
সে ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছে,যে লেডি-হ্যাকার এই এই কাজ করেছে!সে গভমেন্টের ওয়েবসাইট হ্যাক করে তার নাম দিয়ে জেমসকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
.
অন্যদিকে পুলিশ জেমসকে থানায় এনে তাঁকে উল্টো ঝুলিয়ে মারতে শুরু করে।জেমস পুলিশের মাইর সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ মুখ খুলে বসে।যে..

–“Z” আমি না।”Z”হলো অন্যকেউ।

খুলতে চলেছে”Z”এর ভয়ানক রহস্য!সবাই কি জেনে যাবে ডার্ক ওয়েবের”Z”নামক আসল দুর্ধর্ষ হ্যাকারটা কে!

চলবে?

ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here