মেঘের_অন্তরালে পর্বঃ ১৭

মেঘের_অন্তরালে
পর্বঃ ১৭
লেখনীতেঃ তাহমিনা তমা

মা আমি হসপিটালে যাচ্ছি, আজ আসতে লেট হবে হয়তো।

পারভীন বেগম কিচেন থেকে দ্রুত বেড়িয়ে এসে বললেন, আজই যেতে হবে।

ইসরা মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, ছয় দিন আগে রাঙামাটি থেকে এসেছি। সবাই হসপিটালে জয়েন করেছে ফেলেছে গতকাল, আর আমি এখনো করতে বাসায় বসে আছি।

তুই তো অসুস্থ।

মা আমি এখন পুরোপুরিই ঠিক আছি। আমাকে নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। ইমন কোথায়, কলেজে গেছে ?

হ্যাঁ, ব্রেকফাস্ট করে কেবল গেলো। তুইও যখন যাবি কিছু মুখে দিয়ে যা।

না মা লেট হয়ে যাবে।

খাবার না খাওয়া পর্যন্ত এক পাও যেতে দিবো না।

মা তুমি না সবসময় বাচ্চাদের মতো জেদ করো।

তুমি যেমন আমারও তোমার সাথে তেমনই করতে হয়।

ইসরা কোনো মতে খেয়ে বের হয়ে গেলো। পারভীন বেগম মেয়ের কান্ড দেখে মুচকি হাঁসলো।

এই যা, হুর যে দেখা করতে যেতে বলেছে। সেটা তো বলতেই ভুলে গেলাম।

পারভীন বেগম নিজেকে বকতে বকতে আবার কিচেনে চলে গেলো বাকি কাজ শেষ করতে। ইসরা হসপিটালে যেতেই হুরের ফোন এলো।//লেখনীতে তাহমিনা তমা //

হ্যাঁ হুর বল।

ছয়দিন হলো ঢাকায় এসেছিস, আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না ? আজ ফুপিকে ফোন না করলে তো জানতেই পারতাম না।

আরে ইয়ার রাগ করিস না। তুই কেমন আছিস সেটা বল আর আমার পুঁচকে টা ?

তোর পুঁচকে নিজে ভালো থাকলেও আমাকে একদম ভালো থাকতে দেয় না। এক সেকেন্ড চোখের আড়াল হলে জিনিসপত্র ভেঙে শেষ করে।

ইসরা শব্দ করে হেসে বললো, বাপের কম আছে নাকি ? একটা ভাঙলে দশটা কিনে আনবে।

তুইও আরাফের মতো কথা বলছিস। সেও বলে আমার ছেলে যতো ইচ্ছে তত ভাঙচুর করবে, তাতে তোমার কী ? আর বাপের কথা শুনে ছেলে দাঁত কেলিয়ে হাসে। এদের দু-জনের যন্ত্রণায় আমি মাঝখান থেকে পাগল হচ্ছি।

আরো একটু বড় হলেই ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করিস না।

চার বছর হয়ে গেছে আর কবে ঠিক হবে। দেখে নিস বড় হয়ে এই ছেলে আস্ত একটা ফাজিল হবে।

ইসরা হাসতে লাগলো হুরের কথা শুনে। হুরের চার বছরের ছেলে হিমেল, দেখতে হুরের মতো সুন্দর হয়েছে। কিন্তু হুরের মতো সহজসরল না, একদম বাপের মতো বদের হাড্ডি। ছেলের জন্য নিজের কাজও ঠিকমতো করতে পারে না হুর। নিজের ইচ্ছে মতো ফ্যাশন ডিজাইনার হয়েছে হুর, নিজস্ব একটা ফ্যাশন হাউজ আছে তার। স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ সুখে আছে।

২৮.
তিয়াসা মেয়েটা অনেক ভালো, তাহলে তুই কেনো রাজি হচ্ছিস না আয়মান।

ফুপি আমি একবারও বলেছি তিয়াসা খারাপ ?

তাহলে তোর সমস্যা কোথায় ? এবার তো আর তিয়াসার বাবা শর্তও দেয়নি তোকে জব করার। তুই যা করিস তাই করবি, তাহলে না করছিস কেনো ?

ফুপি আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি।

আয়মানের ফুপি যেনো আকাশ থেকে পড়লো। সারাবছর জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়ে এ আবার মেয়ে কোথায় পেলো, সেটা ভেবে পাচ্ছে না। আয়মানের ফুপি ভয় পাচ্ছে, আয়মান হয়তো কোনো পাহাড়ি মেয়ে পছন্দ করেছে।

তিনি ভয়ে ভয়ে বললো, তুই মেয়ে কোথায় পেলি ? থাকিস তো জঙ্গলে জঙ্গলে।

সেখানেই পেয়েছি, পাহাড়ি ফুল।

আয়মানের ফুপি ছোট করে ঢোক গিলে বললো, কোন দেশের মেয়ে, আফ্রিকা নাকি উগান্ডা ?

আয়মান মৃদু রাগ দেখিয়ে বললো, উফফ ফুপি তুমি সবসময় আমার কথা নিয়ে মজা করো। কখনো একটু সিরিয়াসলি নাও না। ইসরা আফ্রিকা বা উগান্ডার নয় বরং বাংলাদেশের মেয়ে।

আরিয়ানা রেজওয়ান ভ্রু কুঁচকে বললো, বাংলাদেশের ?

হুম ইসরা বাংলাদেশের মেয়ে, নাম আনজুম ইসরা আর পেশায় ডক্টর। আর হ্যাঁ গায়ের রং কালো, কিন্তু দেখতে খুব মিষ্টি।

আয়মান ইসরার সাথে প্রথম দেখা থেকে শুরু করে সবকিছু খোলে বললো নিজের ফুপি আরিয়ানাকে।

আরিয়ানা রেজওয়ান গম্ভীর গলায় বললো, কতটা মিষ্টি আর কতটা তেতো সেটা আমি নিজেই দেখে নিচ্ছি।

আয়মান বাচ্চাদের মতো ফেস করে বললো, ফুপি আমি মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছি। বিয়ে যদি করতেই হয় ওকেই করবো আর নাহলে এবার জঙ্গলে গিয়েই বাড়ি বানিয়ে সেখানেই থেকে যাবো আর আসবো না।

আয়মান নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমটায় চলে গেলো আর তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আরিয়ানা মুচকি হাঁসলো। আরিয়ানা আকরামের ছোট হলেও আমিরের বড় বোন। বিয়ের পরই স্বামীর সাথে ইউএস চলে গিয়েছিলো। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছে পাঁচ বছর হলো আর ছোট ছেলে দুই বছর আগে নিজের পছন্দ মতো বিয়ে করেছে। আরিয়ানার স্বামী ইউএসের একটা বড় কোম্পানিতে জব করে। আয়মান আরিয়ানার ছেলে মেয়ে দুজনের থেকেই বয়সে ছোট তাই সবাই আদর করে আয়মানকে। যদিও তারা নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত তবে যথেষ্ট স্নেহ করে আয়মানকে। তৌফিকের কাছ থেকে আয়মানের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আরিয়ানা পাগলের মতো ছুটে এসেছে বাংলাদেশে। অনেক খোঁজাখুজি করেও না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলো। তখনই হঠাৎ আয়মানের ফোন আসে আর জানায় সে ঢাকা আসছে। আয়মান এখন তার ফুপুর ঢাকার বাড়িতে আছে। রেজওয়ান বাড়ির কেউ এখনো তাদের বিষয়ে জানে না। আরিয়ানার সাথেও তাদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়।

আয়মান রুমে গিয়ে ধপাস করে শুয়ে পড়লো। আটদিন হলো আয়মান ঢাকা এসেছে। রাঙামাটি শহরে পৌঁছে আয়মান সবার আগে একটা ফোন কিনে নিয়েছিলো। ভাগ্য ভালো ছিলো মানিব্যাগটা তার পকেটেই ছিলো এক্সিডেন্টের পর। ফোন কিনে তৌফিক, রুবেল, জ্যাক আর এথেন্স সবাইকে ফোন করে কিন্তু সবার নাম্বার বন্ধ পায়। ফুপির কথা মনে পড়তেই তার নাম্বারে ফোন করে জানতে পারে সে আয়মানের জন্য বাংলাদেশে চলে এসেছে। আরিয়ানা আয়মানকে তৌফিকদের ঠিকানা দেয় তারা রাঙামাটির কোথায় আছে। আয়মান ঠিকানা অনুযায়ী চলে যায়। এক্সিডেন্টের পর এক স্থানীয় লোক হসপিটালে খবর দেয় আর এম্বুলেন্সে করে ওদের নিয়ে আসে। আয়মান অনেকটা দূরে ছিটকে পড়েছিলো বলে খেয়াল করেনি। সবাই সেন্সলেস ছিলো তাই বলতেও পারেনি। পরে অনেক খোজাখুজি করেও আয়মানকে পায়নি।ওদের কথা শুনে আয়মান মুচকি হেঁসে মনে মনে বলেছিলো আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। ওদের সাথে আয়মানকে নিয়ে এলে সে ইসরার দেখা পেতো না। ইসরার কথা চিন্তা করতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো আয়মানের। আসার পর আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আয়মান বেড থেকে উঠে রেডি হয়ে নিলো আর ফুপির থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে বের হয়ে গেলো।

চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো ইসরা, বসে থেকে ঘাড় ব্যাথা করছে। এসে থেকেই রোগী দেখা শুরু করেছে এখন প্রায় লান্সের সময় হয়ে গেছে।

চেম্বারের দরজা খোলে কেউ ভেতরে আসতেই ইসরা চোখ বন্ধ করেই বললো, তুবা এখন আর পেশেন্ট পাঠিয়ো না, লান্সের পর পাঠাও।

কিন্তু ইসা পাখি আমার অবস্থা তো সিরিয়াস।

গলা শুনে চমকে উঠলো ইসরা, সামনে তাকিয়ে আয়মানকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো। এই কয়েকদিনে আয়মানকে ভুলার অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু বারবার আয়মানের মুচকি হাসি আর হেয়ালি করে বলা কথাগুলো মনে পড়তো। ভুলার চেষ্টা করায় আরো বেশী মনে পড়তো, শেষে বিরক্ত হয় ভুলার চেষ্টাও করেনি। ইসরা ভেবেছিলো আয়মান আর তার সামনে কখনো আসবে না। ক্ষণিকের মোহে পরে সেদিন ওসব বলেছিলো।

ইসরা ভাঙা গলায় বললো, আপনি এখানে ?

বলেছিলাম তো, ভাববে না রাঙামাটি থেকে চলে এলে তোমাকে আর খোঁজে পাবো না। তোমার পুরো বায়ো ডাটা আমার কাছে আছে।//লেখনীতে তাহমিনা তমা //

আপনি কেনো এসেছেন এখানে ?

আয়মান চেয়ার টেনে বসে বললো, সেদিনের উত্তরটা জানা বাকি রয়ে গেছে সেটা জানতে।

দেখুন পাগলামি করবেন না, আপনি চলে জান দয়া করে।

ঠিক আছে বলতে হবে না। এখন তোমার বাসায় চলো, আমার ফুপি তোমাদের বাসায় যাবে।

ইসরা বড় বড় চোখে তাকিয়ে বললো, কেনো ?

আয়মান মুচকি হেঁসে বললো, বিয়ের কথা বলতে ?

ইসরা এবার অতিরিক্ত রেগে গেলো। রাগ যতটা না আয়মানের উপর তার থেকে বেশি নিজের উপর।

ইসরা অনেকটা চেচিয়ে বললো, বিয়েটা ছেলেখেলা মনে হয় আপনাদের কাছে ? কতটুকু জানেন আপনি আমার সম্পর্কে ? না জেনে সোজা বিয়ে পর্যন্ত চলে গেছেন। এখন বিয়ের জন্য পাগলামি করছেন আর যখন ভালো না লাগবে ছুঁড়ে ফেলে দিবেন। এটাই তো পারেন আপনারা ?

ইসরা এতোটা রিয়াক্ট করবে আয়মান বুঝতে পারেনি। ইসরাকে শান্ত করার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে ইসরার কাঁধে হাত রাখতেই ইসরা সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো আয়মানের গালে। আয়মান হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে রইলো ইসরার দিকে।

ইসরা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললো, আপনার সাহস হলো কীভাবে আমাকে টাচ করার ? এই মুহুর্তে আমার সামনে থেকে চলে যান। আমি আপনার মুখও দেখতে চাই না, আর কখনো আমার সামনে আসবেন না।

আয়মান ধীর গলায় বললো, আমার কথাটা একবার শুনো।

ইসরা দাঁতে দাঁত চেপে বললো, আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। রেজওয়ান পরিবারের কারো ছায়ার জায়গাও নেই ইসরার জীবনে, আইসে গেট আউট।

রাগে হাতের মুষ্টি বন্ধ হয়ে গেলো আয়মানের। নিজের অন্যায়ের শাস্তি ভোগ করতে তার সমস্যা নেই কিন্তু যে অন্যায়ে তার কোনো হাত নেই তার শাস্তি সে কেনো ভোগ করবে ? আয়মান যদিও চেয়েছিলো ইসরার থেকেই তার অতীত জানতে। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, এবার আয়মানের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে রেজওয়ান পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্যকে। আয়মান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চেম্বারের দরজা খোলে বের হতেই মিষ্টির সামনে পড়লো। মিষ্টি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আয়মানের দিকে।

আয়মান কিছু বলার আগেই মিষ্টি বললো, আমি সবই শুনেছি। আপনি আসুন আমার সাথে।

আয়মান বের হয়ে যেতেই ইসরা ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। চোখমুখে পানি দিলো তবু কান্না আটকাতে পারলো না, শব্দ করে কেঁদে দিলো। ইসরা চায়নি আয়মানকে এভাবে অপমান করে তাড়িয়ে দিতে। কিন্তু সে কী করবে ? ইসরা বুঝতে পারছিলো সেও আয়মানের প্রতি অনেকটা দূর্বল হয়ে গেছে। ভালোবাসার কাঙাল মনটা একটু ভালোবাসার ছোঁয়া পেয়ে স্বপ্ন সাজাতে শুরু করেছে। কিন্তু এটা হতে পারে না, আয়মান যখন তার অতীত জানবে তখন আয়মানের মনে তার এই জায়গাটা থাকবে না। তখন ইসরা কীভাবে আবার নিজেকে সামাল দিবে ? নতুন করে কষ্ট পাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই ইসরার। অনেক কষ্টে নিজেকে দাঁড় করিয়েছে আবার ভেঙে পড়লে তার পরিবারের কী হবে ? আর আয়মানকে মেনে নেওয়া মানে তো আবার সেই রেজওয়ান পরিবার আবার সেই পুরনো অপমান আর কষ্ট।

২৯.
মিষ্টি হসপিটালের পাশের কফিশপে নিয়ে গেলো আয়মানকে। একদম কর্ণারের টেবিলে বসে দুটো কফি অর্ডার করলো।

মিষ্টি ছোট করে একটা ঢোক গিলে বললো, ইসরা রাগ যতটা না আপনার উপর ছিলো তার থেকে বেশি নিজের উপর ছিলো।

আয়মান অবাক হয়ে বললো, মানে ?

অবহেলা আর অপমান ছাড়া জীবনে কিছু পায়নি মেয়েটা। মনটা বড্ড ভালোবাসার কাঙাল আর তাই আপনার একটু ভালোবাসা জড়ানো কথা ইসরার মনকে দূর্বল করে দিয়েছে। সেটা নিয়ে নিজের উপর বিরক্ত ইসরা,তার যে এসব সোভা পায় না। তার অতীত জানলে আপনার এই অনুভূতিগুলো যে থাকবে না।

আয়মান অবাক হয়ে শুনছে মিষ্টির কথা। আয়মান বিশ্বাস করতে পারছে না ইসরার মনেও তার জন্য একটা জায়গা তৈরি হয়েছে।// লেখনীতে তাহমিনা তমা //

মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জানি ইসরাকে। সবসময় বইয়ে মুখ গুঁজে থাকা চুপচাপ একটা মেয়ে। কারো সাথে কথা বলা তো দূর, কারো দিকে তাকিয়েও দেখে না। শান্তশিষ্ট মেয়েটা মনে পাহাড় সমান কষ্ট লুকিয়ে রেখেছে বুঝতে পারিনি। আমিই প্রথমে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিলাম। ইসরার সেই বন্ধুত্ব স্বীকার করতেও অনেকটা সময় লেগেছিলো। ধীরে ধীরে সম্পর্কটা গভীর হতে থাকে আর ইসরাও আমার সাথে সহজ হতে থাকে। যেদিন ওর অতীত বলেছিলো মেয়েটার ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি থাকলেও আমার চোখের পানি বাঁধ মানেনি।

কী সেই অতীত ?

মিষ্টি ছোট একটা নিশ্বাস ছেড়ে বললো, আপনার বড় ভাই নিহান রেজওয়ানের প্রাক্তন স্ত্রী আনজুম ইসরা।

পায়ের নিজের মাটি সরে গেছে আয়মানের। মনে হচ্ছে তার পুরো দুনিয়া ঘুরছে, কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। মনে হচ্ছে ভয়ংকর কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছে।

আয়মান কাঁপা গলায় বললো, প্রাক্তন স্ত্রী মানে ?

মিষ্টি মুচকি হেঁসে বললো, হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন। দুই মাসের সংসার ছিলো আপনার ভাইয়ের সাথে। সেই দুই মাসে ইসরা দুনিয়ায় জাহান্নামের স্বাদ উপভোগ করেছে।

মিষ্টি শুরু থেকে সবটা বললো আয়মানকে আর আয়মান পাথরের মুর্তির মতো বসে আছে। তার অনুভূতি মিষ্টি বুঝতে পারছে না সামনে বসে থেকেও।

কী হলো ভালোবাসা উবে গেছে ?

আয়মান কিছু না বলে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। মিষ্টি চুপচাপ দেখতে লাগলো আয়মান কী করে। আয়মান আর একটা শব্দও না করে বের হয়ে গেলো কফিশপ থেকে।

মিষ্টি তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বললো, হায়রে ভালোবাসা। একটা ঠুনকো আঘাতেই ভেঙে গুড়িয়ে গেলো।

মিষ্টি উঠে বিল দিয়ে হসপিটালের দিকে চলে গেলো।

আয়মান সোজা বাসায় গিয়ে ফুপির রুমে চলে গেলো। বেডে আধশোয়া হয়ে বই পড়ছিলো আরিয়ানা। আয়মান গিয়ে তার কোলে মাথা রেখে শুইয়ে পড়লো।

আরিয়ানা চমকে উঠলো হঠাৎ আয়মানের আগমনে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো, কী হয়েছে ?

কোনো উত্তর এলো না আয়মানের দিকে থেকে।

লাঞ্চ করেছিস, নাকি এমনই না খেয়ে শুধু ঘুরে বেড়াচ্ছিস৷?

আরিয়ানা আর কিছু বলবে তার আগেই অনুভব করলো আয়মান কাঁদছে।

ব্যস্ত গলায় বললো, কী হয়েছে আয়মান, কাঁদছিস কেনো ?

ধরা গলায় আয়মান বললো, এমন একটা জঘন্য পরিবারেই কেনো জন্ম হলো আমার ?

আরিয়ানা অবাক হয়ে বললো, কী বলছিস আবোল তাবোল ?

আয়মান ধরা গলায় বললো, ফুপি ইসরা নিহানের প্রাক্তন স্ত্রী।

আরিয়ানা বিস্ফুরিত গলায় বললো, কীহ্ ?

আয়মান ধীরে ধীরে সব খোলে বললো আরিয়ানাকে। আরিয়ানা স্তব্ধ হয়ে গেছে সব শুনে। ভাবতে লাগলো একেই হয়তো বলে ভাগ্য। এতো এতো দেশ ঘুরে, পৃথিবীতে এতো মেয়ে থাকতে ইসরাকেই ভালোবাসতে হলো আয়মানের। নিজের পরিবারের উপর ঘৃণা হচ্ছে আরিয়ানার। আয়মান অনেকটা তার ফুপির মতো হয়েছে কারণ আরিয়ানার সাথেও রেজওয়ান পরিবারের মন মানসিকতা খুব একটা মেলে না।

আরিয়ানা আয়মানের মাথায় হাত রেখে বললো, ভালোবাসা কী এখনো কিছু অবশিষ্ট আছে ?

আয়মানের ভালোবাসা এতো ঠুনকো নয়।

কিন্তু ইসরাকে কীভাবে মানাবি ?

সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও কিন্তু তার আগে নিহানের মুখোমুখি হতে চাই আমি। আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর নিহানকে দিতে হবে এবার।

চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here