মেঘলা আকাশের প্রেমজুড়ি,পার্টঃ০৫

মেঘলা আকাশের প্রেমজুড়ি,পার্টঃ০৫
লেখনীঃ Mona Hossain

যাক বহুত খুঁজে টুঁজে ভাইয়ার গ্রিন কালারের টিশার্ট পেয়ে গেলাম। চিলেকোঠায় ঢুকে নিজের এলোমেলো শাড়িটা ছেড়ে টিশার্ট গায়ে দিলাম তাতে নিজের মধ্যে অনেকটাই কাকতাড়ুয়া ফিলিং পাচ্ছি,তবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না এত বড় ছেলের টিশার্ট কি আমার মত পিচ্চি মেয়ের হয়? যাই হোক কাকতারুয়া হোক আর যাই হোক তাতে কি রং তো উজ্জল হয়েছে তাতেই চলবে।কি আর করা কাকতাড়ুয়ার ফিলিং নিয়েই নিচে যেতে লাগলাম নিচে ছাদের সিঁড়ি পার হতে না হতেই বড় মা এসে হাজির হলেন আর আমার রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে কাচুমাচু মুখ করে বললেন,

-আকাশকে তো চিনিস.. তোকে বকা দিয়েছি জন্যে গাল ফুলিয়েছে যা না একটু রাগ টা ভেঙে দে তুই ছাড়া কারো কথা শুনবে না।

-উম আমাকে যে বকা দিয়েছে তাতে কিছু হয় নি নিজের ছেলে রাগ করেছে তাতেই ছুটে এসেছে আজব।
ইচ্ছে করছে বড় মার চুল ছিড়ে দেই কিন্তু তিনি ত আমার গুরুজন তাছাড়া আমার একটা দোষ আছে, বদঅভ্যাস ও বলতে পারেন যে যতই খারাপ ব্যবহার করুক না কেন আমি রাগ করে থাকতে পারি না তাই তো ভাইয়া আমাকে এত বকা দেয়ার পরেও ওর কাছেই বারবার ফিরে যাই তেমনি বড় মা একটু আগেই আমাকে বকা দিয়েছি কিন্তু এখন যে নরম গলায় কথা বলেছে তাতেই গলে গেলাম আর বললাম,

– আমি ভুল করেছি বলেই তো বকেছো তাহলে ভাইয়া রাগ করল কেন?

– আমরা তোকে নিয়ে উল্টা পাল্টা ভেবেছি তাই।

– কি উল্টাপাল্টা ভেবেছিলে?

বড় মা উত্তর দেয়ার আগেই ভাইয়া এসে হাজির হল।
আমি ভাইয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে বল্লাম
-বলো না বড় মা কি ভেবেছিলে।

বড় মা বলতে যাবে তখনী ভাইয়া চোখ পাকিয়ে বলল
-মা তুমি কিছু ভাব নি আর মেঘলাও কিছু জানবে না বুঝেছো আমার কথা?আর মেঘলা এত পকপক করিস কেন সব ব্যাপারে নাক না গলালে হয় না?

বলেই ভাইয়া চলে গেল।তবে আমার তো জানতেই হবে সবাই কি ভেবেছিল?তাই বড় মাকে বল্লাম
-এখন বলো তো ব্যাপার টা কি?

বড় মা গজ গজ করতে করতে জবাব দিল
– কি ভেবেছিলাম আর কেন বকেছিলাম সেটা যদি তুই জানতে পারিস তাহলে আকাশ আমাদের আর আস্ত রাখবে ভেবেছিস দেখিস না এমনি কেমন রেগে আছে?
যা ওর সাথে যা রাগ টা ভেঙে দে।

– না বাবা আমি যাব না ভাইয়া বকা দিবে…

-ঢং দেখলে বাঁচি না,ছেলের মাথা তুই যেভাবে চিবিয়ে খেয়েছিস তোকে দিবে বকা? দরকার হলে পৃথিবী উল্টে দিবে তাও তোকে বকা দিবে না। (বিড়বিড় করে)

-কিছু বলছো বড় মা…??

-ক ক কই কিছু না তো আরে তোকে বকবে না।আকাশ তোকে অনেক আদর করে। তুই ছাড়া কারো কথা তো শুনবে না। যা না মা।

ভেবেই ভাল লাগছে ভাইয়া আমায় আদর করে। বড় মার কথা শুনে হনহন করে ভাইয়ার দিকে ছুটলাম।

নিচে গিয়ে দেখলাম ভাইয়া টিভির সামনে বসে এক দৃষ্টিতে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে।টিভিতে এমন লুক দিয়েছে মনে হচ্ছে যেন টিভি ছাড়া পৃথিবীতে অন্য কোনো বস্তুর অস্বিস্ত নেই।
ও কি টিভি দেখছে নাকি কিছু চিন্তা করছে বুঝতে পারছি না? যেভাবে তাকিয়ে আছে এভাবে টিভি দেখার কথা না যাইহোক আস্তে করে ভাইয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বললাম

-ভাইয়া শুনছিস?

আমার কথায় ভাইয়া একটু চমকে উঠল মনে হল যেন নিজের ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসল।তারপর বিরক্তকর চোখে তাকিয়ে বলল,

– কি চাই…??

-সবসময় এত রেগে কথা বলিস কেন?

-তো কি কোলে নিয়ে নাচব?

-ধুর বাবা ভাল লাগে না…

বলেই উল্টো ঘুরে হাঁটা দিলাম তখনী পিছন থেকে বলে উঠল,

– এই দাঁড়া কি বলতে এসেছিলি বলে যা।

-বলব না

-সিনক্রেয়েট করতে তোর ভাল লাগলেও আমার লাগে না তাই থাপ্পড় খাওয়ার আগে বল কি বলতে চেয়েছিলি?

-কিছু না এমনি এসেছিলাম।

-তুই খুব ভাল করেই জানিস সেচ্চায় না বললে তোকে মেরে হলেও শুনে ছাড়ব।

– এত নাটক কি করে করিস রে?এত পেঁচিয়ে না বলে বল আমি যা বলতে চেয়েছিলাম সেটা না শুনে তুই থাকতে পারবি না এতই যখন আমার প্রতি ইন্টারেস্ট তাহলে ভাব দেখাস কেন?

-মেঘলা….!!!

ভাইয়ার এই একটা ধমক আমাকে কাঁদিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট তবে এখন কাঁদি নি ধমকে একটু কেঁপে উঠলাম কিন্তু আমার ভয় পাওয়া,কষ্ট পাওয়া বা ব্যাথা পাওয়ায় ভাইয়ার কোনদিন কিছু যায় আসে নি আজও তার ব্যাতিক্রম হল না। সহসা বলল,

– এত ঢং শিখেছিস কোথা থেকে? তুই যা শুরু করেছিস এর পর তোর সাথে কথা বলতেও ভেবে বলতে হবে দেখছি।

-তোর সাথে কোন কথাই বলতে ইচ্ছে করছে না আমার।

– তাহলে এসেছিলি কেন?

-তুই এই বা এত ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন?

– কারন তুই চরম মাপের একটা ফাউল মেয়ে তাই। কিছু তো বুঝিস না শুধু শুধু লাফাস একটু আগে এত কাহীনি না করে বলতে পারলি না তুই কিছু করিস নি?

– ও আচ্ছা এজন্য রাগ করেছে বাবু টা..??

– ওই আমি তোর বাবু হই?

-হোস তো…

-কিসব যাতা বলছিস?দিন দিন তুই বেহায়ার সব সীমা যাচ্ছিস মেঘলা।

-ছাড় তো আপাতত এসব বাদ দে একটা ভাল কথা বলি?

– তুই আর ভাল কথা..??

-হ্যা ভাল কথাটা হল… আজ আমার জন্মদিন।

ভেবেছিলাম ভাইয়া হয়ত আমার জন্মদিন শুনে খুব খুশি হবে কিন্তু তেমন কিছু হল না সে তাছিল্যের ভাব নিয়ে বলল,
-তাই নাকি তার মানে আজকের দিনে মেঘলা নামক আজব প্রানীটা পৃথিবীতে এসেছিল?

-এটা কেমন কমপ্লিমেন্ট?আচ্ছা ভাইয়া কি সত্যিই জানত না আজ আমার জন্মদিন? এত সহজে ভুলে যেতে পারল? ভেবেই মন খারাপ লাগছে।

– কিরে চুপ হয়ে গেলি কেন ভুল কিছু বল্লাম? তোর মধ্যে মানুষের কোন বৈশিষ্ট আছে?

জবাব দিলাম না চুপচাপ ড্রয়িং রুমের দিকে পা বাড়ালাম।
ড্র‍য়িং রুমে মাম্মাম ছোট মা মিলি আপু নেহা আপু সবাই বসে আছে আমিও গিয়ে বসলাম।

আমাকে দেখেই নেহা আপু বলে উঠল
-আয় আয় মেঘলা দেখ ফুফা তোর জন্মদিনের পার্টির জন্য কত টাকা দিয়েছে…

-টাকা দিয়েছে মানে? বাপি কোথায় মাম্মাম?

-আরে তোর বাবার হটাৎ একটা কাজ পড়ে গিয়েছে তাই চলে গিয়েছে বলল আমরা যেন সব সামলে নেই তুই চিন্তা করিস না আকাশ নাবিল আছে তো ওদের বল্লেই সব ব্যবস্থা করে ফেলবে তুই তোর সব বন্ধুদের বলে দে।

পার্টি আমার সবসময় ভাল লাগে তাই খুশিতে ফোন হাতে নিলাম তখনী ছোট মা মিলি আপুকে বলল ভাইয়া কে ডেকে আনতে।মিলি আপুও সাথে সাথে চলে গেল।
আমি ফোন করে সবাইকে দাওয়াত দিচ্ছি তখনী আকাশ ভাইয়া এসে ধুম করে আমার পাশে বসে মাম্মাম কে উদ্দেশ্য করে বলল

-ফুফি ডাকছিলে?

-হ্যা দেখ না মেঘলার বাবার একটা জরুরী কাজ পড়ে গিয়েছে তাই চলে গিয়েছে।

-কোন সমস্যা নেই আমি নাহয় তোমাকে গিয়ে দিয়ে আসব। এত তাড়া কিসের থাকো না ২,৪ দিন।

ছোট মা এতক্ষন ধরে মনোযোগ দিয়ে শপিং এর লিস্ট বানাচ্ছিল ভাইয়ার কথা শুনে সেটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
-আরে যাওয়ার জন্য বলছে না রাতে বাসায় পার্টি আছে তাই তুই গিয়ে বাজার টা করে নিয়ে আয়।

ভাইয়া চোখ সরু করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-পার্টি..?? কিসের পার্টি?

-আরে মেঘলার জন্মদিন জানিস না?

ভাইয়া প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে কর্কশ কন্ঠে বলল,
-কী…?? এত বড় মেয়ের আবার কিসের জন্মদিন?

ভাইয়ার কথায় সবাই অবাক হল আমার তো কেঁদে দিতে ইচ্ছে করছে।মুহূর্তেই আনন্দ টা ফ্যাকাশে হয়ে গেল ফোন রেখে ভাইয়ার দিকে তাকালাম আমার অবস্থা দেখে ছোট মা বলে উঠল,

-আহ আকাশ মজা করিস না তো একটা শুভ দিনে কাঁদাস না মেয়েটাকে।

-আমি কোন মজা করছি না এটা মোটেও খুশির দিন না বরং এই দিনে একটা প্যাকেটজাত প্রবলেম টুক করে আমাদের পরিবারে চলে এসেছিল।মেঘলার জন্মদিন হবে না মানে হবে না এটাই ফাইনাল।

মাম্মাম ভাইয়ার কথায় অবাক হলেও সব টা সামলে নিয়ে বলল,

-কিন্তু আকাশ মেঘলা তো ওর ফ্রেন্ডদের দাওয়াত দিয়ে ফেলেছে…

মাম্মামের কথায় ভাইয়া এমন জবাব দিবে আমরা কেউ ভাবতেও পারি নি। ভাইয়া মাম্মামের মুখে মুখে বলে বসল।

– আমি যেহেতু নিষেধ করেছি পার্টি হবে না মানে হবে না।

মাম্মাম ভাইয়ায় জবাবে হতবাক হয়ে গেল,
ছোট মা ভাইয়ার দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে বলল,

– কি হচ্ছে কি আকাশ এসব কি ধরনের আচারন?একটু আগেই তো মেঘলার হয়ে এত কথা বলছিলি এখন আবার কি হল? তুই আসলে কি চাস রে আকাশ?

ভাইয়া একটু ইতস্তত হয়ে বলল,
-যার যা প্রাপ্য তাকে তাই দিতে হয় ছোটমা।

ভাইয়া এসব কি করে বলছে বুঝতে পারছি না। মন টা খুব খারাপ হল যার আমার জন্মদিনে সবচেয়ে খুশি হওয়ার কথা ছিল সেই এমন করে বলছে?

-আশা করছি এই নেই কেউ আর বাড়াবাড়ি করবে না বলেই চলে যেতে চাইল সাথে সাথেই আমি ওর রাস্তা আটকে দাঁড়ালাম।

-কি সমস্যা?

-সমস্যা টা আমার না তোর পার্টি হলে তোর সমস্যা কি আর তুই কে পার্টি বন্ধ করার?

-যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছিস সেটা কার বাসা বল তো?

-মানে কি? তুই বাসার…??

-ঠিক তাই ফুফির বিয়ে হয়ে গিয়েছে তাই ফুফি চাইলেই এই বাসায় অধিকার খাটাতে পারো না।আমার বাসায় কোনো পার্টি হবে না। বুঝতে পেরেছিস?

মাম্মাম উঠে দাঁড়িয়ে ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-আমি ভাবতে পারছি না আকাশ তুই এসব বলতে পারিছিস?তুই আমায় বাসার খোটা দিস?

-আমি যা বলছি ঠান্ডা মাথায় বলছি রাগের মাথায় বলছি না তাই ইমোশনাল ডায়লগ দিয়ে লাভ নেই ফুফি।

ছোট মা ভাইয়াকে কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু তার আগেই মাম্মাম বলে উঠল,

-থামো ভাবী সেই ছোট আকাশ আর নেই এখন তো বাড়ির বড় ছেলে হয়েছে তাই না? ওকে আর কিছু বলো না। বাড়িটা ওর তাই ওর অধিকার আছে আর ওর হুকুম আমার দায়িত্ব।

-ঠিক বলেছো ফুফি কখনো কখনো কিছু দায়িত্ব আমাদের বাকি সব দায়িত্ব ভুলিয়ে দেয়।

আমি আর সহ্য করতে পারলাম না কেঁদে দিলাম।আমার কান্নায় ভাইয়া হয়ত আরো বিরক্ত হল তাই ধমক দিয়ে বলল,

-ন্যাকামি বন্ধ করে যাদের দাওয়াত করেছিস তাদের আসতে নিষেধ কর।

চোখ মুছতে মুছতে বল্লাম
-তুই আমাকে কাঁদানোর জন্যই এমন করছিস তাই না?

-আমাকে তো পাগলা কুকুরে কামড়েছে তোকে কাঁদিয়ে আমাত লাভ কি যতসব ফাযলামি।

-তারমানে তুই সত্যি দিবি না?

-প্রশ্নই আসে না।

-ঠিক আছে লাগবে না চলে যাচ্ছি বাসায় গিয়ে পার্টি করব আর আসব না তোদের বাসায়,

-যা তো কে আসতে বলে তোকে?

যে ভাইয়া আমার জন্মদিনের জন্য রাতের কুয়াশা ভেঙে ৪ ঘন্টার জার্নি করে ১২ টার আগে ছুটে যেত আমার কাছে নিজের হাতে সব সাজাত আজ সেই এমন করছে?পার্টির জন্য না ভাইয়ার বদলে যাওয়াটা যে আমার ঠিক কোথায় লাগছে ভাইয়া কি বুঝতে পারছে না?

মাম্মাম কিছু না বলে উপড়ে চলে গেল ছোট ২
মা মাম্মাম কে শান্তনা দিতে পিছনে ছোটল।
মিলি আপু আর নেহা আপু সেখানেই একে অন্যের মুখ দেখাদেখি করছে আমার মত তারাও ব্যাপারটা বুঝতে পারছে না।

ভাইয়া ধমক দিয়ে তাদেরকেও বিদায় করে দিল। আমিও তাদের সাথে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ালাম তখনী ভাইয়া চেঁচিয়ে উঠল

-নবাবজাদির মধ্যে কোথায় যাচ্ছেন যাদের ফোন করেছিলেন সবাইকে মানা করেন আজ কেউ যদি বাসায় আসে কপালে দুঃখ আছে বলে দিলাম।
বলে ভাইয়া হন হন করে উপড়ে চলে গেল।

আমি রাগে বাসায় ফিরে আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু হঠাৎ মনে হল ভাইয়ার বদলে যাওয়ার রহস্যটা আমাকে জানতে হবে মানে জানতেই হবে। চলে গেলে চলবে না আর এই রহস্যের সমাধান একমাত্র নাবিল ভাইয়া করতে পারে কারন আকাশের সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত সবটাই নাবিল ভাইয়া জানে তাই নাবিল ভাইয়ার ঘরের দিকে পা বাড়ালাম কিন্তু ঘরে ঢুকার আগেই নাবিল ভাইয়া বলে উঠল,

-কথা শোনার জন্য খোদা আমাকে ২ টা কান দান করেছেন তাই আমি স্পষ্টভাবেই শুনেছি কি কি ঘটেছে তাই এখন কোনো পাগলের সংলাপ আমি শুনতে চাই না।

-সব শুনেও তুই কিছু বলবি না?

-জানিস তো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল আকাশ আর তোর মাঝখানে আসা। জীবনে কি যে পাপ করেছিলাম তোদের মত ফ্যামিলি মেম্বার পেয়েছিলাম। তোরা যত কিছুই করিস ঘুরেফিরে সব প্যারা আমার ঘাড়েই এসে পড়ে। কেন রে কেন তোদের ঝামেলা তোরা মিটাতে পারিস না?
তবে একটা কথা শুনে রাখ এবার আমি এসবে নেই আমি কারো পক্ষেই না। তোরা ২ টা চোখের সামনে থেকে বিদায় হ। মনে কর যে এই বাসায় নাবিল নামের কোন বাক্তি নেই কখনো ছিল না।

নাবিল ভাইয়ার দিকে নজর দিতে গিয়ে আকাশ ভাইয়া যে ওর ঘরেই বসে আছে সেটা দেখি নি ২ জনের কথা বলাতে তাকিয়ে দেখি নবাবজাদা পাশের সোফায় বসে আছে।

নাবিল ভাইয়া উঠে শার্ট পরতে পরতে বলল
-এই যে যাচ্ছি সারাদিনে আর বাসায় ফিরব না।

-যাবি ভাল কথা কিন্তু এই মেয়েকে বলে যা বাসায় যেন কোন পার্টির আয়োজন না হয় যদি হয় আমি কিন্তু ওকে একদম মেরে ফেলব।বলতে বলতে উঠে দাঁড়াল আকাশ ভাইয়া।

আমিও কম না ভাইয়ার সাথে সাথে আমিও জবাব দিলাম
-নাবিল ভাইয়া ওকে বলে দে বাসাটা শুধু ওর না তাই পার্টি হবে।

-একটি শোক সংবাদ, একটি শোক সংবাদ নাবিল নামের একটি নিরহ ছেলে আকাশ এবং মেঘলার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে গৃহত্যাগি হচ্ছে কোন সহৃদয়বান ব্যাক্তি থেকে থাকলে এই দুটোকে পাগলাগারদে দিয়ে বেচারা নাবিলকে বাঁচানোর অনুরোধ করা যাচ্ছে।
বলতে বলতে নাবিল ভাইয়া নিজের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল তখনী ছোট মা এসে ভাইয়ার রাস্তা আটকে দাঁড়াল।

-সমস্যা কি কোথায় যাচ্ছিস আগে সমস্যার সমাধান করবি তারপর যাবি। যা ঘরে যা আকাশ গিয়ে বল ও যা করছে তা ঠিক করছে না তোর ফুফি খুব মন খারাপ করেছে

-আপনি কে বলুন তো…?? আর ফুফি কে?

-এসবের মানে কি প্রচন্ড রেগে প্রশ্ন টা করল ছোট মা

কিন্তু নাবিল ভাইয়া মিষ্টি হেসে জবাব দিল
-আমার মনে হয় আমার শর্ট টাইম মেমোরি লস হয়েছে তাই আপনাদের চিনতে পারছি না সরুন প্লিজ বাইরে যাই তাহলে হয়ত মনে পড়বে বলেই ভাইয়া দৌড় দিল।

পিছন থেকে ছোট মা চেঁচিয়ে উঠল
-২ ভাই সাপের পিছপা দেখেছো তাই না? আজ তোর বাসায় খাওয়া বন্ধ নাবিল।

কে শুনে কার কথা ভাইয়া তো ২ মিনিটেই উধাও হয়ে গেল।ছোট মার কথা শুনে আকাশ এসে বলল

-যা করার আমি করেছি ওকে দোষ দিচ্ছ কেন?

ইচ্ছে করছে ভাইয়াকে মেরে জেলে চলে যাই কিন্তু তাত সম্ভব না মারতে গেলে আমাকেই মেরে ফেলবে।
যাইহোক এত অপমানের পর এবাসায় আর এক মুহূর্তও না এখনী চলে যাব সিধান্ত নিয়ে মার কাছে ছুটে গেলাম

-মাম্মাম তুমি এখনো বসে আছো…?? চলো এখনী চল এ বাসায় আর একমুহুর্তও থাকব না আমরা কি ভিখারি নাকি আমাদের বাসা নেই?

-থাম মা সবসময় সবকিছু করা যায় না তোর বাবা যদি জানতে পারে আকাশ আমাদের সাথে এমন করেছে তাহলে এ বাসার সাথে আমাদের আর সম্পর্ক রাখতে দিবে না তাছাড়া আমাকে অনেক কথাও শুনাবে তাই চাইলেও যাওয়া সম্ভব না আজকে আমাদের এখানে থাকতে হবে।

-অসম্ভব কিছুতেই থাকব না

-তো চলে যা নিষেধ করেছে কে কিন্তু ফুফি যাবেনা।
ভাইয়ার গলা শুনে পিছন ফিরে তাকালাম

-ছ্যাচরার মত আমার পিছন পিছন ঘুরছিস কেন হ্যা যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই হাজির হচ্ছিস ব্যাপার কি?

-তোর কাছে আসি নি ফুফির কাছে এসেছি।বলে আমার হাত ধরে টেনে সোফায় ফেলে দিয়ে টুক করে মায়ের কোলে শুয়ে মাম্মামের দিকে তাকিয়ে কাচুমাচু করে বলল,

-মাথায় হাত বুলিয়ে দাও তো ব্যাথা করছে সেই কখন ঘুম থেকে উঠেছি।

-লজ্জা করছে না আমার মার কোলে কোন সাহসে শুলি?

-অধিকার আছে তাই শুয়েছি তুই কৈফত চাওয়ার কে?বেশি প্যাক প্যাক না করে রুম থেকে বের হ

-আমি না আজ তোকে খুন করে ফেলব বলে দিলাম।

আমরা ঝগড়া শুরু করছি দেখে মাম্মাম বলে উঠল
-আহ মেঘলা ওর মাথা ব্যাথা করছে টিপে দিলে কি অসুবিধে হাজার হোক ছোট থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি তো নাকি।

-এই না হলে আমার ফুফি দাও তো এর কথা শুনো না।

-এই মহিলার ভাবসাব আমি কিছু বুঝি না একটু আগে কত অপমান করল সব ভুলে গেল?কি সুন্দর জানুয়ারটার মাথায় হাত বুলাচ্ছে।আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।

আরামে চোখ বন্ধকরে নিয়ে ভাইয়া করুন সুরে বলে উঠল
-ফুফি শীত কালে বাসায় আসলে একটু পিঠেপুলি করে খাওয়াবে না? সেই যে ছোট বেলায় করতে খেঁজুর গুড়ের পায়েস করবে আজ?

বুঝলাম না। হারামীর নরম গলায় মাম্মাম ও কেমন যেন গলে গেল আর রাজি হয়ে গেল।আসলে ভাইয়া আমাদের ভাইবোনদের সবার বড় হওয়ায় সবাই ওকে আদর করে আমার মা তো আকাশ বলতে অন্ধ। মিথ্যে বলব না ভাইয়াও মাকে অনেক ভালবাসে আজকের কাহিনী টা একটু ব্যাতিক্রম হয়ে গিয়েছিল।তবে বরাবর এমন হয় না।

ভাইয়ার কথায় মাম্মাম বললো খেতে চেয়েছিস আর করব না তাই কি হয় উঠ আমি করে আনছি।

মাম্মাম কে উঠে যেতে দেখে ভাইয়া অস্থির হয়ে বলল,
-কিন্তু আমার মাথা…???এইটুকু বলেই আবার থেমে গিয়ে
আমার দিকে তাকিয়ে বলল আচ্ছা তুমি যাও ফুফি। এই পুচকী এদিকে আয় মাথাটা টিপে দে।

-একটা ঢিল মেরে মাথা ফাটিয়ে দিব…

আহ মেঘলা ভাইয়ার সাথে এভাবে কেউ কথা বলে…?? একটু টিপে দে আমি এখনী আসছি।

– তুমি সব ভুলে গেলেও আমি ভুলি নি সো মরে গেলেও দিব না।

-তুই যখন পানিতে পড়ে গিয়েছিলি আকাশ তোর জন্য কত খেটেছে জানিস?আর তুই এইটুকু পারবি না?

-তুমি যাও ফুফি তারপর দেখছি কে পারে আর কে পারে না।বলে বিছানায় শুয়েই হাত বাড়িয়ে আমার ব্যাথা পাওয়া হাতটা নিজের দখলে নিয়ে নিল ভাইয়া।

-আহা হা ছাড় আমাকে,আমি মাম্মামের সাথে যাব…

ভাইয়া হাত টা আরো চেপে ধরে বলল
-মাথা টিপে দিবি নাকি হাত টা ভেঙে দিব?

-গুন্ডা কোথাকার ছাড় বলছি।
ভাইয়া হাতের জোর বাড়িয়ে দিল।এত শক্ত কারো হাত হয়ে পারে আমার জানা ছিল না।

-আ আ আ… লাগছে আমার।দিব দিব ছাড় প্লিজ।

-গুড গার্ল বলে টেনে আমাকে নিজের পাশে বসিয়ে দিল।

-তোর মাথা টিপার শখ আমি মিটাচ্ছি (মনে মনে)

-কি হল বসে আছিস কেন টিপ …

জানি মার খাব তাও ওকে শাস্তি দিয়ে ছাড়ব ভেবেই নিজের সমস্থ শক্তি দিয়ে ভাইয়ার চুল টেনে ধরলাম। ভেবেছিলাম থাপ্পড় খেতে হবে কিন্তু তেমন কিছু ঘটল না উল্টে ভাইয়া একবার মুচকী হেসে বালিশ থেকে মাথা সরিয়ে আমার কোলে এসে মাথা রেখে বলল,

– এবার সহজ হবে…

ভাইয়াকে নিজের কোলে আবিষ্কার করে অবাক হলাম।জানি না কেন জানি একটু লজ্জাও পেলাম তাই তাড়াতাড়ি ছুটে বেরিয়ে এলাম।
———————————
নিচে এসে দেখলাম রান্নাঘরে জমজমাট অবস্থা ভাইয়ার মা রান্নাঘরে দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না কারন বড় মা সহজে রান্নার ঘরে আসে না।
রান্নাঘরের ব্যাপারটা আন্দাজ করার চেষ্টা করলাম। রান্নাঘরে গিয়ে জানতে পারলাম নবাবজাদা মানে আকাশের নাকি শীতের পিঠা খেতে ইচ্ছে হয়েছে তাই বড় মা পিঠা বানাতে বসেছে বড় মা একা পারবে না তাই ছোট মা তাকে হেল্প করছে আর আমার মা পায়েসের জোগাড় করছেন।সবাই এই অসহ্যকর ছেলেটাকে কেন যে এত আদর করে বুঝি না মনে মনে ভাবছিলাম তখনী পিছন থেকে বলে উঠল,

-দেখি সর সামনে থেকে.যেখানে সেখানে ঠেটার মত দাঁড়িয়ে থাকিস কেন?

কথাটা শুনে মেজাজ গরম হয়ে গেল,
– এই তুই আমাকে ফলো করছিস কেন রে।ছ্যাচরার মত আমার পিছু পিছু ঘুরছিস লজ্জা করে না?

-বাপরে ভাব দেখে তো মঙ্গল গ্রহে চলে যেতে ইচ্ছে করছে কি আমার মেয়েরে তার পিছনে নাকি ঘুরতে হবে শোন আমি এসেছি ফুফিকে হেল্প করতে। মাকে হেল্প করার জন্য ছোট মা আছে কিন্তু ফুফির তো কেউ নেই তার যে একটা মেয়ে হেল্প তো দূর সাথে থাকলে কোন কাজেই ঠিক ঠাক হবে না তাই বাধ্য হয়ে এসেছি। দেখি দেখি সর।

আমাকে ঠেলে ভাইয়া রান্না ঘরে ঢুকে গেল।কিছুক্ষনের মধ্যেই মিলি আর নেহা আপুরো ডাক পড়ল তারাও পিঠা বানাচ্ছে শুধু আমার সেখানে হাত দেয়া বারণ আমি পিঠা বানালে ভাইয়া খাবে না বলে দিয়েছে। আমি তাই রাগ করে রান্নাঘরের জানালার কার্নিশে বসে ফোন টিপছি। ফোন টা আসলে বাহানা আমি তো আড় চোখে পিঠা দেখছি আমার সব পছন্দের পিঠা হচ্ছে দুধ ক্ষীরের পাটিসাপটা,নারকেল সমুচা,মালপুয়া সাথে খেঁজুর গুড়ের পায়েস ইচ্ছে করছে এখনী খেয়ে নেই কিন্তু আমাকে আদো খেতে দিবে কিনা কে জানে…

পায়েস টা ভাইয়া নিজেই বানাচ্ছে। রান্না করতে করতে ভাইয়া নাবিল ভাইয়াকে ফোন দিল,

-কিরে কোথায় আছিস তাড়াতাড়ি বাসায় আয় আমাদের বাসায় তো আজ পিঠে উৎসব হচ্ছে একদম ছোট বেলার মত তাড়াতাড়ি আয়। ফোনে কথা বলতে বলতে ভাইয়া এসে এক চামচ পায়েস আমার মুখের সামনে ধরল কিন্তু আমাকে খাওয়ার কথা কিছু বলল না।বল্লেও আমি ওর পায়েস খাব না সিধান্ত নিয়েছি ভাইয়া তখনো ফোনে কথা বলছে আমি ভাইয়ার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকালাম ভাইয়া ফোন কেটে ফোনটা জিন্সের পকটে রেখে আচমকা আমার মুখ চেপে ধরল আমি অবাক হলাম কিন্তু ভাইয়া আমার ২ গাল চেপে ধরে আছে তাই কিছু বলতে পারলাম না ভাইয়া সেকেন্ডের মধ্যে পায়েস ভর্তি চামচ আমার মুখে পুরে মুখ চেপে ধরল। আমিও গিলছি না ভাইয়াও মুখ ছাড়ছে না তাই বাধ্য হয়ে গিললাম। ভাইয়া ছেড়ে দিয়ে চুলার কাছে গেল।

-কিরে মিষ্টি ঠিক আছে তো নাকি?

উত্তর দিলাম না মনের মাঝে প্রশ্নের উদয় হল।
আচ্ছা বাই এনি চান্স ভাইয়া আমার জন্য এসবের আয়োজন করে নি তো? ভাইয়া তো মিষ্টি পছন্দ করে না তাহলে এই পিঠের আয়োজন কেন?এই পিঠেগুলো তো সব আমার পছন্দের । পায়েস টাও সবার আগে আমাকে খাওয়ালো মানে কি আমার জন্মদিনের জন্য ও নিজের হাতে পায়েস করছে?
-ধুর কিসব উল্টাপাল্টা ভাবছি এসব হতেই পারে না আমার জন্য হলে পার্টি করতে দিল না কেন?
হিসেব মিলছে না তাই রান্নাঘর ছেড়ে টিভির রুমে গিয়ে বসলাম।
__________

দুপুরে পিঠে বানানো শুরু হয়েছিল দেখতে দেখতে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল তখন সবাই মিলে পিঠে নিয়ে ড্রয়িং রুমে আসল। নেহা আপু মেঝেতে পাটি পেতে দিল সেখানে একে একে সাজানো হল সব পিঠে। বাসার সবাই পাটিতে গিয়ে বসল বড় বাবা ছোট বাবা মাম্মাম একপাশে বসেছে তার পাশেই বড় মা ছোট মা তারপাশে মিলি আপু নেহা আপু আর আমি ভাইয়া মহারাজের মত সবার চেয়ে আলাদা হয়ে বসেছে পাশের জায়গাটা খালি রেখেছে সেখানে নাকি নাবিল ছাড়া কারো বসার অনুমতি নেই। পরিবারের সবাইকে একসাথে পেয়ে সবারেই খুব ভাল লাগছে,
মিলি আপু তো বলেই বসল,
-আজ বহুদিন পর সেই ছোট বেলার মত লাগছে বাসায় বেশ উৎসব উৎসব মনে হচ্ছে আমার যে কি ভাল লাগছে।

ছোট মা হেসে বলল,
-তা যা বলেছিস কতদিন সবাই একসাথে বসা হয় নি। এই আকাশ টা ঘুরে ফিরে এমন সব কান্ড করে যে ওর উপড় রাগ করে থাকার কোন উপায় থাকে না কি বলো নীলু।

মাম্মাম হেসে জবাব দিল,
-ভাবী আকাশ তো আকাশেই ওর সবকিছুই আলাদা।

-থাক থাক আর পাম দিতে হবে না খাওয়া শুরু করো ছোট মা সবাইকে দাও।নাবিলের ঠিক ঠিকানা নেই কখন যে আসে। আমি ওর জন্য অপেক্ষা করছি আমরা একসাথে খাব তোমরা এখন খাও।

-এই নাবিলটার আর কান্ড জ্ঞান হল না। যাক গে ভাইজান আপনাকে আগে কি দিব পায়েস নাকি পিঠে?

-ছোট মা তুমিও না পিঠে কি ছোটদের রেখে বড়দের আগে কেউ দেয় নাকি?দেখনা পুচকি কেমন লোভ নিয়ে তাকাচ্ছে এর আগে বাবা খেলে ত পেট খারাপ করবে তুমি আগে মেঘলাকে দিয়ে শুরু করো ছোট থেকে একে একে সবাইকে দাও।

বড় বাবা-আকাশ একদম ঠিক বলেছে শাহানা তুমি ছোটদের আগে দাও।

-কোন ঠিক বলে নি ভাইয়া আমাকে অপমান করছে বড় বাবা। আমি মোটেই লোভ দিচ্ছি না।

বড় বাবাঃ তবুও তুই ছোট তারউপর মেহমান আগে তোরি প্রাপ্য দাও তো ওকে…

ছোট মা আমাকে ২টো পিঠে দিতেই ভাইয়া বলে উঠল হয়েছে ছোট মা করো কি এ সবগুলো নষ্ট করবে আর দিও না।

রাগী চোখে তাকিয়ে জবাব দিলাম
-বলেছে তোকে নষ্ট করব? আমি সব খাব বলেই গপগপ করে ৩ টা পিঠে খেয়ে শেষ করলাম মুহূর্তেই শেষ করে ৪র্থ টা হাতে নিলাম।

আমাকে দেখে সবাই হাসছে কারন টা আমার বোধগম্য হল না কেউ হাসুক কাঁদুক আমার কিছু যায় আসে না আমি খেয়ে চলেছি পছন্দের পিঠে বলে কথা।

আমাদের খাওয়ার মাঝখানে নাবিল ভাইয়া এসে হাজির হল।

-বাহ এত দেখি এলাহী আয়োজন বলেই এসে আকাশের পাশে বসল নাবিল ভাইয়া তারপর পিঠের দিকে হাত বাড়িয়ে থেমে গেল নাবিল ভাইয়া সবকটা পিঠের প্লেট দেখে নিয়ে সরু চোখে ভাইয়ার দিকে তাকাল।

সাথে সাথে আকাশ ভাইয়া নাবিল ভাইয়ার হাত চেপে ধরল…




চলবে..!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here