মায়াবন_বিহারিনী🖤 #পর্ব_৩৩,৩৪

#মায়াবন_বিহারিনী🖤
#পর্ব_৩৩,৩৪
#আফিয়া_আফরিন
৩৩

কেবলই শুধু মনে হচ্ছে, এই তো কয়েকদিন আগে; হাতেগোনা কয়েকদিন আগেই তো ইমন আর মায়ার বিয়েটা হয়েছিলো। কিছুদিন আগেই তারা ক’ক্স’বা’জা’র ট্যু’র দিয়ে এলো। সব কিছুই তো কিছুদিনের মধ্যেই। আর আজ বছরটা নিমিষেই ঘুরে গিয়ে ইমন আর মায়ার বিবাহিত জীবনের এক বছরে এসে ঠেকলো। কিভাবে কি হয়ে গেলো? আগের স্মৃতি গুলো এখনো তাজা। চোখ বন্ধ করতেই দিনের আলোর মতোই স্প’ষ্ট!

ইমন আর মায়ার এ’নি’ভা’র্সা’রি উপলক্ষে বড় করে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সুহাদা জামান এবং জামান সাহেব। যেহেতু তাদের বিয়েটা মনের মত করে দেওয়া হয় নাই, তাই আজকের এই অনুষ্ঠান।

আজকের দিনের যতো আয়োজন, কোন কিছুতেই সুহাদা মায়া কে ঘেঁ’ষ’তে দিলেন না। তিনি একাই সব কিছুর বন্দোবস্ত করলেন। মায়া একটু এগোতে চাইলেই বললেন, “নতুন বউয়ের আবার কিসের কাজ? নতুন বউ নতুন বউয়ের মত থাকবি। বছরের বাকি ৩৬৪ দিন, যা করার করিস। কিন্তু আজকে কিছু না। যা, ইমন ঘরে আছে। ওর সাথে গিয়ে গল্প কর।”

মায়া খানিকটা ল’জ্জা পেয়ে বলল, “তাই বলে আ’কা’ই’ম্মা’র মত ঘরে বসে বসে দিনটা কাটাবো?”

“বেশি কথা বলে আমাকে একদম রাগাস না মায়া। যেটা বলেছি সেটাই চুপচাপ শোন।”

মায়া আর কথা না বাড়িয়ে ঘরে চলে গেল। ঘরে যেতেই ইমনকে দেখলো। ইমনের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই, ইমন ওকে টেনে কো’লে বসালো। মায়া মুখ কালো করেই রেখেছে। ইমন তার ঘা’ড়ে মুখ গুঁ’জে দিয়ে বলল, “কি হইছে, মন খা’রা’প?”

“হ্যাঁ।”

“কেন? আজকের দিনে বুঝি মন খারাপ করতে হয়?”

“হয় না?”

“একদমই না।”

“আচ্ছা, তাহলে আর মন খারাপ করব না। আমি তো তোমার সব কথাই শুনি, এটাও শুনলাম।”

ইমন হঠাৎই মায়ার চুলের বাঁ’ধ’ন খুলে চুলগুলো পি’ঠ’ম’য় ছড়িয়ে দিলো। তারপর পেছন থেকে শ’ক্ত করে জ’ড়ি’য়ে ধরলো। মায়া নি’র্বি’কা’র রয়েছে। আসলে সে এই কোমল পরশে একটু তৃ’প্ত হওয়ার মা’দ’কী’য় নে’শা’য় বুঁ’দ হয়ে রয়েছে।
.
.
সন্ধ্যেবেলার অনুষ্ঠানে নিলা নিলয় সহ আরো কাজিন যারা যারা ছিলো, সবাই সময়মতো পৌঁছে গেলো। ইমনের খালাতো ভাই বোন, রিয়া আর রায়ান ওদের সাথে অনেক বছর পর দেখা হলো। একে অপরের সাথে কু’শ’ল বি’নি’ম’য় করে নিলো।

মহুয়া এবারও আসতে পারে নাই। সে সাত মাসের প্রে’গ’ন্যা’ন্ট। এই অবস্থায় এতদূর জা’র্নি করা সম্ভব নয়। জাহানারা এবং আমজাদ সাহেবও আসতে পারে নাই, যেহেতু বড় মেয়ে তাদের কাছেই রয়েছে। তাদের পক্ষেও আসা সম্ভব নয়। এজন্যই মায়ার মনটা ভীষণ খারাপ।

মহুয়া ফোন করলো। মায়া রিসিভ করতে মহুয়া প্রথমে বললো, “হ্যাপি হ্যাপি অ্যানিভার্সারি ডিয়ার! সারা জীবন সুখে থাক।”

“কিন্তু তুমি? আমার বিয়েতে ও তোমার পাত্তা পাওয়া গেল না। বিয়েটাও তোমাকে ছাড়া হলো আর এখনও?”

“তোর বিয়েতে থাকার ভাগ্য ছিল না রে। তবে সমস্যা নাই, বাবু হোক। বাবু, আমি আর তোর ভাইয়া তিনজনে মিলে অনেক দিন ঘুরে আসবো।”

মায়া অভিমানী কন্ঠে বলল, “সেই আসা আর এই আসা কি এক হলো?”

“আচ্ছা। মন খারাপ করিস না। ইমন কইরে? আজকের দিনে একবারও ফোন করল না।”

“ও একটু ব্যস্ত আছে।”

“ঠিক আছে। পরে কথা বলে নিবো। তুই এখন মার সাথে কথা বল।”

ফোন টা হাতবদল হতেই মায়া বললো, “দিলো তো, দিলো তো! তোমার বড়ো মেয়ে কেমন সব ভেস্তে দিলো?”

“যাহ বাবা, আমার বড়ো মেয়ে আবার কি করলো?”

“ও নিজেও আসবে না। তোমাদের কে ও আসতে দিলো না। কয়েকদিন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে থাকলে কোন পাকা ধানে মই পড়তো, ওর?”

“তা কিভাবে হয়? এরকম হুটহাট চলে যাওয়া যায়?

সমস্যা কি? আমরা বেঁ’চে থাকা পর্যন্ত তোর যতগুলো ম্যারেজ ডে যাবে, তাতে আমরা ইন-শা-আল্লাহ অংশগ্রহণ করব।”

মায়া কিছু বললো না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোন রেখে দিলো। মনটা ক্রমশ ই খারাপ হয়ে আসছে। এমন একটা দিনে মা-বাবা কেউ থাকছে না। মেয়ে হিসেবে এই দিনে মা-বাবাকে আশা করাটা কি অন্যায়?
.
.
সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠান শুরু হলো। অনুষ্ঠান বলতে এখন কেক কাটা হবে।

সবাই যখন এই দিকে আ’ন’ন্দ উ’ল্লা’সে ব্যস্ত, তখন চুপিচুপি নীলা মিমো আর রিয়া দিয়ে গেস্ট রুমটা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিলো। লাইট জ্বালিয়ে দেখলো, ফুলগুলো সব ঠিক থাকে আছে। সেই বেলা বারোটায় ফুলগুলো আনিয়ে রেখেছিলো। ভাগ্যিস নষ্ট হয়ে যায়নি। কিন্তু উপরের ফুল গুলো নেতিয়ে পড়েছে। রিয়া এগিয়ে গিয়ে ডালা থেকে ওগুলো আলাদা করে সরিয়ে রাখলো।
তারপর মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটা ফুলে ফুলে সাজিয়ে তুললো। কাঠগোলাপ ও গোলাপের কম্বিনেশনে কি লাগতেছে! পুরো লালে লাল। বিছানার চাদর, ঘরের পর্দা সবই লাল।
নীলা আর মিমো মেঝেতে বসে বাকি গোলাপের পাপড়ি গুলো ছিঁড়তে লাগলো। রিয়া চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখলো। জানালার কাছ থেকে পর্দা একটু সরিয়ে দিতেই আকাশ টা দৃষ্টিগোচর হলো। আজকে জোসনা রাত। ওয়াও! আরো ভালো হলো।

রিয়া নিজেও গিয়ে ফুলের পাপড়ি ছাড়াতে বসলো। দ্রুত হাতে এই কাজ সম্পন্ন করে সাদা টাইলসের উপর গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিলো, বেশ ঘন করে একদম দরজা পর্যন্ত।

মিমো বলল, “এইবার আমাদের কাজ শেষ। চল বের হই।”

নীলাও সায় দিলো। রিয়া বললো, “আরে এত তাড়াহুড়ো করছো? আমরা বাসর ঘরের সাথে একটা সেলফি তুলব না? ইস, কি সুন্দর! আমার তো এখান থেকে যেতেই মন চাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, আজকের রাতটা আমি এখানে থেকে যাই।”

নীলা টিটকারি করে বললো, “আচ্ছা মিমো দেখ তো, নিচে কোন সিঙ্গেল পাত্র পাওয়া যায় কি না? এটা কে ধরে মিঙ্গেল বানিয়ে দেই।”

রিয়া হাসতে হাসতে বলল, “থাক গো, লাগবেনা। আসো আমরা একটা সেলফি তুলি। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই আর কি? ইমন ভাইয়া আর ভাবির একটা জ’ম্পে’শ বা’স’র হবে আজকে।”

নীলা আর মিমো হাসতে লাগলো।

এদিকে সব শেষে, খাওয়া-দাওয়া শেষে, রাত এগারোটার মতো পেরিয়ে গেলো। রিয়া থেকে গেলো। তাছাড়া যারা যারা ছিলো, বাকি সবাই চলে গেছে। মায়া বা ইমন তখনও কেউ নিজেদের ঘরে যায়নি, ঘরে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি। এখানকার পর্ব মিটিয়ে যখন তারা ঘরে যাবে, মিমোক পথ রোধ করলো। বললো, “এভাবে ঘরে যাওয়া যাবে না। নিজের বউকে কোলে তোলো, তারপর!”

ইমন ভুরু কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ধমক দিয়ে বলল, “চুপ। ছোট মানুষ সব সময় বেশি বেশি কথা তাই না?”

মায়া ও এগিয়ে এসে বলল, “লাগাম ছাড়া কথা বলছিস কেন? ফুপি আছে না?”

মিমো দমে গেল না। ফের বলল, “আমাকে এসব ধমক দিয়ে লাভ হবে না।”

তারপর নীলা দুইটা রুমাল নিয়ে এলো। মিমোকে একটা দিয়ে বলল, “নে চোখ বেঁধে, দে।”

মায়া বা ইমন কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজনের চোখ শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হল। ইমন মনে মনে বলল, “এ আবার কোন মা’ফি’য়া’র খ’প্প’রে পড়লাম?”

দুজনকে নিয়ে এসে দরজার সামনে দাঁড়া করানো হলো। মিমো চোখের বাঁধন খুলে দিতেই মায়া আর ইমন অবাক বিষ্ময়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো।

পায়ের সামনে থেকে বিছানার চাদর পর্যন্ত ফুল আর ফুল। দুজনেই বেশ ভালো রকমের ধা’ক্কা খাইছে।

ইমন সবার সামনেই মায়াকে আচমকা কোলে তুলে নিল। মায়া লজ্জা পেলেও, দুহাতে ইমনের গলা জড়িয়ে ধরল। ইমন গোলাপের পথ দিয়ে হেঁটে রাজরানীর মত মায়াকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করল। তারপর যখন কোল থেকে নামালো, দরজ ায় তাকিয়ে দেখলো সবাই মিটিমিটি হাসছে।

রিয়া বলল, “আমরা চলে যাই। আর ডিস্টার্ব না করি।”

মিমো বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই। আজকের জন্য শুভকামনা।”

বলেই তিনজনে উল্টোদিকে দৌড় দিল।

ইমন বিড়’বিড়িয়ে বলল, “হার ব’জ্জা’ত কোথাকার!”

মায়া বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “এরা মাঝে মাঝে এমন সব কাজ করে চমকিয়ে দেয় না, বলার মতো না। এই ফুলগুলো যদি কৃত্রিম থাকতো, আমি সারা জীবন ঘরটাকে এইভাবে সাজিয়ে রাখতাম।”

ইমন কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালো। মায়া তৎক্ষণাৎ মুখ তুলে বলল, “ছাদে যাবে? আজকে জ্যোৎস্না রাত!”

ইমন মৃদু হেসে বলল, “যাওয়া যেতেই পারে। চল।”

মায়া মুখ বাঁকিয়ে বললো, “এভাবে না?”

ইমন কিছুক্ষণ ভেবে পর মুহূর্তেই বুঝলো। বলল, “হইছে। এত ভাব নিতে হবে না। বুঝেছি, তোকে কোলে করে নিতে হবে।”

মায়া মুচকি হেসে মাথা ঝাঁকালো। ইমন সত্যি সত্যি ওকে কোলে তুলে নিয়ে পা টিপে টিপে ঘর থেকে বের হলো। তলা দিয়ে ওকে নিয়ে এলো। ছাদে এসে নামিয়ে দিতে বড় বড় নিশ্বাস ফেলতে শুরু করল।

মায়া ইমন এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, “দেখেছো, পরে কিন্তু বলেছিলাম নামিয়ে দাও আমায়। কিন্তু তুমি শুনলে না।”

“বউ একটা মাত্র আবদার করেছে, শুধুমাত্র শারীরিক কষ্টের কথা ভাববো কেন, মানসিক শান্তি কিছু নয়?”

মায়া আর ইমন পরস্পর হেলান দিয়ে বসলো। জোছনার আলো ঠিকরে গায়ে পড়ছে। দুজনের কেউ কিছু বলল না। যতক্ষণ যাবৎ তারা ছাদে ছিল চুপ করেই ছিল। মুখে কথা বলে কি হবে; যেখানে হৃদয় দিয়েই দুটি মানুষ নিজেদের মনকে উপলব্ধি করতে পারে!

সকাল সকাল ইমন বের হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নানান ধরনের হ’ম্বি’ত’ম্বি করছিল। মায়া পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল, “কোথায় যাচ্ছো?”

“কাজকর্মের কি অভাব আছে?”

“তো এত সাজগোজের কি হলো?”

ইমন হেসে বলল,” আমি কি মেয়ে মানুষ যে, সাজগোজ করবো। আমি তো জাস্ট চুল ঠিক করছিলাম।”

মায়া ধমক দিয়ে বলল, “একদম কাচি নিয়ে এসে চুলগুলো কেটে আর্মিদের মতো হেয়ার স্টাইল করে দিব। এরকম চুল তোমায় কে রাখতে বলেছে?”

ইমন অবাক হয়ে বলল, “কেন কি হয়েছে?”

মায়া ইমন এর কাছে এসে শার্টের উপরের বোতামটা লাগিয়ে দিয়ে বলল, “এইবার ঠিক আছে। উপরের এই বোতামটা কখনোই খোলা রাখবে না।”
তারপর ইমনের চুলগুলো আলতো হাতে নামিয়ে দিল। ইমন মায়ার এসব কর্মকাণ্ডে অবাক হচ্ছে বটে, কিন্তু মুখে কিছু বলছে না। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মায়ার দিকে চেয়ে রইলো।

মায়া ইমনের এমন চাহনি দেখে বলল, “দিন দিন এত সুন্দর হচ্ছো কেন বলতো? কারো যদি নজর লেগে যায়? বাইরে যাচ্ছ, যাও। কিন্তু কোন মেয়ে মানুষের সাথে কথা বলবে না। একান্ত যদি কথা বলা দরকার হয়, মুখে বি’ষ ফুটিয়ে কথা বলবে। আর তাকানোর তো প্রশ্নই আছে না। চো’খ তু’লে নিব একেবারে।”

ইমন স্বজরে হেসে ফেলল। তারপর মায়ের কপালে তার ভালোবাসার মিষ্টি পরশ বুলিয়ে চলে গেল।
.
.
.
মহুয়ার ডেলিভারি ডেট দেওয়া হয়েছে নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখে। আর আজ ৭ তারিখ। এখনো ২০ দিন বাকি আছে। যদিও সাধারণত ডেলিভারির ডেট এর আগে পিছেই বাচ্চা হয়।

সুহাদা জানালেন, কাল তারা রওনা দিবেন।
মায়া খুশি হয়ে গেলো।
আর দেরি করলো না তারা। ইমনকে বললে, ইমন ও জানালো সে ফ্রি আছে। আর ফ্রি না থাকলেও ইমন যেতো। মহুয়া আপুর বাবু হবে বলে কথা!

পরদিন তারা সন্ধ্যার পর বাড়ি পৌঁছালো। মহুয়াকে দেখে মায়া অবাক হয়ে গেল। বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে তার মধ্যে। গায়ের রং ও গোলাপি বর্ণ ধারণ করেছে। আগের থেকে একটু মোটাও হয়েছে। সব মিলিয়ে অসাধারণ লাগছে।

মায়া জিজ্ঞেস করল, “আরাফাত ভাইয়া কি আসে না?”

জাহানারা প্রথমে ধমক দিয়ে বললেন, “তোর দুলাভাই হয়, তুই নাম ধরে বলিস কোন আক্কেলে? আর আসবে না কেন? প্রতিদিনই আসে। কখনো কখনো আবার রাতে থেকেও যায়।”

“কেন? আপুর সাথে থেকে গেলেই তো পারে।”

মহুয়া বলল, “ওর কাজকর্ম আছে না। তার মধ্যে ছেলে মানুষের পক্ষে এভাবে কন্টিনিউয়াসলি শ্বশুরবাড়ি থাকা সম্ভব হয় না!”

রাতে ঘুমানোর সময় মায়া সুড়সড় করে মহুয়ার কাছে চলে এলো। কিন্তু খাটে ঘুমাতে গেল না। এই অবস্থায় গায়ে হাত পা লাগলে যদি কিছু হয়?
মায়াকে দেখে মিমোও চলে এলো। দুজনে মিলে মেঝেতে বিছানা করে শুয়ে পড়ল।
মিমো মহুয়াকে মায়া ইমন এর অ্যানিভার্সারির ছবিগুলো দেখাচ্ছিল। ছবিগুলো দেখে মহুয়া বললো, “বাবা! তো আমি তোদের পক্ষ থেকে খালামণি ডাক কবে শুনবো?”

মিমো ও তালে তাল মিলিয়ে বললো, “আমি ফুপি ডাক কবে শুনবো?”

মায়ার চোখ মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল। কিন্তু অন্ধকারে সেটা কেউ বুঝতে পারল না। দুজন দুজনের মত করে গল্প করছিল। মায়া উল্টো দিক ফিরে ভাবছিল, ‘আসলেই মহু আপুর মত মাতৃত্বের সুখ সেও অনুভব করবে! ছোট্ট একটা বাবু তারও হবে। মা মা বলে ডাকবে। ইমনকে বাবা বলে ডাকবে। তখন ইমনের ফিলিংসটা কেমন হবে?’
এইটা মায়ার খুব জানতে ইচ্ছে করে! তারও একটা বাবু আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, এই কথা জানতে হলে।
.
.
.
শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় মহুয়ার সে অসহ্যকর ব্যথা উঠলো। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে আরাফাত এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে চলে এলো।
কেমন যেন প্রচুর টেনশন হচ্ছে তার। এসির মধ্যে দাঁড়িয়েও কেমন দরদর করে ঘামছে। অস্থিরভাবে এপাশ-ওপাশ পায়চারি করছে। ইমন তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে বসালো।

“একটু শান্ত হয়ে বসেন ভাই।”

“পারছিনা এমন। আমার পক্ষে সম্ভবই না। ডাক্তার যতক্ষণ পর্যন্ত না কিছু খবর দিতে পারছে, ততক্ষণই শান্ত হতে পারছি না।”

“রিলাক্স ভাইয়া। আল্লাহ ভরসা। সবকিছু ঠিকঠাকই হবে।”

ঠিক তখনই ভেতর থেকে বাচ্চার কান্না শব্দ পাওয়া গেল।
ডক্টর বেরিয়ে এসে আরাফাত কে বলল, “কংগ্রাচুলেশন মিস্টার! আপনার ছেলে হয়েছে। আপনার ছেলে এবং ওয়াইফ দুজনেই ভালো আছে এবং সুস্থ আছে।”
.
.
.
.

চলবে…..

[কার্টেসী ছাড়া কপি করা নিষেধ]

#মায়াবন_বিহারিনী🖤
#পর্ব_৩৪
#আফিয়া_আফরিন

মায়া বড় বড় চোখ করে বাচ্চাটির দিকে তাকিয়ে আছে। বোঝার চেষ্টা করছে, সে আসলে কার মতো দেখতে হয়েছে? ছোট বাচ্চা জন্মালে তার চেহারা দেখে কখনো বোঝার উপায় থাকে না, কার মতো দেখতে হয়েছে। তবুও মায়া মিলিয়ে বের করেছে, বাচ্চাটার চোখ দুটো মহুয়ার মতো ছোট ছোট, হয়েছে নাকটা তার বাবার মতো। মুখ দেখে আপাতত কিছু বোঝা যাচ্ছে না।

মহুয়ার কে পরের দিনে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। আজ তার শ্বশুর শাশুড়ি ননদ সবাই এসেছে নতুন অতিথিকে আরেক পলক দেখার জন্য।

মায়া মহুয়ার পাশে বসে বাবুর একটা হাত ধরে বললো, ” আপু ওর গাল গুলো এমন লাল কেন?”

“তো কি নীল থাকলে ভালো দেখাতো বুঝি?”

“না, তা বললাম কখন? বলছি যে, গাল আর গায়ের রং দুটো আলাদা কেন?”

মহুয়া হেসে বললো, “সদ্য জন্মানো বাচ্চাদের গালে, হাতে, পায়ে রক্ত বেশি থাকে বোধ হয়।”

মায়া খুব সাবধানে ওকে কোলে তুলে নিলো। ঘুমাচ্ছে বাচ্চাটা। মায়া দুই গালে দুটো চুমু খেলো।

মহুয়া তা দেখে বললো, “ঘুমন্ত বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে আদর করলে নাকি জেদি হয়!”

“হোক। যত জেদ করবে, তত জেদ মেটাবা। আচ্ছা, বাবুর নাম কি ঠিক করছো?”

“এখনো নাম ঠিক করা হয় নাই। দেখ, তোর ভাইয়াকে জিজ্ঞেস কর গিয়ে। আচ্ছা শোন না, ওকে রেখে মাকে পাঠিয়ে দে তো।
মায়ের কাছে ওকে রেখে আমি গোসলে যাব।”

“আমি থাকি।”

“তুই পারবি না সোনা। মাকে ডাক দে। ছোট বাচ্চা কান্না করলে সামলাতে পারবি না।”

“আচ্ছা।”

জাহানারা ব্যস্ত ছিলেন বলে, মহুয়ার শাশুড়ি বাবুর পাশে এসে বসলেন। তিনি ছোট্ট করে কপালে চুমু খেলেন।

মায়া হকচকিয়ে বললো, “আন্টি আন্টি, বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে চুমু খেলে তাদের জেদ বেশি হয়।”

তিনি এক গাল হেসে বললেন, “তাই বলে আমার কলিজার টুকরো নাতিকে আমি আদর করবো না!”
.
.
সাত দিনের দিন মহুয়ার ছেলের আকিকা করা হলো এবং নাম রাখা হলো মাহিদ।
পরদিন সকালবেলা সবাই ঢাকা ফিরে এলো। আরো দুইদিন থাকা যেতো, কিন্তু সামনে আবার মায়ার পরীক্ষা পড়ে গেল তাই আর থাকা হলো না।

ঢাকা ফিরে এসে ফের সেই ক’র্ম’ব্য’স্ত জীবন। মহুয়া প্রতিদিন ফোন করে, ভি’ডি’ও কলে বাবুকে দেখায়। দিনে দিনে আরও সুন্দর হয়ে উঠছে। জন্মানোর পর চোখ গুলো ছোট ছোট লাগছিল, আর এখন কেমন ড্যাবড্যাবে চোখে তাকিয়ে থাকে।
.
.
মায়ার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে মাসখানেক পেরিয়ে গেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আরেকবার নিজের বাড়ি যেতে চাইলো। মাহিদ তখন টুকটাক বসতে পারে। সামনে বালিশ দিতে হয় না হলেই ধ’পা’স!
.
.
.
ইমনকে বগুড়া যাওয়ার কথা বলতেই ইমন বললো, “যাবি তো সমস্যা কি? তবে দুইদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমার হাতে বেশ কিছু কাজ রয়েছে। একটু গুছিয়ে নেই।”

“আচ্ছা সমস্যা নেই। আমি তো বলে রাখলাম। আপু শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার আগে গেলেই হবে।”

সেই মুহূর্তে তারা বাগানে ছিল। ইমন কি মনে করে গোলাপের চারা কিনে এনেছিল, মায়া সেটাই লাগাচ্ছিল। হাত কাঁ’দা মাটিতে মা’খা’মা’খি। মায়া ইমন এর সামনে গিয়ে ইচ্ছে করে পুরো মুখে মাটির প্র’লে’প লাগিয়ে দিলো। ইমনও ছেড়ে দিলো না। নিজের গাল মায়ার গালের সাথে ঠেকিয়ে তাকেও কাঁ’দা মাখিয়ে দিলো।

মায়া কোমরে হাত দিয়ে বলল, “এটা কি করলে?”

“তুই যেটা আমার সাথে করেছিস।”

“তাই বলে তোমাকেও করতে হবে?”
বলেই মায়া উল্টো দিক ফিরে চলে যেতে নিচ্ছিলো। ইমন হাত ধরে টেনে দাঁড় করালো। এক হাতে জড়িয়ে ধরে বললো, “অল্পতেই বুঝি কেউ এত রাগ করে?”

“আমি করি। আমি অল্পতেই রাগ করি, তোমার সমস্যা?”

“সমস্যা তো আমারই। তান থেকে চুল খ’স’লে’ই রেগে ভুত হয়ে যাস। পরে আবার আমার ভাগে আদর সোহাগ কম পড়ে!”

“ধুর, যত্তসব বাজে কথা।”

এমন সময় পেছন থেকে একটা বাচ্চা কন্ঠে ভেসে এলো, “কি করছো তোমরা এখানে?”

ইমন মায়াকে ছেড়ে পেছনে তাকালো। মায়া ও পিছন ফিরে তাকালো। দেখল, রিয়াদ। ওদের অ্যাপার্টমেন্টের পাঁচ তলায় থাকে। মায়া রিয়াদের দিকে এগিয়ে এসে কোলে নিয়ে বলল, “গাছ লাগালাম।”

“কিন্তু তোমার মুখে মাটি কেন? তুমি কি তোমার মুখে গাছ লাগালে?”

মায়া হেসে ইমন কে দেখিয়ে বলল, “ওই যে পচা ব’জ্জা’ত একটা ছেলেকে দেখছো না, ওই ছেলেটা আমায় মাটি মাখিয়ে দিয়েছে।”

রিয়াদ ইমনের দিকে তাকিয়ে বলল, “ও মা! ওর গাল, মুখ তো পুরোটাই মাখা।”

এমন এগিয়ে এসে রিয়াদের গান টিপে বললো, “এই যে এই পঁ’চা মেয়েটাকে দেখছো না, ও আমার এই অবস্থা করেছে। মেকআপ করিয়ে দিছে।”

মায়া, ইমন, রিয়া তিনজনই হেসে উঠলো। প্রফুল্ল সেই হাসি!
.
.
.
মায়া আর ইমনের দুদিন পর বগুড়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হলো না। মাঝখানে ঘটে গেল এক অন্য কাহিনী।

ইদানিং মায়ার এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। যেটার সাথে সে পরিচিত নয়। কাউকে সেই অনুভূতি জানান দিতে পারছে না; এমনকি ইমন কে পর্যন্ত নয়।

সকালবেলা মায়া ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল। ইমন হঠাৎ পিছন থেকে ওকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আজকাল কি হয়েছে রে তোর? এরকম মুখ কালো, মন মরা হয়ে থাকিস কেন?”

মায়া নিজেকে ইমনের বাহুবন্ধন থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল না। পিছন থেকে ইমনের গালে হাত দিয়ে বলল, “সব সময় কি মানুষের মন মেজাজ এক থাকে বলো?”

“আচ্ছা? তো আজকে কি মন মেজাজ ঠিক আছে?”

“হ্যাঁ। কেন ঠিক লাগছে না?”

ইমন মায়াকে সামনে ঘুরিয়ে কপালে ও’ষ্ট জোড়া ছুঁয়ে বলল, “চল আজকে আমি তোকে দিয়ে আসি।”

“আচ্ছা চলো।” মায়া হেসে উত্তর দিল।

মায়া প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যায় প্রায় সকাল দশটায়। ফিরে আসে দেড়টায়। মায়া কেম কলেজে পৌঁছে দিয়ে ইমন নিজের কিছু কাজ সেরে বাসায় ফিরে এসেছিল। তখন বাজে বারোটা। ইমনের ইচ্ছে ছিল মায়ার ক্লাস শেষ হলে তাকে আনতে যাবে। দুজন মিলে কিছুক্ষণ ঘুরেও আসা যাবে।

দেড়টা বাজার কিছুক্ষণ আগে ইমন ক্যাম্পাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। অনেকক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও মায়ার দেখা মিললো না।

মায়ার সাথে একই য
ব্যাচে পরে এক এমন একটা মেয়েকে দেখে ইমন জিজ্ঞেস করলো, “মায়াকে দেখেছো? কোথায় ও?”

“হ্যাঁ দেখেছিলাম তো।”

“কোথায় এখন ও?”

“একটা ক্লাস করেই তো বেরিয়ে গেল। বললো যে, শরীর ভালো লাগছে না।”

ইমন অবাক হয়ে বলল, “ও আচ্ছা।”

মেয়েটা চলে গেল। ইমন মাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে, মায়া বাসায় গেছে কিনা?

সুহাদা বললেন, “না তো। এখনো তো বাসায় আসেনি।”

ইমন পড়ে গেল টেনশনের মধ্যে। মায়া কোথায় গেল? আশেপাশে খুঁজে, দুইটায় বাড়ি ফিরলো। মায়া তখনো বাড়ি ফেরে নাই। ইমন ফোন করেছে অনেকবার, কিন্তু ফোন তোলে নাই।

কিছুক্ষণ পরে মায়া বাড়ি ফিরল। তার মধ্যে এক অন্যরকম উ’ত্তে’জ’না। কেমন যেন অন্য দিনের চেয়েও বেশি খুশি!

ইমনের সামনে গিয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে বলল, “জানো আজকে_!”

ইমন ওকে পুরো কথা বলতে দিল না। মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে কড়া গলায় বললো, “কোথায় গিয়েছিলি?”

ইমনের কথা শুনে সামান্য ভ’ড়’কে গেল মায়া। এভাবে সন্দেহের দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করার কি আছে, সে বুঝলো না!

মায়া কাঙ্খিত কথাটা ঢোক গিলে বললো, “এক বান্ধবীর বাসায়।”

“আচ্ছা যাবি ভালো কথা। একটু বলে গেলে কি হয়? তোকে নিতে গেছিলাম। পাচ্ছিলাম না দেখে কি টেনশন হচ্ছিলো, বুঝছিস তুই? ফোন দিলাম বারবার ফোন ধরলি না।”

মায়া ব্যাগ থেকে ফোন বের করে দেখলো ফোন সা’ই’লে’ন্ট। সাথে সাথে ইমনের গলা জড়িয়ে ধরে বলল, “আই অ্যাম রিয়েলি সরি! ফোন সা’ই’লে’ন্ট ছিলো তাই শুনতে পাই নাই।”

ইমন কিছু বলল না। কিন্তু মায়ার অনেক কথাই বলার ছিল। কেন যেন বলতে পারছিলো না। জি’হ্বা’র আগায় এসেই কথা আটকে যাচ্ছে। সব তাল’গোল পাকিয়ে যাচ্ছে।

শেষমেশ ইমন এর সামনে থেকে চলে গেল। কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে, গোসলে ঢুকলো।
ইমন একটা বিষয় ভালো করে খেয়াল করলো, মায়ার উৎফুল্লতা যেন আজকে একটু বেশিই। থেকে থেকে ঘরের মধ্যে পায়চারি করছে।
ইমন আড়চোখে সবই দেখছে, লক্ষ্য করছে। কিন্তু কিছু বলছে না।

মায়াকে কিছু জিজ্ঞেস করলেই বলছে, “না না কিছু নাতো! কি হবে আমার? আমার কিছুই হয়নি।”

কিন্তু সে ইমনের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারছে না।
বারবার মনে হচ্ছে, না বলা কথাটি ওই চোখের দিকে তাকালেই সে বুঝে যাবে।

ইমন মায়ার হাবভাব দেখে আজ বেশ অবাকই হচ্ছে। সে সাধারণত এমন করে না। বিকেলবেলা ইমন মায়াকে বলল, “আমাকে কি একটু কফি বানিয়ে দেওয়া যাবে?”

“হ্যাঁ যাবে না কেন? অবশ্যই যাবে। বসো তুমি। আমি এক্ষুনি বানিয়ে আনছি।”

ব্যাস, বানিয়ে আনছি বলা পর্যন্তই শেষ। মায়া বে’মা’লু’ম ভুলে গেলো। ইমনের সামনে দিয়েই হেঁটে ঘরের এই পাশ ওইপাশ করছে।

শেষমেষ ইমন ওর ওড়না টেনে ধরলো।
মায়া তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বললো, “কি চাই?”

ইমন ঠোঁটের কোনে দুষ্ট হাসি দিয়ে বললো, “যেটা চাই, সেটা কি পাবো এখন?”

মায়া লাফিয়ে উঠে বলল, “ও হ্যাঁ। কফি তাইনা? মনে ছিল না। তুমি বসো, আমি দশ মিনিটের মধ্যে নিয়ে আসছি।”

বলেই মায়া এক প্রকার দৌড়ে পালালো। ইমন আরেক দফা অবাক হল। মনে মনে বলল, “এর কি মাথার তার কাটা গেছে নাকি?”
.
.
মায়া রান্না ঘরে যেতে সুহাদা বললেন, “কি করবি?”

“তোমার সুপুত্র বায়না ধরেছে কফি খাবে। তাই বানাবো।”

“আচ্ছা তুই সর। আমি যেহেতু এখানে আছি, আমি বানিয়ে দিচ্ছি। তোকে কষ্ট করতে হবে না।”

“আহা! আমার আবার কষ্ট কিসের? তুমিই সরো ফুপি।”

সুহাদা মায়ার কানটা টেনে ধরে বললেন, “এখনো ফুপি? শাশুড়ি মা হই আমি তোর। মা বলতে পারিস না?”

“অভ্যাস নাই তো।”

“বিয়ের প্রায় দুই বছর পার হতে চললো। তাও মেয়ের অভ্যাস হলো না।”

“আচ্ছা আর ফুপি বলে ডাকবো না। মা ডাকবো। এখন তুমি খুশি?”

“এখনো খুশি হতে পারছি না। আগে তুই মা ডাক শুরু কর তারপর থেকে।”

“ওকে মা!”
বলেই মায়া তাকে জড়িয়ে ধরলো।
.
.
.
ইমনকে কফির মগটা দিয়েই চলে যাচ্ছিল মায়া। ইমন হাত ধরে টেনে বসালো। কাঁধে মাথা রেখে বলল, “কি হয়েছে তোর? মন খারাপ? এত ছটফট কেন করছিস?”

মায়া মাথা নিচু করে বলল, “কই কিছু নাতো?”

“তাহলে তাকা আমার দিকে।”

মায়া একবার তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিল। ইমন দী’র্ঘ’শ্বা’স ফেলে বলল, “যদি কিছু হয়ে থাকে, শেয়ার করতে পারিস। না হলে থাক। তোর ব্যক্তিগত ব্যাপার তুই ভালো বুঝিস।”

ইমন উঠে অন্য রুমে চলে গেল। মায়া ওখানে বসেই ভাবতে লাগলো, ইমনকে কেন কথাটা বলতে পারছে না সে? অথচ ইমন কেই বলাটা জরুরী হয়ে পড়েছে। ইমনকে খবরটা না দেওয়া পর্যন্ত আর কাউকে বলাও যাচ্ছে না। না, লজ্জা পেলে হবেনা। ইমনকে যে করেই হোক, বলতে হবে।
ইমন বলে গেল না, তোর ব্যক্তিগত ব্যাপার তুই বুঝিস ভালো। ওকে বোঝাতে হবে, এটা শুধুমাত্র মায়ার একার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়; তার নিজেরও ব্যক্তিগত ব্যাপার!

সন্ধ্যার পর আর ইমনের সাথে কথা বলার কোন স্কো’প পেল না। কথাটা বলতে হবে নিরিবিলি। আগে ইমন জানবে, তারপর বাকি সবাই। মায়া ভাবলো, রাতেই সুখবরটা জানাবে তাকে।
.
.
.
রাতে মায়া আগেভাগেই শুয়ে পড়লো। কিন্তু ঘুমায়নি, ইমনের অপেক্ষা করছিলো।

কিছুক্ষণ পর ইমন আসতেই মায়া জিজ্ঞেস করল, “রাগ করেছো, আমার ওপর?”

“আমার রাগ এ কার কি আসে যায়? আর সবচেয়ে বড় কথা আমি যার তার ওপর রাগ করি না।”

মায়া হাসলো। পিছন থেকে ইমন এর গলা জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে কয়েকটা চুমু খেলো।

তারপর বলল, “আচ্ছা তাই? তবে আমার ওপর যে রাগ করেছো সেটা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি। তবে একটা কথা জানান দেই। রাগ নিমিষেই উধাও হয়ে যাবে।”

ইমন রো’ব’টে’র ন্যায় বলল, “কি কথা?”

মায়া প্রথমে লজ্জা মাখা হাসি দিলো।
অভিনিবেশ কণ্ঠে বললো, “তুমি কি জানো, তোমার অ’স্তি’ত্বে’র একটা অংশ আমার মধ্যে বেড়ে উঠছে!”
.
.
.
.
চলবে……

[কার্টেসি ছাড়া কপি করা নিষেধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here