ভাবী_যখন_বউ পর্ব_১০

ভাবী_যখন_বউ
পর্ব_১০
Syed_Redwan

রাইফা কিছুক্ষণ আমার দিকে দুঃখিত নয়নে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ কিছু একটা মনে আসতেই ওর মুখে একটা অদ্ভুত, পৈশাচিক হাসির রেখা ফুটে উঠলো। কে জানে, এই হাসির অন্তরালে কী লুকিয়ে আছে।

মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি তখন খেয়াল করলাম যে আমি নিজেই বরাবরের মতো রাইফাকে জড়িয়ে ধরে আছি। আমি নিজেকে ওর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বাথরুমে গেলাম। কাজ শেষ করে বের হয়ে দেখলাম রাইফা এখনও ঘুমিয়েই আছে। আমি আমাদের বারান্দায় গেলাম। আমাদের ফ্ল্যাট চারতলায় হওয়ার সুবাদে এবং আমাদের পাশের প্লটে কোন বিল্ডিং না থাকায় বাতাসের যাতায়াত স্পষ্ট এবং সহজসাধ্য। আমি বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই দমকা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল আমার শরীরে। কিছুটা হালকা লাগছে এখন নিজেকে।

অল্প অল্প মনে করার চেষ্টা করছি আজকে কী কী জানলাম রাইফার কাছ থেকে। সবকিছু আমার মেনে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মেনে নিতেই হবে যে। রাইফার বলা প্রত্যকটা কথাই সত্য। সেগুলোর পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণও দেখিয়েছে ও। রাইফা এতদিন নির্দোষ ছিল, আর আমি ওকে মিছামিছি দোষী ভেবে এতদিন পর্যন্ত ওর সাথে কত খারাপ ব্যবহার করেছি, ওর গায়েও হাত তুলেছি কতবার! আগে হয়তো ওর প্রতি আমার কখনোই ভালোবাসার অনুভূতি কাজ করেনি। কিন্তু এখন ও আমার স্ত্রী, ওকে আমি ভালোবাসতে বাধ্য। ওর অধিকার আছে আমার ভালোবাসা পাওয়ার নিজের স্বামী হিসেবে।

এমনটা নয় যে আমি ওকে এখন সহ্য করতে পারি না। ওকে বিয়ের পর থেকেই ওর প্রতি আমার এক অন্য ধরনের অনুভূতি জন্মেছে। হয়তো আগে ও আমার কিছু না লাগলেও এখন বিয়ের পর আমার স্ত্রী সে, এই পবিত্র বন্ধের জোরে এবং টানেই ওর প্রতি আমার ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম হয়েছে। হয়তো এটাই ভালোবাসার অনুভূতি।

আমার মনে শুধু এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কীভাবে আমি ভাইয়ার হত্যার রহস্য উদঘাটন করব। ভাইয়াকে যদি কেউ খুন করে থাকে পরিকল্পিতভাবে, তাহলে কীভাবে তাকে ধরব, শাস্তি দিব? রাইফা তো খুনী না। তাহলে খুনী কে? তাছাড়া আমি এখন শুধুমাত্র ভাইয়ার খুনের তদন্তের পিছনে লাগতে চাচ্ছি, তাই দুনিয়ার বাকিসব ব্যাপারে আমার উৎসাহ বর্জন দিব আমি। রাইফার কাছেও আপাতত যাব না, কারণ তার ভালোবাসার আদলে একবার জড়িয়ে গিয়ে যদি আমি ভাইয়ার এই বিষয়টার দিকে অমনোযোগী হয়ে পড়ি, তখন? আমি কোন রিস্ক নিতে চাই না। রাইফাকে আমার একেবারেই আপন করে নিতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু সেটা হবে অবশ্যই ভাইয়ার মৃত্যুর রহস্যের সমাধানের পর।

আমি এসব ভাবছিলাম আনমনে। হঠাৎ কারো হাতের ছোঁয়া পাই আমার কাঁধে। না ঘুরেও বুঝতে পারি যে এটা রাইফা। আমি বললাম,
“কী ব্যাপার, এখানে কীসের জন্য এলে?”
“আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। পাশে তোমাকে না পেয়ে উঠে এখানে এলাম। কী করছ এত রাতে এখানে?”
“তেমন কিছুই না। আসলে ভাবছিলাম সবকিছু। আমি জানি সবকিছুই সত্য, তবুও মেনে নিতে একটু কষ্ট হচ্ছে। আর হ্যাঁ, তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য দুঃখিত। আমি না জেনেই তোমার সাথে এতদিন…….” আমাকে সম্পূর্ণটা বলতে না দিয়েই থামিয়ে দিল ও।
“কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া তোমার এভাবে রেগে যাওয়াটা তখন বৈধ ছিল। কারণ তখন তুমি এসবের কিছুই জানতে না, তাছাড়া আমার তখনকার আচার-আচরণও কিন্তু তোমার কাছে সন্দেহ লাগার মতোই ছিল। চলো না, আগের সবকিছু ভুলে যাই আমরা, নতুন করে জীবন শুরু করি? তাছাড়া, এই কথাই তো দিয়েছিলে তুমি যে আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলেই আমাকে মেনে নিবে তুমি, আমাকে স্ত্রীর অধিকার দিবে। তাহলে এখন নিজের কথা রাখলে দ্বিমত পোষণ করছো কেন তুমি?”

রাইফার এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমার সত্যি জানা নেই। ঠিকই তো। ও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার পর আমার তো উচিত ওকে মেনে নেওয়া। কিন্তু এখানেই তো বাধা কাজ করছে। আমি চাইছি না ভাইয়ার মৃত্যুর রহস্যের সমাধান এবং আসল খুনীকে শাস্তি দেওয়ার আগ পর্যন্ত ওর সাথে অন্তরঙ্গ হতে। এমনটা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে কিন্তু এটাই সত্য। যদি আমি এখন রাইফার ভালোবাসায় মত্ত হয়ে ভাইয়ার এই কাজে গাফিলতি করি? আমি চাই নিজের শতভাগটা দিয়ে ভাইয়ার মৃত্যুর এই রহস্যের সমাধান করতে, চাই না নিজের সামান্য অংশও যেন এটা বাদে অন্য কিছুতে বিভোর হয়। আমি আমার বাকি বিনোদনের সব উপায়ও বন্ধ রেখেছি আপাতত। এখন আমার দৈনন্দিন রুটিন হচ্ছে ভার্সিটিতে ক্লাস নেওয়া এবং বাকি সময়টুকু পড়ালেখা করা বা ভাইয়ার বিষয়ে তদন্ত করা। আমি নিজের আমোদ ফুর্তি সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রেখেছি আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য।

আমি রাইফাকে বললাম,
“তোমাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছি আমি ঠিকই, কিন্তু এখনই তোমার সাথে আমি ঘনিষ্ঠ হতে পারবো না। আমার কিছুটা সময় লাগবে।”
“কত সময়?”
“যতদিন না ভাইয়ার ব্যাপারটার কোন সমাধান বের করতে পারছি।”
“কিন্তু এর সাথে আমার থেকে দূরে থাকার কী সম্পর্ক?”
“আমি সম্পূর্ণভাবে মনোনিবেশ করতে চাচ্ছি এই বিষয়টাতে। এজন্য নিজের ফুর্তি পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছি আমি, সাথে তোমার কাছে আসার ব্যাপারটাও। আমি চাই না অন্য কিছুর মোহে পড়ে আমি এটাতে কোন ধরনের গাফিলতি করি। আশা করি বুঝতে পারছ আমি যা বুঝাতে চেয়েছি?”

আমার কথা শুনে রাইফা কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। ও এখনো হয়তো বুঝার চেষ্টা করছে আমি ঠিক কী বুঝাতে চাইছি। আমার ভাইয়ের খুনের তদন্তের সাথে ওকে স্ত্রীর অধিকার দেওয়ায় বিলম্ব করার কী সম্পর্ক। কিন্তু ও তো আর জানে না যে আমি অন্য দশটা ছেলের মতো নই। আমার চিন্তাভাবনা এবং কাজকর্ম সম্পূর্ণ আলাদা।

রাইফা বলল,
“মানলাম তোমার কথা যে তোমার কিছুদিন সময় লাগবে আমাকে কাছে টেনে নিতে। ততদিন পর্যন্ত তুমি আমার সাথে অন্তত আগের মতোই বন্ধু হিসেবে কথা বলো শুধু একটু ঘনিষ্ঠ হয়ে। আমার বিশ্বাস যে কিছুদিনের মধ্যে তুমি আমাকে নিজ থেকেই কাছে টেনে নিবে। তাছাড়া তুমি রিফাত ভাইয়ার খুনের তদন্ত চালিয়ে যাও না, বাধা তো আর দিচ্ছি না আমি এটাতে। তুমি শুধু আমাকে তার পাশাপাশি একটু ভালোবাসা দিও, তাহলেই হবে।”
“তোমাকে তো আমি অস্বীকার করছি না। আমি তোমাকে নিশ্চয়ই স্ত্রীর অধিকার দিব, কিন্তু তার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে তোমাকে যতদিন না আমি নিজের ভাইয়ের হত্যার রহস্য উন্মোচন করছি। আশা করি তুমি ততদিন অপেক্ষা করবে।”
“সেটা করতে যদি কয়েকমাস সময় লেগে যায়? ততদিন আমাকে উপোষ রাখবে?”
“I’m sorry.”

আমি রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর রাইফা আসল রুমে। আমার পাশে শুয়ে কিছুক্ষণ পর পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। আমি কিছু বললাম না ওকে। কিছুক্ষণ পর আমার কানের কাছে নিজের মুখ নিয়ে এসে বলল,
“মাত্র সাতদিন সময় দিলাম। এরপর যাই হোক না কেন, আমি জোর করে হলেও তোমার কাছ থেকে নিজের প্রাপ্যটুকু আদায় করে নিব। মনে থাকে যেন!”

ওর কথার উত্তরে কিছুই বললাম না। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি যে ও আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। আমি নিজেকে হালকা করে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে পড়লাম। সেদিন ভার্সিটিতে ক্লাস করারও ছিল, নেওয়ারও ছিল আমার। রাইফাও বলল যে ও যাবে আজ ভার্সিটিতে। ওকে নিয়ে ভার্সিটিতে গেলাম। ক্লাস করানো হয়ে গেলে ওকে নিয়ে চলে আসলাম।

বেশ কয়েকদিন কেটে গেল, কিন্তু আমি কিছুতেই ধরতেই পারছি না আসল অপরাধী কে। আমি ভাইয়ার সকল বন্ধুবান্ধবদের সাথে আবার যোগাযোগ করলাম এটা জানার জন্য যে ভাইয়ার সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিল কিনা। কিন্তু সকলেরই এক কথা, ভাইয়া অনেক ভালো মনের মানুষ ছিল। তার সাথে কারো কোনভাবেই শত্রুতা হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। বরং কেউ আগ বাড়িয়ে তার সাথে ঝগড়া করতে গেলে সে নিজেই সেখান থেকে দূরে চলে যেত। ভার্সিটিতে কিংবা চাকরিজীবনে কোন মেয়ের সাথেও তার কোন সম্পর্ক ছিল না যে ওই মেয়ের কোন গোপন প্রেমিকও ভাইয়ার কোন ক্ষতি করতে পারে। তাহলে কে খুন করেছে আমার ভাইয়াকে?

আমি সেদিনকার অ্যাকসিডেন্টের ঘটনাস্থলে গিয়ে ও অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করি আশেপাশের মানুষদের। যারা যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তারা সকলেই বললেন যে একসাথে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে। মৃত্যুটা ঘটেছে ট্রাক চাপার মাধ্যমে। সন্দেহ নেই যে ছেলেটা আমার ভাইয়া আর মেয়েটা স্নিগ্ধা ভাবী।

আমি জানতে চাইলাম যে ট্রাকটার নম্বর মনে আছে কিনা কারোর। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় এই যে কারো সেটা মনে নেই। আমি নিশ্চিত ওই খুনী ট্রাকচালকটাকে ধরতে পারলেই সবকিছুর সমাধান হবে। মূল হোতাও বের হয়ে যাবে। কিন্তু আমি কীভাবে পাবো সেই ট্রাকচালকটাকে?

আমার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দুটো সৌভাগ্য কাজ করলো। একজন লোক সেইদিনের ট্রাকচালকের চেহারা কিছুটা দেখেছিলেন। একদম কালো রঙের মানুষ, মুখ দাড়িগোঁফে ভরা। ব্যস! এতটুকুই। তবুও, এতটুকু তথ্যই আমার জন্য অনেক।

দ্বিতীয়ত, সেটা কমার্শিয়াল এলাকা হলেও ওই জায়গাটা একটু অনুন্নত ধরনের, তাই তো দুর্ঘটনাটা ঘটার অবকাশ পেয়েছে। নাহলে একদম খোলামেলা জায়গায় যেখানে অনেক বেশি মানুষের চলাচল, সেখানে এমন ঘটনা কিছুতেই ঘটতে পারে না। কিন্তু তবুও সেখানে একটা নিম্নমানের সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যেটার খোঁজ আমি পেয়েছি। বহুকষ্টে সেটার ফুটেজ জোগাড় করলাম আমি। দুর্ভাগ্য আমি ট্রাকটির নম্বর দেখতে পারলাম না কারণ এই ক্যামেরাটি অনেক পুরোনো, একটু ঝামেলা আছে এটায় তার সাথে ট্রাকটি এমনভাবে গিয়েছে যে ওটার নম্বরটি স্পষ্ট আসেনি ক্যামেরার ফুটেজে। কিন্তু অ্যাকসিডেন্টের দৃশ্যটা আমি বারবার ভালো করে দেখলাম। তবে যতটুকু আমি দেখলাম ভিডিওটিতে, আমি বুঝলাম যে আমার ভাইয়া এবং তার সাথে আমার স্নিগ্ধা ভাবীকে ইচ্ছা করেই হত্যা করেছে ট্রাকচালকটি। তাদের উপর দিয়ে এমনভাবে ট্রাকটা চালিয়ে গিয়েছে যাতে তারা একেবারেই ট্রাকের চাপায় মারা যায়। তার মানে আমার ভাইয়া এবং হয়তো তার সাথে ভাবীকেও হত্যা করাটা কি পূর্বপরিকল্পিত ছিল? যদি তাই হয়, ট্রাকচালক নিশ্চয়ই এমনি এমনি খুন করেনি তাদের। নিশ্চয়ই কেউ তাকে ভাড়া করেছিল তাদের হত্যা করার জন্য। আমার কষ্টে এবং রাগে বুক ফেটে যাচ্ছে। আমি কিছুতেই ছাড়ব না এই ট্রাকচালক খুনীটাকে এবং তার সাথে আমার ভাইয়া-ভাবীকে খুন করানো পর্দার আড়ালে থাকা ব্যক্তিটাকে।

আমি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এবং ওখানে ট্রাক অ্যাকসিডেন্টের প্রত্যক্ষদর্শী লোকটার মুখের বিবরণ শুনে ট্রাকচালকের মুখের আদল সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চিত হলাম। সে দেখতে একেবারে কালো কুচকুচে, মুখভর্তি দাড়িগোঁফ, দেখে মনে হয় একটা নেশাখোর। তার উপর তার হাতে একটা কাটাদাগও আছে। আমি ওই ট্রাকচালক খুনীকে দেখলে নির্ঘাত চিনে ফেলব বলে আমার বিশ্বাস।

আমার ভাইয়ের অজান্তেই তার নিশ্চয়ই কোন শত্রু আছে। আমাকে সবকিছু জানতে হবে। সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে রাইফা বলল,
“আর মাত্র একদিন বাকি এক সপ্তাহ সম্পূর্ণ হতে। এরপর প্রস্তুত থেকো কিন্তু।”
আমি জবাবে কিছুই বললাম না।

পরেরদিন আমি আবার গেলাম রিহান ভাইয়ার বাসায়। আমাকে জানতেই হবে আমার ভাইয়ার ব্যাপারে খুঁটিনাটি সবকিছুই। হয়তো একেবারেই গুরুত্বহীন ভেবে এমনসব ব্যাপারও আমরা এড়িয়ে গিয়েছি, যেগুলোই সবচাইতে বেশি গুরুত্ব বহন করে। আমি বললাম,
“আচ্ছা, ভাইয়াকে পছন্দ করতো, এমন কেউ আছে?”
“অনেকেই তো আছে। কার কথা বলব?”
“উমম…..এমন কেউ যে ভাইয়ার পিছনে বেহায়ার মতো লেগে থাকতো। ভাইয়া রিজেক্ট করার পরও ভাইয়ার পিছু ছাড়তো না?”

অতঃপর রিহান ভাইয়া আমাকে যা শোনালো, তা শুনে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। তাহলে কি আমি আমার ভাইয়া আর ভাবীর খুনীদের পেয়ে যাবো?

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here