বিষাক্ত ছোঁয়া🍁,পর্ব:০৫

বিষাক্ত ছোঁয়া🍁,পর্ব:০৫
মাহিয়া মেরিন

সকালে….

আশরাফ সাহেবের অগোচরে জাইমাকে নিয়ে এক হুজুরের কাছে আসে শারমিন বেগম।। হুজুর পরিচিত হওয়ায় আগে থেকেই সব কথা বলে রেখেছিলেন শারমিন বেগম।।
–বসো এখানে।।((হুজুর))
–((জাইমা আর শারমিন বেগম কথামত বসে পড়ে)) হুজুর,,,,এটা আমার মেয়ে জাইমা।।(শারমিন)
–((জাইমার দিকে তাকিয়ে)) বয়স তো বেশি না।। সাধারণ এমন বয়সী মেয়েরাই জ্বীনের কবলে বেশি পড়ে।। যাই হোক,,,,আমাকে প্রথম থেকে সব খুলে বলো।।।

জাইমা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রথম থেকে সব খুলে বললো।। শারমিন বেগমও গতকাল রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনা বললো।।
–হুম,,বুঝলাম।। তোমার মেয়ে জাইমার দিকে দুইজন জ্বীনের নজর আছে।। দুইজন…দুই জাতের জ্বীন।।
–দুই জাতের জ্বীন মানে?? ((শারমিন))
–একজন ভালো জ্বীন আর একজন বদজ্বীন।।((হুজুর))
–তারা আমার মেয়ের কাছে কি চায়??
–বদজ্বীন সাধারণত অল্প বয়সী সুন্দরী মেয়েদের উপর নজর দেয়…তাদের ব্যবহার করার জন্য।। এটা অস্বাভাবিক কিছু না।। কিন্তু জাইমার ক্ষেত্রে মনে হয়না এমন কিছু হয়েছে।।
–তাহলে তারা আমার কাছে কি চায়?? ((জাইমা))
–((কিছু একটা ভেবে)) বসো এখানে।। আমি আসছি।।

হুজুর রুম থেকে বেরিয়ে যায়।। কিছুক্ষণ পর সাথে কিছু জিনিস নিয়ে আসে।। জাইমার হাতে কিছু দোয়া পড়া সুগন্ধি মেখে তার ঘ্রাণ নিতে বলে।।
জাইমা হুজুরের কথামত সেই ঘ্রাণ নিতেই তার মাথা ঘুরতে শুরু করে।। চোখের সামনে সবকিছু তার কাছে ঝাপসা হয়ে আসছে।। শুধু বুঝতে পারছে হুজুর দরি দিয়ে তার হাত বেধে দিচ্ছে।। তাকে শক্ত করে কোথাও বেধে রাখা হচ্ছে,,,,ব্যাস!!আর কিছু মনে নেই জাইমার।।

–জাইমাকে এভাবে বেধে ফেলছেন কেনো হুজুর?? ((শারমিন))
–কিছু প্রশ্ন করা হবে জাইমাকে।। শুধু দেখতে থাকো।।((জাইমাকে ভালোভাবে বেধে রেখে তার বসে থাকা জায়গায় সাদা রঙের একটা গোল দাগ ফেলে কিছু দোয়া পরে শারমিন বেগমকে নিয়ে একটু দূরে এসে দাঁড়ালো হুজুর।। তারপর কিছু দোয়া পড়তে পড়তে সুগন্ধি জাইমার শরীরে ছুড়ে দিলো)) প্রকাশ করো নিজেকে।। প্রকাশ করো…।।
–((জাইমার মাঝে কোন পরিবর্তন নেই। সে আগের মতোই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে))
–((জাইমার দেহে আবারও কিছু সুগন্ধি দিয়ে)) জাইমার কাছে কি চাও?? নিজেকে প্রকাশ করো আর আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।।
–((জাইমাকে কোন পরিবর্তন হতে না দেখে হুজুর আর শারমিন বেগম চিন্তায় পড়ে যায়।))
–হুজুর…?? ((শারমিন))
–এটা স্বাভাবিক না।। জাইমার উপর কোন জ্বীনের নজর পড়েনি।। বরং তার উপর জ্বীন আনা হয়েছে।।
–ম…মানে কি?? কালো জাদু?? ((শারমিন))
–((শারমিন বেগমের দিকে তাকিয়ে)) আমার পালিত জ্বীনকে জাইমার ভেতর প্রবেশ করিয়ে জানতে হবে।।

হুজুর মনে মনে কিছু দোয়া পড়ে জাইমার দেহে সুগন্ধি ছিটিয়ে দিচ্ছে।। কিছুক্ষণ পর জাইমা খুব ভয়াবহভাবে চোখ খুলে তাকায়। সে ছুটে আসার চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু হাত পা বেঁধে রাখায় আসতে পারছে না।।।
–বল কি চায় ওই জ্বীন জাইমার কাছে??

জাইমা আরবী ভাষায় কিসব বলে যাচ্ছে।। শারমিন বেগম অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে আছে।। জাইমা চিৎকার করে কথা বলতে বলতে হঠাত চুপ হয়ে যায়।।
–হুজুর??((শারমিন))
–((কিছুক্ষণ জাইমার দিকে তাকিয়ে)) তোমার মেয়ের উপর জ্বীনের নজর পড়েনি বরং কেউ একজন জ্বীনের কাছে জাইমাকে বিক্রি করেছে।।
–কিহহহ??? মানে???? এর মানে কি??
–একে বিনিময় প্রথা বলে।। বদজ্বীনরা কেবল মাত্র রক্তের সম্পর্ক আছে এমন মানুষের সাথে বিনিময়ে করে থাকে।। মানে,,,জাইমাকে তার আপন কেউ একজন জ্বীনদের কাছে বিক্রি করেছে।।
–কে এমন করবে??? এখন কি করতে হবে?? এর থেকে বাঁচার উপায় কি??
–((কিছুক্ষণ চুপ থেকে)) আমার কাছে কোন উপায় নেই।। তুমি প্রথমে খুঁজে বের করো কে জাইমার সাথে এমন করেছে আর বিনিময়ে কি পেয়েছে।। তারপর আমার কাছে নিয়ে এসো জাইমার বাবা নাহয় মাকে। তাদের কেউ একজন জাইমাকে সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে পারবে।। যা করার জাইমার ১৮ বছর হওয়ার আগেই করতে হবে।।
–হুম। ঠিক আছে।।

জাইমাকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে দেখে আশরাফ সাহেব বসে আছেন।।
–কোথায় গিয়েছিলে তুমি?? জাইমাকে সাথে নিয়েছো কেনো??
–তোমার সাথে আমার কথা আছে।। আগে জাইমাকে তার রুমে রেখে আসি।।

জাইমাকে রুমে রেখে শারমিন বেগম আশরাফ সাহেবের রুমে প্রবেশ করে….
–জাইমার উপর জ্বীনের প্রভাব আছে।। আমি আজকে তাকে হুজুরের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।।
–আমাকে বলার প্রয়োজন মনে করলে না?? তোমাকে কতোবার বলবো আমার মেয়ের কথা তোমার ভাবার দরকার নেই। বুঝতে পারো না তুমি??
–আমি তো….।।
–চুপপপ!!! আজকের পর থেকে তুমি জাইমার আশেপাশেও থাকবে না।। আর জাইমার রুম থেকে বের হওয়া বন্ধ।।

কথাটা বলেই রুম থেকে বেরিয়ে দেখে জাইমা দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনছিলো।। আশরাফ জাইমার হাত ধরে তার রুমে প্রবেশ করিয়ে বাহিরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।।
–বাবা কি করছো তুমি?? বাবা প্লিজ দরজা খোলো।।
–আমি যা করছি তোমার ভালোর জন্যই করছি মা।। তুমি কিছুদিন রুমের বাইরে যাবে না।। কথা শেষ।।।

🍁বেশ কিছুদিন পর….

সেদিনের পর থেকে জাইমা রুমে একা থাকায় সেই জ্বীনের প্রভাব বেড়ে গিয়েছে।। জাইমাকে নানাভাবে ভয় দেখায়,,,,তার ক্ষতি করতে চায়।। প্রথম প্রথম জাইমা একা রুমে হাজার চিৎকার করলেও কেউ আসতো না তাকে দেখতে।। এখন দিন রাত প্রায় সবসময়ই সে আশেপাশে ভয়ংকর ছায়া দেখতে পারে।।

জাইমা ইদানিং বিকেলের দিকে একটু ছাদে হাটতে যায়।। আশেপাশের সবাই মনে করে জাইমা পাগল হয়ে গিয়েছে,,,তাই কেউ তার আশেপাশেও আসে না।।

একা একা চুপচাপ ছাদের দোলনার উপর বসে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।। হঠাত কেউ একজন….
–এতো রাতে মেয়েদের ছাদে থাকা ঠিক না।।
–((জাইমা মুখ তুলে তাকিয়ে দেখে সেই সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে আছে।। তাকে আগেও দেখেছে কিন্তু কথা হয়নি জাইমার)) কে তুমি?? এখানে কি করছো??
–আমার নাম তাজবিহ।। এখানে নতুন ভাড়া এসেছি।। তোমাকে একা ছাদে দেখলাম তাই গল্প করতে এসেছি।।
–ওহ আচ্ছা।।
আমার সামনে বেশি আসবে না।। যাও দূরে সরে দাঁড়াও।।
–((মজার ছলে)) কেনো?? সামনে দাঁড়ালে কি হবে?? বাই দ্য ওয়ে,,,আশেপাশের অনেকে বললো তুমি নাকি পাগল।। এখন তো দেখছি সত্যিই তুমি পাগল।।
–((তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে)) আমি পাগল না।। আমি ঠিক আছি।।
–তাহলে এতো রাতে ছাদে কি করো?? ভুত দেখতে এসেছো??
–নাহ।। ভুত বলতে কিছু নেই। জ্বীন আছে।।
–((একটা হাসি দিয়ে)) কখনো দেখেছো তুমি জ্বীন??
–হুম।।।। আমার সাথেই জ্বীন থাকে((আস্তে করে বললো))
–((ফিক করে হেসে দিয়ে)) ভালো তো।। আমার সাথে একটু দেখা করাও সেই জ্বীনের।।
–((বুঝতে পারলো ছেলেটা মজা করছে।। হঠাত সামনে তাকিয়ে দেখে আবারও ভয়ংকর সেই ছায়া।। একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে।। জাইমা ভয়ে ভয়ে আঙুল তুলে ইশারা করে)) দেখো।।
–((ছেলেটা জাইমার ইশারায় একবার তাকিয়ে)) জাইমা।। তোমার রুমে ফিরে যাও।।। যাও।।
–((অদ্ভুত ভাবে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রুমে চলে আসে জাইমা))

এদিকে……

এতোদিন জাইমার থেকে দূরে থাকলেও গোপনে সেই ব্যাক্তিকে খুঁজে যাচ্ছে শারমিন বেগম।। জাইমার ১৮ বছর হতে বেশি দেরি নেই।। এর আগেই সেই ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে হবে তার।।

হঠাত রুম থেকে কেমন ফিসফিস করে কথা বলার শব্দ শুনে লুকিয়ে নিঃশব্দে রুমে প্রবেশ করতেই শুনতে পায়….
–হ্যা আমার মনে আছে সবকিছু।। জাইমার ১৮ বছর হতেও বেশি দেরি নেই।।
–……….
–চিন্তা করবেন না।। আমি শারমিনকে সামলে নিবো।। জাইমাকে সে কিছুতেই থামাতে পারবে না।।
–…………
–জাইমাকে নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই।। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে নিয়ে গেলেই ভালো হয়।। যাই হোক,,,বিনিময় সফল হলেই হবে।।

শারমিন স্তব্ধ হয়ে এতক্ষণ কথাগুলো শুনছিলো।। তার মানে আশরাফ নিজেই জাইমাকে জ্বীনের কাছে বিক্রি করেছে???? একজন বাবা হয়ে এটা কিভাবে করলো সে?????

–চলবে🍁

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here