বিষাক্ত ছোঁয়া🍁,পর্ব:০৪

বিষাক্ত ছোঁয়া🍁,পর্ব:০৪
মাহিয়া_মেরিন

🍁পরদিন সকালে….

জাইমা রুম থেকে বেরিয়ে ড্রইংরুমে প্রবেশ করে দেখে আশরাফ হোসেন সোফায় বসে খবরের কাগজ পড়ছেন।। জাইমা ধীর পায়ে হেঁটে উনার পাশে বসে…
–বাবা,,,আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।।

এরমধ্যে শারমিন বেগম রান্না ঘর থেকে চায়ের কাপ হাতে রুমে প্রবেশ করলেন।। জাইমার কথা শুনে তিনিও পাশে এসে দাঁড়ালেন।।
–((খবরের কাগজের দিকেই তাকিয়ে)) হ্যা মা,,,বল। কি বলবি?
–আমি জানি না কথাগুলো বললে তুমি বিশ্বাস করবে কিনা তবুও আমার মনে হয় কথাগুলো তোমাকে বলা দরকার।।
–((জাইমার দিকে তাকিয়ে খবরের কাগজ রেখে)) সব ঠিক আছে তো মা??
–না বাবা।। কিছুই ঠিক নেই।। বেশ কিছুদিন ধরে আমি সব অদ্ভুত ঘটনার শিকার হচ্ছি।। আমি এসব আর নিতে পারছি না(((কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে))
–((শারমিন বেগম জাইমার পাশে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে)) জাইমা,,,কি হয়েছে?? সব কিছু খুলে বলো আমাদের।।

–((জাইমা হুহু করে কেঁদে ওঠে)) আমি চারপাশে সব সময় আজব আজব জিনিস দেখতে পাই।। সেদিন রাতে মাকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছি,,,আমাকে দেখে আরবি ভাষায় কিছু বলছিলো।। পরদিন রাতে আমি আয়নায় আমার রক্তাক্ত প্রতিবিম্ব দেখেছি,,,প্রতিবিম্ব আয়না থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল।।তারপর আর কিছু মনে নেই,,,যখন হুশ আসে তখন দেখেছি আমি ছাদে।। কাল রাতে একটা কালো ছায়া আমাকে বাজে ভাবে স্পর্শ করেছে,,আমার ক্ষতি করতে চেয়েছিলো কিন্তু তখন আর একটা ছায়া এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।। তারাও আরবীতে কিসব যেন বলছিলো।। মেঘ নামের বিড়ালটা তখন একটা কালো ছায়ায় পরিণত হয়ে আমাকে বাঁচিয়ে ছিল।।
প্রতি রাতেই এসব অদ্ভুত সব ঘটনা আমি আর সহ্য করতে পারছিনা।।

জাইমার কথা শুনে তারা দুজন একে অপরের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।।
–((শারমিন বেগম জাইমাকে জড়িয়ে ধরে)) জাইমার আব্বু,,কিছু একটা করো।। আমি আগেই তোমাকে বলেছিলাম।। আমার মনে হয় কোন জ্বীন….
–((বাকি কথা বলতে না দিয়ে)) তুমি চুপ থাকো তো।। জাইমাকে নিয়ে তার ঘরে যাও। আমি দেখছি কি করা যায়।।

বিকেলে,,,,

জাইমা তার রুমে খাটের কোণে চুপচাপ বসে আছে।। গতকাল রাতের ঘটনায় খুব ভয় পেয়ে গিয়েছে সে।। শারমিন বেগম তার পাশেই বসে আছেন,,,কেননা তিনি মনে করেন এক মুহূর্তের জন্য হলেও জাইমাকে একা রাখা ঠিক হবে না।।। জাইমার দিকে তাকাতেই বেশ মায়া হচ্ছে উনার।। হাসি খুশি চঞ্চল প্রকৃতির মেয়েটা হঠাত করেই চুপচাপ হয়ে গিয়েছে।। চোখের নিচে কালি পরে গিয়েছে।।

হঠাত রুমে আশরাফ হোসেন আর মাঝবয়সী একজন লোক প্রবেশ করেন।।
–মামুনি,,,দেখো কে এসেছেন।। উনি হলেন ডা.সাজ্জাদ। একজন বিখ্যাত সাইক্রেটিস্ট।।((বাবা))
–((জাইমা অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে)) সাইক্রেটিস্ট!!! বাবা,,,আমি তো পাগল না। তুমি আমার কথাগুলো বিশ্বাস করোনি?? আমি একদম মিথ্যা বলছি না বাবা।।
–তবুও তুমি উনাকে তোমার সব কথা খুলে বলো। আমি জানি উনি এর সমাধান করতে পারবেন।।((বাবা))
–কিন্তু বাবা….!!!
–বাবার কথা একবার শুনেই দেখো মা।। শারমিন চলো আমরা বাইরে অপেক্ষা করি।।
–কিন্তু…. ((শারমিন))
–((বাকি কথা বলতে না দিয়ে))শুনতে পাওনি আমি কি বলেছি??
শারমিন বেগম জাইমার দিকে একবার তাকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।।

–মেয়েটার কথা শুনে,,তুমি কোথায় তাকে একটা হুজুরের কাছে নিয়ে যাবে। তা না করে তুমি একজন সাইক্রেটিস্ট নিয়ে এসেছো?? (শারমিন)
–বেশি বুঝো না তুমি।। কিছুই হয়নি জাইমার।। সারাদিন বাসায় বন্দি থাকে কারো সাথে বেশি কথা বলে না। তাই এমন হচ্ছে তার সাথে।।। তুমি যদি জাইমাকে নিজের মেয়ের মতো ভাবতে তাহলে এসব কিছুই হতো না।(আশরাফ)
–নিজের মেয়ের মতো ভাবতে মানে?? জাইমা আমারই মেয়ে। আমি তাকে জন্ম না দিলেও ছোট থেকে বড় করেছি। সেই আমার প্রথম সন্তান।।
–শারমিন,,,আমি এই বিষয়ে আর কোন কথা বলতে চাই না। বুঝতে পেরেছো??((রাগী কণ্ঠে))
শারমিন বেগম আর কিছু না বলে মুখ ঘুরিয়ে রাখলেন।।

কিছুক্ষণ পর,,,,

ডা.সাজ্জাদ জাইমার রুম থেকে বের হয়ে আশরাফ সাহেবের কাছে যায়।।
–ডাক্তার সাহেব,,,আমার মেয়ের কোন সিরিয়াস সমস্যা নেই তো??((আশরাফ))
–না। তেমন কোন সমস্যা নেই।। আমার মনে হয় আপনাদের মেয়ে মানসিক ভাবে ডিপ্রেশনে আছে। সাধারণ এই বয়সী অনেক ছেলে মেয়েরাই তার পরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনেক ধরনের কাহিনী বানিয়ে ফেলে পরে নিজেও সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করে।। জাইমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমার পরামর্শ হলো জাইমাকে সময় দিতে হবে। আমি কিছু ঔষধের নাম লিখে দিয়েছি সেগুলো নিয়মিত দিবেন আর কোন প্রয়োজনে আমাকে কল দিবেন।।
–((শারমিন বেগমের দিকে তাকিয়ে)) শুনেছো তুমি?? অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ডাক্তার সাহেব। চলুন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।।

🍁রাতে…..

জাইমা খাটের এক কোণে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে।। তার পাশে শুয়ে আছে শারমিন বেগম।। আশরাফ সাহেব প্রথমে এতে আপত্তি করেছিলেন,,,কেননা তিনি মনে করেন জাইমার একটু স্পেস দরকার।। কিন্তু শারমিন বেগমের জোরাজুরিতে তিনি আর কিছু বলতে পারলেন না।।
জাইমার চোখটা মাত্রই লেগে এসেছিল ঠিক তখনই সে একটা আওয়াজ শুনতে পায়।।
–জা…ই…মা!!!((শীতল কণ্ঠে))
কণ্ঠ শুনে জাইমা চোখ মেলে তাকায় কিন্তু আশেপাশে কাউকেই দেখতে পায়নি।। হঠাত খুব ভারী কণ্ঠে কেউ একজন জাইমা বলে চিৎকার করায় সে ধরপর করে ওঠে বসে।। জাইমার হঠাত লাভ দিয়ে উঠে বসায় শারমিন বেগমের ঘুম ভেঙে যায়,,,সেও উঠে জাইমার পাশে বসে…
–কি হয়েছে জাইমা??((শারমিন))
–কেউ একজন আমাকে ডাকছে।।
–কোথায়?? আমি তো শুনতে পাচ্ছি না।।

জাইমা আর শারমিন বেগম কিছুক্ষণ চুপ থেকে শব্দটা শোনার চেষ্টা করছে।। ঠিক তখনই কেউ একজন জাইমাকে টেনে খাট থেকে নিচে নামিয়ে ফেলে।।। শারমিন বেগম জাইমাকে ধরতে চেয়েও পারেননা কারণ উনাকে এক অদৃশ্য শক্তি আটকে রেখেছেন। জাইমা ভয়ে ভয়ে উঠে দাঁড়াতেই হঠাত সে শূন্যে ভাসতে শুরু করে,,,,জাইমা অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু তার চিৎকার কেউ শুনতে পাচ্ছে না।। জাইমাকে শূন্যে ভাসিয়ে দেয়ালে ছিটকে ফেলে দেয়।। জাইমার মাথায় আঘাত পায়,,,মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে।। দূর থেকে শারমিন বেগম সব দেখছে কিন্তু কিছুই করতে পারছে না।।
একটা কালো ছায়া এসে জাইমার গলা চেপে ধরে,,,জাইমা ছোটার চেষ্টা করছে কিন্তু কোনভাবেই পারছে না।। ধীরে ধীরে সে নিস্তেজ হতে শুরু করে ঠিক তখনই অন্য এক কালো ছায়া এসে সেই ছায়াটাকে টেনে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। জাইমা ঠাসস করে মেঝেতে পড়ে যায়।। শারমিন বেগম দৌড়ে এসে জাইমাকে জড়িয়ে ধরলেন।। জাইমা ফুপিয়ে কান্না করে যাচ্ছে।।

–((জাইমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,,,মনে মনে)) এখন আমার কি করা উচিত?? জাইমা যা বলেছিলো সব সত্যি।। কথাগুলো এখন যদি আমি জাইমার আব্বুকে বলি সে কিছুতেই বিশ্বাস করবে না।। আমাকেই কিছু একটা করতে হবে।। কাল সকালেই জাইমাকে হুজুরের কাছে নিয়ে যাবো।।

–চলবে🍁

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here